যতীন সরকারের অদৃষ্টবাদ ও নতুন-পুরনোর দ্বন্দ্ব!

পারভেজ আলমের নেয়া যতীন সরকার স্যারের সাক্ষাৎকারটি পড়লাম। সমাজে তিনি একজন স্বীকৃত জ্ঞানী-গুণী মানুষ। আমরা যারা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পর্যবেক্ষক, তার প্রজ্ঞা ও মননশীলতার কথা সুদীর্ঘকাল থেকে শুনে আসছি।

বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতি চলছে, সে প্রসঙ্গে আমাদের কাছে তার মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার মেধা, মননশীলতা ও অভিজ্ঞতা আমাদের পথ দেখাবে, এমনটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব পড়ে আমি হতাশ হয়েছি বলা চলে। পুরো সাক্ষাৎকারটা পেলে সামগ্রিক আলাপে যাওয়া যেত, তবে এখন শুধু সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারটি পড়ে যতীন স্যারের মেধা ও প্রজ্ঞার পরিচয় বরাবরের মতোই পেলাম। কিন্তু তার বাচনভঙ্গিটা সঠিকভাবে এসেছে কিনা বুঝতে পারছি না। যেমন, সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বটা যে কেউ খুঁটিয়ে পড়লে এখানে কয়েকটা মতাদর্শিক বিষয় পাবেন, যা হচ্ছে- হিন্দুত্ববাদ তথা মুসলিমবিদ্বেষ, সুবিধাবাদ তথা বাস্তবতার কথা বলে সত্যকে এড়ানো এবং অদৃষ্টবাদ তথা পরিবর্তনকে অস্বীকার করা। যতীন স্যারের কথায় এভাবে এসব বিষয় আসবে আমি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করিনি। এই সাক্ষাৎকারের লক্ষ্যবস্তু যারা- সেই নাস্তিক সমাজ ইতোমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেও তারা এর মূলে যাননি। গর্দভের মতো আমরা সঠিক, ওরা ভুল ধরনের অবস্থান নিয়ে নিজেদের খাটো করেছেন।

তবে এই সাক্ষাৎকারে যতীন স্যার অসাধারণ কিছু মতামত দিয়েছেন। যেমন, ধর্ম কোথা থেকে কি পরিস্থিতিতে উদ্ভব হয়েছে, তা জানা থাকলে, ইতিহাসের গভীর পাঠ থাকলে ধর্মবিদ্বেষ আসে না। এরকম আরও দামি দামি অনেক কথা বলেছেন তিনি। সেগুলো উল্লেখ করতে গেলে এটা ওই পোস্টের দ্বিরুক্তি বৈ কিছু হবে না। আমি বরং আমার দ্বিমতগুলোই পরিষ্কার করি। তার আগে বলে নিতে চাই, এখানে উল্লেখিত বক্তব্য নিতান্তই মতামত- সুতরাং বিষয়ের মধ্যে থেকে আলাপ করলে সুবিধা হয়। এর মধ্যে ব্যক্তিকে টেনে আনার দরকার নেই।

।। এক ।।
আগেই বলেছি এই সাক্ষাৎকারের মোট বক্তব্য আমার কাছে হিন্দুত্ববাদ, সুবিধাবাদ ও অদৃষ্টবাদ হিসেবে ধরা পড়েছে। কিভাবে? সেটাই ব্যাখ্যা করছি। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে যতীন সরকার তার বক্তব্যে বারবার নেতিবাচক অভিধা দিয়ে মুসলমানদের কথা টেনেছেন। তিনি বলেছেন,

‘আমাদের দেশের হিন্দু কমিউনিস্টরা হিন্দু ধর্ম সম্বন্ধে অনেক পড়াশোনা করছে। মুসলমান কমিউনিস্টরা নিজেদের ধর্মগ্রন্থই ঠিকমতো পড়ে নাই। হিন্দু কমিউনিস্টরা যে পড়ছে, সেটা কিন্তু গালাগালি করার জন্যে পড়ে নাই, তার বদলে এর ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝার জন্যে পড়ছে। কিন্তু তোমরা পড়বাই না। ইসলাম নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে কথাই হয় না, ভিন্ন কোন চিন্তাই হয় না। আর যখন ভিন্ন কিছু চিন্তা হয়, তখন হয়ে যাচ্ছে নাস্তিকের আস্ফালন।’

এখানে মুসলিম বিরোধি বা বিদ্বেষি মনোভাবটা সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। লক্ষ্য করুন, হিন্দু কমিউনিস্টরা পড়ে, এর অর্থ দাঁড়ায় মুসলমান কমিউনিস্টরা পড়ে না; হিন্দুরা গালাগালির জন্য পড়ে নাই, ইতিহাস ও অর্তনীতি বুঝার জন্য পড়ছে, যার অর্থ মুসলমানরা না বুঝে গালাগালির জন্য পড়ছে; মুসলিমদের মধ্যে তাদের ধর্ম নিয়ে কথাই হয় না, হইলে তা হয় নাস্তিকের আস্ফালন, যার অর্থ হিন্দুদের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না। এরকম গড়পড়তা অভিমত আমি অন্তত যতীন স্যারের কাছে আশা করিনি। কিছু কিছু জায়গায় তিনি হিন্দুদের সমালোচনা করলেও এই যে মুসলিমবিদ্বেষ এটা কিন্তু বেরিয়েই এসেছে। বক্তব্যের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি হিন্দু ও মুসলিমকে মুখোমুখি করে ফেলেছেন এবং সেখানেও থামেননি, সিদ্ধান্ত দিয়েছেন হিন্দুপক্ষে।

প্রসঙ্গক্রমে বলতে পারি, বাংলাদেশে হুমায়ুন আজাদ, ফরহাদ মজহার, সলিমুল্লাহ খান আর শাহরিয়ার কবির নামক ‘মুসলমান’দের চেয়ে ধর্ম নিয়ে বেশি পড়া হিন্দুরা কারা? এখানে কেন যতীন স্যার হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন টেনে একদলকে ভালো আর আরেক দলকে খারাপ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করলেন? আর যদি কেবল কমিউনিস্টদের কথাই বলেন, তাহলেও দেখা যাবে, এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রধান তাত্ত্বিকদের অধিকাংশই তো ‘মুসলিম’, তা যতীন স্যারের পছন্দের দল সিপিবির ফরহাদ, সেলিম, আর তার বাইরের সিরাজ সিকদার, হক, তোয়াহা, বদরুদ্দিন উমরেরা কেউ কি পড়াশুনা করেননি? তার এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণ করা যায় না।

মুসলিম বিদ্বেষের নমুনা আরও এসেছে। যেন সমস্যা তিনি মুসলিম ছাড়া আর কোথাও দেখছেন না! যেমন বলেছেন, ‘এইটাতো আমি মুসলমান বন্ধুগোরে বুঝাইতে পারি না। তোমরা মুসলমানরা বুঝো না এইডা। মুসলমানরা প্রগিতিশীল হইলেই হইতে হইবো কি, এখন তো ব্লগার হইতাছে…’
আরও বলেছেন, ‘সমগ্র মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে একটা সমস্যা হইতাছে এইখানে। এবং এই জেনারেশনের দোষ হইল তাদের যারা এইরকম ব্লগিং করে। এই কারনে তার বিরুদ্ধে মৌলবাদও এইভাবে বাড়তাছে।’

যদিও এই ধরনের অবস্থানের ক্ষেত্রে ব্লগারদের মধ্যে হিন্দু-মুসলিম ভেদ নেই। পারভেজ এটা বুঝেছেন এবং প্রসঙ্গটাও তুলেছেন। কিন্তু ভক্তির কারণে তিনি বিতর্কটা না এগিয়ে বিষয়টা ছেড়ে দিয়েছেন। প্রশ্নটা আসা উচিত ছিল যে, নাস্তিক ব্লগারদের আমরা হিন্দু-মুসলিম ভাগে বিভাজিত হতে দেখিনি। এটা সব সময় আস্তিকরা করে। তারা বলে যে হিন্দু নাস্তিক বা মুসলিম নাস্তিক, সুবিধা নেয়ার উদ্দেশ্যেই তারা এই ট্যাগ দেয়। আপনিও কেন এমন ট্যাগ দিচ্ছেন? কিন্তু পারভেজ এই প্রশ্নটি করেননি। এমনকি যতীন স্যারের বলা ‘এখন তো ব্লগার হইতাছে…’ এর পুরো বাক্যটা না দেয়ার কারণ কি? এটা কেন তিনি বলেছেন, বা এখানেই কেন বক্তব্য থামানো হলো তাও পরিষ্কার করেননি।

।। দুই ।।
এরপর আসে সুবিধাবাদের প্রশ্ন। আমরা জানি, সিপিবি এদেশের কমিউনিস্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ দল। একাত্তরে পাকিস্তান হঠানোর পর থেকে তারা মুজিব সরকারের সঙ্গে ঐক্যের লাইন গ্রহণ করে। তাদের রাজনীতি দেশ প্রতিষ্ঠার গোড়া থেকেই শাসকশ্রেণীর অনুবর্তী। এর ফলে সিপিবি নেতারা অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন। তাদের নামে বিরাট দালান উঠেছে। কমিউনিস্ট হওয়ায় রাষ্ট্র যেখানে তাদের উচ্ছেদ করার কথা, সেখানে উল্টো তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। ফলত সিপিবি নেতাদের মধ্যে সুবিধাবাদ শিকড় গেঁড়েছে। এখন তারা গাড়ি হাঁকিয়ে প্রোলেতারিয়েতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। সিপিবির এমন সুবিধাবাদে আচ্ছন্নতার কালে দলটিতে যুক্ত না হয়েও তাদের পক্ষে মতামত রেখে যতীন স্যার এবং সরাসরি দলে যুক্ত থেকে আরও কয়েকজন এই ধারার আদর্শের টিমটিমে কিছু বাতি জ্বেলে রেখেছেন। কিন্তু সেই বাতিতেও যে তেল ফুরিয়ে গেছে, এটা আমাদের জানা ছিল না। যতীন স্যার বলেছেন,

‘মওলানা আবুল কালাম আজাদ, যিনি অসাধারণ ধার্মিক মানুষ ছিলেন। মওলানা আবুল কালামের লাইন ধরিয়া যদি তোমরা ইসলাম চর্চা করতা তাহলে দেখতা তোমাদের কেউ নাস্তিক কইয়া, ইসলাম বিরোধী কইয়া বাতিল করতো না। এখন এই ব্লগাররাই করুক, এরা যা খুশি করুক। এই ব্লগাররা কি এই সমাজের জন্যে কোন রকম…’

যতীন স্যার মার্কসবাদী মানুষ। আমি ভেবেছিলাম, তিনি জনগণকে কমিউনিস্ট আদর্শের কথা বলবেন। মতাদর্শিক সংগ্রাম চালাবেন, বিভ্রান্তি দূর করবেন এবং সংগ্রামের পথে তরুণদের চালিত হতে পরামর্শ দিবেন। বিপরীতে তিনি টেনে আনলেন মওলানা আবুল কালাম আজাদকে। উপমহাদেশের ইতিহাসে তিনি সেক্যুলার সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যতিমান। আর মার্কসবাদের মর্মমূলে রয়েছে সংস্কারের বিরোধিতা ও বিপ্লবের পক্ষাবলম্বন। যতীন স্যার এখানে বিপ্লববাদীদের এড়িয়ে সংস্কারবাদীকে টেনে আনলেন। এটা আসছে তার সমর্থিত পার্টিতে দীর্ঘকাল থেকে চর্চ্চা হওয়া সুবিধাবাদ ও এস্টাবলিশমেন্ট থেকে। মওলানার মতো ধার্মিক হলে রাষ্ট্রে তোমার অবস্থান কেউ চ্যালেঞ্জ করবে না, এমন ধারণা এস্টাবলিশমেন্ট থেকেই আসে এবং তারই সেবা করে। তাছাড়া এই বক্তব্যে তার বলা ‘এই ব্লগাররা কি এই সমাজের জন্যে কোন রকম…’ গুরুত্বপূর্ণ বাক্যটি সম্পূর্ণ না করা, তার নেতিবাচক বক্তব্য আংশিক চেপে যাওয়াটাও কিন্তু সুবিধাবাদের মধ্যে পড়ে! এখানে তিনি ব্লগারদের কি বলতে চেয়েছিলেন, তা লুকানোটা সাক্ষাৎকারের ইথিকসের মধ্যে পড়ে না।

সুবিধাবাদ তার বক্তব্যে আরও প্রকটভাবে এসেছে। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা থেকে তিনি বের হওয়ার কথা বলেছেন, অনেক পড়ার কথা বলেছেন, কিন্তু আমার মনে হয় তার দলের সুবিধাবাদ চর্চ্চার লাইন তাকেও সেই বৃত্তে নিক্ষিপ্ত করেছে। এসব ঘাটতি থেকে তিনি নিজেই বের হতে পেরেছেন কিনা, তাও প্রশ্নসাপেক্ষ। তিনি বলেছেন,

‘চীনপন্থী আর রুশপন্থীদের তফাৎ হইল এইটা যে, রুশপন্থীরা এখনো মোটামুটি একই রইছে, নিজেদের মধ্যে মতের ফারাক থাকলেও পার্টির অভ্যন্তরে থাইকা তা করছে এবং করতে করতে এই জায়গায় আসছে। যারা বের হইয়া যাওয়ার বের হইয়া গেছে। কিন্তু চীনপন্থীদের কি অবস্থা হইছে? ভাঙতে ভাঙতে প্রত্যেকটা ব্যক্তি একটা পার্টি হইয়া গেছে। প্রটেস্টান্টরাও হইল তাই। চীনপন্থীদের বক্তব্যের মধ্যে যে সত্য ছিল না আমি তা বলি না। আমি কিন্তু একসময় পিকিংপন্থীদের সমর্থনও করতাম। কিন্তু আমাকে তো সমর্থন করতে দিল না। কাকে করবো আমি? এতোগুলা ভাগ। প্রটেস্টান্টদের হইছে এই অবস্থা।’

একেবারেই বালসুলভ বক্তব্য। ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষ চীনপন্থিদের খোঁচা দেয়ার লোভটা সামলাতে পারলেন না, তাও আবার প্রোটেস্টান্টদের সঙ্গে তুলনা দিতে গিয়ে? হা হা হা। পাশাপাশি বললেনটা কী? ঐক্য থাকাটাই কি কেবল ইতিবাচকতার লক্ষণ? এই দেশে আরও কম ভেঙেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আর রুশপন্থী তথা সিপিবির মতো দল, যা কিনা এক বদ্ধ জলাশয়ের মতো, যেখানে মতের দ্বন্দ্ব নেই, বিতর্ক নেই, কারণ সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা বা স্বপ্ন সেখানে নেই, আছে কেবল ধারাবাহিকতা রক্ষা তথা ঐতিহ্য আঁকড়ে থাকার অক্ষমতা- সেখানে পার্টি ভাঙার প্রশ্ন কমই আসার কথা। আর পার্টি ভাঙাটা অবশ্যই চীনপন্থিদের লাইনের দুর্বলতাকে দেখিয়ে দেয়। যতীন স্যার কেন এই দুর্বলতা বা ফাঁকটা কোথায় তা চীনপন্থীদের ধরিয়ে দিলেন না? বরং তারা ভাঙছে দেখে তিনি পিছিয়ে এলেন, সমর্থন তুলে নিলেন, সিপিবির তাত্ত্বিক বনে গেলেন? এটা কি তার পরাজয় নয়?

বাস্তব হচ্ছে, সিপিবি নেতাদের সুবিধাবাদই তাদেরকে সোভিয়েতের হালুয়া রুটির ভাগের দিকে টেনেছে। যতীন স্যাররা তা করেননি, কিন্তু মাথার ভেতরের এস্টাবলিশমেন্ট তাদেরকে বিদ্রোহী দলে ভেঁড়া থেকে বিরত রেখেছে। আমি জানি না, সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও মাওবাদ সম্পর্কে তিনি কতটুকু পড়েছেন, বা পড়লেও তা বিরোধি চিন্তার বাইরে দাঁড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে কতটুকু পড়তে পেরেছেন! তবে এটা জানি যে, সিপিবির বর্তমান সভাপতি থেকে শুরু করে অধিকাংশ নেতাই মাওবাদীরা মাওবাদ বলতে কি বুঝায়, বা সাংস্কৃতিক বিপ্লবের শিক্ষা হিসেবে তারা কোন বিশ্ববীক্ষা প্রচার করছে, এ সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানে না। জানাটা কঠিন না, বই পত্র পাওয়া যায়। জানেন না, কারণ তাদের আর জানার প্রয়োজন পড়ে না, যেহেতু বিপ্লবের স্বপ্ন বা পরিকল্পনা কোনোটাই আর তাদের মধ্যে নেই। যতীন স্যার সিপিবির এই সুবিধাবাদী লাইনকেই নিজ বক্তব্যের মাধ্যমে মূর্ত করেছেন।

।। তিন ।।
তার বক্তব্যে অদৃষ্টবাদ এসেছে প্রবলভাবে। যেন ঈশ্বর বা মহান সৃষ্টিকর্তা বা কোনো এক বিশেষ্য যা ঠিক করে দিয়েছেন, তা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় আমাদের নেই। যেহেতু মুসলিম পরিবারে আমাদের জন্ম হয়েছে, তাই আমরা মুসলিম হতে বাধ্য। এই মত মেনে নিতে গেলে তো সমাজ পরিবর্তনের লড়াইটাও বাতিল হয়ে যায়। ব্যক্তি মালিকানার এই সমাজে আমাদের সকলকে ব্যক্তি মালিকানার পক্ষে থাকতে হবে, উপরোক্ত মত বিশ্লেষণ করলে এমন মতও চলে আসবে। অথচ তারুণ্যের শক্তি এখানেই যে, সে তার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যকে বাতিল করে নিজেই রাস্তা খুঁজে নেয়। রক্ষণশীল সমাজের বেঁধে দেয়া গন্ডি ভেঙে নিজের চিন্তার উচ্চতা ও তার সঙ্গে শ্রম মিশিয়ে স্বাধীনতার নতুন সীমা ও সংজ্ঞা তৈরী করে। যতীন স্যার বলেছেন,

‘আমি সমস্ত মুসলমানদের দৃঢ়চিত্তে বলি, বিশেষ করে তথাকথিত প্রগতিশীল মুসলমানদেরকে, তোমাদেরকে। এবং তোমরাই এর জন্যে দায়ি। এবং আজকের যেই অবস্থাটা হইছে, এইটা তোমরা সৃষ্টি করছো, মৌলবাদিদেরকে তোমরা সুযোগ কইরা দিছো। তুমি কেনো মৌলবাদীদেরকে বলতে পারো না যে, ইসলাম তাদের বাবার সম্পত্তি না। তুমি কেনো বলতে পারো না- “আমি মুসলমান, আমার নাম পারভেজ আলম। তুমি ইসলামের কথা বলতে পারলে, আমারো অধিকার আছে বলার। কারন তুমি যে কোরান শরিফ পড়ছো, তা আমিওতো পড়তে পারি, তুমি একলাই হজরত মুহাম্মদকে জানো না, আমিও জানি”।’

‘তুমি যে মুসলমান এইটা তোমার ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। আমি তো হিন্দু, এইটা ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য। আমি যে হিন্দু, এইটা কি মিথ্যা কথা? কিন্তু আমি কি হিন্দু ইচ্ছা কইরা হইছি? তো তুমি মুসলমান, এইটাতো ইচ্ছানিরপেক্ষ সত্য তোমার।’

এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি তরুণদের পুরনো সামাজিক চর্চ্চা ও বিধির কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন। আর এক্ষেত্রে যুক্তি দিয়েছেন অদৃষ্টবাদী। পথ দেখিয়েছেন বিদ্রোহ না করার। মৌলবাদীদের আক্রমণের মুখে দিশেহারা হয়ে তিনি ধর্ম সম্পর্কে সহনশীল হওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছেন, আমি কিন্তু তার বিরোধিতা করছি না। বরং বিরোধিতা করছি, এই যে তিনি আমার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন যে, আমি নাকি ইচ্ছানিরপেক্ষ মুসলমান, তিনি নাকি ইচ্ছানিরপেক্ষ হিন্দু! বাস্তবে আমরা দেখলাম, তার মধ্যে মুসলিমবিদ্বেষ তথা হিন্দুত্ববাদী প্রবণতা রয়েছে। এজন্যই তিনি অন্যদের এ থেকে মুক্ত ভাবতে পারছেন না। এটা তার চিন্তার দৈন্যতা, এটা অদৃষ্টবাদ এবং মর্মমূলে ভাববাদ। বস্তুবাদ তো বলে বস্তু পরিবর্তনশীল। তাহলে আমি যে বস্তু, আমার যে চিন্তা বা চিন্তার ধরণ, তাও তো পরিবর্তনযোগ্য। তাহলে ইসলামী ধ্যাণ ধারণা থেকে কেন আমি বের হতে পারব না। ‘পারবই না’- এটাকেই আমি মানতে পারি না, কারণ এটা বস্তুবাদ বিরোধী বক্তব্য।

।। শেষ কথা ।।
পরিশেষে এই আলাপের গতি ঠিক রাখার জন্য কিছু কথা বলা দরকার। আমার কাছে মনে হয়েছে, যতীন স্যার, নতুন-পুরনোর দ্বন্দ্বে আটকা পড়েছেন এবং নিজে উদ্যোগী হয়ে ‘পুরনো’র প্রতিনিধিত্ব করছেন। ধর্ম সম্পর্কে মওলানা আজাদের ব্যবহারিক লাইন আর আজকের দিনের নাস্তিকদের ব্যবহারিক লাইন যে এক হবে না, এটা বলাই বাহুল্য। কারণ এর সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনাও যুক্ত। আজকের বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো যেভাবে ধর্মকে সংঘাতের অংশ বানানোর চেষ্টারত, আর সেই ঘৃতে কট্টর মোল্লারা যেভাবে ঝাঁপ দিচ্ছে, সেখানে নাস্তিকরা হচ্ছেন এর প্রধান বলি। সুতরাং নাস্তিকরা এরকম আক্রমনের যুগে মওলানার যুগের মতো আচরণ করবেন না এটাই স্বাভাবিক। যতীন স্যার নতুনের এই বাস্তবতাটাকে উপলব্ধি করতে পারেননি।

এমনকি তরুণরা কিভাবে ভাবছেন তার সঙ্গেও তিনি খুব ভালো পরিচিত কি? বিজ্ঞান্মনস্ক, সাহিত্যমনস্ক, রাজনীতিমনস্ক, নাট্যমনস্ক, চলচ্চিত্রমনস্ক, আলোকচিত্রমনস্ক, প্রবাসী পড়ুয়া, অভিযাত্রী, মাদকাসক্ত, মাদকবিরোধী, আত্মমনস্ক, বন্ধুমনস্ক, পণ্যমনস্ক, দেশে ও বিদেশে থাকা গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্তরের এই তরুণদের জটিল চিন্তাধারার সঙ্গে তিনি কতটা পরিচিত? সাক্ষাৎকারগ্রহীতা এসব বিষয়ের গভীরে না গিয়ে আসলে খন্ডিত বক্তব্য দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করতে গিয়ে স্যারকে বিপদে ফেলেছেন।

আরও একটা বিষয় ছুটে গেছে বলে আমার মনে হয়েছে। সেটা হচ্ছে, অনলাইনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সমাজে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার জন্য অনেক বিধি-বিধান আছে। এগুলো হাজার হাজার বছরের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পরীক্ষিত উপযোগী বিষয় হিসেবেই মানব সমাজে গৃহীত হয়েছে। যেমন, আচার আচরণের পদ্ধতি থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছু। কিন্তু ইন্টারনেট এক্ষেত্রে নতুন পরিস্থিতি হাজির করেছে। ইন্টারনেটে সমাজস্থ মানুষেরাই থাকে, কিন্তু সেখানে তারা অনেকটা স্বাধীন অর্থাৎ অনেক সামাজিক বিধি সেখানে নেই। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সেখানে যা খুশি অনেক কিছুই বলতে ও করতে পারছেন। কিন্তু যখন তিনি সাইবার জগত থেকে বাস্তবে ফিরে আসছেন, তখন তার জন্য বিধি আরোপ হচ্ছে। এটা তার মধ্যে অস্থিরতা তৈরী করছে। যা আবার সমাজকেও আক্রান্ত করছে। ইন্টারনেটের এই প্রভাবগুলো বিচার করা দরকার ছিল।

তবে যতীন স্যারের এই সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে নাস্তিক মহলের কোনো কোনো অংশ যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, নিঃসন্দেহে তা নিন্দনীয়। তারা বিষয়ে না গিয়ে, মতামতের ভুল-ভ্রান্তি ও সঠিকতা না খুঁজে চরিত্রহননের মতো জঘণ্য কাজে নেমেছেন। বরং তারা যদি এই প্রশ্নটি তুলতেন যে, আপনারা কেন আমাদের মুসলমান হতে বলছেন? তরুণদের প্রবণতা আপনারা কতটা বোঝার চেষ্টা করেছেন? তাহলে বিতর্কটা তার দিশা খুঁজে পেত।

আমি এখানেই জোর দিতে চাই। সাক্ষাৎকারটিতে বাংলাদেশে নাস্তিকদের কর্মপন্থা নিয়ে আলাপ মুখ্য ছিল। কিন্তু তাদের মুসলমান হতে বলা হয়েছে। আমার মতে, এটা ভুল নির্দেশনা এবং নতুন পরিস্থিতিকে বুঝতে ব্যর্থ হওয়া। বরং অবশ্যই উচিত ছিল ঈশ্বরে অবিশ্বাসীদের এই পরামর্শ দেয়া যে, উত্তেজনা ত্যাগ করা, যুক্তিতে ভর করা, বিষয় থেকে বেরিয়ে ব্যক্তিতে না যাওয়া, নিজের মতের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে মৌলবাদী উগ্রতায় আক্রান্ত না হওয়া এবং আরও বেশি পরিশ্রমী, উদ্যোগী ও জনঘনিষ্ঠ হওয়া এবং জনগণের মধ্যে নিজেদের শিকড় বিস্তৃত করা। আর সেজন্য জনগণের বাস্তব অবস্থাটা অনুধাবন করা জরুরী। তরুণদের সেদিকে চালিত করতে পারলে সেটাই হতো কাজের কাজ। কিন্তু সেটা হয়নি। এটা হয়নি কারণ নতুন-পুরনো দ্বন্দ্বটা মুখ্য হয়ে উঠেছে।

আমরা দেখেছি, আমাদের প্রবীণরা অনেকেই নতুনের জয়গানের কথা মুখে বললেও তাদের ধারণা এখনকার পোলাপান সব পড়ালেখা করে না, ইচ্ছামাফিক যা খুশি করে, অনলাইনে দিনরাত পড়ে থাকে, সব অপদার্থের দল- এসব অভিযোগ অনেকতাই সত্যি। তবে এর মধ্যেই বাস করে যাদের কথা বলিনি সেই মানুষগুলোও। যারা নিজের জীবন বিপণ্ন হচ্ছে জেনেও মত দিচ্ছেন, জনমত গড়ার চেষ্টা করছেন, গভীর বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে গবেষণায় মাতছেন, ছুটে গিয়ে মেহনতিদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, মানবতা বিপণ্ন হলে ডাক তুলছেন একজোট হওয়ার, আবার এর ভেতরে জনতার বিরুদ্ধে যাওয়া শক্তিও আছে। সব সময়ই এরকমই ছিল। যতীন স্যারদের আমলেও এরকম দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধী ও নচ্ছার, ভদ্র, গুণী, অপদার্থ সবই ছিল। প্রাজ্ঞজনেরা এজন্য গড়োপড়তা কথা বলেন না, গড়োপড়তা অবস্থান নেন না। কিন্তু যতীন স্যার নিলেন, এটাই দুঃখের- আমরা তাকে পাশে পেলাম না। তিনি শুধু তরুণদের দোষই দেখলেন।

এখানেই নতুন-পুরনোর দ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে। বর্তমানকে যতীন স্যার আগের দিন দিয়ে বিচার করছেন, এমন নমুনাও এসেছে। যেমন, দেবীপ্রসাদের আমলে তার হিটলিস্টে ওঠার কথা না, কারণ জ্ঞানচর্চ্চা তখনো গুটিকয়েকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এ কারণেই তখন হিন্দুরা কোরান অনুবাদ করতে পেরেছে। এখনকার দিন হলে কোনো হিন্দু কোরান স্পর্শ করছে শুনলে লড়াই বেঁধে যেত। অথচ এটাকে তিনি ব্যক্তি দেবীপ্রসাদ আর ব্যক্তি পারভেজ বা অন্য নাস্তিকদের বিষয় হিসেবে তুলনা করছেন। যদিও বিষয়টা ব্যক্তির ভূমিকার চেয়ে অনেক বেশি পরিস্থিতি ও সময়ের সঙ্গে যুক্ত। তিনি এটাও বুঝেননি যে, মওলানা আজাদের আমল আর আজ এক নয়, সে সময় মুসলিমদের ইউরোপ থেকে তাড়ানোর আন্দোলন শুরু হয়নি। মোটকথা, আজকের বিশ্বব্যবস্থাকে তিনি ধরতে পারেননি।

এটা ঠিক, অনেক নাস্তিককেই দেখা যায়, তারা ধার্মিক শুনলেই আক্রমণ করেন। তারা এটা বিচার করেন না যে, এই মানুষগুলো ধার্মিক না হওয়ার, মৌলবাদী না হওয়ার কী কোনো কারণ আছে? এই মানুষগুলো শিক্ষা পান প্রধানত সমাজ থেকে। সে সমাজটা যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা চান এরা ধর্ম শিখুক এবং মৌলবাদী হোক। তারা এরপর শিখেন গণমাধ্যম থেকে। গণমাধ্যমগুলো কিভাবে ধর্মীয় উন্মাদনার বিকাশ ঘতায় তা কার না জানা। আর তারা শিখেন রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে। সেটাও যদি মৌলবাদের সেবা করে, তাহলে জনগণের মধ্যেকার মৌলবাদের দায়টা কার ঘাড়ে পড়ে? সাধারন জনগণকে এই বৃত্ত থেকে উদ্ধার করাটাই বস্তুবাদীদের কাজ। সেজন্য কে মৌলবাদের রক্ষক আর কে ফলাফল, তা পৃথক করতে পারতে হবে। আমাদের নাস্তিকরা এক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক প্রশ্নে সাম্রাজ্যবাদকেও তারা অ্যাড্রেস করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। যতীন স্যার তাদেরকে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের দিশাটা দেখাতে পারলে আমরা উপকৃত হতাম।

যাই হোক, আলাপ শেষ করি। সাধারণত ধার্মিক মৌলবাদীরা মনে করেন, নাস্তিকদের (ভিন্নমতাবলম্বীর) বাঁচার অধিকার নেই। এটা যদি নাস্তিকরাও মৌলবাদীদের ক্ষেত্রে মনে করেন, তাহলে দুই পক্ষের মধ্যে আর মতাদর্শিক পার্থক্য থাকে না। নাস্তিকতা তখন নিজেই ধর্মের ছায়ায় পরিণত হয়। কোনো নাস্তিক যদি মনে করেন, আস্তিকমুক্ত পৃথিবী তার দরকার, তাহলে তিনি কোন পথে হাঁটবেন? নবী মোহাম্মদের দেখানো পথে- শত্রুকে উচ্ছেদ করে তার মূলোৎপাটন করা, নাকি তিনি সক্রেটিসের পথে হাঁটবেন- বিরোধীদের ভয় না করা, সত্য বলা, সবাইকে জয় করা, সঠিক মত দিয়ে ভুল মতকে বাতিল করা? কোনটি করবেন? নিঃসন্দেহে দ্বিতীয়টি আমাদের পথ। সুতরাং গালিবাজি ও গলাবাজির ভ্রান্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে। নতুন সমাজ, মুক্তবুদ্ধির বা সবার জন্য সমানাধিকারের কোনো সমাজ গড়তে গেলে, বিরাট দায়িত্বশীলতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আজকের এই সঙ্কটের রূপও পরিবর্তিত হবে, আর এটাকে সহজে মোকাবেলাও করা যাবে।

যতীন স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা। পারভেজসহ সবাইকে ধন্যবাদ।

সংশ্লিষ্ট নথি : মৌলবাদীদেরকে তোমরা সুযোগ কইরা দিছো – যতীন সরকার। (সাক্ষাৎকার, পর্ব-১)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “যতীন সরকারের অদৃষ্টবাদ ও নতুন-পুরনোর দ্বন্দ্ব!

  1. পুরো সাক্ষাৎকারটা পড়ার ইচ্ছা
    পুরো সাক্ষাৎকারটা পড়ার ইচ্ছা আছে। পরবর্তীতে আরো ভালো করে পড়ে পূর্ণাঙ্গ মন্তব্য দিব।

  2. সুন্দর জবাব। শালীনভাবে যতীন
    সুন্দর জবাব। শালীনভাবে যতীন সরকারের সাক্ষাৎকারের জবাব দেওয়ার জন্য ইকারাসকে ধন্যবাদ।

  3. যতীন স্যার এর লেখাটা পড়ে
    যতীন স্যার এর লেখাটা পড়ে আসলাম, উনি যা বলেছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়নি, মজার ব্যাপার হচ্ছে স্যার বললেন হিন্দুরা জাতপাত নিয়ে ঘৃণ্য একটা ব্যাপার চালু রেখেছে যদিও ইসলাম ধর্মে সন্ত্রাসী ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের আবার কথা বলতে নিষেধ করলেন!

  4. ব্লগজগতে পুনয়ায় সুস্থ ধারার
    ব্লগজগতে পুনয়ায় সুস্থ ধারার প্রচলন ঘটতে যাচ্ছে। ব্যক্তি আক্রমণ থেকে বেরিয়ে বিষয়কেন্দ্রীক আলাপ গুরুত্ব পাচ্ছে। অধ্যাপক যতীন সরকারের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বের আলাপই শেষ হতে চায় না, এর মধ্যে দ্বিতীয় পর্ব চলে এসেছে।

    তবে প্রথম পর্বের আলাপ আরো কিছুটা এগুনোর পর দ্বিতীয় পর্ব আসতে পারতো। পষ্ট দেখা যাচ্ছে ইকারাসের এই পোস্টে কতগুলো পশ্ন উঠেছে, যেগুলোর জবাব আসা দরকার। আমাকে মুসলমান হতে হবে, যতীন সরকারের এই বক্তব্যকে সঠিক বলে মনে হয়নি। আরো অনেক প্রশ্ন এসেছে।

    পোস্টের জবাবের অপেক্ষায় থাকলাম। এই আলাপে অংশ নিতে চাচ্ছি। সব পক্ষকেই বলি, মতাদর্শিক অবস্থান শক্ত থাকা দরকার। আলাপ গভীর হতে হবে। ঐতিহ্যবাহী কাঁদা ছোড়াছুড়ির বৃত্তে মুখ ডোবালে চলবে না!

  5. সিপিবি যেমন তার বুদ্ধিজীবীরাও
    সিপিবি যেমন তার বুদ্ধিজীবীরাও তেমন। আমি অবশ্য অধ্যাপক যতীন সম্পর্কে এতো উচ্চ ধারণা করি না। আর বাংলাদেশের মুসলিমদের সম্পর্কে কতিপয় শিক্ষীত হিন্দু তিনি হোক কমিউনিস্ট হোক কংগ্রেসি একটা সাম্প্রদায়িক ভাব আছে। এটা থেকে যতীন সরকার যে মুক্ত না তা আবারো প্রমান হইলো।
    এই দেশে সব দোষ গরু খাওয়া মুসলিমদের। ইসলামকে হেয় করতে করতে এটাকে শেসপর্যন্ত নিপিড়িতদের আশ্রয় বানিয়ে ফেলেছে এই উচ্চ মার্গীয়রা। ধর্মকে ঐতিহাসিকভাবে দেখা এবং তার অনিবার্যতা এবং ক্ষয়ের বিষয়টি যদি অর্থনীতি ও ইতিহাসের সাথে মিলিয়ে বলতেন তাহলে বিষয়টি বস্তুবাধী ধারণাকে ওন করে হোত।
    যিনি দ্বন্ধমূলক বস্তুবাদ দিয়ে ব্যখ্যা করবেন তিনি যতীন সরকারের মত ভাববাদী হবেন না। সিপিবি এটার উত্তর দিবেন না। অবশ্য স্বপ্নবান সরওয়ার ভাই আছেন। তিনি কিছু কথা বললেও বলতে পারেন। সরওয়ার ভাইয়ের মত কিছু লোক আছে বলে সিপিবিকে নিয়ে ব্লগস্ফিয়ারে এখনো কথাবার্তা বলে। কারণ তারা কিছু কাউন্টার দাড় করান।

    1. তুহিন ভাই,
      বাংলাদেশের বাম

      তুহিন ভাই,
      বাংলাদেশের বাম রাজনীতিতে, বিশেষভাবে ছাত্র আন্দোলনে সিপিবি’র ভুমিকাকে আপনি অস্বীকার করবেন কি করে? তাদের অতীত কিন্তু এত ব্যর্থতায় ছিল না, যতটা বিতর্কিত হয়েছে এদেশে মাওবাদী বাম আন্দোলন। তার হয়ত ঐতিহাসিক অনেক কারণও আছে। সেটা এখানে আলাপের বিষয় না।

  6. এতসত বুঝি না। এইটুক বুঝি
    এতসত বুঝি না। এইটুক বুঝি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষকে কিছু দেবার ক্ষমতা খুব খুব খুব কম মানুষের থাকে। যার ক্ষমতা শেষ হয়ে যায় তাঁকে নিরিবিলি শান্তিতে থাকতে দেয়াটাই শ্রেয়।

  7. যতীন সরকারের মন্তব্য চাই এই
    যতীন সরকারের মন্তব্য চাই এই পোস্ট চসম্পর্কে। তারপর বোঝা যাবে, আসলেই তিনি তরুণদের বোঝেন নাকি বোঝেন না!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 4 =