র‍্যাবের আটকে যাওয়া নজরদারি সরঞ্জামে কী ছিল!

সম্প্রতি দেশের রাষ্ট্রীয় মিলিশিয়া বাহিনী র‌্যাব সুইজারল্যান্ড থেকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে। সেদেশে এখন এই আধা সামরিক বাহিনীটির ক্রয়কৃত বেশ কিছু যন্ত্রপাতি আটকে আছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালের হস্তক্ষেপেই র‍্যাব এ ধরনের সমস্যায় পড়ল।

প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল (পিআই) জানিয়েছে, একটি কুখ্যাত বাহিনী জেনে তারা আগে থেকেই র‍্যাবকে অনুসরণ করত। সম্প্রতি সুইস একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশ কিছু নিরাপত্তা ও নজরদারি সরঞ্জাম ক্রয়ের চুক্তি করে র‍্যাব। এ খবর জানতে পেরে তারা তৎপর হয়। যন্ত্রপাতি ক্রয় ও তা দেখে নিতে এর মধ্যেই র‌্যাবের একটি দল সুইজারল্যান্ডে যায়। এ সময় তাদের পেছনে আড়ি পাতে পিআই। তারা সুইজারল্যান্ডের জুরিখে র‍্যাব কর্মকতাদের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিওসফট কর্মকর্তাদের বৈঠক, হোটেলে অবস্থান ও বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগের চিত্র ধারণ করে। সংস্থাটির এ বিষয়ক প্রতিবেদন দেখুন এখানে
?oh=5370e8313b171f2524a5d7c3bf2b840b&oe=5577D986&__gda__=1434777403_28660ea2106ded650bd51f51ca050617″ width=”300″ />

এমনকি যে টেন্ডারের মাধ্যমে র‍্যাব ও নিওসফটের মধ্যে চুক্তি হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও জোগাড় করতে সমর্থ হয় পিআইয়ের কর্মীরা। এসবের ভিত্তিতে পরবর্তীতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। সংবাদে বলা হয়, র‍্যাবের হাতে এ পর্যন্ত বিচার বহির্ভূত অনেক হত্যাকান্ড ঘটেছে। তাই এসব যন্ত্রপাতি তাদের কাছে বিক্রি হলে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। সেই সংবাদের ওপর ভিত্তি করে উৎপাদনকারী দেশ সুইজারল্যান্ড ওইসব সরঞ্জামের জাহাজীকরণ প্রক্রিয়া আটকে দেয়। এদিকে সরকারের উচ্চ পর্যায় দ্রুতই এসব মালামাল দেশে আনতে তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

আলোচিত এ খবরটি নাগরিকদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের ও পেশার মানুষেরা নজরদারি সরঞ্জাম ক্রয়ের ঘটনায় উদ্বগ প্রকাশ করেছেন। সকলেই জানতে চাইছেন, এসব সরঞ্জামের মধ্যে কী ছিল? এসব সরঞ্জাম কিভাবে কাজ করে? এগুলোর ক্ষতি কি আর প্রয়োজনীয়তাও বা কতটুকু? আগামীতে এসব সরঞ্জাম র‍্যাব কিনে আনলে নাগরিকরা কিভাবে তার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন? আইনগতভাবে এসব সরঞ্জাম ব্যবহারে কোনো বাধা আছে কিনা? বর্তমানে আমরা কি ধরনের নজরদারির মধ্যে বাস করছি? এসব প্রশ্ন এখন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা প্রশ্নগুলোর জবাব দিচ্ছি।

কী কিনতে চায় র‍্যাব?
জানা গেছে, ‘ইউএইচএফ ট্রান্সমিটার অ্যান্ড সার্ভেইলেন্স ইকুইপমেন্ট’ আইএমএসআই ক্যাচার কেনার চেষ্টা করছিল র‍্যাব। এই আইএমএসআই অর্থ হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি। আমরা আইএমএসআই বলতে সিমকার্ডকে বুঝি। তাই আইএমএসআই ক্যাচার মানে একটা সীমের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া। অর্থাৎ এই ক্যাচার প্রযুক্তিটি ফোনে আড়িপাতার সঙ্গে জড়িত একটি প্রযুক্তিপণ্য। এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আধুনিক গুপ্তচর সরঞ্জাম। এই প্রযুক্তি সহজে বহনযোগ্য এবং গাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী।
?oh=403f664ea28442be4ca79b78571a5d3f&oe=55726BA9″ width=”300″ />

কিভাবে এটি কাজ করে?
মোবাইল ফোনের ব্যবহৃত নেটওয়ার্কে ক্যাচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যে পাঠানো বেতার তরঙ্গ প্রথমে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর আইএমএসআই অর্থাৎ সিমটিকে দখল করে নেয়। প্রতিটি সিমের একটি মাত্র কোড থাকে। এরপর দখল করা সিমে একটি সংকেত পাঠানো হয়। ফোন ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন না যে এটা কোন নেটওয়ার্ক থেকে আসছে। পাঠানো সংকেত গ্রহণ করার পরই ফোন সেটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে সংকেত পাঠানো সংস্থার কাছে থাকা রিসিভারে ওই ফোনের যাবতীয় আলাপ রেকর্ড হতে থাকে। এভাবে আইএমএসআই ক্যাচার ব্যবহার করে একইসঙ্গে হাজার হাজার মোবাইল ফোনের তথ্য সংগ্রহ করা যায়। ক্যাচারস্থাপিত গাড়িটি একটি নির্দিষ্ট গ্যারেজ কিংবা রাস্তায় রাখলে ওই এলাকার সব ধরনের ফোনের কথোপকথন রেকর্ড হয়ে যায়।
?oh=f26b5a8935d714ec86d8fcbe829f23f7&oe=55B8DDB2&__gda__=1433424015_52c4595c7335add69411c354fd208dda” width=”400″ />

এ থেকে কিভাবে বাঁচবেন?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তিটি বিশেষভাবে জিএসএম বা গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য ডিজাইনকৃত। দেশের একমাত্র সিডিএমএ বা কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারী কোম্পানি, সিটিসেলের ফোন ব্যবহার করলে এই ক্যাচারের আওতামুক্ত থাকা যাবে। আর ট্র্যাকিংয়ের মধ্যে পড়া কোনো ফোন যদি বন্ধ রাখা হয়, তাতেও লাভ নেই। ব্যবহারকারীর অবস্থান তবুও বলতে পারবে ক্যাচার। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য ফোনের ব্যাটারি পর্যন্ত খুলে রাখতে হবে।

অধিকাংশ স্মার্টফোনে জিপিএস চিপ থাকে যার মাধ্যমে সহজেই স্মার্টফোন নজরদারির আওতায় থাকে। যাঁরা নজরদারি এড়াতে চান, তাঁরা জিপিএস ফিচারটি বন্ধ করে রাখেন। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। সিম বন্ধ করেও পার পাবেন না আপনি। স্মার্টফোনে ব্যাটারির চার্জে সামান্য হেরফের হওয়ার বিষয়টি হিসাব করে ব্যবহারকারী কোথায় কোথায় যান, সে বিষয়টি ধরা যায় সাধারণ মোবাইল অ্যাপস দিয়েই। মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে মোবাইল ফোনে পিং পেতে কী ধরনের বাধা আসে, তা নির্ণয় করে এ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর অবস্থান বের করা যায়। সেক্ষেত্রেও ব্যাটারি খুলে রাখা ছাড়া উপায় নেই।
?oh=03d3d78eea99bcce67342c462f93a23e&oe=5574AFAD&__gda__=1434894449_b3fe00f1c24e62874f8871407421f2cb” width=”300″ />

অনেকে এমতাবস্থায় ল্যান্ডফোন বা ইন্টারনেট ফোনের দিকে ঝোঁকার কথা ভাবেন। সেক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ টেলিযোগাযোগ কম্পানিগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখে রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাহিনীগুলো। যদি সরাসরি সেখান থেকে তথ্য না পায়, তাহলে তারা তথ্যপ্রবাহ বহনকারী ফাইবার অপটিক কেবলে সরাসরি আড়ি পাতার যন্ত্র লাগিয়ে নজরদারি চালায়। সেক্ষেত্রে বাড়ি ও অফিসের ফোন না ব্যবহার করা উচিত। তবে অতীব ধনীদের জন্য সুব্যবস্থা আছে। তারা চাইলে অনেক দাম দিয়ে ক্যাচার ডিক্টেটর কিনে আনতে পারেন এবং জ্যামারের মাধ্যমে ক্যচারকে অচল করে নজরদারি আরোপকারী বাহিনীর সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ চালাতে পারেন।

র‍্যাবের নজরদারি কি বৈধ?
বাংলাদেশে টেলিফোনে আড়িপাতা কার্যক্রম বর্তমানে বেশ জোরদারভাবেই চলছে। সরকার ঘোষণা দিয়েই চালাচ্ছে নজরদারি। জঙ্গি কার্যক্রম দমন ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের কথা বলে এ কাজ করা হলেও এতে অসংখ্য নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যাবলী, তার একান্ত জীবনসহ অন্যান্য তথ্য চলে যাচ্ছে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে। এর ফলে এসব বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সুযোগ বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে টাকার বিনিময়ে ক্রসফায়ারের অভিযোগ এবং নারায়নগঞ্জের সেভেন মার্ডারে র‍্যাবের সংযোগ, এ ধরনের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে তুলছে।

এর মধ্যেই রাষ্ট্র আইন করে বলে দিয়েছে, র‍্যাবের এ ক্ষমতা বৈধ। বিশেষ ব্যক্তি ধরে ফোনকল রেকর্ড করা তো হচ্ছেই, দেশের সব টেলিফোন গ্রাহকের কথোপকথন, ভয়েস ও ডাটা রেকর্ড করা হচ্ছে। যদিও তা দীর্ঘকালের জন্য সংগ্রহে রাখা সম্ভব না আয়তনের জন্য। তবে সেই প্রযুক্তির কথাও ভাবছে সরকার। আড়িপাতা কার্যক্রম সফল করতে ইতোমধ্যে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। এর ওপরে আবার কর্তৃত্ব করছে একতরফাভাবে সেবনাবাহিনী। ডিজিএফআইয়ের এফএসআইবির দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানেই গড়ে উঠেছে এনটিএমসি। ডিজিএফআই সদর দপ্তরে সাময়িকভাবে স্থাপন করা হয়েছে এর সদর দপ্তর। সেখানে পুলিশ, এসবি, এনএসআই আলাদা কক্ষে মোবাইল ফোনের আড়িপাতার কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই টেলিফোনে আড়ি পাতছেন গোয়েন্দারা।

শুধু ফোনকল নয়, ইন্টারনেটে ভাইবার, ট্যাঙ্গো, লাইন, স্কাইপেসহ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আসা তথ্য ও কথোপকথনের ওপর নজরদারি চলছে নিয়মিতভাবে। আইসিএক্স নামক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিফোনের আইপি (ইন্টারনেট ফোন) কোড নম্বর ট্র্যাক করে এই পদ্ধতিতে কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। অত্যাধুনিক এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো টেলিকম সেক্টরই এখন গোয়েন্দাদের হাতের মুঠোয়। এছাড়া জার্মানির একটি কোম্পানির কাছ থেকে সরকার এ বিষয়ে আরও প্রযুক্তি কিনতে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে একসঙ্গে ১২ কোটি ফোনকল, ভাইবার, ট্যাঙ্গো, স্কাইপে, লাইন, ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে আসা তথ্য ও কথোপকথনের ওপর নজরদারি সম্ভব হবে। বুঝতেই পারছেন, বর্তমানে আমরা কি ধরনের নজরদারির মধ্যে আছি।

আইনের দিক থেকে বলতে গেলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে টেলিফোনে আড়ি পাতা বৈধ। টেলিযোগাযোগ আইনের ৯৭(ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহারকারীর পাঠানো বার্তা ও কথোপকথন প্রতিহত, ধারণ বা এ-সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহে সরকার সময় সময় নির্ধারিত সময়ের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাকে কোনো ক্ষমতা দিতে পারবে।’ এ নিয়ে খুব বেশি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দুনিয়ার সবচেয়ে সভ্য রাষ্ট্রগুলোও এইসব নজরদারি কার্যক্রমে পিছিয়ে নেই। সুইডেনের মতো উদার রাষ্ট্রও ২০০৮ সালে পাস করা এক আইনের মাধ্যমে তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আদালতের নির্দেশ ছাড়াই দেশের বাইরের ইমেইল যোগাযোগ ও ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা দিয়েছে।

পিআইকে ধন্যবাদ দিন!
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালকে আমাদের সবার উচিত ধন্যবাদ জানানো। সংস্থাটি নজরদারি সরঞ্জামের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালাচ্ছে। বাংলাদেশে এসব সরঞ্জাম বিক্রির বিরুদ্ধে তাদের আরেকটি প্রতিবেদন দেখুন। ক্রসফায়ার চালিয়ে শত শত মানুষ হত্যাকারী একটি সংস্থার অস্ত্রচালান আটকে দিয়ে তারা যে আরও কত মানুষের ঘনীভূত বিপদকে কিছু সময়ের জন্য হলেও আটকে দিয়েছেন, তা হয়তো তারা জানেন না। যা জানে কেবল এদেশের মানুষ। না জেনেও তারা আমাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করেছেন। তাদেরকে অকুণ্ঠ ধন্যবাদের পাশাপাশি উৎসাহ দেয়া উচিত।

নজরদারি সম্পর্কিত যেকোন বাড়তি তথ্য জানতে পিআইয়ের ওয়েবসাইট privacyinternational.org এ চোখ রাখুন। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখায় তাদের ধন্যবাদ জানাতে মেইল পাঠান [email protected] ঠিকানায়। যেকোনো প্রশ্ন থাকলেও এখানে জানাতে পারেন। সম্ভব হলে সরাসরি চলে যেতে পারেন 62 Britton Street, EC1M 5UY, London, United Kingdom-এ। পাশাপাশি সরব থাকুন। কারণ এসব সরঞ্জাম কিছুদিনের জন্য আটকে থাকলেও এসে পৌঁছুতে খুব বেশি দেরি হবে বলে মনে হয় না। বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সঙ্কুচিত করে, রাষ্ট্রীয় এমন সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “র‍্যাবের আটকে যাওয়া নজরদারি সরঞ্জামে কী ছিল!

  1. খুব দরকারি একটা লেখা। অনেক
    খুব দরকারি একটা লেখা। অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা গেল। বিএনপির সৃষ্টি র‍্যাব দিয়ে এদেশের মানুষের অধিকার হরণ করে চলেছে লীগ সরকার। কশাক সৈনিকদের মতো বিশেষ সুবিধাভোগী পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে তারা। র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানাই। বিচার বহির্ভূত যে কোনো হত্যাকান্ডের বিরোধিতা করুন। রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদ বিকাশের পথ রুদ্ধ করুন।

  2. হুদাই সমালোচনা। দুনিয়ার প্রায়
    হুদাই সমালোচনা। দুনিয়ার প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এই প্রযুক্তি আছে। বন্দুর দিয়ে মানুষ মারা যায় তাই কি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বন্দুক দেয়া যাবে না? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তো আপ্নারা সব সময়ই তুলোধোনা করেন যে এরা পশ্চিমাদের কথামত মানাবাধিকার ঠিক করে। আর কোথাকার কোন privacyinternational.org, যার নামও কেউ কোন দিন শুনে নাই হঠাৎই বাংলাদেশের মানুষের জন্য দরদ উথলায় উঠতেছে? ডাল মে কুচ কালা হ্যায়, ম্যান।

    1. এটা ঠিক যে, পশ্চিমাদের কথা
      এটা ঠিক যে, পশ্চিমাদের কথা মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো চলে। তবে সরকার প্রথমে কাউকে না জানিয়ে করতে গিয়ে এটা নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে। এখন দ্রুতই মিটে যাবে। আমি যতদূর বুঝেছি, পিআই তাদের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই এসব করেছে। তবে ক্রসফায়ারে মানুষ মারা বাহিনীর হাতে এসব যন্ত্রপাতি আসাকে কেন্দ্র করে আপনার কোনো উদ্বেগ নাই, কেবল পিআইয়ের তৎপরতায় আপনি ডাইলের মধ্যে কালা পেয়ে গেলেন, এটা কিন্তু রাষ্ট্র, শাসকশ্রেণী ও শোষণযন্ত্র সম্পর্কে আপনার ইতিবাচক মনোভাবকেই প্রকাশ করে।

      1. আমার অফিসের সামনে সেদিন
        আমার অফিসের সামনে সেদিন পুলিশ আমাকে চেক আপ করল, ব্যাগ খুলে দেখলো। আমি কি এখন গোস্কা করে বসে থাকব? বরং হাসিমুখে সব দেখিয়েছি। কারন পুলিশ আমাদের ওভারঅল সিকিউরিটির জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রাগ করিনি এপ্রিশিয়েট করেছি। আমার ব্যাগে বোম ও নাই চোরাই মালও নাই। পুলিশ আড়িপাতা প্রযুক্তি আনছে। আনুক, রাস্ট্রের নিরাপত্তার সার্থে যদি ফোনে আড়ি পাতার দরকার হয় তো পাতুক। সমস্যা কি। অবশ্যই ওয়েলকাম জানাবো, দেশের স্বার্থে ১ জন ক্রিমিনালকে ধরতে ১০০ জনের ফোনে আড়ি পাততে হয় তো পাতুক, আমি তো চুরিও করি না, পরকীয়াও করি না। দরকারে আমার ফোনে আড়ি পাতলেও স্বাগত জানাবো। একজন অপরাধীকে ধরার চেয়ে আমার মোবাইলে বৌয়ের সাথে চাল ডালের আলাপ কোন এমন মেজর কিছু না যে, আইন শৃং্খলা বাহিনীর কেউ শুনে ফেললে মান ইজ্জত সব যাবে।

        1. সমস্যাটা চাল-ডাল আর চোর
          সমস্যাটা চাল-ডাল আর চোর ডাকাতে আটকে থাকলে হয়তো এ প্রশ্ন উঠতই না। প্রশ্ন ওঠে যখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে এগুলো ব্যবহৃত হয়। আর রাষ্ট্রকে আপনি আপনার বেডরুমে ক্যামেরা পাততে দেয়ার মতো বিকৃতমনস্ক হতে পারেন, কিন্তু আমি তাতে রাজী নই।

  3. ফোনে দেশের পুটকি মারার
    ফোনে দেশের পুটকি মারার চক্রান্ত করবে, আর সেগুলার উপ্রে ব্যবস্থা নিলে র‍্যাব খ্রাপ !!! বাহ… সুশীলদের এইসব বালের যুক্তির উপ্রে পিশাব করি। কারো ফোন সেক্সে তো আর র‍্যাব বাগড়া দেয়নি, তাইলে এত সমস্যা কিসের? এইসব যন্ত্রপাতি সব দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেই আছে, আমাদের থাকলে কি সমস্যা? সারাদিনে আমাদের দরকারী যোগাযোগগুলো যদি বৈধই হয়, তাহলে সেসব র‍্যাব জানলে সমস্যা কি? আপনি যদি সমস্যা সৃষ্টিকারীই হয়ে থাকেন, তাহলে আপনারই সমস্যা হওয়ার কথা এসব কথার রেকর্ড থাকলে। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি করার জন্যও এসব ব্যবহার করা যায়, তাদের কর্মকান্ড এমনিতেই নাশকতাকারীদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া উচিত না। এ ধরনের প্রযুক্তি আরো ব্যবহার করা দরকার।

    1. ক্রশফায়ারে নিয়ে মানুষ হাপিস
      ক্রশফায়ারে নিয়ে মানুষ হাপিস করে দেওয়া বুঝি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার স্বার্থে করতে হচ্ছে! বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের লাইসেন্স যে বাহিনীকে দেওয়া হয় সেই বাহিনীর কোন দরকার নাই। এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি হত্যাকারীদের দেওয়ার অর্থ হল রাস্ট্র এই খুনীবাহিনীর খুনী কার্যক্রমকে সমর্থন করছে। আদালত আর বিচারকের কাজ কোন বেসামরিক শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে রাস্ট্র ন্যস্ত করার অধিকার রাখে না।

      1. পোংটার সাথে সহমত।
        রাষ্ট্র

        পোংটার সাথে সহমত।
        রাষ্ট্র সমর্থন করবে কি করবে না, তাতে কিছুই যায় আসে না। আমি তো বলব ক্রসফায়ার কর্মসূচী আরো বেগবান হওয়া উচিত। বিচ্ছিন্নতাবাদী-সন্ত্রাসী-জঙ্গী-রাজনৈতিক অস্থিরতাসৃষ্টিকারী-মদদদাতা…সবগুলারে নিয়া এখনই অস্ত্র উদ্ধারে রওনা হওয়া উচিত। আইন ও শাসন ব্যবস্থার ফাঁক ফোকর দিয়ে অতীতেও অনেকে পার পেয়ে গেছে, এখনো পাচ্ছে, ভবিষ্যতেও পাবে। খামাখা মামলা করে বছরের পর বছর টেনে নিয়ে এভিডেন্সের অভাবে খারিজ হয়ে যাওয়ার চাইতে ক্রসফায়ারই ভালো। সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করেন, সবাই-ই বলবে এটা চলুক। একমাত্র নষ্ট রাজনীতিবিদ আর তলাপঁচা সুশীল ছাড়া কেউই এটা নিয়ে ত্যানা প্যাঁচায় না। ভালো-খারাপ সর্বত্রই আছে, র‍্যাবের ভেতরেও আছে। তারা এটা নিয়ে বাণিজ্য করছে, সেটা চেক দেয়া দরকার। কিন্তু সেটার কারনে ক্রসফায়ার বন্ধ করার কোন যুক্তি দেখি না। সন্ত্রাস নির্মূল হওয়াটাই মূল লক্ষ্য।

        1. লীগ চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না
          লীগ চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না ব্রাদার! ক্রসফায়ার রাষ্ট্রের চরিত্র হলে তখন কারা এর শিকার হবে? ক্রসফায়ার তথা বিনা বিচারে হত্যাকে স্বীকৃতি দিলে আসলে ক্ষমতাসীন দলকে তার শত্রুদের দমন করার লাইসেন্স দেয়া হয়।

          যারা ক্রসফায়ারের পক্ষে দাঁড়ায়, তারা প্রতিক্রিয়াশীল- তা তারা বাম, নাস্তিক বা অ্যানার্কিস্ট, মুক্তমনা বা রাবিন্দ্রীক বা মুজিববাদী, যেই বালই হোক না কেন!

  4. আপনার সব কথাই মানলাম।কিন্ত
    আপনার সব কথাই মানলাম।কিন্ত বর্তমানে র‍্যাব সহ সব আইন শৃংখলা বাহিনীই সরকারের কথায় উঠে বসে।এটা সবসময়ের প্রেক্ষাপটেই সত্য।এখন ধরুন বিরোধি দলের প্রধান তার দলের কৌশল এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে দলের কোন নেতার সাথে কথা বলছেন যেটা কিনা গোপন থাকা একান্ত জরুরী।কিন্ত সরকার যদি ক্যাচার এর মাধ্যমে এইসব জেনে যায় তাহলে ব্যাপার টা কেমন দাড়ায় বলুন? সরকার এটা তাদের নিজের স্বার্থে ব্যবহার করবে না এর নিশ্চয়তা কে দিবে?আর যদি এটা এতই ভাল হয়,তাহলে আমেরিকান সরকার উইকিলিকস এর উপ্রে এত খ্যাপা কেন?সরকার যা করেছে উইকিলিকস তো ঠিক তাই করেছে!সরকার পাবলিকের উপর নজরদারি করসে,আর উইকিলিকস সরকারের এই কাজের উপর।আর একারনেই উভয়ে উভয়ের উপরে খ্যাপা।এই প্রযুক্তি তখনই সুফল বয়ে আনবে,যদি এর ব্যবহারের উপর সুনির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপিত হয়।

  5. নিরাপত্কোতার নামে রাস্ট্র সব
    নিরাপত্কোতার নামে রাস্ট্র সব নাগরিকের প্রাইভেসিওতে বাম হাত ঢুকাবে এটা আমরা চাইনা। কিন্তু দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য যেসব সরঞ্জাম কেনা হয় তাঁর উপর অন্য দেশের কেউ কি নজরদারী করতে পারে? তাকেই বা সমর্থন দিই কিভাবে? আমার দেশের নিরাপত্তা, প্রাইভেসি কই থাকে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

65 − 63 =