পরাধীনতার কালে প্রথাগত আলোর অপেক্ষা!

স্বরাজের দাবি কালে কালে বদলে গিয়ে পরিণত হয়েছে অরাজের দাবিতে! মানবসভ্যতার ইতিহাসে রাষ্ট্রচিন্তার বিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি স্ববিরোধী হয়ে দেখা দিয়েছে শুধু পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। আমাদের দেশে এটি বেশ ভালোভাবেই মূর্ত হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগে যে বাঙালিরা একদিন এগিয়ে এসেছিল, এক পর্যায়ে তাদের আবার অস্ত্র হাতে নিতে হয় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার জন্য। সেই রাষ্ট্রে আজ আবার নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। দরজায় কড়া নাড়ছে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের দাবি!

রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে কথা বলার আগে রাষ্ট্র সম্পর্কে কিছুটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। এই দেশটা এখন যেমন আমাদের, পূর্বে এটি ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের। কিন্তু এটি এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্র হলেও কিছুদিন আগে এটি ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র। তার আগে ব্রিটিশ ভারত, তারও আগে মুঘল সাম্রাজ্য! অর্থাৎ একই দেশে রাষ্ট্রের অস্তিত্ত্ব ক্রমে ক্রমে তার রূপ বদলেছে। এই রাষ্ট্রটা তাহলে কী?

রাষ্ট্র হচ্ছে, একই নির্দিষ্ট ভূখন্ড ও তার জনগণের সর্বোচ্চ উপরিকাঠামো। এর অনুষঙ্গ হচ্ছে সংবিধান তথা আইন, তা বাস্তবায়নের জন্য আমলাতন্ত্র ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনী এবং এসবের সমন্বয়-পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত সরকার ব্যবস্থা। একটি রাষ্ট্রের চরিত্র কেমন তা এই অনুষঙ্গগুলোর প্রত্যেকটির ওপরই নির্ভর করে।

রাষ্ট্রের কাজ সম্পর্কে মোটা দাগে দুই ধরনের মতবাদ চালু। ম্যাকিয়াভ্যালি নির্দেশিত মত হচ্ছে, রাষ্ট্রের কাজ মীমাংসা করা। সমাজে মানুষে মানুষে প্রাপ্তির ফারাক থাকায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মানুষ নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে অন্যের অধিকার হরণ করে। তখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব পড়ে এর সমাধান করা, অন্যায়কারীকে শাস্তি দেয়া অন্যায়ের শিকার ব্যক্তির ক্ষতির প্রতিকার বিধান করা।

বিপরীত মতটি মার্কসবাদীদের। রাষ্ট্রকে মিটমাটের যন্ত্র বলতে তারা নারাজ। তাদের মতে, এতে সত্য আড়াল হচ্ছে। রাষ্ট্র আসলে শ্রেণীদ্বন্দ্বের অমীমাংসেয়তার ফল। যখন মানুষ মালিক আর দাস এমন শ্রেণী বিভাজনে বিভক্ত হয়ে গেল, আর কোনোভাবেই ওই দুইশ্রেণীর দ্বন্দ্বের মীমাংসা হলো না, তখন প্রশ্ন এলো একদলের ওপর আরেক দলের কর্তৃত্বের। ওই কর্তৃত্ব বজায় রাখতে মানুষকে একটি ব্যবস্থাপনা দাঁড় করাতে হলো। এটাই রাষ্ট্র- শ্রেণী একনায়কত্ব প্রয়োগের হাতিয়ার হিসাবে তার জন্ম।

মার্কসবাদীরা আরও বলেন, অস্ত্রধারী বাহিনী, বিচার ব্যবস্থা ও আমলাতন্ত্র- এগুলোর দরকার পড়ে শ্রেণীদ্বন্দ্বকে বশে রাখার জন্য, বিরোধীদের উত্থানকে প্রতিহত করার জন্য এবং নিজ কর্তৃত্বকে টিকিয়ে রাখা ও বিকশিত করার জন্য। সমাজে শ্রেণী না থাকলে রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ত্বই থাকে না, ইতিহাসে এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। এ থেকে তারা সিদ্ধান্ত টানেন যে, একটি রাষ্ট্রের চরিত্র তথা তার অনুষঙ্গগুলো মৌলিকভাবে পরিবর্তিত না হলে, কেবলমাত্র শাসক বদলালে বাস্তবে সমাজের কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটে না, বড়জোর যা ঘটে তা হলো সংস্কার।

যে বাস্তবতা থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র যাত্রা শুরু করেছিল, তখন যে চরিত্র ধারণ করেছিল, আজকের প্রেক্ষাপটে তা কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদানগুলো বিভিন্ন সময় কি অবস্থায় ছিল? এখন কি অবস্থায় আছে? এই দেশের সম্ভাব্য যাত্রা কোন পথে? আগামী কর্তব্য নির্ধারণে এখন এই প্রশ্নগুলোর জবাব বের করাটাই সবচেয়ে জরুরী কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করি।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গতিপথ বিশ্লেষণ করতে গেলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব নিয়ে তিনটি পর্ব এসে হাজির হবে- ১৯৪৭ এর দেশভাগ পর্ব, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ পর্ব ও ৯০ পরবর্তী বাংলাদেশ পর্ব। এই তিনটি পর্বের একটি বিশেষ মিল আছে। তিনটি পর্বেই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আমরা পরাজিত হয়েছি। যার দায় আমাদের বইতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

দেশভাগের সময় আমরা এ অঞ্চলের জনগণ, দখলদার ব্রিটিশদের ঘৃণ্য ‘বিভাজন করে শাসন কর’ তত্ত্বকে ব্যর্থ করে দিতে পারিনি। উল্টো তাদের সঙ্গে মৈত্রী করে নিজেদের বিভাজিত করেছি। স্থায়ীভাবে দখলদাররা চলে গেলেও আমাদের শাসকরা পূর্ণ স্বাধীনতা আদায় করে নিতে পারেনি। কারণ তারা বিকশিত হয়েছিলেন ব্রিটিশের সঙ্গে মৈত্রীর সূত্রেই- তাদেরই গড়ে দেয়া দল ও বিধানের অধীনে রাজনীতির চর্চ্চা করে। ফলে দেশের অনেক বিষয় তখন থেকেই বিদেশী শক্তিগুলোর অঙ্গুলি হেলনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। অর্থাৎ ভারত বা পাকিস্তান কোনো রাষ্ট্রই পরিপূর্ণ স্বাধীন হতে পারেনি, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের ক্ষেত্রে তারা অনেকটাই পরাধীন রয়ে গেছে।

এর পরে আসে ১৯৭১। সেখানেও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে আমরা আগের অবস্থাকে অতিক্রম করতে পারিনি। সোভিয়েত-ভারত শাসকচক্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে আমাদের শাসকরা তাদের অনুবর্তী হয়েছে। এর পর তৃতীয় দফায়, সামরিকায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ৮০ দশকে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সংস্কার কর্মসূচীর স্বর্ণদশক ঘোষণা করে। এর মাধ্যমেই ৯০ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি মার্কিন-ভারত মডেলে যাত্রা শুরু করে। শুরু হয় উন্নয়ন পর্ব- যাতে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, দেশের স্বার্থের আগে বিদেশি স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে।

এই পরাধীনতার ফলাফল কতটা গুরুতর? ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের ইতিকথা : আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা’ বইয়ে এর কিছুটা উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন-

“(মার্কিন প্রেসিডেন্ট) কার্টারের রুশবিরোধী দল পাকিস্তান, মিশর আর সৌদি আরবের সাহায্য সম্বন্ধে একরকম নিশ্চিতই ছিল। এ উপদেষ্টাদের এখন প্রয়োজন, এ যুদ্ধে তিনটি উপকরণের, অর্থ, জনবল আর অস্ত্রের নিশ্চয়তা। এগুলোর সমন্বয়েই এ যুদ্ধ পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে সিআইএ এবং পরে ধনী মুসলিম দেশগুলোকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এরপরে রয়েছে জনবল। বেশিরভাগ যোদ্ধা আফগান আর পাকিস্তানের সীমান্ত থেকেই আসবে, সে সাথে অন্যান্য মুসলিম দেশ এবং বিভিন্ন স্থানের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সংগ্রহ করে এ যুদ্ধের জনবল যোগাড় হবে। এ যুদ্ধের জন্যে রাশিয়ার তৈরি অস্ত্র যোগাড় করে পরে এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করবার উপযুক্ত দেশ খুঁজতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানের আফগানিস্তান সংলগ্ন স্থানগুলো উত্তম বলে বিবেচিত হয়েছিল, তাই সাব্যস্ত হলো এর দায়িত্ব সিআইয়ের তত্ত্বাবধানে আইএসআই এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবে। মোটামুটি এই ছিল সোভিয়েতবিরোধী জেহাদের পরিকল্পনার মোটা দাগগুলো।” (পৃষ্ঠা ১২৬)

এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের মার্কিনের সঙ্গে অধীনস্ততার সম্পর্কটি বেশ পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। একই কথা আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পাকিস্তান তখন মার্কিনের অধীনস্ততার সূত্রে আফগানে ঢুকেছিল। আফগান নেতারা তখন মার্কিন-পাকিস্তানের বশ্যতার রাস্তা গ্রহণ করেছিল। ফলাফল হিসেবে দেখা গেল, পাকিস্তানের ভেতর ক্রমশ ঢুকতে থাকল তালেবান। আর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয় স্থানেই নেমে এলো মার্কিন কামানের গোলার কর্তৃত্ব! আফ্রিকান বিপ্লবী ডেসমন্ড টুটুর উক্তিটি এক্ষেত্রে স্মরণ করা যায়। তিনি বলেছিলেন-

‘‘মিশনারীরা যখন আফ্রিকায় এলো, তখন তাদের ছিল বাইবেল আর আমাদের ছিল জমি। তারা আমাদের বলল, এসো প্রার্থনা করি। আমরা প্রার্থনার জন্য চোখ বুঁজলাম। তার পর চোখ খোলার পর দেখলাম, আমাদের কাছে বাইবেল আর তাদের কাছে জমির মালিকানা।’’

এ থেকে স্পষ্ট হয়, একটি দেশের ভবিষ্যতের অনেকটাই নির্ভরশীল তার আত্মনিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপর। দেশ প্রতিষ্ঠার গোড়াতেই আমাদের শাসকরা এক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। ফলাফল হিসেবে আসে বৈদেশিক নির্ভরতা ও দান খয়রাতের সম্পর্ক। যার সূত্র ধরে একের পর এক চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হয় বড় বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে। অধীনস্ততার সম্পর্কের ফলেই যার অধিকাংশই হয় অসম চুক্তি। আর এই ফাঁক দিয়েই নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ঢুকে যায় তারা।

আমাদের অঞ্চলে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সাম্রাজ্যবাদকে (পুঁজিবাদী বিশ্বের মোড়লদের) প্রধানত সামরিক বাহিনীর ওপরই নির্ভর করতে দেখা গেছে। কারণ এই বাহিনীর আচার আচরণ ও কাজ কর্ম ও কাঠামো-ধরণ তাদের আদলেই গড়া। এছাড়া সেনাবাহিনী দিয়ে দ্রুত কাজ উদ্ধার করা যায়। আবার সামরিক বাহিনী নড়াচড়া করতে গেলে যে বিশাল বাজেটের দরকার হয়, তার সঙ্কুলান কঠিন হওয়ায় ওই বাহিনীকে দিয়ে সহজে অসম বৈদেশিক চুক্তি, মাদক ব্যবসা, ধর্মান্ধ ও সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে লালন পালনের কাজ করানো যায়। বাংলাদেশে এর প্রায় সবটাই আমরা মঞ্চস্থ হতে দেখেছি। বৈদেশিক ইন্ধনে সামরিক অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে বিশেষ বাহিনীর অধীনে জঙ্গিদের জন্য অস্ত্র আমদানি, মাদকের বাজার নিয়ন্ত্রণ- সবই ঘটছে।

আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখব, গত শতকের প্রথম দিক থেকে সাম্রাজ্যবাদের প্রধান অস্ত্র ছিল জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদের ওপর ভিত্তি করে তখন বিভাজন চলেছে। পুরো শতকজুড়ে একের পর এক নতুন জাতিরাষ্ট্রের গোড়াপত্তন হয়েছে। সাথে সাথে বিকশিত হয়েছে আঞ্চলিক উত্তেজনা- এক জাতির সঙ্গে অন্য জাতির বিরোধকে উষ্কে দিয়েছিল এই জাতীয়তাবাদ।

বর্তমানে এই শতকের শুরুর দিকেই বাস করছি আমরা। এই শতকের বিশেষ চেহারা হিসেবে আমরা দেখছি ধর্মকে, ধর্মভিত্তিক উগ্রতা, উগ্র ধর্মীয় জাতীয়তাবাদকে। মার্কিনের হাতে বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ আসার পর থেকে তাদের নেতৃত্বে দুনিয়াজোড়া এই ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে চলেছে। আর তা করা হচ্ছে, সরাসরি রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে। ফলে এসব রাষ্ট্রের আইন ও সংবিধানে থাকা মৌলবাদী বিধানগুলো পরিপক্ব হয়ে ধর্মোন্মাদনার রাষ্ট্রীয় ভিত্তিকে বিস্তৃত করছে।

এই মুহূর্তে পৃথিবীতে আইএস, বোকো হারাম, হুতি, আল শাবাব সবচেয়ে আলোচিত নাম। প্রত্যেকটি গোষ্ঠীর জন্মের সঙ্গে ঠিক আল কায়েদা ও তালেবানের মতো করেই সেসব রাষ্ট্রের পরাধীনতা এবং সাম্রাজ্যবাদী কর্তৃত্ব জড়িত। একটি রাষ্ট্রের চরিত্র এমন সাম্রাজ্যবাদের অধীনস্ত হলে সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আর বিকশিত হতে পারে না। কারণ তারা প্রভুদের নির্দেশনার অপেক্ষা করে। এটা করে তারা নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। আদর্শহীনতা বা ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষাকারী গণবিরোধী আদর্শই তাদের এ দিকে ঠেলে দেয়।

যেহেতু বিদেশিদের কাছে তারা ক্ষমতায়নের আশ্বাসও পায়, তাই জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার আর তাদের প্রয়োজন পড়ে না। এ ধরনের রাষ্ট্রের শাসক দলগুলো ক্রমাগত গণবিরোধী সব চুক্তি ও দুর্নীতিমূলক তৎপরতার মধ্য দিয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে থাকে। আর এভাবেই বাড়তে থাকে তাদের বিদেশী শক্তি ও সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভরশীলতা। রাজনীতি যখন এভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন রাষ্ট্র আরও বেশি করে তার অনুষঙ্গগুলোর ওপর ভর করতে থাকে। একের পর এক অকার্যকর হতে থাকে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বাড়তে থাকে অস্ত্রধারী বহিনীর শক্তি। জনগণের ওপর বাড়তে থাকে দমন নিপীড়ন। আর এই অবস্থা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্র ভাঙার আন্দোলনের বীজ সমাজের মধ্যে বুনে দেয়!

আমরা কি তাহলে এই রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার যাত্রায় আছি? বলা যায়, অনেকটা তা-ই। যদি ১৯৭১ এর রাষ্ট্রপ্রকল্পের কথা বিবেচনায় নেই, তাহলে দেখব সেই রাষ্ট্রটা অনেকখানি নেই। আজকের বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ১৯৭১ এর রাষ্ট্রপ্রকল্পের প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। তা দাঁড় করানো হয়েছে দিনে দিনে। এ যজ্ঞে সব সাম্রাজ্যবাদীরাই জড়িত, এমনকি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নামও এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। অনেক দিক থেকেই আয়োজন হয়েছে। দেশে অস্ত্র আর তহবিল আগেও এসেছে, এখনো আসছে। প্রায়ই লাশ পড়ছে ধর্মের নামে। এটা গাড়ি বোমা হতে আর কতদিন? ভারতের বিরাট উত্থানের যে রূপ দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে যে-বিশ্বশক্তিগুলো চিন্তিত, যারা ভারতকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদের আজ অনেক স্বার্থ বাংলাদেশে! স্বাভাবিকভাবে ভারতেরও!

বিপরীতে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মতো, নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো রাজনৈতিক কর্তৃত্বের বিরাট অভাব। রাজনৈতিক মঞ্চের বড় অংশটাই বিদেশিদের সঙ্গে অধীনস্ততার সম্পর্কে জড়িত, বাকিটা এতই ক্ষুদ্র যে শক্তির মঞ্চে উল্লেখযোগ্যও নয়। ফলে পরাধীনতার এই কালে অন্ধকারের থাবাটা আরও জেঁকে বসতে পারে। অনেক পরাজয়ের সাক্ষী এই অঞ্চলের মানুষকে হয়ত আরও লম্বা সময় গোলামি করতে হবে এবং সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের ইচ্ছায় বাঁচতে ও মরতে হবে, এই আশঙ্কাই বাড়ছে। বিকল্প কিছু ঘটতে পারে, জনগণের পক্ষের কোনো শক্তি দাঁড়িয়ে যেতে পারে- এই আশা অনেকটাই প্রথাগত, তবু তা থাক! কারণ মানুষের শক্তি হচ্ছে, সে পরিস্থিতিকে মেনে নেয় না, নিজের মতো করে গড়ে নেয়!

[আলোকচিত্রটি আমার তোলা। নাম – গ্লুমি নাইট অ্যাট দ্য টি-স্টল]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “পরাধীনতার কালে প্রথাগত আলোর অপেক্ষা!

  1. লেখাটা ভালো লাগলো কিংবা
    লেখাটা ভালো লাগলো কিংবা অনেক সুন্দর হয়েছে বলে ছেড়ে দেওয়া যায় না, মুলত অনেক কিছু ঢুকিয়ে দিলো মস্তিস্তে, যা ভাবনায় ফেলে দিলো

    1. ধন্যবাদ পড়া ও মন্তব্যের জন্য
      ধন্যবাদ পড়া ও মন্তব্যের জন্য এবং বিশেষত বিপ্লব ত্যাগ করে যৌবনের সঞ্চিত দু:খগুলো নিয়ে স্বমেহনের জন্য!

      1. আপনি যা বলছেন তা মনে হয়
        আপনি যা বলছেন তা মনে হয় একপাশ্বে‍র্ দাড়িয়ে, যা সম্পূণ‍র্ মেনে নেওয়া সম্ভব না :থাম্বসডাউন:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

49 − = 41