বই পরিচিতিঃ আমেরিকান সাম্রাজ্যের গোপন ইতিহাস – জন পার্কিন্স

এমন জনশ্রুতি আছে যে, জর্জ ডব্লিউ-এর ছবি ধারণ করা হয়েছিল যখন তিনি কোক খেতে খেতে অস্বাভাবিক পদ্ধতিতে সেক্স করছিলেন তার বাবা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে। ল্যাটিন আমেরিকায় একটা থিয়োরী প্রচলিত আছে যে, নরিয়েগা নবীন বুশ ও তার অন্তরঙ্গ সঙ্গিনীদের বাছবিচারহীন অনেকগুলো ছবি সিনিয়র বুশের কাছে পাঠিয়েছেন তাকে প্রধান সমস্যাগুলিতে পানামার প্রশাসনের পক্ষাবলম্বন করার জন্য রাজি করানোর উদ্দেশ্যে। প্রতিশোধ নিতে সিনিয়র বুশ পানামা আক্রমণ করলেন এবং নরিয়েগাকে উৎখাত করে পুরে দিলেন মায়ামির এক জেলখানাতে। যে বিল্ডিংয়ে নরিয়েরগার গোপনীয় ফাইলপত্র সংরক্ষিত থাকতো সেটা বোমা মেরে স্মপূর্ণ ভস্মীভুত করে দেওয়া হলো, এবং এরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দু’হাজারেরও বেশী নিরাপরাধ মানুষ মৃত্যুবরণ করলো অগ্নিদগ্ধ হয়ে পানামা সিটিতে এই দিনে ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে। “প্রত্যেকেরই আছে-যেমনটা প্রায়শই আপনি বলে থাকেন—নরকঙ্কাল তার পায়খানাঘরে। প্রত্যেক রাজনীতিবিদ এমনসব কাজ করেছেন যা দেখতে খারাপ হতে পারে যদি নাকি তা কোন না কোনভাবে আনা হয় আলোর সামনে, কোন এক নির্দিষ্ট পথে।

ক্লিনটনের ছিল মনিকা। সে কোন ইস্যু ছিল না যদিও। ক্লিনটন অনেক বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলেন বিশ্বমুদ্রা ব্যবস্থা সংশোধনের চেষ্টা করতে গিয়ে, এবং তিনি একটা বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ভবিষ্যতে রিপাবলিকেনদের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে—কারণ তিনি ছিলেন খুবই তরুণ, কর্মশক্তিপূর্ণ এবং ক্যারিসম্যাটিক। অতএব মনিকাকে এগিয়ে দেওয়া হলো পাদপ্রদীপের সামনে। আপনি কি বিশ্বাস করেন না যে, বুশেরও বেশ কয়েকটি নারী আছে তার ব্যক্তিগত পশ্চাদ্‌পটে? কিন্তু তাদের সম্পর্কে কথা বলার সাহস আছে কার? লুলারও এমন ছায়াকঙ্কাল আছে। যেসব শক্তি আপনাদের সাম্রাজ্যে চালায় তারা যদি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় তাহলে সেই গুপ্তকক্ষের দরজাটি তারা খুলে দেবে। যেসব নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভুত্ব ও আধিপত্য হুমকিগ্রস্থ করে তাদেরকে গোপনে হত্যা করার বহু পথই আছে তাদের হাতে।” “লিন্ডাট্রিপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এমন একজন প্রেসিডেন্টকে ধ্বংস করার জন্য, যাকে ভয় করা হতো একজন সংস্কারক হিসেবে, যিনি হয়তোবা কর্পোরেটোক্রাসির ভিত্তিমলেই আঘাত হানতে পারেন,”ওই সিআইএ মানুষটি বললেন। “আপনিও তো জানেন, আমার মতো লোকেরা সবসময় ‘নিরীহদের’ খোঁজে থাকে আমাদের নোংরা কাজ করার জন্য। কম ঝুঁকি, কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই। লিন্ডা তারই সরলতা খুঁজে পেয়েছিলেন মনিকা লিউনস্কির মধ্যে। লিন্ডা মনিকাকে বলেছিরেন, ‘বেচারা কিনটন আপন গৃহকোণে তেমন আদর সোহাগ পান না। তুমি তার প্রতি একটু সদয় হও।’ বাকিটাতো ইতিহাস।”

জন পার্কিন্স এর এই বইটি বিশ্বব্যাপী বেস্ট সেলার বইয়ের তালিকায় আছে। বইটি প্রকাশ করেছেন ‘সংঘ প্রকাশন’। লেখকঃ জন পার্কিন্স, অনুবাদঃ দাউদ হোসেন। পেপারব্যাক বাঁধাই, মুল্যঃ ৩২০ টাকা, সারাদেশে বিভিন্ন সৃজনশীল বইয়ের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। এছাড়াও ঘরে বসে অর্ডার করলে কারিগর.কম ২০% কমে আপনার কাছে পৌছে দেবে। আজই আপনার কপি সংগ্রহ করুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “বই পরিচিতিঃ আমেরিকান সাম্রাজ্যের গোপন ইতিহাস – জন পার্কিন্স

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 4 =