অন্তরালের একাত্তর

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সশস্ত্র আক্রমণের শুরুর সময় থেকেই ছিল জনগণের। ইতিহাসকে যত ভাবেই নিজের করে তোলার চেষ্টা করা হোক না কেন ইতিহাসই বারবার সাক্ষ্য দিতে মুক্তিযুদ্ধ কখনোই কোনো দলের ছিল না। রাজনৈতিক বিবেচনায় মানুষ নয় মাসের মুক্তির লড়াইয়ে প্রাণ বাজি রাখেনি, বেঁচে থাকার জন্যই তাকে অস্ত্র তুলে নিতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ ছিল তাদের আবেগের, বীরত্বের শুভ আকাঙাখার চেতনায় নিজেদের এক ভূখন্ডের লড়াই। মুক্তিযুদ্ধে জয়ের পিছনে এই জনগণের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি, স্বাধীনতার আকাঙ্খায় তাদের চেতনার কোন ঘাটতি কখনোই ছিল না। যুদ্ধকালীন সময়ে আক্রান্ত বাংলাদেশের একমাত্র পাহারাদার ছিলেন এই দেশপ্রেমিক জনগণ। যুদ্ধজয়ের পিছনে সশস্ত্র সংগ্রামের মাতৃভূমির সবচেয়ে বিশ্বস্ত যোদ্ধা ছিলেন একমাত্র এরাই। এই অগনিত দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।

অথচ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রে তারাই উপেক্ষিত হলেন সর্বপ্রথম। দেশপ্রেমিক মুক্তিকামী জনগণ রাষ্ট্র ক্ষমতার সকল অংশ থেকে নির্বাসিত হলেন। রাষ্ট্র গঠন করা হলো কেবলমাত্র দলীয় বিবেচনায়। যার কারণে সূচনাকাল হতেই বাংলাদেশ রাষ্ট্র হয়ে পড়ে গণবিচ্ছিন। রাষ্ট্রের এই দলীয়করণ প্রচেষ্টার ফলে জনগণ যেমন উপেক্ষিত হলেন তেমনি রাষ্ট্রও বেড়ে উঠতে লাগল এক দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে। যার ফল আজকের এই পঙ্গু, স্বার্থপর, দুর্নীতিগ্রস্থ লুটপাটময় দরিদ্র বাংলাদেশ। জনগণকে অস্বীকার রাষ্ট্র বেড়ে উঠল কাদের নিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর জানা আজকের বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কেবল টিকে থাকা, দু বেলা দু মুঠো ভাতের নিশ্চয়তার জন্যই জরুরী। শত্রুকে না চেনা থাকলে বারবার ঠকতেই হয় হারাতে হয় লড়াইয়ের ফসল।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিএনপির কোন অস্ত্বিত ছিল না, জামায়াতে ইসলাম প্রতক্ষ্যভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। জামায়াতের ঘৃণ্য কর্মকান্ড বিষয়ে নতুন করে কিছু বলা পুরোনো কথারই পুনুরাবৃত্তি হবে। বামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে সূচনাকাল থেকে যে চক্রান্ত নবীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র করা শুরু করল তার প্রক্রিয়া এখনও বর্তমান। ইতিহাসের দখল আর ক্ষমতার অপব্যবহারে সূচনাকাল থেকেই বাংলার সশস্ত্র গণযুদ্ধের একমাত্র জিম্মাদার হয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তার বাংলাদেশের স্বাধীনতার একমাত্র চ্যাম্পিয়ান দল। ইতিহাস তাদের মত করে তারা নির্মাণ করেছে। কিন্তু ইতিহাস দখল করা রাখা কিছু সময়ের জন্য যায় বটে তবে চিরদিন এবং সত্যের চিরন্তন নিয়ম মেনেই তা ফিরে ফিরে আসে। ইতিহাস সত্যেরই অনুবর্তী হয়, দখলদারের নয়। তাই মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সপক্ষ শক্তি যখন শাহবাগের জনদাবিকে উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের অন্যমত বিরোধীতিকারীর বিরুদ্ধে নিশ্চুপ থাকেন তখন কিছু সত্য আমাদের সামনে উঁকি দিয়ে যায়। আমাদের একাত্তরের ইতিহাস ডাক দিয়ে যায়। জনগণের মুক্তির আকাঙ্খার স্বপ্ন ভাঙার শব্দ সে পথের সন্ধান নিয়ে আসে।

২৫ শে মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর নৃশংসতম গনহত্যার পর কেবলমাত্র প্রাণ বাচানোর তাগিদেই বাঙালিকে প্রতিরোধ যুদ্ধে অবর্তীণ হতে হয়েছে। তাদের সামনে তখন আর কোন দ্বিতীয় রাস্তা খোলা ছিল না। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ যারা সত্তুরের নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাবার পথে পা রেখেছেন তারা কি করেছেন। শেখ মুজিব পাকিস্তার সামরিক জান্তার নানা তালবাহানায় ক্ষমতায় যেতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে কেবল সন্দিহান হয়ে উঠছেন। স্বাধীনতার সপক্ষে কোন সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে শেখ মুজিব পকিস্তানের সম্ভাব্য সমারিক আক্রমণ নিয়ে যে দ্বিধা ক্রমে কাটিয়ে উঠছিলেন তা বোঝা যায় যখন তিনি ২৫শে মার্চের আগে তার সাথে দেখা করতে আসা দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে নিরাপদ স্থানে সরে যাবার কথা বলেন এবং তাজউদ্দীন আহমেদকে ঢাকা শহরের নিরাপদ স্থানে আত্মগোপনের নির্দেশ দেন। নির্মম সামরিক আক্রমণের পর বাংলার মুক্তিকামী জনগনের সামনে যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির তৈরি হয় তার জন্য জনগন মোটেই প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু ক্ষমতার প্রলোভন এড়াতে পারলেই স্বাধীন বাংলাদেশের সত্যিকারকার স্বপ্নদেখা মানুষদেরকে বঙ্গবন্ধু আগেই প্রয়োজনীয় সকল নির্দেশ দিতে পারতেন। তিনি সামনে থাকা পাকিস্তানের ক্ষমতার মসনদ সুনিশ্চিতভাবে ছাড়ার পক্ষপাতী ছিলেন না তাই শেষমুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকার মধ্য দিয়ে বাঙালি নিরস্ত্র জনগণকে তিনি দাঁড় করিয়ে দেন সামরিকজান্তার অস্ত্রের মুখে। এই সামরিক আক্রমণ শেখ মুজিবের সকল স্বপ্নকে চুরমার করে দিলেও বাঙালি জনগণের সামনে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একমাত্র করে তোলে। জনগণ তার শরীর আর আকাঙ্খাকে আশ্রয় করে শুরু করেন মুক্তির সংগ্রাম। ধীরে ধীরে তাজউদ্দীন আহমেদ হয়ে ওঠেন যার একমাত্র কাণ্ডারী। এই তাজউদ্দীন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে আওয়ামী লীগের কেউ ছিলেন না। তিনি ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান স্বঘোষিত মুক্তিযুদ্ধের চ্যাম্পিয়ান দল আওয়ামী লীগের ভূমিকা কি ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গেলে মেলে বিস্ময়কর উত্তর। আওয়ামী লীগ যুদ্ধচলাকালীন সময়ের শুরু থেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়। বিভিন্ন দল আর উপদলে বিভক্ত হয়ে তারা আপোষ আর আঁতাতের সমাধান খুঁজতে থাকেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে যতরকমভাবে পারা যায় তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে। যার মূল নেতৃত্ব দেন শেখ ফজলুল হক মণি। মণি তখন মুজিব বাহিনী গঠন করেন তার অনুগামী যুব নেতাদের নিয়ে, যাদের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম খান, তোফায়েল আহমেদ আবদুর রাজ্জাকের মত নেতারা ছিলেন। তাদের বিরোধিতা দলীয় কোন্দলের মধ্যেই কেবল সীমাবদ্ধ ছিল না। মণি পুরো মন্ত্রীসভার বিরোধীতা করে বাংলাদেশ স্বাধীন সরকার ও সামরিক কমাণ্ড গঠন সংক্রান্ত তাজউদ্দীনের প্রস্তাবিত বেতার বক্তব্য বন্ধ করারও চেষ্টা চালান।

-‘পরে তিনি ৪২ জন আওয়ামী লীগ ও যুব নেতার স্বাক্ষর গ্রহণ করে তাজউদ্দীনের বক্তৃতা বন্ধ করার জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক আবেদন পাঠান। ‘(মূলধারা ‘৭১, মঈদুল হাসান। পৃষ্ঠা-১৬)

-‘আগস্টের প্রথম দিকে কয়েকটি সেক্টর থেকে খবর পৌঁছাতে শুরু করে যে মুজিব বাহিনী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের আনুগত্য পরিবর্তন করে তাদের বাহিনীতে যোগ দেবার জন্য নিরন্তর চাপ প্রয়োগ করছে এবং এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু সংঘর্ষও হচ্ছে।’ (মূলধারা ‘৭১, মঈদুল হাসান। পৃষ্ঠা-৭১)

দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরো সময়টা জুড়ে জনগণের মুক্তিযুদ্ধকে নসাৎ করার নানা ষড়ষন্ত্র করেছে। কখনো প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা, পাকিস্তানের সামরিক সরকারের সাথে গোপন আঁতাত এমনকি তাজউদ্দীন আহমদকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মাধ্যমে। যুদ্ধ শুরু হবার পর যে বিপুল শরনার্থী ভারতে প্রবেশ করে এবং তাদের মধ্যে তরুণ-যুবাদের যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণের সকল পথকে আওয়ামী লীগ দলীয় সিদ্ধান্তে বন্ধ করে। আওয়ামী লীগের কর্মী ছাড়া অন্য কাউকে অস্ত্র দেয়া হবে না বিধায় বিপুল তরুনরা যে যুদ্ধ করার আকাঙ্খা নিয়ে সীমান্ত পার হয়েছিল তা মুহুর্তেই হতাশায় পরিণত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের যে রিক্রুট শিবির স্থাপন করা হয়েছিল তার আশেপাশে অসংখ্য বাঙালি তরুণ চোখে স্বপ্ন আর বুকে প্রেম নিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন। কিন্তু কেবল আওয়ামী রাজনীতির খেলায় অস্ত্র নিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশগ্রহনেরই অনুমতি পাচ্ছিলেন না। এই সব তরুণদের হতাশ করার দায় আওয়ামী লীগ কোনভাবেই এড়াতে পারে না। তাজউদ্দীনের অব্যাহত চেষ্টার ফলে যুদ্ধের শেষদিকে জাতীয় মুক্তি পরিষদ একটি সর্বদলীয় অবস্থান নিশ্চিত করার পর এই তরুণরা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনের সুযোগ পায়।

অন্যদিকে খন্দকার মোশতাক আহমেদ যুদ্ধকালীন সময়ে লিপ্ত হন আরেক ঘৃণ্য কাজে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী নানা ভাবে ভিন্ন ভিন্ন উপদলীয় নানা স্বার্থে তাকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেন। আওয়ামী লীগের এইসব দলীয় কোন্দল মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত সময় জুড়ে যুদ্ধকালীন সংকটকে আরও জটিল করে তোলে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে নানা চাপে রাখে। এখানে উল্লেখ যে পাকিস্তানের সাথে আঁতাতের যে চেষ্টা মোশতাক করেছিলেন তা ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী তাজউদ্দীনকে অবহিত করে। তারপর মুক্তিযুদ্ধের বাকি সময় মোশতাককে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এছাড়া এর আগে গঠন করা জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা মশিউর রহমানকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে’ বহিস্কার করা হয়। (স্টেটসম্যান, ১৩ এবং ১৬ সেপ্টেম্বর, ‘৭১) আঁতাতের আরেক চেষ্টাকারী ছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক নেতা তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব আলম চাষী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বিরোধীতাকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোপন আঁতাতের চেষ্টা চালান।

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয় জনগণের দ্বারা। সেই সময়ের আওয়ামী লীগের ইতিহাস ঘাটতে গেলে যা উঠে আসবে তা এখন তাদের বর্তমান রাজনীতিতে দৃশ্যামান। জনগণের যুদ্ধকে নিজের দলীয় সামিয়ানায় রেখে যে চ্যাম্পিয়ানের গল্প তারা রচনা করেন তা মোটেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম রুপকার বাংলার জনগণ কোন একক ব্যাক্তি নন, এবং কোন একক দল মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়নি। জনগণের সেই গৌরবময় মুক্তিসংগ্রামের হাতাছাড়া ইতিহাস একদিন জনগণ ঠিকই দখলদার আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নিয়ে নেবে। মুক্তিযুদ্ধ জনগণের তার ফলাফল জনগণেরই হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্খিত বাংলাদেশ বির্নিমাণে সেই প্রকৃত ইতিহাস পুর্নদখলের কোন বিকল্প নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “অন্তরালের একাত্তর

  1. বর্তমান সময়ে যখনই নিজেদের
    বর্তমান সময়ে যখনই নিজেদের মধ্যে সকল দলাদলি ভুলে আমরা এক হতে চাই তখনই আপনার মত কিছু গ্যানী এসে উস্কে দেয় দলাদলিটাকে।

    পুরা পোস্ট পড়ে সময় নষ্ট করার ইচ্ছা নাই দেখে যতটুকু পড়েছি সেই থেকেই কিছু বলি।

    প্রথমত বলা লাগে এই ব্লগে এসে কোন পোস্টে বিনা মন্তব্যকারী হয়ে ইতোমধ্যেই দু দুটো পোস্ট প্রসব করে দিলেন, যার মধ্যে প্রথম পোস্ট কিঞ্চিৎ বাম ঘরানা দেখিয়ে পাঠকদের প্রতিউত্তরের জবাব না দিয়েই হাফেজ হয়ে চুপ ছিলেন। জানিনা আমি এতো সময় ক্ষেপন করে লিখছি এর উত্তর পাবো কিনা।

    এই পোস্টের শুরুতে বললেন

    ইতিহাসকে যত ভাবেই নিজের করে তোলার চেষ্টা করা হোক না কেন ইতিহাসই বারবার সাক্ষ্য দিতে মুক্তিযুদ্ধ কখনোই কোনো দলের ছিল না।

    যদি ধরে নেই কোন দলের ছিলনা তাহলে চীন বিপ্লবও কোন দলের ছিলো না, নাকি বলবেন মাও সে তুং ছাড়া হতোই না।

    এরপর বলেছেন

    রাজনৈতিক বিবেচনায় মানুষ নয় মাসের মুক্তির লড়াইয়ে প্রাণ বাজি রাখেনি, বেঁচে থাকার জন্যই তাকে অস্ত্র তুলে নিতে হয়েছিল।

    প্রাণের বাজি রাখেনি মানে? বাজি না রেখেই সবাই যুদ্ধে গেছে? কী সাংঘাতিক ভ্রম চিন্তা ধারা!!! মগবাজারী লুঙ্গি মজাহারও এইরকম উদ্ভট কথা বলতে দুইবার ভাববে।

    এরপরের লেখাগুলোতে ফুটিয়ে তুলেছেন ঐ সময় কোন নেতা ছিলো না, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতার লোভ সামলাইতে পারে নাই। আপনি মশাই এত সিরিকাস কথাগুলো এভাবে কেমনে গলগল করে বলে দিলেন? ক্ষমতার লোভ থাকলে কোন মানুষ দশটা মাস বন্দী থাকে? সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে দিয়ে নিজেই নিজের স্থানে অটল থাকে? এই অটল থাকার কারণেই কিন্তু লোকটা খুন হয়েছিলেন আর তারে কোন সম্মানকরা দূরে থাক একটু শ্রদ্ধাও দেখাইলেন না।

    আপনার এইসব বালছাল পোস্ট সামুতে চলবে ভালোই, কেননা সেখানে ব্যপুক ছাগুতোষণ হয়।

  2. সুমিত দা খুব গায়ে লেগে গেল
    সুমিত দা খুব গায়ে লেগে গেল বুঝি? সত্য একটু কঠিন হতেই পারে। ব্যাপার না। মুক্তিযুদ্ধ আর চীন বিল্পব আপনি এক সাথে মেলাতে কেন গেলেন বুঝলাম না। আর মানুষ প্রাণ তো অবশ্যই বাজি রেখেছিল,আমি কেবল বলতে চাইছি যুদ্ধটা তাদের কাছে রাজনৈতিক ভাবে হাজির হয়নি। সেটা আকস্মিক ছিল।গভীর দেশপ্রেম আর মুক্তির আকাঙ্খায় তারা যুদ্ধ করেছিল সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

    ভাই,বঙ্গবন্ধু বিষয়ে কথা বলার আপনাকে একটা বই পড়তে বলি, নাম মুক্তিযুদ্ধের পুর্বাপার। সেখানে তাজউদ্দীন ২৪ মার্চ বা এর কাছাকাছি সময়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেণ ‘তিনি এতটুকুও ঝুকি নিতে রাজি হলেন না।’ বিস্তারিত ঐখানে পাবেন।বঙ্গবন্ধুকে আমিও শ্রদ্ধা করি। কিন্তু বিষয়টা হলো সেটা অন্ধ নয়। ব্যাক্তি সমালোচনার উধ্বে নন।

    গালিগালাজের জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

32 − = 31