আসিফ মহিউদ্দিন হত্যা মিশনের আদ্যোপান্ত

ব্লগার আসিফের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকার মিরপুর, যাত্রাবাড়ি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে সাদ আল নাহিন (২৪), মো. কাওসার (২৬), মো. কামাল (২৩) ও কামাল হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বর্ণনা থেকেই এখানে তুলে ধরা হলো আসিফ হত্যা মিশনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হামলার সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য।

ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের উপর হামলাটি ছিল পুরোপুরি একটি পরিকল্পিত হামলা। তাকে জবাই করে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়। একটি ধর্মান্ধ ও উগ্রবাদি দল, আব্দুল করিম ওরফে জাবের নামের এক ধর্মান্ধ ও উগ্রপন্থী লোক এই পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দিয়েছে। যাবের, আব্দুল্লাহ, মানিক, ফাহিম, কামাল, নবিন হোসেন, কামাল, সাদ আল নাহিন, ফিরোজসহ ১৪-১৫ জনের একটা দল আসিফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এদের মধ্য আব্দুল করিম হচ্ছে ব্লগার রাজিব হায়দার হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী রানার সহচর। আসিফের ওপর এই হামলায়ও রানা পিছন থেকে মূল ভুমিকায় ছিল। এই হত্যাকান্ডের জন্য নাহিন ছদ্ম নাম মাসলামা, নবীন ছদ্ম নাম আবু নায়লা ও আব্দুল করিম ছদ্ম নাম যাবের ধারন করে সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করে।

গ্রেফতারকৃত নাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইভিনিং এম বি এ (মার্কেটিং) প্রথম সেমিষ্টারের ছাত্র। এমএলএম ব্যাবসায় বেশি মনোযোগ দেয়ার কারনে একসময় তার বিবিএ’র ছাত্রত্ব বাতিল হয়। পরে একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিবিএর সার্টিফিকেট কিনে সে ইভিনিং এমবিএতে ভর্তি হয়। গ্রেফতারকৃত কাওসার একজন হকার। সে ফুটপাতে মানি ব্যাগ বিক্রি করে। গ্রেফতারকৃত কামাল একজন কাঠমিস্ত্রি। আর কামাল হোসেন একটি ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করে।

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করা কালে ২০১২ সালের মে মাসে এলাকার দোকানদার নবীন, মানিক, ফাহিম, কামাল ও কাওসারদের সাথে নাহিনের পরিচয়। তারা একইসাথে মিরপুর ১০ নং গোলচক্কর মসজিদে নামাজ পড়ত। ওই মসজিদে নামাজ শেষে ধর্ম বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিতো তারা। এমন এক আলোচনাতেই আবদুল করিমের সঙ্গে এই গ্রুপের পরিচয় ঘটে। তাদের কাছে আবদুল করিম নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়।
আবদুল করিম একদিন তাদের সবাইকে বছিলা রোডের একটি মসজিদের খতিবের কাছে নিয়ে যান। ওই খতিব শায়েখ হিসেবে তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। তারা সবাই খতিবের ফতোয়া, কোরান হাদিসের আলোচনা শুনে তার ভক্ত হয়ে পড়ে। খতিব নিয়মিত তাদেরকে জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। খতিবের কাছ থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের জিহাদি বই সংগ্রহ করে পড়াশোনা চালিয়ে যায়।

এই গ্রুপটা জিহাদী কার্যক্রম পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে টাকা দিয়ে মার্শাল আর্ট শিখতো। তারা এরকম আরও একাধিক ব্লগার ও কিছু খ্যাতিমান ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি ভারতে গিয়ে তসলিমা নাসরিনকে হত্যার পরিকল্পনাও তাদের ছিল।

২ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে আবদুল করিম তাদের এই দলটিকে জানায় যে, আসিফ মহিউদ্দিন নামে একজন ব্লগার, ব্লগগুলোতে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে চলেছে। তাই তাকে উচিত শিক্ষা দেয়া দরকার। সবাই একমত হয়ে পরিকল্পনা তৈরি করে। আবদুল করিম ৩ জানুয়ারি উত্তরা ১১ নং সেক্টরে নাহিন ও নবীনকে আসিফ মহিউদ্দিনের চেহারা, তার অফিস ও বাসা চিনিয়ে দেয়। ছুরি কেনার জন্য তাদেরকে ১৫০০ তাকা দেয়। তারা বায়তুল মুকাররম মসজিদ সংলগ্ন ফুটপাত থেকে ৩টি ছুরি কেনে। রানা আবদুল করিমের মাধ্যমে দুটি সাইকেল কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা দেয়। সেখানে নাহিন আরো ২ হাজার টাকা যোগ করে নবীনকে সাথে নিয়ে বংশাল থেকে দুটি রেসিং সাইকেল কেনে। একটি নবীনকে দেয় এবং আরেকটি নিজের কাছে রাখে।

পরিকল্পনা ছিল এই সাইকেল নিয়ে মিরপুর থেকে উত্তরা গিয়ে সকালে আসিফ মহিউদ্দিনকে আবদুল করিমের দেয়া চাপাতি দিয়ে হত্যা করবে। তারা আগে থেকেই জানতো, আসিফ রাত ৯টার দিকে উত্তরার অফিসে ঢোকে। সারারাত কাজ শেষে সকাল ৬টা-৭টার দিকে সে বের হয়ে উত্তরা থেকে বাসযোগে ইস্কাটনের বাসায় ফেরে। ৪ জানুয়ারি নাহিন ও নবীন সাইকেলযোগে আনুমানিক সকাল সাতটায় উত্তরা ১১ নং সেক্টরে আসিফের অফিসের সামনে যায়। একটু পর আসিফ অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় চলে যায়। ওইদিন চাপাতির ব্যাগ নিয়ে আবদুল করিমের পৌঁছাতে ১০ মিনিটের মতো দেরি হয়। ফলে সেদিন আর তাদের পক্ষে হামলা চালানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তী শুক্রবার, ১১ জানুয়ারি আরেক দফা হামলা ব্যর্থ হয়। ওইদিন আবদুল করিম ঠিক সময়ে পৌঁছালেও নাহিন ও নবীন পৌঁছাতে দেরি করে।

পরবর্তীতে রানা এ নিয়ে আবদুল করিমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে গালাগালি পর্যন্ত করে। তখন আবদুল করিম আসিফকে দিনের পরিবর্তে রাতে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপর ১৪ জানুয়ারি নাহিন বাসা থেকে বের হয়ে নবীনকে ফোনে একটা এসএমএস পাঠায়। ছোট মিষ্টি নিয়ে তাকে বনানীতে আসতে বলে। ছোট মিষ্টি সঙ্কেতের অর্থ ছিল আগে থেকে কিনে রাখা ছুরি, যা দিয়ে আসিফকে হত্যা করা হবে। নবীন সাইকেল ছাড়াই বনানীতে আসে। দুজন একত্রে উত্তরার দিকে এগোতে থাকে। আবদুল করিমও ততক্ষণে রওনা হয়েছে।

নাহিন ও নবীন বাসযোগে উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে নেমে পড়ে। সেখান থেকে রিকশা নিয়ে উত্তরা ১১ নং সেক্টর মসজিদে গিয়ে এশার নামাজ পড়ে। নাহিন নামাজ শেষে নবীনকে পালানোর রাস্তা চিনিয়ে দেয়। তারা দুজন আনুমানিক রাত ৯টার দিকে আসিফের অফিসের সামনে একটি ইলেকট্রিক পোলের নিচে দাঁড়িয়ে আবদুল করিমের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এর মধ্যেই তারা আসিফকে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দিতে দেখে। তখনো আবদুল করিম চাপাতির ব্যাগ নিয়ে পৌঁছায়নি।

নাহিন ও নবীন তৎক্ষণাত সিদ্ধান্ত নেয় চাপাতির জন্য আর অপেক্ষা না করে তাদের কাছে থাকা ছুরি দিয়েই আসিফকে আঘাত করবে। দুজনে দ্রুত আসিফের দিকে এগিয়ে গিয়ে নাহিন প্রথমে আসিফের ঘাড়ে ছুরি দিয়ে কোপ বসায়। আসিফের গায়ে জ্যাকেট থাকায় ছুরিটি বেঁকে যায়। এসময় নবীনও উপর্যপরি ছুরি চালাতে থাকে। আসিফ মাটিতে পড়ে চিৎকার করতে থাকলে নাহিন ও নবীন দৌড়ে পালায়। নাহিন তার হাতের ছুরিটি ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। কিছুদুর গিয়ে রিকশা নিয়ে তারা আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে কনক বাসে উঠে মিরপুর নেমে যে যার বাসায় চলে যায়। আবদুল করিম ১০ মিনিট পরে চাপাতির ব্যাগসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসিফের ওপর হামলার কথা জানতে পারে।

হামলাকারীরা রাতে একুশে টিভির নিউজে আসিফ গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে জানতে পারে। আসিফের মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় তারা আবারো তাকে হত্যার পরিকল্পনা সাজায়। পরদিন ১৫ জানুয়ারি মিরপুর ১০ নং গোলচক্কর মসজিদে রানা, নাহিন, নবীন ও আবদুল করিম একত্রিত হয়ে হাসপাতালেই আসিফকে হত্যার মিশন ঠিক করে। ওইদিনই তারা ঢাকা মেডিকেলে যায়। নবীন কৌশলে গিয়ে তার ভক্ত সেজে ওয়ার্ড নম্বর ও বেড শনাক্ত করে আসে। সিদ্ধান্ত হয় ডাক্তার সেজে নাহিন হাসপাতালে ঢুকে হার্টবিট অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করার ইনজেকশন দিয়ে আসিফকে হত্যা করবে। নাহিন এতে রাজি হলেও হঠাৎ সে রানা ও আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এরপর ২ মার্চ ব্লগার থাবা বাবা (রাজিব) হত্যার ঘটনা জানাজানি হলে তারা সবাই একত্রে ঢাকা ছেড়ে পালায়। ৮ দিন বাইরে কাটিয়ে পরিস্থিতি বুঝে একে একে সবাই বাড়ি ফিরে আসে। এরপর থাবা বাবা হত্যাকান্ডের সূত্র ধরেই ৩০ মার্চ আসিফের ওপর হামলাকারি উপরোল্লিখিত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ঘটনায় ব্যহহৃত ১টি ছোরা, ১টি বাই সাইকেল ও জিহাদী বইসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “আসিফ মহিউদ্দিন হত্যা মিশনের আদ্যোপান্ত

  1. ঘাতকদের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার
    ঘাতকদের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব মনে হয় সরকার নিজের কাধে তুলে নিয়েছে। একজনের ব্লগের সকল লেখা মুছে, ব্লক করা মানে কি তাকে ভার্চুয়ালভাবে হত্যা করা নয়???

    1. সরকার আবার ব্লগারদের বিচার
      সরকার আবার ব্লগারদের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে। ওইগুলারে আবার হেফাজত ইসলামীর হেফাজতে দিয়ে দেয় কিনা সেইটা ভাবেন

  2. অথচ আসিফ এর উপর হামলার
    অথচ আসিফ এর উপর হামলার পর…এটা সেলিব্রেটি স্টান্ট, আসিফ নিজেই নিজের উপর হামলা করেছে…সে ফেমস্লাট এইরকম অনেক ব্লগারকেই বলতে দেখেছি!!! নিজেদের মধ্যে এতো ভেদাভেদ নিয়ে আমরা কি পারবো এই ধর্মান্ধ জানোয়ার গুলোকে রুখতে???

  3. একটা বিষয় বুঝতেসি নাহ।খুনিদের
    একটা বিষয় বুঝতেসি নাহ।খুনিদের একজনের হত্যার বিষয়টি ত্বরান্বিত করেছে।খেয়াল করেছেন কিনা জানি নাহ।এই আদমী বারবার পিছিয়েছে।থাবা বাবার হত্যাও ঠিক একই কায়দায়,যেখানে মারার পর ছূড়ি গুলো নিয়ে একটা ঘাপলা হয়।আসিফের বেলায় সেটা ঘটেছে আঘাতের আগে।আপু সত্যি কথা বলতে উই আর মিসিং সাম্থিং…………আই অ্যাম টকিং আবাঊট দিস ক্লু!!!!!!!!

    1. এন্টিনার উপর দিয়ে গেলো। আমি
      এন্টিনার উপর দিয়ে গেলো। আমি বুঝলাম না, নাকি ভাই আপনি বুঝাইতে পারলেন না সেইটাও বুঝতেছি না

  4. সরকার এখন যুদ্ধাপরাধীদের
    সরকার এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাদ দিয়ে ব্লগারদের বিচারে ব্যস্ত! তারা প্রমাণ করতে চায় তারা কত বড় ধার্মিক !

  5. এইসব জানোয়ারের হাতেই যখন
    এইসব জানোয়ারের হাতেই যখন দেশের একএকজন হর্তাকর্তা খুন হবে তখন টনক নড়বে। তার আগে নড়বে না। মিতু আপাকে ধন্যবাদ ডিটেইলস জানিয়ে পোস্ট দেওয়ার জন্য। দেশটা পাকিস্থান হইতে কেমন সময় নেয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

  6. ভাইলোকেরা,একটা কথা বলতে
    ভাইলোকেরা,একটা কথা বলতে চাই।দয়া করে ইমোশনাল হবেন নাহ।থাবা বাবার পোস্ট এবং এইটা পড়ে একটা ক্লু কিন্তু আছে।বের করুন আরো।ডাঃআতিক ভাই একটু রিকোয়েস্ট টা রাখেন।দেখবেন অনেক বিষয় এক।মাইন্ড করবেন নাহ।

  7. কিছুই বলবার নেই কেননা
    কিছুই বলবার নেই কেননা চট্টগ্রামের লালদিঘীতে বেশকিছুক্ষন আগে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম হেফাজতে ইসলামীর একজনের ভাষণ, যেখানে সেই হুজুরটি বলছিলো যে সরকার যদি বাঁধা দেয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে যাবে তারা, প্রয়োজনে রক্তারক্তি হবে। সরকার যেনো কোন বাঁধা না দেয় তাদের লংমার্চে। সেখানে আরো বলা হয় এই নাস্তিক ব্লগারদের এই বাংলার মাটি থেকে বিতাড়িত করতে হবে। এই বাংলায় এইসকল নাস্তিক মুরতাদদের ঠাঁই নাই। যেখানে পুলিশ প্রশাসনের বুকের উপর দাঁড়িয়ে এমন কথা বলছে সেখানে এরা খুন করা বাঁ করতে চাওয়া তো স্বাভাবিক।

  8. বর্তমান সরকারি দল ২১ আগস্টের
    বর্তমান সরকারি দল ২১ আগস্টের হামলা ভূলে গেছে! এরুপ আর একটি হামলার পর তাদের টনক নড়বে মনে হচ্ছে….

  9. জবাব তোদের দিতেই হবে
    জবাব তোদের দিতেই হবে হারামিরা! জবাব তোদের দিতেই হবে BTRC! সব শেয়ালের একই রা! তাই তাদেরকে খোঁয়াড়ে পুরতে হবে!

    ব্যক্তি মূখ্য নয়; মুক্তমতের অবাধ অধিকার চাই।

  10. অবশেষে আসিফ মহিউদ্দিন’কে
    অবশেষে আসিফ মহিউদ্দিন’কে হত্যা প্রচেষ্টার রহস্য উদগাটিত হল। জড়িতদের দেরীতে হলেও ধরার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আশাকরি এই হত্যা প্রচেষ্টার সাথে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি বিধান করার জন্য সরকার মজবুত আইনী ব্যবস্থা প্রহন করবেন। কলমের বিরুদ্ধে হত্যা মেনে নেওয়া যায়না। আসিফ বিতর্কিত হতে পারে, তার কথা অনেকের পছন্দ না হতে পারে। কিন্তু এজন্য তাকে বর্বর কায়দায় মেরে ফেলার চেষ্টা করা কোন সভ্য দেশে হতে পারেনা। এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি বিধান করে ধর্মের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করা হোক। বিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকলাম।

    শামিমা মিতুকে ধন্যবাদ ঘটনার আদ্যোপান্ত আমাদেরকে জানানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

  11. হত্যা প্রচেষ্টা করেছে
    হত্যা প্রচেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষ ধর্মান্ধ গোষ্ঠী, আর বলির পাঠা বানিয়েছে সরকার। চারজন ব্লগার স্রেফ বলির পাঠা হয়েই জেলের অন্ধকারে পচে মরছে আর বাহিরে আমরা তালি বাজাচ্ছি। খারাপ লাগে যখন দেখি নামীদামী ব্লগারেরা মন্তব্য করেন, “আসিফদের জন্যই গণজাগরণ মঞ্চ আর হেফাজতে ইসলাম মুখোমুখি অবস্থানে এসেছে”। এই সব নামিদামী গবেষক ব্লগারদের আসল চেহারাটা বের হয়ে এসেছে। সময় তাদেরকেও একদিন একই অবস্থানে এনে দাঁড় করাবে। এটা ইতিহাসের শিক্ষা। ………………

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − = 7