সমস্যা আসলে কোথায়?

এক লোকের পয়সা হারাইছে গাছ তলায় – তিনি পয়সা খোজেন লাইট পোষ্টের নীচে কারন আলো আছে – তিনি কি পয়সা খুজে পাবেন? আমাদের সমস্যা অন্য এক জায়গায় আমরা খালি এইটা ওইটা ঠিক করলে হবে?

আজকের বাংলাদেশের এই অস্থিরতার মুলে রয়েছে কেবল আগামী নির্বাচন। খালেদা আজ কিসের জন্য জামাত-পাগল? হাসিনা আজ কিসের জন্য ব্লগার গ্রেফতার করে? এইসব কিসের আলামত? মুক্ত চিন্তার বাংলাদেশে যখন যুদ্ধাপরাধীর বিচারে তরুণরা ঘুম হারাম করে প্রান বাজী রেখে রাস্তায় নেমে এল – সেখানে লাখো জনতার করতালিতে মুখরিত হল একটি মঞ্চ। সেই মঞ্চ বাংলাদেশের স্বপ্নের মঞ্চ, আশার মঞ্চ আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার মঞ্চ। তার সমর্থকদের অযথা হয়রানি মানে বাংলাদেশের স্বাধিনতা যা কিনা ধর্মের মতই সংবেদশীল তার গালে থাপ্পড় মারা। কেন এই জগন্য কাজটি সরকার করল? কারন সরকারও এক রাজনৈতিক দল। তারাও ভোটের রাজনীতি করে। তাই প্রয়োজনে চক্ষু পাল্টি দিতে পারে তারাও।

তাইলে আগে আসেন এই ভোটের রাজনীতির মুলে আঘাত করি। বাংলাদেশের নির্বাচন পদ্ধতির গোড়াতেই রয়েছে গলদ। এখানে সংখ্যাগরিষ্ট আসন লাভ করেও ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। প্রয়োজন হয়ে পরে অন্য দলের সমর্থন – অর্থাৎ আপনি বি এন পি কে ভোট দিলেন মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক দল হিসাবে, জামাতকে দিলেন না। আপনার সেই ভোটটি কিন্তু বি এন পি জামাতে কাছে বিক্রি করে দিল জোট গঠন করে। তাইলে কি দাড়াইল? আপনার নৈতিকতা বিক্রি হয়ে গেল। তাইলে নির্বাচন কি একটি পুর্ন সমর্থন নিয়ে একটি দল আপনাকে শাসন করছে? আজকের বি এন পির এই জামার প্রীতির কারন ইসলাম রক্ষা না নিজের গদী রক্ষা এটা পরিস্কার।

এইবার আসি তত্ত্বাবধায় নামক এক জ্বালাময়ি সরকারের ইতিকথা নিয়া। আজ একদল চায় তত্ত্বাবধায়ক আর একদল চায় না। এই তত্ত্বধায় সরকারও এক তেলেসমতি কারবার। মনে আছে দুই বানরের কলা ভাগিতে শিয়ালের কলা চুরির গল্প। সম্ভাবনা আছে এই ঠেলাঠেলিতে দুই দলের হাত থেকেই মজার সিংহাসন চুরি হয়ে যাবার। একবার দখল করে মজা পেয়ে বসলে আর ছাড়তে চায় না। তাই এই ব্যাবস্থাও কোন দলের জন্যই নিরাপদ না। আর আমাদের মানে জনগনের জন্যত না-ই। কারন জন প্রতিনিধি থাকলে চুরি-ধারি করলেও কিছু উন্নয়ন হয়। তানাদের আমলে কেবল চুরিধারিই হয়। তাছাড়া নির্বাচিত সরকার না থাকলে আন্তর্জাতিক সহানুভুতিও অনুপস্থিত থাকে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা ও বিপদজনক।

তাইলে উপায়? প্রথমতঃ আমাদের বুঝতে হবে যে কোন মুল্যে সুষ্ট নির্বাচন হতে হবে। তা না হলে সংখ্যাগরিষ্টের মতামত প্রতিফলিত হবে না। আমি কোন দল করি সেটা মুখ্য না – দেশের জন্য মুখ্য হল সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ কি ভাবে। সেখানে আমার ভোট জলে গেলেও আমি পরাজিত হই নাই। কারন এখানে আমি মুখ্য না মুখ্য হল দেশ দেশের মানুষ। তাই সর্বজন বিধিত সরকার থাকতে হবে এবং তাদের নির্বাচিত কালে তাদেরকে সহযোগীতা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দ্বিতিয়ত, শাসন কাল পাঁচ বছর একটি অনর্থক অত্যধিক ব্যাবস্থা। পাচ বছরে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়। হাই স্পীডের যুগে পাঁচ বছর একটি অযাচিত ব্যাবস্থা। এইগুলার পরিবর্তন কে করবে?
শেষে আসেন সংসদীয় ব্যাবস্থা। রাষ্ট্রপতির কাজ কি? বিচারপতি নিয়োগ এবং প্রধান মন্ত্রী নিয়োগ। এই দু কাজের মধ্যে প্রধান মন্ত্রী সিলেকশন হয় সাংসদের নির্বাচনের মাধ্যমে – আসলে সবই ভনিতা, দলীয় প্রধানই হবেন প্রধান মন্ত্রী। রাষ্ট্র পতি খালি সাজানো পুতুলের মত মঞ্চে আসবেন ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে চেয়ে দেখবেন কোন কাজের কাজ তার কিছুই নাই। দ্বিতিয়ত বিচারপতি নির্বাচন করে কে? আমরা জানি এই কাজও প্রধান মন্ত্রীই করেন – রাষ্ট্রপতি একট সাজ মাত্র। দেশের অন্য মন্ত্রীদের কে নির্বাচিত করে – প্রধান মন্ত্রী।

তাই শুধু প্রধান মন্ত্রীই না তার আত্নিয় স্বজনদের কিংবা তার অনুরক্তের কারো বিরাগ ভাজন হলে – তিনি অন্য মন্ত্রীদের কাঁঠ গড়ায় দাড় করিয়ে ইচ্ছামত বিচার করতে পারেন। যেই কারনে আবুল মন্তীর বিচার হল না, যেই কারনে খালেদার আমলে তারেকের বিরুদ্ধচারনের ফলে বদরুদ্দজার চাকরি গেল। তাইলে কি দাড়াইল? এই দেশে কার ইশারায় সুর্‍্য্য উঠে কার ইশারায় ডুবে – প্রধান মন্ত্রী। এত ক্ষমতা থাকলে গনতন্ত্র টিকে কেমন করে? এইখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ক্ষমতা এমন এক জিনিস একে নিয়ন্ত্রন না করলে ব্যাভিচারি হতে সময় লাগে এক মুহুর্ত। তাই কেবল মানুষ বিচারে না – পদের বিচারে এই ক্ষমতা হ্রাস করা প্রয়োজন। কে করবে? ভবিষতের চিন্তা থাকলে উচিৎ প্রধান মন্ত্রীরই এই কাজ করা। তা না করে কেবল আজ তত্ত্বাবধায় দাও, কাল বলবে তত্ত্বাবধায় চাই না, আবার কে হবে তার প্রধান সেটা নিয়ে আবারও জনগনের প্রান বিসর্জন – এইভাবে চলে না। কেউ একজন দেশের কথা আমাদের কথা ভাবেন। নাইলে কেমনে চলে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সমস্যা আসলে কোথায়?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 − 24 =