হারজিত । পর্ব -২

হয় তুমি আমাদের পক্ষে, অথবা সন্ত্রাসীদের পক্ষে – জুনিয়র জর্জ বুশ (সেপ্টেম্বর, ২০০১)

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি জুনিয়র জর্জ বুশের বিখ্যাত এই উক্তিটি অনেকেরই মনে আছে নিশ্চয়। তিনি দাবি করেছিলেন, দুনিয়ায় পক্ষ মাত্র দুইটা। এক পক্ষ হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, আরেক পক্ষ হলো ইসলামী সন্ত্রাসবাদ। অর্থাৎ, বর্তমান দুনিয়ায় আপনাকে হয় সাম্রাজ্যবাদের পক্ষে থাকতে হবে অথবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে। সমগ্র দুনিয়ার এই দ্বিপাক্ষিক মেরুকরণ জর্জ বুশের রাজনীতির জন্যে সহায়ক, কিন্তু আমাদের জন্যে নয়। বাস্তব দুনিয়া জর্জ বুশ কথিত এই দুই মেরুতে বিভক্ত না। বরং বহু দেশ, জাতি, সংস্কৃতি, ধর্ম, শ্রেণী ও লিঙ্গের মানুষের বহু পক্ষ ও বহুমুখি সংগ্রাম দুনিয়ায় বিদ্যমান আছে। জর্জ বুশের মতোই বর্তমান দুনিয়ার এইরকম সোজা সরল দ্বিপাক্ষিক মেরুকরণে বিশ্বাস করতেন ওসামা বিন লাদেন। লাদেনের দুনিয়া ছিল ‘মুসলিম’ বনাম ‘কাফির’ এই দুই শিবিরে বিভক্ত। লাদেন যে দুইভাগে দুনিয়ার মানুষকে বিবেচনা করতেন তা তিনি পেয়েছেন ইসলামী ধর্মতন্ত্রের ঐতিহ্য থেকে, এই কথা সবাই জানি। কিন্তু বুশের বিবেচনাও যে খ্রিষ্ঠান ধর্মতন্ত্রের ঐতিহ্য থেকে ধার করা সেই বিষয়টা সাধারণত আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। বাংলাদেশী চিন্তকদের মধ্যে এই বিষয়টি যাদের দৃষ্টি এড়ায় নাই, অধ্যাপক যতীন সরকার তাদের অন্যতম। যতীন সরকার উদীচীর সভাপতি, বাংলা একাডেমী এবং স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন। এই লেখায় কিছুক্ষেত্রে তাকে সাক্ষ মানবো। তার লেখা থেকে তুলে ধরছি –

“এগারোই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর থেকেই জুনিয়র বুশ সাহেব ঘোরতর খ্রিস্টান হয়ে উঠেছেন, তার বক্তৃতা-বিবৃতি এখন ভর্তি থাকে বাইবেলের কোটেশনে। ইভানজেলিক্যান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাবেক নেতা প্রয়াত বিল গ্রাহাম এবং তারই পুত্র বর্তমান নেতা ফ্রাঙ্কলিন গ্রাহামের শিক্ষা বুশ সাহেবের চিন্তায় অপরিমেয় প্রভাব বিস্তার করেছে। ফ্রাঙ্কলিন সাহেবের মতে ইসলাম মানেই সন্ত্রাস, এবং এটি হচ্ছে ‘দুষ্টদের ধর্মতন্ত্র’। জেরি ফলয়েল তো একবার প্রকাশ্যেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করছিলেন…সাদার্ন ব্যাপ্টিস্ট থিওলজিক্যাল সোসাইটি’র সভাপতি আলবার্ট মোহলার মনে করেন যে, ‘ইরাকিদের বাইবেল শিক্ষা দেয়া দরকার’। ডি জেমস কেনেডির মতে খ্রিস্টান ধর্মতন্ত্রের জন্য ‘ইসলামই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ’। খ্রিস্টীয় মৌলবাদীদের এ ধরণের সব বক্তব্যের প্রতিধ্বনিই করে চলেছেন বুশ সাহেব। তিনি বলেন – ‘আমেরিকার বর্তমান লড়াই ভালো ও মন্দ অর্থাৎ খ্রিস্টান ও শয়তানের মধ্যে লড়াই’। ‘শয়তান’ বলতে যে তিনি মুসলমানদেরই বোঝাচ্ছেন- এ কথতো মোটেই অস্পস্ট নয়”। – যতীন সরকার (ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদ, রাজনীতিতে ধর্মতন্ত্র ও আজকের ভাবনা)

সলিমুল্লাহ খান’কে আরেকজন সাক্ষী মানা যায়। তিনি ২০০১ সালে লিখেছেন –

“রাষ্ট্রপতি বুশ বলেনঃ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে তাঁর দেশের অভিযানের মাঝখানে দাঁড়াবার অধিকার কারও নাই। পয়গম্বর হজরত ইসা এবনে মরিয়মের বাক্য উদ্ধার করে তিনি বলেন, যারা আমাদের পক্ষে নাই তারা আমাদের শত্রুপক্ষের লোক। (কিতাবুল মোকাদ্দস ২০০০: সিপারা মথি, ১২:৩০)” – সলিমুল্লাহ খান (যুদ্ধ ও সাম্রাজ্য, আদমবোমা)

সুতরাং খালি ওসামা বিন লাদেন’রাই ধর্মগ্রন্থের বাক্য ব্যবহার করে যুদ্ধ প্রচার করেন না, বুশ ইবনে বুশ’রাও করে থাকেন। কিন্তু আমরা লাদেনের যুদ্ধ’কে ধর্মযুদ্ধ বললেও বুশের যুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ সচোরাচর বলি না। বুশ নিজেই অবশ্য তার যুদ্ধ’কে ক্রুসেড বলে প্রচার করেছেন। তবে অফিসিয়ালি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হলো শান্তি ও গণতন্ত্রের যুদ্ধ। তাই সলিমুল্লাহ খানের ভাষায় – “যুক্তরাষ্ট্র বার বার বলছে – তাদের যুদ্ধ ক্রুসেড বটে, তবে এ ক্রুসেড সে ক্রুসেড নয়।…এর প্রতিপক্ষ এসলাম ধর্ম নয়, (এসলাম মার্কা) সন্ত্রাসবাদ মাত্র” (যুদ্ধ ও সাম্রাজ্য)। যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি আজকাল একরকম সত্যে পরিণত হয়েছে। বুশের ক্রুসেডকে আমরা সেই ক্রুসেড (খ্রিষ্ঠান) বলি না। কিন্তু লাদেনের জিহাদকে সেই জিহাদ(ইসলাম)ই বলি। ইসলাম নামের সাথেও ‘শান্তি’ শব্দের সম্পর্ক আছে, কিন্তু লাদেনের জিহাদ শান্তির যুদ্ধ নয়, সন্ত্রাসের যুদ্ধ হিসাবেই পরিচিত হয়েছে। কিন্তু বুশের ক্ষেত্রে তা হয় নাই।

লাদেন ও বুশ যে ভাষায় কথা বলেছেন তা ধর্মতন্ত্র থেকে ধার করা ধর্মযোদ্ধার ভাষা। ধর্মতন্ত্রী ধর্মযোদ্ধারা নিজেদের যুদ্ধকে মন্দের বিরুদ্ধে ভালো ও শয়তানের বিরুদ্ধে ন্যায়ের যুদ্ধ বলে প্রচার করবে তাই স্বাভাবিক। লাদেন ইসলামী ধর্মযোদ্ধা ছিলেন, বুশ ছিলেন খ্রিষ্টান। কিন্তু এই একবিংশ শতকে যারা নিজেদের নাস্তিক ও নির্ধর্মী বলে প্রচার করে থাকেন, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ যখন ধর্মযোদ্ধাদের ভাষাতেই কথা বলেন তখন ভালো মতোই বুঝা যায় যে ধর্মতন্ত্র আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল নয়। ধর্মযোদ্ধা হওয়ার জন্যে ইশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস থাকা জরুরি নয়, আপন অস্তিত্বে গড়িয়ান থাকলেই চলে। অর্থাৎ, নিরিশ্বরবাদের কাধেও সিন্দাবাদের বুড়ার মতো চেপে বসতে পারে ধর্মতন্ত্র। এই একবিংশ শতকে নাস্তিকতার ঘাড়ে যে সিন্দাবাদের বুড়া সওয়ার হয়েছে তার ডাক নাম ‘নিউ এথিজম’ (new atheism) বা নয়া-নাস্তিবাদ। নয়া-নাস্তিবাদের অনুসারীরা তাদের প্রধান চার ধর্মগুরুর নাম দিয়েছে ‘চার অশ্বারোহী’ (four horsemen)। এই নাম বাইবেল থেকে ধার করা। খ্রিষ্টান বাইবেলে সাধু ইউহান্না লিখিত ‘বুক অফ রিভেলেশন’ নামক প্রলয়ঙ্করী (apocalyptic) পুথিতে শেষ জমানার চারজন অশ্বারোহীর উল্লেখ আছে। চার নাস্তিকগুরুর এই নাম সেখান থেকেই নেয়া। নিজের জমানাকে ইতিহাসের শেষ জমানা মনে করার একটা প্রবনতা বিভিন্ন ধর্মতন্ত্রের অনুসারীদের মধ্যে দেখা যায়। নিজেদের এই জমানার গুরুর নাম শেষ জমানার রূপকে হাজির করা নাস্তিকদের মধ্যেও তেমন প্রবনতা আছে কি না তা গবেষনা করে দেখা দরকার। তবে এই লেখায় সেই চেষ্টা করা হবে না।

এই চার ধর্মগুরুর নাম যথাক্রমে রিচার্ড ডকিনস, স্যাম হ্যারিস, ড্যানিয়েল ডেনেট এবং ক্রিস্টোফার হিচেন্স। ধর্মতন্ত্র থেকেই যদি রূপক ধার করতে হয় তাইলে শুধু খ্রিস্টান কেনো, ইসলাম থেকেও ধার করা যায়। খ্রিস্টান বাইবেলের চাইতে ইসলামী পরিভাষার সাথেই যেহেতু এই দেশের মানুষের পরিচয় বেশি, আমি তাই আদর করে এই চারজনকে বলি ‘নয়া-নাস্তিবাদের চার খলিফা’ (দ্রষ্টব্যঃ জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা)। তো নয়া-নাস্তিকদের এই চার খলিফার এক খলিফা ‘স্যাম হ্যারিস’ বছর কয়েক আগে লিখেছিলেন যে – “স্বিকার করে নেয়ার সময় হয়েছে যে আমাদের যুদ্ধটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে না, আমাদের যুদ্ধটা ‘ইসলামের’ বিরুদ্ধে” (স্যাম হ্যারিস, প্রবন্ধঃ ধর্মযুদ্ধে কর্দমাক্ত)। আরেক লেখায় তিনি লিখেছেন, “এই কথা বলা ঠিক হবে না যে আমাদের যুদ্ধ মুসলমানদের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমাদের যুদ্ধ অবশ্যই আল কায়েদার সাথে সরাসরি যোগাযোগ নাই এমন আরো কয়েক মিলিয়ন মুসলমানের বিরুদ্ধেও বটে” (প্রবন্ধঃ বিভ্রমে বোমাবাজি)।

কি ভয়াবহ কথা। স্যাম হ্যারিস কেবল ‘আল কায়েদা’র মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যথেষ্ঠ মনে করছেন না, তিনি গোটা দুনিয়ার মিলিয়ন মুসলমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অফিশিয়ালি শান্তি ও গণতন্ত্রের যুদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মযুদ্ধ নয়। কিন্তু বুশ কিংবা গ্রাহাম পরিবারের মতো খ্রিষ্টান ডানপন্থীদের কাছে এই যুদ্ধ ধর্মযুদ্ধও বটে। নাস্তিক স্যাম হ্যারিসের ভুমিকাও এই যুদ্ধে খ্রিষ্টান ডানপন্থীদের মতোই। তিনিও ধর্মযুদ্ধে কর্দমাক্ত একজন ধর্মযোদ্ধা। তিনি ও তার সমমনারা দাবি তুলছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বললে হবে না, সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে। আবু বকর আল বাগদাদির ইসলাম ব্যাখ্যা যেমন একটি ধর্মযুদ্ধের অংশ, স্যাম হ্যারিসের ইসলাম ব্যাখ্যাও একই ধর্মযুদ্ধের অংশ। আপাত দৃষ্টিতে দুই পক্ষের মানুষ হলেও দুনিয়া সম্বন্ধে উভয়ের চিন্তা ভাবনা বাইনারি অপোজিশনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা, অর্থাৎ এদের দুনিয়াটা গুড বনাম ইভিল এই দুই শিবিরে বিভক্ত। স্যাম হ্যারিসের সমমনা নয়া-নাস্তিবাদী ধর্মতন্ত্রের অনুসারীরা বাংলাদেশেও আছেন। মূলত এরাই আমার কোন লেখাকে ইসলামের বিপক্ষে এবং কোন লেখাকে ইসলামের পক্ষে বলে বিবেচনা করে থাকেন। সম্প্রতি এরা কেউ কেউ এই অভিযোগ তুলেছেন যে আমি অতীতে ইসলামের বিপক্ষে এবং এখন ইসলামের পক্ষে লেখি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে আমাদের এই বন্ধুদের দুনিয়া – ‘হয় ইসলামের পক্ষে, অথবা বিপক্ষে’ এই দুই শিবিরে বিভক্ত। দুঃখজনক, কারন বাস্তব দুনিয়া তেমন নয়। এই দুনিয়ায়, ইসলাম বলতে একক কোন বস্তু তো নাই, যার সাথে যুদ্ধ করা যায়। ইসলাম কোন ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্র না, প্রতিষ্ঠানও না। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলে একটা ইসলাম কল্পনা করে নিতে হয়। ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা তাই কাল্পনিক যুদ্ধ, এই যুদ্ধের অস্তিত্ব থাকে একমাত্র ধর্মযোদ্ধার কল্পনায়। আসল যুদ্ধ তো মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের। এই প্রসঙ্গে বিগত সেপ্টেম্বর মাসে ফেসবুকে লিখেছিলাম –

“কেউ কেউ ভাবেন আস্তিকরা সবাই ভালো মানুষ এবং নাস্তিকরা খারাপ। বাস্তবে তা সত্য নয়। কেউ কেউ এর পুরো উলটা ভাবেন। তাও বাস্তবে সত্য নয়। আস্তিক, নাস্তিক, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবাই সমাজের মানুষ। সমাজের ভালো এবং মন্দ, পবিত্র এবং পঙ্কিল, প্রগতি এবং প্রতিক্রিয়াশীলতা সবকিছুরই কম বেশি ভাগিদার সমাজের প্রতিটা মানুষ। কিন্তু সমাজে সাম্প্রদায়িকতা আছে, তাই ধর্ম ও বিশ্বাস ভেদে আধুনিক যুগেও মধ্যযুগীয় ম্যানিকিয়ান মডেলের ‘গুড বনাম ইভিলে’র ধর্মযুদ্ধ চলে। এই ধর্মযুদ্ধ অনলাইন থেকে রাজপথ, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বদ্ধভুমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই যুদ্ধে প্রতিদিন মানুষ মরে। এখন ইরাক সিরিয়ায় মরছে। কিছুদিন আগে ফিলিস্তিনে মরেছে। তার কিছুদিন আগে বাংলাদেশেও মরেছে। এই প্রবল ধর্মযুদ্ধের কালে সমাজের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক একজন মানুষের কাজ হওয়া উচিত সর্বশক্তি দিয়ে ‘সাম্প্রদায়িকতা’র বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া, পরমতসহিষ্ণুতা ও সামাজিক সহনশিলতার পক্ষে যুদ্ধ করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের সমাজের অনেক প্রগতিশীল, মুক্তমনা ও অসাম্প্রদায়িক হিসাবে পরিচিত মানুষ বিশ্বব্যাপী এই ধর্মযুদ্ধে নিজেরাই ধর্মযোদ্ধা হিসাবে আবির্ভুত হয়েছেন। যুক্তির বর্ম ও বিজ্ঞানের তরবারি হাতে তারা প্রবল শক্তিতে মেটাফিজিকাল ‘আল্লাহ’ এবং চৌদ্দশ বছর আগে মৃত মুহাম্মদের চরিত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলেছেন। ‘অসাম্প্রদায়িকতা’র ব্যানারের বহু সৈনিকের এই হাওয়ার সাথে যুদ্ধে অত্যাধিক ব্যস্ততা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধকে দুর্বল করে তুলেছে। এর পরিনাম ভয়াবহ হতে পারে”। (সেপ্টেম্বর ২০১৪)

কিন্তু কাল্পনিক ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হেতু কি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের ইসলাম বিরোধী যুদ্ধ প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খান লিখেছেন – “সঙ্কটের নিদান পাইবেন মনে করিয়া অদূরদর্শী নেতারা কাল্পনিক এসলামের বিরুদ্ধে অন্তহীন ক্রুসেড পরিচালনা করিতেছেন” (পশ্চিমা সাম্রাজ্যের বর্ণপরিচয়, আদমবোমা)। স্যাম হ্যারিস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজনৈতিক নেতা না হলেও তিনি ঐ দেশের নাগরিক, চিন্তার দিক থেকে সমাজে নেতৃত্বস্থানীয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্য বিস্তারের তিনি নৈতিক সমর্থক। তিনি কেনো ইসলামের বিপক্ষে যুদ্ধের নামে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাড়িয়ে তুলতে চান তা বোঝা যায়। তার শ্রেণী ও জাতীয় স্বার্থ পরিস্কার। কিন্তু বাংলাদেশের যে নয়া-নাস্তিকরা সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের বাস্তব সমস্যা মোকাবেলা করার বদলে কাল্পনিক ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ লড়ে চলেছেন তারা কি হাসিল করতে চান সেই প্রশ্ন থেকে যায়। তারা আদৌ পক্ষ-বিপক্ষ ও জয়-পরাজয় সম্বন্ধে কোন পরিস্কার ধারণা রাখেন সেই দাবি করাও ঠিক হবে না।

(চলবে)

(ইবনে খালদুন’কে এই পর্বেও আনা গেলো না। পরের পর্বে আনার আশা রাখি)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “হারজিত । পর্ব -২

  1. ভাই আপনার লেখায় দু গ্রুপকেই
    ভাই আপনার লেখায় দু গ্রুপকেই যেভাবে ধোলাই দিয়ে থাকেন তাতে মন্তব্য করার মত কিছুই থাকেনা।

  2. আপনি সিওর থাকতে পারেন,
    আপনি সিওর থাকতে পারেন, ইসলামিস্ট ধর্মবাজদের কিলিং লিস্টে আপনার নাম ইতিমধ্যে মুছে গেছে। আপনি মুক্ত বিহঙ্গের মত গাছের আগারটাও খাইতে পারেন, তলেরটাও কুড়াইতে পারেন।

    1. আপনার রিসেন্ট মন্তব্যগুলাতে
      আপনার রিসেন্ট মন্তব্যগুলাতে আমি খুবি বিরক্ত। আমার কোন লেখায় মৌলবাদ অথবা সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে কিছু খুঁজে পেলে বের করে দেখাবেন। অথবা নয়া-নাস্তিবাদের সমালোচনায় কোন ভুল কিছু বলে থাকলেও দেখাবেন। আপনার কাছে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আশা করি না। মৌলবাদীরা আগে আমাকে যতোটা অপছন্দ করতো, এখন তার চাইতে অনেক বেশি করে, কারন তাদের আসল জায়গায় হাত দিয়েছি। ভবিষ্যতে কেউ আমাকে কোপাইয়া রাইখা গেলে তারপর আপনার এই মন্তব্যের ভার সহ্য করতে পারবেন?

    2. কন্টেন্টের কোন অংশে আপত্তি
      কন্টেন্টের কোন অংশে আপত্তি থাকলে সেটি নিয়ে যুক্তি নির্ভর আলোচনা করা যেতে পারে। যুক্তিহীন ট্যাগিং করার সংস্কৃতি থেকে বাংলাব্লগ বেরিয়ে আসছে। অযথা খোঁচাখুঁচি পরিহার করার জন্য ইস্টিশনের সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।

    3. আপনি মুক্ত বিহঙ্গের মত গাছের

      আপনি মুক্ত বিহঙ্গের মত গাছের আগারটাও খাইতে পারেন, তলেরটাও কুড়াইতে পারেন।

      গেকারাসের মত নাস্তিক চরমপন্থিদের কাছে পারভেজ ভাইয়ের মত লোকও যে খারাপ হবে, তাতে আর আশ্চরয কি? আমি প্রায় নাস্তিক হওয়ার পরেও এই নাস্তিক চরমপন্থি আমাকে ‘ফারাবীর দোস্ত’ ট্যাগিং দিয়েছিল। নাস্তিক চরম্পন্থিরা পারেনা, এমন কোন কাজ নাই!
      কেন যেন সন্দেহ হইতেছে, অভিজিত হত্যায় নাস্তিক চরমপন্থিদের হাত নেই তো? যাই হোক, আমি আমার সন্দেহের কথা যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি তারা কারযকর ব্যবস্থা নেবে ।

  3. অনলাইন নাস্তিকদের অনেককেই
    অনলাইন নাস্তিকদের অনেককেই ইদানিং পছন্দ হচ্ছে না । একটা গন্ডি তারা ভেদ করে হয়ত বেরিয়েছেন, কিন্তু জ্ঞাতে কি অজ্ঞাতে নতুন আরেকটা অচলায়তন তারা তৈরী করে চলেছেন । আপনি তাদের সুরে বলেননি, তারা যা বলে তা বলেননি, এজন্য তারা বলছে আপনি চাপাতির কোপ থেকে বাঁচার জন্য মত পাল্টেছেন ইত্যাদী । কিন্তু আপনার কথার যৌক্তিক জবাব দেয়ার চেষ্টা তারা করছে না !

    অভিজিৎ রায়ের সাথে আপনার তর্কটা আমিও দেখেছি । এই তর্কে ভাবনার খোরাক আছে । ব্যাপারটা আমার কাছে এখনও অমীমাংশিত ।

  4. ২০০৮ সালের ১২ মার্চে
    ২০০৮ সালের ১২ মার্চে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে Conversations with History -শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে সি.আই.এ-এর সাবেক কর্মকর্তা এবং ওসামা বিন লাদেন ইউনিটের প্রধান মাইকেল শ ইয়ার বলেন- “আসলে সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান জিহাদ চলাকালীন সময়েই আমরা বিন লাদেনকে নিয়ে বিস্ময়কর সব তথ্য পাওয়া শুরু করি। সত্যি বলতে কি, এই সময়ে আমরা (সি.আই.এ.) তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টাও করছিলাম। আশির দশকের প্রায় শেষ পাঁচ বছর ধরে আমরা তার সাথে যোগাযোগ করার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু বিন লাদেন আমাদের সাথে, আমেরিকার সাথে বিন্দুমাত্র সংস্পর্শও ঘৃণা করতেন।আমাদের কাছ থেকে ধুলো পরিমাণ কিছু নিতেও তিনি আগ্রহী ছিলেন না। তার নিজের বিশাল সম্পত্তি এবং অর্থবিত্ত ছিল। তিনি খুব সহজেই তার নিজের সোর্সের মাধ্যমে অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারতেন। সেজন্য আসলে তার কাছে আমাদের কোন মূল্যই ছিল না এবং আমাদের সাহায্যেরও তার দরকার ছিল না।” (সূত্র: ইন্টারনেট- http://www.youtube.com/watch?v=gxdb5nnRMrU)
    মাইকেল শ ইয়ার তার “Marching Toward Hell: America & Islam after Iraq” বইটিতে বলছেন, “বিন লাদেনের উত্থান ঘটেছে মুসলিম বিশ্ব থেকে উঠে আসা একটা শক্তি হিসেবে এবং আমাদের (আমেরিকা) একজন এজেন্ট হিসেবে না…..”
    ওসামার সাথে আমেরিকার শত্রুতার মূলে ছিল বিশ্বজুড়ে আমেরিকার নেতৃত্বে পরিচালিত সন্ত্রাস, জুলুম, গণহত্যা, শোষণ ও অত্যাচার। বিশেষত ফিলিস্তিনের মাটিতে অবৈধ ইসরাঈল রাষ্ট্রের ঘোষণার এক ঘন্টার মধ্যেই আমেরিকার স্বীকৃতি প্রদান ও জাতিসংঘকে শিখন্ডি হিসেবে দাড় করিয়ে অবৈধ ইসরাঈলের পক্ষে বিভক্তি প্রস্তাব পাশ করানোর ঘটনা আমেরিকাকে মুসলমানদের স্থায়ী শত্রুতে পরিণত করে। ওসামা ও আল কায়েদা আফগান যুদ্ধে তাদের পক্ষের শক্তি আমেরিকাকে কি দৃষ্টিতে দেখতেন তা উঠে এসেছে আল কায়দার সাইবার যুদ্ধের নেতা ইমাম আনওয়ার আল আওলাকীর কথায়। আওলাকী বলেন, “আজকের আমেরিকা হলো গতকালকের ফেরাউন। আর প্রত্যেক ফেরাউনের বিরুদ্ধে একজন মুসা দাঁড়িয়ে যান।”
    ১৯৯৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের সদর দপ্তর থেকে আল কায়দার অধীনস্ত সমস্ত গ্রুপ একত্রিত হয়ে“The International Front For Jihad Against Jwes and Crusaders” শীর্ষক এক ইশতেহার ঘোষণা করে যাতে ক্রুসেডার আমেরিকার হাত থেকে আরব উপদ্বীপ মুক্ত করার ও যায়নবাদীদের হাত থেকে ফিলিস্তিন মুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়।

  5. এটা একটা অসাধারন লেখা। বাংলা
    এটা একটা অসাধারন লেখা। বাংলা ভাষায় এই রকমের লেখা বিরলতম। আমার খুদ্র জ্ঞান বলে, এই ধরনের লেখা হাজারে হাজারে লেখা দরকার, তাহলে ইসলাম এবং আস্তিক উভয়েই এক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে। বড় এবং ছোট বুশ উভয় কে নিয়েই হাজার রকমের খেলা আছে এবং এবং সেই খেলা গুলো খেলতেও সোজা। আমার মনে হয় আসলে ইসলাম হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জীবন বিধান, যার বিরুদ্ধে পসচিমা নাসারা এবং বাঙ্গাল নাস্তিকেরা অযথাই দিন রাত যুদ্ধ করছে… ! আমি এই রকমের আরো দুই শত লেখা আশা করছি ইশটিশন ব্লগে।

  6. সকলের মন্তব্যসহ লেখাটি
    সকলের মন্তব্যসহ লেখাটি পড়লাম।
    এ লড়াইটা আমাদের চালিয়ে নিতে হবে। স্যলুট কমরেড। স্যলুট

    বহুমুখি>বহুমুখী
    খ্রিষ্ঠান>খ্রিষ্টান
    সাক্ষ>সাক্ষ্য
    কথতো>কথাতো
    অস্পস্ট>অস্পষ্ট
    সচোরাচর>সচরাচর
    ইশ্বরের>ঈশ্বরের
    নিরিশ্বরবাদের>নিরীশ্বরবাদের
    কাধেও>কাঁধেও
    প্রবনতা>প্রবণতা
    গবেষনা>গবেষণা
    স্বিকার>স্বীকার
    আরো>আরও
    যথেষ্ঠ>যথেষ্ট
    ঘোষনা>ঘোষণা
    ভুমিকাও>ভূমিকাও
    কারন>কারণ
    সহনশিলতার>সহনশীলতার
    আবির্ভুত>আবির্ভূত
    অত্যাধিক>অত্যধিক
    পরিনাম>পরিণাম
    পরিস্কার>পরিষ্কার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 6