তর্ক রেখে জেগে উঠুন

আজ আমাদের বাংলাদেশ অতিক্রম করছে চুরম এক সংকটময় মুহুর্ত। আমরা বাঙ্গালীরা সূদীর্ঘ ২২ বছর পর একসারিতে এসে দাড়িয়েছিলাম একটি ফাসির দাবীতে। দেশের এমন কোন ব্যক্তি নেই যে গনজাগরন মঞ্চের ডাকে শহীদ মিনার আসেনি, এমন কোন জন নেই যে একটি মোমবাতি জ্বালায়নি, এমন কোন মানুষ নেই যে দেশকে কলংকমুক্ত করার জন্য তিন মিনিট দাড়িয়ে পরেনি। সেই ঘটনাগুলির কথা মনে হলে এখনো কান্না এসে পরে। এই গনজাগরন সারাবিশ্বে অবস্থানরত সকল বাঙ্গালীকেও জাগিয়ে দিয়েছিল। বাঙ্গালী যেনো বহুদিন পর ফিরতে শুরু করেছিল তার মূল ধারায়। এই একসারিতে দাড়ানো বাঙ্গালী দেশে বিরাজমান অতিধুরন্দর, দুর্নীতিবাজ, চেতনা ব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটা অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দেয়। ফলে সবগুলা রাজনৈতিক দল এক হয়ে এই চেতনাকে বিনষ্ট ও শতবিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য শুরু করে এক ঘৃন্য চক্রান্ত। চক্রান্ত সফল করার জন্যবেছে নেয় ধর্মীও ইনুভুতি নামক পুজিহীন এক সহজ পন্য। আর এদেশের সাধারন মানুষের কাছে সহজে যে পন্য বিক্রি করা যায় তা ধর্মীয় অনুভুতি। আর সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে তারা। গনজাগরন মঞ্চকে নাস্তিকদের মঞ্চ হিসেবে প্রচার করার জন্য উঠে পরে লাগে। যদি আজ কেউ মনে করেন জামাত তাদের গা বাচানোর জন্য নাস্তিক আস্তিক ইস্যুর ধোয়া তুলেছে তাহলে আপনি বোকার সর্গে বাস করছেন। গনজাগরন মঞ্চের বিরুদ্ধে যা কিছুই হয়েছে সব কিছুতেই বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলা জড়িত। আমার কথাগলো উদ্ভট লাগতে পারে। কিন্তু এটিই নির্মম সত্য।বি এন পি জামাতের কথা বাদ, এরা সরাসরি বিরুধীতা করেছে, কিন্তু আওয়ামিলীগ কেন আমারদেশ নামক প্রত্রিকা বন্ধ তো দুরে থাক একটা ন্যুনতম ব্যবস্থাও নেয়নি? খেয়াল করুন এই পত্রিকার রিপোর্ট গুলো না আসলে আজ গনজাগরন কোথায় গিয়ে দাড়াত?

আমি আবারো সবগুলা রাজনৈতিক দল বলছি। ভেবে দেখুন যে জোয়ার শুরু হয়েছিল এতদিন গনজাগরন গোটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রন নিতে পারতো কি না? আর তাই গনজাগরন মঞ্চের উপর আজ ধর্মীয় অনুভুতির খাড়া। যেখানে মোল্লার দল কোরান বিরুধী নারী নীতি পাশ করার পর সারা দেশে এক হয়েও একদিনের বেশি হরতাল দিতে পারেনি সেখানে চিটাগাঙের গুটিকয়েক কাঠ-মোল্লা গনজাগরনের মহাসমাবেশ রুখে দেয়ার মত দুঃসাহস কোথায় পায়? শুধুই কি জামাতের জোড়? তারা মহান সংসদের সমর্থনপুষ্ঠ গনজোয়ারের মানুষদের সাথে আলোচনায়ও বসতে কেন রাজী হয়না? তাদের এই গোয়ার্তুমীতে খুটির জোড় কোথায় পায়? শুধুই জামাত বি এন পি? নাকি আরো কেউ তাদেরসাথে আছে?

আজ দিনের আলোর মত স্পষ্ট যে দেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চিরতরে মুছে সবকটি রাজনৈতিক দল শোষনের জন্য মরিয়া হয়ে লেগেছে। তাদের বাংলাদেশ প্রয়োজন নেই। তাদের প্রয়োজন ক্ষমতা, আর ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কিছু ধর্মান্ধ মানুষ, যাদেরকে ধর্মের দোহায় দিয়ে তার সাথে মিশিয়ে হেমলক বিষও খাওয়ানো যায়।

এখন প্রকৃত সময় সকলকে একসাথে জ্বলে উঠার। এবার এসেছে সময় পুর্ব পুরুষদের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার। বাংলাদেশ আর কত সইবে নাগিনীদের নিঃশাস? এবার দেশের নেতৃত্বে আসুক প্রকৃত দেশপ্রেমিক জনতা, আর চালু সব রাজনৈতিক দল বর্জন করতে হবে আমাদের। সকল আশা আকাংখ্যায় গুড়েবালি দিয়ে দেখেছিলাম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন। দেখেছিলাম কলংকমুক্ত বাংলাদেশ। এর জন্য মেনে নিয়েছিলাম সবকিছু। কিন্তু এখন দেখি কন্ঠটাও নিরাপদ নয় হারামীদের কাছে। একদল মুখে কয় ঠিক আছে, আবার ব্লগার ধরে। আরেকটায় কয় নাস্তিকের দল। আর হেফাজতিদের কথা না হয় নাই বললাম। আসলে সকল শালারাই তলে তলে এক টেবিলে ভাত খায়।

# তারুন্য, জ্বলে উঠুন বারুদের মত। আর ঘুমিয়ে থাকা নয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − = 37