ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয় প্রসঙ্গে

বাংলাদেশের যে কয়েকজন গুটিকয় স্পষ্টবাদী এবং স্বচ্ছ চিন্তার মানুষের লেখার সাথে আমার পরিচয় আছে, যতীন সরকার তাদের মধ্যে অগ্রগন্য। – অভিজিৎ রায় (জুলাই ১, ২০১১, মুক্তমনা ব্লগ)

যতীন সরকার বিষয়ে অভিজিৎ রায়ের সাথে আমি পুরোপুরি একমত। বাংলাদেশে অনেক স্পষ্টবাদী লেখক আছেন, যারা নিজেদের বুঝটা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে পিছপা হন না। কিন্তু তাদের সবার চিন্তায় সচ্ছতা আছে বলার উপায় নাই। অসচ্ছ চিন্তা স্পষ্ট করে বললেও তাতে অস্পষ্টতা থাকে। অনেকের চিন্তা আবার সচ্ছ কিন্তু বিভিন্ন কারনে তারা স্পষ্টবাদী নয়। বাংলাদেশের অনেক সচ্ছ চিন্তার অধিকারী চিন্তাবীদ নেহায়েতই সুবিধাবাদ বিবেচনায় রেখে স্পষ্ট কথা বলা থেকে বিরত থাকেন। ইস্টিশন ব্লগের সহ-ব্লগার ইকারাস অবশ্য সিপিবি ঘনিষ্ঠতা ও অন্যান্য কিছু বিষয় উল্লেখ করে যতীন সরকারের উপর সুবিধাবাদের কলঙ্ক দিয়েছেন। আমি স্পষ্টভাবে তার সাথে দ্বিমত পোষন করছি। এইভাবে গরপরতা সুবিধাবাদের অভিযোগ করতে গেলে জগতের সবাইকেই কম বেশি সুবিধাবাদী বলা যাবে। এবং আমরা সেই লিস্টে অনেক উপরের দিকেই থাকবো। আমি বরং অভিজিৎ রায়-এর সাথে একমত। যতীন সরকারের মতো স্পষ্টবাদী ও স্বচ্ছ চিন্তার লেখক বাংলাদেশে কম আছে।

স্পষ্ট কথা সবসময় সহজে বুঝা যায় বা হজম করা যায় তা না। তাই যতীন সরকার যখন আমাকে বারবার ‘প্রগতিশীল মুসলমান’ বা মুসলমান সমাজের প্রতিনিধী হিসাবে গন্য করে কথা বলছিলেন, বিষয়টা বুঝতে ও হজম করতে একটু সময় লেগেছে। তিনি কাকে কি দায় দিয়েছেন, কতোটুকু দিয়েছেন, সেটা বুঝে উঠতেও সময় লেগেছে। সত্যি কথা হলো, লেখার জন্যে রেকর্ডিং শুনতে শুনতে আমার বুঝ আরো পরিস্কার হয়েছে।

তুমি যে মুসলমান এইটা তোমার ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। আমি তো হিন্দু, এইটা ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। আমি যে হিন্দু, এইটা কি মিথ্যা কথা? কিন্তু আমি কি হিন্দু ইচ্ছা কইরা হইছি? তো তুমি মুসলমান, এইটাতো ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য তোমার। – যতীন সরকার (সাক্ষাৎকার, প্রথম পর্ব)

উপরের এই বক্তব্যকে সহ-ব্লগার ইকারাস ‘অদৃষ্টবাদ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি যদি ‘অদৃষ্ট’ ও ‘অদৃষ্টবাদ’ শব্দগুলির অর্থ ও এই শব্দগুলি যেসব ধারণার প্রতিনিধিত্ব করে সেই বিষয়ে আরেকবার ভালোভাবে পাঠ করে নেন এবং তারপরে নিজ শব্দচয়নের স্বার্থকতা বিচার করেন তাহলে আশা করি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন। নিন্দা করতে শব্দচয়নে সতর্কতা জরুরি নয়, যারা যতীন সরকারের স্পষ্ট কিছু কথায় আহত হয়ে তার নিন্দায় নেমেছেন, তাদের সেই সতর্কতার দরকার নাই। কিন্তু ইকারাস যেহেতু সমালোচনা করতে নেমেছেন, তাই এইক্ষেত্রে তাকে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করছি।

‘ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য’ জিনিসটা কি? অথবা এইখানে যেহেতু ধর্মীয় আইডেন্টিটির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে সেই হিসাবে ‘ইচ্ছানিরপেক্ষ আইডিন্টিটি’ জিনিসটা কি? সময়ের অভাবে এইসব নিয়ে প্রশ্ন করি নাই। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে যতীন সরকারের বিস্তারিত মতামত শোনার ইচ্ছা রাখি। কিন্তু ‘ইচ্ছানিরপেক্ষ আইডিন্টিটি’ বলে আদৌ কিছু আছে কি না সেই প্রশ্ন তো আমরা নিজেরাই করে দেখতে পারি। আমরা সাধারণত আমাদের নাম, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়গুলা জন্ম ও পারিবারিকসূত্রে লাভ করি। আমি বাঙালি এইটা আমার ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। বাঙালির ঘরে জন্ম নিয়েছি বলেই বাঙালি হয়েছি। যেহেতু বাঙালি পরিচয় নিয়া কোন হীনমন্যতায় ভুগি না সুতরাং এই পরিচয় সেচ্ছায় ত্যাগ করে ভিন্ন কোন জাতীয় পরিচয় গ্রহণ করার কারনও দেখি না। ধর্মও সংস্কৃতির অংশ, সংস্কৃতির বাইরের কিছু না। ধর্মীয় পরিচয়টা সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হিসাবে আমরা পাই। আমি মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েছি বলেই সাংস্কৃতিক উত্তারধিকারসূত্রে মুসলমানও হয়েছি। এইটাও আমার ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। কিন্তু বাঙালি পরিচয়টিকে যতো উচু মর্যাদা দিয়েছি, এই পরিচয়টাকে ততোই হীন গন্য করেছি। মুসলমান পরিচয়টাইতো আমাদের সময়ে একটা হীন পরিচয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে আমরা যারা মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়ে প্রগতিশীল হয়ে উঠেছি তাদের কাছে। গণমাধ্যমে যেই পরিচয়টির সাথে সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস, বর্বরতা ইত্যাদি বিষয় একাকার হয়ে প্রায়ই নতুন হেডলাইন হয়, যেই পরিচয়টির সাথে অন্ধবিশ্বাস, ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ ইত্যাদি শব্দের ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেই পরিচয়টিকে আপন করে ঐ পরিচয়ধারীদের দায়ভার আমি কেনো নেবো? বিশ্বাসের দায় যখন থাকে না, পরিচয়ের দায় কি তখন থাকা উচিৎ?

কিন্তু পরিচয় কি চাইলেই ত্যাগ করা যায়? জন্মসূত্রে পাওয়া ধর্ম পরিচয় সেচ্ছায় গ্রহণ করা নয়। কিন্তু চাইলেই সেই পরিচয় সর্বদা ত্যাগ করা যায় কি? ইতিহাস বলে- বাপ দাদার পরিচয় চাইলাম আর ত্যাগ করলাম, তা সর্বদা সহজ নয়। হিটলারের নাজি জার্মানিতে ‘ন্যুরেমবার্গ আইন’ নামে একটি বর্ণবাদী আইন পাস করা হয়েছিল। এই আইনে ‘ইহুদী জাতি’র যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছিল তা ইহুদীদের ইচ্ছাধিন ছিল না, অইহুদীদেরও না। যেমন, যেসব ইহুদী তাদের বাপ দাদা’র ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হয়েছে অথবা নিজের বিশ্বাস ও চর্চায় ইহুদী ধর্মের অনুসারী নয়, তাদেরকেও এই আইনে ‘ইহুদী’ই ধরা হয়েছে। এই আইনের সংজ্ঞানুসারে কারো দাদা, দাদী, নানা, নানীর মধ্যে কেউ ইহুদী থাকলেই তাকে ইহুদী গন্য করা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে সে নাস্তিক না অজ্ঞেয়বাদী এইসব বিবেচ্য হবে না। এই আইন পাস করা হয় ১৯৩৫ সালে। এই আইন পাসের দুই বছর পূর্বে, ১৯৩৩ সালে জার্মানিতে যখন নাজি পার্টির উত্থান হলো এবং এডলফ হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর হয়ে বসলেন, বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী এলবার্ট আইনস্টাইন তখন মার্কিন মূলুকে সফরে ছিলেন। আইনস্টাইন জন্মগতভাবে ইহুদী ছিলেন, এইটা তার ইচ্ছা নিরপেক্ষ সত্য। পূর্বপুরুষের ধর্মে বিশ্বাস থাকুক না থাকুক, এই ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয়ের কারনে তিনি আর জার্মানিতে ফেরত যাইতে পারলেন না, তার সফর তখন হিজরতে পরিণত হইল। বিখ্যাত চিন্তক হান্না আরেন্ডট (Hannah arendt) এর নাম লওয়া যায়। এই দার্শনিকের সাথে অপর জার্মান দার্শনিক মার্টিন হাইডেগারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি বিয়ে করেছিলেন জার্মান মার্ক্সবাদী দার্শনিক হ্যানরিক ব্লুশারকে। ইশ্বরের অস্তিত্ব সম্বন্ধে তিনি ছিলেন অজ্ঞেয়বাদী। কিন্তু ইহুদী ধর্মাবলম্বী ও ইহুদী পরিবারভুক্তদের উপর নাজি জার্মানির অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি পরবর্তিতে নিজ ইহুদী পরিচয় মাথায় ধারণ করেছেন। এইক্ষেত্রে তার দার্শনিক বোঝাপড়া ছিল ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবিরোধী। তিনি ব্যক্তি নয়, সমাজ বিচার করতেন। নির্যাতিত ইহুদীদের পক্ষে থাকার জন্যে তিনি জায়নবাদী সংগঠন ‘ইয়ুথ আলিয়াহ’তে যোগ দিতেও পিছপা হন নাই।

নির্যাতিত ইহুদীদের পক্ষে দাঁড়াবার খাতিরে হান্না আরেন্ডট নিজের ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয় আরো প্রবলভাবে গ্রহণ করেছিলেন, ইহুদীদের ইয়াহেবে’তে (জেহভা) তার বিশ্বাস এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয় নাই। নিজের দার্শনিক ভাবনার মাঝে এর একটা বোঝাপড়া তিনি করে নিয়েছেন। কিন্তু পোল্যান্ডের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও শিশু সাহিত্যিক ‘ইয়ানুশ কোরচাক’(janusz korczak) এর ক্ষেত্রে সেই ধরণের কোন দার্শনিকতার খোঁজ পাওয়া যায় না। ইশ্বর বিশ্বাসে তিনি অজ্ঞেয়বাদী ছিলেন তা অবশ্য জানা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে পোল্যান্ডে তিনি একটি এতিমখানা চালাইতেন। এই এতিমখানার শিশুরা জন্মগত ইহুদী ছিল। ১৯৩৯ সালে জার্মানি যখন পোল্যান্ড দখল করে নিলো, তখন পুরো এতিমখানাটিকেই ইহুদীদের জন্যে নির্ধারিত বস্তিতে (ghetto) স্থানান্তর করা হয়েছিল। ইয়ানুশ কোরচাকও শিশুদের সাথে বস্তিতেই থাকলেন। ইহুদী বস্তিতে নির্যাতন, নিপিড়ন আর মৃত্যু ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। কিন্তু কোরচাক শিশুদের মন ভালো রাখতে চান, তাদেরকে হাসি খুশি রাখতে চান। তিনি একদিন তাই শিশুদের নিয়া একটি নাটক আয়োজন করলেন। নাটকটি ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’। কে অমল চরিত্রে অভিনয় করেছে, আর কে সুধা চরিত্রে, ইতিহাসের পাতায় তা লেখা নাই। কিন্তু এই শিশুদের সবাইকেই কিছুদিন পরে হত্যা করার জন্যে গ্যাসের চুল্লিতে (gas chamber) ঢোকানো হয়। কোরচাক ছিলেন জন্মগত ইহুদী, তাই বিশ্বাসে অজ্ঞেয়বাদী হলেও নাজিদের কাছে তিনি ইহুদীই ছিলেন। কিন্তু তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিকও ছিলেন এবং জার্মান নাজিদের মধ্যেও তার ভক্তকূল ছিল। এরাই তাকে বাঁচার রাস্তা দেখায়া দিলেন। তাকে আর্যত্ব গ্রহণের সুযোগ দেয়া হইল। কিন্তু ইয়ানুশ কোরচাক সেই সুযোগ গ্রহণ করলেন না। অজ্ঞেয়বাদী এই সাহিত্যিক ১৯২ জন এতিম ইহুদী শিশুর সাথে গ্যাসের চুলায় মৃত্যুবরণ করলেন। জন্মগত ইচ্ছনিরপেক্ষ পরিচয়কে সেচ্ছায় ত্যাগের সুযোগ পাইয়াও তিনি মৃত্যুকেই বেছে নিলেন।

ছবিঃ ইয়ানুশ কোরচাক

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, চাইলেও অনেকসময় ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয় ত্যাগ করা যায় না। আবার ত্যাগ করার সুযোগ থাকলেও মানুষ তা ত্যাগের বদলে এমনকি মৃত্যুও বেছে নিতে পারে। আবার কেউ সুযোগ পেলে ত্যাগ করতেও পারে। পরিচয় নিয়া যদি হীনমন্যতা বেশি থাকে তাহলে বেশ জোরেসোরেই ত্যাগ করা যেতে পারে, এবং ত্যাগ করার পরে সেই পরিচয়ের অন্যান্যদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষও ছড়ানো যাইতে পারে। যেমন বাংলাদেশের মুসলমানের ঘরে জন্ম নেয়া কিছু নাস্তিক প্রতিদিন ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিষয়ে জায়োনিস্ট ও পশ্চিমের ডানপন্থীদের ভাষায় সমালোচনা করে নিজের ‘অমুসলমানিত্বে’র প্রচার করতে পারে। ইসরায়েলের বোমার আঘাতে ফিলিস্তিনের শিশু নিহত হওয়ার সময়ও সে নিজের অমুসলমানিত্ব জোরদার করার জন্যে বলতে পারে যে, মুসলমানদের পাছায় কুরকুরায় সুতরাং এদের এভাবেই মার খাওয়া উচিৎ। মোট কথা এই জমানার আর্য হওয়ার খাতিরে যা যা করা দরকার, যেমন- নাম, জাতীয়তা, ধর্ম সবকিছুই একেবারে খাতা কলমে পরিবর্তন করা যেতে পারে। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা সবসময় হয় না। ৯/১১-এ টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলো। হামলার শিকার এমন মানুষও আছেন যারা আরব নয়, এমনকি ধর্মে মুসলমানও নয়। কিন্তু হামলাকারীর চোখে সেও দেখতে ‘আরব’ অথবা ‘মুসলমানে’র মতোই। অর্থাৎ, মুসলমানের ঘরে জন্ম না নিয়াও কোন রেসিস্টের চোখে আপনি মুসলমান হয়ে যেতে পারেন, তার আক্রমনের শিকার হতে পারেন, মরতেও পারেন। এইক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছার কোন স্বাধীনতা নাই।

জন্মগত ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয় নিয়া যদি আপনার হীনমন্যতা না থাকে তাইলে আপনি হান্নাহ আরেন্ডটএর মতো হতে পারেন, ফরহাদ মজহারের মতো হতে পারেন কিংবা হতে পারেন ইয়ানুশ কোরচাকের মতো কেউ। আবার আপনি যতীন সরকারের মতোও হতে পারেন। যতীন সরকারের কাছে ব্যক্তি নয়, সমাজই মূখ্য। তাই বলে তিনি হান্নাহ আরেন্ডট কিংবা ফরহাদ মজহারের মতো সাম্প্রদায়িক সংগঠনের ওকালতি করেন না। কিন্তু তিনি মানেন যে পৃথিবী আগায় দ্বান্দিক ও পেচালো গতিতে। আমরা চাই বা না চাই, ব্যক্তিগতভাবে যতোই পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে যাই না কেনো ‘হিন্দু সমাজ’ ও ‘মুসলমান সমাজে’র অস্তিত্ব বাস্তবে আছে। এই দুই সমাজের অর্থনৈতিক ও শিক্ষায় পার্থক্য ভারতিয় উপমহাদেশে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্মও দিয়েছে। যতীন সরকার তার অভিজ্ঞতা থেকে দেখছেন সমাজ পরিবর্তনের কোন শর্টকার্ট রাস্তা নাই। সমাজ পরিবর্তন করার জন্যে অজ্ঞেয়বাদী ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও তাই পৈতা ধারণ করে ধর্মপুস্তক ঘাটতে হয়। কারন সমাজের বাইরে থেকে সাধারণত সংস্কার চাপিয়ে দেয়া যায় না। চাপিয়ে দিলেও ফলপ্রসু হয় না। জন্মগত ও ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয়কে পুরোপুরি পরিত্যাগের বদলে উলটো তার মধ্যে এসিমিলেট হয়ে যাওয়াকে বিদ্যাসাগররা গ্লানিকর মনে করেন নাই, এসিমিলেটেড হয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে কোরচাকরা বিচলিত হন নাই। বাংলাদেশের মুসলমান সমাজের প্রগতিশীল অংশে ধর্ম নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছে তারা প্রায় সবাই ‘মুসলমান’ পরিচয়টাকে সজোরে লাথি মেরে অথবা একেবারেই পাশ কাটিয়ে প্রগতিশীলতার চর্চা করছেন। কিন্তু এই সমাজে ইশ্বরচন্দ্রের মতো কোন সংস্কারক কিংবা কোরচাকের মতো কোন সহানুভুতিশিল হৃদয়ের আবির্ভাব ঘটছে না, এই বিষয়টা যতীন সরকারকে বিচলিত করে। তার ক্ষোভের জায়গাটা খুব সম্ভবত এইখানেই। তিনি যথেষ্ট স্পষ্ট করেই বলেছেন। বুঝার সমস্যাটা অনেকাংশেই আমাদের।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয় প্রসঙ্গে

  1. ইকারাসের লেখার জবাব স্বরুপ এই
    ইকারাসের লেখার জবাব স্বরুপ এই লেখাটা ফেলা যায়না ।ইকারাসের লেখায় দেখলাম তিনি কত গুলো প্রশ্ন রেখেছেন ,এই লেখাটি সকল প্রশ্নের উত্তর “ইউনুশ কোরচাকের” আত্ম বলিদানের ঘটনা টেনে দেয়া হয়েছে আমার মতে ঐ প্রশ্নগুলোর জবাব দেয়ার আর নতুন করে দরকার নেই।

    1. এই পোস্ট ইকারাসের পোস্টের
      এই পোস্ট ইকারাসের পোস্টের জবাব হিসাবে লেখি নাই। তবে তার পোস্টের কিছু বিষয় প্রাশঙ্গিক হওয়ায় এসেছে।

      1. তাঁর পোস্টের জবাব হিসেবে না
        তাঁর পোস্টের জবাব হিসেবে না লিখলেও মহামতি “কোরাচাক”এর ঘটনাটা এখানে উদ্বৃতি দেয়ার জন্য পাঠকদের মনে হবে পোস্টটা ইকারাসের পোস্টের জবাব স্বরুপ ।

  2. পারভেজ আলম লিখেছেন,
    আমি

    পারভেজ আলম লিখেছেন,

    আমি মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েছি বলেই সাংস্কৃতিক উত্তারধিকারসূত্রে মুসলমানও হয়েছি। এইটাও আমার ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য।

    তিনি আরও লিখেছেন,

    পরিচয় কি চাইলেই ত্যাগ করা যায়? জন্মসূত্রে পাওয়া ধর্ম পরিচয় সেচ্ছায় গ্রহণ করা নয়। কিন্তু চাইলেই সেই পরিচয় সর্বদা ত্যাগ করা যায় কি? ইতিহাস বলে- বাপ দাদার পরিচয় চাইলাম আর ত্যাগ করলাম, তা সর্বদা সহজ নয়।

    দেখুন, পারভেজ এখানে আপনি নিজেই বলছেন ‘সর্বদা সহজ নয়’, মানে কখনো কখনো সহজ বা সম্ভব। কিন্তু যতীন সরকারের বক্তব্যে এবং আপনার বক্তব্যেও সামগ্রিকভাবে এটাই এসেছে যে, পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত ধর্মীয় পরিচয় ইচ্ছানিরপেক্ষ। এখানে আপনি অদৃষ্টবাদ খুঁজে পেলেন না? স্বভাবগতভাবে উত্তরাধুনিক কায়দায় হাবিজাবি লিখে একটা বিষয়কে অন্য দিকে, অনেক কথার প্যাঁচের দিকে চালিত করাটা ঠিকই বুঝলেন?

    অদৃষ্টবাদ কী? যা গন্তব্যের অলঙ্ঘনীয়তার নিশ্চয়তা দেয়। এখানে এসব বাক্যে কী ঘটছে? পরিষাক্রভাবে বলা হচ্ছে যে, মুসলিমের ঘরে জন্মাইলে এই পরিচয় আর লোপ পাবে না। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠে, ধর্মপরিচয় কি শরীরে লেগে থাকা কোনো বিষয় নাকি এটা চিন্তার বিষয়? শরীরে লেগে থাকলে না হয় বুঝতাম, যাদের অপারেশনের টাকা নেই, তারা ফেলতে পারবে না। কিন্তু যদি চিন্তার বিষয় হয়, তাহলে ব্যক্তির পক্ষে কি এই চিন্তাকে অতিক্রম করা, অন্য চিন্তা (ধর্ম/দর্শন) গ্রহণ করা সম্ভব? যদি আপনি বলেন, না এটা নির্ধারিত। তাহলে তো সেটা অবশ্যই অদৃষ্টবাদই হয়। কিন্তু ধর্মপরিচয় তো আমরা অনেকেরই লোপ পেতে দেখেছি। অনেক মানুষই তাদের পিতৃধর্মের চেয়ে নিজে পরবর্তীতে গ্রহণ করা ধর্ম পরিচয়ে বেশি পরিচিত। এরকম হাজার হাজার বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষের কথা বলা যাবে। এটাকে আপনারা অস্বীকার করছেন, আবার শিবের গীতও গাইছেন!

    বস্তূত এটা বেশ ভাল করেই বুঝছি যে দ্বন্দ্বটা ঘনীভূত হচ্ছে ভাববাদ ও বস্তুবাদকে কেন্দ্র করে। আর আপনি যেহেতু বস্তুবাদী মোড়কে ভাববাদের রিপ্রেজেন্টেশন করেন, এজন্য আপনি না পারছেন ভাববাদের উপস্থাপক হতে, না পারছেন বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিটা তুলে ধরতে। আশা করি, এসব আত্মপ্রবঞ্চনার রাস্তা ত্যাগ করে নিজের সঠিক পরিচয়টি পরিষ্কার করবেন।

    মূলত আপনার পোস্টের বিষয়ে আমি যতীন সরকারের মতামত চাই। আমি বুঝতে চাচ্ছি, তিনি কি নতুনের কথা শোনার ধৈর্য্য আদোউ রাখেন, নাকি নিজের দলের মনোনীত লোকদের বাইরে কারো কথা শোনেন না। ধন্যবাদ।

    1. ইচ্ছানিরপেক্ষ মানেই তা ত্যাগ
      ইচ্ছানিরপেক্ষ মানেই তা ত্যাগ করা যায় না এমন কথা কি যতীন সরকার বলেছেন? আমি কি বলেছি? বরং ত্যাগ তো সর্বদাই করা যায়। কিন্তু সবসময় যে করা যায় না তার কিছু উদাহরণ দিয়েছি। দার্শনিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক জায়গা থেকে কিছু মানুষ কিভাবে নিজের ইচ্ছানিরপেক্ষ আইডিন্টিটির সাথে ডিল করে তার উদাহরণ দিয়েছি। এই জায়গাটায় ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। ‘ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয়’ ত্যাগ করা যায় না এমন দাবি বা ত্যাগ করা যাবে না এমন বাধ্যবাধকতা, বা ত্যাগ করা সম্ভব নয় এমন অবাস্তব কথা তো যতীন সরকার বলেন নাই । যদি তাই বলে থাকেন, আমি তা মানবো কেনো? সবারই অধিকার আছে ধর্মীয় এবং জাতীয় ইত্যাদী পরিচয় ত্যাগ করার। মানুষ করে তো। বাংলাদেশীদের মধ্যে তো ধর্মত্যাগীর চাইতে জাতীয়তাত্যাগীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু একটিভিজমের খাতিরে, বা রাজনৈতিক অথবা দার্শনিক কারনে কেউ জাতীয়তা, ধর্ম ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশ্বাস না রেখেও আইডেন্টিটিটা নাও ছাড়তে পারে এই ছিল এই লেখার বক্তব্য। কারন, আমার ধারণা যতীন সরকারের এই বক্তব্যটা ছিল একজন একটিভিস্টের প্রতি আরেকজন একটিভিস্টের পরামর্শ, যেই কারনে তিনি ইশ্বরচন্দ্রের উদাহরণ টানছেন। এখানে তিনি আপনারে বা আমারে কোন বাধ্যবাধকতা দেন নাই বা পরিচয় ত্যাগের মতো একটা বস্তব ঘটনা যেটা অহরহই ঘটে সেটারে অস্বিকার করার মতো অদৃষ্টবাদী কথাও বলেন নাই। আপনি ভাববাদ এবং বস্তুবাদ বলতে কি বুঝেন সেই বিষয়ে তর্কে যাবো না এখন, সুতরাং এই অভিযোগটা ইগনোর করলাম। আর আপনার অবগতির জন্যে জানাচ্ছি যে আমার কোন দল নাই যাদের মনোনিত সিলেবাস অনুযায়ি পাঠ করি। ধন্যবাদ।

      1. যতীন সরকারঃ তুমি ইসলামের

        যতীন সরকারঃ তুমি ইসলামের অনুসারী হবা না কেনো? তুমি তো অবশ্যই ইসলামের অনুসারী। তোমার বাবার মৃত্যুর পরে ইসলামী পদ্ধতিতে সৎকার করো নাই?
        পারভেজ আলমঃ জ্বি, করছি।
        যতীন সরকারঃ তুমি যে মুসলমান এইটা তোমার ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। আমি তো হিন্দু, এইটা ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। আমি যে হিন্দু, এইটা কি মিথ্যা কথা? কিন্তু আমি কি হিন্দু ইচ্ছা কইরা হইছি? তো তুমি মুসলমান, এইটাতো ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য তোমার।

        এই টোনের সঙ্গে আপনি যেভাবে পজিশন নিলেন, তা যায় না। তিনি কিন্তু নিজে বদলে গেছেন, মার্কসবাদী হয়েছেন বলেননি, আপনিও যে বদলেছেন, তাও গোণায় ধরেননি। বরং দুজনের ধর্মপরিচয় অটুট আছে বলেছেন। এবং এটাকে ইচ্ছানিরপেক্ষ বলে চাপিয়েছেন।

        যদি আলাপ আলোচনায় সৎ না থাকেন, তাহলে হুদাই এইসব শেয়ারিং করে কী হবে! আপনি পোস্ট লিখছেন, আরিফ আরের মতো লাইক পান, আমরা দেখি। আর যদি মতামতের ওপর গুরুত্ব দেন, তাহলে বলব যতীন সরকারকেই এই অবস্থানটি নিতে দিন। আপনার গুরুবাদীতা তার ওপর চাপানোর দরকার নেই। সাক্ষাৎকারের আরও আরও পর্বে ছোটার আগে আমি মনে করি, প্রথম পর্বের যে সজবাবটি এসেছে, তার প্রত্যুত্তর দেয়া জরুরী ছিল। কারণ ওই প্রশ্নগুলোর (যেমন হিন্দুত্ববাদী) সমাধান না হলে একজনের তো যতীন সরকারের সাক্ষাৎকার আবার পড়ার দরকার নেই!

  3. আপনার ইচ্ছে নিরপেক্ষ কথাটির
    আপনার ইচ্ছে নিরপেক্ষ কথাটির সংঙ্গা বা ব্যাখ্যা সঠিকভাবে দাঁড় করাতে পারেননি। আপনার এই ব্যাখ্যা প্রগতির সাথে যায় না। প্রগতির কাজ কি? পুরানো অচলায়তন ভেঙে সম্মুখে যাওয়া। কিন্তু যতীন স্যারের এই ইচ্ছে নিরপেক্ষ কথাটি অদৃষ্টবাদকে প্রমোট করে। ইচ্ছেনিরপেক্ষতা কথাটির যে ব্যাখ্যা আপনি দিয়েছেন সেটাকে কিভাবে আপনি প্রগতিবাদী ও প্রগতিশীল বক্তব্য বলবেন? জন্মসূত্রে আমি মুসলমানের ঘরে জন্মেছি তাই আমাকে মুসলিম পরিচয় নিয়েই থাকতে হবে। জন্মসূত্রে আমি কামার, তাঁতী, ছুতারের ঘরে জন্ম নিয়েছি, আমাকে ঐসব হয়েই থাকতে হবে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যাবে না। এটাই আমার নিয়তি। এটাইতো বুঝাতে চেয়েছেন?

    কিন্তু প্রগতি এসবের বিরুদ্ধে। প্রগতির কাজ হচ্ছে আমাকে অন্যসব পরিচয়ে নয়, মানুষের পরিচয়ে বড় হওয়ার শিক্ষা দেয়। আপনি যতই বলেন এটা অদৃষ্টবাদ নয়, আসলেই যতীন সরকার এটাই বুঝাতে চেয়েছেন। শেষ বিকালের রৌদ্দুরের কোমলতার আরাম যতীন সরকার অনুভব করতে পারেননি।

    এখানে একটা বিষয় লক্ষ্য করা প্রয়োজন, যে কমিউনিটি নিয়ে যতীন সরকার হতাশা প্রকাশ করেছেন, সেই কমিউনিটি সম্পর্কে উনি কতটুকু জানেন? কারো থেকে মুখে শুনে উনার মত একজন প্রাজ্ঞবান মানুষ একটা মন্তব্য বা মূল্যায়ন করা ঠিক হয়নি। অনলাইন কমিউনিটিকে এভাবে ছুড়ে ফেলে দিয়ে যতীন সরকার বিজ্ঞতার পরিচয় দেননি।

    এই কমিউনিটি যদি এতটা অজ্ঞ হত, আপনি পারভেজ আলম যতীন সরকারের কাছ থেকে তত্ব এনে প্রচার করার প্রয়োজনীতা অনুভুব করতেন না। আপনি ভাল করেই জানেন অনলাইন কমিউনিটির এক্টিভিজমের মূল্য একেবারে কম না। একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট ও ব্লগার হিসাবে যতীন সরকারের সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগে অনলাইন কমিউনিটি সম্পর্কে তাঁকে একটা ধারণা দেওয়া উচিত ছিল। সেই কাজটি না করাতে এখানে একটা দুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

    লেখক যতীন সরকারের সাথে সাক্ষাৎকার দেওয়া যতীন সরকারের দুরুত্ব কি আপনি এখনো দেখছেন না পারভেজ ভাই?

    1. ইচ্ছানিরপেক্ষ মানেই তা ত্যাগ
      ইচ্ছানিরপেক্ষ মানেই তা ত্যাগ করা যায় না এমন কথা কি যতীন সরকার বলেছেন? আমি কি বলেছি? বরং ত্যাগ তো সর্বদাই করা যায়। কিন্তু সবসময় যে করা যায় না তার কিছু উদাহরণ দিয়েছি। দার্শনিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক জায়গা থেকে কিছু মানুষ কিভাবে নিজের ইচ্ছানিরপেক্ষ আইডিন্টিটির সাথে ডিল করে তার উদাহরণ দিয়েছি। এই জায়গাটায় ভুল বুঝাবুঝি হচ্ছে। ‘ইচ্ছানিরপেক্ষ পরিচয়’ ত্যাগ করা যায় না এমন দাবি বা ত্যাগ করা যাবে না এমন বাধ্যবাধকতা, বা ত্যাগ করা সম্ভব নয় এমন অবাস্তব কথা তো যতীন সরকার বলেন নাই । যদি তাই বলে থাকেন, আমি তা মানবো কেনো? সবারই অধিকার আছে ধর্মীয় এবং জাতীয় ইত্যাদী পরিচয় ত্যাগ করার। মানুষ করে তো। বাংলাদেশীদের মধ্যে তো ধর্মত্যাগীর চাইতে জাতীয়তাত্যাগীর সংখ্যা বেশি। কিন্তু একটিভিজমের খাতিরে, বা রাজনৈতিক অথবা দার্শনিক কারনে কেউ জাতীয়তা, ধর্ম ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশ্বাস না রেখেও আইডেন্টিটিটা নাও ছাড়তে পারে এই ছিল এই লেখার বক্তব্য। কারন, আমার ধারণা যতীন সরকারের এই বক্তব্যটা ছিল একজন একটিভিস্টের প্রতি আরেকজন একটিভিস্টের পরামর্শ, যেই কারনে তিনি ইশ্বরচন্দ্রের উদাহরণ টানছেন। এখানে তিনি আপনারে বা আমারে কোন বাধ্যবাধকতা দেন নাই বা পরিচয় ত্যাগের মতো একটা বস্তব ঘটনা যেটা অহরহই ঘটে সেটারে অস্বিকার করার মতো অদৃষ্টবাদী কথাও বলেন নাই।

      যতীন সরকার মোটেই অনলাইন কমিউনিটিকে ছুড়ে ফেলেন নাই, তিনি তার জায়গা থেকে কিছু সমালোচনা ও পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র। মানা না মানা, সমালোচনা করা অথবা নিন্দা করা সেগুলো তো আমাদের ব্যাপার। কে কি করবে সেটা যার যার প্রজ্ঞার বিষয়। বিষয়টা খুবি সহজ।

  4. অনলাইন লেখকদের বিরুদ্ধে একজোট
    অনলাইন লেখকদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিষেদেগার, ঢালাউ দোষারপ, বিদ্বেষ যতীন স্যার, পারভেজ আলমদের এখন আর বিচ্ছন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। জাকির তালুকদারের ফেইসবুক পোস্ট দেখুন- “অন্যদিকে অনলাইনের নাস্তিকরা যাবতীয় বীর্যবত্তা কি-বোর্ডে ঢেলে দিয়ে চলেছেন। এই দেশে মানুষ অপপ্রচারের কারণে সবসময় বাম-প্রগতিশীলদের নাস্তিক হিসাবে চিহ্নিত করেছে। বামপন্থীরা যে তাদের কাজের প্রত্যাশিত ফলাফল লাভ করতে পারেননি, তার পেছনে নিজেদের অনেক ভুলের পাশাপাশি অন্যতম কারণ তাদের গায়ে সেঁটে থাকা এই নাস্তিক তকমা। লড়কে লিয়ে লাল ঝান্ডা ভোটকে লিয়ে অন্য। তারপরেও জনসাধারণ জানত যে রুটি-রুজি-ইনসাফের লড়াইতে তারা একমাত্র বামদেরই পাশে পায়। এটাই বামদের টিকে থাকার মূল কথা।
    কিন্তু এখন অনলাইন নাস্তিকদের দৌরাত্মের সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় মৌলবাদীরা তো বটেই, তথাকথিত উদারপন্থীরাও প্রগতিশীলদের মাঠে থাকাকে আরো কঠিন করে তুলছে।
    ভিমরুলের চাক ভাঙার ক্ষমতা নেই, কিন্তু তারপরেও যখন সেই চাকে বারবার ঢিল মারা হয়, তার একমাত্র ফলাফল হচ্ছে পথচারীদের সেই পথে চলাকে অসম্ভব করে দেওয়া। এই কাজটি খুব দক্ষতার সাথে করছেন অনলাইনের নাস্তিক যোদ্ধারা। এতে স্বার্থটা উদ্ধার হচ্ছে কাদের?”- আমাদের এতদিনের অর্জনকে কেউ বা কারা ধ্বংস করতে চাচ্ছে। উদ্দেশ্য তো জাকির তালুকদার বলেই দিয়েছে। কমিউনিস্টরা মুমিন হতে চাচ্ছে!

  5. আমার মনে হয় ইচ্ছানিরপেক্ষ
    আমার মনে হয় ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য কখনোই পরিত্যাগ করা যায় না। যতীন সরকারকে হিন্দু না বলে প্রগতিবাদী বলতে যতীন সরকারকে পড়তে হবে, জানতে হবে। কিন্তু, তার নামই বলে দেয় যে তিনি হিন্দুর ঘরে জন্ম নিয়েছেন। তার নামটি কি তিনি চাইলেই ছাড়তে পারবেন। হ্যাঁ, পারবেন। কিন্তু তারপরও তাকে বলবে যে যতীন সরকার তাঁর নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম গ্রহন করেছেন। আবার অনলাইনে যারা ছদ্মনামে লেখালেখি করেন। তারা কি নিজের ব্যক্তিসত্ত্বাকে এখানে পরিস্ফুট করেন? মনে হয় না। এখানে তার নামটিই শুধু পাই। সুষু্প্ত পাঠক। নামটা শুনলে আমরা কোন ধর্মীয় পরিচয়ই পাই না। কিন্তু তিনি কি তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বিস্মৃত হয়ে ব্লগে লেখালেখি করেন। তার চিন্তাধারার পরিবর্তনের সাথে সাথে কি তিনি তার সমাজে নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরের পরিচয়ই শুধু বহন করেন? মনে হয় না। তিনি কি নিজেই আত্মবিস্মৃত হতে পারেন কখনও যে তিনি নির্দিষ্ট ধর্মে জন্মগ্রহন করেছেন? তিনি নিজের মনে সবসময়েই জানেন যে অমুক ধর্মে তার জন্ম। সমাজেও কি তিনি তাঁর নাম পরিবর্তন করেছেন? অনলাইনে ছদ্মনাম গ্রহন আর নিজের সমাজে নিজের পরিচিত নাম পরিবর্তন এক কথা নয়। অনলাইনে নাম পরিবর্তন শুধুই নামের পরিবর্তন। কিন্তু, অফলাইনে নামের পরিবর্তন শুধু নামের পরিবর্তন নয়, ব্যক্তিরও পরিবর্তন। চাইলেই কি কেউ তার বাপের নাম, মায়ের নাম, দাদার নাম পরিবর্তন করতে পারেন? মা, বাবা, দাদার ব্যক্তিপরিচয়কে উপেক্ষা করতে পারেন? পারেন না। এভাবে আমরা কেউই আমাদের ইচ্ছানিরপেক্ষ জন্মপরিচয়কে কখনোই উপেক্ষা করতে পারি না। নিজের পরিচয়ের মধ্যে থেকেই আমাদের সমাজকে পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের হিন্দু পরিচয় আমরা পরিবর্তন করেছি কয়েকশো বছরে। কেউ যদি তার জন্মগত ধর্ম পরিচয় সত্যিই পরিবর্তন করতে চান তাহলে কয়েকশ বছর সময় লাগবে। যখন তার নামটি আর কোথাও উচ্চারিত হবে না। তার উত্তরপুরুষরা বিস্মৃত হবে যে অমুক আমার পূর্বপুরুষ, তার ধর্ম ছিল তমুক। তবেই ধর্ম পরিচয় পরিবর্তন সম্ভব। একজীবনে তা নয় কোন ক্রমেই। যারা রাতারাতি নিজের ইচ্ছানিরপেক্ষ জন্মপরিচয় অস্বীকার করতে চান তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =