শত্রুর শক্তি যতো প্রবল হবে, আমার জন্যে ততো সুবিধা হবে – যতীন সরকার (সাক্ষাৎকার, পর্ব-২)

যতীন সরকারঃ এখন সেই ক্যাথলিকরা, ক্যাথলিকদের গেরোটা কোন জায়গায়। তারা পোপকে অভ্রান্ত বইলা ধইরা নিছে। কিন্তু পোপ যে তারা বানাইছে সেইটা কিন্তু গণতান্ত্রিক কায়দায় বানাইছে। পোপ কিন্তু ইলেকশন ছাড়া হয় না। আর সব পোপ কি এক কথা বলে? ইলেকশনের আগের পোপ আর পরের পোপ তো এক কথা বলে না।

পারভেজ আলমঃ ধারাবাহিক বিকাশ হইছে?

যতীন সরকারঃ হ্যাঁ। বিকাশ হইছে। বিকাশ হইছে।

পারভেজ আলমঃ এখন তো ক্যাথলিক চার্চ বিবর্তনবাদও মাইনা নিছে।

যতীন সরকারঃ হ্যাঁ। শোনো, ১৮৭০ সনে, প্রথম ক্যাথলিক কাউন্সিল (ভ্যাটিকান কাউন্সিল)। সারা দুনিয়ার বিভিন্ন ধর্মের মাঝে ক্যাথলিসিজমরে নিয়া কিভাবে দাঁড়ানো যায় সেই উদ্দেশ্যে এই কনফারেন্স হইছে। তাইলে এই কনফারেন্সটা কেনো করতে হয় তাদের? রিলিজিওনকে রক্ষার জন্যে, বুর্জোয়াদের মধ্যে রিলিজিওন নিয়া যে কথাবার্তা আরম্ভ হইছে তার জন্যে। ক্যাথলিকরা দেখলো মানুষ ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করছে। তখন তো আর মাইরাও ফেলতে পারে না, পুড়াইয়াও ফেলতে পারে না। ক্যাথলিকরা মনে করলো যে, আমাদেরকে ধর্মটা এমনভাবে রাখতে হবে যে, এই যে অবস্থাটা হইছে, এর মইধ্যেই যাতে রিলিজিওনকে প্রতিষ্ঠিত রাখা যায়। এবং একমাত্র সত্য রিলিজিওন হইল ক্যাথলিক, এইটাও প্রতিষ্ঠিত রাখা যায়। ১৮৭০ সনে তাই তারা পোপের অভ্রান্ততা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো। সেই সময়ে একটা নতুন শ্রমিক রাজনীতির অভ্যুদয় হইছে। আর ধর্ম নিয়া নতুন চিন্তা ভাবনা সমাজে শুরু হইছে। নানান প্রশ্ন উত্থাপিত হইছে। আমেরিকার শিকাগো শহরে অনেক শ্রমিক আন্দোলন হইছে। দেখা গেলো, এই শিকাগো শহরেই ১৮৯৩ সালে ‘ধর্ম মহাসম্মেলন’ আহ্বান করা হইল।

পারভেজ আলমঃ বিবেকানন্দ যেইটায় গেছিলো?

যতীন সরকারঃ হ্যাঁ হ্যাঁ। এই সভা এই কারণেই করা হইল যে, আজকে ধর্ম নিয়া প্রশ্ন জাগছে মানুষের মনে। পৃথিবীর সমস্ত রিলিজিওনের লোকেরা এইখানে আসুক। তারা বলুক, কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক। এই সুযোগটা গ্রহণ করতে চাইলো ক্যাথলিকরা। ক্যাথলিকরা বললো যে, আমরা সেখানে প্রমাণ করে দেবো যে ক্যাথলিক ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম। বাকিসব মিথ্যা। দেখো, আমি সবচাইতে বেশি পড়ছি ধর্মের বই। এবং পড়ছি বইলাই আমার পক্ষে সম্ভব হইছে মার্ক্সিস্ট হওয়া। এবং এইটা আমি সবাইরেই বলি। ধর্ম না জানলে পৃথিবীর কিছুই জানা হয় না। ধর্ম এমনভাবে মানুষের মধ্যে আছে, মানুষের চিন্তা চেতনাই ধারণ করছে ধর্ম।

পারভেজ আলমঃ কার্ল মার্ক্সও তো বলছেন যে, ধর্মের পর্যালোচনা হইল সকল পর্যালোচনার পূর্বশর্ত।

যতীন সরকারঃ হ্যাঁ। কিন্তু এইডাতো তোমরা করতে রাজি না। আমাদের কমিউনিস্টরাও করতে রাজি না। এবং এইটা তারা বুঝেও না। তারা কাইন্ঠা মাইরা রইছে, আমাদের নেত্রকোনার ভাষায়। এবং এইখানেই বাংলাদেশের কমিউনিস্টদের পতনের কারণ। যাই হোউক, আসল কথায় ফিরা যাই। এই ধর্মসম্মেলন কেনো হইল। এমন ঘটনাতো আগে ঘটে নাই। সবাই কইতো, আমার ধর্মই সত্য, বাকিসব মিথ্যা। কিন্তু এখন সব ধর্ম মিলা মহাসম্মেলন করা শুরু করলো।

পারভেজ আলমঃ কিন্তু বাহাস তো হইতো বিভিন্ন মতাদর্শের মধ্যে।

যতীন সরকারঃ কিসের বাহাস। ধর্মের বিরুদ্ধে তো বাহাস হইতো না। বাহাস হইতো নামাজের সময় হাতটা কোনখানে রাখবে, এইটা নিয়া বাহাস হইতো। কিন্তু ১৮৯৩ সালে যে ধর্ম মহাসম্মেলন। এইটারে বলতে হবে যে, বুর্জোয়া ডেভেলপমেন্ট থেকে একটা নতুন অবস্থার সৃষ্টি হইছে। সমাজতন্ত্রের কথাবার্তা চলে আসছে। শ্রমিক শ্রেণীর অভ্যুদয় ঘটতাছে। রিলিজিওন কিভাবে থাকবে সমাজে তা নিয়া কথা হচ্ছে। ঐ ধর্ম মহাসম্মেলনের ফলে সব রিলিজিওনের প্রতিনিধিরা ভাবলো যে, একটা চান্স পাইলাম। আমারটাই যে সত্য, এইটারে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ক্যাথলিকরাও তাই করতে চাইলেন। কারণ, ক্যাথলিকরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু, বিবেকানন্দ করলেন কি? এই বিবেকানন্দরে দেখবা কি, তার পরিচয় তিনি একজন হিন্দু সন্ন্যাসী। এর বাইরে আর কোন পরিচয় নাই। বিবেকানন্দরে তো এখন হিন্দু দেবতা বানায়া ফালাইছে। কি অসাধারণ মানুষ ছিলেন বিবেকানন্দ। সেইটা বুঝার চেষ্টাই আমাদের কেউ করে নাই।

প্রেমাংশু মজুমদারঃ রবীন্দ্রনাথ তো করছে।

যতীন সরকারঃ হুঁ, রবীন্দ্রনাথ করছে, তা কিছুটা পরে। সেই বিবেকানন্দ সেইখানে গিয়া যে বক্তৃতাটা দিলেন, প্রথম দিনই তিনি কিন্তু হিন্দু ধর্ম টর্ম এইসব কিছু কইছেন না। কোন ধর্মের পক্ষে বিপক্ষে কিছু কইছেন না। তার বক্তব্যটা কি ছিল জানো? কূপমন্ডুপের গল্প। মন্ডুপ মানে তো ব্যাঙ, কূপমন্ডুক মানে, কুয়ার ব্যাঙ। তিনি এই কুয়ারব্যাঙ-এর গল্প দিয়া শুরু করলেন। গল্প শেষে তিনি বললেন, আজকে এইখানে এসে আমি যা দেখেছি তাহইল আমরা সবাই একেকজন কুয়ার ব্যাঙ প্রত্যেকেই যার যার কুয়ার মইধ্যে থাইকা, আমরা প্রত্যেকেই আমাদের ধর্মটাকে চূড়ান্ত বলি, এর বাইরে কিছু নাই। এই কইয়া, তিনি প্রথমদিন বক্তৃতাটা শেষ করলেন। তারপরে তো তিনি সাতদিন বক্তৃতা দিসিলেন। বক্তৃতার মধ্যে শেষ দিন তিনি বলে আসলেন, যদি এইখানে কেউ মনে করে যে অমুক ধর্ম সত্য এবং তমুক ধর্ম মিথ্যা তাহলে সে মূর্খের স্বর্গে বাস করতাছে। এবং পৃথিবীতে কোনদিন একটা ধর্ম হয়ে যাবে, আর অন্য কোন ধর্ম থাকবে না, এইটা যারা মনে করে তারা মূর্খ। কাজেই, সমস্ত পৃথিবীটাকেই যতো মত, ততো পথ এইভাবে ছাইড়া দিতে হবে।

পারভেজ আলমঃ অনেকে যে মনে করে ইদানিং যে, সব ধর্মই দুনিয়া থেইকা শেষ করে দিতে হবে।

যতীন সরকারঃ এইটা অনেকে মনে করে না, এইটা তোমরা মনে করো। আমি মনে করি না এইটা। কারণ আমি ধর্ম জানি। আমি ধর্ম জানি বইলাই আমি ধর্ম মানি না। পরিষ্কার কথা। যে ধর্ম না জানে, সেই ধর্ম মানে। রিলিজিওন ইস রিগার্ডেড বাই দা কমন ম্যান এজ ট্রু, বাই দা ওয়াইজ ম্যান এজ ফলস, এন্ড বাই দা রুলারস এজ ইউজফুল। রুলাররা তো রিলিজিওন মানুক, না মানুক, তার ব্যবহার করে। এই যে যেমন এরশাদ, জগতের সবচাইতে বড় লম্পট ব্যাক্তি, সে করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম।

পারভেজ আলমঃ আচ্ছা, শেখ হাসিনার বিষয়ে তাইলে কি বলা যায়? হেফাজতে ইসলামের সাথে এখন যে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ একটা সম্পর্ক তৈরি করলো।

যতীন সরকারঃ শেখ হাসিনা একজন রুলার। তিনি রিলিজিওন মানেন, না মানেন এইটা তার নিজস্ব ব্যাপার। তিনি বা খালেদা জিয়া, তারা তো রিলিজিওনরে ব্যবহার করেন। রুলাররা মনে করে যে হেফাজতে ইসলামের সাথে খাতির না করলে আমাদের শাসন টিকবে না। এইখানে থাকতে হইলে, এইভাবে না চললে আমার রাজত্বটা আমি টিকায়া রাখতে পারবো না। এইটা শেখ হাসিনাই হউক খালেদাই হউক, আর এরশাদই হউক।

পারভেজ আলমঃ কিন্তু এইভাবে তো রাজত্ব স্থায়ী হয় না, হয় কি?

যতীন সরকারঃ হবে না কেনো? হইতাছে তো। রিলিজিওন সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান দেয়ার কোন ব্যবস্থাতো আমাদের শিক্ষার মধ্যে নাই। শিক্ষা ব্যবস্থা কি করে? আমাকে হিন্দু বানায় এবং তোমাকে মুসলমান। এবং এখন আরো বেশি কইরা বানাইতাছে। একটা হিন্দুকে যখন তার হিন্দু ধর্মই শেখাইবো, তখন সে জানবে তারটাই সত্য ধর্ম, মুসলমানেরটা মিথ্যা। মুসলমান শিখবে যে হিন্দুরটা মিথ্যা। তাইলে এইভাবে সাম্প্রদায়িকতা রিলিজিওন শিক্ষার মধ্যে দিয়ে তৈরি হচ্ছে। একেবারে প্রথম থেকে, শিক্ষা ব্যবস্থার গোড়া থেকেই সাম্প্রদায়িকতা শেখানো হচ্ছে।

পারভেজ আলমঃ আচ্ছা, তাইলে আরেকটা প্রশ্ন করি। এই যে ফ্রান্সের শার্লি এবদুর ঘটনাটা। মুহাম্মদরে নিয়া কার্টুন আঁকছে। ফ্রান্সের কয়েকজন টেরোরিস্ট মুসলমান গিয়া কার্টুনিস্টদের খুন করলো। আবার এর পালটা প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের উপর হামলা হইলো। ফ্রান্সের মতো দেশে।

যতীন সরকারঃ ফ্রান্সের ঘটনাটা যেইটা ঘটছে, সেইটা চলমান প্রতিক্রিয়াশীলতা। যখনই একটা ঘটনা ঘটে, তার বিপরীতে একটা পালটা প্রতিক্রিয়া ঘটে। সাম্প্রদায়িকতার রাইজ হইছে সত্য। কিন্তু পালটা অসাম্প্রদায়িক চেতনা কি জাগছে না? সঙ্গে সঙ্গেই তো হচ্ছে। শ্রেণী সংগ্রাম তো সর্বত্রই আছে। কার্টুন আঁকতাছে যারা, এরা হইল একট এক্সট্রিম অবস্থান থেইকা নিজেদের মত প্রকাশ করে। এই যে তোমরা যেমন করো। এবং এরা যা করছে, এইটা আসলে প্রগতির পক্ষে যায় না। আমিতো সবসময় এই কথা বলি। প্রগতির পক্ষে যাইতে হইলে, রিলিজিওন কে, যেমন হজরত মুহাম্মদ বা তার পূর্বতন বৌদ্ধ, খ্রিষ্ট তারা যে পৃথিবীর মইধ্যে কতো কিছু দিয়ে গেছেন, ইতিহাসের ধারারে তো তারা অগ্রসর করে দিয়ে গেছেন, এইসব তো অস্বীকার করা যাবে না। এঙ্গেলস বলছেন, যিশু খ্রিষ্টের যদি জন্ম না হতো, তাহইলে দাস প্রথার অবসান হইত না। এবং এই খ্রিষ্টানরা যেইটা করছে, আজকে তার ধারাবাহিকতাতেই আমরা ট্রেড ইউনিয়ন মুভমেন্ট করি।

পারভেজ আলমঃ হু, সেইটাই। খ্রিষ্টান ধর্ম থেকে ইসলাম পর্যন্ত, এই টোটাল ইব্রাহিমি ধর্মের ইতিহাসে দাসপ্রথা থেইকা মানুষকে একটু একটু কইরা মুক্ত করার একটা সংগ্রামওতো আছে।

যতীন সরকারঃ হ্যাঁ হ্যাঁ। এই কারণে বুদ্ধকে, খ্রিষ্টকে, মুহাম্মদকে আমাদের সেলুট করতে হবে।

পারভেজ আলমঃ আচ্ছা, এই বিষয়গুলা তো গ্লোবাল। এই যে, ফ্রান্সের যেই ঘটনাটা ঘটছে, এর ধারাবাহিকতা তো বাংলাদেশেও আছে। এই যে ওয়াশিকুর বাবু ছেলেটারে মাইরা ফেললো লেখার জন্যে। মানে পুরা বিষয়টাইতো গ্লোবাল হয়ে গেছে। আবার ওয়াশিকুর বাবুরে যারা মারছে, তারা তো মাদ্রাসার স্টুডেন্ট।

যতীন সরকারঃ মাদ্রাসাওয়ালারা এই সমস্ত কাজে নেতৃত্ব দেয়ার উপযুক্ত না। তাদেরকে নিয়া আসছে খুন করানোর জন্যে। কিন্তু এইসমস্ত করায় কারা? এই তোমাদের মতো যারা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। আল বদর হইছিল কারা? মাদ্রাসার ছাত্ররা আল বদর বানাইছে? আল বদর বানাইছে সবচাইতে ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং-এর স্টুডেন্ট, ডাক্তার। আমার ছাত্র, এই যে কামারুজ্জামান, যার ফাঁসির হুকুম হইছে। সে আমার কলেজে পড়তো। পাকিস্তান আমলে সে পাঁচটা লেটার পাইয়া মেট্টিক পাস করছে। শেরপুরের কামারুজ্জামান। অথচ ইসলামী ছাত্র সঙ্ঘ কইরা সে এই এলাকার আল বদরের প্রধান সংগঠক হিসাবে কাজ করছে। ইসলামী ছাত্র সংঘের মতো সংগঠন করার কারণে সে এইগুলা করছে।

পারভেজ আলমঃ কিন্তু ওয়াশিকুরের মৃত্যুর পর তো মাদ্রাসা বিষয়টা সামনে চলে আসছে।

যতীন সরকারঃ সমস্যা কি জানো? তোমরা শত্রু চিনো না। প্রকৃত শত্রু না চিনিয়া, তোমরা শত্রুদের সঙ্গে যারা থাকে তাদের বিরুদ্ধে লাগো। এই যে আইএসএ যে যাইতাছে, কারা যাইতাছে? সব ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত পোলাপান যাইতাছে।

পারভেজ আলমঃ তার মানে কি ধর্ম নিয়া সবচাইতে বেশি যারা রাজনীতি করতাছে, তারা মূলত সমাজের শিক্ষিত প্রিভিলেজড ক্লাসের অংশ?

যতীন সরকারঃ হা। ইয়েস, ইয়েস। এইটা একশ ভাগ সত্য। এইদিকটায় তোমরা নজর দেওনা মোটেই।

পারভেজ আলমঃ মানে, সাধারণ মানুষের পিছে লাইগা…। সাধারণ মানুষ যারা পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের, তাদের যদি আমরা শত্রু মনে করি তাইলে তো হবে না।

যতীন সরকারঃ হ্যা, কিন্তু তোমরা তো তাই করছো।

পারভেজ আলমঃ আচ্ছা, এই যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ যেই দেশগুলা আছে, এইসব দেশতো কিছুদিন আগেও উপনিবেশের আন্ডারে ছিল, এখন একরকম স্বাধীন হইছে। এই দেশগুলাতে গণতন্ত্র কখনোই ঐরকম পোক্ত ছিল না, যেমন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলায়। আমরা তো তাও ১৫-২০ বছরের গণতান্ত্রিক পিরিয়ড পাইছি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে তো প্রায় সব দেশেই স্বৈরাচারি শাসন ছিল। তারপরে আরব স্প্রিং হইল। বাংলাদেশে হইল শাহবাগ আন্দোলন।

যতীন সরকারঃ সেই জায়গাগুলার মধ্যে স্বৈরাচারি শাসন কেন থাকে? গণতন্ত্রের শাসন থাকে কোন জায়গায়। যেখানে বুর্জোয়া ডেভেলপমেন্ট হয়, ক্যাপিটালিজম যেই জায়গায় ডেভেলপ করছে, সেইখানেই বুর্জোয়া গণতন্ত্রের বিকাশ হয়। এইসমস্ত দেশে কোন বুর্জোয়া ডেভেলপমেন্ট হয় নাই। সামন্ততন্ত্র বিদ্যমান এখনো এইসব দেশে।

পারভেজ আলমঃ তাইলে ওরা যে তেলের ব্যবসা করে।

যতীন সরকারঃ তেলের ব্যাবসা করলেই কি ক্যাপিটালিজম হয়? তেলের ব্যবসা কইরা টাকা কামাইলেই কি ক্যাপিটালিজম হয়? একটা সমাজে কতোগুলা মানুষের টাকা থাকতে পারে। কিন্তু টাকা থাকলেই তাকে বুর্জোয়া বলে না। সৌদি আরবে কি বুর্জোয়া আছে? সৌদি আরব এমন একটা দেশ, যেখানে ইসলাম নিয়া যদি কেউ সামান্য কিছু বলে তাইলে আর উপায় নাই। একেবারে গলা কাইটা ফালাইবে। এইটা কি?

পারভেজ আলমঃ সামন্তযুগের অবস্থা।

যতীন সরকারঃ সেইতো। সামন্তবাদের মধ্যে থেইকাই তো এইগুলি বাইর হইছে। ইউরোপেও তো এইগুলা হইছে। ইউরোপের খ্রিষ্টানরা তো মুসলমানদের চাইতে কতো খারাপ ছিল।

পারভেজ আলমঃ এই যে তরুণরা, এইরকম আন্দোলন করলো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশে করলো রাজাকারের বিরুদ্ধে, মনে করা হইছিল যে তরুণদের মধ্যে একটা আধুনিক বুর্জোয়া মানসিকতা ডেভেলপ করছে।

যতীন সরকারঃ কোন জায়গায়? এই জায়গায় যেমন হইছে পৃথিবীর সব জায়গায় কি এমন হইছে? তোমার শাহবাগে যেইরকম হইছে, সেইটা কি সৌদী আরবে হইছে?

পারভেজ আলমঃ কিন্তু ধরেন যে, মিশর, তিউনিশিয়া।

যতীন সরকারঃ শোনো, চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দির ইউরোপে যে ঘটনা ঘটতাছিল, সেইগুলি এখন মিশর বা এইসব দেশে ঘটতাছে।

পারভেজ আলমঃ বাংলাদেশেও কি ঘটতাছে?

যতীন সরকারঃ না না। বাংলাদেশ তো অনেক এডভান্সড জায়গা, ঐ অর্থে।

পারভেজ আলমঃ এইখানে একটা প্রশ্ন আছে। এই কথাটা আমিও বলছি। এই যে আমার এই বইয়েই লেখছি। আমরা তো সামাজিকভাবে আগায়া ছিলাম, অর্থনৈতিকভাবে না হইলেও। কিন্তু ওদের ঐখানে আমরা যা দেখলাম, ঐসব দেশে এইসব মুভমেন্টের পরে কিছু মেরুকরণ তৈরি হইছে।

যতীন সরকারঃ মেরুকরণ হয় নাই।

পারভেজ আলমঃ একটা মেরুকরণ হইয়া গেলো যে একদিকে স্বৈরাচার,আরেকদিকে ইসলামিস্ট। মাঝখানে কোন প্রগতিশীল শক্তি থাকলো না।

যতীন সরকারঃ কিছুই না, কিছুই না। স্বৈরাচার আর ইসলামিস্ট একই। আজকে খালেদা জিয়া আর শেখ হাসিনা তো একই।

পারভেজ আলমঃ তাইলে বাংলাদেশে কি আমরা স্বৈরাচার বনাম ইসলামিস্ট এইরকম একটা মেরুকরণের দিকে যাচ্ছি না? আমরা কি সামাজিকভাবে আর সামনে আগাইয়া থাকতে পারুম?

যতীন সরকারঃ অবশ্যই পারবো।

পারভেজ আলমঃ কিন্তু এই যে স্বৈরাচার বনাম ইসলামিস্ট মেরুকরণ।

যতীন সরকারঃ এইখানে মেরুকরণ কি? সাদ্দাম হোসেইনতো তার ক্ষমতার জন্যে যা করার দরকার তাই করছে। তারপরে সাদ্দাম হোসেইনরে যারা ক্ষমতা থেইকা নামাইছে, তারা ক্ষমতার জন্যে যা করার দরকার তাই করছে। রালাররা তাই করে।

পারভেজ আলমঃ কিন্তু মানুষের মইধ্যে যে মেরুকরণ তৈরি হইল? সেকুলার বনাম ইসলামিস্ট মেরুকরণ।

যতীন সরকারঃ কিচ্ছু না। মানুষের মধ্যে কোন মেরুকরণ নাই। কোন মেরুকরণ নাই। সেকুলার না। বলো যে ইউরোপের সেই যুগে যেমন ধর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন কথা মানুষের মধ্যে আসছে, সেই জিনিসগুলি মুসলিম কান্ট্রিগুলাতে এখন ঘটতাছে। আগে হয় নাই, কারণ এইখানে ইতিপূর্বে কোন বুর্জোয়া ডেভেলপমেন্ট হয় নাই। এইসব দেশে বুর্জোয়া ডেভেলপমেন্টের জন্যে কিছু লোকে চেষ্টা করছে। সেই চেষ্টার মধ্যে দিয়ে তথাকথিত সেকুলারিজম ডেভেলপ করছে।

পারভেজ আলমঃ কিন্তু বাংলাদেশে যে সেকুলার বনাম ইসলামিস্ট একটা মেরুকরণ করার চেষ্টা হইল ২০১৩ সালে। ফরহাদ মজহার কইলেন যে জাতি দুই ভাগ হইয়া গেছে।

যতীন সরকারঃ ফরহাদ মজহার হইল গিয়া জ্ঞানপাপী। এই জ্ঞানপাপীরাই হইল ক্ষতিকর। এরাই টাইনা ঐখানে নেয়। আমি কিন্তু আর কোন ব্যক্তিরে উল্লেখ কইরা কোন কিছু লেখি নাই। কিন্তু তারে নিয়া লেখতে বাধ্য হইছি।

পারভেজ আলমঃ কিন্তু মেরুকরণ নাও যদি থাকে, এইসব দেশে যে ইসলামিস্টরা দিন দিন পাওয়ারফুল হচ্ছে, এবং সাম্রাজ্যবাদীরা যে আবার ইসলামিস্টগোরে দমন করার জন্যে সেইসব দেশে যাইয়া হামলা করতাছে, বাংলাদেশে কি আমরা এই ধরণের কোন ঝুঁকির মধ্যে নাই?

যতীন সরকারঃ শোনো, শোনো, তুমি এইভাবে দেখবা কেনো? বাংলাদেশের সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট যে জায়গায় আসছে, সেইখান থেকে ঐ জায়গায় যাইতে পারে না। সেইটা তারা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। ঐ আইএসএ যাইতে পারে, অমুক করতে পারে, তমুক করতে পারে। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশে বরং আশংকাজনক জায়গা হচ্ছে তোমাদের অভ্যন্তরে। প্রগতিশীলদের যেইভাবে অগ্রসর হওয়া উচিৎ, তোমরা সেইভাবে অগ্রসর হইতাছো না।

পারভেজ আলমঃ এই যে একজনের পর একজন নাস্তিক মরতাছে, এইটারে পুঁজি কইরাই যদি কয়দিন পরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাইতে থাকে?

যতীন সরকারঃ সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে পালটা অসাম্প্রদায়িক শক্তিও তো তৈরি হচ্ছে। আর তোমাদের মধ্যেও কিছু চেঞ্জ আসবে নিশ্চয়। চেঞ্জ আসা দরকার। কারণ সঠিক লাইন হইল, ধর্ম সম্বন্ধে আরো জ্ঞান লাভ করতে হবে। এই যে শাহরিয়ার কবির, শাহরিয়ার কবির বরং টক শো তে ধর্ম সম্বন্ধে ভালো বক্তব্য নিয়া আসছে।

পারভেজ আলমঃ সেইটাই। ধর্মরে কেনো আমরা কাঠমোল্লাদের হাতে তুলে দেবো?

যতীন সরকারঃ এইযে শব্দটা, তোমরা তো কাঠমোল্লাদের হাতে ধর্ম তুইলা দিছোই। এবং আরো কাঠমোল্লাদের তোমরা সুযোগ কইরা দিছো। এই হইল অবস্থা।

প্রেমাংশু মজুমদারঃ আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন আছে। ইন্ডিয়ায় বিজেপির যে রাইজ হইল। ইন্ডিয়ায় তো আমরা বিজেপিরে দেখি। কিন্তু বিজেপির পিছে আসলে মূল শক্তি তো আরএসএস।

যতীন সরকারঃ না, আরএসএস মেইন না। মেইন হইল সেইখানে যে একচেটিয়া পুঁজি ডেভেলপ করছে, তা। একচেটিয়া পুঁজি বিজেপিরে ক্ষমতায় আনছে। কয় হাজার কোটি টাকা খরচ করছে তোমার এই ইলেকশনের জন্যে খবর নাও। এইটা কারা করছে?

পারভেজ আলমঃ তাইলে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতার পেছনেও কি মূলত একচেটিয়া পুঁজিই প্রধান শক্তি?

যতীন সরকারঃ হ্যাঁ

প্রেমাংশু মজুমদারঃ আছা ইন্ডিয়ায় যেমন বিজেপি পারছে, বাংলাদেশে ধরেন জামাত বা হেফাজতে ইসলাম যদি নাও পারে, অন্য কেউ কি এইরকম পারতে পারে?

যতীন সরকারঃ তারা কে কি করতাছে, সেইটা নিয়া আছো। তুমি কি করতাছো? এইটা যদি তোমার মাথার মইধ্যে থাইকাই থাকে, তাইলে তো তুমি এর বিরোধিতাই করবা। তোমরা শাহবাগ কেন করছো? কাদের মোল্লার ফাঁসি হইল না দেইখাইতো শাহবাগ হইলো। ঐটা যদি না করতো, তাইলে শাহবাগের উত্থান হইতো? কাজেই তুমি শত্রুকে ভয় পাও কেনো? জিন্নাহ যদি সেইদিন ঊর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা এই কথা না বলতো, তাইলে তো ভাষা আন্দোলনও হইতো না, বাংলাদেশও হইতো না। আজকে সাম্প্রদায়িকতার উত্থান হইছে বইলাই তো শাহবাগের উত্থান হইছে। আজকে আমাদের এই অবস্থা কেনো হইছে স্বাধীনতার পরে। আমাদের অতি আত্মপ্রসাদের জন্যে। আমরা তো মনে করছি যে স্বাধীনতা হইছে, ব্যাস, হইয়া গেলো। কিন্তু ‘ইটার্নাল ভিজিলেন্স ইজ দা প্রাইস অফ ফ্রিডম’, সদা সতর্কতাই হইতাছে স্বাধীনতার মূল্য। আমরা স্বাধীনতা পাইয়া মনে করছি যে আর কিছু করার নাই। সেই সুযোগটা গ্রহণ করছে দেখো রাজাকার, আল বদররা। কিন্তু আমরা যদি মনে করতাম যে আমাদের কাজ শেষ হইয়া যায় নাই, তাইলে তো আর এই ঘটনা ঘটতো না। দেখো, আমি ডায়ালেক্টিক্স-এ বিশ্বাসী। পৃথিবী সামনের দিকেই অগ্রসর হয়। কিন্তু কখনো কোনকিছুই সোজাসুজি সামনের দিকে যায় না। ডায়ালেক্টিক্স আমারে শিখাইছে যে সবকিছু ঘটে দ্বান্দিক এবং পেঁচালো গতিতে। যখন পেঁচালো গতিতে যায় তখন মনে হয় পেছনে বুঝি চলে গেলো। নেত্রোকোনায় আমাদের যে নদীটা, এই মগরা নদী। নদীটাতো এখন মরে গেছে। আমার বাড়ী যাওয়ার পথে এই নদীটা ৭ মাইলের মধ্যে তিনবার পার হইতে হয়। কেনো? কারণ, মগরা করছে কি পিছন দিকে চলে গেছে। কিন্তু তার মানে কি? মগরা কখনো যেই উৎসের থেইকা আসছে, সেই উৎসে ফিরা যাবে কোন দিন? গেছে? যাবে? আর আমার শত্রুর শক্তি যতো প্রবল হবে, আমার জন্যে ততো সুবিধা হবে। আর শত্রু যদি প্রবল না থাকে, তাইলে আমার অবস্থা হবে, ‘যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে, সহস্ত্র শৈবাল দাম বাঁধে আসি তারে। যে জাতি জীবনহারা, অচল অসার, পদে পদে বাধে তারে জীর্ণ আচার’। বরং এইরকম ধাক্কার দরকার আছে। এই যে জামাত যখন ক্ষমতায় আসলো, অনেকেই তখন হা হুতাশ করছে যে রাজাকাররা ক্ষমতায় আইসা পড়লো। আমি বলছি শোনো, এই যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করছি, এখন রাজাকাররা কি বইসা থাকবে? আমি ফুটবল খেলায় নামছি, আমি কেন গোল দিতে পারলাম না জিগাইলে যদি কই যে গোলকিপার ঠেকায়া দিসে, তাইলে হইবো? তুমি কেন গোল দিতে পারলা না? তারা কি তোমারে গোলবার ছাইড়া দিবো? বল তোমার পাও থেইকা নিয়া গোলপোস্টের ভেতর রাইখা আসবো?

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “শত্রুর শক্তি যতো প্রবল হবে, আমার জন্যে ততো সুবিধা হবে – যতীন সরকার (সাক্ষাৎকার, পর্ব-২)

  1. যতীন সরকার স্যারের কিছু কথা
    যতীন সরকার স্যারের কিছু কথা কন্ট্রাডিক্টরি লাগছে।উনি বলছেন আমাদের ধর্ম নিয়ে ভাল করে পড়া উচিত।তা অবশ্য যেকোন কিছু নিয়েই কোন বক্তব্য দেয়ার আগে তা পড়া জরুরী।তা একটা জিনিস আমরা জানব কেন?তার দোষ ত্রুটি এবং পরিবর্তন ইত্যাদি ভালভাবে বোঝার জন্য।কেউ তার জ্ঞান নিয়ে মটকা মেরে বসে থাকল,কোন টু শব্দ করল না,পাছে কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগে,সেই জ্ঞানের আউটপুট কি?? উনি নাস্তিকদের দোষ দিচ্ছেন।হ্যা,মানছি বর্তমানে কিছু এক্সট্রিমিশট নাস্তিক দেখা যাচ্ছে,যারা কেবলমাত্র গালাগালিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে।তারা আসলে কোন ক্যাটাগরি তেই পড়ে না।কিন্ত অভিজিৎ রায় জানামতে কখনো যুক্তিহীন কথা বলেন নাই,তাকে কেন মরতে হল? জাফর ইকবালকে কেন মৃত্যুর হুমকি পেতে হয়?ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা করলে তার দোষগুলো বেরিয়ে আসবে।এবং সেগুলো যতই আম পারসেপশনের বিরুদ্ধে যাক,সেটা বলতেই হবে। পাশ কাটানোর কোন সুযোগ নাই। তিনি বলেছেন আমরা শত্রু চিনি না।বলেছেন আম-পাবলিক যারা কিনা সরল মনে ধর্ম মানে তাদের কেউ শত্রু না।উনি শিক্ষিত যুবকদের কথা বলেছেন।আসলে উনি মেইন ফোকাসটাকেই এড়িয়ে যাচ্ছেন।এখানে রিলিজিয়ন হচ্ছে অস্ত্র।এটাকে যেই ব্যবহার করুক-পুঁজিবাদী, রাষ্ট্রনায়ক,মৌলবাদি, যেই হোক না কেন-এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হয় অস্ত্রটা ডেসট্রয় করে দেয়া,নাহয় রি-কনট্রাকশন করা।।এ দুটোই তিনি এড়িয়ে গেছেন।

  2. যতীন সরকার যা বলছেন তা
    যতীন সরকার যা বলছেন তা স্ট্র্যাটেজির কথা। ইতিহাস তো বরাবরই দুটি ধারায় প্রবাহিত হয়, শাস্ত্রের ধারা আর তন্ত্রের ধারা। শাস্ত্রের ধারা শাসকের, তা থাকে প্রতিহিংসায় পূর্ণ। আর তন্ত্রের ধারা এনক্রিপ্টেড, কেবলমাত্র অনুসন্ধানীর জন্যই তা উন্মুক্ত হয়। যতীন সরকার এই এনক্রিপশনকেই তলিয়ে দেখতে বলছেন, ডিক্রিপ্ট করতে বলছেন। যতীন সরকারের এই কথাটি তাঁর একার কথা নয়, আরও বহু মানুষই বলছেন। এই মুহূর্তে জগতের সচেতন ও অহিংস মানুষ মাত্রেই এই বিষয়টি বোঝার কথা। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা সাহস পাচ্ছি যে, আমি এই লেখা পাওয়ার আগেই তাঁর এই স্ট্যাটেজিক্যালি চলার বিষয়টি কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছিলাম। যতীন সরকার এখন যা করলেন, আমার ক্ষেত্রে, স্রেফ সাহস যোগালেন।

    এখন, তার কথার সমালোচনা করতে গিয়ে আমাদের মনে রাখা দরকার, আমরা আদৌ তাকে ঠিকমতো ডিক্রিপ্ট করতে পারলাম কিনা। নয়তো দ্ব্যর্থতার দ্বন্দ্বে পড়ে তাকে ভুল বুঝতে এক মিনিটও লাগবে না। আর, ভুল বুঝলেই অস্থির এই সময়ে বড় বেশী বিপদ। কারণ, ভালো কখনো একা একা থাকা যায় না, সকলকে নিয়ে থাকতে হয়। আমরা যদি সেই “সকলকে” বাদ দিয়েই মুক্তির বার্তা ছড়াতে চাই তাহলে তা কেবল রেসিজম, এলিটিজম ইত্যাদির মতো ভয়াবহ সব তত্ত্বের জন্ম দিবে। আসল মুক্তি বিপন্ন হবে।

    সুতরাং, সমালোচনার দৃষ্টিভঙ্গীতে আমি আস্থা আনতে পারছি না। কারণ, যতীন সরকার বা বলি, তন্ত্রের ডিক্রিপশনটা ঠিকমতো হচ্ছে না। এই না হওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকলেও আমি অবাক হব না। শেষকথা, হাল ছাড়ছি না। এই বোঝাপড়া আমার এবং সকলের জন্যই দরকার। পারভেজ ভাই, আপনাকে আবারও ধন্যবাদ সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপটা নেওয়ার জন্য

  3. যতীন সরকার এর কথা থেকে
    যতীন সরকার এর কথা থেকে বহুলাংশে এটাই প্রতীয়মান হয় যে,উনি ধর্মকে রি-কনস্ট্রাকশন এর মধ্য দিয়েই পরিবর্তনের কথাই বলেছেন, যেটা উগ্র নাস্তিকতার চর্চা দিয়ে মৌলবাদের শক্তিকে বাড়িয়ে সঠিক পথ আসে না। হুমায়ন আজাদ স্যার যতখানি না ধর্মকে বুঝতে চেয়েছেন বা বুঝাতে চেয়েছেন তার চেয়ে বেশি ধর্মকে কটুক্তি করে ‘একটা reaction এর দিকে নিয়ে গেছেন যেটা নাস্তিকতার আসফালন ঘটিয়েছে।
    যাই হোক যতীন সরকারকে বুঝতে হলে উনার বইগুলো পড়া আরো বেশি জানা উচিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1