অন্দরের ধর্মে কোন জবরদস্তি নাই (পর্ব-২)

ন্যন্টের বিধান (Edict of Nantes) জারি ফ্রান্সের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই বিধানে ঘোষনা করা হয়- ক্যাথলিক বা প্রটেস্ট্যান্ট, কেউ কাউকে জোর জবরদস্তির মাধ্যমে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না। পাশাপাশি প্রটেস্ট্যান্টরা নিজ ঘরে, ধর্মালয়ে এবং যেসব এলাকায় তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেসব এলাকায় প্রকাশ্যে আপন ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার লাভ করেছিল। তবে রাজধানী শহর প্যারিসের ভেতরে এবং শহরটির ১৭ মাইলের মধ্যে প্রটেস্টান্টদের ধর্ম পালন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়। রাজ্যের প্রাশাসনিক পদে প্রটেস্ট্যান্টদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়, কিন্তু শিক্ষা ও চিকিৎসা লাভের ক্ষেত্রে তাদেরকে ক্যাথলিকদের সমান সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। উল্লেখ রাখা দরকার যে, সেই সময় স্পেনে খ্রিস্টানদের রিকোঙ্কুয়েস্টা চলছিল। স্পেনের খ্রিস্টান শাসকরা পরাজিত মুসলমান ও ইহুদীদের জন্যে ধর্মত্যাগ, মৃত্যুদন্ড অথব দেশত্যাগের বাইরে ভিন্ন কোন পথ খোলা রাখে নাই। স্পেন থেকে উৎখাত হওয়া মুসলিম ও ইহুদীরা ফ্রান্সে সাময়িক আশ্রয় লাভ করেছিল, কিন্তু ন্যন্টের এডিক্টে তাদের ধর্ম পালনের অধিকার বিবেচনা করা হয় নাই। নন্ট্যের এডিক্ট শুধুমাত্র ক্যাথলিক ও তৎকালিন ফ্রান্সে প্রচলিত ধর্ম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিবেচনা করেছে, অন্য কারো না। তবে শুধুমাত্র ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্টদের বিবেচনা করে জারি হলেও ন্যন্টের বিধানকে ফরাসী ঐতিহাসিকরা সেকুলারিজমের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করেন। কারন ক্যাথলিক চার্চ এবং তার অনুসারীরা প্রটেস্টান্টদেরকে হেরেটিক (মুরতাদ) হিসাবে গন্য করতো। আর হেরেসির শাস্তি ছিল সাধারণত মৃত্যুদন্ড অথবা তওবা করে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ, কপাল ভালো হলে ভিন্ন দেশে নির্বাসনের সুযোগ লাভ। ন্যন্টের বিধান জারির পূর্বে ধর্ম সম্প্রদায়গুলোর সংঘাত সমাধানের সবচাইতে গ্রহণযোগ্য উপায় ছিল ‘জমি যার, ধর্ম তার’ (Cuius regio, eius religio) নীতি । অর্থাৎ জমিদারের ধর্মই জনগণের ধর্ম হতে হবে। ন্যন্টের বিধান জারি সেইদিক থেকে যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। খবর শুনে, এই বিধান ‘আমাকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে’ বলে ঘোষনা দিয়েছিলেন তৎকালিন পোপ অস্টম ক্লেমেন্ট। তবে রাজা হেনরির পাস করা এই আইন প্রটেস্টান্টদের জন্যে দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনতে সক্ষম হয় নাই। ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে রাজা হেনরি একজন মৌলবাদী ক্যাথলিকের হাতে নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকে এই বিধান একটু একটু করে পরিবর্তনের পথ ধরে এক পর্যায়ে রাজা হেনরির নাতি রাজা চৌদ্দতম লুইস-এর হাতে পুরোপুরি বাতিল হয়ে যায় ১৬৮৫ সালে। এইসব ঘটনার ফলে ফ্রান্সে ক্যাথলিক বনাম প্রটেস্টান্ট সাম্প্রদায়িক বিভেদ ও দাঙ্গা নতুন রূপে জেগে উঠেছিল। হেরেটিক ঘোষনা করে ভিন্ন মতাবলম্বিদের উপর হত্যাযজ্ঞ, লুন্ঠন, জমি দখল ইত্যাদি ফ্রান্সে আধুনিক সেকুলারিজম আবির্ভাবের আগে পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। একটা দীর্ঘ সময় ফ্রান্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছে ক্যাথলিসিজমের বাইরে বাকি সবকিছুই ছিল হেরেসি। এখন আর ফ্রান্সে কোন হেরেটিক নাই। ক্যাথলিক, লুথারিয়ান, ক্যালভিনিস্ট নানান সম্প্রদায় আছে। কেউ কারো বিরুদ্ধে এখন আর পাবলিক স্ফিয়ারে হেরেসির অভিযোগ আনে না। মনে মনে হয়তো ভিন্ন মতাবলম্বীকে হেরেটিক ভাবতে পারে, কিন্তু পাবলিক স্ফিয়ারে কাউকে হেরেটিক ঘোষনা করার চর্চা এখন আর নাই। অন্দরে তুমি কাউরে কাফির ভাবলেও, সদরে তাকফির করবা না – এই হইল আধুনিক ফরাসীদের নীতি।

শত শত বছর যাবৎ যে বিপুল পরিমান রক্তক্ষয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের জনগণের যেতে হয়েছে সেই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার কারণেই আধুনিক ফ্রান্সের জনগণ ধর্মকে সদর থেকে নির্বাসনে পাঠিয়ে অন্দরের বিষয়ে পরিণত করেছে। ফলে ফ্রান্সের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অফিস আদালতে ক্যাথলিকদের ধর্মীয় প্রতিক ক্রুশ গলায় ঝুলিয়ে হাজির হওয়াকে একটি নিন্দার কাজ বলে গন্য করা হয়। একি কথা খাটে অন্যান্য ধর্মের প্রতিকের ক্ষেত্রেও। কিন্তু সামাজিকভাবে নিন্দাজনক মনে করা হলেও ফ্রান্সের পাবলিক স্কুলে ধর্মীয় প্রতিক ধারণ করে হাজির হওয়াটা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই একবিংশ শতকে এসে, বিগত ২০০৪ সালে। তবে এই আইনের নিমিত্ত কোন খ্রিস্টান প্রতিক ছিল না, ছিল মুসলমান নারীদের ধর্মীয় প্রতিক হিজাব ও নেকাব। কিন্তু আইন করে শুধু মুসলমানদের প্রতিক নিষিদ্ধ তো সেকুলার ফ্রান্সের পক্ষে করা সম্ভব না, তাই সকল ধর্মের প্রতিকই তারা পাবলিক স্কুলে নিষিদ্ধ করেছে। ফ্রান্সের লেইসিটে মডেলের কাছাকাছি ধরণের সেকুলারিজম যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রটি অনুসরণ করে তা আধুনিক তুর্কি। খেলাফত থেকে এক লাফে লেইসিটে কায়েমকারী এই দেশটির সরকার ফ্রান্সের বহু আগেই অফিস আদালত ও শিক্ষালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাময়িকভাবে এই নিধেষাজ্ঞা তুলে নেয়া হলেও পরবর্তিতে তা আবার বলবত করা হয়। তুরস্কের সকল মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষালয় পরিচালিত হয় সেকুলার সরকারের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের অধিনে। প্রতিটি মসজিদের জুময়ার খুতবাটিও সরকারের ঠিক করে দেয়া। অবশ্য ঐতিহাসিকভাবেই খুতবার রাজনৈতিক গুরুত্ব মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে আছে। মধ্যযুগে সার্বভৌম শাসকদের নামেই মসজিদে খুতবা পাঠ হতো। মধ্যযুগের বাঙলাতেও একজন সার্বভৌম সুলতানের মূল চিহ্ন ছিল দুইটা – সিক্কা ও খুতবা। অর্থাৎ শুধুমাত্র সুলতানের নামেই মুদ্রা প্রকাশ করা এবং খুতবা পাঠ করার নিয়ম ছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রন সেকুলারিজমের আবিস্কার নয়, আধুনিক যুগ আসার আগেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রন একটি স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। স্থান কাল ভেদে নিয়ন্ত্রন কম অথবা বেশি ছিল মাত্র, কারণ রাজতন্ত্রকেও বৈধতার জন্যে ধর্মের উপর নির্ভর করতে হতো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেকুলারিজমের যে মডেল অনুসরণ করা হয় তা ফ্রান্সের মডেল থেকে বিশেষভাগে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের সেকুলারিজমের ভিত্তি হলো সংবিধানের প্রথম এমেন্ডমেন্ট, যাতে বলা হয়েছে – “ কোন ধর্মের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বা সেই ধর্ম কায়েমের জন্যে অথবা স্বাধীন ধর্ম পালনে বাধা দিয়ে সংসদ কোন আইন পাস করবে না”। ফ্রান্সে যে ধরণের ঐতিহাসিক দ্বন্দ একটি বিশেষ ধর্মীয় রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লেইসিজমের রাজনৈতিক জয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সেই ধরণের দ্বন্দ ছিল না। বিভিন্ন ও বিচিত্র ধর্মচিন্তার মানুষ ইউরোপ ত্যাগ করে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিল, এদের মধ্যে ইউরোপে নির্যাতনের মুখে থাকা বিভিন্ন প্রটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জোর করে ধর্মান্তরিত অথবা উচ্ছেদ করার যে বাস্তবতা ফ্রান্সে ছিল তেমনটা যুক্তরাষ্ট্রে ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষদের দরকার ছিল এমন একটা সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রনয়ন করা যাতে সকল ধর্মের অনুসারীরা স্বাধীন ভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে (হাবেরমাস, ২০০৬)। ১৭৭৬ সালে ভার্জিনিয়ায় পাস হওয়া ‘বিল অফ রাইটস’-এর ‘আর্টিকেল ১৬’তে প্রথমবারের মতো সকল ধর্মের অনুসারীদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেকুলারিজমের মডেল অনুযায়ি, রাষ্ট্র কোন ধর্মের পক্ষে যেমন কোন আইন করবে না, তেমনি কোন ধর্ম পালনের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করেও কোন আইন পাস করবে না। প্রথম এমেন্ডমেন্টের এই সাংবিধানিক ঘোষনাই যুক্তরাষ্ট্রে চার্চ ও রাষ্ট্র তথা ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বিভাজনের দেয়াল (ওয়াল অফ সেপারেশন) গন্য করা হয়। ফ্রান্সের সেকুলারিজমের উদ্দেশ্য যেখানে মানুষকে ধর্মের হাত থেকে রক্ষা করা, সেখানে যুক্ত্ররাষ্ট্রের সেকুলারিজমের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্র ও ধর্মের মাঝে এই বিভাজনের দেয়াল তুলে ধর্মের হাত থেকে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করা (আলী রিয়াজ, ২০১৫)। আমাদের আলোচনার জন্য জরুরি বিষয় হচ্ছে, প্রথম এমেন্ডমেন্টে ধর্মের পক্ষে ও বিপক্ষে আইন না করার কথার পরই বলা হয়েছে যে রাষ্ট্র, ‘বাকস্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হয় এমন কোন আইন করবে না’। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক স্পেস এবং পাবলিক স্ফিয়ারে সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী মন্তব্যকেও বাকস্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত বিবেচনা করা হয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রে হেট ক্রাইম বিরোধী আইন থাকলেও হেট স্পিচকে মোটা দাগে ক্রাইম বিবেচনা করা হয় না। যদিও বিভিন্ন স্টেটের আইনে ও আদালতের ইতিহাসে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় কিন্তু মূলত ফ্রিডম অফ স্পিচের আওতায় হেট স্পিচের ব্যাপারেও সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় সহনশিলতার নীতি অনুসরণ করা হয়। ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একজন কু ক্লুক্স ক্ল্যান সদস্যের বর্ণবাদী হেট স্পিচকেও বাকস্বাধীনতা হিসাবে রক্ষ্যা করেছে। ফলে দেশটিতে এখনো কু ক্লুক্স ক্ল্যান আছে, নতুন নতুন সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী সংগঠনের জন্মও হচ্ছে। এরা নিয়মিত প্রচার, প্রচারণা, মিছিলও চালাচ্ছে। এইসব কিছুই তাদের নাগরিক অধিকারের আওতার মধ্যে পরে। যুক্তরাষ্ট্রে কাউকে ‘কাফির’ বলা অপরাধ নয়। কিন্তু কোন হেট স্পিচ যদি সাম্প্রদায়িক ও বর্ণবাদী হামলার প্ররোচনা অথবা বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করে তাহলে কি হবে? এই প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রে আগেও উঠেছে. ইদানিং বারবার উঠছে। কেনো উঠছে তা এই লেখার বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বর্ণবাদ, ইসলামবাদ, এন্টি-সেমিটিজম, ব্লাশফেমি বিষয়ে ধার্মিকদের অবস্থান এবং তা কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ইত্যাদি বিবেচনা করেই এসব আলোচনা হচ্ছে।

বর্ণবাদের প্রশঙ্গটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের কালো নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের বেশকিছু ঘটনা, সাদা-কালো দাঙ্গা ইত্যাদিতে অনেকেই চিন্তিত। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কনফেডারেট পতাকা বিষয়ক বিতর্ক, হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট ডিলান রুফ-এর হাতে নয়জনের হত্যাকান্ড, ক্লু ক্লুক্স ক্লানসহ বিভিন্ন হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট ও নয়া নাজিবাদীদের মিছিল, মিটিং আস্ফালন ইত্যাদি ঘটনা মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। কনফেডারেট পতাকার প্রসঙ্গটাই ধরা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু স্টেট এক সময় বর্ণবাদী দাসপ্রথার পক্ষে যুদ্ধ করেছে, যারা কনফেডারেট নামে পরিচিত ছিল। এই কনফেডারেট শক্তিকে পরাজিত করেই যুক্ত্ররাষ্ট্রে দাসপ্রথা নির্মুল করা হয়েছিল। ইতিহাসে এই যুদ্ধ আমেরিকার গৃহযুদ্ধ (আমেরিকান সিভিল ওয়ার) হিসাবে পরিচিত। কনফেডারেটের বিলুপ্তি ঘটেছে প্রায় দেড়শ বছর হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বহু সাউথার্নারের কাছে এই পতাকাটি তাদের আইডেন্টিটি ও ঐতিহ্যের প্রতিক। কনফেডারেট পতাকাটিকে বর্ণবাদী আদর্শের প্রতিক গণ্য করে নিষিদ্ধ করার দাবি অনেকদিন থেকেই আছে, কিন্তু ‘বাক স্বাধীনতা’র নীতির কারনে তা কখনোই নিষিদ্ধ করা যায় নাই। তবে সম্প্রতি দক্ষিন ক্যারোলিনার আইন সভার সদস্যদের ভোটের ভিত্তিতে তাদের স্টেট হাউজ থেকে পতাকাটি নামিয়ে ফেলার স্বিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিছু একটিভিস্ট আইন হাতে তুলে নিয়ে নিজেরাই সেই পতাকা নামাতে গিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দুটোই বাড়িয়ে তুলেছেন। সুতরাং বর্ণবাদের একটি প্রতিককেও আইন করে পাবলিক স্পেস থেকে সরিয়ে ফেলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সহজ কাজ নয়। তবে একটি শব্দকে বৈষম্য ও ঘৃনার প্রতিক বিবেচনা করার ক্ষেত্রে তাদের সমাজ ও রাষ্ট্র যথেষ্ট তৎপর। শব্দটি হলো – ‘নিগ্রো’। বর্ণবাদ কেন্দ্র করে যে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দেশটি গিয়েছে, তার কারনেই পাবলিক স্ফিয়ারে এই শব্দটি এখন ‘ট্যাবু’ হিসাবে গন্য করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘নিগ্রো’ আর ‘কাফির’ শব্দের পার্থক্য এইখানেই, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায়। যুক্তরাষ্ট্র এখন যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে কনফেডারেট পতাকা কিংবা কাফির শব্দের ভবিষ্যতও আমূল পালটে যাবে না তা নিশ্চিত করে বলার উপায় কি? (চলবে)

তথ্যসূত্রঃ
১। The French Religious Wars 1562-1598 by Robert.J. Knecht
২। Religion in the Public Sphere by Jurgen Habermas
৩। The Future of Secularism by Ali Riaz
৪। ‘Still a racist nation’: American bigotry on full display at KKK rally in South Carolina, The Guardian.

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “অন্দরের ধর্মে কোন জবরদস্তি নাই (পর্ব-২)

  1. তবে এই আইনের নিমিত্ত কোন

    তবে এই আইনের নিমিত্ত কোন খ্রিস্টান প্রতিক ছিল না, ছিল মুসলমান নারীদের ধর্মীয় প্রতিক হিজাব ও নেকাব। কিন্তু আইন করে শুধু মুসলমানদের প্রতিক নিষিদ্ধ তো সেকুলার ফ্রান্সের পক্ষে করা সম্ভব না, তাই সকল ধর্মের প্রতিকই তারা পাবলিক স্কুলে নিষিদ্ধ করেছে।

    শুধু তাই নয় এ বছর চীনে রোজা রাখা নিষেধ করা হয়েছে , মসজিদের ইমামদের মেয়েদের সাথে নাচতে বাধ্য করা হয়েছে। কিছুদিন আগে রাশিয়াতেও হিজাব নিশিদ্ধ করা হয়েছে। আর এসব ঘটনা থেকে অবশ্যই আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। স্যেকুলারিসম , মুক্তচিন্তা এসব আসলে শুধু ইসলামকে রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়, এমনটি নয়। বরং মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে ইসলামকে চিরতরে বিদায় দেয়াটাই এর আসল লক্ষ্য। এসব সত্য যদি সাধারন মুসলিমরা অনুধাবন করতে না পারে তবে এদেশের মুসলিমদের কপালেও ভবিষ্যতে অনেক দুঃখ আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

94 − 92 =