বাজেটে নবীন খাত ই কমার্সের ওপর খড়গ!

?oh=1bfe342677997a0e6e071efc9ad86623&oe=55FFB9BE&__gda__=1441504586_c97e8d96015c2f30cb844aa8c78a7b9c” width=”550″ />

জাতীয় সংসদে ৪ জুন উপস্থাপিত হলো ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট। প্রস্তাবিত এই বাজেটে অনলাইনে বেচাকেনার ওপর ৪ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও অনলাইন মার্কেটিংয়ের বিষয়ে সরকারের এখন পর্যন্ত কোনো নীতিমালা নেই। তাছাড়া ব্যবসা বাণিজ্যের নবীন খাত হিসেবে ই কমার্সকে বছর পাঁচেক ভ্যাট-ট্যাক্সের বাইরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল অনেকেই।

কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে ই কমার্স পড়ল খড়গের নিচে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘অনলাইনে পণ্য এবং সেবার বিক্রয় বা সরবরাহ কার্যক্রম বর্তমানে একটি স্বীকৃত জনপ্রিয় ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি না থাকলেও এই সেবা খাতের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা মূসক ব্যবস্থায় বর্তমানে নেই। এ ধরনের কার্যক্রমকে মূসকের আওতায় সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে এর ব্যাখ্যা নির্ধারণসহ ৪ শতাংশ হারে মূসক আরোপের প্রস্তাব করছি।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট পাঠ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। টানা সপ্তমবারের মতো বাজেট উপস্থাপন করছেন তিনি। তবে এই বাজেটে অনলাইনে কেনাকাটা তথা ই কমার্সের ওপর যাতে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কোনো ভ্যাট-কর আরোপ না হয়, সেই দাবি রাখলেন না অর্থমন্ত্রী। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়োজনে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় ই কমার্স ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান ই কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশনের (বেসিস) উদ্যোক্তারা সরকারকে এ আহবান জানান।

যদিও আইটি খাতকে সরকার ভ্যাট-করমুক্ত রেখেছে, কিন্তু ই কমার্সকে ছাড় দেয়নি। উদ্যোক্তারা বলছেন, ই কমার্সের এখনো অনেক ফাঁক ফোকর আছে। যেমন এখানেই ডটকম, বিক্রয় ডটকমের মতো সাইটগুলো ই কমার্স সাইট হিসেবে পরিচিত হলেও এগুলো আসলে অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এদের নিজস্ব তেমন বিনিয়োগ থাকে না। এক্ষেত্রে কেনাবেচা হয় কাস্টমার টু কাস্টমার যোগাযোগের ভিত্তিতে। কিন্তু ই কমার্স মানে অনলাইন শপ থেকে কেনাকাটা। এটাকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে বিক্রেতা ও কাস্টমারের সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে হয়। এমনিতেই এ খাতে ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন, নানাভাবে সরকারের লাভ হয়।

ই কমার্স উদ্যোক্তাদের দাবি ছিল, এই খাতটি নতুন বিধায় এর দাঁড়ানোর জন্য কিছু সময় দরকার। সব উঠতি খাতই রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিকশিত হওয়ার জন্য কিছু প্রনোদনা পায়। তেমনি সূচনাকালে সরকার ই কমার্সকেও বছর পাঁচেকের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্স মুক্ত করে এগিয়ে যেতে কিছুটা সুযোগ করে দিক। এই সময়ের মধ্যে এই খাতের ব্যবস্থাপনায় পূর্নাঙ্গ নীতিমালাও গড়ে তোলা যাবে।

কিন্তু সরকার নীতিমালার অপেক্ষা বা এই ব্যবসার বিকাশের দিকে কোনো নজর দিল না। এই খাতের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব সরকার পুনর্বিবেচনা করবে ও এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করবে এমন আশাবাদ রেখে সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের বাজেট হবে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬তম। আওয়ামী লীগ সরকারের হয়ে অর্থমন্ত্রী এর আগে ছয়বার বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৭ হাজার ১শ’ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে (চলতি) বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ২০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ থেকে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। যা নির্দেশ করে যে, নাগরিকদের এবং বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের বাড়তি ভ্যাট-কর গুণতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “বাজেটে নবীন খাত ই কমার্সের ওপর খড়গ!

  1. ই-কমার্স বুঝার মত যোগ্যতা
    ই-কমার্স বুঝার মত যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ সরকারে আছে নাকি? একদল অকালকুষ্মান্ড দিয়ে সরকার চলছে। ভারতের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসার পাঁয়তারা করতেছে। তাদের ১০বছর করঅবকাশ দেওয়া হবে বিদেশি বিনিয়োগের নামে।

  2. বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তিতে কর
    বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তিতে কর অবকাশ ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। ই-কমার্স কি তথ্য-প্রযুক্তির বাইরের কোন খাত? বরং বর্তমানে ই-কমার্স তথ্য-প্রযুক্তির সবচেয়ে সম্ভবনাময় খাত। জিডিপিতে সূচক যোগ করার মত খাত। ই-কমার্স খাত দাঁড়াতে পারলে তথ্য-প্রযুক্তির সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌছাবে। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, সরকারএর কাছে ই-কমার্স সম্পর্কে স্বচ্ছ কোন ধারনা নাই। অথবা কোন স্বার্থান্বেসী মহল সরকারকে এই খাত সম্পর্কে ভুল তথ্য দিচ্ছেন।

    আশাকরি সরকার ই-কমার্সকে তথ্য-প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সম্ভবনাময় খাত বিবেচনায় নুন্যতম ১০ বছর সকল ধরনের কর অবকাশ সুবিধা দিবেন। পাশাপাশি এই খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে অন্তরায়গুলো দূর করবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =