আর্ন্তজাতিক নিষেধাজ্ঞা আসছে ইসলামী ব্যাংকের উপর!

জঙ্গীবাদে ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়ন এটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হলেও, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রচুর পরিমাণে তথ্য-উপাত্ত ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে।

২০১২ সালের ১৭ জুলাই ইউএস সিনেট পার্মানেন্ট সাব কমিটি এবং কংগ্রেশনাল ওয়াচডগ প্যানেলের একটি অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশিত হয়, যেখানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড জঙ্গীবাদে অর্থায়নের সম্পৃক্ততা পেয়েছে।

ঐ রিপোর্টে স্পষ্টতই নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে কিভাবে জঙ্গী অর্থায়নে আন্তর্জাতিক ব্যাংক মাধ্যম এইচএসবিসিকে ব্যবহার করেছে। ঐ রিপোর্টে বলা হয়, সৌদি আরব ভিত্তিক আল-রাজি গ্রুপের ৩৭ শতাংশ মালিকানা রয়েছে ইসলামি ব্যাংকে এবং আল-রাজির বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদে অর্থায়ন বেশ পুরোনো অভিযোগ।

ঐ রিপোর্টে আরো উল্লেখ্য করা হয় যে, আইআইআরও (ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশন) এর নামে ১৯৯৩ এবং ১৯৯৪ সালে দুইটি একাউন্ট খোলা রয়েছে বলে ইসলামিক ব্যাংক ইউএস সিনেট পার্মানেন্ট সাবকিমিটিকে জানিয়েছে। আল-কায়েদা সহ অন্যান্য দেশে নানা ইসলামিক জঙ্গী সংগঠন সমূহকে অর্থ সহযোগিতার ব্যাপক অভিযোগ থাকাতে বর্তমানে এই এনজিও সংস্থার উপর আমেরিকাতে নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে।

যদিও সেইসময়ে এই রিপোর্টকে অসত্য বলে ইসলামিক ব্যাংক দাবী করেছিলো। এরপরেও বিগত সময়ে গ্রেপ্তারকৃত নানা জঙ্গীদের অর্থায়নের পেছনে ইসলামিক ব্যাংকের হাত খুঁজে পাওয়া যায়। এরমধ্যে সবচাইতে বড় তথ্যপ্রমাণ মিলেছিল বিগত সরকারের আমলে। সেই সময়ে ঐ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য উঠে এসেছিল যে তাদের যাকাতের ৮ শতাংশ সরাসরি বাংলাদেশের জঙ্গিবাদে যায়। যার ফলে ঐ ব্যাংকের হিসাব স্বরাষ্ট্র-মন্ত্রণায়লে দাখিলের সুপারিশ করেন তৎকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল ইসলাম টুকু। উল্লেখ্য যে সেই হিসাবেও তথ্য প্রমাণ মিলেছিল এবং ইসলামী ব্যাংককে জঙ্গিবাদে মানি লন্ডারিং এর দায়ে জরিমানাও গুনতে হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক তদন্ত অনুসন্ধানে এই ব্যাংকের যা ইতিহাস উঠে এসেছে সংক্ষেপে তা হলো, স্বাধীনতার পর এই দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পলায়ন করে মীর কাশেম আলী। স্বভাবগুনেই তোষামুদী লেহনকারী মীর কাশেম আলী স্বল্প সময়েই আরবের ওহাবী মতালম্বীদের ঘনিষ্ট এবং বিশ্বস্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে এই দেশে তাকে দিয়ে শারিয়া ব্যাংকিং এর ধারা প্রবর্তনে ১৯৭৫ সালের শেষভাগে পাঠানো হয়। সৌদির ঐ গ্রুপের বিশাল একটি অংশজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছে আল-রাজি পরিবার। পরবর্তীতে এই দেশে বেশ ভালো বৈধতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামী ব্যাংক।

আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানে আইআইআরও এর ফিলিপাইন প্রধানের সাথে আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সম্পৃক্ততা সেই সাথে বিভিন্ন দেশে জঙ্গীবাদের সাথে এই আইআইআরও এর সম্পৃক্ততা তথা এই ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টের মাধ্যমে এইচএসবিসিকে ব্যবহার করে জঙ্গিবাদে অর্থ যোগান স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এই দেশে আসাটাকেও বেশ গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে দেশীয় গোয়েন্ধা সংস্থার রিপোর্টে এনজিও সংস্থার ছত্রছায়ায় রোহিঙ্গাদের দিয়ে জঙ্গীবাদ প্রসারের সুস্পষ্ট প্রমাণাদিও আমরা বেশ কয়েকবার দেখেছি।

জঙ্গীবাদে অর্থায়নে সম্পৃক্ততার এরকম বহু প্রমাণাদি সাপেক্ষে ইসলামী ব্যাংককে বেশ কড়া নজরেই রেখেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ। যার ফলে গত তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্বের কয়েকটি দেশ সরাসরি এই ব্যাংকে রেমিটেন্স প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। তারা রেমিট্যান্স প্রদানে এই দেশের অন্যান্য কিছু ব্যাংককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। সর্বপ্রথম আমেরিকার একটি ব্যাংক দিয়ে শুরুর মাধ্যমে অতিদ্রুতই অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডেরও কিছু ব্যাংক এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে। প্রবাসীদের ঐ তিন দেশে প্রবাসীদের মাধ্যমে প্রাপ্ত সূত্রের দাবী, ইতোমধ্যে সরাসরি ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টে অর্থ প্রেরণে অনিহা প্রকাশ করছে বিদেশী ব্যাংক সমূহ।

আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থা সমূহ ইতোমধ্যেই এই ব্যাংকের ভবিষ্যত নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক ভাবে তিনবার জরিমানার পর এই ব্যাংকের আন্তর্জাতিকভাবে টিকে থাকা ইতোমধ্যেই ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তার উপরে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড সেই সাথে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশ্বের তৃতীয় সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরে সরাসরি অর্থ যোগানকেও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। ইতোপূর্বে বাংলাদেশে যত ধরণের জঙ্গী হামলা হয়েছে এবং যতজন জঙ্গী ধরা পড়েছে তাদের প্রায় সকল হিসাবই এই ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত হয়েছে।

বেশ কিছু আইনী জটিলতার কারণে এই ব্যাংক এখনো পর্যন্ত টিকে থাকতে পারলেও আগামীতে এর টিকে থাকা অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলোতে ইতোমধ্যেই জঙ্গীবাদে অর্থায়নের পেছনে এর সম্পৃক্ততা উঠে আসলেও ঐ সকল জটিলতার কারণে এই ব্যাংককে নিষিদ্ধ করার চাপ সরকারকে দিতে পারছে না তদন্ত সংস্থা সমূহ। যদিও ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি তদন্ত সংস্থা এই ব্যাংককে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারকে চাপ দেওয়ার সুপারিশ করেছে যার ফলে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ লেনদেন ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক। যারফলে ইসলামী ব্যাংক তাদের রেমিটেন্স স্থানীয় অন্য কয়েকটি ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে এনে তাদের গ্রাহকদের দিচ্ছে। এটা করতে গিয়ে বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আসা গ্রাহকদের টাকা দিতে দেরী হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা চলে এসেছে এই ব্যাংকটির উপর।

বর্তমানে এই ব্যাংকে হিসাবধারীদের জন্য আগামীতে বিপদের আশংকাও করছেন অর্থনীতিবিদগন। বিশেষভাবে এই ব্যাংকের সাথে যারা আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্য করছেন, তাদের ক্ষেত্রে যে কোন মুহুর্তে বিপদ ঘটার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞমহল। তাই আমদানী-রপ্তানীকারকদের সাবধানতার সাথে ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞমহলের অভিমত।

ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ব্যাংকগুলো ইসলামী ব্যাংকের সাথে আর্ন্তজাতিক লেনদেন বর্জন করার পদক্ষেপ নেওয়ার পর ইউরোপ ইউনিয়নভুক্ত দেশ সমূহ ইসলামী ব্যাংকের সাথে সকল প্রকার লেনদেন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে বিশ্বস্তসুত্র নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “আর্ন্তজাতিক নিষেধাজ্ঞা আসছে ইসলামী ব্যাংকের উপর!

  1. আশ্চর্য হয়েছি তিন সপ্তাহ পার
    আশ্চর্য হয়েছি তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মিডিয়াগুলো এখনো ইস্লামি বেনকের ট্যাকা গুনাতে ব্যস্ত রয়েছে।যার ফলে তারা এখনো নিশ্চুপ ভুমিকা!!! অথচ এই মিডিয়াগুলোই কিন্তু খুঁজে খুঁজে বের করে ইস্লামি বেনকের সাথে আম্লীগের সম্পর্ক!!!

    তবে এতো সহজ না ইস্লামি বেনক এই দেশে নিষিদ্ধ করে দেয়া। আন্তর্জাতিকভাবে কোন সমস্যা না থাকলে ইস্লামি বেনক যদি এই দেশে বন্ধ হয়ে যায় তাহলে মধ্য প্রাচ্যের সুযোগ সুবিধা সমূহ থেমে যাবে এই দেশের জন্য। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলেই তারা তাদের আগামী দশ বছর মত চলার অবস্থা গড়ে তুলেছে আইনী এবং অর্থনৈতিকভাবে।

    শুধু নিষিদ্ধ করে দিলেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না, কেননা এর আগে অনেক সংস্থা গোড়াতে কেটে দেয়া হলেও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই এবং ঐসকল গোড়াকাটা সংস্থা সমূহের ফল এই ইস্লামি বেনক।

  2. ৩ সপ্তাহের পুরাতন খবর কিন্তু
    ৩ সপ্তাহের পুরাতন খবর কিন্তু দেশের মিডিয়াগুলো এই বিষয়ে চুপ কেন বুঝতে পারছি না। ভিতর ভিতর কিছু চলছে নাকি?

  3. মিডিয়া বরাবরই এরকম খবরে
    মিডিয়া বরাবরই এরকম খবরে নিরবতা পালন করে।। মনে হয় একটা বড় কিছু পায় মিডিয়া গুলো।। তা না হলে তিন সপ্তাহের বাসি খবর……… বলার কিছু নাই।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − = 39