অভিজিৎ হত্যাকান্ডে ‘আল কায়েদা’র দায়

অবশেষে অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে ‘আল কায়েদা’। আল কায়েদার উইং ‘আল কায়েদা ইন দা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেট’র (al qaeda in the Indian subcontinent, AQIS) প্রধান ‘আসিম উমর’ অভিজিৎ রায় হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছেন, তার নেটওয়ার্কের অনুসারীরাই এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আরো কয়েকজন সেকুলারকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তিনি। ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বর্তমান আল কায়েদা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি ‘আল কায়েদা ইন দা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (আকিস) নামের একটি নতুন ব্রাঞ্চের যাত্রা ঘোষনা করে অডিও বার্তা প্রকাশ করেন। এই ঘোষনার আগে থেকেই আল কায়েদার অফিশিয়াল মিডিয়া প্রোডাকশন হাউস ‘আস-সাহাব মিডিয়া’ থেকে জাওয়াহিরিরসহ আল কায়েদার বিভিন্ন নেতা বাংলাদেশ সম্বন্ধে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। এসব বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম, জামায়াত ইসলাম থেকে শুরু করে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-এর রাজনীতি ও হত্যাকান্ডের পক্ষে সমর্থন দেয়া হয়েছে এবং নাস্তিক ব্লগার নিধনের উস্কানি দেয়া হয়েছে। সুতরাং অভিজিৎ রায় কিংবা ওয়াশিকুর বাবুর হত্যাকান্ডের সাথে আল কায়েদার সংযোগ থাকা অসম্ভব নয়। কিন্তু আল কায়েদার এই ঘোষনার পর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে আল কায়েদা থাকার কোনো প্রমাণ নেই। সোমবার সচিবালয় নিজ কার্যালয়ে বাসস-কে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সদস্যরা এখন পর্যন্ত দেশে আল কায়েদার অস্তিত্ব এবং এর নেটওয়ার্কের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পায়নি।

প্রশ্ন হচ্ছে, স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী প্রমান বলতে কি বুঝিয়েছেন? অস্তিত্ব এবং নেটওয়ার্ক বলতেই বা কি বুঝিয়েছেন? অভিজিৎ রায় এবং ওয়াশিকুর বাবু হত্যাকান্ড সম্বন্ধে গত কয়েক মাসে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাতে যেসব তথ্য জানা গেছে তা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রথমত, পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ি, অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হলো ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’। অর্থাৎ রাজীব হত্যাকান্ডে জড়িত এবং আসিফ মহিউদ্দীনের উপর হামলাকারী ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ই অভিজিৎ রায় কে হত্যা করেছে। রাজীব হত্যাকান্ডের পর হত্যাকারী দলের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ, এরা সবাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। এর কিছুদিন পর পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এর তাত্ত্বিক নেতা মুফতি জসিম উদ্দীন রহমানীকে গ্রেফতার করে। তবে হত্যাকান্ডে জড়িত ‘রেদওয়ানুল আজাদ রানা’ কে পুলিশ কখনোই গ্রেফতার করতে পারে নাই। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ বলে আসছিল, এই রানাই না কি এখন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমএর নেতা। এখন পুলিশ বলছে এই রানার নির্দেশেই অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলো যে, ওয়াশিকুর বাবুর হত্যাকারী আরিফুল ও জিকরুল্লাহকে ‘মাসুম’ ছদ্মনামধারী যেই ব্যক্তি হত্যাকান্ডের নির্দেশ দিয়েছে, সেই মাসুম আসলে আর কেউ নয়, স্বয়ং রেদওয়ানুল আজাদ রানা। অভিজিৎ রায় ও ওয়াশিকুর হত্যাকান্ডের নির্দেশদাতা যে রানা এই বিষয়ে পুলিশ কিভাবে নিশ্চিত হয়েছে জানি না। অভিজিৎ হত্যাকারীদের সাংকেতিক ফোনালাপ ট্রেস করে রানার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল। তবে রানাই যদি অভিজিৎ ও ওয়াশিকুর হত্যার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে আল কায়েদার দাবিতে আপত্তি করার মতো তেমন কিছু দেখি না। বরং প্রতিমন্ত্রী যা বলেছেন, ঘটনা ঠিক তার উলটো। পুলিশ প্রশাসনের হাতে যেসব তথ্য প্রমান আছে বলে আমরা জানি তাতে বাংলাদেশে আল কায়েদার টেরর নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব আছে বললে ভুল বলা হবে না।

শুরুতেই বলে নেয়া দরকার যে আল কায়েদা যতো না সংগঠন তারচাইতে বেশি নেটওয়ার্ক। আল কায়েদার তাত্ত্বিক গুরুদের মতে ‘আল কায়েদা’ দুনিয়া জোরা একটা আন্দোলনের নাম, সংগঠনের নয়। ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে আল কায়েদার মূল ঘাটি ছিল আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে। এর বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জঙ্গী সংগঠনগুলোর আনুগত্ব গ্রহন করে ও এসব সংগঠনকে নিজেদের এফিলিয়েট ঘোষনা দিয়ে আল কায়েদা দুনিয়া জোরা তাদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। যেমন ইরাকে ও সিরিয়ায় ‘আনসার আল ইসলাম’ কিংবা ‘জাবাত আল নুসরা’ হলো আল কায়েদা এফিলিয়েট। ভারতীয় উপমহাদেশে লস্করি তাইয়েবা আল কায়েদা এফিলিয়েটেড সংগঠন। বাংলাদেশের জেএমবি ছিল আল কায়েদা এফিলিয়েট। এসব সংগঠন মূলত স্বাধীনভাবে কাজ করলেও এরা আল কায়েদার আনুগত্ব স্বীকার করে এবং আল কায়েদার আইডিওলজির প্রচার করে। আল কায়েদার পাঁচ পর্বের পরিকল্পনার চার নম্বর ছিল ‘আল কায়েদা’কে একটি আইডিওলজি ও অপারেটিং প্রিন্সিপালে পরিণত করা এবং সরাসরি কমান্ড ও কন্ট্রোল ছাড়াই তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্রেঞ্চাইস করা। তাদের এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ছিল পুরো দুনিয়ায় আল কায়েদার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পরা। কিন্তু আল কায়েদার আরেকটি পরিকল্পনা ছিল ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা। আল কায়েদার এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেছে আইসিস। এখানে বলে রাখা দরকার যে আইসিসের জন্ম হয়েছে ইরাকী আল কায়েদা নেটওয়ার্ক থেকে। আইসিস নেতা আবু বকর আল বাগদাদী সাবেক আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের অনুগত ছিলেন, কিন্তু তিনি ও তার অনুগতরা মোল্লা উমর বা জাওয়াহিরির অনুগত নয়। খেলাফত ঘোষনা করে আইসিস এখন দুনিয়ার সবচাইতে শক্তিশালী টেরোরিস্ট সংগঠন হয়ে উঠেছে। আল কায়েদার মতোই আইসিসও একটি আন্তর্জাতিক টেরোরিস্ট নেটওয়ার্ক, অর্থাৎ পৃথিবীর বিভন্ন দেশের জঙ্গী সংগঠনগুলো তাদের প্রতি আনুগত্ব স্বীকার করে নিজেদেরকে আইসিসের এফিলিয়েট ভুক্ত করে নিয়েছে। এসব সংগঠনের অধিকাংশই আগে আল কায়েদার অনুগত ছিল। আইসিসের উত্থান আর আল কায়েদার পতন হয়েছে গত কয়েক বছরে সমান্তরালভাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে খোদ আল কায়েদার মূল ভিত্তি পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে আইসিস অনুগতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় আল কায়েদার ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট ব্রাঞ্চ ঘোষনা ও তার উপস্থিতি সদা জানান দিয়ে যাওয়া আল কায়েদার জন্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত একমাত্র ভারতীয় উপমহাদেশে এবং উত্তর আফ্রিকাতেই আইসিসের চাইতে আল কায়েদার অবস্থান শক্ত। মূলত দক্ষিন এশিয়া কেন্দ্র করেই আল কায়েদা ভবিষ্যতে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের অবস্থানের উপর ক্র্যাকডাউনের ঠিক পরেই জাওয়াহিরি ‘ম্যাসাকার বিহাইন্ড দা ওয়াল অফ সাইলেন্স’ নামে অডিও ভাষন প্রকাশ করেন যাতে আলেমদের উপর হামলা, ইসলামী নেতাদের জেলে আটকে রাখা ও ফাঁসি দেয়া (জামাত নেতাদের) এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যকে ইসলাম ধ্বংসের উদ্দেশ্য বলে প্রচার করে বাংলাদেশের মুসলমানদেরকে জিহাদে আহবান করেন (বিস্তারিত)। তারও আগে শাহবাগ আন্দোলন চলাকালে, রাজীব হত্যার পর আল কায়েদা নেতা উস্তাদ আহমেদ ফারুক ‘হাজি শরিয়তউল্লাহর দেশে আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ’ নামে একটি অডিও প্রকাশ করেন যাতে ব্লগার রাজীব হায়দার ও তার হত্যাকারীদের সম্বন্ধে বলেন –“তার(রাজীব হায়দার) উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক সেই তরুণদের উপর যারা এই অভিশপ্ত ব্যক্তিকে হত্যা করে বিশ্বাসীদের মনে শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছে”।

একি অডিও ঘোষনায় তিনি বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদেরকে খুন করার আহবান জানান –

প্রিয় বাংলাদেশী ভাইয়েরা, এটা কোন রাজনৈতিক লড়াই নয়। এই যুদ্ধ অবিশ্বাস এবং ইসলামের মধ্যে যুদ্ধ। আহমেদ রাজীব হায়দারের মতো বহু অভিশপ্ত ব্যক্তি এখনো জীবন্ত ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের কলম এবং জিহবা মহানবী(সঃ) এবং শরিয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে। এরা পশুর চাইতেও অধম এবং এদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। অভিশপ্ত ব্লগার রাজীব হায়দারের মতোই এদেরকে টার্গেট করে রাস্তার মধ্যে খুন করা শরিয়া সম্মত একটি কর্তব্য।

আহমেদ ফারুক আকিস-এর ডিপুটি আমির ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি ইউএস ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। জাওয়াহিরির মতোই আহমেদ ফারুকের এই অডিও বার্তাটিও প্রকাশিত হয়েছিল আল কায়েদার অফিশিয়াল ‘আস-সাহাব’ মিডিয়ার মাধ্যমে। অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডের দায় স্বিকার করে নেয়া আসিম উমরের বর্তমান অডিও বার্তাটিও একি মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। রাজিব হত্যাকান্ডের পর আহমেদ ফারুকের বক্তব্যে পরিস্কার হয় যে বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগার হত্যাকান্ডের প্রতি প্রথম থেকেই আল কায়েদা সমর্থন জানিয়েছে এবং আরো হত্যাকান্ডের প্ররোচনা দিয়েছে। অর্থাৎ ভারতবর্ষে আল কায়েদার অবস্থান পোক্ত করতে বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগার হত্যাকারীদেরকেও নিজেদের নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত করতে তারা প্রথম থেকেই আগ্রহ দেখিয়েছে তা নিশ্চিত।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্লগার ও সেকুলারদের হত্যাকারীদের এই বিষয়ে আগ্রহ কেমন? বা তারা কি ইতিমধ্যে আল কায়েদা নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে কি না? আনসারুল্লাহ বাংলা টিম কি ধরণের সংগঠন? তারাই একমাত্র এধরণের সংগঠন কি না? এদের অধিকাংশ নেতা কর্মী ২০১৩/১০১৪ সালে গ্রেফতার হওয়ার পরও কিভাবে এখনো টিকে আছে এবং ২০১৫ সালের শুরুতেই মাত্র এক মাসের ব্যাবধানে দুইজন ব্লগারকে হত্যা করেছে? এইসব বিষয়ে পরের পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো। তবে বাংলাদেশের আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা কতোটুকু আলকায়েদাপন্থী এবং এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন অতীতে আমাদেরকে কি জানিয়েছে তার একটা উদাহরণ দিয়ে এই পর্বটি শেষ করছি। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এর মিডিয়া প্রধান সাবেক ‘ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে’র ছাত্র মোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশ। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যে বিবৃতি প্রকাশ করেছিল তার কিছু অংশ নিচে তুলে ধরছি –

পাকিস্থান ভিত্তিক ফোরাম “বাবউল ইসলাম” ও “আনসারুল্লাহ বাংলা” এর বাংলা বিভাগের মডারেটর মোরশেদ আলম (২৮) ওরফে মাসুম ওরফে ট্রাক্টর কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ০৫/১১/১৪ তারিখ রাত ২২.০৫ টায় তাকে মহানগরীর কল্যাণপুর এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আল কায়দা নেতা জাওয়াহিরি এর সদ্য প্রকাশিত জিহাদের মাধ্যমে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মতবাদসহ আরবী, উর্দু ও ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন পোস্ট বাংলায় অনুবাদ করে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার করে AQIS এর জন্য মুজাহিদ সংগ্রহে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করাই ছিল তার ও তার সহযোগীদের উদ্দেশ্য ।…সম্প্রতি আল কায়দার আমীর আইমান আল জাওয়াহিরি AQIS (AL QAIDAH IN INDIAN SUB-CONTINENT -ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও বার্মা) এর মাধ্যমে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষে এশিয়া মহাদেশের দেশসমূহে সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে ইসলামিক শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ/জিহাদ করার মতবাদ দেন যা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। জাওয়াহিরি এর সদ্য প্রকাশিত উক্ত বক্তব্যের বাংলায় অনুবাদ করে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার করে AQIS এর জন্য মুজাহিদ সংগ্রহে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। গ্রেফতারকৃত আসামী ও তার সহযোগীগণ Somewherein blog, Amrablog সহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ব্লগে ছদ্ম নামে একাউন্ট করে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে কটূক্তিকারীদের সনাক্ত এবং তাদের উপর নজরদারী অব্যাহত রাখেন। অতঃপর উক্ত ব্লগারদের নাম-ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য তাদের অপারেশনাল টিমকে দেন। ইতোমধ্যে তাদের অপারেশনাল টিম ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা এবং ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, দ্বীপ আজাদ ও রাকিব মামুন কে হত্যার জন্য আঘাত করে মারাত্মক জখম প্রাপ্ত করেছে।

(চলবে)

তথ্যসূত্রঃ
The Secret History of Al Qaeda By Abdel Bari Atwan
http://www.banglatribune.com/%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A7%8E%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0
https://azelin.files.wordpress.com/2013/04/ustc481e1ba93-ae1b8a5mad-fc481rc5abq-22to-the-people-of-bangladesh-rebellion-against-allah-in-the-land-of-e1b8a5c481jjc4ab-sharc4abatallahe280a622-en.pdf
http://www.banglanews24.com/printpage/page/381657.html
https://www.facebook.com/dmp.dhaka/posts/513691795400717:0

অভিজিৎ হত্যাকান্ডে ‘আল কায়েদা’র দায়। পর্ব- ২

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “অভিজিৎ হত্যাকান্ডে ‘আল কায়েদা’র দায়

  1. তাদের কলম এবং জিহবা

    তাদের কলম এবং জিহবা মহানবী(সঃ) এবং শরিয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে।

    আল-কায়দার জনসমর্থনের পেছনে এটাই হচ্ছে মূল কারন। একজন মানুষ যত খুশী নাস্তিক-মুক্তমনা হোক, স্যেকুলার হোক – কোন সমস্যা নাই, কিন্তু যদি ইসলামের বিরুদ্ধে কলম,জিহবা আর কি-বোর্ড চালায় তাহলেই মুশকিল। এতে করে কেবল আল-কায়দার জনসমর্থনই বাড়ে। আল-কায়দার মত নেটওয়ার্কগুলোকে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন হয় সমর্থক আর কর্মির।
    বাংলাদেশে আল-কায়দা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়তে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোতে এদেশের নাস্তিক-স্যেকুলাররা ঠিক কোন পথে হাটবে তার উপর । দেখা যাক কি হয়।

    1. তাহলে স্বীকার করে নিলেন ইহাই
      তাহলে স্বীকার করে নিলেন ইহাই সহীহ ইসলাম। কলম-কিবোর্ড-জিহ্বার জবাব দেওয়া হবে চাপাতির মাধ্যমে। ইসলামের বারোটা সমালোচনাকারীদের বাজাতে হবে না, পক্ষকারীরাই যথেষ্ঠ।

    2. এজন্যই ইসলামকে বর্বরদের ধর্ম
      এজন্যই ইসলামকে বর্বরদের ধর্ম বলা হয় মিঃ হাবশী। এই ধরনের বর্বরতা বর্তমানে অন্য কোন ধর্মে নাই। কলমের জবাব হাতিয়ার দিয়ে দেওয়া হয়, কলম দিয়ে দিতে পারার অক্ষমতার কারণে। সত্যের যুক্তি পরাজিত হলে হানাহানিতে যাওয়া। ইসলামের প্রসারটা ঘটেছিল এপথেই। এই যুগে রক্তের হোলি খেলে ধর্মের প্রসার হওয়ার কল্পনা যারা করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

      1. এজন্যই ইসলামকে বর্বরদের ধর্ম

        এজন্যই ইসলামকে বর্বরদের ধর্ম বলা হয় মিঃ হাবশী।

        ভুল বলছেন- ইসলামকে বর্বরদের ধর্ম বলা হয় না। আপনার মতো দু-চারজন ইসলামবিদ্বেষীর কথায় ইসলাম যদি বর্বরদের ধর্ম হয়ে যায় তাহলে কোটি কোটি মানুষ যে ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকদের কুলাঙ্গার বলছে তার কী হবে?

        কলমের জবাব হাতিয়ার দিয়ে দেওয়া হয়, কলম দিয়ে দিতে পারার অক্ষমতার কারণে।

        যারা এটা করে তারা সংখ্যায় আপনাদের মতোই নগন্য। আপনার মতো দু’একজন ইসলামবিদ্বেষীর দায় যেমন সম্পূর্ণ নাস্তিককূল নিবে না, ঠিক তেমনই এই গুটিকয় উগ্রবাদীর দায়ভার ইসলাম নিবে না।

        সত্যের যুক্তি পরাজিত হলে হানাহানিতে যাওয়া। ইসলামের প্রসারটা ঘটেছিল এপথেই।

        আবারও ভুল বললেন। হানাহানি করে একটি জীবনব্যবস্থা খু্ব জোর চাপিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু সে জীবনব্যবস্থার জন্য জীবন-প্রাণ উৎসর্গকারী মানুষ তৈরি করা যায় না। হানাহানি করে ইসলামের প্রসার ঘটে নি। ইসলাম প্রসারিত হয়েছে তার স্বমহীমায়।

        এই যুগে রক্তের হোলি খেলে ধর্মের প্রসার হওয়ার কল্পনা যারা করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।

        একশ’ ভাগ সত্য কথা। ধন্যবাদ আপনাকে।

    3. বাংলাদেশে আল-কায়দা শক্তিশালী

      বাংলাদেশে আল-কায়দা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়তে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোতে এদেশের নাস্তিক-স্যেকুলাররা ঠিক কোন পথে হাটবে তার উপর । দেখা যাক কি হয়।

      আল কায়েদা যদি বাংলাদেশে ঘাটি গাড়তে চায় তাহলে ইসলামবিদ্বেষ ইস্যু ছাড়াও তা করতে পারে। তবে হ্যা, ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিকদের ক্রিয়াকলাপ তাদের অভিসন্ধী বাস্তবায়নের পথ কিছুটা সহজ করবে।

  2. আল কায়েদা বা আই এস এরা কেউ
    আল কায়েদা বা আই এস এরা কেউ বাঘ বা ভাল্লুক নয়। এরা মৌলবাদি এদের মাথার উপরও আছে আরো মাথা যারা আড়ালে থেকে কলকাঠি নাড়ায়। বাংলাদেশে জামাতবিএনপি থাকতে আলকায়েদার আদৌও কি কোন প্রয়োজন আছে। হুমায়ুন আজাদ স্যারকে বিএনপি খুব কৌশল করে বিদেশের মাটিতে হত্যা করে।তার অপরাধ তিনি পাক সার জমিন সাদবাদ নামে একটি বই লিখেছিলেন যেখানে শহীদ জিয়াকে তিনি উলঙ্গ করে ছেরেছিলেন।শিল্পসম্মত উপায়ে। যা আমার দ্বার কখনো সম্ভব নয়।২১ আগষ্টের ঘটনা ঘটায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়।কই আল কাযদার তো সেখানে কোন ভুমিকা ছিল না। বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটিয়ে কারা সুবিধা করায়াত্ব করতে চেয়েছিল সেটা বুদ্ধিমান মানুষ মাত্রই বুঝতে সক্ষম।যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে শেখানো হয় পেছন থেকে এক কোফে ধর অলাদা করে দিতে পারলে বেশী ছোয়াব হয় সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি বন্ধ করে দেয়াটাই উত্তম।

    ধর্মছেরেচি একাত্তরে
    ধর্ম মানিনা আর।

    1. আপনার সিগনেচারে লিখেছেন-
      আপনার সিগনেচারে লিখেছেন-

      ধর্মছেরেচি একাত্তরে
      ধর্ম মানিনা আর।

      হায়রে একাত্তর! ধর্মান্ধ শ্রেণিটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলেও পার পেয়ে যায় আপনার মতো কিছু শিখড়হীন মানুষের কারণে। শুধু একটি প্রশ্ন- সত্তরের নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ বলতো তারা ধর্ম ছেড়েছে বা ছাড়তে যাচ্ছে, ধর্মের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই কয়টা ভোট পেত?
      যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাদের যদি বলা হতো তোমরা যুদ্ধ করছ ধর্ম ছাড়ার জন্য। কয়জন যুদ্ধ করতেন?
      একাত্তর ছিল ন্যায়, সত্য, সাম্য প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে ধর্ম প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। সেটাকে কলঙ্কিত করার অধিকার আপনার নেই।

  3. বাহ!কি সুন্দর শুশীলতা দোচালেন
    বাহ!কি সুন্দর শুশীলতা দোচালেন হাবশী গোলাম ভাই!! তা ধর্মগুলোর ভিত এত নরম?যে দুই চাইর কথায় ভেঙে পড়ে?অভিজিৎ রায় তার কোন প্রবন্ধে গালি দিয়েছেন যে তাকে মরতে হল?জাফর ইকবাল তার কোন বইয়ে আল্লা-খোদাকে গালিগালাজ করেছেন যে তাকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি পেতে হয়?

    1. নাস্তিক (আপনার ভাষায়
      নাস্তিক (আপনার ভাষায় কুলাঙ্গার) দের যুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিযুক্তি উপস্থাপন না করে, তাদের ভুল-ভ্রান্তি ধরিয়ে না দিয়ে কথায় কথায় ধ্বংস কামনা করা ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শেষ নবীর অনুসারীরা আর যাই হোক কারও ধ্বংস কামনা করতে পারে না। নাস্তিকদের ফাসি চাই/ নাস্তিকদের ফাসি চায় এবং নাস্তিকরা ধ্বংস হোক- একই সুর, একই ভ্রান্তি। নাস্তিকরা কেন নাস্তিক তা তাদের লেখায় স্পষ্ট, তুমি কেন আস্তিক তা কিন্তু তোমার লেখায়, কথায়, কাজে স্পষ্ট নয়। নাস্তিকরা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলছে যুক্তি, প্রমাণ, তথ্য-উপাত্য, ধর্মীয় গ্রন্থাদি, ইতিহাস সবকিছু থেকে। আর তাদের ফাসি চাওয়া লোকগুলো তার বিরোধিতা করছে কোর’আন-হাদীস, ফিকাই, তাফসীর থেকে। দুর্ভাগ্য।

      1. ল্যামার্কের মতে, জিরাফগুলো এক

        ল্যামার্কের মতে, জিরাফগুলো এক ধরণের কৃষ্ণকায় হরিণ থেকে বিকশিত হয়েছিল । যখন হরিণগুলো উঁচু বৃক্ষের পাতা খাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করত, তখন তাদের ঘাড় একটু একটু করে প্রসারিত হয়ে এক প্রজন্ম হতে অন্য প্রজন্মে লম্বা হয়েছে । ডারউইন নিজেও একই ধরণের উদাহরণ দিয়েছেন ; দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি তার প্রজাতির উৎস বইটিতে বলেছেন যে খাবারের খোঁজে পানিতে নামতে গিয়ে কিছু ভালুক কালের পরিক্রমায় নিজেরাই তিমিতে রূপান্তরিত হয়েছিল ।

        যারা এই কৌতুক প্রমান যুক্তি নিয়ে নাস্তিক ঘোষণা দেয়। তাদের কে আর কি নিকৃষ্ট উপাধি দেয়া যায় তা আমার জানা নেই । যারা তায়েফের ময়দানে পাথর মেরে নবিজীকে রক্তাক্ত করে ছিল কিন্তু নবিজি এর সামান্য প্রতিবাদ টুকু করেনি । যা ইসলামের ইতিহাসের পাতায় পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছে আজো ।এত নমনীয়তার পরিচয় দেয়ার পরেও যে সব নাস্তিক কুলাঙ্গার (হ আমার ভাষায় ) সেই নবীজিকে বর্বর চরিত্রহীনা আরও অনেক বাজে মন্তব্য করে লেখা লেখি করে তাদের আপনি বুঝান । পচা ডিম আর পচা আমকে যত দ্রুত ঝুড়ি থেকে নর্দমায় ছুঁড়ে ফেলা যায় ততই সবার মঙ্গল ।

  4. একটা জঙ্গি সংগঠনের গঠন, কাজ
    একটা জঙ্গি সংগঠনের গঠন, কাজ আর ক্কমতা নিয়ে এমন পজিটিভ একটা লেখা পড়তে পারা বেশ দুর্লভ ব্যপার। আল কায়েদার মেসেজ বেশ ভালোভাবেই নব্যনাস্তিককুল পেয়ে যাবেন।

  5. আলকায়দার আর কাজ নেই না কি?
    আলকায়দার আর কাজ নেই না কি? আমাদেত কিছু উগ্রবাদী হত্যা করল আর তারা নাম নিল। বেশ ইন্টারেস্টিং

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − 21 =