কনোকো ফিলিপস লাভ নিয়ে বাড়ি গেল! দেশের ক্ষতি দেখল না কেউ!

চার বছর আগের কথা। ২০১১ সালের ১৬ জুন। গভীর সমুদ্রের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য কনোকোফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি সই করে পেট্রোবাংলা। চার বছর পর এখন খবর এসেছে, কনোকোফিলিপস চলে গেছে। তারা ওই দুই ব্লকে কাজ করবে না বলে চূড়ান্ত চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলাকে। এ থেকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই চার বছরে আমাদের অগ্রগতি কী?

কনোকো জানিয়েছে, দুটি ব্লকে তারা অনুসন্ধান চালিয়েছে। প্রথম দফার দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ শেষে তারা গ্যাসের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ পায়নি। এরপর দ্বিতীয় দফায় অনুসন্ধান চালিয়ে ১১ নম্বর ব্লকের একটি অংশে গ্যাস স্তর খুঁজে পায় তারা। এতে চার ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুদ আছে বলে ধারণা দেয় কোম্পানিটি। তবে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মনে হয়নি তাদের।

অগ্রগতি একেবারে শূন্য নয়। চার টিসিএফ গ্যাসের ধারণা মিলেছে। কিন্তু মজুদ সম্পর্কিত বিস্তারিত জরিপ প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত জমা দেয়নি কনোকো। অথচ বাংলাদেশ ছাড়ার ঘোষণা তারা দিয়ে দিয়েছে। সেটা চূড়ান্ত বলেই ইতোমধ্যে বিদেশি কোম্পানিটি তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা ফেরত নিয়ে নিয়েছে। অর্থাৎ এখন কোনো অপরাধের প্রমাণ মিললেও কনোকোকে আটকানোর কোনো সুযোগ আর সরকারের হাতে নেই।

মোটকথা বাংলাদেশ চারটি বছর খুইয়েছে। যদিও কনোকোর সঙ্গে এ চুক্তির সময় অনেকেই বিরোধিতা করেছিল। বিপরীতে চুক্তির মাসখানেক পর এ বিষয়ক পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত দিতে ১১ জুলাই, ২০১১ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের দুটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৈঠক শেষে কমিটিদ্বয় কনোকোর সঙ্গে হওয়া চুক্তিটিকে ‘দূরদর্শী’ ও ‘সাহসী’ আখ্যা দেয়। আজ সেই দূরদর্শিতার ফল দেখা যাচ্ছে!

?oh=af574845852d49588eaa919742f6b663&oe=5609407D&__gda__=1443012375_e58443536b9cf82a99ef323ebdc2178d” width=”300″ />
সংসদের সার্টিফিকেট!

কনোকো যাওয়ার আগে যুক্তি দেখিয়েছে, যে মজুদের হিসাব মিলছে তা উত্তোলন করাটা লাভজনক হবে না। দ্বিমাত্রিক জরিপে প্রাপ্ত গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে তারা। সেক্ষেত্রে সই হওয়া পিএসসি সংশোধন করে গ্যাসের দাম বাড়ালে তারা কাজ করতে রাজি বলে জানায় পেট্রোবাংলাকে। প্রথমে পেট্রোবাংলা কনোকোর সঙ্গে এখানে বিনিয়োগও করতে চায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। শেষপর্যন্ত দাম বৃদ্ধি না করায় ১০ এবং ১১ নম্বর ব্লক অনিশ্চয়তায় পড়ে। গত অক্টোবরে কনোকোর প্রতিনিধিদল এসে পেট্রোবাংলাকে আনুষ্ঠানিক জানায়, ব্লক দুটিতে তারা আর কাজ করছে না।

আপাতদৃষ্টিতে কনোকোর এ তৎপরতা অনেকের কাছেই বেশ যুক্তিসংগত ও আইনসম্মত মনে হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে কিছু শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। বাংলাদেশে কাজ পেতে প্রথম দিকে মরিয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাউস্টোনভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি। এর প্রমাণ মেলে উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তারবার্তায়। ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত তখনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে তাদের মধ্যে কী আলাপ হয়, পরবর্তীতে তা উইকিলিকস ফাঁস করে দেয়।

জানা যায়, ওই বৈঠকে মরিয়ার্টি বলেছিলেন, বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে উদগ্রীব হয়ে আছে কনোকোফিলিপস। বঙ্গোপসাগরের আটটি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করেছে কোম্পানিটি। তখন শেখ হাসিনা রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার আপাতত কনোকোফিলিপসকে বঙ্গোপসাগরের দুটি ব্লকের গ্যাস উত্তোলনের কাজ দেবে। অর্থাৎ চুক্তির দুই বছর আগে, ২০০৯ সালের এপ্রিলেই শেখ হাসিনা বলেন যে, কনোকোফিলিপস কাজ পেতে যাচ্ছে।

উইকিলিকসের মাধ্যমে এর আগে আরও প্রকাশিত হয় যে, জেমস মরিয়ার্টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর সঙ্গেও এ চুক্তির বিষয়ে লবিং করেন। এতে প্রমাণ করে, এই চুক্তির সূত্রপাতই ঘটেছে অন্যায় তৎপরতার মধ্য দিয়ে। তবে তার চেয়েও বড় ঘটনা হচ্ছে, নিউইয়র্কের পুঁজিবাজারে সে সময় কনোকোর দুরবস্থা! কেমন চলছিল চুক্তির সময়টায় কনোকোফিলিপসের করপোরেট অভিযান? এই প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সেই উত্তর- কেন এই মার্কিন জায়ান্ট কোম্পানিটি বাংলাদেশে ছুটে এসেছিল?

২০০৯ সালে যখন মরিয়ার্টি কনোকোফিলিপসের আগ্রহের কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানাচ্ছিলেন, কোম্পানিটি তখন ধুঁকছে। এর আগে রাশিয়ার বৃহৎ প্রতিষ্ঠান লুকঅয়েলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয় তারা। নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে সে সময় কনোকোর শেয়ারের লাগাতার দর পড়ছিল। এ নিয়ে ফোর্বস, রয়টার্সের মতো সংস্থাগুলো নেতিবাচক খবর প্রকাশ করতে থাকে। ফলে কনোকোর তখন প্রয়োজন ছিল ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা। একটি নতুন বৃহৎ প্রকল্প এবং বড় একটি মুনাফার সম্ভাবনা হাজির করা গেলেই তা সম্ভব। আর সেই উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার হয় বাংলাদেশ।

?oh=fa92265f901a52848b820f8be6707616&oe=560C9856&__gda__=1443402719_93e0a38cc8c94db1edfaa7e798723f11″ width=”400″ />
২০০৯ : কনোকোর শেয়ার পতনের চিত্র

ব্যবসামন্দা কাটিয়ে উঠতে কনোকোর এমন একটি প্রকল্প তখন খুবই দরকার ছিল, যা দেখে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন। পুঁজিবাজারে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তারা। বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানটা সেক্ষেত্রে মোক্ষম ছিল। কারণ যেখানে বাংলাদেশ অনুসন্ধান চালাতে চায়, তার আশেপাশেই ভারত ও মিয়ানমার বড় ধরনের গ্যাসের মজুদ পেয়েছে। এমন জায়গায় একটি প্রকল্প দাঁড় করানো গেলে কাজ না করলেও লাভ করা যাবে। এটা পরিষ্কারভাবে জানত কনোকোফিলিপস। তারা হাঁটল অপকৌশলের পথে।

বাংলাদেশ সরকারকে প্রথমে তারা নিজ দেশের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ম্যানেজ করে। এরপর বিরাট বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। একপ্রকার তড়িঘড়ি করেই তখন তারা পেট্রোবাংলার সঙ্গে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তি অসম ছিল, তাতে অনেক কিছু অস্পষ্ট ছিল, এটা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে না, এর মধ্যে ফাঁক ছিল গ্যাস রপ্তানি হওয়ার, এমন অনেক অভিযোগই তখন উঠেছিল। কিন্তু বিরাট বিনিয়োগের কথা বলে সরকার কনোকোকে আগলে রাখে।

?oh=910820145ac1a9d8fa350575a29807b9&oe=560A4BB4″ width=”400″ />
বাংলাদেশে আসার আগে কনোকোর লসের খবর!

সেই কনোকো এখন বলছে, তারা আর কাজ করবে না। কারণ ইতোমধ্যে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। নতুন অনেক প্রকল্পের দিকে হাঁটছে তারা। বাংলাদেশের এই প্রকল্পটা ছেড়ে দিলে এটা তাদের ব্যবসা বাণিজ্যে এখন তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। এটার যা কাজ তা হয়ে গেছে। মন্দাকালীন সময়টা পার করা গেছে। তবে এক লাফেই এখানে এসে দাঁড়ায়নি তারা। প্রথমে তারা পেট্রোবাংলাকে গ্যাসের দর বাড়াতে বলেছিল।

২০০৮ সালের মডেল পিএসসি অনুযায়ী কনোকোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পিএসসিতে প্রতি হাজার ঘনফুট (এক ইউনিট) গ্যাস উত্তোলনের মূল্য ধরা হয় ৪.২ ডলার। পরে গভীর সমুদ্রে ইউনিটপ্রতি সাড়ে ছয় ডলার দাম নির্ধারণ করে পিএসসি ২০১২ নির্ধারণ করা হয়। কনোকো এই সাড়ে ছয় ডলার দাম চেয়ে আসছিল। অথচ এই সময়ে তেল ও গ্যাসের দাম কমেছে। এ অবস্থায় দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগই নেই। কনোকো এটাও পরিষ্কারভাবে জানে যে, কোনো দেশই পিএসসি সংশোধন করতে চাইবে না। তার পরও তারা চাপ দিচ্ছিল এটাকেই একটা শক্ত অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য।

বাস্তবে কনোকোর এখানে কাজ করার ইচ্ছা ছিল না। এ কারণেই দামের চেয়ে প্রকল্প পাওয়ার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে তারা। চুক্তি অনুযায়ী, ব্লক দুটির ৫ হাজার ১৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করার কথা কোম্পানি দুটির। ৯ বছর মেয়াদি এ চুক্তিতে তিন ধাপে জরিপ ও খননকাজ চালানোর কথা। প্রাথমিক অনুসন্ধানকাল পাঁচ বছর। এ সময়ের মধ্যে ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ, ভূ-পদার্থিক জরিপ, অন্যান্য জরিপ (গ্র্যাভিটি, ম্যাগনেটিক, জিওকেমিক্যাল ইত্যাদি) করার কথা। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো ভূকম্পন জরিপের বিস্তারিত প্রতিবেদন সরকারকে দেয়নি। সাব-কনট্রাক্টের মাধ্যমে চীনের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ব্যুরো অব জিওফিজিকাল প্রসপেক্টিংকে (বিজিপি) দিয়ে দ্বিমাত্রিক জরিপ করায় তারা।

?oh=5e5fc69d88bdd2c164d464b3138b73f9&oe=55D334C5″ width=”400″ />
২০১৫ : কনোকোর শেয়ারের উন্নতির চিত্র!

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পিএসসি ২০১২’র আওতায় ডাকা দরপত্রকে প্রতিযোগিতাহীন করতেই এ প্রতিবেদন আটকে রাখা হয়। কেননা বঙ্গোপসাগর নিয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এ কারণেই সাম্প্রতিক দরপত্রও উত্তাপহীন ছিল। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি হাতে থাকলে, বাস্তব অবস্থাটা জানা গেলে এমন হতো না। প্রাথমিক অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে পারলে প্রদেয় ১৬ কোটি ডলারের ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত পাওয়ার কথা কনোকোর। তা তারা পেয়েছেও। কিন্তু পিএসসির শর্ত ভেঙে তারা যে দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে এটার জন্য তাদের কিছু বলা হচ্ছে না।

এটা সবার জানা যে, দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপে (টুডি সিসমিক সার্ভে) কতটুকু এলাকায় গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সে সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণাটাই কেবল পাওয়া যায়। দ্বিতীয় মাত্রার জরিপের পর কূপ খনন না করা পর্যন্ত গ্যাস থাকা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। কিন্তু কূপ খনন থেকে সরে এসে আগের নির্ধারিত দামের পুনর্মূল্যায়ন চাইছে তারা। যদিও এই পথে এগুতে গেলে অন্যসব প্রতিষ্ঠানও দাম বাড়ানোর চাপ দেবে। আর এটা এক ধরনের ব্ল্যাকমেইলিংও। পেট্রোবাংলাকে না জানিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা এবং দাম না বাড়ালে কাজ করব না বলে চাপ দেয়াটা নিঃসন্দেহে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্ষতির কারণ। তাদের এমন পদক্ষেপ দেশে নিয়োজিত অন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোকেও সেদিকে ঠেলে দেবে।

এদিকে অনেক দিন ধরেই গ্যাসের দাম বাড়াতে প্রস্তাব দিয়ে আসছে শীর্ষ গ্যাস উৎপাদনকারী কোম্পানি শেভরন। দাম বাড়াতে হলে পিএসসি সংশোধন করতে হবে। কনোকোর প্রস্তাবে পিএসসি সংশোধন করা হলে শেভরনও একই দাবি তুলবে। এখন স্থলভাগে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির (আইওসি) কাছ থেকে ২.৫ ডলারে কেনে পেট্রোবাংলা। দাম বাড়ানো হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া পিএসসি সংশোধন হলে দরপত্রে অংশ নেয়া যে কোনো কোম্পানি আন্তর্জাতিক আদালতে এই বলে মামলা করতে পারে যে, পিএসসি সংশোধনের সুযোগ আছে বলা হলে তো আমরাও অংশ নিতাম।

পেট্রোবাংলা বলছে, দাম বাড়াতে হলে কনোকোকে প্রকল্প ছেড়ে দিতে হবে। এরপর পুনরায় দরপত্রে অংশ নিতে হবে সমতার ভিত্তিতেই। তখন বর্ধিত মূল্যে তারা বা অন্য কেউ কাজ পেতে পারে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্রের তিনটি ব্লকের দরপত্রে অংশ নিলেও দুটিতে চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেও পরবর্তীতে তা-ও বাতিল করে কনোকো। বর্তমানে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে কাজ করছে ভারতের ওএনজিসি এবং একটি ব্লকে কাজ করছে সান্তোস-কৃস এনার্জি গঠিত যৌথ কোম্পানি, আর কনোকোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে নরওয়েভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্টেট অয়েল।

?oh=e0f47af6e5138e646c24cb052f9c51d3&oe=55CBA2CC&__gda__=1439764755_ca9fc0f065dd093b00dbd6eea20bc64f” width=”400″ />
বাংলাদেশে এসে কনোকোর দিনবদল : লাভের পথে

সর্বোপরি বলা যায়, কনোকোফিলিপস এখনো জরিপের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়নি, অথচ টাকা নিয়ে চলে গেছে, এটা কীভাবে সম্ভব? এটা তো দখলের ব্যাপারও হতে পারে। জায়গা দখল করে বসে থাকল। কিছু করল না। ওখানকার সব তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে গেল। অথচ আমাদের কাজটা করল না। এর জন্য তো ওদের শাস্তি হওয়া উচিত। সরকারের উচিত এখন দ্রুত একটি কমিটি করে তাদের তৎপরতা অনুসন্ধান করা। এটার বিহিত না হলে সমস্যা আছে। আবার চুক্তি করবেন, নতুন কোম্পানিও আসবে, কিন্তু তারাও যে একই কাজ করবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? চুক্তিতে সরকারকে এজন্য আরও শক্ত হওয়া উচিত। তবে যা-ই হোক না কেন, দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ আসলেই ছিল না। সরকার দাম না বাড়িয়ে সঠিক কাজই করেছে। এখন তাদের কনোকোফিলিপসের বিষয়ে সঠিক মূল্যায়নের দিকে এগোনো উচিত।

এটা কার না জানা যে, জাতীয় সামর্থ্য এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্রে রেখে একটি মূলনীতি গঠিত না হলে এবং সর্বক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করা না গেলে এভাবে বারবার বিদেশিরা আমাদের ঠকাবে। সরকার যদি আইনে বা চুক্তিতে ফাঁক রাখে, তাহলে বিদেশি কোম্পানি তো সেই সুযোগ নিবেই। সরকারের ভেতরে থাকা বিদেশি কোম্পানির এজেন্টরাই এই ফাঁকগুলো তৈরি করে দেয় কমিশনের বিনিময়ে। এদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সব পক্ষকে আরও সক্রিয় হতে হবে। নইলে সরকার চুপ থেকেই এড়িয়ে যাবে দেশের এসব ক্ষতি।

বাস্তবে কনোকোফিলিপসের এহেন তৎপরতার ফলে বাংলাদেশের সমুদয় ক্ষতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেখা গেল সরকার কনোকোর বিষয়ে অভিযোগ আনতে আগ্রহী নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার বেহাল দশা। সেখানে যাকেই জিজ্ঞেস করা হোক, সে কিছুই জানে না। সাবেক কর্মকর্তারা তো সবকিছু ভুলেই গেছেন। এর ফলে দেশের ক্ষতির কোনো প্রতিকার বিধান হচ্ছে না। পেট্রোবাংলার কর্তাদের চাকরি বদলেছে, তাই তারা এখন এ বিষয়ে মতামত দিতেও নারাজ। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কোনো কাজে লাগছে না। চাকরি ছাড়ার পর তারা আর কোনো দায়িত্ব বোধ করেন না। এরা যে দেশের স্বার্থ দেখার যোগ্য না, তা এখনো না বুঝলে আমরা আর কবে বুঝব!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “কনোকো ফিলিপস লাভ নিয়ে বাড়ি গেল! দেশের ক্ষতি দেখল না কেউ!

  1. জাতীয় সম্পদের খবর রাখার লোক
    জাতীয় সম্পদের খবর রাখার লোক এখন পাবেন না ভাই। সবাই ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের টিকেট খুঁজতেছে। বাদবাকিরা ডুব দিয়ে আছেন সালাউদ্দিন নামক রহস্য পত্রিকায়!

      1. সবগুলোই বাস্তব সঙ্কট। আর
        সবগুলোই বাস্তব সঙ্কট। আর এগুলো এমনই যে, একটা ছেড়ে আরেকটা ধরলে চলে না। সবগুলোই মোকাবেলা করতে হবে!

  2. দেশের লাভ-ক্ষতি যারা দেখার
    দেশের লাভ-ক্ষতি যারা দেখার কথা তারা কনোকো ফিলিপস এর লাভের অংশীদার, সুবিধাভোগী। তাদের থেকে আপনি আশা করেন কেমনে?

    1. রাষ্ট্রের কাছে, সরকারের কাছে
      রাষ্ট্রের কাছে, সরকারের কাছে কিছু আশা করি না। তারা কিছু করছে না, এই তথ্য এজন্যই প্রকাশ করছি। গণমানুষ বিষয়গুলো বুঝতে পারলে আগামীতে শাসকদের এসব অপকর্ম রুখে দেয়া যাবে।

  3. পরামর্শ গগুলো আরও আগেই দেওয়ার
    পরামর্শ গগুলো আরও আগেই দেওয়ার দরকার ছিল-
    আসলে চুরি গেলে বুদ্ধি বাড়ে প্রবাদটি তো মিথ্যেও হতে পারে না।
    ধন্যবাদ ভাই_______♥

    1. ভাই কি চোর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ
      ভাই কি চোর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নাকি? তা চোর চলে যাওয়ার পরে আপনার সচেতন হওয়া দরকার এজন্য যে, এরপর আবার যেন চোর এসে সব খাল করে দিয়ে না যায়!

  4. সমস্যা হলো আমরা এখন জ্বালানী
    সমস্যা হলো আমরা এখন জ্বালানী সম্পদের রাজনীতিতে পিছিয়ে গেছি। আওয়ামী লীগের গত পিরিয়ডে যে শক্ত রাজনীতি গড়ে উঠেছিল গত তিন বছরে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আমাদের কোনঠাসা অবস্থার কারনে আমরা পিছিয়ে গেছি। তাই এখন কনকো ফিলিপসরা চুপচাপ লাভ নিয়ে সটকে পরে, খুব বেশি কেউ খবরও রাখে না।

  5. ভাই!বুঝলাম তো -হয়তো কমই
    ভাই!বুঝলাম তো -হয়তো কমই বুঝেছি তাইতো আপনাকে বুঝাতে আমি ব্যর্থ। দেশের এতগুলো উন্নয়নে মধ্যে দু-একটা ধিক লোকসানের কথাই আমরা আলোচনা করি-! লাভ যেটুকু হয়েছে বা হয় তা আড়াল করে রাখার খুব ভাল-একটা মাধ্যম আমাদের এই আলোচনা। বস!-রাগ হইয়েন না, আমি অজ্ঞানি সাধারন একজন।আপনাদের জ্ঞানজগতে আমি অতি তুছ্য,বস্তুও বলতে পারেন কারন আমার ধারা দেশের কোন উপকার হবে বলতে পারিনা-!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3