বাকস্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও একটি তওবার গল্প।

(সমস্ত চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক)

হেফাজতে বাংলাদেশের প্রধান হুজুরে “পাক” আল্লামা শাহ আহমেদ শফী তওবা পাঠ করাচ্ছেন। তার মাথায় শপথ পড়ানি পরচুলা। মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহন স্টাইলে নাস্তিকগণ বিড়বিড় করে তওবা পড়ছেন। হারামজাদা নাস্তিকগুলার অবস্থা গুরুতর। এদের প্রায় সবাই রিমান্ডফেরত। যে সে রিমান্ড না, কঠিন রিমান্ড। যে বিচার স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার করার কথা সেই বিচারের রিমান্ড কঠিনই হবার কথা। কিছুই করার নেই। দে হ্যাভ টু বি ক্রুয়েল অনলি টু বি কাইন্ড।

শেখ হাসিনা চিকের আড়াল থেকে আগ্রহ নিয়ে এইসব কর্মকান্ড দেখছেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মহিলাদের সরাসরি উপস্থিত থাকতে হয়না। নিয়ম নেই। হাসিনা ভাবছেন এখন থেকে প্রধানমম্ত্রীত্বও তিনি চিকের আড়াল থেকে করবেন। ধর্মরক্ষা খুব কঠিন ব্যাপার। তবে এই মুহুর্তে তাঁর কাছে সবচেয়ে চেয়ে কঠিন ক্ষমতা রক্ষা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল তাঁর কন্যা চিকের আড়ালে বসে একসাথে ধর্ম ও ক্ষমতা রক্ষা করবে। তিনি গড়েছেন রক্ষীবাহিনী, তাঁর কন্যা গড়বে ধর্মরক্ষী বাহিনী।

হাসিনার পাশেই বসে আছেন খালেদা জিয়া। দুজনেই, শুধু চোখ দেখা যায় এমন পর্দা করেছেন বলে কেউ কাউকে চিনছেন না। আদা এবং কাঁচকলাকে একত্রিত করার দুঃসাধ্য কাজটি করেছেন লেজেহুমু এরশাদ। নারী বিষয়ে অগাধ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ভুজুং ভাজুং বুঝিয়ে এই দুই মূর্খমহিলাকে বোরকা পরিয়ে ফেলেছেন।

খালেদার মাথায় একটা বুদ্ধি ঘুর ঘুর করছে। হুজুরে চন্দ্রপুরী দেহো সাঈদীকে দিয়ে একটা ফতোয়া দেওয়াতে হবে। ফতোয়ার মুলবক্তব্য হবে, “ভ্রু চাঁছা কোন জেনানার উপস্থিতিতে তওবা করা হারাম এবং ধর্মনিন্দার সামিল”

বেগম জিয়া চেষ্টা করছেন ফতোয়ার মধ্যে “স্বাধীনতার ঘোষক” শব্দদুটি ঢুকিয়ে দিতে। পারা যাচ্ছে না। এইট পাস মাথা দিয়ে অনেক কিছুই পারা যায় না। এমনিতে তিনি আদর্শ স্ত্রী। স্বামীর অপূর্ণ কাজ গুলো তিনি নিষ্ঠার সাথে পূরণ করছেন। মেজর সাব খাল কেটেছেন। তিনি সেই খালে কুমীর চাষ করে ছ্যাড়াব্যাড়া করে ফেলেছেন।

দুই নেত্রী তওবারত মুরতাদদের দিকে এক ধরণের পিপাসা নিয়ে তাকিয়ে রইলেন। এঁদের কাছে মানুষ মানে ভোট। পারলে এঁরা ষোল কোটি মানুষকে ভাজ করে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে ফেলেন। তাদের ভোটের তৃষ্ণা কোন দিন মেটে না। মানুষ অমানুষ সকলেই আজীবন তৃষ্ণার্ত।

পাদটীকাঃ আমি ধর্মবিষয়ে কিছু বলতে ইচ্ছুক না। এই লেখায় আমি রাজনৈতিক নেতাদের ধর্ম ধর্ম খেলা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছি। আমি হতাশ হয়ে লক্ষ্য করছি সব রাজনৈতিক দল ধর্ম ব্যাবসায় নাম লেখাচ্ছে। যদি কেউ তাঁর ধর্মের মান সম্মান নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাঁর উচিৎ না সেই ধর্ম কে রাজনীতির নোংরা মাঠে নামানো। আমরা মাকে ভালবাসি বলেই তাঁকে নোংরা নটিবাড়িতে দেখতে চাইনা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “বাকস্বাধীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও একটি তওবার গল্প।

  1. খালেদার মাথায় একটা বুদ্ধি

    খালেদার মাথায় একটা বুদ্ধি ঘুর ঘুর করছে। হুজুরে চন্দ্রপুরী দেহো সাঈদীকে দিয়ে একটা ফতোয়া দেওয়াতে হবে। ফতোয়ার মুলবক্তব্য হবে, “ভ্রু চাঁছা কোন জেনানার উপস্থিতিতে তওবা করা হারাম এবং ধর্মনিন্দার সামিল”

    এই প্যারার শুরুতে ম্যাডামের স্থলে বুবুর নাম হবে মনে হয়। টাইপিং মিসটেক হইছে মনে হয়। 😀

    1. আতিক ভাই এটা বুঝাতে চাইছি যে
      আতিক ভাই এটা বুঝাতে চাইছি যে ক্ষমটার জন্য নিজেকে বিক্রি করাটাও এঁদের কাছে কিছু না।

      আর ম্যাডাম বুবু যেই হোক আছেন পাবলিকের শূন্য গুহ্যদ্বার পুর্ণ করার তালে। যাহা বায়ান্ন তাহা তিপান্ন।

      আমাদের দুর্ভাগ্য যাহা বায়ান্ন তাহা দুইহাজার তের না।

  2. দারুণ! দারুণ!! এঁদের কাছে
    দারুণ! দারুণ!! এঁদের কাছে মানুষ মানে ভোট। পারলে এঁরা ষোল কোটি মানুষকে ভাজ করে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে ফেলেন- অতি খাঁটি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 8