যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে গোপন সমঝোতা আওয়ামীলীগের!

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০ ফেব্র“য়ারি সাগরের তিনটি গ্যাস ব্লক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কনোকো-ফিলিপসকে ইজারা দেওয়ার ব্যপারে সম্মতি দেন। এরপর এক মাস অতিবাহিত হলেও পেট্রোবাংলা তাদের সঙ্গে চুক্তি করেনি। কারণ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি জ্বালানি মন্ত্রণালয় হয়ে ক্যাবিনেটে যাবে। ক্যাবিনেট অনুমোদন করলে তারপর পেট্রোবাংলা চুক্তি সই করবে। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয় ক্যাবিনেটেই ফাইলটি পাঠাচ্ছে না। কারণ কী? কারণ নিচে আলাপ করবো।

এর আগে আমাদের জেনে আসা দরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন তাঁর নীতি পরিবর্তন করলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সাগরে কোন কোম্পানিকে একক বা যৌথভাবে দুটির বেশি তেল গ্যাস ব্লক সাগরে ইজারা দেওয়া হবে না। কনোকো ফিলিপসকে তাহলে কেন তিনটি দেওয়া হলো? কারণ হলো, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের চাপ প্রয়োগ করে। এমন কী তারা এই সরকারকে স্বীকৃতিও দেয়নি। এই চাপ অব্যাহত রাখে। এমন কী তাদের ঢাকার রাষ্ট্রদূত মজিনাকে আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বিএনপির স্টান্ডিং কমিটির নেতা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিনী চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই শেখ হাসিনা দুটি ব্লক দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসে মার্কিনীকে তিনটি দিলেন।

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের তিনটি ব্লকের সঙ্গে যৌথভাবে মার্কিন ভিত্তিক বহুজাতিক কম্পানি কনোকো ফিলিপস ও নরওয়ের কোম্পানি স্টাটোয়েল গভীর সমুদ্রের ১২, ১৬ ও ২১ ব্লকের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সরকার। চুক্তির বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটিতে পাঠানোর কথা। কিন্তু এখনো পাঠানো হয়নি।

চুক্তির খসড়া মন্ত্রীসভা কমিটিতে না পাঠানোর কারণ হলো, কনোকো ফিলিপসের কর্মকর্তারা জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। নিয়ম অনুযায়ী কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠক করার কোন সুযোগ নেই। কারণ কনোকোর সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার একমাত্র আইনগত সুযোগ রয়েছে পেট্রোবাংলার। আর দরপত্র সাবমিট করার সময় তারা যা বলার বলে দিয়েছে।

পেট্রোবাংলাকে দুরে রেখে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে এই বৈঠকের কারণ হলো, কনোকো বেশ কিছু সুযোগ সরকারের কাছ থেকে বাগিয়ে নিতে চায়। এর মধ্যে অন্যতম রয়েছে করপোরেট ট্যাক্স বাতিলের সুযোগ। অর্থ্যাৎ ট্যাক্স তারা দিবে না, দিবে পেট্রোবাংলা।

চলতি মাসের ১০ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে কনোকোর সাথে বৈঠক করার কথা ছিলো জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে। কিন্তু জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া সফরে চলে যাওয়ায় এ বৈঠক হয়নি। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দেশে এসেছেন গত শুক্রবার। আজ রবিবার জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অফিসও করেছেন। এখন যে কোন সময় তাদের সাথে বৈঠক হবে। এই বৈঠকে কনোকো ফিলিপস ও স্টাটোয়েল তাদের দাবি নামা পেশ করবে।

তবে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এখন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে না। ঢাকার কোন পাঁচ তারকা হোটেল বা গুলশানের কোথাও বৈঠক হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ব্লকের মধ্যে ২১ নম্বর ব্লকটিকে সব থেকে সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এ ব্লকটির সীমানার পাশেই রয়েছে মিয়ানমারের সুয়ে (ঝযবি) গ্যাসক্ষেত্র। মিয়ানমারের এক্ষেত্রটিতে ৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) এর বিশাল গ্যাসের প্রমানিত মজুদ রয়েছে।
এর আগে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর কনোকো ফিলিপসকে দুটি ব্লক ও এবার ক্ষমতায় আসার পর অস্টেলিয়া ও সিঙ্গাপুর ভিত্তিক কম্পানি স্যান্টোস-ক্রিস এনার্জিকে ১টি, ভারতীয় কম্পানি ওএনজিসিকে ২টি সব মিলিয়ে ৫টি ব্লক ইজারা দিয়েছে।

বিদেশী সমর্থনে সরকার পতন থেকে বিএনপিকে সরে আসতে হবে :
বিএনপি এতোদিন চেষ্টা করেছে মার্কিন সমর্থনে সরকার পতন করবে। এ জন্য তারা মাঠের কোন আন্দোলন গড়ে উঠার ব্যাপারে নজর দেয়নি। সর্বশেষ সারা দেশে বোমা মেরে জামাত যখন মানুষ মারছিলো তখনো বিএনপির হুশ হয়নি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ আওয়ামী লীগের কাছে সুবিধা পাবে ততক্ষণ কেন বিএনপির পক্ষ নিবে তারা? কারণ একটি অনির্বাচিত দূর্বল সরকার ক্ষমতায় থাকলে তাকে চাপ দিয়ে সাগরে তেল গ্যাস ইজারা পাওয়া যায়। কিন্তু কবে নির্বাচন হবে আর কবে ক্ষমতায় আসবে তারপর সাগরে তেল গ্যাস ইজারা পাওয়াটা সব মিলিয়ে অনেকটি ভাগ্যের উপরে ছেড়ে দেওয়ার মত।

এই সরকারের আমলে কোন মার্কিন স্বার্থ এখনো বিঘ্নিত হয়নি। বরং তারা যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। এমন কী গভীর সমুদ্র বন্দর মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপের পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাহলে কেন তারা বর্তমান সরকারের বিরাগভাজন হতে যাবে? এই বোধ ও বোধের গোড়ায় যখন পানি পড়বে বিএনপির তখন হয়তো একটি রাজনৈতিক কৌশল বের করতে পারবে। তা না হলে ইহকালে ক্ষমতায় যাওয়ার কোন সুযোগ তারা পাবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে গোপন সমঝোতা আওয়ামীলীগের!

    1. প্রহসনের নির্বাচনের পর থেকে
      প্রহসনের নির্বাচনের পর থেকে যতগুলোে দেশবিরোধী কর্মকান্ড করেছে সেগুলোর তালিকা করলে বিশাল হবে ভাই।

  1. চেতনাবাজদের কাছে দেশের
    চেতনাবাজদের কাছে দেশের স্বার্থের চেয়ে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার আকাঙ্খা অনেক বেশি। দেশপ্রেম হচ্ছে লোক দেখানো। দেশটা বিক্রি করে দিতেও এরা একবার ভাববে না। সবকিছুর শেষ আছে। চেতনার শেষ পর্ব চলছে।

  2. এ বিষয়ে আমার খুব বেশি
    এ বিষয়ে আমার খুব বেশি জানাশোনা নাই। ফলে বিষয়বস্তুভিত্বিক মন্তব্য করতে অপারগ। আমার জন্য জানার সুযোগ হয়েছে। এজন্য লেখককে ধন্যবাদ।

    বানানগুলি শুধরে আবার পোস্ট দিতে পারেন। আমার বানান ভুল হলে একই সহযোগিতা পাবো বলে আশাকরি।

    ফেব্র“য়ারি > ফেব্রুয়ারি
    ব্যপারে>ব্যাপারে
    কম্পানি>কোম্পানি
    দুরে>দূরে
    অর্থ্যাৎ>অর্থাৎ
    দাবি নামা >দাবিনামা
    প্রমানিত>প্রমাণিত
    অস্টেলিয়া>অস্ট্রিলিয়া
    দূর্বল>দুর্বল
    গোড়ায়>গোঁড়ায়

      1. বাংলা বানানের সর্বশেষ
        বাংলা বানানের সর্বশেষ সংস্করণে যে কোন বিদেশি ভাষার বাংলা উচ্চরণ লিখতে ণ, ষ ও দীর্ঘ ই-কার তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগের বানানবিধি অনুয়ায়ী ষ ঠিক আছে কিন্তু বর্তমান অনুযায়ী বেঠিক। শুধুমাত্র খ্রিষ্ট বানানে ষ রাখা হয়েছে এর উৎপত্তিগত কারণে।

        আমার বানান ভুল হয় আশাকরি সাথে থাকবেন, ধরিয়ে দেবেন।
        আপনাকে ধন্যবাদ।

        1. দুঃখিত, আপনি বোধ হয়
          দুঃখিত, আপনি বোধ হয় অস্ট্রেলিয়া বানানে র-ফলা না দিয়েও বানানটি ঠিক সে বিষয়টি বলতে চেয়েছেন, আমি উত্তর দিয়েছি আরেকটা। বিদেশিরা বা ইংরেজি-ভাষীরা ‘আর’ বা ‘র’ সাধারণত উচ্চারণ করে না বা দুর্বলভাবে উচ্চারণ করে, সে অর্থে হয়ত উইকি র-ফলা ছাড়াই বানানটি লিখেছে। আমার মনে হয় আমাদের ভাষায় র-ফলা-সহ উচ্চারণ করাই ভাল।

  3. বাহ দারুন … সবার আগে
    বাহ দারুন … সবার আগে ক্ষমতা। তাইতো ক্ষমতা রক্ষার জন্য নিয়ম, নৈতিকতা , দেশের স্বার্থ কোন কিছুই আজ আর মুখ্য নয় রাজনীতিবিদদের কাছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

81 − = 77