রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম ও ব্রিটিশভাবনা মূল্যায়ন!

প্রতিষ্ঠিত কতক বিষয় থাকে, যা নিয়ে কেবল প্রশংসাসূচক আলোচনাই অনুমোদিত। রবীন্দ্রনাথ তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বকবি হিসাবে খ্যাত এই সাহিত্যিকের সমালোচনা খুবই বিপজ্জনক বিষয়। এমনকি সবচেয়ে উদার ও মুক্তমনারাও এটা সহ্য করতে পারেন না। রবীন্দ্রনাথকে তারা সব কিছুর ওপরে জায়গা দিয়েছেন। তদুপরি আজ দখলদার ব্রিটিশ ও ধর্ম প্রসঙ্গে রবীন্দ্র ভাবনা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

প্রথমেই ব্রিটিশ প্রসঙ্গে আসি। ধর্মের বিষয়টা এর সঙ্গে যুক্ত। কারণ ব্রিটিশ আসার আগে ভারতে সাম্প্রদায়িক কোনো দাঙা হয়নি। এটা এক ঐতিহাসিক সত্য। এমনকি ব্রিটিশের আগে ভারতবর্ষ ‘হিন্দু-মুসলিমের’ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল না। ইউরোপে যখন জাতিরাষ্ট্রের ধারণা বিকাশমান, তখন ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের গোড়াপত্তন করে।

ভারতবর্ষ হিন্দু ও মুসলমান, এই দুই বৈরী সত্তায় বিভাজিত, এটা উপনিবেশবাদী ইংরেজের প্রচারিত মত। প্রথম দিকে এই তত্ত্বের কাণ্ডারি ছিলেন, চার্লস উইলকিনস, উইলিয়াম জোন্স প্রমূখ। তারা প্রচার করেন যে, ভারতীয় সমাজের ভিত্তিই হলো ধর্ম। এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করতে শুরু হলো তাত্ত্বিক যজ্ঞ। যার বলি হলো জনগণ, আর তা আজো চলমান, এমনকি রবীন্দ্রনাথ নিজেও সেই যজ্ঞের একজন পুরোহিত!

তত্ত্বযজ্ঞের প্রথম দিককার উল্লেখযোগ্য আয়োজন ছিল ইংরেজ পণ্ডিত জেমস মিলের ১৮১৭ সালে লেখা The History of British India গ্রন্থটি। এতে ভারতের ইতিহাসকে তিনযুগে ভাগ করা হয়- হিন্দু যুগ, মুসলিম যুগ ও ব্রিটিশ যুগ। যদিও ব্রিটিশ যুগকে খৃষ্টান যুগ বলা হয়নি। এরপর এতে যোগ দেন ভারত বিশেষজ্ঞ ম্যাক্সমুলার। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণভাবে হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃত ভাষার ওপর ভিত্তি করে। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের ভূমিকা এখানে গৌণ। আর ইসলাম বিদেশী ধর্ম।'(১)

‘সংক্ষেপে এদের বর্ণিত ইতিহাস অনুযায়ী- আর্যদের আগমনের পর থেকে প্রাচীন ভারতে সুসভ্য-আলোকময় এক হিন্দুযুগের সূচনা হয়েছিল, ১৩০০ খ্রিস্টাব্দে বর্বর মুসলমানদের আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে যার অবসান ঘটে ও তামসিকতাপূর্ণ ‘মুসলিম যুগে’র সূচনা হয়। এই ‘মুসলিম যুগ’ ছিল হিন্দুদের ওপর স্বৈরতান্ত্রিক নিপীড়নের এক পর্যায়, যখন দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে চলে এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত। অতঃপর ইংরেজ শাসন বর্বর মুসলিম যুগের অবসান ঘটিয়ে ভারতবর্ষে আধুনিকতা ও সভ্যতার নতুন উন্মেষ ঘটায়।’ (২)

এ পর্যন্ত হিন্দু প্রাধান্য পায়। এটা ভারতীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আক্রান্ত করে। তারা প্রাচীন হিন্দুরাজ্যের গৌরবময় অতীতের স্মৃতি হাতড়ায় ও তার সুখমন্থনে মেতে ওঠে। রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমরা সামাজিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে শুরু করেন ধর্মের অভ্যন্তরে। এই পর্যায়ে ব্রিটিশ তত্ত্বে যোগ হয় নতুন অধ্যায়। ডাব্লিউ ডাব্লিউ হান্টার তার The Indian Mussalman (১৮৭১) গ্রন্থে- ভারতের মুসলমান ও হিন্দু দুই পৃথক জাতি- এই তত্ত্বকে সামনে নিয়ে আসেন। তিনি ওই গ্রন্থে ভারতীয় মুসলিমদের দুর্দশার চিত্র উল্লেখ করেন।

মুসলিমদের জন্য আসতে থাকেন একের পর এক শুভেচ্ছার দূত। ১৮৮৮ সালে ভাইসরয় লর্ড ডাফরিন দ্বিধাহীন স্পষ্টতায় জানান দেন, ‘মুসলমানরা ভারতে পাঁচ কোটি মানুষের এক জাতি। যারা ধর্ম ও সামাজিক প্রথার দিক থেকে সমরূপ। তারা একদিন দিল্লীর সিংহাসনে আসীন হয়ে হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত একচ্ছত্রভাবে আধিপত্য চালাত। এই স্মৃতিই তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।’ (৩) এভাবেই ইংরেজরা ভারতকে হিন্দু-মুসলিমে বিভক্ত করে ফেলে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের সূচনা ঘটায়।

ব্রিটিশ শাসকরা এ অঞ্চলে প্রথম জমিদারি প্রথার প্রচলন ঘটিয়ে সামন্ততন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করে। তারা মুসলিম ও হিন্দু অভিজাততন্ত্র সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের গৌরবময় অতীতের ধারণাকে সামনে টেনে আনে। এবং অভিজাতদের নিজেদের কোলে টেনে জমিদারিতে ঢুকিয়ে দেয়। এভাবে অভিজাতদের কাছ থেকে তারা দাসসুলভ আনুগত্য আদায় করতে সমর্থ হয় এবং ব্রিটিশের শাসনও পাকাপোক্ত হয়। আর এর মাধ্যমেই ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে ধর্মভিত্তিক জাতীয়তার এক আধুনিক কুসংস্কার।

রবীন্দ্রনাথ ও তার সাহিত্য ব্রিটিশদের এই অপরাজনীতি সম্পর্কে আমাদের কী শিক্ষা দেয়, আসুন তা এবার একটু মিলিয়ে দেখি। ১৯০৪ সালে লিখিত ‘স্বদেশী সমাজ’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘গৌরব হারাইয়া আমরা যখন পুঁটলিপাঁটলা লইয়া ভীতচিত্তে কোনে বসিয়া আছি, এমন সময়ই ইংরেজ আসিবার প্রয়োজন ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে ভারতবর্ষ অতীতে অঙ্কুরিত হইয়া ভবিষ্যতের অভিমুখে উদ্‌ভিন্ন হইয়া উঠিতেছে, ইংরেজ সেই ভারতের জন্য প্রেরিত হইয়া আসিয়াছে। সেই ভারতবর্ষ সমস্ত মানুষের ভারতবর্ষ- আমরা সেই ভারতবর্ষ হইতে অসময়ে ইংরেজকে দূর করিব, আমাদের এমন কী অধিকার আছে।’ (পূর্ব ও পশ্চিম, ১৯০৮)।

‘য়ুরোপের… একটি বৃহৎ প্রবল ধারা এই ভারতবর্ষে আসিয়াই বিধাতার আহবান বহন করিয়া আমাদিগকে আঘাতের দ্বারা জাগ্রত করিয়া তুলিয়াছে।’ (পথ ও পাথেয়, ১৯০৮)

এখানে দেখুন ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে আসছে একই বক্তব্য। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ভিন্ন ভিন্ন লেখায় এই একই মত প্রকাশ করেছেন। আগে-পিছে যাই বলুন, ব্রিটিশের আগমন বিষয়ে বারংবার তিনি ঐশ্বরিক ইশারার বাণী প্রকাশ করেছেন। উপরের উদ্ধৃতিগুলোয় দেখা যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের মত হচ্ছে, ব্রিটিশকে ভারতে ঈশ্বরই ‘প্রেরিত’ করে পাঠিয়েছেন। এবং তার ‘আসিবার প্রয়োজন ছিল’, কারণ এটা ‘বিধাতার আহবান বহন’ করে। সে আমাদের ‘জাগ্রত’ করেছে।

হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের ব্রিটিশ তত্ত্বের কথা প্রথমেই বলেছি। এই প্রতিক্রিয়াশীল তৎপরতাকেও রবীন্দ্রনাথ নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছেন। তিনি এই ভেদ আছে জেনেই সন্তুষ্ট, ব্রিটিশ যে এই বিভেদ লাগিয়ে দিচ্ছে, তা নিয়ে ভাবতে বারণও দিয়েছেন। বলেছেন,

‘মুসলমানকে যে হিন্দুর বিরুদ্ধে লাগানো যাইতে পারে এই তথ্যটাই ভাবিয়া দেখিবার বিষয়, কে লাগাইল সেটা তত গুরুতর বিষয় নয়।’ (ব্যাধি ও প্রতিকার, ১৯০৭)

‘ধর্মের নামে যে জাতির নামকরণ, ধর্মমতেই তাদের মুখ্য পরিচয়।… ভারতবর্ষের এমনই কপাল যে, এখানে হিন্দু-মুসলমানের মতো দুই জাত একত্র হয়েছে।’ (হিন্দু-মুসলমান, কালান্তর, ১৯২২)

‘এসো হে আর্য, এসো অনার্য,
হিন্দু মুসলমান।
এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ,
এসো এসো খৃষ্টান।’
(গীতাঞ্জলী, ১৯১০)

দেখুন, ব্রিটিশের দেখানো ধর্মীয় বিভাজনের বাইরে অন্য কোনোভাবেই ভারতের জনগণকে রবীন্দ্রনাথ মূল্যায়ন করছেন না। উপরন্তু ব্রিটিশ কর্তৃক সূচিত সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে তিনি আমলে নিলেও এ থেকে ব্রিটিশকে দায়মুক্তিও দিচ্ছেন। আর এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও ঢুকে পড়া মত নয়, বিভিন্ন রচনায় এসেছে এই একই বাচনভঙ্গী।

দেখা যাচ্ছে, বিদেশীদের স্বার্থ রক্ষা, তাদের মত প্রচার করার দায়িত্ব ব্রিটিশের শাসনকালে রবীন্দ্রনাথ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। যদিও তিনি মহান বাঙালী! তবু তার রাজনৈতিক অবস্থান ছিল এমনই দেশবিরোধী ও জাতিবিরোধী। কোনো যুক্তি দিয়েই দখলদার শক্তিকে সমর্থন দেয়া যায় না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তার আমলে দিয়েছিলেন। কারণ চিন্তার কাঠামোর ক্ষেত্রে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ও রবীন্দ্রনাথের অবস্থান ছিল অভিন্ন।

রবীন্দ্রনাথের ব্রিটিশ দর্শন দেখুন কিভাবে তাকে ধর্মীয় বিভাজন তত্ত্বের অনুসারীতে রূপান্তরিত করল। ব্রিটিশের মতাদর্শ গ্রহণ করার ফলে তিনি ধর্মীয় কুসংস্কারের বেড়াজালে ক্রমশ আরো বেশি করে আবদ্ধ হতে থাকেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতা শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি লেখেন, ‘বস্তুত প্রত্যেক সভ্যতারই একটি মূল আশ্রয় আছে। সেই আশ্রয়টি ধর্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত কি না তাহাই বিচার্য।’ একই প্রবন্ধে আরো বলেন,

‘আত্মার স্বাধীনতা ছাড়া অন্য স্বাধীনতার মাহাত্ম্য আমরা মানি না। রিপুর বন্ধনই প্রধান বন্ধন–তাহা ছেদন করিতে পারিলে রাজা-মহারাজার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পদ লাভ করি। আমাদের গৃহস্থের কর্তব্যের মধ্যে সমস্ত জগতের প্রতি কর্তব্য জড়িত রহিয়াছে। আমরা গৃহের মধ্যেই সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড ও ব্রহ্মাণ্ডপতির প্রতিষ্ঠা করিয়াছি।’

ধর্মকে কেন্দ্র করে জাগতিক সব সমস্যার সমাধান চাইছেন রবীন্দ্রনাথ। এই মত কি আজ পর্যন্ত জনমত সৃষ্টি করছে না? রবীন্দ্র সাহিত্যের রাজনৈতিক প্রভাব তাহলে কার পক্ষে যাচ্ছে? তার মতে,

‘যদি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে, যদি ধর্মকেই মানবসভ্যতার চরম আদর্শ বলিয়া স্থির করা যায়, তবে ভারতবর্ষের প্রণালীকেই শ্রেষ্ঠতা দিতে হইবে।… ধর্মকে ভারতবর্ষ দ্যুলোক ভূলোকব্যাপী মানবের সমস্ত জীবনব্যাপী একটি বৃহৎ বনস্পতিরূপে দেখিয়াছে।’ (ভারতবর্ষের ইতিহাস, ১৯০২)

‘হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান, খৃষ্টান ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে পরস্পর লড়াই করিয়া মরিবে না- এইখানে তাহারা একটা সামঞ্জস্য খুঁজিয়া পাইবে। সেই সামঞ্জস্য অহিন্দু হইবে না, তাহা বিশেষভাবে হিন্দু।’ (স্বদেশী সমাজ, ১৯০৪)

রবীন্দ্রনাথের এই ঘোষণা, ধর্মই ‘চরম আদর্শ’ এবং শেষপর্যন্ত তা ‘বিশেষভাবে হিন্দু’- এই শিক্ষা কি সাম্প্রদায়িকতার নোংরামিকে বহন করছে না? শুধু তাই নয়, মানুষের বাস্তব জীবন থেকে আহরিত ‘কর্মেই ফল’ নীতিকেও তিনি বাতিল করে দেন ধর্মরক্ষার খাতিরেই,

‘বহুকে এক করিতে পারে কে? ধর্ম।… আমাদের দেশের পূজনীয় শাস্ত্র ফলের আসক্তি ত্যাগ করিতে বলিয়াছেন। কারণ ফল লক্ষ্য নহে, ধর্মই লক্ষ্য। …কোনো ফল- সে ফলকে ইতিহাসে যত লোভনীয় বলিয়াই প্রচার করুক না- সেরূপ কোনো ফললাভ করিবার জন্য ধর্মকে বিসর্জন দিব এরূপ নাস্তিকতাকে প্রশ্রয় দিলে রক্ষা পাইব না।’ (দেশহিত, ১৯০৮)

নাস্তিকতাকে প্রশ্রয় দিতে রবীন্দ্রনাথ বারণ করেছেন। বিপরীতে তার আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, ধর্মরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। সেই ধর্মরাষ্ট্র একা হিন্দুর অয়াধিকারে আসবে না তিনি জানেন, তাই তার দাবি, হিন্দু ও মুসলমান উভয়কেই কর্তা করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন,

‘দেশের কর্মশক্তিকে একটি বিশেষ কর্তৃসভার মধ্যে বদ্ধ করিতে হইবে। অন্তত একজন হিন্দু ও একজন মুসলমানকে আমরা এই সভার অধিনায়ক করিব- তাঁহাদের নিকট নিজেদের সম্পূর্ণ নত করিয়া রাখিব, তাহাদের কর দান করিব, তাহাদের আদেশ পালন করিব, নির্বিচারে তাহাদের শাসন মানিয়া চলিব, তাহাদিগকে সম্মান করিয়া আমাদের দেশকে সম্মান করিব।’ (অবস্থা ও ব্যবস্থা, ১৯০৫)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কল্পিত ও প্রার্থীত এই ধর্মরাষ্ট্রই আজ ভারতে দাঁড়িয়ে আছে। মুসলিম ও হিন্দুর রাজত্ব হয়েছে। তাদের আমরা কর দিচ্ছি। বিপরীতে তাদের হাতে মার খাচ্ছি। কী পাচ্ছি, কী হারাচ্ছি, এসব আলাপে রবীন্দ্রনাথ নেই। তার থাকার কথাও নয়। শাসকদের আলোচনার কেন্দ্রে কি আর দরিদ্র্যদের অভাব-অনুযোগ থাকে!

রবীন্দ্রচেতনার অসাম্প্রদায়িক দিকটাকে অনেকেই সামনেই আনেন। কিন্তু তার মতাদর্শে ধর্মের বাইরে কোনো সমাধান নেই। এমনকি সে সময় ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জন্য ইউরোপে যে লড়াই চলছিল, রবীন্দ্রনাথ তাতেও আপত্তি তোলেন,

‘দেখিতেছি, য়ুরোপের এই রাষ্ট্রীয় স্বার্থপরতা ধর্মকে প্রকাশ্যভাবে অবজ্ঞা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। ‘জোর যার মুলুক তার’এ নীতি স্বীকার করিতে আর লজ্জা বোধ করিতেছে না। ইহাও স্পষ্ট দেখিতেছি, যে ধর্মনীতি ব্যক্তিবিশেষের নিকট বরণীয় তাহা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে আবশ্যকের অনুরোধে বর্জনীয় এ কথা একপ্রকার সর্বজনগ্রাহ্য হইয়া উঠিতেছে।’ (প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতা)

রবীন্দ্র রাজনীতির এই দিকটি আজ কোথাও তেমন আলোচনা হয় না। তিনি যে ধর্মরাষ্ট্রকেই ধারণ করেছেন, জাগতিক ফললাভের উদ্দেশ্যে নাস্তিকতাকে প্রশ্রয় দিতে বারণ করেছেন, এবং ধর্মনিরপেক্ষতারও বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, এটা তার স্বাধীনতা ও দৃষ্টিভঙ্গীর বিষয় হতে পারে। কিন্তু তার সাহিত্যের মধ্য দিয়ে সেই ব্রিটিশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গীটা আজো প্রচারিত হচ্ছে। সারা ভারতে যখন বিপ্লবীরা ব্রিটিশকে তাড়াতে সংগ্রাম করছেন, জীবন দিচ্ছেন, রবীন্দ্রনাথ তখন লিখেছিলেন তার সুবিখ্যাত ঘরে বাইরে উপন্যাসটি। আজো যা বহুল পঠিত ও সমাদৃত। সেই উপন্যাসে তিনি ব্রিটিশের পক্ষ নেয়া জমিদার নিখিলিশকে মহান করেছেন। যে ছিল তার নিজের চেতনা ও চরিত্রের আদলে গড়া। আর বিপ্লবী সন্দীপকে করেছিলেন লোভী ও কাপুরুষ। সাহিত্যের সারাংশে বাস করা এই রাজনীতি আজো শাসকদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করে চলেছে। তাই শাসকশ্রেণীর নিকট তিনি চরম পূজনীয়!

রবীন্দ্রনাথ অনেক বড়। কিন্তু তাকে আরো বড় করতে গিয়ে তার ভুলগুলোকে ঢেকে ফেলার চেষ্টা করাটা মতাদর্শিক পরাজয় এবং অবশ্যই অন্যায়। তাকে মহান বাঙালী বলার সময় তার রাজনৈতিক অবস্থান আড়াল করাটা হবে শ্রেণী-দেশ-জাতি ও রবীন্দ্রনাথ, সকলের সঙ্গেই প্রতারণা। কারণ, এই কথাগুলো তো রবীন্দ্রনাথ গোপনে বলেননি। এগুলোকে ঠিক মনে করেই তিনি প্রকাশ্যে লিখেছেন। জীবনের শেষ অবধি তার এই অবস্থান খুবই স্পষ্ট। তিনি কোথাও এড়িয়ে যাননি। ধর্মকে কেন্দ্র করে জাগতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সব সমস্যার সমাধান চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। এই মত আজ পর্যন্ত জনমত সৃষ্টি করছে শাসকদের পক্ষে এবং ব্রিটিশের তদানীন্তন কৌশলকে আজো ফলপ্রসূ প্রমাণ করে চলেছে।

রবীন্দ্রনাথের এসব মতকে সঠিক মনে করলে তার পক্ষে দাঁড়াতে হবে। ভুল মনে করলে বিরোধিতা করতে হবে। কিন্তু চেপে যাওয়াটা হবে পুরোপুরি ভন্ডামি। আধুনিক-প্রাচীন, অধিকাংশ রবীন্দ্রপন্থীরা এটা তো করছেনই, উপরন্তু রবীন্দ্রনাথ এত বড় প্রথায় পরিণত হয়েছেন যে, নিজের অজান্তেই অধিকাংশ মানুষ তাকে ফেরেশতা/পীর বানিয়ে ফেলেছেন। এই সবগুলো প্রবণতাই প্রগতিশীলতার পরিপন্থী। আর স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ কতখানি প্রগতিশীল, এই প্রবন্ধই দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আরো জানতে হবে, রবীন্দ্র আলোচনা ও সমালোচনা আরো বাড়াতে হবে।

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা
১) রোমিলা থাপার, Soamanatha, The Many Voices of History, ভারত, ২০০৪, পৃ ১৫
২) সৈয়দ আবুল কালাম রচিত ‘রাজনীতির রবীন্দ্রনাথ (১৯০১-১৬) এবং ঘরে বাইরে’ শীর্ষক রচনা থেকে সংগৃহীত এবং উপরোক্ত রচনাটি এই প্রবন্ধের আলোকেই রচিত।
৩) সুমিত কুমার, Modern India, দিল্লী, ১৯৮৩, পৃ ২০

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৮ thoughts on “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ধর্ম ও ব্রিটিশভাবনা মূল্যায়ন!

  1. আপাতত কতৃ‍র্পক্ষের কাছে
    আপাতত কতৃ‍র্পক্ষের কাছে স্ট্রিকি করার দাবি রেখে যাচ্ছি
    অনেক গুরুত্বপূণ‍র্ পোষ্ট, খুব ভালো একটা আলোচনা করা যাবে বার কয়েক পড়ে শুরু করি 😀

      1. রবী ঠাকুরের যে কথা গুলো আপনি
        রবী ঠাকুরের যে কথা গুলো আপনি উদ্ধৃতি করেছেন, তার আগে পিছের কথা গুলো একবার পড়ে দেখতে হবে 🙂 আসলে তিনি কী প্রসঙ্গে এসব বলেছেন, এটা আক্ষেপ কিনা, ব্যঙ্গ কিনা এসব লেখার মাঝখানের অংশের চেয়ে পুরোটা পড়লে ভালো বোঝা যায়। তাছাড়া ভুল ধারণার জন্ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

        1. আলোচনার খাতিরে বলছি, তিনি যদি
          আলোচনার খাতিরে বলছি, তিনি যদি এরকম অর্থ করে না থাকেন, আর আমরা জোর করে এটাকে ভিন্ন অর্থের দিকে ঠেলে দেই সেটা হবে অন্যায়। এই অন্যায় অন্তত রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে করার সাহস কেউ করবে না। আর হ্যাঁ, অবশ্যই পড়তে পারেন। যে প্রবন্ধগুলো থেকে এসব মত নেয়া হয়েছে। সেগুলো অধিকাংশই অনলাইনে ভারত সরকার প্রচারিত রবীন্দ্র রচনাবলীতে পাবেন। পড়ুন, পড়লে আরো প্রতিক্রিয়াশীলতা আবিস্কার করতে পারবেন। দিব্যদৃষ্টি খুলে যাবে। তবে হ্যাঁ, ইতিহাস ও সমাজ সম্পর্কে তার ধারণাকে মেনে নিয়ে এগুতে থাকলে গোলমালে পড়বেন। ইতিহাস ও সমাজের পাল্টা একটা বস্তুবাদী বুঝ আপনারও থাকা চাই।

  2. লেখাটা ভালো হইছে,
    লেখাটা ভালো হইছে, কিছুক্ষেত্রে একাবারে স্পট অন। ব্রিটিশ কলোনিয়াল জ্ঞানতত্ত্ব কিভাবে ঐ আমলে এই ভুখন্ডের সম্ভ্রান্তদের সাম্প্রদায়িক জ্ঞানতত্ত্বে পরিণত হয়েছে তা কম কথায় খুবি ভালোভাবে দেখানো গেছে লেখাটায়। তবে রবীন্দ্র নাথের টেক্সট আরেকটু বিশ্লেষনের দাবি রাখে। এখানে যে টেক্সটগুলি আছে তাতে রবীন্দ্র নাথ ‘হিন্দু’ এবং ‘ধর্ম’ এই দুই শব্দকেই প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ও ভারতীয় দার্শনিক এই দুই অর্থে ব্যবহার করেছেন। এক জায়গায় তিনি হিন্দু শব্দটাকে সম্প্রদায় এবং আরেকজায়গায় ভারতীয় জাতি অর্থে ব্যবহার করেছেন। ধর্ম শব্দের ক্ষেত্রেও একি কথা খাটে, এক জায়গায় বুঝাইছেন রিলিজিওন, আরেক জায়গায় বুঝাইছেন দার্শনিকভাবে ভারতবর্ষে ‘ধর্ম’ বলতে যা বুঝায় তা। এই সমস্যা ঐ আমলের অধিকাংশ লেখকের মধ্যেই পাওয়া যায়। সাম্প্রদায়িক হিন্দু জাতীয়তাবাদ আর ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে এক দেহে ধারণ করতে গিয়েই এই বিপদ হয়েছে, এর কারনেই হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও ইন্ডিয়ান জাতীয়তাবাদ এখনো একটা থেকে আরেকটা খুব একটা বিচ্ছিন্ন হতে পারে নাই।

    1. শুধু এই দুই অর্থেই নয়, আরো
      শুধু এই দুই অর্থেই নয়, আরো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন অর্থে বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। কিন্তু তার পরেও ঈশ্বরের ধর্মকেই চরম আদর্শ গণ্য করেছেন। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতা শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি লেখেন,

      ‘বস্তুত প্রত্যেক সভ্যতারই একটি মূল আশ্রয় আছে। সেই আশ্রয়টি ধর্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত কি না তাহাই বিচার্য।’

      ‘আত্মার স্বাধীনতা ছাড়া অন্য স্বাধীনতার মাহাত্ম্য আমরা মানি না। রিপুর বন্ধনই প্রধান বন্ধন–তাহা ছেদন করিতে পারিলে রাজা-মহারাজার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পদ লাভ করি। আমাদের গৃহস্থের কর্তব্যের মধ্যে সমস্ত জগতের প্রতি কর্তব্য জড়িত রহিয়াছে। আমরা গৃহের মধ্যেই সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড ও ব্রহ্মাণ্ডপতির প্রতিষ্ঠা করিয়াছি।’

      এমনকি সে সময় ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের জন্য ইউরোপে যে লড়াই চলছিল, রবীন্দ্রনাথ তাতেও আপত্তি তোলেন,

      ‘দেখিতেছি, য়ুরোপের এই রাষ্ট্রীয় স্বার্থপরতা ধর্মকে প্রকাশ্যভাবে অবজ্ঞা করিতে আরম্ভ করিয়াছে। ‘জোর যার মুলুক তার’এ নীতি স্বীকার করিতে আর লজ্জা বোধ করিতেছে না। ইহাও স্পষ্ট দেখিতেছি, যে ধর্মনীতি ব্যক্তিবিশেষের নিকট বরণীয় তাহা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে আবশ্যকের অনুরোধে বর্জনীয় এ কথা একপ্রকার সর্বজনগ্রাহ্য হইয়া উঠিতেছে।’

      শেষপর্যন্ত তার এই অবস্থান খুবই স্পষ্ট। তিনি কোথাও এড়িয়ে যাননি। ধর্মকে কেন্দ্র করে জাগতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সব সমস্যার সমাধান চেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। এই মত আজ পর্যন্ত জনমত সৃষ্টি করছে শাসকদের পক্ষে এবং ব্রিটিশের তদানীন্তন কৌশলকে আজো ফলপ্রসূ প্রমাণ করে চলেছে।

  3. ব্রিটিশ আসার আগে ভারতবর্ষে
    ব্রিটিশ আসার আগে ভারতবর্ষে ধর্মীয় দাঙ্গা ছিলোনা এটি আপনার বড় একটি ভুল বিবৃতি । হিন্দুদের অত্যাচারে বৌদ্ধ দরমের লোকেরা পালিয়েছিল হিমালয় হয়ে তিব্বত পর্যন্ত। পারসিক মুসলিমরা হিন্দুদের সাথে যুদ্ধ করে বাংলা পর্যন্ত পৌঁছেছিল । এ সময় নির্যাতিত পলাতক বৌদ্ধ ও ম্লেচ্ছ হিন্দুরা দলে দলে মুসলমান ধরম গ্রহণ করেছিলো । শাহজালাল ও খানজাহান আলি হাজার হিন্দুদের সাথে যুদ্ধ করে সিলেট আর বাগেরহাটে আস্তানা গেড়েছিল । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতৃপুরুষ কেন পিরালীর বামুন টাইটেল পেয়েছিল তাতো আপনার জানাই আছে । মাত্র ১২ বছর বয়েসে রবি বাবা দেবেন ঠাকুরের হাত ধরে তীর্থে গিয়েছিলেন ,তাও এক শিখ মন্দিরে । রবির ব্রহ্ম সমাজে নিরাকার সৃষ্টিতে বিশ্বাস ওই শুরু । শান্তি নিকেতনে প্রার্থনা গৃহে ভোরবেলায় নিজ নিজ বিশ্বাসে প্রার্থনা এখন চলছে। ধন্যবাদ।

    1. এই ইতিহাসটা কোথায় পেয়েছেন, তা
      এই ইতিহাসটা কোথায় পেয়েছেন, তা জানতে চাই। আগেই বলেছি, ভারতের ইতিহাসকে ধর্মের ভিত্তিতে দেখার চোখটা ব্রিটিশই তৈরী করেছে। সেই মাধ্যম থেকেই এরকম তথ্য পেয়ে থাকবেন। হিন্দুদের অত্যাচারে বৌদ্ধদের পলায়নের ঘটনাটি অবাস্তব। কেন জানেন? কারণ ব্রিটিশ আসার আগে হিন্দু বলে একক কোনো ধর্ম ছিল না। কিছু সনাতন প্রথা জারী ছিল। ধর্ম ছিল একেক অঞ্চলে একেক রকম। মূলত আপনি যে দ্বন্দ্বের কথা বলছেন, তা ছিল রাজাদের, রাজত্ব দখলের দ্বন্দ্ব। এটা ধর্মীয় দাঙা নয়। ইতিহাসবেত্তা সুমিত চৌধুরী তার মডার্ন ইন্ডিয়া গ্রন্থের (দিল্লী, ১৯৮৩) ৫৯ পৃষ্ঠায় সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ভারতবর্ষে ‘১৮৮০-র দশক পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক দাঙা ছিল অতিশয় বিরল ঘটনা’। আপনি যে ইতিহাস বলছেন, তা ব্রিটিশের ভারততত্ত্বের অংশ। এর বাইরে দাঁড়িয়ে বস্তুগত অনুসন্ধান হয়েছে কিছু। সেগুলোর সাহায্য নিন। বিভিন্ন এলাকা বা রাজ্যের ক্ষমতা দখল, দমন, এ ধরণের বিষয়াদিকে রাজ্য দখলের লড়াই বলা হয়। এগুলোকে ধর্মীয় দাঙা আখ্যা দেয়াটা ভুল হবে।

      1. এগুলোতে একটু নজর দিতে পারেন ।
        এগুলোতে একটু নজর দিতে পারেন । সাধারনত আমি সুত্র,লেখক ইত্যাদি লিখে রাখিনা এজন্য যে চুলচেরা বিশ্লেষণে যাইনা । তবুও ইতিহাস নিয়ে আমার আগ্রহ অসীম । https://en.wikipedia.org/wiki/Decline_of_Buddhism_in_India

        https://en.wikipedia.org/wiki/Religious_violence_in_India#Medieval_India

        নিচে অসংখ্য সূত্র পাবেন।

        1. এখান থেকে কোট করে দেখান
          এখান থেকে কোট করে দেখান অনুগ্রহ করে আপনি কিসের ভিত্তিতে কথা বলছেন। আমি তো ওই পুরো প্রবন্ধের আলোচনায় যেতে পারব না। আপনি কোথায় ফোকাস করছেন, সেটা তুলে দিন। তাহলে আলোচনা সঠিক পথে এগুবে।

  4. রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে অসাধারণ
    রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে অসাধারণ বিশ্লেষণ। লেখাটি পড়ার পর একবার হলেও চিন্তারজগৎটা নড়ে উঠবে। আমি প্রচন্ড একজন রবীন্দ্রভক্ত। তারপরও রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে করা এই সমালোচনামূলক লেখাটিকে ছুঁড়ে ফেলতে পারি নাই। যদি সময় করতে পারি তাহলে আলোচনায় অংশ নেব।

    শেয়ার দিলাম।

  5. রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আলোচনাটি
    রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আলোচনাটি পড়লাম।পড়ে একটু কষ্টই পেলাম।পড়ে তো মনে হচ্ছে উনি সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী ছিলেন।এই লাইনটি তো রীতিমত ভয়ংকর!

    ধর্মের নামে যে জাতির নামকরণ, ধর্মমতেই তাদের মুখ্য পরিচয়।… ভারতবর্ষের এমনই কপাল যে, এখানে হিন্দু-মুসলমানের মতো দুই জাত একত্র হয়েছে।

    ।।

    যাই হোক,তথ্যগুলা সবার জানা দরকার।শেয়ার দিলাম ভাই।

    1. ব্রিটিশ ধর্মের ভিত্তিতে
      ব্রিটিশ ধর্মের ভিত্তিতে ভারতের যে ইতিহাস তৈরী করেছিল, রবীন্দ্রনাথ তা মেনে নেন। কারণ সম্ভবত শ্রেণীস্বার্থ। নইলে ব্রিটিশ ও রবীন্দ্রনাথের মিলের আর কোনো জায়গা নেই।

  6. ভাই, বুকের পাটা আছে। লেখাটা
    ভাই, বুকের পাটা আছে। লেখাটা পড়লাম রবীন্দ্রনাথের মন মানসিকতা এমন হওয়ার কারণ আছে। ১। তিনি একজন রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারের ২। একজন ব্রিটিশ অনুগত জমিদার।
    তবে তিনি যা দিয়েছেন তা কিন্তু নিছক ফেলনা নয়। বাংলাসাহিত্য’র বিশাল ভান্ডার তার হাতেই রচিত।

    1. ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
      ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য। তবে আমি খেয়াল করেছি, সাধারণত রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করলে অধিকাংশই এই প্রসঙ্গটাই টেনে নিয়ে আসেন। তার শিল্পমান বা দক্ষতা নিয়ে তারা উচ্চধারণা প্রকাশ করেন। যদিও আমাদের আলাপটা তা নিয়ে হচ্ছে না। আমরা সাহিত্যের বহিরাবরণ খুলে সারটাকে বের করে আনলে যে রাজনৈতিক মূল্যবোধের পরিচয় মেলে, তা নিয়ে আলাপ করছি। তার সাহিত্য যে দখলদারদের পক্ষে জনমত তৈরী করে, এটা যদি আমরা না বুঝি, তাহলে তো এর ব্যাখ্যা থাকবে না। ফলে ওই শিক্ষাটাই স্থায়ী হয়ে যাবে। আর বিপরীতে এই বিষয়গুলো যত প্রকাশ্য হবে, তত রাবিন্দ্রীক সাহিত্য ও রাজনীতিকে মানুষ পৃথক করতে পারবে এবং তার রাজনীতিকে বর্জন করতেও পারবে। আমাদের লক্ষ্য সেটাই।

  7. মানুষের বেড়ে ওঠা সমাজিক
    মানুষের বেড়ে ওঠা সমাজিক গুণ্ডির মধ্যে আস্তে আস্তে নিজে তৈরি হতে থাকে ৷ রবি ঠাকুর তার থেকে বেশি কিছু নয় ৷ কিন্তু তার লেখা রোববার গল্পটি পড়লে, অন্য এক রবি ঠাকুরকে চেনা যায়

  8. আর কয়েক বছর আগে জন্মালেই
    আর কয়েক বছর আগে জন্মালেই রবীন্দ্রনাথের নাম আর বিশ্বকবি হতো না। তার নাম হয়ে যেত শাস্ত্রজ্ঞ, মুনী, ঋষি, ধর্মানন্দ!

  9. রবি ঠাকুর আগে জন্মেছে বলেই তো
    রবি ঠাকুর আগে জন্মেছে বলেই তো একো কথা, নতুন প্রজন্মান্তরের কথা চিন্তা করুন,,,,,,,তবে সহমত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 2 =