বই পরিচিতি: ওয়েজ অব সিইং

শিল্পসমালোচক জন বার্জারের ‘ওয়েজ অব সিইং’ হচ্ছে, শিল্পকর্ম দেখবার বই, শিল্পের প্রতি ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির বই, শিল্প বিষয়ে পৃথিবীর যেকোন ভাষায় লেখা সবচেয়ে প্রভাবশালী বই, যা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭২ সালে। এই বইটি মূলত ছিল একই বছর ‘বুকার পুরস্কার’ পাওয়া জন বার্জার এর শিল্প সমালোচনা বিষয়ক একটি টিভি সিরিজ ‘Ways of Seeing’ এর একটি স্বতন্ত্র প্রকাশ, প্রামাণ্যচিত্রটি সম্প্রচারিত হয় বিবিসি(BBC)-তে যার জনপ্রিয়তাই মূলত তাদের উদ্বুদ্ধ করছিল সেটিকে বই আকারে বের করায়। মোট পাঁচ জনের ( মুলতঃ জন বার্জার, এস’ভেন ব্লুমবার্গ, ক্রিস ফক্স, মিশেল ডিব, রিচার্ড হলিস) সম্মিলিত পরিশ্রমে ‘ওয়েজ অব সিইং’ বই আকারে বের হয়েছিল। বইটি ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যার পথ ধরে সাথে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে শিল্পী-শিল্পরসিক ও শিক্ষার্থীরা, সারা বিশ্বেই বইটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে নিয়মিতভাবে, শিল্পকলার বিভিন্ন শাখার পাঠ্য হিসেবে।

‘ওয়েজ অব সিইং’ বইটির সাতটি অধ্যায় রয়েছে। চারটি প্রবন্ধের, আর বাকি তিনটি শুধুমাত্র চিত্র সম্বলিত। সবকিছুই প্রতিবর্তিত হয়েছে আর্ট নিয়ে, কিভাবে আর্টকে দেখা হয়, কিভাবে এর মূল্য আরোপ করা হয়, কিভাবে তা ব্যবহার হয় এবং আর্টের দিকে তাকিয়ে আমরা কি দেখতে-শিখতে পারি। প্রথম অধ্যায়ের প্রবন্ধ রচনায় আমরা পাই, কিভাবে সেই আদিকাল থেকে শিল্প বা আর্টকে অতীন্দ্রিকরণ করা হয়েছে আমাদের পূর্বধারণা, কালিক জ্ঞান ও পারিপার্শ্বিকতা দিয়ে, শুধু তাই নয়, কিভাবে কোন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের সুবিধা মত স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্তে একটি চিত্রকর্মের অর্থ অস্পষ্ট করেছে, এবং সময়ে সময়ে পুনঃমুদ্রণের মাধ্যমে তার অর্থকে পরিবর্তিত করেছে। তৃতীয় অধ্যায়টি শিল্পকলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েঃ নারী ও নগ্নতা, কিভাবে নারীকে দেখা হয়, কারা দেখে, অন্যেরা তাদের দেখছে এই বিষয়টি নারী কিভাবে দেখে এমন প্রশ্ন উত্তর খোঁজার আন্তরিক অভিজ্ঞানে। জন বার্জার দেখিয়েছেন কিভাবে নারীর নগ্নতাকে উপজীব্য করে তাকে পণ্যে পরিনত করা হয়েছে, আবার একই সাথে ব্যাখ্যা করেছেন বিখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকলায় নারীদেহের নগ্ন উপস্থিতির শৈল্পিক গুরুত্ব। এই অধ্যায়ের আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তিনি নগ্নতা আর আবরনহীনতার পার্থক্য করেছেন স্পষ্টভাবে, যা এক কথায় অবিস্মরণীয়। পঞ্চম অধ্যায়টি তৈলচিত্র নিয়ে, ইউরোপের ষোড়শ শতকের শুরু থেকে উনবিংশ শতকের শেষ পর্যন্ত আঁকা তৈলচিত্রের ধরণ নিয়ে, ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন তৈলচিত্রের উপকরণের সাথে মালিকানা সম্পর্ককে ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবে, পুঁজিবাদী পণ্য হিসেবে এবং অর্জিত মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে। সপ্তম অধ্যায়ে ব্যক্তিমালিকানার সাথে শিল্পকর্মের সম্পর্ক আরও সুচারু রুপে প্রবন্ধিত হয়েছে প্রকাশন, বিজ্ঞাপণ, যৌনতা এর ভোগবাদী উপস্থাপনার সাথে মেল বন্ধন করে।

অনুবাদকের অনন্য ‘প্রাক কথনঃ

এই অংশটিতে বইটির অনুবাদক বইটির খুব ভালো প্রিভিউর-এর কাজ করার পাশাপাশি বইটির সময়োপযোগী প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরছেন, ঠিক কি কি কারণে এই বইটি এদেশের পাঠকসমাজের জন্য অপরিহার্য তা দৃঢ়তার সাথে বলা হয়েছে। অনুবাদক শুরুতেই দেখিয়েছেন যে, শিল্প সমালোচনাও তার নিজের দাবীতেই একটি পরিশুদ্ধ শিল্পরুপ আর বৃটিশ জন বার্জার হচ্ছেন সেই শিল্প সমালোচক যিনি শিল্পসমালোচনাকে সৃজনশীলতার একটি নতুন মাত্রা দিতে সক্ষম হয়েছন। যিনি শিল্পকলাকে ব্যাখ্যা করেছেন খুবই স্বতন্ত্র একটি দৃষ্টিকোণ থেকে। আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি শিল্পকলার এই অসীম জগৎটাকে কিছুটা হলেও বা অনেকটাই পরিচিত করে তুলেছেন শিল্পপ্রেমিকদের কাছে। প্রাক কথনে আরও উঠে এসেছে বাংলা ভাষায় ইতিহাস, নন্দনতত্ব বা শিল্প সমালোচনা নিয়ে জানার অত্যন্ত সীমাবদ্ধ পরিসরের প্রসঙ্গ।

”…জানার অসীম আগ্রহ নিয়ে আমরা খুঁজেছি কিন্তু শিল্পকলার ব্যপকতা নিয়ে আমাদের সেই জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে পারে এমন কোনো বইয়ের সন্ধান মেলেনি সহজে। শিল্পী ও লেখক হিসেবে, সেই ঘাটতি পূরণের প্রচেষ্টায় অনুবাদ একটা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমাদের ধারণা। সেই কথাটি মনে রেখেই জন বার্জারের ‘ওয়েজ অব সিইং (Ways of Seeing)’ বইটা অনুবাদ করা অত্যন্ত আবশ্যিক বলেই আমরা বিশ্বাস করেছি। …”

পরিসমাপ্তিতে অনুবাদক লিখেছেন,

‘‘স্পষ্টতই জন বার্জার এর এই বইটি শুধু শিল্পকলার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রচিত নয় বরং এর গঠন ও ব্যাখ্যা ইঙ্গিত দেয় এটি রচিত হয়েছে আরো বৃহৎ পরমন্ডলের পাঠকদের উদ্দেশ্যে। তিনি তাঁর ধারালো যুক্তির ধারে শিল্পকলার ব্যাখ্যায় সব রহস্যময়তাকে বর্জন করে সুস্পষ্ট করতে চেয়েছেন এর মূল সত্যগুলোকে। সেকারণেই আলোকচিত্রী, শিল্পসমালোচক, চিত্রকর, ডিজাইনার, ইতিহাস ও সমাজ বিজ্ঞানের যে কেউই উপকৃত হবেন ‘ওয়েজ অব সিইং’ বইটি পড়লে। বইটা শিল্পকলার ইতিহাসের জগতে, এমন একটি মাইল ফলক যেখান থেকে আমরা পেছনে ফিরে অতীতের শিল্পকলাকে যেমন চিনতে ও বুঝতে শিখি, তেমনি ভবিষ্যতের শিল্পকলার সাথে আমাদের পরিচয় ঘটে। আমরা সেতু বন্ধন করতে সক্ষম হই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্পকর্মের নিজস্ব সেই ভাষাটির সাথে।’’

অনুবাদ ও অনুবাদক প্রসঙ্গেঃ

এবার আসি বইটির অনুবাদ প্রসঙ্গে। যারা এই বই সংশ্লিষ্ট প্রামাণ্যচিত্রটি দেখেছেন, তারা দেখবেন জন বার্জার তার আলোচনায় দীর্ঘ বাক্য ব্যবহার করেছেন, অনেক গুলো ছোট ছোট বাক্যকে এক করে অনেক সময় ধারা-বিবরণীর মত বলে গেছেন। এর মূল কারণটা সহজেই বোঝা যায়। শিল্পকর্ম দেখার যে দৃষ্টিভঙ্গি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির যে পারস্পরিক সহবস্থান উপস্থাপন করা হয়েছে বইটিতে তার আন্তঃসম্পর্ক যথাযথভাবে বোঝানোর জন্যেই- এই সুদীর্ঘ বাক্যের ব্যবহার। একটি জটিল ও নিরন্তর সমালোচনা ও বিশ্লেষনিক বিষয়ে তাই ব্যবহার করা হয়েছে ভারী তথাপি সাবলীল প্রবন্ধের ভাষা। অনুবাদেও তার ব্যত্যয় ঘটে নি। এটি আমার দৃষ্টিতে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল অনুবাদকদের জন্য। কিন্তু তারা আন্তরিকতার সাথেই তাদের কাজে সার্থক হয়েছেন বলে আমি তাদের প্রশংসা করছি। এটি সম্ভবপর হওয়ার পেছনের কারণ অনুবাদকদ্বয়ের কর্মক্ষেত্র ও আগ্রহের বিষয়সমূহের দিকে আলোক প্রক্ষেপণ করলেই অনুধাবন করা যায়। শিল্পী আসমা সুলতানা একজন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট, তিনি শিল্পকলা-শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই শিল্পের পাশাপাশি শিল্পকলার ইতিহাস নিয়ে জ্ঞান অর্জনে নিয়োজিত, অন্যদিক বিজ্ঞানবিষয় লেখক কাজী মাহবুব হাসানের আগ্রহের জায়গাটা হচ্ছে বিজ্ঞানের সাথে শিল্পকলার মিথোজীবীতা যা বিবর্তিত হয়ে আজকের অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে। এক কথায়, তারাই এই বইটি অনুবাদ করার জন্য যোগ্যতম অনুবাদক বলে আমার অভিমত, পাঠকের মনযোগী পঠনও সেটা সহজেই আবিষ্কার করবে।

~চিরায়ত দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে শুরু হোক নতুন করে দেখা~

(বইটি পড়ে আমার উপলব্ধি)

শিল্পকলা ও শিল্পসমালোচনা শব্দদুইটি অর্থভেদে আলাদা করা গেলেও এদের সম্বন্ধ নিবিড়, এরা শিল্পবোধ-উদ্ভুত পরম আত্মীয়, সহোদর। তাই শিল্পীর শিল্পকর্মের সৃষ্টিশীলতার চেয়ে দর্শকের ও সমালোচকের শিল্পসমালোচনাকে খাটো করে দেখার কিছু নেই, যা দেশ কাল ভেদে করা হয়ে আসছে। দেখার এই অযত্নের কারণ যেন জন বার্জার এর এই উক্তিতেই খুঁজে পাওয়া যায়- “কোন কিছুকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত”। আমি একজন তরুন শিল্পপ্রেমিক হিসেবে জানি যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উক্তিটি কতটা প্রাসঙ্গিক ও এদেশের শিল্পচর্চার মূলে কতটা গভীরভাবে প্রথিত। স্বাধীনতা পরবর্তি সময় থেকে আজ পর্যন্ত সময়কালে বিশ্ব-শিল্পকলায় বাংলাদেশের অবদান সহজে দৃষ্টিগ্রাহ্য হয় না। এর কারন ঐ ‘জ্ঞান ও বিশ্বাস’, শত বছরে যার আধুনিকায়ন হয় নি। এবং এই আধুনিকায়ন না হওয়ার কারনও চিরায়ত –প্রথাগত-গৎবাধা সেই দৃষ্টিভঙ্গি যা শিল্পসমালোচনা থেকে শুরু করে প্রায় সর্বক্ষেত্রে রয়েছে অপরিবর্তনীয়। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা আমাদের সেই ‘চিরায়ত দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নতুন করে সবকিছু দেখা শুরু করবো কি না?

শিল্প সমালোচনাকে গুরুত্ব প্রদানের এই বিষয়টি খুব ভাল করে উপস্থাপিত হতে দেখেছি সদ্য প্রকাশিত বইটির ‘প্রাক কথনঃ অনুবাদকের ভূমিকা’ আলোচনায়। আমি আজ পর্যন্ত যত বই পড়েছি, কোন বইয়ের ভূমিকা পড়ে আমি এতটা প্রাসঙ্গিকতা ও আকর্ষিক-কৌতুহলোদ্দীপক বক্তব্য পাই নি। আপনারা যারা বইটি পড়বেন, তাদেরকে সমগ্র বইটা পড়া শেষ করে পুনরায় অনুবাদকের ভূমিকা অংশটি পড়ার আহবান রাখবো। আমার মত আপনারাও হয়ত দেখবেন, এটা শুধুই একটা ভূমিকালেখ্য নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু, একটা পেইন্টিং, একটা চিত্র যা অনুবাদকেরা এঁকেছেন যেন মূল বইটিরই মূলভাষণের প্রতিলিপি স্বরুপ, একেবারে স্বতন্ত্রভাবে। এই যে- একজন পাঠক ও অনুবাদক হিসেবে অনুবাদকের দৃষ্টিভঙ্গি যা ভূমিকা বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে, তেমন স্বার্থক প্রতিলিপি সৃষ্টিকরার মত দৃষ্টিভঙ্গির অভিজ্ঞান একজন ব্যক্তি-দর্শক কিভাবে অর্জন করবেন তার খুব ভাল সহায়ক গ্রন্থ হতে পারে ‘ওয়েজ অব সিইং’।

শিল্পী-শিল্পানুরাগী-শিক্ষার্থীদের বইঃ

অনার্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘ওয়েজ অব সিইং’ বইটি বের করার পূর্বপরিকল্পনা হিসেবে বইটিকে শিক্ষার্থীদের ও শিল্পানুরাগীদের ক্রয়সাধ্য করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। বইটিতে স্থান পেয়েছে ১১৭ টি শিল্পকর্মের ছবি, বইটির বাঁধাইও মানসম্পন্ন। শিল্পী আসমা সুলতানা’র করা প্রচ্ছদটি একটি আকর্ষনীয় শিল্পকর্ম, যা বইয়ের মূল ভাবনার সাথে অসাধারণভাবে মিলে যায়।

আমি বইটি সংগ্রহ করেছি, যদিও পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে প্রকাশের পূর্বেই। বইটি পড়ে আমি বারংবার শিল্প ও শিল্পকর্মের প্রতি আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্ন করেছি, যাচাই করে দেখেছি – দেখছি আমার ভাবনার যে বৃত্ত আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি-আচার-অনুশাসন তৈরি করে দিয়েছে তার অপ্রাসঙ্গিকতা ও মূল্যহীনতা। এই বইটি পারবে সে বৃত্তের বাইরে মুক্ত একগুচ্ছ ভাবনার পদ্ধতির সাথে পরিচয় করাতে, মৌলিক কিছু বিষয়ের সাথে পরিচয় করাতে যার ফলস্বরুপ আমাদের দেখবার পদ্ধতি তথা দৃষ্টিভঙ্গিকেই সমৃদ্ধ হবে। আপনিও বইটি সংগ্রহ করুন, বন্ধুদের উপহার দিন। সারাদেশে বিভিন্ন সৃজনশীল বইয়ের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। এছাড়াও ঘরে বসে অর্ডার করলে কারিগর.কম ২০% ছাড়ে আপনার কাছে পৌঁছে দেবে। আজই আপনার কপি সংগ্রহ করুন।

– হিরন্ময় দিগন্ত

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “বই পরিচিতি: ওয়েজ অব সিইং

  1. অনুবাদ বইয়ের স্বল্পতায় এই
    অনুবাদ বইয়ের স্বল্পতায় এই বইটি আশাব্যঞ্জক। অনুবাদকদ্বয় ভবিষ্যতে আরো ভালো ভালো বই অনুবাদ করবেন বলে আশা করছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − 41 =