দৈনিক পত্রিকার কলামে এক মুফতির মিথ্যাচার!

গতকালের দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশে একটি কলাম দেখলাম। কলামটিতে ইসলাম ধর্মের মহত্ব এবং কোরআন শরীফে বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রসঙ্গ এসেছে। লেখক এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন, যা ইতোপূর্বে মানুষের ধারণায় ছিল না- কিন্তু কোরআনেই প্রথম এসেছে। লেখক একজন মুফতি। তার নাম মুফতি আহমদ মফিজ। মুফতি বলা হয় সেই ব্যক্তিকে যিনি আরবী “ফিকহ” নামক শাস্ত্রে অভিজ্ঞ। ইসলামের পরিভাষায় ফিকহ হলো এমন শাস্ত্র, যার মাধ্যমে ইসলামের উৎসমূহ তথা কুরআন ও হাদীস থেকে বিস্তারিত প্রমাণসহ ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন বিধি-বিধান ও ইসলামি সমাধান জানা যায়। অর্থাৎ একজন মুফতি কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন ঘটোনাকে বর্তমানের আলোকে ব্যাখ্যা করেন। দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পরিকার মুফতি আহমদ মফিজ সেই কাজটিই করেছেন।

মুফতি আহমদ মজিদের লেখা প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছু বলে নেয়া প্রয়োজন।, পত্রিকাটির যে পাতায় এ লেখাটি এসেছে তার নাম ‘তাসাউফ’। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্‌র স্মরণে লিপ্ত থাকা। আলোকিত বাংলাদেশ বাংলাদেশের এবং বাংলা ভাষার একটি জাতীয় দৈনিক। এর একটি পাতার নাম কেন আরবীতে হবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কারণ এর পাঠক আছেন সব ধর্মেরই মানুষ। পত্রিকাটির এরকম চেহারার মূল কারণ এটি একটি ধর্মসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পত্রিকা। ইসলামী চিন্তাবিদ খান বাহাদুর আহসান উল্লাহর সহায়-সম্পত্তি সৃষ্ট ট্রাস্ট আহছানিয়া মিশন থেকে এ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটানো তাদের একটা এজেন্ডা। যদিও এই এজেন্ডার কথা তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করে না। আর সব সার্বজনীন জাতীয় পত্রিকার মতোই আচরণ করে তারা। কিন্তু তাদের পাতাগুলোর নাম ও লেখার দিকে তাকালে তাদের আসল উদ্দেশ্য ধরা যায়। দেখা যাক মুফতি সাহেবকে দিয়ে পত্রিকাটি কি লিখিয়েছে!

১৪ মার্চ, ২০১৫ তারিখে দৈনিক আলকিত বাংলাদেশে মুফতি আহমদ মফিজ লিখিত কলামটির নাম ‘কোরআনে বর্ণিত ঐতিহাসিক তথ্য’। এই লেখায় যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে, তার অধিকাংশই ভুল এবং মিথ্যা অথবা হতে পারে পত্রিকাটির সম্পাদক এবং ওই মুফতির অজ্ঞতা। এগুলো এতই সাধারণ বিষয় যে, অল্প বয়সি বাচ্চারাও এসব বক্তব্যের ভুল ধরতে পারবেন। একে একে অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরছি।

অসঙ্গতি ০১
কলামের প্রথম অনুচ্ছেদেই মুফতি সাহেব বলছেন, ‘ যে সময় কোরআন তার দেহ কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষত রাখার ঘোষণা দিয়েছে, সে সময় থেকে বহু শতাব্দী পর্যন্ত কারও জানা ছিল না, ফেরাউনের মৃত লাশ কোথায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তবে মুসলমানরা শুধু এ ব্যাপারে বিশ্বাস পোষণ করে আসছিলেন, যেহেতু আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের মৃতদেহ কেয়ামত পর্যন্ত অক্ষত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, নিশ্চয় তার মৃতদেহ কোথাও না কোথাও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু কিছু যুগ আগে মিসরে এক মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা আজও মিসরের রাজধানী কায়রোর জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, এ দেহটিই ফেরাউনের লাশ; যা অক্ষত রাখার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে ঘোষণা দিয়েছেন।’ এর সঙ্গে দেয়া আছে মিশরের সম্রাট বিখ্যাত দ্বিতীয় রামসেসের মমির একটি ছবি।

এখানে মুফতির এই বক্তব্যে উঠে এসেছে, ফেরাউনের লাশ সম্পর্কে আগে কেউ জানত না। কিছু যুগ আগে তার লাশ আবিস্কার হয়েছে। এর আগে এ সম্পর্কে কেবল কোরআনেই বলা হয়েছিল। দেখা যাক অন্যরা কী বলে!

উইকিপিডিয়ার ইংরেজি পাতায় দ্বিতীয় রামসেসের মৃতদেহ সরক্ষণের প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘Ramesses II was originally buried in the tomb KV7 in the Valley of the Kings but, because of looting, priests later transferred the body to a holding area, re-wrapped it, and placed it inside the tomb of queen Inhapy. Seventy-two hours later it was again moved, to the tomb of the high priest Pinudjem II. All of this is recorded in hieroglyphics on the linen covering the body. His mummy is today in Cairo’s Egyptian Museum.

অর্থাৎ দ্বিতীয় রামসেসের মৃত্যুর পর থেকেই তার লাশ রক্ষণাবেক্ষণ চলে আসছিল। তার লাশ যে লিনেনের কাপড় দিয়ে মুড়ে রাখা, তাতেই হায়রোগ্লিফিকস ভাষায় এসব তথ্য লেখা আছে। রামসেসের মৃত্যুর পর তার ত্রয়োদশ সন্তান মেরেনপতাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। বংশধরেরা তার লাশ এবং ঐতিহ্যই কেবল রক্ষা করেননি, তার নামে অনেক মুর্তি ও ভবন স্থাপন করেছিলেন।

মানুষের জানা তথ্যমতে, ৩১৩৫ বছর ধরে রামসেসের লাশ সংরক্ষিত আছে এবং কেউ না কেউ তার দেখাশোনা করছেন। তবে এটা ঠিক যে, লাশের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, এজন্য তার লাশের সম্পর্কে নানা গুজব ছড়ানো হয়েছিল। যেমন তার উচ্চতা সম্পর্কে বলা হতো ৬২ ফুট। বাস্তবে যা ৬ ফুটের কিঞ্চিৎ বেশি। এরকম আরও নানা গুজব জারি রাখা হয়েছিল লাশটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য। যার দ্বারা আরবরা বিভ্রান্ত হয়েছিল। কোরআনেও এরই প্রতিফলন ঘটেছে। আর মুফতি মফিজ কিনা বলছেন, এর কথা আগে কেউ জানতোই না!

অসঙ্গতি ০২
মুফতি মফিজ এর পরে আরও উদ্ভট তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এ পৃথিবীর প্রতিটি জিনিস জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। ‘পবিত্র ও মহিমান্বিত ওই সত্তা যিনি জমিন থেকে উৎপন্ন শস্য, তাদের এবং যা তারা জানে না তার প্রতিটি জিনিসকে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা ইয়াসিন : ৩৬)। যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে তখন বিজ্ঞানীদের ধারণাও ছিল নারী-পুরুষের জোড়া শুধু মানুষ ও প্রাণী জগতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কোরআনের এ তত্ত্বটি স্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়, নারী-পুরুষ ও নর-নারীর ন্যায় প্রতিটি জিনিসেরই জোড়া রয়েছে। কখনও এ জোড়ার নামকরণ করা হয় নর-নারী দ্বারা, কখনও নামকরণ করা হয় পজেটিভ ও নেগেটিভ দ্বারা, কখনও ইলেকট্রন ও প্রোটন, কখনও নিউট্রন-পজিট্রন দ্বারা।’

এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, সব প্রাণীর যে জোড়া আছে, এই জ্ঞান মানুষ ও বিজ্ঞানীরা কোরআন থেকে পেয়েছেন! এই বক্তব্যের অসঙ্গতি বুঝতে কোনো বিশেষ জ্ঞানের দরকার নাই। প্রতিটা জিনিসের জোড়া থাকলে মুসলিমরা খুব সমস্যায় পড়ে যাবেন। জোড়া হিসাব করলে মুফতি সাহেবরা একটি বিয়ে করতে পারেন নিজস্ব জোড়ার সঙ্গে। এর বাইরে বাকী যে তিনটি বউ তা তো আরেকজনের জোড়ার হয়ে যায়। তাদের তো আবার ভিন্ন ভিন্ন জোড়া থাকার কথা। এসব বিতর্ক বাদই দিলাম।

Hermaphrodite নামটি লিখে গুগল করুন। দেখুন কী বলে! এই প্রাণীটিরই যে কেবল জোড়া নেই, তা নয়। বরং বলা হচ্ছে, Many taxonomic groups of animals (mostly invertebrates) do not have separate sexes! আর এদিকে হুজুরসাহেব কিনা বলছেন, সব কিছুর জোড়া আছে! এই জ্ঞান বিজ্ঞানীরা কোরআন থেকে নিয়েছেন! তাহলে যেগুলোর জোড়া নেই বলে আবিস্কার হয়েছে, সেগুলো কি বিজ্ঞানীরা ফেলে দিয়েছেন?

অসঙ্গতি ০৩
মুফতি হুজুর বলেছেন, ‘৩০০-৪০০ বছর আগে মানুষের ধারণাও ছিল না মাটির নিচে পানির স্তর রয়েছে; কিন্তু কোরআন ১৪০০ বছর আগে ঘোষণা দিয়েছে। ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায় তাহলে কে তোমাদের জন্য নিয়ে আসবে পানির স্রোতধারা।’ (সূরা মুলক : ৩০)। কোরআন ঘোষণা দিচ্ছে, তোমাদের নাফরমানির কারণে আল্লাহ তায়ালা যদি পানি ভূগর্ভে নিয়ে যান তাহলে কে তোমাদের জন্য স্বচ্ছ পানি নিয়ে আসবে। আলোচ্য আয়াত থেকে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য আবিষ্কার করেছেন, ভূগর্ভে পানি রয়েছে। কেননা প্রত্যেক জিনিস তার মূলের দিকে ফিরে যায়। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা ভূগর্ভে পানি নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর দ্বারা বুঝে আসে, ভূগর্ভে পানি রয়েছে।’

এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ভূগর্ভে যে পানি থাকে তা কোরআনে বলার পরেও মানুষ বোঝেনি। তারা মাত্র ৩০০-৪০০ বছর আগে টের পেয়েছে যে, মাটির নিচে পানির স্তর রয়েছে। এর চেয়ে বড় আহাম্মকি আর কি হতে পারে? আরবের মানুষরা কেবল কোরআন বা ইসলাম নয়, বাইবেলেরও আগে থেকে কূপ খনন জানে! মাটির নিচে পানি আছে না জানলে মানুষ কিভাবে কূপ খনন করত পানির জন্য? ভূগর্ভস্থ পানি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান অনেক প্রাচীন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

মুফতি মফিজ ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এর ভুল তথ্য সরবরাহ প্রশ্নে আমরা কি প্রেস বা আইসিটি অ্যাক্টে কোনো মামলা দায়ের করতে পারি? খাটি মোল্লাদের কাছে প্রশ্ন রইল, এভাবে যারা ভুল তথ্য দিয়ে কোরআনের মহানুভবত্বকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছেন, তাদের জন্য আপনারা কি আস্তিনের নিচে হাত ঢোকাবেন, নাকি শুধুই নাউজুবিল্লাহ বলে কেটে পড়বেন? মূলত মোল্লারা অধিকাংশই বিজ্ঞান ও মানুষের ইতিহাস তো দূরে থাক, তাদের ধর্ম সম্পর্কেও জানে না। আর জানে না বলেই তারা তর্কের সমাধান করতে পারে না। ফলে ক্রোধের বশবর্তী হয় এবং অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসে। এটা তাদের পরাজয়কেই চিহ্নিত করে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৫ thoughts on “দৈনিক পত্রিকার কলামে এক মুফতির মিথ্যাচার!

  1. মোল্লারা ধর্মের নামে
    মোল্লারা ধর্মের নামে মিথ্যাচার করছে অহরহ। ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষকে করছে বিভ্রান্ত। এতে ধর্মের অবমাননা হয় না? এদের বিরুদ্ধে কেন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না?

  2. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে,
    এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার কাজ হচ্ছে ধর্মপ্রচার। তার আবার নমুনা হচ্ছে এই রকম! এগুলো নিয়ে এরকম সুস্থ ভাষায় আরও সমালোচনা হলে ভালো হয়। মানুষের কাছে এভাবেই এগুলোর দুর্বলতাকে তুলে ধরাটা জরুরী।

  3. এইধরনের মোল্লাগো হো_ য় নারকেল
    এইধরনের মোল্লাগো হো_ য় নারকেল ঝারুর কাঠি [কয়েকটা একযোগে ] ঢুকায়া ভাইংগা দেওন দরকার।
    এগুলারে মুফতি না ডাইকা কুত্তি ডাকলে পারফেক্ট হয়।
    :no: :no: :no:

  4. মুফতি হুজুরের কথা শুনে আমিও
    মুফতি হুজুরের কথা শুনে আমিও ধন্ধে পড়ে গেলাম।
    আমি গোড়া না হলেও নিজেকে একজন সাচ্চা আস্তিক দাবী করি। কিন্তু মোল্লা মফিজ বা মজিদ সাহেব যে যুক্তি দাঁড় করেছেন তার সাথে আমিও একমত হতে পারিনি।

    ফেরাউনের লাশ আল্লাহ তায়ালা সংরক্ষন করে রাখবেন এই আয়াতটি অনেক খুজলাম। চোখে পড়লোনা। হয়তো আছে, আমার নজরে পড়ছেনা।
    কথা হলো আল্লাহ যদি সংরক্ষন করার কথা বলে থাকেন সেটি তিনি করছেন। তিনি নিজে তো আর সরাসরি করবেননা। মানুষকে দিয়েই করাবেন। ফেরাউনের মত আরও অনেকের দেহ এখনও পর্যন্ত মমি করা আছে বলেই জানি।

    আমি প্রতিটি বস্তু জোড়ায় জোড়ায়য় সৃষ্টি করেছি তার মানে এমন নয়যে আমি জোড়াবিহীন কোন জিনিষ সৃষ্টি করিনি। জোড়া বলতে ১+১ = ২ এটাও বোঝানো হয়নি। জোড়া মানে সঙ্গৃীকে বোঝানো হয়েছে।

    সুরা মুলকের ঐ আয়াতের তর্জমা ও তাফসীর মুফতি সাহেব নিজেই বোঝেননি। মরুর বুকে যুগ যুগ ধরে কুয়ার পানি পান করা হৃয। হযরত ইব্রাহীম এর আমল থেকে জমজম কুপের কথাও সবাই জানি।

    তাহলে এই আয়াতে ভুগর্ভস্থ পানির কথা নতুন করে বলার কি আছে। এখানে নতুন করে যেটা বলা হয়েছে, তা হলো, তোমরা মাটির ভিতর থেকে যে পানি পান করো, সেটা যদি আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হয় বা আরও গভীরে চলে যায়, তাহলে এমন কোন শক্তি আছে কি যা ঐ পানিকে আগের স্থরে ফিরিয়ে আনবে?

    আমার সংক্ষিপ্ত জ্ঞানে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। আল্লাহ সবাইকে সত্য অনুধাবনের তৌফিক দিন।

  5. ধর্মবাজদের ধর্ম ব্যবসায়
    ধর্মবাজদের ধর্ম ব্যবসায় স্পন্সরশীপের প্রয়োজন হয়। পত্রিকাঅলারা এখন সেই ধান্দায় নামসে। ৩য় সারির পত্রিকা-টিভি চ্যানেলগুলোর পেছনে এ ধরনের ধর্মবাজদের বিনিয়োগ প্রচুর। টিভি চ্যানেলগুলোতে মাঝ রাতের পর অমুক হুজুরের তদবিরে তমুক দেশের লটারিতে কোটিপতি হইসে সমুক, আল জামাল ক্যান্সার নিরাময় কেন্দ্র, মদিনাঅলা রত্ন ভান্ডার… মার্কামারা বিজ্ঞাপণ দেখা যায়। পত্রিকায়ও শুরু হইসে একই ব্যবসা। ধর্মের মতো আর কিছু নাই, যেটার মাধ্যমে মাল্টি বিজনেস করা যায়। আর মোল্লারা সেগুলার সুযোগ নিচ্ছে অহরহ।

  6. বাংলাদেশের সবগুলো গণমাধ্যম
    বাংলাদেশের সবগুলো গণমাধ্যম ধর্মব্যবসার সাথে জড়িত। এটা লাভজনক ব্যবসা। বলদ পাবলিকের মাথায় লবন রেখে বরই খেয়ে যাচ্ছে ধর্মব্যবসায়ীরা, বলদগুলাে অনুভুতি রক্ষায় জিহাদে মশগুল।

  7. কোরানে মিরাকল থাকতেও পারে,

    কোরানে মিরাকল থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। কোরানের উপরে আস্থার মূল ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস।
    কোরানের সূরা ইউনুসের ৯২ নং আয়াতে ফেরাউনের লাশ সংরক্ষন করা হবে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন–

    ৯২.) এখন তো আমি কেবল তোমার লাশটাকেই রক্ষা করবো যাতে তুমি পরবর্তীদের জন্য শিক্ষণীয় নিদর্শন হয়ে থাকো।চযদিও অনেক মানুষ এমন আছে যারা আমার নিদর্শনসমূহ থেকে উদাসীন।”

    ১৪০০ বছর পরেও ফেরাউনের লাশ সংরক্ষিত আছে, এটাই বড় মিরাকল।

    কোরানের সূরা নুরের ৪৫ ং আয়াতে বলা আছে –

    আর আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন।

    একজন নাস্তিক বন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলাম প্রত্যেক জীবের ব্যাসিক উপাদান যে পানি সেটি কোরান কিভাবে বলতে পারল?
    ঊত্তর দিতে পারে নি। পোস্টের লেখক উত্তর দিতে পারলে খুশী হতাম।

  8. দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এই
    দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এই পত্রিকার নামই আজ প্রথম শুনলাম । এই সব ভুই ফোড় পত্রিকা আর এই সব ধর্মান্ধ মুফতিরা আর কত দিন ধর্ম গ্রন্থের মাঝে বিজ্ঞান খুজে পাবে তাই দেখার অপেক্ষায় আছি ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 9 =