চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ এবং অন্তুকে দেখতে যাওয়া – চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে।

সকালেই খবরটি জানতে পারি রাফসান ভাইয়ের স্ট্যাটাস থেকে যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদে ভোরের দিকে আগুন দিয়েছে শিবিরের দুর্বৃত্তরা। পরে দুলাল ভাইয়ের সাথে কথা বলে ঠিক করি বিকালে ১৮ দলের ডাকা হরতালে ককটেল বিস্ফোরনে আহত “অন্তু বড়ুয়া”-কে দেখতে যাবো সেই সাথে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের দিকেও যাবো চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম -এর পক্ষ থেকে।

বিকাল পাচটা নাগাদ সেখানে পৌঁছুলে প্রথমে বিজয় ভাইয়ের সাথে দেখা হয়, পরবর্তীতে দেখা হয় সুমন ভাইয়ের সাথে। সুমন ভাই নিয়ে যান আমাদের ছাত্র সংসদের দিকে। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই ছাত্র সংসদের অবস্থা। পরে সুমন ভাই এবং রাফসান ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পারি ভোর পাঁচটা নাগাদ ৮-১০ জনের একটি দুর্বৃত্তদের দল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের চারপাশে, মূল ফটকের ভেতরে, বৈদ্যুতিক বাক্সে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে ছাত্র সংসদের ব্যানার,ক্যারম বোর্ড, বৈদ্যুতিক বাক্স সহ কিছু আসবাবপত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে মূল ফটকে এবং সংসদ কার্যালয়ের কক্ষগুলোতে তালা দেয়া থাকায় ভেতরে খুব একটা ক্ষতি হয়নি। পরে আশেপাশের দোকান মালিক-কর্মচারীরা দ্রুত সেই আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং ছাত্র সংসদকে অভিহিত করেন।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সন্মুখভাগ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের মূল ফটকের সামনে

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের মূল ফটকের ভেতরে

পুড়িয়ে দেয়া ব্যানারের একটি অংশ

পুড়িয়ে দেয়া বৈদ্যুতিক সংযোগ বাক্স


এভাবেই চারপাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়া হয়

পুড়িয়ে দেয়া কিছু জিনিসপত্র

ধারনা করা হচ্ছে একটি বালতিতে করে তারা পেট্রোল আনে এবং সেটিতে আগুন ধরে গেলে সেটি পুড়ে গলে যায়।

চারিদিক দেখার পর আমরা সকলে মিলে চলে যাই আমাদের সকলের বোন “অন্তু বড়ুয়া“-কে দেখতে। সেখানে ছিলেন সুমন ভাই, দেবু ভাই, রাফসান ভাই, বিজয় ভাই সহ অন্যান্য কলেজ ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ। সেখানে কথা বলা হয় অন্তুর অভিভাবকের সাথে এবং “ইন্টার্নি ডক্টরস এসোসিয়েশন“- এর পক্ষ থেকে অন্তুর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের আশ্বাস দেয়া হয়।


অন্তু বড়ুয়া, ১৮ দলের ডাকা হরতালে ককটেলের আঘাতে ডান চোখে আঘাত পেয়ে বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এবার চলুন ভিন্ন কিছু জানি, কেন এই আক্রমন হঠাৎ এমন সময়ে? আপনারা অনেকেই জানেন কিনা জানিনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ সহ মেডিকেল চত্বরে শিবিরের একটি প্রভাব থাকলেও বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাস শিবিরমুক্ত। নির্বাচনে হেরে যাবার পর থেকেই শিবিররা বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলো কলেজ সংসদের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের। একপর্যায়ে বিশেষ কিছু ঘটনার কারণে এই মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের উপর থেকেও সরে যায় সকল রকম দলীয় রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা। চরম একটি অভিভাবক হীনতা সহ নানারকম চাপে পড়ে যায় ছাত্রলীগ মনোনীত ছাত্র সংসদ কমিটি। সেই থেকে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই শক্ত একটি অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে এই সংসদটি। এমনকি মেডিকেল কলেজ থেকেও শিবির বহিষ্কার করা সহও বেশকিছু সময়ে তারা এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে নিজেদের। কলেজ ক্যাম্পাসটিকে শিবিরমুক্ত করে তারা। সেই থেকেই ক্ষোভ আর প্রতিশোধ নেবার জন্য বসে আছে শিবিরকর্মীরা। এই পর্যন্ত অনেকবার চেষ্টা করেছে প্রতিশোধ নিতে কিন্তু তারা তা পারে নাই। গণজাগরণ মঞ্চেও তাদের ছিলো ভালো একটি অংশগ্রহন, প্রতিদিন ট্রাকে করে কলেজ সংসদের উদ্যোগে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে নিয়ে “জয় বাংলা” শ্লোগানসহ “জামায়াত-শিবির” বিরোধী শ্লোগান দিয়ে তারা শিবির নিয়ন্ত্রিত এলাকা দিয়েই আসতো এবং রাতের বেলায়েও একইভাবে একই রাস্তা দিয়েই ফেরত যেতো, যদিও পরবর্তীতে তারা ছাড় দেবার মনোভাবের কারণে গণজাগরন মঞ্চে আসে নাই কিন্তু কলেজ প্রাঙ্গনসহ উক্ত এলাকাতে তারা তাদের মত করে প্রচারনা চালিয়েছে। যেদিন চট্টগ্রাম গণজাগরন মঞ্চে হামলা হয় সেদিনেও মেডিকেল কলেজ এলাকাতে “জামায়াত-শিবির” যৌথভাবে হামলা করবার পরিকল্পনা নিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান ছাত্র সংসদ তৎপর থাকাতে ভেস্তে যায় তাদের পরিকল্পনা।

ব্যক্তিগতভাবে সবসময়েই এই ছাত্র সংসদকে খুব বেশি পছন্দ করি কেননা একমাত্র তারাই নিজেদের প্রচেষ্টায় শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করেন। ঐ ক্যাম্পাসে বর্তমানে “জামায়াত-শিবির” তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে না। যেখানে বছর তিনেক আগেও তারা একটা দাপট নিয়ে চলত।

এবার আসি অন্তু প্রসঙ্গে, জানিনা কি তার দোষ ছিলো। কেন তাকে ককটেলের আঘাতে আজ কষ্ট পেতে হচ্ছে তাও জানিনা। তবে এটুকু জানি জামায়াত-বিএনপির হাতে মানুষ আজ চরম অনিরাপদ। অন্তুকে কখনো গণজাগরনে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না আর রাজনীতি করার তো প্রশ্নই ওঠে না নবম শ্রেণীতে পড়া মেয়েটির। আজ সে চোখের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে আর ঐদিকে ১৮ চলের নেতারা বলছেন শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করবার জন্য কর্মীদের ধন্যবাদ। কি অদ্ভুত তাদের চিন্তা-চেতনা!! হয়তো অন্তু সুস্থ হয়ে উঠবে কিন্তু তা পরিপূর্ণতা পাবে না। এছাড়াও তার মনে রাজনীতি নিয়ে একটা ভয়ঙ্কর বাজে ধারণা জন্ম নিবে, জন্ম নিবে তার সহপাঠীদের মনেও। আর এভাবেই বারবার দখল করে নিবে রাষ্ট্র যন্ত্র ঐ নষ্টরাই। অন্তুর দ্রুত আরোগ্য কামনা করা ছাড়া এমুহুর্তে আর কিছুই করবার নেই।

তবে বিশ্বাস করি একদিন আমরা অবশ্যই খুব বেশি ভালো না হলেও জনসাধারনের উপকারী একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাবোই। সেইদিনের সোনার বাংলার অপেক্ষায় আছি, হয়তো সেটি গড়ে তুলব আমরা সকলেই, হয়তো সেটি গড়ে উঠবে তরুণ প্রজন্মের হাতেই আগামীতে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ এবং অন্তুকে দেখতে যাওয়া – চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে।

  1. অন্তুরা একদিন জামায়াত-শিবির,
    অন্তুরা একদিন জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও হরতালমুক্ত বাংলাদেশ দেখবেই….।

    অন্তুকে দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রসংসদের নেতাদের সহযোগীতার জন্য ছাত্রসংসদকে ধন্যবাদ। শিবির কর্তৃক ছাত্রসংসদ জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।

  2. আপনাদের স্যালুট। অন্তুর জন্য
    আপনাদের স্যালুট। অন্তুর জন্য শুভকামনা। গতকাল যখন প্রথম অনলাইনে নিউজটা দেখি খুব খারাপ লেগেছিল। এতো বাচ্চা একটা মেয়ে এই বয়সে একটা চোখ হারাবে ভাবতেই খারাপ লাগছিল। রাতে প্রথম আলোর অনলাইন নিউজে চিকিৎসকের বক্তব্য পড়ার পর নিজে চক্ষু বিষয়ে পড়ালেখা করছি বলে বুঝতে পারি, অন্ধ হওয়ার আশংকা হয়ত নেই। নিশ্চিত বলতে পারছি না যেহেতু বিস্তারিত কিছু জানিনি। আশা করি দ্রুতই সে সুস্থ্য হয়ে উঠবে। আপনারা তার পাশে দাঁড়িয়ে তার মনে এতটুকু বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়ে আসতে পেরছেন যে, এই দেশে সবকিছু নষ্টদের অধিকারে এখনও যায়নি।

  3. স্যালুট আপনাদের
    অন্তুর দ্রুত

    স্যালুট আপনাদের :salute:
    অন্তুর দ্রুত শুস্থতা কামনা করছি। কোথায় এখন দেশের চুচীলেরা? কোথায় এনজিও ওয়ালারা? পাইক্যা মালালার জন্য যারা বুক ফাটাইয়া আহাজারি করছে। নাকি বড়ুয়া দেইখা মানবতা টুট টুট বন্দি হইয়া গেছে

    1. আপনাদের সকলের শুভকামনাই পারে
      আপনাদের সকলের শুভকামনাই পারে অন্তুকে দ্রুত আরোগ্য এনে দিতে।

      চুচীল আর এঞ্জিওদের কথা কি কব কন? এরা শুধু ধান্ধা হবে যেইখানে সেইখানেই যায়। পুঁজিবাদী না হলেও এরা চরম পুঁজিবাদী।

  4. ককটেলের বিস্ফোরণে আজ অন্তুর
    ককটেলের বিস্ফোরণে আজ অন্তুর এক চোখ আক্রান্ত। অথচ মানবতাবাদী চুচীলদের কোন বিবৃতি নেই, নেই টেলিভিশনের পর্দা ফাটিয়ে টক শো গরম করার মত বিশাল হা-হুতাশ। কিভাবে থাকবে আর এদের কাছে কিভাবেই বা এসব আশা করবেন। জামায়াতের ককটেলে এইরকম আরো হাজারো অন্তু হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকলেও, জামায়াতের টাকায় বিক্রি হয়ে যাওয়া এসব চুচীল মানবতাবাদী এঞ্জিওয়ালারা যে জামায়াতের সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদ কার্যক্রমে সর্বদাই অন্ধ, বোবা আর কানের বধিতে টাকার বিনিময়ে আক্রান্ত হয়ে আছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 5