‘২০২০ এর মধ্যে হিন্দু রাষ্ট্র হবে ভারত’ – একটু নজর দিন!

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ’র জয়কে নতুন বিপ্লবের সূচনা বলে মনে করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পৃষ্ঠপোষক অশোক সিঙ্ঘল। তিনি দাবি করেছেন, ২০২০ এর মধ্যে ভারত হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে।

অশোক সিঙ্ঘল বলেন, আমি একবার সাঁইবাবার আশ্রমে গিয়েছিলাম। সেখানে সাঁইবাবা আমাকে বলেছিলেন, ২০২০–এর মধ্যে গোটা দেশটাই হিন্দু হয়ে যাবে। এবং ২০৩০–এর মধ্যে গোটা বিশ্ব হবে হিন্দু–প্রভাবিত। অশোক সিঙ্ঘল বলেন, আমি মনে করে, বিপ্লবের সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পৃষ্ঠপোষক এক বছর আগে বিজেপি–র নির্বাচনী জয়কে ‘৮০০ বছরের দাসত্বের’ অবসান বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এটা কোনও মামুলি বিপ্লব নয়। এর প্রভাব ভারতের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকবে না। ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে। সারা বিশ্বের সামনে নতুন এক আদর্শ তুলে ধরবে।

৮৮ বছর বয়স্ক নেতা সিঙ্ঘল কে এস সুদর্শনের জীবন ও কর্মের ওপর লেখা একটি গ্রন্থের প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছিলেন আজ। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রাক্তন প্রধান কে এস সুদর্শনের জীবনাবসান হয় গত বছর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সুষমা স্বরাজ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও অশোক সিঙ্ঘলের বলা হিন্দু রাষ্ট্র সম্পর্কে কিছু বলেননি।

উল্লেখ্য, বিজেপির আদর্শগত পথপ্রদর্শক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘেরই অন্যতম অনুমোদিত সংস্থা হল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সঙ্ঘ পরিবারের শিখরে আরএসএস। বর্তমানে এই আরএসএসেরই ছাতার নিচে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলি আশ্রয় নিয়েছে। ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে চায় আরএসএস। বিজেপি অবশ্য প্রকাশ্যে তা উচ্চারণ করে না।

সম্প্রতি আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’–এ লেখা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঘটা করে ইফতার পার্টি করা মোটেই পছন্দ নয় সঙ্ঘের। ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইফতারের নিয়ম গরিব, অভুক্ত মানুষের সঙ্গে বসে সাদামাটা খাবার খাওয়া। সেই দিকে না গিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সমাজের নামীদামীদের জন্য এলাহি ভোজের আয়োজন করছে কিছু রাজনৈতিক দল। এটা হাস্যকর ও ভারতীয় সংস্কৃতির জন্য অবমাননাকর। একই সঙ্গে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের অপমানও বটে!

ভারতের বর্তমান সরকার যে ধর্মীয় মৌলবাদের প্রতিভূ তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন আছে মনে হয় না। সরকারের ইঙ্গিতেই ক্ষমতাসীন দলের মাতৃসংস্থা আরএসএস এসব ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছে। সম্প্রতি ভারতে ঘটে যাওয়া দিনভর সন্ত্রাসী তৎপরতাকেও পুঁজি করছে ধর্মব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে ভারতজুড়ে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব লেগে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আর তা ঘটলে সেই দায় বিজেপি সরকারকেই নিতে হবে। এটা এখন থেকেই জোর দিয়ে বলা দরকার।

সন্ত্রাসী-মৌলবাদী বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে। একদিকে তারা ভারতে হিন্দুত্ববাদ চাঙা করতে বাংলাদেশবিরোধী নানা ধরনের মন্তব্য করে, অন্যদিকে বাংলাদেশে এসে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বন্ধুত্বের ফোয়ারা ছোটায়। দুটোই বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গি তৎপরতার বিস্তৃতির জন্য সহায়ক। বিজেপির মৌলবাদ ও গণবিরোধী চেহারা এমনিতে দেখা যায় না। কারণ মিডিয়াগুলো তা আড়াল করতে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশে মোদির সফরের সময় কোনো মিডিয়াই তার দল কর্তৃক সংগঠিত গুজরাট দাঙা বা বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্যের বিরোধিতায় কিছু লেখেনি। ফ্যামিলি কেস হওয়ায় ভারতীয় মিডিয়া এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই সাইলেন্ট!

এরকম পরিস্থিতিতে বিজেপি ও আরএসএস ধর্মীয় মৌলবাদের বিস্তৃতি ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে কোনো কুকর্মের জন্য আরএসএসের নাম হয়তো বছরে একবার শোনা যেত। এখন তারা প্রতিদিন শিরোনাম হচ্ছে, আকথা-কুকথা বলে। এটা হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের প্রভাবেই। সুতরাং বোঝাই যায়, এসব হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার হুমকি বাস্তবায়িত হোক বা না হোক, এ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন, সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্ব যে ক্রমশ আরো বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ করার অবকাশ নেই।

সবাইকে তাই আহবান জানাচ্ছি, বিজেপির নেতৃত্বাধীন মৌলবাদি সরকারের স্বরূপ উন্মোচন করার জন্য। মিডিয়া করবে না, তারা রাষ্ট্রের দালাল। ব্যবসা না করলে টিকবে কিভাবে? আরো মুনাফার জন্য তারা করবে আরো মিথ্যাচার। তাই আমাদের কথা আমাদেরই বলতে হবে। চুপ থাকা চলবে না।

নোট : উল্লেখিত সংবাদের সত্যতা নিয়ে মনে প্রশ্ন জাগলে দেখতে পারেন এই খবরটি

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “‘২০২০ এর মধ্যে হিন্দু রাষ্ট্র হবে ভারত’ – একটু নজর দিন!

  1. খুবই ভালো লেখা। পড়ে ভালো লাগল
    খুবই ভালো লেখা। পড়ে ভালো লাগল দাদা। এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দরকার সব প্রান্ত থেকেই।

  2. ভারত ধর্মরাষ্ট্র হিসেবেই জন্ম
    ভারত ধর্মরাষ্ট্র হিসেবেই জন্ম নিয়েছিল। ব্রিটিশ তাকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবেই স্বাধীনতা দেয়। আরএসএসকে জনানো উচিত, ওটা তো হয়েই আছে। এখন বাদবাকি বিশ্বাসীদের হিন্দুরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়াটাই কেবল বাকি। সেটা কবে থেকে শুরু করবেন তারা, তা জানতে চাই আমরা!

  3. ভারতে অঞ্চল ভেদে জাত পাতের
    ভারতে অঞ্চল ভেদে জাত পাতের রাজনীতি প্রবল। শুধু হিন্দুত্বের উপর বেজ করে সেখানে রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন। আর যদি সত্যিই ভারত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিনত হয় তাহলে তার ভবিষ্যত পাকিস্তানের মত হবার সমুহ সম্ভাবনা, তবে মনে হয় না সেটা হবে। কারন শহর কেন্দ্রীক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও বুর্জোয়া শ্রেণী সেটি চাইবে না। দিল্লীর বিধান সভা নির্বাচনে কেজ্রিওয়ালের বিপুল বিজয় এবং বিজেপির শোচনীয় পরাজয় এটারই সাক্ষ্য দেয়।

  4. ভারত তাহলে সঠিক পথেই
    ভারত তাহলে সঠিক পথেই এগুচ্ছে…..! ভবিষ্যতে এই উপমহাদেশে ধর্মীয় রাজনৈতিক অবস্থা সুখকর হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

  5. ভারত হিন্দু রাষ্ট্রই ছিলো,
    ভারত হিন্দু রাষ্ট্রই ছিলো, নতুই করে হয়তোবা গোড়ামিত্বের প্রাচীন রূপটাই প্রতিষ্ঠিত করবে ! যাক ওরা নাহয় ঘোষণা দিয়ে কিংবা কোন সাঁইবাবার ভবিষ্যতবানী বাস্তবায়িত করার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু বাঙলাদেশ কোন পথে এগুচ্ছে? বাঙলাদেশেওতো কোন এক দরবেশ বাবার দশ‍র্নের সাথে বত‍র্মান রাষ্ট্রের চলার গতির গভীর মিল পাওয়া যায়! বাঙলাদেশও হয়তো নিকট ভবিষ্যতে মুসলিম রাষ্ট্র হয়ে যাবে।
    মনে হচ্চে একসময় পৃথিবী শুধু হিন্দুদের রাষ্ট্র, মুসলিমদের রাষ্ট্র, খ্রিষ্টানদের রাষ্ট্র ইত্যাদিতে পরিণত হবে মানুষের কোন রাষ্ট্র থাকবে না । :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 16 = 17