বার বার হারা যাবে না এবার পাল্টা প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিতে হবে বামপন্ধিদের

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি পুলিশ মতিউল কাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছিল। তাদের অপরাধ ছাত্র ইউনিয়নের একটি মিছিলে তারা অংশ নিয়েছিল। আর ছাত্র ইউনিয়ন ভিয়েতনাম যুদ্ধে

মার্কিনীদের বর্বোরিচত হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশে মার্কিন তথ্যকেন্দ্র ঘেরাও করতে গিয়েছিল। মতিউল কাদের নিহতের বামদের আপোষকামিতা ও ভুল কর্মসূচীর দেশব্যাপী যে গণঅভ্যুত্থান পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল তাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিপ্লব কর্মসূচী পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেনি। সেই ভুল নিয়শ্চয় আজকের ছাত্র ইউনিয়ন করবে না।
এর আগে একটি ব্লগে ‘ছাত্র ইউনিয়ন লড়াই করবে নাকি পুরানো আপোস’ এই শিরোনামে লিখেছিলাম।

আ.লীগ কী চায়?
আ.লীগের চাওয়া সহজ। তারা চায় আজীবন ক্ষমতায় থাকতে। এখন আজীবন ক্ষমতায় থাকতে সব স্বৈরাচার সরকার যা করে আ.লীগও তাই করেছে। ৫ জানুয়ারির মত একতরফা কলঙ্কজনক নির্বাচন করেছে। অথচ আ.লীগ বলেছে, নির্বাচনে যদি বিএনপিসহ অন্যরা না আসে তাহলে তারা কী করবে। নির্বাচন আ.লীগের অধিনে বা দলীয় সরকারের অধিনে স্বচ্চ নিরপেক্ষ হোত।

এরপর ২৮ এপ্রিল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব দল অংশ গ্রহণ করলো। দিনে দুপরে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে সিটি নির্বাচন জয় নিলো আ.লীগ। বিএনপিই শুধু বর্জন করেনি এ নির্বাচন। বামদের তিন মেয়র ও তাদের কাউন্সিলার প্রার্থীরাও নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। আ.লীগ প্রমাণ করলো যে, তাদের অধিনে নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না। আর তারা যেহেতু ক্ষমতায় মেরে কেটে হলেও থাকবে এ কারণে তারা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করবে না, নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনেও নির্বাচন দিবে না।

উন্নয়ন আগে না কী গণতন্ত্র?

আ.লীগের একজন সংসদ আছেন নাম আবদুল লতিফ, চট্টগ্রামের এমপি। এই এমপির একটি ব্যানার ও পোস্টার ঢাকায় অনেকে দেখেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘উন্নয়ন না গণতন্ত্র আগে, উন্নয়ন আগে।’ এর অর্থ হলো দেশে গণতন্ত্র নাই এটা দেশের সরকারি দলের এমপিও স্বীকার করেন। আর আমি বলি সবার আগে দরকার গণতন্ত্র।

নির্মলেুন্দু গুনের একটি কবিতা আছে সেখানে তিনি ভাতের আগে সমাজতন্ত্র চেয়েছেন। অতি খাটি কথা। আর আমি বলছি, উন্নয়নের আগে দরকার গণতন্ত্র।

গণতন্ত্র দরকার, হাসান আজিজুল হকের পাতালে হাসপাতালে গল্পের মত এখনি দরকার, এই মুহুর্তে দরকার।

উন্নয়ন না হলে আমাদের ভোগের মাত্রাগুলো সীমিত হয়ে যায়। বেচে থাকার উপকরণগুলো পাওয়া কঠিন হয়ে যায, জীবন সহজ থাকে না, বেকারত্ব দারিদ্র দুর হয় না-সবই সত্যিই। কিন্ত গণতন্ত্র না থাকলে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি এম এল লাল পতাকার ডা: মিজানুর রহমান টুটুলকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা যায়, গণতন্ত্র না থাকলে মানুষ যত্রতত্র গুম নিখোজ হতে পারেন। এখন প্রশ্ন হলো বেচে থাকা আগে নাকি উন্নয়ন আগে। নিশ্চয়ই সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন, উন্নয়নতো মানুষের জন্যই। যদি বেচেই না থাকি তাহলে সেই উন্নয়ন দিয়ে আমি কী করিবো?

পাল্টা আঘাতেই বিপ্লব হয়
‘বিপ্লবের অপর নাম সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’ এই শ্লোগান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের ৮ বছরে প্রতিদিন শুনতাম। কিন্তু যখনই কোন আন্দোলন সংগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হোত বামপন্থিরা তার নেতৃত্ব দিতো ঠিকই কিন্তু বিপ্লব করতে হলে যে শক্তি সঞ্চয় করে শাসকশ্রেণীকে আঘাত করতে হয় তা কখনোই করতে পারতো না। এমন কী সাহসও দেখাতো না।
?oh=76740fe0321ea4066643547d60fef076&oe=55D37CED” width=”400″ />
এই ইট একদিন হয়ে উঠবে কালাশ নিকভ ৪৭।

একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। ২০০৫ সালে হ্যাপি নামের ঢাবির একজন শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহত হন শাহবাগে। সড়কে ওভারপাস করার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে বেধড়ক পিটুনি খেলাম আমরা। রাতে ঠিক করা হলো, আগামিকাল ছাত্রদল ও পুলিশকে আমরা পাল্টা মার দিবো। মাইর দেওয়ার সরঞ্জম আনা হোল। রাতে

রাজু ভাস্কয্যের সামনে দাড়িয়ে রক্তের শপথ নেওয়া হোল। জীবন যাবে তবু লড়াই থেকে সরবো না। সেখানে আমার মত সংগঠন ছাড়া সংগঠন করা কমরেডও ছিলেন। তারা সবাই এখন কোথাও না কোথাও চাকরি করছেন। একজন শুধু সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। সেই নিহত হলে মলয়। মলয় ছিলো ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী। নেতা না বলে ওকে আমার কর্মী মনে হয়েছে। মলয়ের মত কর্মী থাকলে বিপ্লব আজই এখনি করা যায়।

পরের দিন ছাত্রদল ব্যাপক হামলা করলো। তখন ডেইলিস্টারে একটা লিড ছবি ছাপা হয়েছিল। চারুকলার সামনে আবু রাইহান ভাই (ফ্রন্ট করতেন) কে ব্যাপক পিটাচ্ছে ছাত্রদলের গুণ্ডারা। চারুকলায় তখন কম করে হলেও হাজার খানিক আন্দোলনকারী। অথচ দেখা গেলো ছাত্রদল সশস্ত্র। আর আমরা যারা আগের রাতে মাইর দেওয়ার সারঞ্জম এনে রেখেছিলাম পাল্টা প্রতিরোধের জন্য সেই সরঞ্জম আর সময় মত চারুকলায় পৌছায়নি।

কিন্তু ছাত্র ইউনিয়নের ডিএমপি কমিশনের কার্যালয় ঘেরাও করতে যাওয়া কমরেডদের চোখ মুখ আত্মবিশ্বাস দেখে আমার মনে হয়েছে, এরা পাল্টা আঘাত দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাস্তবের ময়দানে হয়তো সশস্ত্র সংগ্রামের গেরিলা ট্রেনিং নিচ্ছে না, কিন্তু অন্তর দিয়ে তারা সংগ্রামকে ধারণ করছে। পুলিশের সামনে থেকে আহত কমরেডদের ছো মেরে নিয়ে আসছে। নিজের গা পেতে দিচ্ছে অন্য কমরেডেদের মার বাচানোর জন্য। পুলিশের রায়ট কার ভেঙ্গে দেওয়ার প্রত্যায় নিয়ে ঢিল ছুড়ছে।
?oh=cadd276ae2ed724c447a50635e0acd8d&oe=55D461B0&__gda__=1439837653_a967fb6bf282a3f4a1d8ce80618f9379″ width=”400″ />

যেসব বুরবক ঢিলে ছোড়ার কারণে নারী কমরেডটিকে আহত করার পক্ষে সাফাই গাইছে তারা সরকারের লোক। এরা স্পষ্টই বিরোধী পক্ষ। বিরোধী পক্ষের সাথে আমাদের জবাব হবে ইটের মত টুকরা দিয়ে আঘাত করে। এই ইট যখন বন্দুকের নল হয়ে যাবে তখনই কেবল বুরবকগুলো তাদের হলুদ দোতো শুয়োর হাসি বন্ধ করবে।

অভিন্দন কমরেড
এখন আপনাদের সামনে অনেক কাজ। দেশের গণতন্ত্র আনা সবার আগে কাজ। গণতন্ত্র না আসলে পহেলা বৈশাখে নারী নির্যাতন ঘটবে। মানুষ গুম হবে নিহত নিখোজ হবে। নারী নিপিড়নের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন আপনারা শুরু করেছেন তা আরো বৈচিত্রময় কর্মসূচী ও আন্দোলনের মধ্যে তার বিকাশ ঘটবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই বিশ্বাসটাই অর্থ্যাৎ বিপ্লব যে হবেই তা সবার মধ্যে যদি ছড়িয়ে দিতে পারেন শাসকশ্রেণী ও তার ভাড়াটিয়া পুলিশ পালানোর পথ খুজে পাবে না।
আপনাদের যেভাবে পিটিয়েছে, নিগ্রহ করেছে তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। বাংলাদেশের মানুষ দেশের শাসকশ্রেণির সব নির্যাতন শোসনেরই হিসেব রেখেছে। শুধু বিপ্লবীদের শূণ্যতার কারণে তারা একবার বিএনপি আরেকবার আ.লীগ এভাবে জীবন পার করে দিলো।

আজ আমরা কোন পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগ বা তাকে বরখাস্তের দাবি জানাবো না। আজ আমরা রাষ্ট্রটিকে বরখাস্ত করার আহবান জানাবো জনগনের কাছে। কারণ এটি একটি নিপিড়ক ব্যবস্থা। যতদিন এই আ.লীগ বিএনপি মার্কা শাসন থাকবে ততদিন এ দেশে নারী নিরাপদ নয়, কারখানায় শ্রমিক নিরাপদ নয়, খেতে কৃষক নিরাপদ নয়।


মনে করুন ফিলিস্তিনের ইনতেফাদার কথা, মনে করুন চিলির পিনাচোট বিরোধী আন্দোলনের কথা, মনে করুন তাহরির স্কয়ারের কথা, ফিদেল চে, কলম্বিয়ার কোন গেরিলার কথা। কী নির্মমভাবে দিনের পর দিন তারা বিপ্লবের স্বপ্ন বুনে গেছে।

বর্ষবরণের নারি লাঞ্ছনার দায় মৌলবাদিদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিরাপদে সরকার পান চিবুচ্ছে আর জনগণ মিডিয়ার বদৌলতে তা মেনে নিয়েছে।

চেতনা ব্যবসা বন্ধ করুন, নিপিড়কের শাস্তি দিন
এই সরকার চেতনাধারী। তার কিছু বুদ্ধিজীবী আছেন তারা সেই চেতনা অবিশ্রান্তভাবে প্রতিদিন পত্রিকার সাথে, টিভির সাথে, ফেসবুকে এমন কী পারলে ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে গেলাসে ঢেলে পান করায়। এর দুটি দিক, একদিকে আ.লীগ মানে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি অন্যদিকে জামাত। এর মাঝে যদি আপনি হন তাইলে নির্ঘাত হরিদাস পাল। আপনার কোন বক্তব্য থাকতে পারে না।

এই আপনাদের চেতনা। আপনাদেরকে আমরা চিনি। পাল্টা আঘাতেই কেবল চেতনার দোকান পাট বন্ধ হবে।

কিন্তু বামপন্থিরা, মাত্র গুটিকয় বামপন্থিরাই পার্থক্য করে দিয়েছে টিএসসিতে নারী নিপিড়নের ঘটনায়। তারা সমাজের মধ্যবিত্ত এলিটদের ধাক্কা দিয়েছে। তাদের মনোজগতে যে আ.লীগের প্রতি যে বাল্য প্রেমের রসায়ন তা তিতা করে দিয়েছে। এখন দরকার সমাজের ব্যাপক খেটে খাওয়া মানুয়ের শাসকশ্রেণির প্রতি যে ঘৃণা তাকে ঐক্যবদ্ধ করা ।
সরকারের পোষা মাস্তান পুলিশি আক্রমন নিয়ে কিছু বলতে চাই না। ডেইলিস্টারের একটা ভিডিও থেকে দেখেন
https://www.youtube.com/watch?v=YWQq-EfBJSo

বামদের এই আন্দোলন থেকে কোনভাবেই সরে আসা যাবে না। আরো বৃহত্তর জঙ্গি কর্মসূচীর কথা ভাবতে হবে। মানব বন্ধনের দিন শেষ। লাঠি গুলি টিয়ার গ্যাস জবাব দিবে বাংলাদেশ।
ছাত্র ইউনিযনকে আরো বৃহত্তর বাম ছাত্র ঐক্যের দিকে যেতে হবে। শাসকশ্রেনির সাথে যেসব বামদের ঐক্য রয়েছে তাদের বাদ দিয়ে বাকিদের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। আর শাসকদের সাথে থাকা লেজুড় বামদের চিহ্নিত করতে হবে জনগনের বেঈমান শত্রু হিসেবে।
বিজয় আসন্ন, বিজয় অনির্বার্য।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “বার বার হারা যাবে না এবার পাল্টা প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিতে হবে বামপন্ধিদের

    1. @ আরিফুজ্জামান তুহিনঃ
      আপনারা

      @ আরিফুজ্জামান তুহিনঃ

      আপনারা শেষ আওয়ামী-বিরোধী লেখাটি লিখে দিন আরিফুজ্জামান তুহিন,
      আর হয়তো এই সুযোগ আপনি নাও পেতে পারেন
      দেশে জেঁকে বসেছে ২১, ৪১, বা ৭৫ বছরব্যাপী সুতীব্র অন্ধকার !
      দেশে থাকবেনা কোন আলো,
      থাকবে শুধুই অন্ধকার,
      অথবা জ্বলবে শুধুই আগুন !

    2. বিজয় আসন্ন, বিজয় অনির্বার্য।

      বিজয় আসন্ন, বিজয় অনির্বার্য।

      আওয়ামী লীগকে মন্দের ভালো হিসেবে মনে করলে, বা অসাম্প্রদায়িক শক্তি মনে করলে বিজয় ২১, ৪১ বা ৭৫ বছরেও সম্ভব হবেনা ! এই ভুলটা আপনারা বামরা বারবার করেন। আপনারা আওয়ামী-মরষকামিতায় আক্রান্ত! এ থেকে বেরিয়ে আসলেই কিছু একটা হওয়া সম্ভব !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 + = 56