ট্রাফিক পুলিশ হলে দুঃখ বাড়বে হিজড়াদের!

?oh=056d38158c1f8ef120f688fdbef04c59&oe=55F85495&__gda__=1442581788_6faa576f0543a77d2737b9a6f4def7c5″ width=”550″ />

হিজড়াদের ট্রাফিক পুলিশ বানানো হচ্ছে শুনে অনেকেই আনন্দিত হয়েছেন। অনেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু অবস্থার পর্যালোচনা বলছে, সরকার বিচার বিবেচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতে এ ধরনের একটি পরিকল্পনার কথা শুনে এদেশের সরকার তার পদাঙ্ক অনুসরণের রাস্তায় হাঁটে। বাস্তবে দুর্গত জনগোষ্ঠী হিসেবে হিজড়াদের অবস্থার উন্নয়নের পরিকল্পনা সরকার করেনি। তাদেরকে একটু সুস্থ, স্বাভাবিক, বিকাশমান পেশার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়নি। উল্টো বঞ্চিত ট্রাফিক পুলিশের কঠিন জীবনে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো ট্রাফিকরা হচ্ছেন এ দেশের সবচেয়ে বাজে পেশার ভুক্তভোগী। রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে জীবন যায় তাদের। কিছুতেই ডিউটি মাফ নেই ট্রাফিক পুলিশের। একটু অন্যমনষ্ক হলেই গাড়ির চাকা থমকে যায়। লেগে যায় জট। ধুলো-বালি আর কালো ধোঁয়ার ভেতর রাস্তায় দাঁড়িয়ে অবিরাম বাঁশি ফুঁকে, হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করাই ট্রাফিক পুলিশের কাজ। তারপরও নেই কাঙ্খিত ছুটি। নেই পদোন্নতি, সামাজিক মর্যাদাও। দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রমের পর শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পুলিশের এ বিশেষ বিভাগের সদস্যরা চাকরিজীবন শেষ করেন।

সরকার ট্রাফিকদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো এর মধ্যেই ঢুকিয়ে দিচ্ছে পিছিয়ে পড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীকে। বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা হিজড়াদের খুব একটা ইতিবাচকভাবে দেখে না। তাদেরকে ট্রাফিক পুলিশ করা হলে তারা কটূক্তি, নিপীড়নমূলক উক্তি ও অসামাজিক আচরণের শিকার হতে পারেন। ট্রাফিক পুলিশিং সিস্টেমটা ভয়ানক দুর্নীতিগ্রস্ত। রাস্তায় দাঁড়ানো আনসার থেকে শুরু করে এসআই পর্যন্ত সকলেই অনৈতিকভাবে টাকা তোলে। হিজড়ারা এর ভেতর জড়ালে তারা বেশি বাজে রকমের পরিস্থিতিতে পড়বে। ট্রাফিক পুলিশে গেলে যে হিজড়াদের নিরাপত্তা ও আত্মসন্মানের বিষয়টি হুমকির মধ্যে পড়োবে সরকার তা বিবেচনা করেনি, করছে না। উন্নত বিশ্বে হিজড়ারা সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ হিসেবে বিশেষ সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। সরকার সেসব বিষয়ে মনোযোগ দিল না। বরং তাদেরকে কঠিন, কষ্টকর ও বঞ্চিত একটি পেশার দিকে ঠেলে দিল। অথচ ২০১১ সালে উত্থাপিত হিজড়াদের তাঁত শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার অসাধারণ প্রস্তাবটিতে সরকার সাড়া দেয়নি। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হিজড়াদের মূল ধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, দিচ্ছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে তাদের। অথচ সরকার তা থেকে শিক্ষা নেয়নি।

?oh=b210da7e0db0c58f98eb137f07fb3466&oe=55C34A44&__gda__=1439317106_0821e43c9dbffd18d9ab539a3cea36d5″ width=”400″ />
ইউসেপ ট্রেনিং সেন্টারে দেড় মাসব্যাপী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

একাধিক ট্রাফিক কনস্টেবল ও ট্রাফিক সার্জেন্ট জানিয়েছেন, ধুলো-বালি আর গাড়ির কালো ধোঁয়ার মধ্যে টানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে গিয়ে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ট্রাফিক কনস্টেবল ও সার্জেন্টরা। তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট রোগীর সংখ্যা বেশি। অবসরে যাওয়ার পর তারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওই রোগে ভুগতে থাকেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন। সার্জেন্ট আমজাদ হোসেন জানান, কাশ-জ্বর লেগেই থাকে। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কোমর ও মেরুদণ্ডের ব্যথা শুরু হয়। ডিউটি শেষ করে ব্যারাকে ফিরে গরম পানি দিয়ে স্যাঁকা দিতে হয় কোমরে। বক্ষ ব্যাধি বিশেষজ্ঞরাও এর সপক্ষে পত্রিকায় বলেছেন।

পুলিশে যোগদানের পর একজন এএসআই ৫/৬ বছরের মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে এসআই হয়ে যান। অথচ ২০ বছরেও সার্জেন্টদের পদোন্নতি হয় না। কাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলেছেন, চাকরির শুরু থেকে অবসরে যাওয়া পর্যন্ত তাদের চেয়ার টেবিলে বসে চাকরি করার সুযোগ খুবই কম। রাস্তায় ডিউটির মধ্যেই তাদের চাকরিজীবন শেষ করতে হয়। এরকম একটি পেশার সঙ্গে পিছিয়ে পড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীকে জড়িয়ে দেয়ার অর্থ হচ্ছে তাদের দুঃখ বাড়িয়ে দেয়া।

?oh=59c8fd86fccdfb43de17da228c38dfa9&oe=55FEA400″ width=”300″ />
৩০ জন হিজড়া দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কাজ শিখেছেন

হিজড়াদের প্রতি রাষ্ট্রের আন্তরিক মনোযোগ জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি। তাদেরকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ করে দেয়াটা রাষ্ট্রের কর্তব্যও বটে। ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার যেখানে জরুরী, সেখানে হিজড়াদের যুক্ত করাটা কোনো উত্তম সমাধান নয়। এর সঠিক সমাধানের দাবি তোলাটা আমাদের কর্তব্য।

তথ্যসূত্র ও লেখার কৃতজ্ঞতা : ট্রাফিক পুলিশের দুঃখগাথা
ছবিসূত্র : Incorporating the “Others” into the Mainstream.

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “ট্রাফিক পুলিশ হলে দুঃখ বাড়বে হিজড়াদের!

  1. হিজড়ারা যে চাঁদা না তুলে,
    হিজড়ারা যে চাঁদা না তুলে, বাজার না খুটে স্বাভাবিক কোন কাজ করে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারে এরকম কোন ভাবনার সাথে বেশীরভাগ মানুষের পরিচয় নেই। এদের যদি আমরা দেখি পথে ঘাটে অনেকে কাজ করছে তাহলে অন্তত ভাবনাতে আসবে তাঁরাও কাজ করতে পারে। ট্রাফিক পুলিশিং এর কাজ নিঃসন্দেহে কঠিন কিন্তু সেটাতো কেউ না কেউ করছে। স্বীকৃত একটা পেশার সাথে যুক্ত করাটা কম চ্যালেঞ্জ নয়। কষ্টকর কাজ করেও তাঁরা যদি তাঁদের দক্ষতা দেখাতে পারে তাহলে এরো অনেক পেশায় তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার পথের বাঁধা দূর হবে, এমনটা আশা করাই যায়। আমি তাঁদের স্বাগত জানাই এ কাজের জন্য। কষ্ট করে হলেও তাঁরা সমাজে তাঁদের অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করুক।

    1. আমার কাছে মনে হয়, দুর্গত ও
      আমার কাছে মনে হয়, দুর্গত ও পিছিয়ে পড়া একটা জনগোষ্ঠীকে এরকম বঞ্চিত একটা পেশার সঙ্গে যুক্ত করাটা একটা হঠকারি সিদ্ধান্ত। হিজড়াদের আন্তরিকভাবেই সাহায্য করা উচিত। ভালো ও নিরাপদ পেশায় তাদের পুনর্বাসন করা উচিত। আর সেই পথটা তো এখানে দেখানোও হয়েছে। এখন যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে, বাস্তবে তা কাজে দেবে না। তারপর দোষটা চাপবে তাদের কাঁধেই, বলা হবে ওরা পারেনি। অথচ পুলিশ প্রশাসনের প্রতিক্রিয়াশীল ও ভয়ঙ্কর স্বৈরতান্ত্রিক দপ্তরগুলো দেখা যাবে কেউই তাদের সঠিকভাবে সহযোগিতা করবে না। পুলিশদের কাছে এতটা ভালো এখনো প্রত্যাশা করতে পারছি না।

      1. দুর্গত এবং পিছিয়ে পড়া একটা
        দুর্গত এবং পিছিয়ে পড়া একটা জনগোষ্ঠীকে কে সেধে সম্মানজনক কাজ দিবে? দুএকজন ব্যতিক্রম ব্যক্তি এগিয়ে এসে দুএকজনকে পুনর্বাসিত করলেও তা সমাজের চিত্র পাল্টাবে না। বরং সরকারী চাকরীর একটা সুযোগ যদি তাঁরা পায় তাঁদের সেটা নেয়া উচিৎ।
        পুলিশ বা সাধারণ মানুষ, কেউ প্রথম অবস্থায় তাঁদের সহযোগিতা করবেনা। বাঁধা আছে। আছে হাঁ-বোধক বং না-বোধক অনেকদিক। তাঁদের অত্যাচারিত হবার অনেক সম্ভাবনা আছে কিন্তু সাথে সাথে তাঁরা প্রতিকার চাইবার একটা সুযোগও পাবে।

        কয়েক বছর আগে আমার এক বান্ধবী মেয়েদের একটা বিউটি পার্লার খুললে আমি বলেছিলাম সেখানে হিজড়াদের কাজ দিতে। সে রেখেছিল দুজন শিক্ষানবিশ। কিন্তু ফল হয়েছিলো তাঁর পার্লারে মেয়েরা যেতে চাইতো না। অবস্থা দেখে তাদেরকে একটা ছেলেদের সেলুনে কাজের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছিলো। জানিনা তাঁরা এখনো কাজ করছে কিনা?
        বেসরকারিভাবে তাঁদের প্রশিক্ষন দিয়ে ছেড়ে দেয়াটাই সমস্যার সমাধান নয়। তাঁদের মেইনস্ট্রিমে আসার সুযোগ করে দেয়া বেশী জরুরী। শুধু অন্যের সাহাজ্যে পোলাউকোর্মা না খেয়ে যদি নিজের যোগ্যতায় ডালভাত খায় সেটা বেশী সম্মানের।

        1. দুর্গত এবং পিছিয়ে পড়া একটা

          দুর্গত এবং পিছিয়ে পড়া একটা জনগোষ্ঠীকে কে সেধে সম্মানজনক কাজ দিবে?

          রাষ্ট্রের দায়িত্বই এটা। রাষ্ট্র সামগ্রিক উদ্যোগ নেবে। আপনি ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যেককে আলাদা করছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব এদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা। তা না করে সে একটা লোক দেখানো কাজ করছে।

          1. রাষ্ট্রের দায়িত্বই এটা।// সে
            রাষ্ট্রের দায়িত্বই এটা।// সে হিসেবে সব নাগরিকের সম্মানজনক কাজের দায়িত্ব সরকারের। আমার কাজে আমি সন্তুস্ট নই। দায় সরকারের।

            তা না করে সে একটা লোক দেখানো কাজ করছে।// লোক দেখানো কেন বলছেন? এতে কোন ফল আসবেনা ভেবে নিচ্ছেন কেন?

            যতবার বলছেন এদের জন্য সম্মানজনক কাজের ব্যবস্থা করার কথা ততবার আপনি ট্রাফিকপুলিশের কাজকে অসম্মান করছেন।

            প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার কাজটাকে এগিয়ে নিয়ে যাক। আরো অনেক কাজে এদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু দেখেন এমনিতেই কোটার যন্ত্রণায় আমরা অস্থির। হঠাৎ করে এদের জন্য আরো একটা কোটা ধার্য করলে আমাদের মধ্য থেকে ফুসে উঠবে অনেকে। সহনীয় মাত্রায় গ্রহণীয় করে এদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

            আপনার কথায় যুক্তি এবং দরদ আছে। শুধু সবকিছু রাষ্ট্রের কাঁধে চাপিয়ে দেয়াটা অদ্ভুত লাগছে।

          2. যতবার বলছেন এদের জন্য

            যতবার বলছেন এদের জন্য সম্মানজনক কাজের ব্যবস্থা করার কথা ততবার আপনি ট্রাফিকপুলিশের কাজকে অসম্মান করছেন।

            আপা, হাসাইলেন আমারে! ট্রাফিক পুলিশের পেশাটা অনিরাপদ, কষ্টকর এবং বঞ্চনামূলক। এটাই বাস্তব অবস্থা। কেন, তা সহব্লগার বেশ ভালোভাবেই উল্লেখ করেছেন। আপনি বাস্তব বলাটাকে অপমান করা বলছেন? একটু চেতনাজীবীদের মতো লাগলো শুনতে!

            সে হিসেবে সব নাগরিকের সম্মানজনক কাজের দায়িত্ব সরকারের। আমার কাজে আমি সন্তুস্ট নই। দায় সরকারের

            এটা কি বললেন? আপনি কি বুঝে বলছেন? হিজড়ারা আর সাধারণ নাগরিকরা কি একই রকম? তারা কি পিছিয়ে পড়া, অবহেলিত এবং সামাজিকভাবে নিগৃহীত নয়? তাদের প্রশ্ন সবার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন।

            সবকিছু রাষ্ট্রের কাঁধে চাপিয়ে দেয়াটা অদ্ভুত লাগছে।

            হা হা হা, এভাবে রাষ্ট্রের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠলেন শেষ পর্যন্ত। সবকিছু তো রাষ্ট্রের কাছে চাইছি না। কেবল বলছি, দুর্গত জনগোষ্ঠীর প্রতি সদাচরণ করতে। রাষ্ট্র যা করছে এটা লোক দেখানো বলেছি এজন্য যে, কার্যত এ পরিকল্পনাটা তাদের বিকাশের জন্য উপযোগী না, কেবলই বাহবা কুড়ানোর অপরাজনৈতিক খেলা।

          3. নিশ্চই হাসবেন। প্রাণ খুলে
            নিশ্চই হাসবেন। প্রাণ খুলে হাসবেন। হাসলে হার্ট ভালো থাকে। ট্রাফিক পুলিশের কাজ আরামদায়ক বলেছি কি? বলেছি অন্যান্যরা যখন এই পেশায় যায় তখন কষ্টকর বলছেন আর যারা হিজড়া তাঁরা গেলে বলছেন অসম্মানজনক।

            তাঁরা অবহেলিত এবং সামাজিকভাবে নিগৃহীত বলেই প্রকল্পভিত্তিক তাঁদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার কথা আসছে। তাঁদের প্রশ্ন সবার সাথে গুলিয়ে শরবত বানাচ্ছিনা যেহেতু তাঁদের মঙ্গল গ্রহে পুনর্বাসিত করার কথা ভাবা হচ্ছে না তাই সবার সাথে তাল রেখে তাঁদের কথা ভাবার কথা বলছি।

            শুধু বাহবা কুড়ানোর অপরাজনৈতিক খেলার উপাদান কম নেই আমাদের দেশে। হিজড়াদের নিয়ে না ভাবলে সরকারের খুব একটা জবাবদীহি করতে হয়না এদেশে। কতই বা তাঁদের ভোট বলেন? বরং সরকার যে তাঁদের প্রতি মনোযোগ দিয়েছে সামান্য হলেও সেটাকে সাধুবাদ জানানো যায়।

            ঠোঁটকাঁটা, সাহসী এবং দুর্নীতিতে অনভ্যস্ত হিজড়ারা এ কাজে দেশের মানুষের প্রশংসা কুড়াতে পারবে বলে মনে করি। সামান্য উদ্যোগ হলেও মূলধারার পেশাজীবীদের মধ্যে তাঁদের যোগদেয়াকে স্বাগত জানাই।

          4. অন্যান্যরা যখন এই পেশায় যায়

            অন্যান্যরা যখন এই পেশায় যায় তখন কষ্টকর বলছেন আর যারা হিজড়া তাঁরা গেলে বলছেন অসম্মানজনক।

            আপনাকে একটা তালগাছ দিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে মাইরি! আমি আবার কখন এটা বললাম? সম্মান বা অসম্মানের প্রশ্নটা আপনি এর মধ্যে ঢুকিয়েছেন।

            আপনার একটি বাক্য ছিল এরকম- ‘দুর্গত এবং পিছিয়ে পড়া একটা জনগোষ্ঠীকে কে সেধে সম্মানজনক কাজ দিবে?’ জবাবে বলেছিলাম, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বই এটা। রাষ্ট্র সামগ্রিক উদ্যোগ নেবে। আপনি ব্যক্তি হিসেবে প্রত্যেককে আলাদা করছেন। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব এদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করা। তা না করে সে একটা লোক দেখানো কাজ করছে।’

            এরপর আপনি বললেন, ‘যতবার বলছেন এদের জন্য সম্মানজনক কাজের ব্যবস্থা করার কথা ততবার আপনি ট্রাফিকপুলিশের কাজকে অসম্মান করছেন।’ জবাবে বললাম, ‘আপা, হাসাইলেন আমারে! ট্রাফিক পুলিশের পেশাটা অনিরাপদ, কষ্টকর এবং বঞ্চনামূলক। এটাই বাস্তব অবস্থা। কেন, তা সহব্লগার বেশ ভালোভাবেই উল্লেখ করেছেন। আপনি বাস্তব বলাটাকে অপমান করা বলছেন? একটু চেতনাজীবীদের মতো লাগলো শুনতে!’

            এর জবাবে এসে আপনি দিলেন এই মন্তব্য- ‘অন্যান্যরা যখন এই পেশায় যায় তখন কষ্টকর বলছেন আর যারা হিজড়া তাঁরা গেলে বলছেন অসম্মানজনক।’ এই কথা আমি কোথায় বলছি? এ তো স্পষ্ট মিথ্যাচার। কেমনে কি? নিজের প্রয়োগকৃত শব্দ ও কথার দায় মাত্র তিনটা মন্তব্য পেরিয়েই চাপিয়ে দিলেন আমার মুখে? আমি পরিষ্কারভাবে বুঝি, কোনো পেশাই অসম্মানজনক নয়, তবে অনেক পেশাই খারাপ, বঞ্চিত ও অনিরাপদ, এসব পেশার সংস্কার জরুরী। নতুন করে এসব পেশায় ‘উন্নয়নের নাম করে দুর্গতদের ভিড়িয়ে দেয়াটা’ অন্যায়।

          5. // এই কথা আমি কোথায় বলছি? এ
            // এই কথা আমি কোথায় বলছি? এ তো স্পষ্ট মিথ্যাচার।//

            সুস্থ, স্বাভাবিক, বিকাশমান পেশার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়নি।// যে পেশা সুস্থ্য স্বাভাবিক এবং বিকাশমান নয় তাঁকে নিশ্চই এক কথায় অসম্মানজনক বলা যায়। পোষ্টদাতা সহব্লগারের সাথে যেহেতু আপনি একমত তাই বহুবচনে সম্বোধন করে আমার বলা।

            ট্রাফিক পুলিশের অসুস্থ্য, অস্বাভাবিক এবং অবিকাশমান পেশার কথা উল্লেখ করে এমন একখান দরদি পোষ্ট দেখলে আমিও জোর গলায় তাঁদের অবস্থার উন্নয়নের জন্য দাবী জানাতাম। আফসোস যখন হিজড়াদের অন্তর্ভুক্তির ব্যপার আসলো তখন কেবল তাঁদের “বঞ্চনা” আমরা দেখতে পাচ্ছি।

            //আপনি বাস্তব বলাটাকে অপমান করা বলছেন? একটু চেতনাজীবীদের মতো লাগলো শুনতে!//

            বাস্তব বলাকে অপমান করছিনা বরং আপনাদের মত করে বাস্তব দেখলে আর একটা কষ্টকর বাস্তবকে অপমান করা হয়, সেটাই বলেছি।
            চেতনাজীবী লেখে গুগল সার্চ দিয়ে দেখলাম আওয়ামীলীগের সমর্থকদেরকে বাঁশের কেল্লা চেতনাজীবী বলছে। সেখানে জাফর ইকবাল স্যারকেও চেতনাজীবী বলা হচ্ছে।

          6. আপনাদের বিতর্ক বেশ উপভোগ
            আপনাদের বিতর্ক বেশ উপভোগ করছি। এই ধরনের ব্লগিং বিতর্ক এখন খুব একটা হয় না।

  2. সংবাদটা যখন শুনি তখন এভাবে
    সংবাদটা যখন শুনি তখন এভাবে চিন্তা করিনি। বিষয়টা নিয়ে আসলে চিন্তার খোরাক আছে। এদেরকে পুর্ণবাসন প্রয়োজন। সেটা করতে হবে যথেষ্ঠ চিন্তা-ভাবনা করে। আমি বলছি না সরকারের সিদ্ধান্তটির পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে। বরং এই অবহেলিত গোষ্টি নিয়ে সরকার যে ভাবছে সেটা স্পষ্ট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

83 + = 92