বিস্মৃত জর্জ টুকার, তার শিল্প এবং সোশ্যাল রিয়ালিজম

 

জর্জ টুকার সম্পর্কে বাংলা ভাষায় তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। অথচ মার্কিন শিল্পীদের মধ্যে মাত্র যে নয়জন আমেরিকার ‘জাতীয় শিল্প পদক’ পেয়েছেন তিনি তাদের মধ্যে একজন। রাষ্ট্র কর্তৃক মূল্যায়িত হলেও রাষ্ট্রের সঙ্গে তার দেনা পাওনা খুব একটা ভালো ছিল না।


দ্য সাবওয়ে, ১৯৫৩

৪০ দশকে সূচিত দুনিয়াজোড়া মার্কসবাদবিরোধী প্রোপাগান্ডার মধ্যে শিল্পকর্মও অংশীদার ছিল। টুকারকেও এই প্রক্রিয়ার অংশ করার চেষ্টা করা হয়, কারণ তিনি তখন উঠতি ম্যাজিক রিয়ালিস্ট ধারার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীদের একজন। কিন্তু টুকার ধীরে ধীরে বৃত্ত ভাঙতে শুরু করেন এবং নিজেকে ম্যাজিক রিয়ালিস্টের বিপরীতে সোশ্যাল রিয়ালিস্ট বলে পরিচয় দিতে থাকেন।


দ্য গভর্নমেন্ট ব্যুরো, ১৯৫৬

টুকারের জন্ম ১৯২০ সালের ৫ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন হাইটসে। এরপর তিনি ছেলেবেলায় দীর্ঘদিন বেলপোর্টে কাটিয়েছেন। টুকারের শিল্পসত্ত্বা ও চিন্তার জটিলতার সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তার বাবা ছিলেন একজন অ্যাংলো ফ্রেঞ্চ মার্কিন নাগরিক, আর তার মাতা ছিলেন ইংলিশ ও স্প্যানিশ কিউবান নাগরিক। পারিবারিক সূত্রেই টুকার বিস্তৃত ও ভিন্নধর্মী সব বিষয়াদির সঙ্গে পরিচিত হন। যে সমাজে তিনি বাস করতেন, দেখতে পেতেন তার চেয়ে বেশি কিছু।


ওয়েটিং রুম, ১৯৫৭


লাঞ্চ, ১৯৬৭

টুকারের শিল্পকর্ম সম্পর্কে সমালোচকরা বলেছেন, ‘তার পেইন্টিংগুলো কোনো উত্তর নয়, বরং প্রশ্নের সমাহার!’ নাটকটা তখনই জমে ওঠে যখন দর্শক তার পেইন্টিংয়ের সামনে দাঁড়ান, তখন তারা ছবিতে বা ছবির ঘটোনায় বেশিক্ষণ থাকতে পারেন না, তারা দ্রুত সরে যান বাস্তবের দিকে। নিজের মাথায় গচ্ছিত ছবিকে মেলানোর চেষ্টা করেন টুকারের ছবির সাথে। এভাবে টুকারের ছবি ব্যক্তির শিল্পসত্ত্বাকে সামাজিক সত্ত্বার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। টুকার মূলত আমেরিকার গৃহযুদ্ধ দ্বারা বেশি প্রভাবিত হন। ৫০ থেকে ৭০ দশকে তিনি একটানা সমাজ সচেতনতার বিষয়কে ভিত্তি করে শিল্পরূপ দিতে শুরু করেন।


মিরর, ১৯৭৮


ওয়েটিং রুম-২, ১৯৮২

২০১১ সালের ২৭ মার্চ টুকার কিডনি নষ্ট হয়ে মারা যান। কিন্তু তার শিল্পকর্ম চিরকাল বেঁচে থাকবে, এমনটাই মনে করেন শিল্পবোদ্ধারা। তার সোশ্যাল রিয়ালিজম আন্দোলন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরাজয়ের পর সারা দুনিয়াতেই চাপা পড়ে গেছে। আজ সোশ্যাল রিয়ালিজমের ধারণার সঙ্গে তরুণরা পরিচিত নয়। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন বেগবান হলে টুকার যে সমহিমায় আবির্ভূত হবেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


এম্ব্রেস অব পীস-২


বিহাইণ্ড দ্য ওয়াল

শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “বিস্মৃত জর্জ টুকার, তার শিল্প এবং সোশ্যাল রিয়ালিজম

  1. অসাধারণ একটি পোস্ট। আগে কিছুই
    অসাধারণ একটি পোস্ট। আগে কিছুই জানতাম না টুকার সম্পর্কে, এমনকি নামটাও না। আর ছবিগুলো সব যেন একেকটা বোমা! অসংখ্য ধন্যবাদ পোস্টদাতাকে।

  2. এই প্রথম তাঁর নাম শুনলাম,
    এই প্রথম তাঁর নাম শুনলাম, অনেক অনেক ধন্যবাদ এই অসাধারণ পোষ্টের জন্য :থাম্বসআপ:

    1. এখানে অনেক কিছুই আড়ালে পড়ে
      এখানে অনেক কিছুই আড়ালে পড়ে আছে। আমি লেখা শুরু করেছিও তাই নিয়েই। প্রথমে কৃষ্ণা সোবতির একটী গল্প দিয়েছিলাম। এভাবেই পেছনের বিষয়গুলো, আড়ালে থাকা বিষয়গুলো টেনে আনার চেষ্টা করছি। ইস্টিশনের পরিবেশ আমার গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

  3. যে হতাশায় দিনাতিপাত করি তা
    যে হতাশায় দিনাতিপাত করি তা যেন বাড়িয়ে দিল আপনার এই পোস্ট……আসলেই কিছুই জানি না…ধন্যবাদ এই পোস্টের জন্য…

    1. হতাশা বাড়াতে চাই না, মানুষকে
      হতাশা বাড়াতে চাই না, মানুষকে জানার আকাঙ্ক্ষাকে প্রলম্বিত করে দিতে চাই কেবল!

Leave a Reply

Your email address will not be published.