বিএনপির মৃত্যু ও মোদির ঢাকা সফরে কি বার্তা আছে?

বিএনপির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বিএনপির যে রাজনীতি তার সম্ভাবনা বিপুলভাবে থাকলেও সেই রাজনীতিকে দাঁড় করিয়ে প্রচণ্ড প্রতাপশালী আওয়ামী লীগকে রুখে দেবার মত এই মুহুর্তে কোন রাজনৈতিক শক্তি নেই।

কিন্তু বিএনপি মরে গেলে জামাতের যে লাভ তা কিন্তু আ. লীগ ভাল করে জানে। আ. লীগ এটাই চায় যে বিএনপি মরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক। সেখানে জামাত চলে আসুক। আর মধ্যবিত্ত বাংলাদেশীরা হয় আ. লীগ অথবা জামাত বেঁছে নিতে বাধ্য হয়।
বিএনপি কেন মরে গেলো
বিএনপির রাজনীতিতে আদর্শ বলে একটা আছে তা হলো বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কী এটা বোঝাতে গিয়ে অনেক বেচান কথা বার্তা বলেছেন কিন্তু বাস্তবে এটার সারবস্তু আসলে কী তা পরিস্কার করে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তাহলে বিএনপির রাজনীতিতে আদর্শ কী? এই দলের আদর্শ হলো আ.লীগের বিরোধীতা করা। অর্থ্যাৎ আ. লীগ দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে। আ. লীগ উন্নয়ন বিরোধী এই ধরনের কিছু হাল্কা চালের দর্শন। তাহলে আ.লীগের রাজনীতি কী উচ্চ মার্গীয় কিছু? যার ফলে আ.লীগের বিরোধীতা করেই একটি দল তুমুল জনপ্রিয় বিরোধী বা প্রধান প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে বিকাশ ঘটতে পারে?
বিষয়টি মোটেও এরকম নয়। আ.লীগ একাত্তার নিয়ে একটি মিথের গ্রান্ড ন্যারোটিভ দাঁড় করিয়েছে। সেই মিথের গ্রান্ড ন্যারোটিভের সেই একাই সোল এজেন্ট। আর বিএনপি হলো এই ন্যারোটিভেরই আরেকটি ভার্সন।
অর্থ্যাৎ আ.লীগ যদি বলে জাতীর পিতা শেখ মুজিব। স্বাধীনতা যুদ্ধ তার নেতৃত্বে হয়েছে। তাহলে বিএনপি বলবে, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আ.লীগের চেয়ে বিএনপিতে মুক্তিযোদ্ধা বেশি।
আ.লীগ ও বিএনপির এই দাবি পরস্পর বিরোধী হলেও উভয়েরই দাবির মধ্যে কিছুটা সত্য বাকিটা মিথ্যা। সেই ব্যাখ্যা এই লেখাতে দিবো না। আ.লীগ ও বিএনপি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে পুরানকথার এক ফাপা বেলুন তৈরী করেছে তা ফুটো না করে দেশের ইতিহাস চর্চাই কেবল আগাবে না তয় নয় দেশের রাজনীতির কোন মৌলিক গুনগত পরিবর্তনও হবে না। তবে এ লেখার উদ্দেশ্য ইতিহাসকে পুরানকথার ফাপা বেলুন থেকে মুক্তি দেয়া নয়।
যেসব কারণে বিএনপি মারা গেলো তার মধ্যে
১. বিএনপি ভারত বিরোধীতা ও দেশপ্রেমিক দলের অভিনয় করে এতোদিন পার পার করেছে। সেই ভারত বিরোধীতার রাজনীতি বেগম জিয়ার ভারত সফরের মধ্যে শেষ হয়েছে। অর্থ্যাৎ জনগনের সামনে তার ভারত বিরোধী রাজনীতির কবর রচিত হয়ে যায়।
২. বিএনপি ভারত বিরোধী দল হিসেবে তার ইমেজ গড়ে উঠলেও দলটি যখন ক্ষমতায় থেকেছে তখন ভারতকে কম সুবিধা দেয়নি। শুধু প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে যে ৫ বছরের পানি চুক্তি করেছিলো সেটাই ছিলো ভারতের কাছ থেকে সম্মানজনক পানি প্রাপ্তি বা পানির হিস্যা পাওয়া। বাকি সময় ভারত বিরোধী মাঠের শ্লোগান দিলেও ভারতের শাসক শ্রেণির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ছিলো গভীর। কিন্তু ২০০১ সালে নির্বাচনে জয়ের পর বিএনপি মধ্যপন্থা থেকে অতি দক্ষিণে বা ইসলামী দলগুলোর দিকে ঝুকে পড়ে। এর ফলে দলটির সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর গভীর সম্পর্ক তৈরী হয়। বিশেষত দলটির তরুন নেতা তারেক রহমানের দুরদর্শীতার অভাব এক্ষেত্রে প্রকট ছিলো। এর ফলে বাংলাদেশের ভূ-খন্ড ব্যবহার করে ভারতের পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ভারতে পাঁচারকালে ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। এই অস্ত্র যাচ্ছিলো আইএসআই এর পাহারায় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফার কাছে। এভাবে বাংলাদেশের ভূমি ভারতকে বিচ্ছিন্নতার কাজে ব্যবহার করতে বিএনপির দেওয়া উচিত হয়নি।
৩. জামাতের সঙ্গে জোট গঠন। কোনভাবেই জামাতের সঙ্গে জোট বাঁধা উচিত হয়নি। এটা বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। জামাত বিএনপিকে দিয়ে তাদের অভিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো করেছে।

প্রকাশ্য বাংলা ভাই, তবু বেগম জিয়া বলেছেন এসব মিডিয়ার সৃষ্টি।

৪. বিএনপির নেতৃত্বে বরাবরই সাবেক চীনপন্থি বামেরা ছিলো দাপটে। কিন্তু ২০০১ এ ক্ষমতা গ্রহণের পর তারেক জিয়ার অনুগত কিছু বখাটে লোক সরকারের বিকল্প সরকার হাওয়া ভবন তৈরী করে। হাওয়া ভবন নির্ভর বিএনপির ও মাঠের বিএনপি দুটি পৃথক পরিস্থিতি রুপ নেয়। হাওয়া ভবনের প্যারালাল সরকারকে ঘিরে বিএনপির মৃত্যুর দিকে একুট একটু করে এগিয়েছে।
৫. ক্রসফায়ার শুরু হয় বিএনপির আমলে। যারা ক্রসফায়ারে নিহত হন এদের ৯৫ শতাংশ গোপন নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।
নওগাঁর রানীনগরে জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই এভাবেই গাছের সাথে ঝুলিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে আব্দুল কাইয়ুম বাদশাসহ অনেক নিরীহ লোককে।

এরকম সাড়ে তিন হাজার নেতা কর্মী নিহত হয়েছেন বিএনপির আমলের ক্রসফায়ারে। অথচ এসব দলের নেতারা চরম আ.লীগ বিরোধী হওয়ায় তারা বরাবরই ক্ষমতার রাজনীতিতে গ্রামগুলোতে আ.লীগের বিরুদ্ধে প্রবল আধিপাত্য বিস্তার করে রেখেছিলো। ফলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরের কিছু কিছু জেলাতে এরা ভোটের সময় আ.লীগের প্রার্থীকে হারানোর ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ক্রসফায়ারে এরা নিহত হওয়ায় গ্রামগুলো আ.লীগের জন্য স্বাধীন হয়ে যায়। এদের অনুপস্থিতি বর্তমানে যখন আ.লীগ প্রবল আধিপাত্য বিস্তার করছে দেশের সবগুলো প্রত্যান্ত অঞ্চলে তখন তাকে মোকাবেলা করার জন্য সেই পুরানো নিষিদ্ধ কমিউনিস্টগুলো অনেক আগে মরে ভুত হয়ে গেছে।
৬. বিএনপি কোনভাবেই মিডিয়াকে সামাল দিতে পারেনি। প্রথম আলো একাই বিএনপিকে বাংলাওয়াশ দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের আমলে ত্রিশের কাছাকাছি টিভির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু তাদের কথার বাইরে কিছুই চলছে না।
৭. যুদ্ধাপরাধের বিচার যে তরুন প্রজন্ম ভিষণভাবে চায় এটা অনুধাবন করতে পারেনি বিএনপি। এমন কী এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে তাদের বোঝজ্ঞান খুবই ভাসাভাসা।

৮. জঙ্গিবাদের উত্থান বিএনপি নিজেই ঘটিয়েছে। এটার পেছনে আইএসআই হাত রয়েছে। জঙ্গিবাদীরা ব্যাপক আকারে উত্থান ঘটিয়ে প্রথমে হত্যা করেছে গ্রামের বামপন্থিদের। জঙ্গিবাদীরা যখন প্রকাশ্য বাদশার মত মানুষদের পিটিয়ে হত্যা করে উল্টা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখছে তখন বেগম জিয়া বলছেন, ‘বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি।’
৯. প্রধান বিরোধী দল আ.লীগ ও শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা। বিরোধী দলকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করা যায় না। এতে বিরোধী দল তার নিরাপত্তার ব্যাপারে আরো সজাগ হয়ে যায়। বর্তমানে আ.লীগ ও তার দলীয় প্রধানের নিরাপত্তা সবার আগে তারা বিবেচনা করে থাকে। যা কার্যত সঠিক।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দিনে শেখ হাসিনাকে আকড়ে ধরেছেন দলের নেতা কর্মীরা। এই মমতা বেগম জিয়ার জন্য তার নেতা কর্মীদের নেই।

১০. হাওয়া ভবনের দুনীতি কল্পকথাকেও হার মানিয়েছে।
১১. বিদেশের ওপর অধিকমাত্রায় নির্ভরশীলতা বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে চেয়ে থাকা যে তারা সরকার পরিবর্তন করে দিবে।
১২. লাগাতার হরতাল অরোধ জ্বালাও পোড়ার রাজনৈতিক কর্মসূচী দেওয়া।


মার্কিনীরা সরে দাঁড়িয়েছে বিএনপির পেছন থেকে!

ঢাকায় মার্কিন এম্বেসেডার ড্যান মজিনাকে বলা হোত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেশ খানিকটা খোলামেলাভাবে বিএনপিকে সমর্থন করেছে। বহুল আলোচিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর মার্কিনীরা হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার ছিলো। এ সময় তারা দুই দলের মধ্যে সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে বার বার সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুই দলের মধ্যে সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে কিছু বলছে না। বরং তারা এ সময় হাসিনা সরকারের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে দৃড়প্রতিজ্ঞ এটা বলছে। এটার অর্থ হলো, বিএনপিরে পালে বাতাস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকায় মার্কিন এম্বেসি ও যুক্তরাষ্ট্র।
জঙ্গিবাদ তখন বেশি ভয়াবহ হয় বা পাকিস্তানের আকার পায় যখন রাষ্ট্র তার পৃষ্টপোশকতা করে। বিএনপির রাজনীতি এখানেই মরে গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়ায় সব থেকে ঘনিস্ট মিত্র ভারত। যতক্ষণ পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের ব্যাপারে তাদের নীতির কোন মৌলিক পরিবর্তন না আনছে ততক্ষণ পর্যন্ত এককভাবে বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হলো গোটা দক্ষিণ এশিয়ার আগুনে ঝাপ দেওয়া। এই মূহুর্তে মার্কিনীদের এরকম কোন পরিকল্পনা নেই। আর খবর নিশ্চয় বিএনপির জন্য আরো বড় দুঃখের খবর নিঃসন্দেহে।
মোদী কী ত্রাতা হয়ে আসবেন?
এটা নিশ্চয় সবার মনে আছে ভারতের জাতীয় নির্বাচনে চরম প্রতিক্রিয়াশীল দক্ষিণপন্থি দল বিজিপি যখন জয় পায় তখন বাংলাদেশে বিএনপি জামাত শিবিরে রিতিমত মিস্টি বিতরণ করে উল্লাস করতে দেখা গেছে। একটি দল ও তার অনুসারিরা রাজনৈতিকভাবে কতটা দেওলিয়াত্ব গ্রহণ করলে কেবল এটা করতে পারে। ভা

রতে বিজিপির জয় যেনো বাংলাদেশে বিএনপি জামাতের জয়। তারা ভেবেছিলো বিজিপি জয় পেলে বাংলাদেশ সম্পর্কে মৌলিক নীতি পরিবর্তন করবেন ভারত। সেক্ষেত্রে আ.লীগের ক্ষমতায় ঠিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। অথচ ১০ ট্টাক অস্ত্র ভারতে পাঠানো হচ্ছিলো বিএনপি জামাতের আমলে এ তথ্যগুলো বিএনপির সমর্থকেরা ভুলে যেতে চেয়েছিলো দুঃস্বপ্নের মত। তবে বাস্তবতা হলো, ভারতের পররাষ্ট্র নীতি হলো তাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ বিবেচনা করেই করা হয়। সে বিবেচনায় আ.লীগ এখন পর্যন্ত ভারতকে সেই সার্ভিস দিয়ে যেতে পারছে।

একের পর এক উলফা নেতারা আ.লীগের আমলেই ধরা পড়েছে এবং ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা তাঁর দিল্লি সফরে বলেছিলেন বাংলাদেশের মাটি কোন দেশে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি এ কথা রেখেছেন।
তাহলে কেন নতুন করে বিএনপির পাশে দাঁড়াবে ভারত? তারপরও বিএনপির বন্ধুরা ভাবছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির বাংলাদেশ সফরে তাদের জন্যও কিছু সুখবর থাকবে। এ সুখবর হোল আ.লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে রাজি করানো একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে। যদি তাতে আ.লীগ রাজিও হয় তবুও বিএনপির জন্য ক্ষমতা দিল্লী থেকে দুরে। কারণ ইতোমধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জেল হয়ে গেছে। তিনি আইনের চোখে পলাতক। ধরে নেওয়া যায় বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে অরফানেজ ট্রাস্টের মামলায় জেল হয়ে যাবে। কারণ মামলার আলামত ও স্বাক্ষী তাঁর বিরুদ্ধে গেছে। তাহলে বিএনপি কী বেগম জিয়া ও তারেককে বাইরে রেখে নির্বাচন করবে? এই পরিস্থিতি তৈরী হলে বিএনপির একাংশ বলবে নির্বাচনে যাবো না অন্য অংশ বলবে নির্বাচনে যাবো।
এই দ্বিধাবিভক্ত পরিস্থিতি আ.লীগের জন্য আবার ক্ষমতায় আসাটা সহজ করে দিবে।
তাছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা সত্য যে জনগণ শুধু ভোট দিলেই হয় না বরং সেই ভোট গুনে আনার ক্ষমতাও থাকতে হয়। বিএনপির পরিস্থিতি এখন এতোটাই খারাপ যে তাকে যদি জনগণ ভোটও দেয় তাহলে তা গুনে আনা মানে ভোটকে রক্ষা করার মত ক্ষমতাও নেই। ফলে আগামি মধ্যবর্তী নির্বাচন যদি মোদিজির চাপে দেওয়া হয় তবুও বিএনপির কোন চান্স নেই ক্ষমতায় আসার। বরং তারা নিশ্চিহ্ন হতে হতে মুসলিম লীগে পরিণত হবে। আর তাদের স্থান দখল করবে নাম পাল্টে আসা জামাত। সেক্ষেত্রে সেক্যুলার মধ্যবিত্তের আ.লীগকে সমর্থন করা ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না।

বড় বিপদে বাংলাদেশ
শেখ হাসিনা বা বেগম জিয়া বাংলাদেশের বিপদ নয়। তবে তারা বিপদ সম্পর্কে জানেন যেহেতু সে কারণে বিপদ মোকাবেলা করতে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারার কারণে এর দায় তাদেরও আছে। বাংলাদেশের বড় বিপদ আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ। জামাত হেফাজত যা দেখেছে দেশের মানুষ এগুলো হলো বিজ্ঞাপন। মূল খেলা এখনো শুরুই হয়নি। সম্ভবত অভিজিতকে হত্যার মধ্য দিয়ে মূল বিপদের প্রথম রাউন্ড একটি লো ইন্টিসিফাই ওয়ার দিয়ে তারা শুরু করলো।
‘আনসারুল্লা বাংলা টিম’ আল কায়েদার স্থানীয় এজন্টে হিসেবে কাজ করছে অনেকদিন। বাংলাদেশ থেকে শুধু আনসারুল্লা বাংলা টিমই নয় অনেক ইসলামি সংগঠনই আল কায়েদার সাথে যোগাযোগ করেছে তাদের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য এটা অনুমান করা যায়। কারণ হলো, আল কায়েদা বা আইসিস হলো ইসলামী বিপ্লবের ফোবিয়াতে যারা ভুগছেন তাদের জন্য বড় পাওয়া।

বাংলাদেশে কোন ইসলামি সংগঠন যদি আল কায়েদার স্বীকৃতি পায় তাহলে রাতারাতি তার কর্মী কয়েকগুন হয়ে যাবে। কারণ এটা বাংলাদেশে বাস্তবতা তৈরী হয়েছে যে আল কায়েদাতে বাংলাদেশের বহু মানুষ যোগ দিতে চায়। অভিজিতের হত্যার দায় স্বীকার করে নেওয়ার পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম আরো সংহতভাবে ব্যাপক আকারে কর্মী সংগ্রহ করতে পারবে। যদি আন্তর্জাতিক এই সন্ত্রাসবাদের নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের জনগোষ্ট্রি এভাবে সম্পৃক্ত হয়ে যায় তবে সেই বিপদ থেকে বাংলাদেশকে কে বাঁচাবে? মাটি লগ্ন ইসলাম? নাকি পশ্চিমা পুঁজিবাদ সেই তর্ক আমরা করতেই পারি তবে সতর্ক পাহারায় মার্কিনীদের রাখা আমাদের কর্তব্য। সে আপনি আ.লীগ বিএনপি বা বাম ডান যাই হোন না কেন?


আল কায়েদের হুমকি অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিবে বাংলাদেশকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “বিএনপির মৃত্যু ও মোদির ঢাকা সফরে কি বার্তা আছে?

  1. বিএনপি’র মৃত্যু সরকারকে আরো
    বিএনপি’র মৃত্যু সরকারকে আরো বেশি একনায়কতান্ত্রিক করে তুলবে। তবে এটার জন্য আওয়ামীলীগের চেয়ে বিএনপি বেশি দায়ী। বিএনপি’র মৌলবাদী তোষন তাদের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে একই অবস্থা আওয়ামীলীগেরও হবে।

    1. বিএনপি মরে গেলেও তার যে
      বিএনপি মরে গেলেও তার যে রাজনীতি সেটা বাংলাদেশে আছে। সেটা হলো এন্টি আ.লীগ রাজনীতি। যদি সেটা জামাত কব্জা করে তাহলে কিন্তু খবর আছে।
      বিএনপিকে মৃতসঞ্ছিবনী সুধা কে পান করাবে?
      তারেক রহমান রাজনীতির ময়দানে থাকবেন এটা সত্য কিন্তু তার চারপাশের লোকজননের মাথায় হাওয়া ছাড়া কিছু আছে বলে মনে হয় না।

      1. তারেক রাজনীতিতে অপাংতেয় হয়ে
        তারেক রাজনীতিতে অপাংতেয় হয়ে গেছেন বলে মনে করি। এরা তখনই মানুষের সহানুভুতি আদায় করতে পারবে, যখন কাজে ও কর্মে জামায়াত ও এ ধরনের রাজনীতিকে গুডবাই বলবে। এটা তারেক বা বর্তমান বিএনপি’র পক্ষে সম্ভব না। তাই, বিএনপিকে গুডবাই বলতেই হবে।

        1. তারেক রহমান বিএনপির ভরসা।
          তারেক রহমান বিএনপির ভরসা। তারক রহমানই বিএনপিকে পারে মৃতসঞ্জীবনী পান করিয়ে পাতালপুরি থেকে ফিরিয়ে আনতে। বিএনপিতে বেগম জিয়ার পরই তার রয়েছে সারা দেশের বিএনপির নেতা কর্মীর উপর মনস্তাত্বিক আধিপাত্য বা নেতৃত্ব।
          সেক্ষেত্রে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যেসব ভুল হয়েছে তার একটি আত্মসমালোচনা দরকার। আশ পাশ থেকে চিহ্নিত লুটেরাদেরও সরাতে হবে।

  2. ভালোইতো লিখলেন কিন্তু এমন
    ভালোইতো লিখলেন কিন্তু এমন হঠাৎ করে শেষ করে দিলেন কেন? আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ যদি মূল সমস্যা হয় তবে তার সমাধান কি? কিভাবে তা রোখা যায় এ সংক্রান্ত নির্দেশনাও আশা করেছিলাম। যাইহোক, ভালো লেখা। ভাবার আছে অনেক কিছু।

  3. এটাকে বলে দুরদশিতার অভাব।
    এটাকে বলে দুরদশিতার অভাব। বিএনপি বাংলাদেশে কখনো মরবে না। মরতে পারে না। এন্টি আওয়মি গ্রপটাকে এত ছোট করে কেন দেখলে তার কোন সঠিক কারণ খুজে পেলাম না।বাঙ্গালী সংকর জাতী এদের মন মেজাজের প্রতি তোমার কোন ধারনাই নেই।এই্ তিন বছর বিএনপি সুস্থ্য ধারার রাজনীতি করলে পাশা উল্টাতে খুব একটা দেরী হবে না।বাঙ্গালী গাদ্দার জাতী।

  4. শেখ হাসিনা যে পথে হাঁটছেন তার
    শেখ হাসিনা যে পথে হাঁটছেন তার পরিনতির ভাল মন্দ দুই রকমেরি উদাহারন পৃথিবীতে আছে।এখন দেখার বিষয় উনার কপালে কোন পরিনতি আছে।আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশের জন্য আগামির হুমকি,কোন সন্দেহ নাই কিন্তু খুব নিকটে যে সমস্যা বাংলাদেশ তথা আওয়ামীলীগের জন্য অপেক্ষা করছে তা হল আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দল।এরা যখন দেখবে মাঠে আর কেউ নাই তখন এদের কে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা শেখ হাসিনার থাকতে হবে,না হলে জাস্ট খবর আছে !!!

  5. হাসিনা এখন ঠিক যেমনটা চাইছে
    হাসিনা এখন ঠিক যেমনটা চাইছে তেমনই ঘটছে সবকিছু। হাসিনা একটা অলঙ্ঘনীয় জায়গায় চলে গেছে। বিরোধী পক্ষগুলোর কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসছে না। এ অবস্থায় আবার তীব্র হচ্ছে রাষ্ট্রের পুলিশিকরণ। এর মধ্যে হাসিনা নিশ্চয়ই খালেদাকে বিচারের মঞ্চে তুলবে ও জেলে বন্দি করবে। আমার মনে হয়, হাসিনা এই পথ ধরেই এগোবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

67 − = 61