নিরাপদ নাস্তিকতাবাদ

নাস্তিক, নাস্তিকতা ও নাস্তিকতাবাদঃ
নও-নাস্তিক বনাম বাম-নাস্তিক বিতর্ক

নাস্তিক কাকে বলে? ইংরেজি এথিস্ট শব্দের অনুবাদে নাস্তিক হলো সেই ব্যক্তি যিনি কোন খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। দুনিয়ায় বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন খোদার ধারণা আছে। বহুত্ববাদী ধর্মগুলোতে বহু খোদার ধারণা আছে, একত্ববাদী ধর্মগুলোতে একজন খোদা। জগতের কোন খোদার অস্তিত্বেই যে বিশ্বাস করে না, সেই প্রকৃতপক্ষে নাস্তিক। তবে নাস্তিক শব্দের অর্থ চিরকাল এমনি ছিল তা নয়। আস্তিক ও নাস্তিক দুইটাই সংস্কৃত থেকে ধার করা শব্দ। উৎসগত অর্থ বিচারে আস্তিক হলো ‘যা আছে তার অস্তিত্বে যে বিশ্বাস করে’, আর নাস্তিক অর্থ হল ‘যা আছে তার অস্তিত্বে যে বিশ্বাস করে না’। ‘যতীন সরকার’ তার সাক্ষাৎকারে এই সংজ্ঞা অনুসারেই কথা বলেছিলেন। প্রাচীন ভারতে বেদের অনুসারী ও অনুরাগী ব্রাহ্মন শ্রেনীর পন্ডিতরা ‘নাস্তিক’ বলতে তাদেরকেই চিহ্নিত করেছেন, যারা বেদের প্রামানিকতায় বিশ্বাস করে না। এইক্ষেত্রে ইশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস অথবা অবিশ্বাস বিচার করা হয় নাই। যেমন প্রাচীন ভারতের সাংখ্য দর্শন ও মিমাংশা দর্শন ইশ্বরে বিশ্বাসের দিক থেকে নাস্তিক, কিন্তু বেদের প্রামানিকতার বিরুদ্ধে না হওয়ায় তাদেরকে আস্তিক গন্য করা হতো। অন্যদিকে বৌদ্ধ, জৈন ইত্যাদি ধর্ম ও দর্শনের অনুসারীরা বেদের প্রামানিকতার বিরুদ্ধে ছিল বলেই তাদেরকে নাস্তিক গন্য করা হতো। তবে এই লেখায় আলোচনার সুবিধার্থে আমরা নাস্তিক বলতে ‘কোন খোদার অস্তিত্ব যার বিশ্বাস নাই’ তাকেই ধরে নেবো।

নাস্তিক হওয়ার জন্যে খুব বেশি জ্ঞানী হওয়ার দরকার নাই। মুক্তমন নিয়ে চিন্তা করতে সক্ষম এবং ‘কমন সেন্স’ আছে এইরকম যে কোন মানুষের পক্ষেই নাস্তিক হওয়া সম্ভব। নাস্তিক হওয়ার জন্যে দর্শন ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অগাধ জ্ঞান থাকা লাগে না, অল্প জ্ঞান থাকলেও চলবে। হাজার বছর আগেও কোন কেতাবি পড়ালেখা ছাড়াই অথবা সামান্য পড়ালেখা নিয়েই মানুষ নাস্তিক হতে পেরেছে, শ্রেফ মুক্তবুদ্ধি আর সাধারণ জ্ঞানের জোরে। আমি ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বিশ্বাসের প্রতি জিজ্ঞাসু ছিলাম খুবি ছোটকাল থেকে, যতোদূর পর্যন্ত নিজের চিন্তার স্মৃতি আছে, তখন থেকেই। ক্লাস নাইনে থাকতে সকল সংশয় ছেড়ে নিজেকে নাস্তিক ঘোষনা করেছিলাম। গতকাল ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া একজনের সাথে কথা হলো যে ক্লাস সিক্সে থাকতে ধর্মে এবং ক্লাস এইটে থাকতে খোদায় অবিশ্বাসী হয়েছে। নাস্তিক হওয়ার জন্যে যে স্কুলের শিক্ষার্থীর অধিক জ্ঞান দরকার পড়ে না, সেই বিষয়ে আমার অধিকাংশ নাস্তিক বন্ধুই একমত হবেন, কারন তারাও স্কুলে থাকতেই নাস্তিক হয়েছেন। যেমন, আসিফ মহিউদ্দীনের কথা ধরা যায়, আমার জানা মতে আমার কাছাকাছি বয়সেই সে নাস্তিক হয়েছে।

নাস্তিক অর্থ যদি হয় ‘কোন খোদার অস্তিত্বে যার বিশ্বাস নাই’ তাহলে ‘নাস্তিকতা’ মানে হলো ‘কোন খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস না করা’। এর বেশি কিছু না। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি নাস্তিক মানে সে কোন খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, এইটুকুই। এর বাদে ঐ ব্যক্তির অন্য কোন চিন্তা ভাবনা, দর্শন, মতাদর্শ ইত্যাদি আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। এইক্ষেত্রে বর্তমান সময়ের নও-নাস্তিকদের ভাড় (comedian) প্রতিনিধি বিল মাহের সাহেবের সংজ্ঞাটি আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে। নাস্তিকতা কোন ধর্ম কি না এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্বভাবসুলভ রসবোধ সহকারে জবাব দিয়েছেন যে –

নাস্তিকতা যদি ধর্ম হয় তাহলে সংযোম একটি সেক্স পজিশন। দুনিয়ার সকল নাস্তিকদের মধ্যে একমাত্র মিল হলো যে তারা কেউ কোন খোদা অথবা অতিপ্রাকৃতিক সত্ত্বার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না।

কথা সত্য। এর বাদে নাস্তিকদের মধ্যে তো কোন সুনির্দিষ্ট মিল নাই। ইশ্বরে অবিশ্বাসী নাস্তিকদের বহুরকম জীবন দর্শন আছে। আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও মতাদর্শ। সুতরাং একজন নাস্তিকের সাথে যখন আরেকজন নাস্তিকের বিতর্ক, ক্যাচাল এমনকি দ্বন্দ তৈরি হয় তখন সেটা সাধারণত ইশ্বরের অস্তিত্ব বিষয়ক কোন স্বিদ্ধান্তের কারনে হয় না। একজন কম ও একজন বেশি নাস্তিক এই কারনে হয় না। ইশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাসে কম বা বেশি বলে কিছু নাই। বিতর্ক, ক্যাচাল এবং দ্বন্দ যখন হয় তখন হয় সাধারণত তাদের মধ্যকার সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী, কর্মকান্ড ও মতাদর্শের পার্থক্যের কারনে। যেমন একজন সমাজতন্ত্র সমর্থক নাস্তিক এবং একজন পুঁজিবাদ সমর্থ নাস্তিকের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে দুই মেরুতে অবস্থিত। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সময় এই দুই বিপরীত রাজনীতির ধারক নাস্তিকের মধ্যে ঐক্য হতে পারে, বাকিসময়ে এদের অবস্থান একেবারে পরস্পরবিরোধী হওয়াই স্বাভাবিক। সুতরাং, বাংলাদেশী নাস্তিকদের মধ্যে দ্বন্দ ও ঝগড়া দেখে যারা ঐক্য নিয়া উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন, তাদের আসলে মাথায় রাখতে হবে দ্বন্দগুলো কোন জায়গায় এবং কি বিষয়ে। ঐসব ক্ষেত্রে আদৌ কোন ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব কি না? অথবা আদৌ তার কোন দরকার আছে কি না?

যে কোন খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না, সেই ‘নাস্তিক’। কিন্তু ‘নাস্তিক’ শব্দটি অনেকের কাছে একটি পরিচয়ও বটে। অনেকেই নিজের পরিচয় দেন ‘নাস্তিক’ বলে। অর্থাৎ, খোদার অস্তিত্ব বিষয়ক স্বিদ্ধান্তটিকে তিনি নিজ পরিচয়েও ধারণ করেন। কিন্তু খোদার অস্তিত্বে অবিশ্বাসী সকল ‘নাস্তিক’ই এই শব্দটিকে পরিচয় হিসাবে গ্রহন করেন বা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তা নয়। মূলত এই কারনেই আমরা নাস্তিক পরিচয়টি যাদেরকে গর্বভরে প্রচার করতে দেখি, তারা সমাজের সকল নাস্তিকদের একটা অংশ মাত্র। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই। নাস্তিকতা নিয়ে গর্ব অথবা নাস্তিক পরিচয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার একটা সাধারণ বয়সও আছে। সাধারণত তরুণ নাস্তিকদের মধ্যে এই প্রবনতা বেশি। তবে তারুণ্য যেমন শুধু বয়সের উপর নির্ভরশীল নয়, নাস্তিক পরিচয়টিও তেমনি। আবার এমন অনেক নাস্তিক আছেন, যাদের নাস্তিকতা তাদের জীবনের একটি অংশ মাত্র, প্রধান বিষয় নয়। নাস্তিক পরিচয়টিও তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়, অথবা একেবারেই গুরুত্বহীণ। কারন একটা মানুষের তো একটা মাত্র পরিচয় থাকে না, থাকে বহু পরিচয়। ধর্মীয় পরিচয়, রাষ্ট্রিয় পরিচয়, জাতীয় পরিচয়, বংশ পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয়, সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন সংক্রান্ত পরিচয়, এইরকম নানাবিধ পরিচয় একটা মানুষের থাকতে পারে। একজন মানুষ একিসাথে বাঙালি, মুসলমান ও সমকামী হইতে পারে। কিন্তু এইসব পরিচয়ের মধ্যে কোন পরিচয় তিনি উচু মর্যাদা দিবেন আর কোন পরিচয় নিচু মর্যাদা দিবেন, কোন পরিচয়কে গুরুত্ব দেবেন অথবা কোন পরিচয় বর্জন করবেন অথবা নতুন কোন পরিচয় দিয়ে পুরনো কোন পরিচয়কে প্রতিস্থাপন করবেন এইসব একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। এইক্ষেত্রে তার পারিপার্শিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। যেমন একজন ব্যক্তি একিসাথে নাস্তিক এবং কমিউনিস্ট হতে পারেন, কিন্তু প্রধানত কমিউনিস্ট পরিচয়েই নিজেকে পরিচিত করতে পারেন। এটা তার রাজনীতির অংশ। কমিউনিস্ট পরিচয় থেকে আমরা একজন ব্যক্তির রাজনীতি সম্বন্ধে ধারণা পাই, আমরা আন্দাজ করতে পারি তিনি কি ধরণের সমাজ বা রাষ্ট্র চান, অথবা তিনি যে দিনশেষে রাষ্ট্রের বিলোপ ও সমাজের উত্থানে বিশ্বাসী সেটাও জানতে পারি। কিন্তু ঐ একি ব্যক্তি যদি ‘নাস্তিক’ পরিচয়টি দেয়, আমরা শুধু জানতে পারি যে ‘তিনি কোন খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না’, এইটুকুই। জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে একজন মানুষের বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন ধারণা ও বিশ্বাস আছে, খোদার অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা ও বিশ্বাস তার মধ্যে একটা মাত্র। খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না, এমন অনেকের কাছেই ‘নাস্তিকতা’ বিষয়টি তার অনেকগুলো ধারণা ও বিশ্বাসের একটি মাত্র, এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, মেটাফিজিকাল খোদার অস্তিত্বে অনাস্থার চাইতে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ধারণা তার চিন্তা জগতে থাকতে পারে, যেগুলা প্রতিষ্ঠা করা ও যেইসব ধারণা ও বিশ্বাসের সাথে নিজের পরিচয়কে যুক্ত করা তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে।

তবে ‘খোদা’ খুবি শক্তিশালী একটা ধারণা। খোদায় বিশ্বাস কেন্দ্রিক সকল ধর্ম সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহণকারী একজন ব্যক্তির জীবনে ‘খোদা’র চাইতে শক্তিশালী কিছু নাই। সুতরাং, খোদায় বিশ্বাস হাড়ানো তার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যেই ধারণা ও বিশ্বাসকে তার সমাজ ও পরিবার তার চিন্তা চেতনার একেবারে কেন্দ্রে স্থাপন করে দিয়েছে, যেই ধারণা ও বিশ্বাস তার ভালো-মন্দের বোধ, নীতি-নৈতিকতা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করতে চায় পদে পদে, সেই ধারণা ও বিশ্বাস থেকে বের হয়ে আসাটা তার কাছে একটা বিরাট ব্যাপার। রীতিমত একটা বীরত্বের কাজ। নাস্তিকতা তাই একধরণের বিদ্রোহ হয়ে উঠতে পারে। যিনি নাস্তিক পরিচয়টি ধারণ করেন, তিনি একজন বিদ্রোহীও বটে। তবে বিদ্রোহ আর বিপ্লব এক জিনিস না। যারা বিপ্লবী রাজনীতি করেন বা করতে চান, তাদের নাস্তিকতা তাই বিদ্রোহী নাস্তিকদের চাইতে আলাদা। এমনিতে জগতে বহু ধরণের, বহু মতাদর্শের নাস্তিক আছে, এবং এদের মধ্যে একমাত্র সাধারণ মিল হচ্ছে ‘খোদায় অবিশ্বাস’। বাংলাদেশের সব নাস্তিকদের দুইটা মোটা দাগে ভাগ করার তাই আমি বিরোধী। কিন্তু বাংলাদেশের নাস্তিকরা অনলাইনকেন্দ্রীক বিতর্কে মোটামুটি দুইটি ভাগ হিসাবেই আবির্ভুত হয়েছে। এর একভাগের নাম যদি হয় ‘বাম নাস্তিক’ তো অপর ভাগ হলো ‘নও নাস্তিক’ (new atheists)। যদিও বাংলাদেশে বাম নাস্তিকদের মধ্যে কমিউনিস্ট, এনার্কিস্ট, পোস্ট মডার্নিস্ট, পোস্ট কলোনিয়ালিস্ট বিভিধ চিন্তার মানুষ আছে তাও আলোচনার খাতিরে তাদের সাধারণ মিলগুলোকেই আমরা ‘বাম নাস্তিকতা’র আওতায় আলাপ করবো। নও-নাস্তিক হিসাবে পরিচিতদের চিন্তাও আমার কাছে যথেষ্ট ডাইভার্স মনে হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেই সাধারণ বিষয়গুলাতে তারা একমত এবং বাম-নাস্তিকদের বিরুদ্ধে, সেই বিষয়গুলা আমরা গুরুত্ব দেবো।

নাস্তিকতা যেহেতু খোদায় অবিশ্বাসের অধিক কিছু না তাই নাস্তিকতাবাদ বলতে জগতে একক কিছুর কল্পনা করা কঠিন। নাস্তিকতা প্রচার অথবা আস্তিকদের নাস্তিক বানানোর প্রচেষ্টা, অর্থাৎ কনভার্শন নাস্তিকতাবাদের একটা অংশ নিঃসন্দেহে। এরবাদে আর কি কি বস্তু নাস্তিকতাবাদের অন্তর্গত এবং বহির্ভুত হতে পারে তা নিয়া যেসব প্রস্তাব ও বিতর্ক হয়, এখন যেমন বাংলা ব্লগে হচ্ছে এটাকেও নাস্তিকতাবাদ বলা যেতে পারে। তবে সর্বপরি আন্তর্জাতিকভাবে এবং বাংলাদেশেও বর্তমানে ‘নাস্তিকতাবাদ’ একটা ফেনোমেনা। এই ফেনোমেনার সাথে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের ফেনোমেনাটি একেবারে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশে। সন্ত্রাসীদের হাতে নাস্তিক খুন বাংলাদেশে এখন একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই সংঘর্ষ আবার একটা বড় গ্লোবাল ফেনোমেনার অংশ। ইসলামী সন্ত্রাসবাদ পৃথিবীর অনেক দেশের জন্যেই বর্তমানে একটি নিরাপত্তা (security) সমস্যা। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যেও এই সন্ত্রাসবাদ হুমকিস্বরূপ। দেশ ও দুনিয়ার এই নিরাপত্তা সমস্যাটিকে মোকাবেলা করাও অনেক নাস্তিক ‘নাস্তিকতাবাদে’র কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয় বলে মনে করেন, বিশেষ করে নও-নাস্তিকরা। বিল মাহের সাহেব যদিও নাস্তিকদের মধ্যে ‘খোদায় অবিশ্বাস’ একমাত্র মিল বলে রায় দিয়েছেন, কিন্তু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার রাজনীতিতে বিল মাহেরসহ অন্যান্য নও-নাস্তিকদের ‘নাস্তিকতাবাদে’ একটা মিল আছে। দেশ ও দুনিয়ার নিরাপত্তার স্বার্থে তারা শুধু ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নয়, ইসলামের বিরুদ্ধেই একটা যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। এই নাস্তিকতাবাদের ডিসকোর্স হচ্ছে, বর্তমান পৃথিবীর সবচাইতে বড় বিপদ হলো – ইসলামবাদ, আর সবচাইতে নিরাপদ বস্তু হলো – নাস্তিকতাবাদ। অর্থাৎ, নিরাপত্তার রাজনীতি আমাদের আলোচ্য নাস্তিকতাবাদের অংশ হয়ে উঠেছে। যে নাস্তিকতাবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরাপত্তার রাজনীতি করে তাকেই ‘নিরাপদ নাস্তিকতাবাদ’ বলছি। কল্লা বাচিয়ে কিভাবে নিরাপদে নাস্তিকতা করা যায় তার কোন ফর্মুলা এই লেখায় দেয়া হবে না। বামপন্থীরাও ইসলামী মৌলবাদ ও সন্ত্রাসকে নিরাপত্তার জন্যে হুমকি বলেই মনে করে। কিন্তু যেহেতু বামপন্থীদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গী এবং সেই অনুযায়ি কর্মসূচী আছে, তাই তারা নিরাপত্তার রাজনীতিকে ‘নাস্তিকতাবাদে’র মতো অস্পষ্ট কিছুর সাথে যুক্ত করেন না। জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে তারা সমস্যা মনে করেন বটে, তবে নাস্তিকতাবাদ নামক কিছু দিয়ে অথবা পুরো ইসলামের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা করা সম্ভব নয় বলেই তাদের ধারনা। আর সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে ছাড় দিয়ে শুধু সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করা সন্ত্রাসবাদের শক্তিবৃদ্ধির নামান্তর বলেই তারা মনে করেন।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “নিরাপদ নাস্তিকতাবাদ

  1. কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক তবুও
    কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক তবুও বলছি-ব্লগ ফেসবুক যেভাবে সহজ ভাবে সকলে নিয়েছিলাম বর্তমান অনলাইনে এগুলোকে গুরুত্বহীন ভাবার কোন কারণ নেই। সরকার ও মৌলবাদীদের প্রতিবারের আঘাতেই তা স্পষ্ট হচ্ছে। এই ব্লগ ফেসবুকের কারণেই কতোগুলো মানুষ খুন হলো তা আমরা দেখেছি। তাই ব্লগ ফেসবুকে কীভাবে কোন উপায়ে কোন সহনীয়মাত্রায় কথা বলা উচিত সেই বিষয় নিয়েও ভাবার সময় হয়েছে।….যাই হোক নাস্তিকতা-সহনশীলতা-নিরপেক্ষ সত্য-বামরাজনীতে নাস্তিকতা বিষয়ক আলোচনাগুলো নতুন করে ভাবার খোরাক জোগাচ্ছে। আলোচনা চলতে থাকুক আমরা ভালমানুষের মতন অডিটরিয়ামে বসে রসদ সংগ্রহের জন্য বসলাম।

  2. সর্বপরি আন্তর্জাতিকভাবে এবং

    সর্বপরি আন্তর্জাতিকভাবে এবং বাংলাদেশেও বর্তমানে ‘নাস্তিকতাবাদ’ একটা ফেনোমেনা। এই ফেনোমেনার সাথে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের ফেনোমেনাটি একেবারে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশে। সন্ত্রাসীদের হাতে নাস্তিক খুন বাংলাদেশে এখন একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই সংঘর্ষ আবার একটা বড় গ্লোবাল ফেনোমেনার অংশ।

    মাওলানা ফারুকী হত্যা, কবি শামসুর রাহমানের উপর হামলা, কবীর চৌধুরী, শাহরিয়ার কবীরসহ প্রগতিশীলদের মুরতাদ ঘোষণা, তাদের উপর হামলা, কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা, শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা উপমহাদেশের নিত্যদিনের ঘটনা- এগুলোর সাথে নাস্তিকতার কোন যোগসূগ্র আছে কি? ধরে নিলাম ব্লগের নাস্তিক বলতে কিছু নেই। তাহলে এগুলোকে ব্যাখ্যা করবেন কিভাবে? এগুলোর জন্যও সাম্রাজ্যবাদীরা দায়ী? এই পোস্টে এই বিষয়গুলো আসা প্রাসঙ্গিক ছিল।

    1. আপনি এখনো প্রাশঙ্গিক প্রশ্ন
      আপনি এখনো প্রাশঙ্গিক প্রশ্ন করা শিখতে পারলেন না এটা দুঃখজনক। দুইটা ফেনোমেনার মধ্যকার সংঘর্ষের উল্লেখ করেছি। নাস্তিকতাবাদকে এখানে সন্ত্রাসবাদের জন্যে দায় দেয়া হচ্ছে না। সাম্রাজ্যবাদকেও এককভাবে দায়ি করা হচ্ছে না। আপনি সবসময় এতো দায় নিয়া মাথা ঘামান কেনো? আপনার কি ধারণা আপনি যেমন সবসময় ইসলামকে দায় দিয়ে বেড়ান, আমি সেইরকম সবসময় সাম্রাজ্যবাদকে দায় দিয়ে বেড়াই?

  3. বামপন্থীরাও ইসলামী মৌলবাদ ও

    বামপন্থীরাও ইসলামী মৌলবাদ ও সন্ত্রাসকে নিরাপত্তার জন্যে হুমকি বলেই মনে করে। কিন্তু যেহেতু বামপন্থীদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গী এবং সেই অনুযায়ি কর্মসূচী আছে, তাই তারা নিরাপত্তার রাজনীতিকে ‘নাস্তিকতাবাদে’র মতো অস্পষ্ট কিছুর সাথে তারা যুক্ত করেন না। জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে তারা সমস্যা মনে করেন বটে, তবে নাস্তিকতাবাদ নামক কিছু দিয়ে অথবা পুরো ইসলামের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা করা সম্ভব নয় বলেই তাদের ধারনা। আর সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধেকে ছাড় দিয়ে শুধু সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করা সন্ত্রাসবাদের শক্তিবৃদ্ধির নামান্তর বলেই তারা মনে করেন।

    আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন আস্তিক এবং বাম রাজনীতির সাথেও আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু আপনার এই উদ্ধৃত লাইনগুলোতে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বাম নাস্তিকদের যে দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত হয়েছে সেটাকে আমি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছি। আপনার লেখাটিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে নও নাস্তিকদের প্রতি (যদিও আপনি হয়তো সেটাকে প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করতে চান নি)। প্রশ্নটি হলো- ইসলামবাদ নির্মূল হলেই নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে কীভাবে? মানুষের নাস্তিক হবার সাথে নিরাপত্তার সম্পর্ক কতটুকু? নাস্তিকতা নামক ছাতা কি আমাকে পুজিবাদী গোষ্ঠীর লোলুপ থাবা থেকে রক্ষা করতে পারবে? সামাজিক, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় অনিরাপত্তা ও শোষণ-নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারবে? আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদ যখন আমার দেশকে শকুনের মতো ঠুকরে ঠুকরে খাবে তখন কে আমাকে রক্ষা করবে? নাস্তিকতাবাদ? নও নাস্তিকদের পক্ষ থেকে উত্তর জানা আবশ্যক।

  4. কমিউনিজমের সাথে ধর্মের
    কমিউনিজমের সাথে ধর্মের সম্পর্ক কোন জায়গায় আছে? মার্কস এর কোন সূত্রে কমিউনিজম ধর্মকে সমর্থন করে? যারা মার্কস এর দর্শন থেকে বাহিরে এসে সুবিধাবাদি বাম রাজনীতি করে তারা মার্কসবাদে ধর্মের উপস্থিতি খুঁজে বেড়ায়।

  5. আপনার লেখাটি ভালো লেগেছে।
    আপনার লেখাটি ভালো লেগেছে। লেখাটি সম্ভবত একটি বড়ো লেখার ভুমিকা এটি, নাস্তিক কে হতে পারেন সে বিষয়ে আমি মোটা দাগে একমত। কয়েকটি পয়েন্ট দিচ্ছি আপনার বিবেচনার জন্যে –

    ১ – প্রখ্যাত কসমোলজিস্ট প্রফেসর লরেন্স ক্রাউস এক বিতর্কে বলেছিলেন, নাস্তিকতার কোনও গ্রন্থ নেই, তাই নাস্তিকতা কোনও রকমের নৈতিক স্তর বা স্ট্যান্ডার্ড সেট করেনা, অন্তত করতে চায়না। তাই একজন নাস্তিক পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপকও হতে পারেন আবার শিশু নির্যাতনকারী পিডোফাইল ও হতে পারেন। আমি অধ্যাপক ক্রাউস এর মত কে ১০০% সমর্থন করি। কিন্তু কুরআন – হাদিস মেনে কিভাবে একজন মুসলমান সমকামী হতে পারে বা সমকামীতার চর্চা করতে পারে, সে বিশয়টি পরিস্কার নয়, কারন কুরআন – হাদিস সহ ধর্ম গ্রন্থ গুলো তো এক ধরনের নৈতিক স্তর বা স্ট্যান্ডার্ড সেট করেই দিয়ে থাকে, তাই না? আশা করছি এই বিশয়টির এবং এরকমের আরো কিছু বিশয়ের ব্যাক্ষা থাকবে আপনার লেখায়।

    ২ – নাস্তিক ও নাস্তিকতাবাদ এই দুইটি বিশয়ের মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে একজন মানুষের নাস্তিক হওয়ার বিশয়টি বেশী গুরুত্ব পেয়েছে। এবং বাংলাদেশে যেহেতু এই প্রপঞ্চ টি নতুন, ধারনা করছি আপনি নাস্তিকতাবাদ এর বদলে ‘নাস্তিক’ দের নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন। সেটা হলে পাঠক হিসাবে আমরা বঞ্চিত হবো। বরং আপনার লেখাটি যদি বিসশব্যাপী (এবং বাংলাদেশেরও) নাস্তিকতাবাদ নিয়ে আলোচনা করে তাহলে লেখাটি প্রয়জনীয় হয়ে উঠবে। আর নয়ত, লেখাটি নাস্তিকদের বিরুদ্ধে লেখা আরো হাজারটা লেখার মতো আরো একটি নতুন পপুলার বা জনপ্রিয় লেখা হবে। আমি জানিনা কোনটা আপনার লক্ষ্য। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে এবং নাস্তিকতার বিরুদ্ধে লেখা গুলো অধিক জনপ্রিয়। আমি বরং আপনাকে অনুরোধ করবো ‘নাস্তিক’ এর চাইতে নাস্তিকতাবাদ নিয়ে এবং সম্ভব হলে রেফারেন্স সহ লিখুন।
    ৩ – আপনার লেখার কিছু চমকপ্রদ দিক আগেও লক্ষ্য করেছি এই লেখাতেও আছে। আপনি বিল মাহের কে ‘ভাঁড়’ বলে উল্লেখ করলেন। কমেডিয়ান এর সঠিক বাংলা কি ‘ভাঁড়’ কিনা তা আরেকবার দেখে নেয়ার অনুরোধ থাকলো। যদি কমেডিয়ান এর বাংলা অর্থ হয় ‘ভাঁড়’ তাহলে হয়ত আধুনিক কালের সবচাইতে বড়ো ‘ভাঁড়’ হচ্ছেন চার্লি চ্যাপলিন, আমি নিশ্চিত চ্যাপলিন কে যারা জানেন তাঁদের সবাই চ্যাপলিন কে ‘ভাঁড়’ হিসাবে দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু আপনার বঙ্গানুবাদ গ্রহন করলে – চ্যাপলিন বা বিল মাহের এরা সকলেই ‘ভাঁড়’ (বিচিত্র কারনে চ্যাপলিন নিজেও একজন নাস্তিক ছিলেন)। বিল মাহের কে ‘ভাঁড়’ বলার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করলাম এই জন্যে যে এখান থেকে বিশয়টির প্রতি আপনার ব্যক্তিগত ‘প্রেফারেন্স’ বা পক্ষপাত বোঝা যায়। যে সকল বাঙ্গালী নাস্তিকেরা অধ্যাপক জতীন সরকার কে ‘বুড়ো’ বলে বিতর্ক শুরু করেছিলেন, আমি তাঁদের বিরোধিতা করেছিলাম, এখনও করি। অধ্যাপক যতীন সরকার কে ‘বুড়ো’ বলে শুরু করা আর বিল মাহের কে ‘ভাঁড়’ বলে পরিচয় করিয়ে দেয়া আসলে একই প্রবনতা, দুটোই ক্ষতিকর। আপনার লেখায় মাঝে মাঝেই এই ধরনের ক্ষতিকর প্রবনতা দেখা যায়, তাতে একটি বিরাট অংশের পাঠক আনন্দিত হয়, সে বিশয়টা পরিস্কার। পাঠক হিসাবে এই উভয় ক্ষেত্রেই আমি আগ্রহ হারাই কারন লেখকের পূর্ব নির্ধারিত অবস্থান এখানে ফুটে ওঠে।

    ৪ – নাস্তিকতার প্রচার ও আস্তিকদের কে ‘নাস্তিক বানানোর’ বিশয়টা নতুন মনে হচ্ছে। কিছু উদাহরণ দিয়ে যদি লিখেন বিশ্বব্যাপী নাস্তিকতাবাদ প্রচার ঠিক কিভাবে আস্তিকদের কে নাস্তিক হিসাবে কনভার্ট করার সাথে সংযুক্ত, তাহলে জ্ঞান লাভ করবো। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী নাস্তিক ‘কনভারশন’ এর এই প্রবনতা টির প্রকাশ্য কোনও উদাহরণ, আন্দোলন আছে?

    ৫ – আপনি লিখেছেন – “এই নাস্তিকতাবাদের ডিসকোর্স হচ্ছে, বর্তমান পৃথিবীর সবচাইতে বড় বিপদ হলো – ইসলামবাদ, আর সবচাইতে নিরাপদ বস্তু হলো – নাস্তিকতাবাদ। অর্থাৎ, নিরাপত্তার রাজনীতি আমাদের আলোচ্য নাস্তিকতাবাদের অংশ হয়ে উঠেছে।” আপনার এই বক্তব্যের কিছু আগ্রহ উদ্দিপক বিষয় হচ্ছে, ইসলাম বিপদের এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু আপনি নাস্তিকদের বয়ানে ইসলাম কে “সবচাইতে বড়” বিপদ বলে উল্লেখ করছেন। এবং নাস্তিকতা কে “নিরাপদ বস্তু” বলে উল্লেখ করছেন। এই দুইটি ধারনাই আপনি উল্লেখ করছেন নাস্তিকদের বয়ানে। ইসলাম যে ইদানিং বিপদজনক হয়ে উঠছে সেটা কোনও কোনও নাস্তিক উল্লেখ করেছেন, কিন্তু নাস্তিকতা কে পরম শান্তির বস্তু বলেছেন বা বলেন এমন টা শুনি নাই। আপনার কাছ থেকে অধিক জ্ঞান লাভের অপেক্ষায় থাকবো। দুইটি ধারনাই যদি কিছু উদাহরণ সহ ব্যাক্ষা করেন তাহলে উপকৃত হবো।

    লেখাটি ফলো করবো। শুরুর কিস্তির জন্যে ধন্যবাদ।

    আপনি তো জানেন, আমি কম পড়ালেখা করা মানুষ, আমার প্রশ্ন গুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিকতার অভাব থাকতে পারে। সেটা মনে হইলে, কমেন্ট টা ইগ্নোর কইরেন। খামোখা চাপ নিয়া আপনার সময় নস্ট করবেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =