মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ভাষণ

বাংলাদেশ গণপরিষদের বিতর্ক।
বুধবার, ২৫ অক্টোবর ১৯৭২

“আজকের এই খসড়া সংবিধান যদি এই গণপরিষদে এইভাবে গৃহীত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমার আপত্তি আছে। সে আপত্তি হল, আমার বিবেক, আমার মনের অভিব্যক্তি বলছে, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মনের কথা পুরপুরি এই খসড়া সংবিধানে নেই। যদি থাকত, তাহলে আমার আপত্তির কোন কারণ থাকত না। কিন্তু আজ আমি দেখতে পাচ্ছি, পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, মাথাভাঙ্গা, শঙ্খ, মাতামুহুরী কর্ণফুলী, যমুনা, কুশিয়ারা প্রভৃতি নদীতে রোদ বৃষ্টি মাথায় করে যাঁরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে নিজেদের জীবন তিলে তিলে ক্ষয় করে নৌকা বেয়ে দাঁড় টেনে চলেছেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যারা শক্ত মাটি চষে সোনার ফসল ফলিয়ে চলেছেন, তাদের মনের কথা এই সংবিধানে লেখা হয় নি। আমি বলছি, আজকে যারা রাস্তায় রাস্তায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ জরে চলেছেন, তাদের মনের কথা এই সংবিধানে লেখা হয়নি।

আজকে শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে আপনারা বাংলাদেশের মেহনতী মানুষের কথা সমাজতন্ত্রের নামে, গণতন্ত্রের নামে বলে চলেছেন।

আমি ক্ষুদ্র মানুষ, সংসদীয় অভিজ্ঞতা আমার সেরকম নেই। তবু আমার বিবেক বলছে, এই সংবিধানে কোথায় যেন গলদ রয়েছে।

মাননীয় স্পীকার সাহেব,
আজকে যারা কল-কারখানার চাকা, রেলের চাকা ঘুরাচ্ছেন, যাদের রক্ত চুইয়ে আজকে আমাদের কাপড়, কাগজ, প্রতিটি জিনিস তৈরী হচ্ছে, সেই লক্ষ লক্ষ মেহনতী মানুষের মনের কথা এখানে নেই।

তারপর আমি বলব,
সবচেয়ে দুঃখজনক কথা হচ্ছে, এই যে আমাদের মা-বোনদের কথা নেই। নারীর যে অধিকার, সেটা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত।
নারীকে যদি অধিকার দিতে হয়, তাহলে পুরুষ যে অধিকার ভোগ করে, সে অধিকার নারীকেও দিতে হবে। কারণ, তারাও সমাজেরই অর্ধেক অংশ।”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ভাষণ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 7