অন্য চোখে শাহবাগ আন্দোলন, সরকার ও অনান্য

অনেকে বলছেন শাহবাগ আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার জন্য সরকার এই আন্দোলনে সমর্থন করেছে । ঘটনা কি তাই? যদি তাই হয় তবে কোথাকার কোন হেফাজতের এত সাহস কোত্থেকে আসে এর বিরুদ্ধে দাড়াবার? আসলে কি ফসল তোলা না কি আন্দোলন দমিয়ে দেয়া? কোনটা? আসুন একটু অন্যভাবে ঘটনা প্রবাহ দেখি।

গনমানুষ শাহবাগ আন্দোলনে দাড়িয়েছিল কারো কোন প্ররুচনা কিংবা সহায়তা ছাড়া। যা সরকারের সামনে একটা অশনী সংকেত হিসেবে ধরা দেয়। তাই তড়িঘড়ি করে তার মন্ত্রীদের পাঠিয়ে একে হাত করার একটা ব্যবস্থা চালায়। কিন্তু সাধারন ছাত্র সমাজ ও জনতার প্রতিরোধে তা হালে পানি পায়নি। ফলে সরকার খুব সুকৌশলে মঞ্চের দাবী বাস্তবায়ন করার জন্য পদক্ষেপ নেয় যেন গনজাগরন মনে করে সরকার তাদের সাথে আছে। তা না হলে মহান জাতীয় সংসদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করার আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল কি? আমরা কি আরো একটু অন্ধকারের দিকেই ধাবিত হলাম?

সরকার আবার আরো এককাঠি সরেস। তড়িঘড়ি করে ট্রাইবুনাল সংশোধন করে আপিলের বিধান পাশ করে পুরাপুরিই আন্দোলন করতলগত করার একটা পায়তারা চালায়। কিন্তু দিনে দিনে আন্দোলন এতটাই জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল যে তা রোখা সরকারের জন্য একটা মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিত। তাই সরকার এইবার জামাত শিবিরের কায়দায় হত্যা করায় একজন সাহসী ব্লগার রাজীব হায়দারকে। আর রাজীবের লিখালিখি তো মোটামোটি সবারই জানা। তাই গিনিপিগ হিসেবে তাকে বেছে নেয়ার মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকেনা। যত দূষ নন্দঘোষ জামাত শিবির তো আছেই। রাজীবের হত্যাকান্ড নিয়ে আন্দোলনের গতি কোন দিকে ধাবিত হয়েছে তাতো আজ সবার কাছে পরিস্কার। সরকার আমার দেশ পত্রিকার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা কেন নেয়নি তা মনে হয় এইবার কিছু অনুমান করা যায় । তা না হলে নাস্তিক আস্তিক ইস্যু এত জনপ্রিয়তা পাবার কারন কি?

২২ ফেব্রুয়ারীর সহিংসতা তো সকলেরই জানা আছে। একটা বিষয় কি একবার ভেবে দেখবেন? অতি চতুর সুকৌশলী জামাত শিবির জাতীয় পতাকা ছেড়া আর শহীদ মিনার ভাংচুরের মত কাজ করে জনরোষে পরতে চাইবে কি? যদি না হয়, তাহলে এই তান্ডবের পেছনে কি আরো অন্য কেউ আছে? আর জনতা যে এই তান্ডবের পেছনে নাই তাতো ২৪ ফেব্রুয়ারীর হরতালেই পরিস্কার বুঝা গেছে । যদি অন্য কেউ থাকে, তাহলে তারা কে বা কারা ?

২৪ ফেব্রুয়ারীর হরতাল ব্যর্থ হবার কারন মূলত, সরকার নাস্তিক আস্তিক ইস্যুটা চাহিদামত প্রচার করতে পারেনি তখনও, তাই সারা বাংলায় জনসাধারনের কাছে তুলে ধরার জন্য মোবাইলে মসেজ দিয়ে জানান দেয়। ফলে আমজনতা খুজে দেখার চেষ্টা করে ঘটনা কি? রাজীবকে নাস্তিক প্রমানের জন্য তো আমার দেশ আছেই। অন্যদিকে এই ইস্যুকে আরো চাঙ্গা করার জন্য তৈরী করা হয় হেফাজতে ইসলাম নামক ভুইফোড় এক গোড়া মোল্লাদের দল। আমার কথাগুলোর সাথে দ্বিমত থাকলে একটু ভেবে দেখুন তো যে মোল্লারা সারাদেশে এক হয়ে সম্পুর্ন কোরান পরিপন্থি নারী নীতির জন্য একদিনের বেশি হরতাল দিতে পারেনি সেখানে চিটগাঙের কিছুসংখ্যক মোল্লা গনজাগরন মঞ্চের সমাবেশ রুখে দেয়ার মত এত দুঃসাহস পায় কোথায়? আজ নতুন করে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজা খুব জরুরী নয় কি?

আজ সরকারের কাছে জামাত শিবির নিষিদ্ধ করার চেয়ে বেশি জরুরী ব্লগার নিধন। এর কারন কি?
মুলত জামাত শিবির সরকার বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের জন্য কোন প্রকার হুমকি নয়, বরং অর্থ যোগানের একটা মেশিন।জামাত শিবির হুমকি হবে শুধুই বাংলাদেশের জন্য। সব রাজনৈতিক দলই জানে যে তারা রাজনীতি করে নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য। তাদের কাছে দেশ কোন বিষয় না, আসল বিষয় ক্ষমতা। সুন্দর একটি বাংলাদেশের জন্য একমাত্র যে গুটিকয়েক লোক স্বপ্ন দেখে তাদের মধ্যে বর্তমান মুক্তমনা ব্লগারেরা অন্যতম। এই ব্লগারদের কাছে ব্যক্তি স্বার্থের থেকে দেশটাই অধিক প্রিয়। এই ব্লগারেরা শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীকে যেভাবে একসারিতে এনে দাড় করাতে পেরেছে তা অন্যান্য সব দলের জন্যয় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। আজ যদি ব্লগারদের রুখে না দেয়া যায় তাহলে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক দলের জন্য তা শুভকর হবেনা । আমার মনে হয় এই কারনে গোপনে সব দলই এক হয়ে ব্লগারদের বিরুদ্ধে কাজ করছে। আওয়ামি লীগ ছাড়া অন্যান্য দল তো প্রকাশ্যেই বিরুদ্ধাচরন করছে। আর আওয়ামীলীগ তাদের হয়ে করছে দমনের কাজটি। তাই সব রসুন এক হয়ে রুখে দিতে চাচ্ছে কন্ঠ। কোথাকার কোন হেফাজতের দাবীর দোহাই দিয়ে গঠন করা হয়ছে সাইবার ক্রাইম ট্রাইবুনাল, আর এই ট্রাইবুনালের কাজ হচ্ছে যারা সরকার ও অন্যান্য দলের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে তাদের দমন করা। বিষয়টা হাস্যকর নয় কি?

বাংলাদেশে একটিভ বর্তমান মুক্তমনা ব্লগার ও অনলাইন একটিভিষ্টরা আমার এই ফালতু কথাগুলো একবার ভেবে দেখবেন কি?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “অন্য চোখে শাহবাগ আন্দোলন, সরকার ও অনান্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 1