অন্দরের ধর্মে কোন জবরদস্তি নাই

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি স্কুলের একজন মুসলিম ছাত্র তার এক অমুসলিম সহপাঠিকে কাফির বলেছে। ছেলেটির পিতা তাকে শিখিয়েছিল, যারা রোজা রাখে না তারা সকলেই কাফির। পরিবার থেকে পাওয়া শিক্ষার কারণে ছেলেটি তার বেরোজদার অমুসলিম সহপাঠিকে শুধু মনে মনে কাফিরই ভাবে নাই, কাফির বলে গালিও দিয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে এই ধরণের ঘটনা বিরল নয়। আমার স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতায় বহুবার হিন্দু সহপাঠিদের কাফির অথবা মালাউন গালির মুখোমুখি হতে দেখেছি। একবার এক হিন্দু সহপাঠিকে মালাউন গালি দেয়ার জের ধরে আরেক সহপাঠির গায়ে হাত তুলেছিলাম, জোর করে বাধ্য করেছিলাম সাম্প্রদায়িক গালির জন্যে মাফ চাইতে। কিন্তু গায়ের জোরে একজনকে সাম্প্রদায়িক গালি থেকে নিবৃত করাটা কোন সমাধান নয়। আবার কারো কারো মতে এই কাজটা বাকস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে ইউএস মডেলের সেকুলারিজম যারা সমর্থন করেন। ইউএস মডেলের সেকুলারিজম হেট স্পিচকেও ফ্রিডম অফ স্পিচের আওতাধিন বিবেচনা করে। সবচাইতে বড় কথা হলো, ব্যক্তি মানুষের পক্ষে গায়ের জোর খাটিয়ে এই ধরণের সামাজিক সমস্যার সমাধান করাও সম্ভব না। ব্যক্তি মানুষ আইনের প্রয়োগ করার অধিকারও রাখে না। কাউকে গায়ের জোর খাটিয়ে কোন কিছু করতে অথবা না করতে বাধ্য করাটা সরকারের দায়িত্ব। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে মুসলিম দেশগুলোর সরকার তাই ইদানিং নিত্য নতুন আইন জারি ও এইসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন অপরাধের জন্যে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করছেন। আরব আমিরাতের ঘটনাটি অনেক দূর গড়িয়েছে। যে স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে তা দেশটির একটি শীর্ষস্থানিয় স্কুল। অমুসলিম ছেলেটির ধর্ম ও পারিবারিক পরিচয় সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে পারছি না। তবে তার অভিযোগকে যেহেতু স্কুল প্রশাসন খুবি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে এবং এর জের ধরে দেশটির সরকার ধর্মীয় ও জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি শক্ত আইনও পাশ করে ফেলেছে, তাতে ধারণা করি এই অমুসলিম ছাত্রটি হয়তো ঊচ্চ শ্রেণী অথবা জাতীয়তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে ছেলেটা যেই শ্রেণীরই হোক না কেনো, এই আইনের সুফল আরব আমিরাতে বসবাসকারী সব শ্রেণী ও জাতীয়তার মানুষই পাবে সেই আশা অনেকেই করছেন। আরব আমিরাত সরকার এই নতুন আইনের নাম দিয়েছে ‘ল এগেইন্সট হেটক্রাইম এন্ড ডিসক্রিমিনেশন’। এই আইন অনুযায়ি ‘তাকফিরিবাদ’ অর্থাৎ কাউকে কাফির বলে ঘোষনা করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গন্য হবে। এই আইনের অধিনে যে সমস্ত কাজ অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে তাতে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদন্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তাকফিরিবাদ বর্তমান দুনিয়ায় বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে একটি ভয়াবহ সমস্যা হিসাবে হাজির হয়েছে। তাকফিরিদের বৈশিষ্ট হলো অমুসলিম এবং ভিন্ন মতাবলম্বি মুসলিমদের কাফির বলে ঘোষনা করা। বাংলাদেশে অবশ্য কাফিরের চাইতে নাস্তিক শব্দটির জনপ্রিয়তা বেশি দেখা যায়। কাউকে কাফির অথবা নাস্তিক বলে ঘোষনা করলে তার উপর দৈহিক আক্রমন হয় না বটে, কিন্তু দৈহিক আক্রমন ও সামাজিক অবিচার চালানোর একটা রাস্তা তৈরি হয়। যারা একিসাথে তাকফিরি এবং জিহাদী তাদের অনেকেরই বিশ্বাস কাফির খতমে পাপ নাই, বরং পূন্য আছে। এই বিশ্বাস থেকে তারা নাস্তিক, ভিন্ন ধর্মের অথবা নিজ ধর্মের ভিন্ন মতাবলম্বি এমনকি নিরিহ সাধারণ মানুষকেও হত্যা করতে পিছপা হয় না। যারা শুধু তাকফিরি, তারা কাফির ঘোষনা করে এইসব হত্যাকান্ডের বৈধতা দেয়ায় ভুমিকা রাখে। কাউকে কাফির ঘোষনা করা মানে তাকে একটি কল্পিত সমাজ থেকে বিচ্যুত করা, এবং তার উপর আক্রমন অথবা তাকে নির্যাতনের সামাজিক, আইনগত ও রাজনৈতিক বৈধতা তৈরির চেষ্টা করা। এই চেষ্টারই অপর নাম আপনি দিতে পারেন ‘পাবলিক স্পেসে ধর্মচর্চা’, বিশেষ করে আপনি যদি ফরাসী মডেলের সেকুলারিজমের সমর্থক হয়ে থাকেন। আরব আমিরাতের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব পিটার হেলিয়ার নতুন পাস হওয়া এই আইনটিকে কিছুটা সেই দৃষ্টিভঙ্গীতেই দেখেছেন। তিনি এই আইনের সাথে তুলনা করেছেন ব্রিটেনে ১৯৬৫ সালে পাস হওয়া প্রথম ‘রেস রিলেশন এক্ট’-এর সাথে, যেই আইনের ফলে সেই দেশে পাবলিক স্পেসে বর্ণবাদী বৈষম্য অপরাধ গন্য করা হয়েছিল। পিটার হেলিয়ারের ভাষায় –

“নতুন পাস হওয়া এই ‘ল এগেইন্সট হেট ক্রাইম এন্ড ডিসক্রিমিনেশন’ আইনটিকে আমাদের স্বাগতম জানানো উচিত। এই আইনের ফলে যে মানুষের মধ্য থেকে অসহনশিল এবং বৈষম্যমূলক চিন্তা ভাবনা নিঃশেষ হয়ে যাবে তা নয়, কিন্তু জনপরিসরে (পাবলিক স্ফিয়ারে) এই ধরণের চিন্তা প্রকাশ করাটা আইনি সীমারেখায় আবধ্য হয়ে যাবে। প্রথম দৃষ্টিতে এই আইনটিকে ১৯৬৫ সালে ব্রিটেনে পাস হওয়া প্রথম রেস রিলেশন এক্টের মতো মনে হয়, যে আইনে জনপরিসরে বৈষম্য অপরাধ হিসাবে গন্য করা হয়েছিল, তবে আরব আমিরাতের আইনটিতে শাস্তি অনেক বেশি কঠোর। ব্রিটেনে এখনো অসহনশিল চিন্তা ভাবনা টিকে আছে, কিন্তু জনপরিসরে তার প্রকাশ আইনত দন্ডনিয় এবং বৃহত গণসমাজে সহনশিলতাকেই স্বাভাবিক নিয়ম মানা হয়। হয়তো একসময় আরব আমিরতেও এমন দিন আসবে। কিন্তু আপাতত অসহনশিলতা এবং বৈষম্যের উপর আইনগত নিয়ন্ত্রন একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে গন্য হবে”। (হেলিয়ার, ২০১৫)

অর্থাৎ, আইনের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক সমাজ পরিবর্তন করা না গেলেও, মানুষকে অন্তত বৈষম্য ও ঘৃনার বিরুদ্ধে বিচার চাওয়ার অধিকারটুকু দেয়া যায়, সামাজিক নিপিড়ন থেকে বাঁচানোর আইনি সুবিধা পাওয়া যায়। আর এই ধরণের আইন, পিটার হেলিয়ারের মতে আরব আমিরাতের মতো একটি দেশকে ব্রিটেনের মতো একটি সেকুলার দেশে পরিণত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। হেলিয়ার অবশ্য সেকুলারিজম শব্দটি উচ্চারণ করেন নাই। তবে ইউরোপে সেকুলারিজম এবং সেকুলার রাষ্ট্র সম্বন্ধে যেসব ধারণা ও চর্চা প্রচলিত আছে তাতে পাবলিক ও প্রাইভেট স্পেসে ধর্মচর্চা ও মতামত প্রকাশের সীমারেখা টেনে দেয়া সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করা হয়। যেমন ফরাসি মডেলের সেকুলারিজম মোতাবেক, আপনার ধর্ম বিশ্বাস ও চর্চা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত এবং ঘরের বিষয়, মসজিদ-মন্দির-চার্চের বিষয়। ব্যক্তিগত, ঘরোয়া ও উপাসনালয়ের গন্ডির বাইরে, পাবলিক স্পেসে আপনার ধর্ম বিশ্বাস ও চর্চা হাজির করা গ্রহণযোগ্য নয়। অধ্যাপক আলী রিয়াজ ফরাসী মডেলের সেকুলারিজম সম্বন্ধে লিখেছেন –

“ ফরাসী মডেলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হলো যে, রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে ব্যক্তি মানুষকে ধর্মের হাত থেকে রক্ষা করা এবং সেই লক্ষ্যে সমাজ জীবনে ধর্মকে নিয়ন্ত্রন করা। লেইসিটে (laïcité) নামে পরিচিত এই মডেলের সেকুলারিজম ধর্মকে সামাজিক ও রাজনৈতিক এই দুই পাবলিক স্ফিয়ার থেকেই নির্বাসিত করে”। (আলী রিয়াজ, ২০১৫)

ফ্রান্সের লেইসিটে মডেলের সমালোচকরা এই ধরণের সেকুলারিজমকে মোটেই রাজনীতি নিরপেক্ষ গণ্য করেন না, বরং একটি বিশেষ ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই এই ধরণের সেকুলারিজমের আবির্ভাব ঘটেছে বলে মনে করেন। কিন্তু ফ্রান্সের সেকুলারিজম ধর্মের উপর এতোটা খড়গহস্ত কেনো? তার জবাব আছে তাদের ধর্মীয় ইতিহাসের মাঝেই। এখন যেমন ইরাক দেশটি শিয়া বনাম সুন্নি সাম্প্রদায়িক সংঘাতের একটি ময়দানে পরিণত হয়েছে, ফ্রান্স তেমনি একটা সময় ছিল প্রটেস্টান্ট বনাম ক্যাথলিক সাম্প্রদায়িক সংঘাতের একট ময়দান। ১৬ শতকের ইউরোপে যে প্রটেস্টান্ট বনাম ক্যাথলিক ধর্মীয় সংঘাত চলেছিল তার প্রধান কেন্দ্র ছিল ফ্রান্স। এই সংঘাতের সবচাইতে রক্তক্ষয়ি সময়কাল ছিল ১৫৬২ থেকে ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দ। শুধুমাত্র এই ছত্রিশ বছরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ফ্রান্সে নিহত হয়েছিল বিশ লাখ থেকে চল্লিশ লাখ মানুষ (রবার্ট নেক্ট, ২০০২)। এই ঘটনা ইতিহাসে ‘ফ্রান্সের ধর্মযুদ্ধ’ (রিলিজিয়াস ওয়ার অফ ফ্রান্স) নামে পরিচিত হয়ে আছে।

এই ধর্মযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ধরা হয় ১৫৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল, কারন এই দিনে ফ্রান্সের তৎকালিন রাজা চতুর্থ হেনরি ‘ন্যন্টের বিধান’ (Edict of Nantes) নামে একটি আইন পাস করেন যাতে ফ্রান্সের নাগরিক হিসাবে বহুক্ষেত্রে প্রটেস্টান্টরা ক্যাথলিকদের সমমর্যাদা লাভ করে। রাজা হেনরি নিজেই প্রটেস্টান্ট ধর্মের অনুরাগি ছিলেন, একটা বয়স পর্যন্ত অনুসারিও ছিলেন। কিন্তু একজন প্রটেস্টান্টের পক্ষে ফ্রান্সের মতো একটি ক্যাথলিক সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের রাজা হওয়া তখন সম্ভব ছিল না। তাই রাজা হওয়ার জন্যে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হন। তার শত্রুদের অভিযোগ আছে যে, জনপরিসরে (পাবলিক স্ফিয়ারে) ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারী হলেও অন্তরে তিনি একজন প্রটেস্টান্ট ছিলেন। সদরে এক, অন্দরে আরেক। বারোপন্থী শিয়াদের পরিভাষায় এর নাম ‘তাকিয়া’। সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের হাতে নির্যাতন অথবা বৈষম্যের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নিজের ধর্ম চিন্তা অথবা মতামত গোপন করে যাওয়ার নাম তাকিয়া। এই লেখায় ‘তাকিয়া’ শব্দটিকে তাই কেবলি শিয়া সম্প্রদায়ের একটি চর্চার বদলে দুনিয়ার প্রায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝেই বাধ্য হয়ে, ঝুকি অথবা জোর জবরদস্তির মুখে কিংবা সেচ্ছায় জনপরিসরে নিজের বিশ্বাস বা মত গোপন করার যে চর্চা দেখা যায় তা বুঝাতেই ব্যাপকার্থে ব্যবহার করা হবে। আমরা বলতে চাই, তাকিয়া দুনিয়ায় শুধু শিয়ারাই চর্চা করে না। জগতে চিরকালই নির্যাতন, বৈষম্যের শিকার জনগণ ও তাদের প্রতিনিধীরা তাকিয়া অবলম্বন করে এসেছে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, শুধু জবরদস্তির কারনে বাধ্য হয়েই না, আইনি প্রক্রিয়া ও সামাজিক চুক্তির মাধ্যমেও কোন সম্প্রদায় তাকিয়া আবলম্বন করতে পারে, অর্থাৎ মত প্রকাশে বিরত থাকতে পারে। আবার সুশিল সমাজের সদস্যরা তাকিয়া অবলম্বনকে কখনো কখনো সামাজিক ও রাজনৈতিক শান্তির জন্যে জরুরি মনে করে পাবলিক স্পেসের এটিকেট সম্পর্কে গ্রন্থ রচনা করেছেন ইতিহাসে এমন উদাহরণও আছে। (চলবে) পর্ব-২

তথ্যসূত্রঃ
১। Legislation bolsters the battle against intolerance by Peter Hellyer
২। UAE issues law against hate crimes and discrimination (Emirates News Agency)
৩। The Future of Secularism by Ali Riaz
৪। The French Religious Wars 1562-1598 by Robert.J. Knecht

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “অন্দরের ধর্মে কোন জবরদস্তি নাই

  1. বাংলাদেশেও এইরকম আইনের
    বাংলাদেশেও এইরকম আইনের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি।কাউকে মালায়ুন,গালি হিসাবে নাস্তিক ডাকা ইত্যাদি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে ঘোষনা করা জরুরি।

  2. বাংলাদেশে এই ধরনের আইন
    বাংলাদেশে এই ধরনের আইন প্রণয়নের মত মানসিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা নাই। কারণ এখনকার প্রায় সবগুলো রাজনৈতিক দল ধর্মকে বিক্রি করে রাজনীতি করে। এরা নামের সেকুলার, কাজকর্মে শতভাগ ধর্মবাদি।

  3. শ্রেণীবিভক্ত সমাজে এক শ্রেণী
    শ্রেণীবিভক্ত সমাজে এক শ্রেণী শোষণ করে, আরেক শ্রেণী করে তার দাসত্ব। এরকম সমাজে শোষক শ্রেণীর পক্ষে যা কিছু যায়, তা-ই শোষিত শ্রেণীর পক্ষে স্বাভাবিক নিয়মেই কর্তৃত্বমূলক, জবরদস্তিমূলক। ধর্ম অবশ্যই শাসকশ্রেণীর কাজে লাগে। কারণ তা পরকালের কথা বলে বাস্তব জীবনে সংগ্রামী হতে এবং ভাববাদের ভ্রান্তিতে ডুবিয়ে সঠিক পথ নিতে জনগণকে বাধা দেয়। শোষকশ্রেণী তাই নানারূপ জবরদস্তির মাধ্যমে জনতাকে ধর্মীয় নাগপাশে বাঁধার চেষ্টা করে। ধর্ম তাই অবশ্যই জনতার পক্ষে জবরদস্তিমূলক। যদিও এই সত্যটা উদঘাটন করতে হলে একটু গভীরে যেতে হয়।

  4. যেমন ফরাসি মডেলের সেকুলারিজম

    যেমন ফরাসি মডেলের সেকুলারিজম মোতাবেক, আপনার ধর্ম বিশ্বাস ও চর্চা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত এবং ঘরের বিষয়, মসজিদ-মন্দির-চার্চের বিষয়। ব্যক্তিগত, ঘরোয়া ও উপাসনালয়ের গন্ডির বাইরে, পাবলিক স্পেসে আপনার ধর্ম বিশ্বাস ও চর্চা হাজির করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    হ্যা এটাই হচ্ছে সেক্যুলারিসমের বেদ বাক্য। ইসলামকে মসজিদের মধ্যে আটকে ফেল। কিন্তু ্সমস্যা ইসলাম অন্যান্য ধর্মের মত নয়। ইসলাম একাধারে ব্যাক্তিগত, সামাজিক আর রাষ্ট্রিয় ব্যবস্থা। তাই কিয়ামত পর্যন্ত স্যেকুলারিসমের সাথে ইসলামের যুদ্ধ চলতেই থাকবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − = 44