ছি ছাত্রলীগ! বর্ষবরণে লাঞ্ছিত হোল বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও নারীরা লাঞ্ছিত হয়েছেন। ভীষণভাবে অপমানিত হয়েছেন। টিএসসিতে বাধনের কথা ভুলে যায়নি বাংলাদেশ। কী ভয়ঙ্কর অপমান।

এরপর ২০০২ সালে ২৩ জুলাই গভীর রাতে পুরুষ পুলিশ শামসুন্নাহার হলে প্রবেশ করে বেধড়ক পিটুনি ও অপমানের ঘা আজও দগদগ করছে। তবুও বাঙালী হোক আদিবাসী হোক কী এক প্রাণের টানে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। জানে এখানে পুরুষ নামের শ্বাপদেরা যে কোন সময় হামলে উঠতে পারে, তারা অবশ্য গোটা বাংলাদেশেই পারে এবং পারছে; তবুও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আমাদের জাতীয় জীবনের উৎসবগুলো হয়ে উঠে রঙ্গিন। হতে পারে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়েছিলো। এ কারণে জন্মের নাড়ির টানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই যায় মানুষ। সেই প্রাণের ক্যাম্পাসে আবারো বাঙালী বর্ষবরনের দিনে ভয়ঙ্করভাবে অপমানীত হলেন নারী। এবারো কী পার পেয়ে যাবে পশুর দল?
কবে কোন কালে সেই ১৫ বছর আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তী হয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছিও কবে কোনকালে। কিন্তু যতবারই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীর ঘেষে রাত করে কারখানা থেকে বাসায় ফিরে, মনে হয় বাড়ির পাশ দিয়ে ফিরছি। সে এক আজব অনুভুতি। মনে হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি জায়গাজুড়ে একদিন আমি ছিলাম। এই অস্তিত্ব এতো প্রগাড়ভ যে আমার খুব ভেতরে তা অনুভব করি।

বাধনের কথা ভোলেনি বাংলাদেশ, সেই অপকর্মের হোতা ছিলো তৎকালিন শাসক সরকারী ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের গুণ্ডারা। আবার ছাত্রদলের অছাত্র নেতা লুসিকে রক্ষা করার জন্য ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন ভিসি ড. আনোয়ার উল্লাহ পুরুষ পুলিশ মধ্যরাতে পাঠিয়েছিলো ছাত্রী হল শামসুন্নাহারে। ২৩ জুলাইয়ের ওই রাতের বিভিষিকার পর আগুনে দ্রোহে জ্বলে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভিসি আনোয়ার উল্লাহকে আন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হয়।
বাঙালী বর্ষবরণের দিনে যে নারীকে ভয়ঙ্করভাবে টিএসসির সামনে সরওয়ারর্দির গেটে লাঞ্ছিত করা হলো সেটাও প্রাণের সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। হাজার হাজার পুরুষতো সেখানেও ছিলো। কেউ কি এগিয়ে যেতো পারলো না মেয়েটিকে রক্ষা করতে? কারণ পুলিশের কথা বলছি না এ কারণে যেখানে মেয়েটিকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, সেখানে গতবারও পুলিশের কনট্রোলরুম ছিলো। ওখানের সব জায়গাতেই সিসি ক্যামেরা। কিন্তু পুলিশ এগিয়ে আসবে না এটাই ঠিক। কারণ ঠিক ওই জায়গার একটা পাশেই বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎকে হত্যা করেছিলো। তখনো পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিলো। পুলিশের কাজ দেখা। আর প্রয়োজনে যদি সরকার বিরোধী কেউ হয় তাহলে তাকে ক্রসফায়ারে দেওয়া।

যদি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দী এগিয়ে না আসতেন? যদি লিটন তার গায়ের পাঞ্জাবি দিয়ে নারীটির লজ্জা ঢেকে না দিতেন? তাহলে কী লাঞ্ছিত হোত বাংলাদেশ? তাহলে কী লাল সবুজের পতাকা অর্ধ নমিত হয়ে যেতো লজ্জায়? এসবের কিছুই হোত না। কারণ যিনি লাঞ্ছিত হয়েছেন তার কোন খেতাব নেই। খেতাব ছাড়া, পদবী ছাড়া মানুষ শুধু সংখ্যাতত্বের হিসেব নিকেশ।

ছি ছাত্রলীগ !
টিএসসির সামনে বর্ষবরনের দিনে নারীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সরকারি দল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। এটা প্রমাণ করা কঠিন কিছু নয়। সব ভিডিও আছে সিসি ক্যামেরায়। প্রত্যেকে সনাক্ত করা সম্ভব। যদি পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ভিডিও ফুটেজ না মুছে ফেলে।
আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লাঞ্ছিত করেছে নারী শিক্ষার্থীদের। তাদেরকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে ছাত্রলীগ হিসেবে। ছাত্রলীগ তুমি আর কত নীচ হবে। কত নিচে নামলে তোমার নিচে নামার ইচ্ছে বন্ধ হবে?
এরপর এইসব অপরাধীদের সাজা হবে না জানি। কিন্তু এদের প্রত্যেকের ছবিগুলো ছেপে দেওয়া উচিত সবগুলো জাতীয় দৈনিকে। এদের বাবা মা বোন ভাই জানুক, মানুষ নামের কোন জানোয়ারের সঙ্গে তারা একই ছাদের নিচে থাকুক। সরকার যদি তাদের বিচারও না করে তাহলে এটা করতে পারলে তাদের বিচার হয়ে যাবে।

সংখ্যালঘুরাই লড়ে, সংখ্যাগুরুরা ভয়ে মরে

বামপন্থিরা বাংলাদেশে প্রান্তিক, সংখ্যালঘু। তবে তাদের সামনে ঘটে যাওয়া অনাচারের প্রতিবাদ তারাই করে। ইতিহাসজ্ঞান মাত্রেই আপনি স্বীকার করবেন সারা পৃথিবীতেই লড়াইটাই এমন। সুন্দরের জন্য, আগামির জন্য, জীবনের জন্য খুব কম মানুষ লড়ে। আর আমরা তাবৎ লোকেরা তা ভোগ করি। এই যে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কমরেড লিটন আমাদেরকে রক্ষা করলেন, ভয়ঙ্কর লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করলেন। অথচ সেখানেও পুরুষ ছিলো ঢের, কাতারে কাতারে। কেউ এগিয়ে আসেনি। লিটনেরা ইতিহাসে বরাবরই সংখ্যালঘু ছিলেন।

ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আহত লিটন।
এই যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। এখন কাতারে কাতারে যোদ্ধা বের হচ্ছে। অথচ যুদ্ধের নিদান কালে কজনে গেছিলো সেদিনে রণে? ইতিহাস তা জানে। বলছি না,

যারা যুদ্ধে যায়নি তারা সবাই রাজাকার। যারা যায়নি তারা আসলে ভিতু মানুষ। তারা কেউ লিটন হতে পারে না। তারা রুমি হতে পারে না। তারা রুমির ইতিহাস পড়ে।
তবে এই সুযোগে যারা বাঙালীর বর্ষবরণ নিয়ে নানান ধরনের নেতিবাঁক বক্তব্য ছড়াচ্ছে তারাও ওই নারীকে লাঞ্ছিত করা নপুংশকদের মতই। মঙ্গলযাত্রা করা হয় এইসব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধাচারণ করেই। আসছে নববর্ষবরণে নারী তুমি বহ্নিশিখা হও। দ্বিধাহীন তোমার কণ্ঠ উৎগত করো। দেবি দুর্গার মত ১০ হাতে তুমি অসুরকে ধ্বংস করো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “ছি ছাত্রলীগ! বর্ষবরণে লাঞ্ছিত হোল বাংলাদেশ

  1. পূর্বের ঘটনাগুলোর বিচারহীনতার
    পূর্বের ঘটনাগুলোর বিচারহীনতার কারণে বার বার একই ঘটনার পূনারাবৃত্তি ঘটছে। টিএসসির মত জায়গায় ছাত্রলীগের মত আদর্শহীন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীর পক্ষেই এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব। সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল এ জায়গায়, যদি না সেটা কাজে লাগানো না হয়। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

  2. আপনি বাল্ডা জানেন!

    আজ অনেক
    আপনি বাল্ডা জানেন!

    আজ অনেক অনলাইন পত্রিকা এবং ফেসবুকের অনেককেই এই ছবিটা পোস্ট/শেয়ার করতে দেখলাম। তারা এটাকে নারীর শ্লীলতাহানির ছবি বলে হিট এবং লাইক কামাইতেছে। সাথে অনেকেই ক্যাপশন লাগিয়ে দিচ্ছে, “এত্তগুলা পুরুষ মিলে একটা নারীকে এভাবে উলঙ্গ করে শ্লীলতাহানী করছে অথচ কোন পুরুষ এগিয়ে আসছে না, পুরুষ হিসেবে আমি লজ্জিত” ইত্যাদি ইত্যাদি।অনেকে আবার এর সাথে ছাত্রলীগকে জড়িত দাবী করেও হিট কামাচ্ছে।
    অথচ এটার ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে যখন নারীদের উত্ত্যক্ত করা হচ্ছিল তখন সেই বাস চানখাঁরপুলে এলে বাসের অন্য যাত্রীরা উত্ত্যক্তকারীদের বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে পেটানো শুরু করে। উত্ত্যক্তকারী একজনের নাম ছিলো নাজমুল, এটা তাঁকে পেটানোর দৃশ্য। অর্থাৎ এই ছবিতে পুরুষেরা কোন নারীর শ্লীলতাহানী ঘটাচ্ছেনা,বরং নারীদের অপমান করায় পেটাচ্ছে এক কাপুরুষ বখাটেকে।
    সোহরাওয়ার্দী এবং টিএসসির ঘটনার জন্য পুরুষেরা পুরুষ হিসেবে লজ্জা পান।
    কিন্তু দয়া করে এই ছবিটার জন্য পুরুষেরা পুরুষ হিসেবে একটু গর্ববোধ করেন এবং মিথ্যাচার বন্ধ করেন।
    এই বখাটে নাজমুলের চুল ঘাড় পর্যন্ত লম্বা দেখেই আপনারা তাকে নারী বানাইয়া দিলেন,অথচ একবারও খেয়াল করলেন না ব্যাটা জিন্সের প্যান্ট পরিহিত আছে।ব্যাটার হাতে গামছা বান্ধা,যেটা এবছর অনেক তরুণকেই করতে দেখা গেছে। যে যেভাবে দেখাবে,সেভাবেই দেখবেন? নিজের বুদ্ধি বিবেচনা দিয়েও কিছু দেখা শিখেন।আর হ্যাঁ,’চিলে কান নিয়ে গেছে’ টাইপের হাবভাব-খবর প্রকাশে একটু সচেতন হোন।

    1. এই বখাটে ছেলেটা কিন্তু
      এই বখাটে ছেলেটা কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। নাকি এটাও বানোয়াট বলবেন? আওয়ামী সমর্থিত বিডিনিউজ২৪ এর নীচের সংবাদটি রেফারেন্স হিসাবে দিলাম।
      http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article954993.bdnews

  3. আইজুর বহু সমস্যা। বড় সমস্যা
    আইজুর বহু সমস্যা। বড় সমস্যা োখ নস্ট। আজকরে সবগুলান পত্রকিা দেখেন। এমন কী আপনার দলের পত্রিকা সংবাদে কি লিখেছে।
    ডেইলি ওভজারভার দেখেন ওটা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদখ। সবখান েছাত্রলীগরে নাম এসেছে। এমন কী দুজনক েধরা হয়েছেলি তাদেরকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে।
    আর আপনে যে ছবি দিয়েছেন তা আমি দিইনি। নাকি এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি এটা বলতে চান?
    আপনারা কেমনে পারেন?

    1. ডেইলি ওভজারভার দেখেন ওটা

      ডেইলি ওভজারভার দেখেন ওটা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সম্পাদখ। সবখান েছাত্রলীগরে নাম এসেছে। এমন কী দুজনক েধরা হয়েছেলি তাদেরকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে।

      জয় ছাত্রলীগ! জয় আওয়ামীস্তান !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =