শাহবাগ নামা

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে যে কয়টি আন্দোলন সরাসরি জনতার অংশগ্রহনে শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন তাদের মধ্যে অন্যতম একটি আন্দোলন। ইতিহাসের অধিকাংশ আন্দোলনের চেয়ে এই আন্দোলন সম্পুর্ন ব্যতিক্রম একটি দাবীতে শুরু হয়েছিল। ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের রাজাকারদের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে ৫ ফেব্রুয়ারী এই আন্দোলনের সূত্রপাত। ঐ দিন যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন শাস্তি প্রদান করে রায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু তা মেনে নিতে পারেনি স্বাধারন মানুষ। ফলশ্রুতিতে প্রথমে গুটিকয়েক মানুষের অংশগ্রহনে “ফাসি চাই” দাবীতে শাহবাগ মোড়ে আন্দোলনের গোড়াপত্তন ঘটে। কিন্তু পরবর্তী কয়েক মুহুর্তের মধ্যেই তা কয়েক হাজার জনতার সরব আন্দোলনে পরিনত হয়। পরবর্তী কয়েকদিনে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পরে। শুধু তাই না, এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করে মহান জাতীয় সংসদ সহ স্বাধীনতার চেতনা লালনকারী অগনিত সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির তথা সচেতন মুক্তিকামী জনতার অনেকদিনের লালিত স্বপ্ন এদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। একসাথে এমন মুক্তচিন্তক মানুষদের আন্দোলনের সুবাধে আন্দোলনকারীরা ফাসির দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবীতেও সোচ্চার হন। ফলস্রুতিতে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আন্দোলনকারীরা ৮ ফেব্রুয়ারী মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এই দিনের সমাবেশে বাংলাদেশের ইতিহাসে গত দুই দশকের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক সর্বোচ্চ জনতা অংশগ্রহন করে। ৮ তারিখ মহাসমাবেশ থেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি জামাতে ইসলামীর মদদপুষ্ট ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বর্জনের ডাক দেয়া হয়। ডাকে সারা দিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে জামাতের পত্রিকা দৈনিক সংগ্রাম বিপনন ও দিগন্ত টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি এমন হয়ে পরে যে জামাত নিষিদ্ধ ও বর্জন সকলের জন্য একটা নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে এসে পড়ে। সারা দেশ জুড়ে উতসবমুখর পরিবেশে শাহবাগ আন্দোলনের সকল কার্যক্রম পালন করা হয় স্বতস্ফুর্ত ও ধারাবাহিকভাবে । সকলের যেন একদাবী জামাত নিষিদ্ধ কর ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ কর। এই আন্দোলনে আবালবৃদ্ধ বনিতা সকলের অংশগ্রহন ঘটে স্বতস্ফুর্তভাবে।

এদিকে ঢাকার গনজাগরন মঞ্চের পাশাপাশি সারাদেশের প্রায় সকল জেলা উপজেলায় গনজাগরন মঞ্চ গঠিত হয়। শাহবাগের আন্দোলন কোন ধরনের বিরতি ছাড়াই দিনরাত চলতে থাকে। যা সাম্প্রতিক বিশ্বে ঘটে যাওয়া অন্যান্য লাগাতার আন্দোলনের চেয়েও আরো বেশি বেগবান হয়ে উঠে। বাড়তে থাকে জনতার অংশগ্রহন। শাহবাগ আন্দোলনের সাথে একাত্ততা ঘোষনা করে সারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী শতশত বাঙালী। হটাত করে যেনো শাহবাগের চোখ দিয়ে বাঙালী আবিষ্কার করে তার বাংলা মায়ের মলিন বদন। যেনো চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠে হাজার হাজার ধর্ষিতা মায়ের লাঞ্ছিত শরীর আর লাখো শহীদের ক্ষতবিক্ষত লাশ। বদ্ধভূমিগুলো যেনো নতুন করে বাঙালীর চোখের সামনে শহীদদের কংকালগুলোকে তুলে ধরে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হটাত করেই বাঙালীর হৃদয়ে করে জোড় করাঘাত। ঢাকার আন্দোলন গনমানুষের কাছে তাদের গ্রহনযোগ্যতা তুলে ধরতে সমর্থ হয়। গনজাগরন তৈরীর কাজ হয়ত শেষ মনে করে আন্দোলনকারীরা ভাবেন এইবার একটু বিশ্রাম নেয়া দরকার। ১৫ ফেব্রুয়ারী একটানা আন্দোলনের পরিবর্তে শাহবাগ আন্দোলন একটা নির্দিষ্ট সময়ের গন্ডিতে বিকেল তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ সময় আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ সময় করে আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিতে চান। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করার আগেই তরুন বিপ্লবীদের সামনে উপহার দেয়া হয় ব্লগার রাজীবের লাশ। রাত নয়টার দিকে শাহবাগ আন্দোলনের একজন একনিষ্ট কর্মী রাজীবকে তার বাসার পাশে কুপিয়ে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরুধী জামাত শিবির চক্র। এ যেনো সাদা কাপড়ের ব্যনারে একটা লাল রক্তের চোখ রাঙ্গানো হুমকি। ফলে আন্দোলনের কর্মসূচী অঘোষিতভাবেই আগের লাগাতার অবস্থায় ফিরে আসে।

এদিকে জামাত শিবিরের পাচাটা পত্রিকা আমার দেশ ও অন্য আরেকটি পত্রিকা রাজীবের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার নামে লিখিত ব্লগ ও ফেসবুকের বিতর্কিত স্যাটায়ার (সত্য কিংবা মিথ্যা জানা নেই) প্রকাশ করতে শুরু করে। স্যটায়ারগুলোতে ইসলাম ধর্মের নামে বিভিন্ন অশ্লীল কথা প্রকাশ করা হয়। ফলস্রুতিতে এদেশের অন্ধ ধার্মিক জনগোষ্ঠী ক্ষোভে হয় নিদারুন আচ্ছন্ন। তাদের ধর্মীয় অনুভুতির সুযোগ নিয়ে ধর্ম ব্যবসায়ী জামাত শিবির চক্র প্রপাগান্ডা চালায় যে শাহবাগ আন্দোলন নাস্তিকদের আন্দোলন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এদেশে ইসলাম ধর্মকে নিষিদ্ধ করা হবে। অপরদিকে বারবার গনজাগরন মঞ্চ থেকে বলা হয় আমরা নাস্তিক নই, আমরা শুধু রাজাকারের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। শুধু তাই নয় আন্দোলনে নামাজের বিরতি প্রবর্তন করা হয়। তারা নাস্তিক রাজীবের লাশকে মুসলমানী কায়দায় দাফন ও জানাযার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন অর্থাত ১৬ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪টায় রাজীবের লাশ জানাযার মাধ্যমে প্রমান করা হয় রাজীব নাস্তিক না মুসলিম। কিন্তু এমন বিবৃতি ও কর্মকান্ডের পরও শেষ রক্ষা হয় কি?

রাজীবের মৃত্যুর পর মূলত শাহবাগ আন্দোলনের ভিত নড়তে শুরু করে। তারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার দাবী থেকে সরে এসে শুধু রাজাকারের ফাসী ও জামাত নিষিদ্ধের দাবীতে আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমার দেশের প্রতিবেদন ও খবরের প্রভাবে ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠী শাহবাগ আন্দোলনকে ভুল বুঝতে শুরু করে। শাহবাগ আন্দোলনের গতি মূলত অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করে ব্লগার রাজীবের মৃত্যুর সাথে সাথে। রাজীবের মৃত্যু নিয়ে শাহবাগ আন্দোলনের আত্মরক্ষার কৌশল হিসাবে ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী থেকে সরে আসায় অনেক মুক্ত চিন্তক এই আন্দোলনের থেক অলখ্যে সরেও আসেন।

এই যখন অবস্থা, তখন ২১ ফেব্রুয়ারী গনজাগরন মঞ্চে আরেকটি মহাসমাবেশ আহবান করা হয় মহান ভাষা দিবসে। এই প্রথমবার মহাসমাবেশ শুরু হয় বাংলাদেশে প্রচলিত চারটি ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে। এই সমাবেশে আবারো বলা হয় জামাত নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে আমাদের এই আন্দোলন। প্রথমবারের মত শ্লোগান উচ্চারিত হয় ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। এই সমাবেশ পরবর্তী বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষনা ও শাহবাগে অবস্থান বন্ধ করে ঐদিনের মত সমাপ্ত ঘোষনা করা হয়।

আমার দেশ পত্রিকার খবরের উপর ভিত্তি করে জামাতি উস্কানিতে সারাদেশের ধর্মপ্রান মুসলমানদের নিয়ে জামাত শিবির ২২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুমার নামাজের পর সারাদেশে নজিরবিহিন তান্ডব চালায়। আক্রান্ত হয় সারাদেশের গনজাগরন মঞ্চ সহ শহীদ মিনার ও জাতীয় পতাকা। এই সহিংসতায় ব্যবহার করা হয় ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর আবেগকে, আর পেছন থেকে সলতা উস্কে দেয়ার কাজটি করে জামাত-শিবির চক্র। ফলে মুহুর্তের ব্যবধানে তছনছ হয় বিভিন্ন স্থানের গনজাগরন মঞ্চ, ভুলুন্ঠিত হয় শহীদ মিনার, অগ্নিদগ্ধ হয় প্রভাতফেরীর শ্রদ্ধার্ঘ, কয়েক স্থানে ছিন্নভিন্ন হয় স্বাধীন দেশের লাল সবুজের পতাকা। দেশের এমন কোন স্থান নেই যেখানে সহিংসতা হয়নি । এই সহিংসতার কারনে অবশ্য একটা বিষয় ভাল হয়েছে, জামাত শিবিরের মুখোশ সাধারন জনতার কাছে আবার উন্মোচিত হয়। ফলে তৌহিদী জনতা নাম দিয়ে ডাকা ২৪ ফেব্রুয়ারীর হরতাল হয় প্রত্যাখ্যাত। আর সহিংসতার কারনে বাড়ি ফেরা তরুন প্রজন্ম আবার গনজাগরন মঞ্চের দিকে ধাবিত হয়। মঞ্চ আর শহিদ মিনারে গিয়ে শুধু ভারাক্রান্ত হওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিলনা। পাল্টা আঘাতের জবাবে কিছু কিছু তরুন বিভিন্ন স্থানে জামাতের স্থাপনাগুলোতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চালায়। কিন্তু তাদের এই আক্রোশ নাচনকোদন ভিন্ন আর তেমন কোন প্রভাব রাখতে পারেনি। সহিংসতার সুবাধে আর যাই হোক আবার গনজাগরন শুরু হয়, তবে এবার চলতে থাকে আবার ভারাক্রান্ত হৃদয়ে।

এদিকে দেশজুড়ে তান্ডব চালানোর পরপরই ২৫ ফেব্রুয়ারী আরেক কুখ্যাত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী দেলওয়ার হুসেন সাইদী ওরফে দেইল্লা রাজাকারের ফাসীর রায় ঘোষনা দেয়া হয়। এই রায়ে গনজাগরন মঞ্চ সহ সারা দেশে আনন্দের বন্যা বইতে থাকে। অন্য দিকে জামাত শিবিরের সন্ত্রাসীরা সহিংসতা শুরু করে। তারা বিভিন্ন গুজব রটিয়ে সাধারন ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীর আবেগকে কাজে লাগিয়ে আবার শুরু করে সহিংসতা। দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে তারা অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এমনকি কোন স্থানে ধর্ষনের অভিযোগও শুনা যায়। আর এই সহিংশতায় স্বাভাবিকভাবে টার্গেট হয় সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠী। হয়ত তারা এদেশে একটা সাম্প্রদায়িক দাংগার শুরু করতে চেয়েছিল। তাদের নাশকতায় মাধ্যমে আরেকটা ইচ্ছা স্পষ্ট হয় যে তারা সরকারের প্রতি বিদ্রোহ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের এই নাশকতা বিদ্রোহে রূপ নেয়নি সরকারের ধীরে চল নীতির কারনে। উগ্র মৌলবাদী জামাত শিবির চক্র সরকারকে উস্কে দিতে মেরেছে পুলিশ, সাধারন জনতা, লাশ বাড়ানোর জন্য নিজেদের নিচুস্তরের কর্মী, আগুন দিয়েছে থানা ও রেললাইনে, বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল দেশের দুএকটি শহর। শত সহিংসতার পরও সাধারন জনতার একটা ক্ষীন আশা ছিল বাংলাদেশের বর্তমান বিরুধীদল বিএনপির কাছে। কিন্তু ২৯ ফেব্রুয়ারী খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন সারাদেশবাসিকে চরমভাবে হতাশ করে। সহিংশতায় নিহতদের নিয়ে তিনি মারাত্নক এক উপহাসের নাটক করেন। উপহাস করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে। তিনি সহিংশতারোধের কারনে গৃহিত পদক্ষেপকে ঘোষনা দিলেন গনহত্যা হিসেবে। সাথে ঘোষনা দিলেন আরো দুইদিনের হরতালের। অথচ গনজাগরন মঞ্চ থেকে জামাতের ডাকা সব হরতাল প্রতিহত করা হচ্ছিল প্রতিনিয়ত, এবং মোটামোটি সারাদেশে তা প্রত্যাখ্যাত হয় সফলভাবে। কিন্তু গনজাগরন মঞ্চ বিএনপির ডাকা হরতালকে প্রতিরোধের ঘোষনা দেয়নি, তবে সমর্থনও করেনি। মূলত এই হরতালের মধ্যদিয়ে গনজাগরন মঞ্চের পরাজয়ের ধারাবাহিকতা শুরু। একে একে বিএনপি সাজানো নাটকের মধ্য দিয়ে পরপর কয়েকদিন নিয়মিতভাবে হরতাল আহবান করে। এমতাবস্থায় জামাতের আর নতুন করে কর্মসূচীর প্রয়োজন পরেনি। বিএনপির ঘাড়ে বসেই জামাতের পগার পার।

এরমাঝে চট্টগ্রামে নাস্তিক ট্যাগ দিয়ে গনজাগরন মঞ্চের বিরুদ্ধে একটি নতুন দল গড়ে উঠে, যারা সেই পাকিস্তান আমল থেকেই জামাতের সহযোগী ও পাকিস্তান প্রেমী ।৭০’এর নির্বাচনে শেখমুজিব যে দুটি আসনে হেরে যান তার মধ্যে এই হেফাজত অধ্যুষিত আসন একটি। এই হেফাজতে ইসলাম জামাতীদের অর্থায়নে নতুন করে সেই তাদের পুরোনো কর্মকান্ড শুরু করে। তারা সকল মত, আলোচনার বিরুদ্ধে গোয়ার্তুমীর মাধ্যমে তাদের দাবীতে অনড় থাকে। চট্টগ্রাম গনজাগরন মঞ্চের সমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষনা দেয় মধ্যযুগীয় জিহাদী কায়দায়। এদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। এরা ঘোষনা দিয়েই স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈধ দাবীকে অস্বীকার করার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহিতার পরিচয় দিলেও রাষ্ট্র ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে হেফাজতের গোয়ার্তুমিকে প্রশ্রয় দিয়ে বসে। গনজাগরন মঞ্চের চট্টগ্রাম মহাসমাবেশের দিন এই স্থানে প্রশাসন জারী করে ১৪৪ ধারা, মহাসমাবেশ বন্ধ করা হয়। ফলে বিএনপির হরতাল প্রশ্রয়ের মধ্যদিয়ে যে পরাজয়ের শুরু হয়ছিল তা তরান্বিত হয় আরো একটু।

এসকল কর্মকান্ডের মধ্যদিয়েই এগোচ্ছিল দেশ আর গনজাগরন। বাধ সেধেছে জামাত নিষিদ্ধের আলটিমেটাম। গনজাগরন মঞ্চ থেকে সরকারকে আলটিমেটাম দেয়া হয়ছিল ২৬ মার্চের আগেই জামাত নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু করার। কিন্তু সরকার নিষিদ্ধ তো দুরে থাক কোন ধরনের পদক্ষেপ পর্যন্ত নেয়নি। তারা বিষয়টি একটা মামলাতে সীমাবদ্ধ রেখেই নিরাপদ সীমায় অবস্থান করছে। নিরাপদ সীমা তো সীমা, জুজুর ভয়ে ভীত হয়ে উলটা হেফাজতের দাবী অনুযায়ী ব্লগার নিধনের কর্মসূচী হাতে নেয়। এজন্য একটি কমিশনও গঠন করে। ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে যেতে থাকে শতপ্রানের সংহতির মেলা গনজাগরন মঞ্চ।

২৬ মার্চের সমাবেশে কঠোর কোন কর্মসূচী আশা করছিলেন জাগরন মঞ্চের কর্মীরা। কিন্তু কঠোর কোন কর্মসূচি না আসায় শহীদ রুমী স্কোয়াড নামের সংগঠনটি ( যারা প্রথম থেকেই আন্দোলনের সাথে একাত্ম ছিল) জামাত নিষিদ্ধের দাবীতে আমরন অনশন শুরু করে। তারা দাবী করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই যেন জামাতকে নিষিদ্ধ করা হয়। তাদের এই দাবীর সাথে প্রথমে কেউ কেউ দ্বিমত পোষন করলেও ধীরে ধীরে অনেককেই সমর্থন করতে দেখা যায়। আজ অনশনের ৭-৮ দিন হয়ে যাবার পরও সরকার তাদের দাবীর প্রতি সমর্থন তো দুরে থাক কর্নপাতই করেনি আজ পর্যন্ত। ফলে আন্দোলনকারীদের অনেককেই সরকার বিরুধী কথাবার্তা বলতে শুনা যায়।

অন্যদিকে সরকার (কি কারনে জানা নেই) আন্দোলনকারীদের দিকে মনযোগ না দিয়ে ভুইফোড় হেফাজতে ইসলামের দাবী অনুযায়ী নাস্তিক ব্লগার নিধনের জন্য গঠিত কমিশনের ধারাবাহিকতায় গতকাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইবুনাল গঠন করে। নাম সাইবার ক্রাইম হলেও মূলত এর মূল উদ্দেশ্য মুসলিম ধর্মের অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগার ও ফেসবুকারদের ধরে শাস্তির আওতায় আনা। কিন্তু এদেশে অন্যান্য ধর্মের অবমাননা হলে কোন ব্যবস্থা নেয়ার কথা ঐ ট্রাইবুনালে আছে কিনা জানা নেই। কানা ঘোষা শুনা যাচ্ছে, যে বা যারা আন্দোলন বা অন্য কোন বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধাচরন করবে তারাই এই ট্রাইবুনালের বলি হতে পারে।

পরিশেষে এই কথা বলে ইতি টানতে হবে, ফাসী চাই না মোল্লা সামলা। কারন ফাসীর দাবী নিয়ে তরুনেরা যে দাবী শুরু করেছিল আজ তাদের সামনে ঝুলছে সাইবার ক্রাইম ট্রাইবুনালের খাড়া। সত্যিই সেলুকাস কি বিচিত্র এই বাংলাদেশ। সাধে কি আর রাজাকারের গাড়িতে লাল সবুজের পতাকা শুভা পায়?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “শাহবাগ নামা

  1. সত্যিই সেলুকাস কি বিচিত্র এই

    সত্যিই সেলুকাস কি বিচিত্র এই বাংলাদেশ। সাধে কি আর রাজাকারের গাড়িতে লাল সবুজের পতাকা শুভা পায়?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =