নাস্তিক হত্যায় আওয়ামী লীগের দায়

রাজীব হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশের নাস্তিক ব্লগারদের লেখার বিভিন্ন অংশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছাপিয়ে নাস্তিকদের ডেমোনাইজেশন এবং ডি-হিউমেনাইজেশনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছিল বেশকিছু দৈনিক পত্রিকা। রাজীব যখন খুন হয়, তখন শাহবাগ আন্দোলন তুঙ্গে। শাহবাগে মোমবাতি জ্বালানো হলে শেখ হাসিনাও জ্বালান। তিনি তখন শাহবাগে ছুটে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। রাজীব হত্যাকান্ডের পর তিনি ছুটে গেলেন রাজীবের বাসায়। কিন্তু মিডিয়াগুলিতে রাজীবের লেখা যখন একের পর প্রকাশিত হলো, হেফাজতে ইসলামের যখন আবির্ভাব ঘটলো তখন পরিস্থিতি গেলো পালটে। ঐ সময় শফি হুজুর নাস্তিক বিরোধী ফতোয়া দিচ্ছেন, খালেদা জিয়া নাস্তিকতার সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, ফরহাদ মজহার নাস্তিক শব্দের অর্থ বিস্তৃত করে গরম গরম নাস্তিক বিরোধী বক্তৃতা দিচ্ছেন। ব্লগার, নাস্তিক ও শাহবাগী এইসব শব্দ তখন একে অপরের প্রতিশব্দে পরিণত হয়ে গেলো। বিএনপি-জামাত-হেফাজতপন্থীরা তখন আওয়ামী লীগকেও নাস্তিক ট্যাগ প্রায় দিয়েই দিয়েছিল। শফি হুজুর তো ঘোষনাই দিলেন যে, হেফাজতের লংমার্চে বাধা দিলে সরকার নাস্তিক হয়ে যাবে। একজন নাস্তিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদের ফাঁসির দাবিতে হেফাজত আন্দোলন করছে। এখন সেই আন্দোলনে বাধা দিলেই নাস্তিক হতে হবে। পরিস্থিতি এমন হয়ে গেলো যে কেউ নাস্তিকদের মানবাধিকারের পক্ষে কিছু বললে অথবা নাস্তিক হত্যার বিচার চাইলে অথবা নাস্তিকদের ফাঁসির দাবির আন্দোলনে বাধা দিলেও নাস্তিক হতে হবে। নাস্তিকদের বানিয়ে দেয়া হলো জীবের অধম, যাদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই, যাদের হত্যা করতে হবে।

হেফাজতে ইসলামের আওয়ামী ভার্সনটিও সেই সময় মাঠে নেমেছিল ওলামা লীগের ব্যানারে। সরকারের হাতে যে ৮৪ নাস্তিকের লিস্ট তুলে দেয়া হয়েছিল তার একাংশ তৈরি করেছিল রাজারবাগী আলেম আল্লামা মোহাম্মদ মাহবুব আলম আরিফ, বাকি অংশ না কি সরকার আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিল। আল ইহসানের সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফ এবং রাজারবাগীরা অনেকদিন যাবৎ ওলামা লীগের ব্যানারে রাজনীতির মাঠে আছেন। তিনি এই লিস্টটি জমা দিয়েছিলেন মহানবীর অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগার চিহ্নিত করার জন্যে গঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের একটি কমিটির কাছে। এই কমিটি এমন একটি কমিটি যারা নাস্তিকদেরকে তওবা পড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিল আলেমদের সাথে এক বৈঠকে। নাস্তিকদের স্কেপগোট বানিয়ে আওয়ামী লীগ তখন নিজেদের ক্ষমতা সংহত করেছে। ৫৭ ধারা পাস করেছে। নাস্তিক ব্লগার গ্রেফতার করেছে। আর ঐ যে একজন নাস্তিক রাজীব, যাকে হত্যা করা হয়েছিল তার কি হলো? তার হত্যাকান্ডের দায় ততোদিনে তার উপরই চাপানো হয়ে গেছে। নাস্তিক হত্যার জন্যে দায়ি হলো নাস্তিক, এই ধারণাটি ততোদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। নাস্তিক হলো জীবের অধম, তার বেঁচে থাকার অধিকার নাই, খুন হলে বিচার পাওয়ার নাই, এই সকল ধারণা ততোদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠিত করেছে জামায়াত, বিএনপি, হেফাজত এবং আওয়ামী লীগ।

নাস্তিক হত্যায় আওয়ামী লীগের দায় তাই কম না। নাস্তিক হত্যায় উস্কানি দিয়ে, নাস্তিকদের ডিমোনাইজেশন কিংবা ডিহিউমিনাইজেশন করে কিংবা তাদের লিস্টি বানিয়ে যে অপরাধ করেছে জসিম উদ্দীন রহমানী, একি রকম অপরাধ করেছে আল্লামা মাহবুব আলম আরিফ। জসিম উদ্দীন রহমানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওলামা লীগ নেতা মাহবুব আলম আরিফ তো বহাল তবিয়তে আছে। একপাক্ষিক নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করে রাখা আওয়ামী লীগ মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক এবং নাস্তিকবিদ্বেষীদের মন জুগিয়েই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় তা তারা অনেক আগেই পরিস্কার বুঝিয়ে দিয়েছে। নাস্তিকদের তাই তারা ফেলে দিয়েছে খরচের খাতায়। রাজীবের খুনিরাও তাই জামিন পায়, বিদেশে পালিয়ে যায়। রাজীব হত্যাকান্ডের পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এর খবর বেড়িয়ে আসলো। গত দুই বছরে তারা আল কায়েদার স্থানীয় প্রতিনিধীতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ জঙ্গীবাদ দমনের বদলে জঙ্গীবাদের ব্র্যান্ডিং এবং জঙ্গিবাদের বিস্তারেই বর্তমান সরকারের সাফল্য বেশি। অথচ ওয়ার অন টেরোরের স্থানীয় বরকন্দাজের ভুমিকা গ্রহণ করেছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপি সরকারের আমলে জঙ্গীবাদের বিস্তার লাভ করেছিল বলে প্রায়ই আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে থাকে। অভিযোগ মিথ্যা নয়, কিন্তু জঙ্গীবাদ দমনে সেই সরকারের সাফল্য এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের চাইতে বেশি। জেএমবির শির্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল বিএনপির আমলেই। জেএমবি নেতাদের অধিকাংশের বিচার করে ফাঁসিতে ঝোলাতে এক বছরের বেশি সময় লাগে নাই প্রশাসনের। অথচ গত দুই বছর ধরে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-সম্বন্ধে নিত্য নতুন আপডেট দেয়া ছাড়া সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন কোন কাজ আমরা দেখি নাই। পলাতক রানা পলাতকই আছে, পুলিশের বরাতেই আমরা জানি রাজীবকে হত্যা করেও সে দুই বছর বাংলাদেশেই ছিল, এবং অভিজিৎকে হত্যা করার পনের দিন পর বাংলাদেশ ছেড়েছে। কিছুদিন আগে প্রকাশিত এক খবরে জানা গেলো আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-এর সাতজন নেতা কর্মী জামিনে আছে। এই সাতজনের মধ্যে তিনজন এফবিআই-এর লিস্টভুক্ত ২০১০ সাল থেকে। ইয়েমেনে আল কায়েদা বিরোধী অভিযানে এরা গ্রেফতারও হয়েছিল এবং পরে এদেরকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাজীব হত্যাকান্ডের পর আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযানে এদের গ্রেফতার করা হলেও ২০১৪ সালের শেষদিকে এদেরকে জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়। এসব খবর আমরা জানতে পারি ২০১৫ সালের শুরুতে অভিজিৎ হত্যাকান্ডের পর।

যদি রাজীব হত্যাকান্ডের বিচার হতো, যদি সরকার আনসারুল্লাহর ব্র্যান্ডিং করার চাইতে জঙ্গী দমনে বেশি সাফল্য লাভ করতো তাহলে অভিজিৎকে মরতে হতো ন।, মরতে হতো না বাবু অথবা অনন্ত বিজয় কে। ব্লগার হত্যাকারীদের বিচার করতে এবং জঙ্গিবাদ নির্মুলে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা পরবর্তি খুন গুলোকে উৎসাহিত করেছে। আওয়ামী লীগ এই দায় থেকে কোনভাবেই মুক্ত হতে পারে না। আওয়ামী লীগের সবচাইতে বড় দায় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ঘৃনা ছড়িয়ে, তাদের ডি-হিউমেনাইজ করে এবং তাদের লিস্ট বানিয়ে হত্যার প্ররোচনা দেয়ার ক্ষেত্রে। সম্প্রতি এর চাইতেও বড় অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ। খোদ সরকারের কোলে বসেই অথবা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাতেই এসব খুন হচ্ছে এই অভিযোগও সামনে এসেছে। এইসব অভিযোগও উড়িয়ে দেয়ার কোন উপায় নাই। যেই সরকার বিএনপির মতো এতো বড় একটা রাজনৈতিক দলকে হামলা, মামলা, গ্রেফতার করে ধ্বসিয়ে দিতে পারে সেই সরকার আনসারুল্লাহর মতো একটা ছোট জঙ্গী নেটওয়ার্ককে দমন করতে পারে না কেনো? বিষয়টা সন্দেহজনক।

প্রধানমন্ত্রী পুত্র ও আওয়ামী লীগ নেতা সজিব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি অভিজিৎ হত্যাকান্ডে আওয়ামী লীগ সরকারের চুপ থাকা প্রসঙ্গে রয়টার্স-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে কিছু মন্তব্য করেছেন। পুরো সাক্ষাৎকারটি পড়ি নাই। সংবাদপত্রে যতোটুকু পড়েছি, তাতে জয় একটি সত্য ও একটি মিথ্যাকথা বলেছেন। সত্য কথাটি হলো শেখ হাসিনা গোপনে অজয় রায় স্যারকে সান্তনা দিয়ে ফোন করলেও এই বিষয়ে জনসম্মখে কিছু বলা তারপক্ষে সম্ভব না, কারণ আওয়ামী লীগ নাস্তিক হিসাবে চিহ্নিত হতে চায় না। আওয়ামী লীগ যে নাস্তিক হিসাবে চিহ্নিত হতে চায় না এবং শফি হুজুরের ফতোয়া মেনে নাস্তিক বিদ্বেষী অবস্থানে থাকতে চায় তা আগেই তারা পরিস্কার করেছে। জয় সেই পুরনো সত্যটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে সততার সাথে হাজির করেছেন মাত্র। মিথ্যা কথা যেটি বলেছেন তা হলো পেট্টল বোমায় নিহতদের সাথে আওয়ামী লীগ সরকার অভিজিৎ রায়ের হত্যার কোন পার্থক্য করে না। জয়ের কথা হলো, এইসবগুলোই তাদের কাছে সমান হত্যাকান্ড যেগুলোর বিচার করতে হবে। জয়ের এই কথা মোটেও সত্য না। পেট্ট্রোল বোমা হামলায় মানুষের মৃত্যু নিয়ে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু বলেছেন, বিবৃতি দিয়েছেন। এই হত্যাকান্ড কতো অমানবিক, কতো নৃশংস তা বিভিন্ন ভাষায় আওয়ামী লীগ প্রচার করেছে। কিন্তু অভিজিৎ হত্যাকান্ড বা অন্যান্য নাস্তিক হত্যাকান্ড নিয়ে তারা নিশ্চুপ। সুতরাং, এই দুই হত্যাকান্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান এক নয়, একটার বিরুদ্ধে সে চরম প্রতিবাদী আরেকটার বিরুদ্ধে সে জনসম্মখে একটা কথাও বলতে চায় না। এই দুইটা এক হলো কিভাবে? রাজনৈতিক বুলি আওরাতে গিয়ে জয় এই মিথ্যা কথাটি বলেছেন। ইন্টারভিউ সংক্রান্ত খবরে একটা ভুল তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে যে, অভিজিৎ রায় মৃত্যুর সময় না কি ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ বইটির প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এই বইমেলায় অভিজিৎ রায়ের নতুন দুটি বই প্রকাশিত হয়েছিল, তিনি সেগুলার প্রচার করছিলেন দেখেছি। বিশ্বাসের ভাইরাস বইটির বিশেষ কোন প্রচার তিনি এই বইমেলায় চালান নাই। মূল বক্তব্যটি হলো, অভিজিৎ রায় একজন স্বীকৃত নাস্তিক ছিলেন এবং হত্যার পূর্বে তিনি ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নামে বইয়ের প্রচার চালাচ্ছিলেন। জয়ের বক্তব্যের সাথে এই তথ্য উপস্থাপনের উদ্দেশ্য কি? নাস্তিক হিসাবে অভিজিৎকে ডিমোনাইজ করা ছাড়া আর কি কাজে লাগতে পারে এই ভুল বক্তব্য? একজন নাস্তিক, যিনি কি না ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ নামে বই লেখে তার হত্যাকান্ড নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে মন্তব্য করা সম্ভব না, এই হলো সার কথা। কিন্তু অভিজিৎ রায় যদি বিশ্বাসের ভাইরাস বইটির প্রচারও চালাতেন তাহলেই বা তা কিভাবে এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে? বিশ্বাসের ভাইরাস তত্ত্ব নিয়ে অভিজিৎ রায়ের সাথে আমার বড় ধরণের তর্ক হয়েছে, আমি এই তত্ত্বের একজন ঘোর বিরোধী। কিন্তু এর সাথে তো অভিজিৎ হত্যাকান্ডের বিরোধীতা করার বা বিচার চাইবার কোন সম্পর্ক নাই। তিনি কি বই লিখেছেন, তার সাথে তার হত্যাকান্ডের নিন্দা জানানো অথবা না জানানোর কি সম্পর্ক? রাজীব হত্যাকান্ডের পর তার লেখা সামনে আনা আর অভিজিৎ হত্যাকান্ডের নিন্দা না জানানোর অজুহাত সংক্রান্ত খবরে তার বইয়ের নাম সামনে আনায় পার্থক্য কি?

মূলত নাস্তিকদেরকে ডিমোনাইজ ও ডি-হিউমেনাইজ করার যে প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগ চালিয়ে আসছে গত দুই বছর ধরে জয়ের বক্তব্য তার ধারাবাহিকতা মাত্র। জাফর ইকবালের সাথে সহমত জানিয়ে বলতে চাই, এই ধরণের বক্তব্য সন্ত্রাসীদের প্রতি গ্রিন সিগনাল হিসাবে কাজ করবে। সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদের উপর আওয়ামী লীগের হামলা কিংবা জাফর ইকবালের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মিছিলও সন্ত্রাসীদের জন্যে গ্রিন সিগনাল হিসাবেই কাজ করছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “নাস্তিক হত্যায় আওয়ামী লীগের দায়

  1. বিশ্বাসের ভাইরাস বইটি এই
    বিশ্বাসের ভাইরাস বইটি এই বইমেলাতে প্রকাশ পায় নাই। এটি সম্ভবত ২০১৪ এর বইমেলায় প্রকাশিত বই। তিনি তার প্রকাশিত নতুন বই ভিক্টোরিয়া ওক্যাম্পোর প্রচারণা করছিলেন।

    আওয়ামীলীগ হচ্ছে একটা বেঈমান সর্বস্ব রাজনৈতিক দল। তাদের কর্মফল তারা খুব বাজেভাবে ভোগ করবে।

  2. নাস্তিক হত্যায় আওয়ামীলীগের
    নাস্তিক হত্যায় আওয়ামীলীগের দায় নিয়ে এ পর্যন্ত আমার পড়া সেরা লেখা এটি। এই ধরনের লেখা পারভেজ ভাই থেকেই আশা করা যায়। স্যালুট পারভেজ ভাইকে।

  3. আসলে দেশের ৯৯.৯% মানুষকে
    আসলে দেশের ৯৯.৯% মানুষকে অখুশী করে ০.১% মানুষকে খুশী করার কোন মানে হয় না। এ কথা বিএনপি, আওয়ামি লিগ সহ সব রাজনৈতিক দলগুলোই জানে।

    তাছাড়া বাংলাদেশে নাস্তিকরা চরম জনবিচ্ছিন্ন। দৌড় ব্লগ-ফেসবুক পর্যন্তই। তারা যা ব্লগে লিখে , তা পাবলিক প্লেসে কোনদিনই বলতে পারবে না। বলতে গেলে আম পাবলিকই পিটিয়ে মেরে ফেলবে আল-কায়দা, আনসারুল্লাহর প্রয়োজন হবে না।

    এসব তিতা সত্যগুলো মেনে নেই এগিয়ে যেতে হবে। টিকে থাকার চেষ্টা করতে হবে……

  4. যখন
    একজন ব্লগার মারা যায় তখন

    যখন
    একজন ব্লগার মারা যায় তখন আমরা মিডিয়াতে
    যে সংবাদগুলো দেখি, সেই সংবাদে তাকে
    নাস্তিক হিসাবেই আখ্যায়িত করা
    হয়,ভিন্নমতাবলম্বী হিসাবে নয়।তথাপি এই ধরনের
    বক্তব্য সমালোচনা করার আগে আত্নসমালোচনার
    দাবি রাখে।ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং উগ্র
    নাস্তিক্যবাদ উভয়ই সামাজিক স্থিতিশীলতার
    জন্য ক্ষতিকারক। ধর্মীয় হোক বা নাস্তিক্যবাদ
    হোক তার প্রচারের জন্য দরকার যুক্তিগ্রাহ্য
    ব্যাখ্যা এবং নম্রতা।ব্লগার কমিউনিটির ধর্মীয়
    উগ্রবাদী আচরন নিয়ে সমালোচনার পূরবে ধর্মীয়
    আক্রমন বন্ধ করা বাঞ্জনীয়।যা একটা বিশাল
    জনগোষ্ঠীরর কাছে ব্যক্তিবিশেষকে গ্রহণযোগ্য
    করে তোলে।কিছু ব্যক্তির নিজস্ব মতামত সবার
    ক্ষতির কারন হলে, সেটা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।সেই
    নিশ্চয়তা না দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে
    নিরাপত্তার দাবি কোন সুফল আনবে বলে বোধ
    করি না।সে বিষয়ে হত্যার প্রতিবাদের
    পাশাপাশি কিছু কর্মকাণ্ড এর নিন্দাও জরুরী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 77 = 81