রানা প্লাজা নিয়ে এক ধনীর দুলালীর বাণিজ্য!

?oh=a9a094d3406853014f97a9cc1979cf3b&oe=561D27AC&__gda__=1446156820_23baa626dded59c65f1fbad8f2a7dfe2″ width=”200″ />

রানা প্লাজা ধসের ফলে কপাল পোড়ে শ্রমিকের। এখনো আতঙ্কে শ্রমিকশ্রেণী। ভূমিকম্প হলেই তারা রানা প্লাজার মতো মৃত্যুর আশঙ্কা করেন। ১৫০০ শ্রমিকের নির্দয় পাশবিক মৃত্যু তাদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু রানা প্লাজার মালিকসহ সেখানকার দু’ চারজন বাদে এর ফলে বাদবাকি সবার লাভই হয়েছে।

সরকার লাভবান হয়েছে তহবিল মেরে দিয়ে। গার্মেন্ট মালিকরা পেয়েছে বিশেষ প্রণোদনা। আর্মি পেয়েছে উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য বিশেষ ভাতা। ফায়ার সার্ভিস পেয়েছে পুরষ্কার। আর মধ্যবিত্তরা পেয়েছে তাদের মধ্যেকার মহান মানবিকতার পরিচয়।

এর বাইরে এই ঘটনায় অনেকেরই সরাসরি কপাল খুলেছে। আর অনেকের খোলা কপাল হয়েছে আগের চেয়েও চওড়া। বিভিন্ন নিউজ সাইটে আপনারা এমন অনেকের খবর পেয়েছেন, যারা রানা প্লাজা শ্রমিকদের নাম ভাঙিয়ে নিজের পকেট ভরেছেন। আজ এমনই একজনের সন্ধান দেব। তিনি ধনীর দুলালী। পিতার অর্থাভাব নেই। স্বামীরও নেই। তবু তার তর সইল না! চলে এলেন মৃত শ্রমিকের সন্তান ও আহত শ্রমিকের মাথায় কাঠাল ভাঙতে! মুনাফার চরিত্রই এমন- তা বাপ-ভাই চেনে না, আর তো শ্রমিক!

ভদ্রমহিলার নাম হেমা হেলাল। তার সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি, ‘সাপ্তাহিক’ ম্যাগাজিনের একটি খবর থেকে। ওই খবরে বলা হয়,

“ব্যক্তি উদ্যোগের সবচেয়ে বড় নয়-ছয়ের আশঙ্কা স্নেহা ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ডে। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি একটি পারিবারিক উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হেমা হেনান তার পরিবারের কিছু সদস্যকে নিয়েই এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ মুহূর্তে তারা একটি কারখানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন, যেখানে রানা প্লাজার শ্রমিকদের চাকরি দেয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকবে তাদের হাতেই। রানা প্লাজার শ্রমিকদের সহযোগিতার জন্য গড়া তহবিলের টাকা এখন তারা পুঁজি হিসেবে বিনিয়োগ করতে চায়।”

এরপর পত্রিকাটি তার একটি ছোট্ট সাক্ষাৎকার ছাপে। তাতে হেমা হেলাল যা বলেছেন, তা তার কর্মকান্ড সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে-

তহবিল ও ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হেমা হেলাল সেই তথ্য দিতে চাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ইনফরমেশন এখনই ডিসক্লোজ করতে রাজি নই। আমরা কাজ করছি নিজেদের উদ্যোগে। এমনিতেই বাংলাদেশে কোনো কাজ করার সমস্যা অনেক। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গেই কাজ করছি।’
আপনি স্বচ্ছতার কথা বলছেন, অথচ আপনাদের তহবিলে টাকা কত এই হিসাব দিতে চাচ্ছেন না, এটাই তো বরং আপনাদের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি আমাদের ওয়েবসাইট দেখুন। আমরা তহবিলের টাকার পরিমাণ এখনই জানাবো না। আমরা কাজ করি। আমাদের কাজ শেষ হলে তখন ঘোষণা দেব আমরা কি কি করছি।’
আপনারা কি টাকা দেশ থেকেই তুলেছেন নাকি বিদেশি তহবিলও এখানে আছে?
উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডিয়ান নন প্রফিট অর্গানাইজেশন। ওখানে আমাদের অনেক শুভানুধ্যায়ী আছে। তারাই সহযোগিতা করেছেন।’
আপনারা কারখানা করতে চাচ্ছেন কিন্তু এর মালিকানা আপনাদের হাতেই থাকছে! এর লাভের হিস্যা কে কিভাবে পাবে?
জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা কিভাবে হবে সেটা তো পরের ব্যাপার। আমরা এটা করলে তার পর জিজ্ঞেস করবেন।’
এর পর আর তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনটিতে এরকম আরও নয়-ছয়ের খবর ছিল। পরে অন্যান্য পত্রিকায়ও এরকম মধুখোরদের অনেক খবর পড়েছিলাম। আমরা যারা রানা প্লাজার শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করতে গেছি, তাদের এসব নিয়ে ক্ষোভ আছে ভাই। নিদেনপক্ষে যে কিছু পায়নি সেও বলেছে, সোয়াব কামিয়েছি। নিহত শ্রমিক কেন সবার লাভের উপলক্ষ্য হবে, এটাই মানতে পারিনি। সেখান থেকেই উৎসাহী হই এ বিষয়ে খোঁজ নেয়ার। আরও কয়েকজনের খোঁজ চলছে। তবে আজকের আলোচ্যসূচী হেমা হেলালের স্নেহা ফাউন্ডেশন।

হেমা হেলালের দুটি সাইট আছে নেটে। একটি তার ব্যক্তিগত। অন্যটি তার প্রতিষ্ঠানের। সাইটগুলো দেখে আসতে পারেন। যদিও তার প্রতিষ্ঠানের সাইটটি এখন বন্ধ। এমনকি তার ফেইসবুক প্রোফাইলেও ঢু মেরে আসতে পারেন। তাহলে বিষয়গুলো বুঝতে সুবিধা হবে। গোড়াতেই যেটা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়বে, নানা ইস্যুতে তিনি ফান্ড দেয়ার কথাটি মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছেন। ব্যক্তিগত সাইটে নিজের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন-

When i was 19, i joined my father’s business in Dhaka, Bangladesh. From a sales rep at a motorbike showroom to Manager Sales in charge of 38 dealers nationwide, i quit after 7 years & the highest yearly sale in the history of the business. Simply because i had other mountains to scale & pond scums to peddle through.

?oh=c6f19b186e08f0c24a8e1a94de2fc6cd&oe=5622836C&__gda__=1445789157_686ebd272cd7f8c465f6a0bc7fa89a49″ width=”400″ />
ট্যাকা দেন, ট্যাকা!

নিজের সম্পর্কে লেখা তার এই কথাগুলো পড়ে অবাক হয়েছি। বাপ্রে বাপ! এত যোগ্যতা? মাত্র ৭ বছরে মোটরসাইকেলের দোকানের একজন সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে তিনি হয়ে গেলেন ম্যানেজার এবং দেশজুড়ে ৩৮ ডিলারের প্রধান! কথাগুলো শুনে কেমন খটকা লাগল। খেয়াল করলাম, একটা গোলমাল আছে এর ভেতর। একবার বলছে বাপের ব্যবসায় যোগ দিলাম। আবার বলছে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ। খটকা লাগায় খোঁজ লাগালাম।

জানতে পারলাম, তার বাবা ভারতের হোন্ডা কোম্পানির বাংলাদেশে মার্কেটিং-এর সঙ্গে যুক্ত প্রধান ব্যক্তিদের একজন। সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে ম্যানেজার হওয়ার গোমরটা বুঝতে পারলাম। বাবার ব্যবসা হলে এই পদ পেতে অনেকেরই ৭ বছরও লাগে না। অথচ তিনি কিনা শুরু করেছেন, আমি, আমি, আমি! যাই হোক, এরপর তিনি চলে গেলেন নতুন পাহাড় জয় করতে। পাড়ি জমান কানাডায়।

?oh=c2295cfe6e2cc95eb69b76d962b4a6bc&oe=562BA145&__gda__=1446121676_086cc27d944f2ab4d9724dcbbc85a248″ width=”400″ />
গ্রামীণফোন ক্যাম্পেইন করে, আর তিনি করেন আমি, আমি!

রানা প্লাজার সঙ্গে তার নাম শোনা যায়, ঘটনার অব্যবহিতকাল পরেই। তিনি এসেই ঘোষণা দেন কারখানা করব, যেখানে রানা প্লাজার শ্রমিকরা কাজ করবে। তারপর বললেন স্কুল করব। অক্‌ষ্ময় প্যাটেলের কিচেনের মতো সেখানে মহাভোগ হবে। স্কুলের ছেলেরা খানা পাবে। খানা পেলে তারা সবাই শিক্ষিত হবে! এর বাইরেও ১০০ শ্রমিকের পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। যেখানে লক্ষ্যমাত্রায় ১ লাখ ২ হাজার মার্কিন ডলার অর্থাৎ ৮০ লাখ টাকা ও আরও অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

?oh=b1c320ad6c5dc72f02dd997965d6f4d9&oe=562C8128&__gda__=1446282484_43f74bf15b94387af6643da637a78d56″ width=”400″ />
এই হলো সেরা খাবার স্কুলমুখী শ্রমিকের সন্তানদের জন্য

এতসব আওয়াজের বাস্তবায়ন করার টাকা আসবে কোত্থুকে। উপরোল্লেখিত সাক্ষাৎকারটি দেখুন। এইসব টাকা কে কত পাঠাচ্ছে, কত ব্যয় হচ্ছে, কত উদ্ধৃত্ত থাকছে, তার কোনো হিসাব নেই। টাকা আসছে কানাডা থেকে, প্রবাসী মধ্যবিত্ত ও ধনীরা সহযোগিতা করছেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকজন আমাকে জানিয়েছেন যে, হেমা হেলাল তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কোথাও এটা স্বীকার করেননি। শুধু একটা সাইটে কিছু ছবি ছাপছেন, কিন্তু তাও সঠিক কিনা তা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। তারাও চক্ষুলজ্জার কারণে চাপ দিতে পারেননি। কিন্তু এটাই বাস্তবতা যে, হেমা হেলাল কোথাও টাকার হিসাব প্রকাশ করেননি।

তিনি নানা প্রকল্পের কথা বলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার প্রকল্পের চেহারা দাঁড়িয়েছে এরকম। তিনি এখন একটা স্কুল বানানোর জন্য কাজ করছেন বলে তার সাইটের এই লিঙ্কে পাবেন। সেই স্কুলে রানা প্লাজার আহত নারীশ্রমিকদের তত্ত্বাবধানে রানা প্লাজা শ্রমিকদের ১০০ শিশুকে পড়ানো হবে। এ এক বিরাট মাস্টার প্ল্যান। স্নেহা ফাউন্ডেশনের ছোঁয়ায় এসব শিশুরা সব ভাইবোন হয়ে যাবে। এবং এক মায়ের সন্তানের মতো করেই বসবাস করতে পারবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। প্ল্যানিং আরও ডিটেইল জানিয়েছে তারা-

Did we mention about the Tree-houses as their book/art/craft clubs? Or the Amphitheater that will bring the budding creatives out in the world? Or the Library, the Music Hall and the Green School that will stretch their minds while teaching them how to grow their own food on the 3 acre Organic Veggie Garden? We know you’re looking forward to seeing this village take shape as much as we are… The total estimated cost of building the entire eco-village is $250,000 that rehabilitates 100 children + 30 women.

?oh=e0bfa959a9f16815087eb0b880cbec65&oe=55EF066B” width=”200″ />
ফ্রিজ-ফ্রিজার আছে, অথচ তখনো স্কুল নাই!

একেবারে চমৎকৃত হওয়ার মতো ব্যাপার স্যাপার। ডলারের দর ৮০ টাকা হলে ১৩০ জনের পুনর্বাসনের জন্য লাগছে দুই কোটি টাকা। আরও আছে। স্কুলের বাচ্চাদের খাওয়া, পরা এবং অন্যান্য চাহিদা। আছে স্কুলের ব্যয়, শিক্ষকদের ব্যয়। সেগুলর জন্যেও টাকা তুলছেন হেমা হেলাল। এর মধ্যে সমস্যা কোথায় যে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন। আমি বলব, সমস্যা আছে। একজন ছাত্রের পুনর্বাসন ব্যয় এখানে ১.৫ লাখ টাকার মতো। অথচ প্রতি শিক্ষকের বেতন দেখুন- ৩০ হাজার টাকা। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। শিক্ষকদের আসা যাওয়ার জন্য কেনা হয়েছে এসি গাড়ি।

রানা প্লাজার শ্রমিকরা এখন অনেকে প্রভূত কষ্টের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। অথচ হেমা হেলালরা তাদের খোঁজ পান না। তারা পান গাড়ির খোঁজ। স্কুলের যখন কোনো খবর নেই। তখন তিনি গাড়ি কিনে বসে আছেন। বাহ! কী মানবিকতা। তা এই গাড়ি কাদের জন্য? না, ছাত্রদের নয়। এটা ৩০ হাজার টাকা বেতনধারী শিক্ষকদের জন্য! এই হলো শ্রমিক সাহায্যের নমুনা।

হেমা হেলাল কাজের চেয়ে অনেক বেশি ফিটিংবাজ। এটা তার ব্যক্তিগত সাইটের কথামালা থেকেই বোঝা যায়। ইতোমধ্যে নিজেকে স্বপ্ন বিক্রেতা হিসেবে প্রায় প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। অগ্রগতি এতখানি যে, তাকে নিয়ে নাটক বানানোর পরিকল্পনাও সেরে ফেলেছে মিডিয়া। কাজের কাজ কিছু না করলেও অন্যান্য সংস্থাগুলো যে ডাটাবেজ তৈরি করে, তা একটু আধটু এডিট করে নিজেদের সাইটে আপ করেন এবং টাকা তুলতে থাকেন। শুধু ব্যক্তিবিশেষ নয়, বিভিন্ন দপ্তর থেকেও টাকা নিয়েছেন তিনি। যা কেউই জানে না। সবখানেই তিনি একটা বিভাজন রাখেন। আলাদা আলাদাভাবে পরিচালনা করেন সবকিছু। ফলে সবাই তার বিষয়ে অন্ধকারে থাকে। তার প্রচারণার জন্য আলাদা একটা টিম আছে, যারা জয়বাংলা থেকে শুরু করে বাঁশেরকেল্লা, ইউটিউব থেকে ফেসবুক, কিছুই বাদ দেয়নি! হেমা হেলাল একা নন, শ্রমিকদের নিয়ে তার এই নয়া স্বপ্ন ব্যবসায় তার পরিবারের আরেক সদস্য, তার ছোট বোনও যুক্ত।

?oh=c4a783832a9e632fb7086c45a709fe0d&oe=562A1863″ width=”400″ />
টাকা অনেক জায়গা থেকে নিয়েছেন, কিন্তু হিসাব নেই!

রানা প্লাজার ঘটনার পর তারা দেশে এসে একটা কারখানা গড়ার ঘোষণা দেন। প্রথমে তারা রানা প্লাজার আহত-নিহত শ্রমিকের শিশুদের মাঝে মাঝে ডেকে নিয়ে খাওয়ান, কিছু গিফট দেন। এর মধ্যে স্বল্প পরিসরে তখন কারখানা গড়ার চেষ্টা করলেও তা আর দাঁড়ায় না। মাস চারেক ১২ জন শ্রমিক নিয়ে কারখানার নামে টাকা লুটের এক খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ওই কারখানায় কিছুই হয় না, তারা প্রোডাকশনেই যেতে পারে না। ব্যাগের কারখানা করার চেষ্টা ছিল। কিছু স্যাম্পল বানিয়েছিলেন। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় এই পোড়ার দেশে টিকে থাকতে তাদের কষ্ট হয়ে যায়। লুকিয়ে পালিয়ে যান তারা। কারখানা, স্কুল, সব প্রকল্পই লাটে ওঠে।

কিন্তু হেমা জানেন, এ এক বিরাট ব্যবসা। তাই আবার ঠিক রানা প্লাজা দিবসের কিছুদিন আগেই তিনি দেশে এসে হাজির হন। মৃত কারখানাকে আবার ফিল্মি স্টাইলে জিন্দা করেন। এ কাজে তার সহযোগী হচ্ছেন রাজু। এই রাজু তার পুরনো তথাকথিত কারখানার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিল। কোনো যোগ্যতা বা শ্রমিকের প্রতি ভালবাসা থেকে তিনি এ কাজে আসেননি। তার যোগ্যতা একটাই, তিনি হেমার আত্মীয়।

হেমা দেশে থাকা অবস্থায়ই রাজু বন্ধ কারখানায় নেশার আড্ডা খোলে। ব্যাংক কলোনি এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলা ও দোতলা তারা ভাড়া নেয়। কারখানা চোখের আড়ালে রাখার জন্য রাখা হয় দোতলায়। সেই এলাকায় গিয়ে রাজু সম্পর্কে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই নেশার বিষয়ে জানতে পারবেন। ওই কারখানা দেখতে যারাই গিয়েছেন তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। নিদেনপক্ষে চাওয়া হয়েছে হাই অথরিটির পারমিশন। হু ইজ দিজ হাই হিল? ইটস হেমা!

?oh=dd06565d29b8074b6f3c7936336509b1&oe=56265714&__gda__=1441632553_5f4fef8faaaf7e22fdde8bf7c740f96c” width=”400″ />
স্কুল নাই, কিন্তু গাড়ি আছে শিক্ষকদের!

এই রাজুর সঙ্গে আমি অনেকক্ষণ পরিচয় গোপন রেখে কথা বলেছিলাম। তার কাছ থেকেই জানতে পারি, এই কারখানার গেট থেকে নাকি সে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকির স্ত্রী আলোকচিত্রী লিমাকে বের করে দেয়। ব্যাংক কলোনি এলাকায় তার বিরাট প্রভাব, এটাও বলতে ভোলে না রাজু।

আমি হেমার কারখানায় কাজ করতেন এমন একজন রানা প্লাজা শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলি। তিনি নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি। তবে খুব পরিষ্কার করে এর গোমর ফাঁস করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে এই কারখানায় ৫ জন আছেন। আগের জায়গায় এখন আর কারখানা নেই। এখন কারখানা এনাম মেডিকেলের পেছনে। ওই শ্রমিক জানান, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে কারখানার কাজ শুরু হয়। মাস তিনেক চলার পর ঝিমিয়ে যায়। এরপর ঈদের সময় তারা কারখানা বন্ধ করে বিদেশ চলে যান।

?oh=6728b50a57278377d3ee89abb9a6b460&oe=5629A8A1″ width=”200″ />
শ্রমিকের জন্য পাঠানো টাকা, যাবে মধ্যবিত্তের পেটে!

শ্রমিকদের চার হাজার ৮০০ টাকা করে বেতন ধরা হয় তখন। ওভারটাইমও ছিল না কোনো। কোনো কোনো শ্রমিক টাকা বাকি রেখেই চলে গেছেন। আয়ের বহর দেখলে বোঝা যায়, শ্রমিকরা আগের জায়গাতেই রয়েছেন। আর হেমারা হয়েছেন স্বাপ্নিক, উদ্যোক্তা। শ্রমিকরা পাচ্ছেন, ৪৮০০ টাকা আর শিক্ষক পাবেন ৩০,০০০? এটা এখানে একটা প্রশ্ন যে, সাহায্যটা আসলে কার জন্য?

হেমা হেলালের সাইটের একটা ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে ছবিতে দেখেছি, স্কুলের কিচেনের জন্য ফ্রিজ ও ফ্রিজার, সবই কেনা হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, এটা আসলে তাদের একটা আড্ডাশালা। ওই কারখানায় কাজ করতেন এমন একজন শ্রমিক জানান তার আশঙ্কার কথা। তিনি বলেন, ‘আমি শুনছি এরা নাকি পোলাপানরে ট্রেনিং দিব। তারপর বিদেশে বড়লোকদের বাসায় কাজ করার জন্য মেয়েগুলারে নিয়া যাইব। এই কথা শোনার পর খুব ডরে আছি!’

হেমা হেলালদের দ্বারা ঠিক কতটা অন্যায় সম্ভব, তা জানার জন্য তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও খোঁজ নেই। জানতে পারি, তিনি নিজ স্বামীর সঙ্গে ইতোমধ্যে বিচ্ছেদ টেনেছেন। এরপর একজন মিডিয়া মুঘলকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু এগুলো লুকিয়ে রাখতেই পছন্দ করেন তিনি। বিয়ে ভাঙার বিষয়টার মধ্যে গুরুত্বপুর্ণ কিছু ম্যাটার আছে জানতে পারলেও তা উদ্ধার করতে পারিনি।

?oh=47857fd4d661e9f35dd2e068b236fc8e&oe=55EFD5A6″ width=”200″ />
বাঁশের কেল্লায় হেমা হেলাল

হেমা হেলার সাইটের ফেসবুক পেইজে যান। দেখবেন ১০ জুলাই, ২০১৪ তারিখের পোস্টে বলা হচ্ছে, ১০০ শিক্ষার্থী তৈরি আছে। ১ জানুয়ারি থেকে স্কুল শুরুর কথাও বলা হয়। আসলে যা ছিল, নতুন করে টাকা ওঠানোর ধান্দা। তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমাকে বলেছেন, হেমা অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে অর্গানিক ফুডের ব্যবসা করতে আগ্রহী ছিল। এখন সম্ভবত স্কুল প্রকল্প দিয়ে সে ওই লক্ষ্যের দিকেই যাত্রা শুরু করেছে। এক্ষেত্রে লক্ষ্যণিয় যে, তার কারখানার ম্যাটার ছিল পাটের ব্যাগ। তার ফেবু প্রোফাইলেও অর্গানিক ফুড বিষয়ক প্রচারনা দেখা যায়।

?oh=fd85b4b31cac157972b68be6b93d1e6f&oe=5633BCED” width=”400″ />
জয়বাংলা, বাঁশের কেল্লা সবই সমান আদর্শহীনদের কাছে

অনেকেই বলতে পারেন, হয়তো ভুল হচ্ছে। অথবা ওরা চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না। আমি সেক্ষেত্রে একতা জিনিস আবার স্মরণ করিয়ে দেব। হেমা হেলাল কেন টাকার হিসাব খোলামেলাভাবে দেন না? কেন তিনি শ্রমিককে দেন ৪৮০০ টাকা আর শিক্ষককে দেন ৩০০০০ টাকা? সাহায্যটা আসলে কার প্রাপ্য? কেন তিনি গাড়ি, ফ্রিজ, ফ্রিজার কেনেন? এটা কি সেবা দেয়ার জন্য খুবই দরকারি।

এরকম আরও কিছু হেমা আছে। তদন্ত চলছে। সবাইকে আহবান জানাই, তথ্য পেলেই প্রকাশ করুন। নিহত শ্রমিকদের নিয়ে যে শুয়োররা ব্যবসা করবে তাদের আমরা ছাড়ব না। এই হোক আজকের শ্লোগান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৫ thoughts on “রানা প্লাজা নিয়ে এক ধনীর দুলালীর বাণিজ্য!

  1. মাথা ঘুরছে! এরকম ধান্দাবাজও
    :ক্ষেপছি:
    মাথা ঘুরছে! এরকম ধান্দাবাজও তাহলে আছে!! ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।
    যেই শুয়োররা শ্রমিকদের নিয়ে ব্যবসা করবে তাদের স্তব্ধ করতেই হবে। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  2. ভালো লিখেছেন। গুরুত্বপূর্ণ
    ভালো লিখেছেন। গুরুত্বপূর্ণ রচনা। সবার কাছে আহবান জানাবো, শ্রমিকস্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে এই লেখাটি ছড়িয়ে দিবেন। এ ধরনের লোক অনেক আছে। এদের চিহ্নিত করা দরকার। মানুষের কাছে এদের অপরাধগুলো তুলে ধরা দরকার।

    শ্রমিকের জন্য টাকা তুলে তা দিয়ে স্কুলবিহীন শিক্ষকদের জন্য গাড়ি কেনাটা নিঃসন্দেহে নয়,ছয়ের অংশ। আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।

    1. ধন্যবাদ আপনাকে। এই ধরনের
      ধন্যবাদ আপনাকে। এই ধরনের ধান্ধাবাজের সংখ্যা অনেক। সব সময়ই এরা পার পেয়ে যায় রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষকতায়। সবাই এদের বিরুদ্ধে কথা বলুন।

  3. ভালোই ধান্ধাবাজি করা হয়েছে।
    ভালোই ধান্ধাবাজি করা হয়েছে। শ্রমিকদের মাথা বিক্রি করে আর কত ধান্ধাবাজি চলবে? তদন্ত করে উপযুক্ত বিচার করা হোক। তার সম্পদের হিসাব নেওয়া হোক।

  4. আমাদের একটা স্কুল আছে সাভারে
    আমাদের একটা স্কুল আছে সাভারে সংকলন পাঠশালা নামে। রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের বাচ্চাদের নিয়ে শুরু করলেও এখন সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের বাচ্চাদের জন্য এটা ফ্রি ষ্কুল। বর্তমানে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী আছে স্কুলে। গতবছর স্কুলের শিক্ষকদের আমরা মাসিক ৫৮০০টাকা করে বেতন দিতে পারলেও এবছর বেতন কমিয়ে ৩-৫হাজার করা হয়েছে। আগের বছরের সব শিক্ষকের বেতন কমিয়ে প্রায় অর্ধেক করে দেয়া হয়েছে। তারপরেও শিক্ষকরা কিছু বলে নাই। এবং স্কুলের ইতিহাসে কোন মাসেই শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পান নাই। এখনো ৩ মাসের বেতন বকেয়া্। শিক্ষরা কিছু বলেন না, আমরা চেষ্টা করি। সবাই জানি টাকা না থাকলেও স্কুল চালাতে হবে। দরকার হলে ডাকাতি করে স্কুল চালাতে হবে।
    সাভারে আমরা একটা কারখানাও চালাই অপরাজেয় নামে। এটা রানা প্লাজার শ্রমিকদের নিয়ে প্রথম তৈরী কোন কারখানা। কারখানার অবস্খাও নাজুক। টাকা পয়সা নাই, ব্যাংক লোন দেয় না। শ্রমিকরা নিয়মিত বেতন পায় না। কারখানায় লোকাল লোকজন আগুন ধরায়া দেয়। কিন্তু এই কারখানাও বন্ধ হয় না। ২ বছর হইছে বন্ধ হয় নাই। গত মার্চে আগুন লাগার পরে আর শ্রমিকরা বেতন পায় নাই। চেষ্টা করতাছি ধারদেনা কইরা ঈদের আগে বেতন দেয়ার। লাভের অংশতো বহুত পরের কথা। শ্রমিকদের বলি অন্য যায়গায় কাজ নিয়ে চলে যেতে তারাও যায় না। মাটি কামরায়া পইরা থাকে। বলে আর একটু চেষ্টা কইরা দেখি।
    দিনরাইত এতগুলা শ্রমিক সাথে নিয়া কুত্তার মত দৌড়ায়া সুবিধা করতে পারতেছি না আর পাবলিক মুজমাস্তি করে। স্নেহার অর্গানিক খামার চালু কইরা ফালাইছে রাজেন্দ্রপুরে, সেইখানে একটা রিসোর্টও আছে ৩হাজার টাকা দিয়া চাইলে আপনি থাইকা আসতে পারেন একরাইত। সবই কিন্তু রানা প্লাজার পুনর্বাসন প্রজেক্ট।

  5. এই ভন্ডের বিচার হওয়া দরকার।
    এই ভন্ডের বিচার হওয়া দরকার। মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় করছে দিব্যি। এই নষ্ট পুঁজিবাদী সমাজের এই এক সমস্যা, মুনাফার স্বার্থে সমস্ত মানবিকতা-মূল্যবোধ নিমেষেই বেঁচে ফেলে!!

  6. সেলফ প্রোমোশনের এই যুগে
    সেলফ প্রোমোশনের এই যুগে অনেকেই এই জাতীয় “হিট” ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। পোষ্ট দাতাকে ধন্যবাদ এরকম এক ভণ্ডর স্বরুপ উদ্ঘাটনের জন্য।

  7. “আমি শুনেছি এরা নাকি

    “আমি শুনেছি এরা নাকি পোলাপানগুলারে ট্রেইনিং দিব । তারপর বিদেশে বড়লোকের বাসায় কাজ করার জন্য মেয়েগুলারে নিয়ে যাইব ।”

    ব্যাবসার পাশাপাশি পাচারের কথাটাও উনি মাথায় রেখেছেন দেখছি । এর কি কোন বিচার নাই ?

  8. ইন্টারনেট আসায় বিরাট সমস্যা
    ইন্টারনেট আসায় বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে, এখন আর আগের মতো নির্বিঘ্নে কাজ সারা যায় না। এই সেই লোক এসে সব ফাঁস করে দেয়।

    1. ঠিক বলেছেন। কিন্তু সব কি আর
      ঠিক বলেছেন। কিন্তু সব কি আর ফাঁস হচ্ছে? এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আরো বেশি বেশি লেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

  9. “আমি শুনেছি এরা নাকি

    “আমি শুনেছি এরা নাকি পোলাপানগুলারে ট্রেইনিং দিব । তারপর বিদেশে বড়লোকের বাসায় কাজ করার জন্য মেয়েগুলারে নিয়ে যাইব ।”

    এই আশঙ্কাটা একেবারে অমূলক নয়। গরিব ঘরের মেয়েদের বিদেশে নিয়ে এরকম অনেকেই ঘরে বন্দি রেখে কাজ করায়। তারা পশ্চিমা দেশে বন্দি থাকে। কিন্তু নিজের কী অধিকার তা কখনই জানতে পারে না।

    এই মহিলার কর্মকান্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি। পুলিশ-র‍্যাব টাকা খাইতে পারে!

  10. রানা প্লাজা ধ্বসের পর যে নয়টি
    রানা প্লাজা ধ্বসের পর যে নয়টি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তার মধ্যে এই স্নেহা ফাউন্ডেশনের ফ্যাক্টরি একটি। এক ‘অপরাজেয়’ বাদে বাকি সবগুলুই বন্ধ হয়ে গেছে বা শুরুই হয়নি। অপরাজেয় কারখানার পেছনে আবার ফেউ লেগেছে। মার্চে কে বা কারা কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এই কারখানার সাথে একটি স্কুল ছলছে।

    1. যে কোন ভাল উদ্যোগকে পেছনে
      যে কোন ভাল উদ্যোগকে পেছনে শত্রুর অভাব থাকেনা। কিন্তু ধান্ধাবাজদের পেছনে থাকে বড় বড় বেকআপ।

  11. সব শোষকেরই চরিত্র এক,শুধু
    সব শোষকেরই চরিত্র এক,শুধু পন্থা ভিন্ন।যতদিন না আই এফ এম,ইউ এন ডিপি এইসব বড় শোষক দের আমরা তাড়াতে না পারব ততদিন মুক্তি নেই।

    1. আমাদের দেশের শ্রমিকদের মাথা
      আমাদের দেশের শ্রমিকদের মাথা বিক্রি করে এই ধরনের দুই নম্বরী আরো অনেকেই করছে। সবারই চরিত্র উন্মোচন করতে হবে।

  12. কি বলা যায়! বুঝে উঠতে পারছি
    কি বলা যায়! বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমি তার বিচার নয়, আমি আমাদের বিচার দাবী করছি। কেনো না, এরা আমাদের মতো কাউকে না কাউকে ব্যবহার করেই এই ধান্ধা করছে। এদের ঘৃণা জানানোর কী ভাষা ব্যবহার করা যায়? বুঝে উঠতে পারছি না।

  13. শেয়ার করলাম। মানুষ খারাপ হলে
    শেয়ার করলাম। মানুষ খারাপ হলে কত নিচে নামতে পারে, তাঁর একটা জলজ্যান্ত প্রমাণ পেলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 − = 83