বেহাত বিপ্লব ১৯৭১ ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতা

‘বেহাত বিপ্লব’ ইতালিয় রাজনীতিক ও মার্ক্সবাদী দার্শনিক আন্তোনিয় গ্রামসির ব্যবহৃত ‘প্যাসিভ রেভল্যুশনে’র বাংলা অনুবাদ। অনুবাদটি করেছেন সলিমুল্লাহ খান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গ্রামসির বেহাত বিপ্লব (প্যাসিভ রেভল্যুশন) তত্ত্বের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়েছে সলিমুল্লাহ খান সম্পাদিত বই ‘বেহাত বিপ্লব ১৯৭১’ -এ। বইটির প্রথম প্রকাশ ২০০৭ সালে এবং দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে। এই লেখায় বইটি সম্বন্ধে যতোটুকু আলোচনা আসবে তা হবে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ সামনে রেখে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড মুজফফর আহমেদকে উৎসর্গকৃত এই বইটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগের নাম ‘বিপ্লব’ এবং দ্বিতীয় ভাগের নাম ‘বেহাত বিপ্লব’। প্রথম অংশে মুজফফর আহমদের একটি এবং রণেশ দাশগুপ্তের দুইটি লেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের বৈপ্লবিক চরিত্র ও গতিপ্রকৃতি চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘বেহাত বিপ্লব’ অংশে আহমদ ছফা, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সলিমুল্লাহ খান প্রমুখের লেখার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তথা বিপ্লবের বেহাত হওয়ার উপাখ্যান পাওয়া যাবে। গ্রামসির তত্ত্বে মুক্তিযুদ্ধের বিচার এবং বেশ কয়েকজন লেখকদের লেখার সন্নিবেশ থাকলেও বইটির প্রাণভোমরা মূলত ‘আহমদ ছফা’। কি কারণে তার উত্তর বইটির ফ্ল্যাপের মধ্যেই লেখা আছে –

“রুশ বিপ্লবের লেনিন, চিনের মাও জেদং, কুবার চে গেভারা কিংবা আলজিরিয়ার ফ্রানৎস ফানোঁর মতো বড় কোন তত্ত্ববিদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ফলে নাই। ফলনের মধ্যে সবেধন সবুজমনি আহমদ ছফা। এই পামর জাতির মন তিনি যতোখানি ধরিতে পারিয়াছিলেন আর কেহ ততখানি পারিবেন কি না সংশয় আছে। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর বিচার করিয়া যে প্রস্তাব আহমদ ছফা ১৯৭৭ সনে প্রচার করিয়াছিলেন তাহাই ‘বেহাত বিপ্লব ১৯৭১’ গ্রন্থের প্রধান সম্পদ”।

এতে কোন সন্দেহ নাই যে আওয়ামী লীগই মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ আওয়ামী লীগের একলার সম্পদ নয়। বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধে যুক্ত হয়েছে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সমাজের সর্বস্তরের জনতা। কিন্তু দুঃখজনক যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী ন্যারেটিভের বাইরে শক্তিশালী কোন ন্যারেটিভ দাঁড়ায় নাই। বিএনপির ন্যারেটিভ বলতে আমরা যা চিনি চরিত্রগতভাবে তা আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভের চাইতে ভিন্ন কিছু নয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বামপন্থী দলগুলো বিশেষ করে সিপিবি ও ন্যাপ-এর সুযোগ ছিল এইক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাভূমিকা পালন করা। খুব সম্ভবত জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের তত্ত্বায়ন করা তারা বামপন্থীদের কাজ বলে মনে করে নাই, এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যেমন আওয়ামী লীগের উপর নির্ভর করতে চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধের তত্ত্বায়নের ক্ষেত্রেও তারা বুর্জোয়াদের চ্যালেঞ্জ জানানো দরকার মনে করে নাই। বাংলাদেশের বুর্জোয়ারাও মুক্তিযুদ্ধের তত্ত্বায়ন করার বদলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দখল প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের রাজনৈতিক লেজিটিমেসি বাড়িয়ে নিতেই আগ্রহী ছিল, এখনো তাই আছে। ইউরোপের বুর্জোয়াদের পথ অনুসরণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হিসাবে পরিচিত গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের সুস্পষ্ট তত্ত্বায়ন করার বদলে ইতিহাসকে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসাবেই ব্যবহারে কেন তাদের বুৎপত্তি তা পরবর্তীপরবর্তীতে আলোচনা করবো। তার আগে ‘বেহাত বিপ্লব’ তথা প্যাসিভ রেভোল্যুশন বলতে গ্রামসি কি বুঝিয়েছেন তা আমরা আলোচনা করবো।


ছবিঃ আন্তনিয় গ্রামসি

গ্রামসির ‘বেহাত বিপ্লব’
১৯২১ সালে ইতালির কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়। আন্তোনিয় গ্রামসি ছিলেন এই পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের একজন। ১৯২২ এবং ১৯২৩ সালে মুসোলিনির নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট পার্টি অন্যান্য বিরোধী দল বিশেষ করে বামপন্থীদের নির্মূলের রাজনীতি শুরু করে। ১৯২৪ সাল থেকে গ্রামসি কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৬ সালে ফ্যাসিস্ট সরকার তাকে গ্রেফতার করে। শুরুতে তাকে পাঁচ ও পরে বিশ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। গ্রামসি শিশুকাল থেকেই শারিরীকভাবে দুর্বল ছিলেন। জেলখানায় থাকাকালীনথাকাকালীন সময়ে তার স্বাস্থ্যের ক্রম অবনতি ঘটে এবং ১৯৩৭ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ছেচল্লিশ। মৃত্যুর আগে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি জেলখানায় আটক ছিলেন। বিচারের সময় আদালতে তাঁর প্রসিকিউটররা দাবি তুলেছিল – “ বিশ বছরের জন্য এই মস্তিস্কের কর্মকান্ড আমাদের বন্ধ করতেই হবে”। কিন্তু জেলখানায় অন্তরীণ করে রাখলেও গ্রামসির মস্তিষ্কের কর্মকান্ড বন্ধ রাখা যায় নাই। জেলখানায় থাকাকালীন সময়ে তিনি যে ডাইরি লিখতেন তা-ই ‘দা প্রিজন নোটবুক’ হিসাবে বিখ্যাত হয়ে আছে। এই প্রিজন নোটবুকের বিভিন্ন বিচার বিশ্লেষণ ও তত্ত্ব এবং বিশেষ করে গ্রামসির ব্যবহৃত কিছু পদ পরবর্তীপরবর্তী সময়ে বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। এমনই একটি তত্ত্ব হিসাবে গ্রামসি প্যাসিভ রেভল্যুশনের উপস্থাপন করেছেন। অবশ্য প্রিজন নোটবুকের অন্যান্য বহু ধারণার মতোই ‘প্যাসিভ রেভল্যুশন’ শব্দটি গ্রামসি একাধিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু গ্রামসি ব্যবহৃত অন্যান্য শব্দের মতোই পরবর্তী যুগের বামপন্থী তত্ত্ববিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা ‘প্যাসিভ রেভল্যুশনে’র অর্থ নির্ধারণ করতে কসুর করেন নাই। সলিমুল্লাহ খান লিখেছেন – “প্রকৃত কোন পরিবর্তন সাধন না করেও জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আপাতস্বাদ এনে দেয়ার নামই ইতালীয় দার্শনিক আন্তনিয়ো গ্রামসির দৃষ্টিতে বেহাত বিপ্লব। এই বিপ্লবের নাম ইতালি ভাষায় ‘ইল ফাশিসমো’ বা লাঠিতন্ত্র” (সলিমুল্লাহ খান, ২০০৭)।

জেলখানায় থাকাকালীন সময়ে গ্রামসি ইতালির রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেন। একইসাথে তিনি আধুনিক ইতালির জন্ম থেকে তাঁর সময় পর্যন্ত চলা বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের বিচার করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি প্যাসিভ রেভল্যুশনের উদাহরণ হাজির করেন, ফ্যাসিবাদ যার মধ্যে একটি। গ্রামসি প্যাসিভ রেভল্যুশন শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন ফ্রান্সের একটিভ বুর্জোয়া বিপ্লবের সাথে ইতালির বুর্জোয়া সমাজের প্যাসিভ রূপান্তরের পার্থক্য টানতে গিয়ে। বড় ধরণের সমাজ পরিবর্তন ছাড়াই এবং বিবদমান শ্রেণী ও রাষ্ট্র কাঠামো টিকিয়ে রেখেই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরেরই অপর নাম প্যাসিভ রেভল্যুশন বা বেহাত বিপ্লব। বেহাত বিপ্লব এক ধরণের রক্ষণশীল বিপ্লব, এই বিপ্লব সমাজের ভেতর থেকে তৈরি হওয়া নয়, বরং উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া, এবং সমাজের অবস্থা ও শ্রেণী কাঠামো পরিবর্তন না করে এটি অনেকক্ষেত্রে পুরনো শ্রেণী কাঠামো ও সামাজিক শক্তিগুলোকেই আরো শক্তিশালী করে অটোক্রেটিক আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কর্মসূচী গ্রহণ করে। এই পরিবর্তন হয় শাসক শ্রেনীর চাহিদা অনুসারে, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে খাপ খাইয়ে নয়। গ্রামসি আরো দাবি করেন যে বিপ্লবী রাজনীতির তত্ত্ব এবং কৌশল প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিতে ব্যবহার করাও এক ধরণের বেহাত বিপ্লব। প্যাসিভ রেভোলুশন বা বেহাত বিপ্লব তখনি ঘটে যখন ১। সমাজে বুর্জোয়া বিপ্লব অনুপস্থিত থাকে এবং ২। শ্রমজীবী জনগণ বিশেষ করে কৃষক-শ্রমিকের গণ আন্দোলন তৈরি হয় অথবা হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইতালিয়ান ফ্যাসিবাদ একটি বেহাত বিপ্লবের উদাহরণ। ইতালির জমিদার ও শিল্প মালিকরা শ্রমজীবী জনগণের বিদ্রোহের হুমকির মুখে এক ধরণের বৈপ্লবিক রাজনৈতিক সংগঠনের জন্ম দেয়, যা ফ্যাসিস্ট পার্টি মিলিশিয়া হিসাবে পরিচিত। এই সংগঠন এমন এক ধরণের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের মডেল তৈরি করে যাতে পুরনো রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলো বহাল তবিয়তে টিকে থাকে।

বেহাত বিপ্লব ১৯৭১
আহমদ ছফা ১৯৭৭ সালে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা’ নামে একটি বই লেখেন। সেই সময় বাংলাদেশে জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসন চলছিল। সংবিধান থেকে সে বছরই ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ এই দুই মূলনীতি বাদ দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশে তখন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির একটা পুনর্জন্ম ঘটে গিয়েছিল। একজন প্রত্যক্ষ দর্শক হিসাবে আহমদ ছফা এই ঘটনায় শুধু ব্যাথিতই ছিলেন না, তিনি এর কারণও অনুসন্ধান করেছেন ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা’ নামক বইটিতে।

‘বেহাত বিপ্লব ১৯৭১’ নামক বইটিতে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা’ নামের পুরো লেখাটিই স্থান পেয়েছে। এই বইটি যখন প্রকাশিত হয় তখন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক শাসন ও জরুরি অবস্থা চলছে। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ পদটি মূলনীতি হিসাবে ফেরত আসে নাই। এই বইটিতে সলিমুল্লাহ খান বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতার একটি সমালোচনামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন ‘ছফা চন্দ্রিকাঃ বেহাত বিপ্লব ১৯৭১’ নামে। এই প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন –

“এদেশের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা কেন ধর্মনিরপেক্ষ নয়? যারা নিত্য এই নালিশ করেন, তাদের বুকে হাত দিয়ে পোছ করা উচিতঃ এদেশ কি সত্য সত্য জাতিনিরপেক্ষ? এদেশ কি শ্রেণীনিরপেক্ষ? শেষ কথাঃ এদেশ কি আদৌ গণতান্ত্রিক? ‘গণতন্ত্র’ ও ‘জাতীয়তাবাদ’ ‘পদ’ দুটি বাংলাদেশের মূলদলিলে এখনো বহাল। তবে তাদের ‘পদার্থ’ এখন অন্য। একই কথা কিন্তু বলা চলছে না ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বা ‘সমাজতন্ত্র’ সম্পর্কে। সেই জায়গায় এখন অন্য পদার্থ মাত্র নয়, অন্য পদও এসেছে। কিভাবে সম্ভব হল এই বিপ্লব? এই চোরা পরিবর্তনেরই অপর নাম ‘প্যাসিভ রেভল্যুশন’, বেহাত বা হস্তান্তরিত বিপ্লব (গ্রামসি ১৯৭৩)। এই পালটা বিপ্লবের গোড়ার কথা অনেক দিগন্তপ্রশস্ত অন্তর্দৃষ্টির সাহায্যে বিশদ করেছিলেন মহাত্মা আহমদ ছফা”। (সলিমুল্লাহ খান, ২০০৭)

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ পদটি আবার সংবিধানে ফেরত এনেছে। আমাদের প্রশ্ন হলো এই পরিবর্তনটি ‘বিপ্লব’ না কি ‘বেহাত বিপ্লবের’ উদাহরণ? এই প্রশ্ন সামনে আমরা আরো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবো। আপাতত আহমদ ছফার প্রশ্নে ফেরত যাই। সলিমুল্লাহ খানের ভাষায় – “এ প্রশ্নের উত্তর তিনি সন্ধান করেছিলেন ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি। ৩০ বছর পর আমরা দেখছি তার বিশ্লেষণ বহুলাংশে সঠিক। বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার আসল শত্রু জাতীয়তাবাদ নামক মতাদর্শ। এই জাতীয়তাবাদের ছায়াতলেই বিকশিত হয়েছে সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধি ও হানাহানি। এই প্রস্তাব মহাত্মা আহমদ ছফার অন্যতম আবিষ্কার। আন্তনিয়ো গ্রামসির ধুয়া ধরে এই প্রস্তাবের নাম আমরা রেখেছি ‘প্যাসিভ রেভল্যুশন’ বা বেহাত বিপ্লব” (সলিমুল্লাহ খান, ২০০৭)। (চলবে)

(১৯৪৩ সালের ৩০ জুন মহাত্মা আহমদ ছফা জন্মগ্রহণ করেন। আহমদ ছফার ৭৩ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই লেখাটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। )

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “বেহাত বিপ্লব ১৯৭১ ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতা

  1. ভালো লিখেছেন। আহমদ ছফা
    ভালো লিখেছেন। আহমদ ছফা স্যারের বইটা পড়া হয়নি, এখন না পড়া পয‍র্ন্ত শান্তি পাচ্ছি না ।

  2. মার্কসীয় মতাদর্শ গড়ে উঠেছে
    মার্কসীয় মতাদর্শ গড়ে উঠেছে ‘অনুশীলন-সার সংকলন (তত্ত্ব)-অনুশীলন’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অনুশীলন অর্থ হচ্ছে জনতাকে মুক্তির জন্য সংগঠিত করা তথা শ্রেণীসংগ্রাম-উৎপাদন সংগ্রাম-বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার সংগ্রাম পরিচালনা করা। এই অনুশীলন ছাড়া মার্কসীয় মতাদর্শের সঠিক বস্তুবাদী উপলব্ধি ও তার বিকাশ/প্রতিবন্ধকতাকে বোঝা সম্ভব নয়। এজন্য মার্কসবাদ নিয়ে পন্ডিতদের কচকচানি পড়ার চেয়ে একজন কৃষকের কাছে এক বেলা ঘুমানো উত্তম বলে মনে করি। কারণ তা এই তত্ত্ব বোঝার শর্ত তথা অনুশীলনের দিকে ঠেলে দেয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1