গলার কাঁটা ব্লাসফেমি আইনঃ প্রেক্ষিত পাকিস্থান

“আপনি যে কোন ধর্ম, বর্ন বা গোত্রের সম্প্রদায়ভুক্ত হতে পারেন, এটা রাষ্ট্রের মাথা ব্যাথার বিষয় নয়। সময়ের প্রেক্ষাপটে, হিন্দু হয়তো হিন্দু থাকবে না, মুসলমান হয়ত মুসলিম থাকবে না- এটা তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুভুতির কারনে নয়, বরং একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই তা নির্ধারন করে দেবে।” কথাগুলো পাকিস্থানের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্থানের প্রথম ন্যাশনাল এসেমব্লির বক্তৃতায় ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট বলেছিলেন। এই বক্তৃতায় রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্থানের চরিত্র কিরূপ হবে সেটার একটা ধারনা বা দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন সেই দেশের জাতির পিতা। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৬৭ বছর পর এসে পাকিস্থান রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি সারা বিশ্বের সামনে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত।

এই লেখাটা লেখার পেছনের প্রেক্ষাপট কিছুটা বলে নেওয়া সমীচীন মনে করছি। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত সমালোচিত বিষয় হচ্ছে আস্তিকতা-নাস্তিকতা। জামাতের মুখোশের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে একদল লোক হুট করেই মাঠে নেমেছে ধর্ম রক্ষার নাম করে। তাদের দাবী, যেইসব ব্লগার ধর্মকে এবং মুহাম্মদ (সঃ) কে কটাক্ষ করে ব্লগ লিখেছে বলে তারা দাবী করছে তাদের ফাঁসি দিতে হবে এবং এরই ফাঁকে তারা দাবী তুলছে পাকিস্থানের মতন এই দেশেও এন্টি-ব্লাসফেমি আইন প্রনয়ন করতে হবে। মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ এই দেশে ধর্ম এমন এক ইস্যু যেটা দিয়ে নিমিষেই একটা অঞ্চলকে কারবালায় পরিণত করা যায়। অনেকেই এর পেছনে দায়ী করেন অশিক্ষা বা কুসংস্কারকে। কিন্তু বাস্তব চিত্রও কি তাই? আমি এমন অনেক শিক্ষিত মানুষকে দেখেছি যারাও এইসকল বক্তব্যের সাথে পুরাপুরি না হলেও অনেকটাই তাল মিলাচ্ছেন। আমার ধারনা তাদের বেশীরভাগই জানেন না, ব্লাসফেমি আইন কি? কি হতে পারে এর ইফেক্ট? অথবা ভবিষ্যতের কথা বাদই দিলাম, ব্লাসফেমি আইনের জন্য খ্যাত পাকিস্থানে এই আইনের প্রভাব কিভাবে পড়ছে এটা আমরা কতটুকু জানি?

আলোচনার শুরুতেই ব্লাসফেমি এবং এন্টি-ব্লাসফেমি আইন কি সেটার একটু সংক্ষিপ্ত ধারণা নিয়ে নেই আসুন। উইকিপিডিয়ায় “ব্লাসফেমি” শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এভাবে-

Blasphemy is the act of insulting or showing contempt or lack of reverence for a religious deity or the irreverence towards religious or holy persons or things

অর্থাৎ, কোন ধর্মীয় বিশ্বাস বা কোন ধর্মে যাঁকে স্রস্টা হিসেবে বলা হয় এবং কোন ধর্মের মহান কোন ব্যক্তিকে (যেমন- নবী রাসুল, দেব দেবী ইত্যাদি) অসম্মানিত বা হেয় করার উদ্দেশ্যে কেউ কোনরূপ আচরণ বা কথা বললে সেটাকে ব্লাসফেমি বলা হয়। অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে এটার সংজ্ঞা দেখে নিতে পারেন এখানে

এটার প্রেক্ষিতে পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে ব্লাসফেমিকে একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় রেখে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, আবার কোন কোন রাষ্ট্রে কেউ ব্লাসফেমির কারনে অভিযুক্ত হয়ে অত্যাচার বা নিপীড়নের বা প্রাণ সংশয়ের সম্মুখীন হলে তাকে রক্ষায় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের কাছে এটাকে একজন ব্যক্তির বাক-স্বাধীনতার অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন কোন দেশে ব্লাসফেমিকে একটি অপরাধ এবং কোন কোন দেশে এটাকে ব্যক্তি স্বাধীনতার পর্যায়ে স্থান দেওয়া হয়েছে সেটার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে। কারো আগ্রহ থাকলে এখান থেকে দেখে নিতে পারেন।

প্রেক্ষাপট বুঝার সুবিধার্থে এখানে বাংলাদেশ এবং পাকিস্থানের এই সংক্রান্ত আইন নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করছি।
বাংলাদেশ পেনাল কোড(১৮৬০) সেকশন 295A অনুযায়ী-

Under Section 295A of Bangladesh’s Penal Code (1860), any person who has a “deliberate” or “malicious” intention of “hurting religious sentiments” is liable to imprisonment

এই আইনের বিস্তারিত বর্ননায় এসেছে- কোন ব্যক্তি বা সংগঠন যদি কোন অসৎ উদ্দেশ্যে বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে যে কোন ধর্মীয় নেতা বা ধর্মকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কোন কথা বলে, কোন প্রকাশনা প্রকাশ করে তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশে যে সংবিধান প্রণীত হয় সেখানে বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে সংবিধায়িত করে। যদিও পরবর্তিতে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম থাকবে বলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে। এমনকি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সর্বশেষ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পরিচয় ধর্মনিরপেক্ষ রাখলেও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম রেখে বিষয়টাকে ধোঁয়াশার মাঝেই রেখে দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ব্লাসফেমি অপরাধের দায়ে দায়ের করা আইনি প্রক্রিয়া আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এর মধ্যে লেখিকা তসলিমা নাসরিন এবং কার্টুনিস্ট আরিফের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা উল্লেখযোগ্য। আর বিস্তারিত জানতে এই লিংকে দেখতে পারেন।

পাকিস্থান পেনাল কোড অনুযায়ী ব্লাসফেমি একটি কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাকিস্থানের এন্টি-ব্লাসফেমি আইনে বলা হয়েছে-

পাকিস্থান পেনাল কোড চ্যাপ্টার XV (সেকশন ২৯৫- ২৯৮C) তে বলা হয়েছে-

295- কোন ধর্মকে হেয় প্রতিপন্য করার লক্ষ্যে কোন ধর্মীয় উপাসনালয় আক্রমণ করা বা হেয় করা
295-A- কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বা তাদের বিশ্বাসকে আঘাত করা বা অপমান করার জন্য কোন কিছু বলা বা করা
295-B- কোন ধর্মগ্রন্থের অপমান, যেমন কুরআন
295-C- মহানবী সঃ সম্পর্কে অপমানসূচক বা ঘৃন্য বক্তব্য দেওয়া
296- কোন ধর্মীয় সমাবেশে বাঁধা সৃষ্টি করা
297- কোন ধর্মীয় কবরস্থানে বে-আইনী অনুপ্রবেশ করা
298- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কোন কথা বলা
298-A- কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ত্বকে অপমানসূচক কোন উপাধি দেওয়া
298-B- কোন ধর্মীয় ব্যক্তি বা স্থান সম্পর্কে প্রচলিত সম্মানিত বিশ্বাসের অপব্যবহার করা বা হেয় করা
298-C- আহমদিয়া/কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের কেউ যদি নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয় অথবা তার ধর্ম প্রচার করে

আইনের এই ধারাগুলোতে এই ধরনের কর্মকান্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। শাস্তির পরিমান যাবজ্জীবণ কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। সবচেয়ে লক্ষ্য করার মতো বিষয় হচ্ছে, পাকিস্থান পেনাল কোডের কোথাও “ব্লাসফেমির” সংজ্ঞা নির্ধারন করা হয়নি। পাকিস্থানের ব্লাসফেমি আইনের এই রুপরেখা দেওয়া হয় মূলত জেনারেল জিয়া-উল হকের শাসনামলে। জেনারেল জিয়ার প্রণীত আইনের ফাঁক ফোকর গলেই পাকিস্থানে বছরের পর বছর ধরে এই আইনের অপব্যবহার হয়ে আসছে যা পরবর্তিতে আলোচনায় তুলে আনার চেষ্টা করব। এখানে উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় জামাতের আমীর মতিউর রহমান নিজামি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশেও পাকিস্থানের মতন একইরকম এন্টি-ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেয় নির্বাচনী ইস্তেহারে। এর আগে ১৯৯৩ সালে পার্লামেন্টে নিজামি পাকিস্থানী মডেলে একটি “ব্লাসফেমি বিল” পেশ করে, যেখানে পাকিস্থানি পেনাল কোডের 295B অনুযায়ী কোরআন অবমাননার অপরাধে যাবজ্জীবণ কারাদণ্ড এবং 295C অনুযায়ী মোহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি অবমাননার অপরাধে “মৃত্যুদণ্ডের” বিধান প্রস্তাব করা হয়। যা ধোপে টেকেনি।

এখন আসি মূল প্রসঙ্গে যেই আলোচনার জন্য এই লেখার অবতারণা। পাকিস্থান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই এই ব্লাসফেমি আইন নিয়ে চলেছে নানা ধরনের অপ তৎপরতা। বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে, পাকিস্থানে ব্লাসফেমি আইনের দ্বারা হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে মূলত ক্রিশ্চিয়ান, হিন্দু এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মতন সংখ্যা লঘুরা। এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও এই ধরনের ঘটনার স্বীকার হয় বলে দেখা গেছে। ২০১২ সালের একটি ঘটনা এখানে উল্লেখযোগ্য। ১১ বছরের একজন বালিকাকে আটক করা হয় ব্লাসফেমি অপরাধে। তার অপরাধ, সে নূরানি কায়দায় পাতা পুড়িয়ে ফেলেছিল। আসলে মূলত সেই বালিকা ছিল একজন মানসিক প্রতিবন্ধী এবং ডাউন সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত। সবচে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই অপরাধে মেয়েটির পরিবারসহ পুরো ক্রিশ্চিয়ান কমিউনিটির উপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। তাদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়।

পাকিস্থানে প্রতিবছর ব্লাসফেমি আইনে ১৫-২০ টির মতন ঘটনা আদালতে ওঠে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিচার শেষ হওয়ার আগেই আটক ব্যক্তিকে আইন হাতে তুলে নিয়ে উগ্রপন্থীরা হত্যা করেছে। এমনকি বিচারে প্রাপ্ত সাজা ভোগ করে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও মেলেনা রেহাই। ২০১২ সালে উত্তর পাঞ্জাবে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কুরআনের পাতা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলেছে এই অভিযোগে গ্রেফতার হলে শতশত উগ্র জনতা পুলিশি হেফাজত থেকে তাকে কেড়ে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলে। মেরে ফেলেই ক্ষ্যান্ত হয়নি তার মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে তারা। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রোফেসর ইজাজ আকরামের ভাষ্যমতে, “বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় এইসব মানুষ প্রকৃতই কি ঘটেছে সেটা না জেনে বা সঠিক ঘটনা না শুনেই কারো উস্কানিতে এরকম আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এই ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। মব সাইকোলজি, এখানে একজন কারো উস্কানিতেই উত্তেজিত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, সেখানে নিজের বিচার বিবেচনা কেউ খাটানোর কথা চিন্তাও করে না।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকার ভাষ্যমতে ১৯৯০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এরকম ৩৪টি বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাকিস্থানে ঘটেছে বলে জানা যায়। এদের মধ্যে ১৫ জন মুসলিম, ১৬ জন ক্রিশ্চিয়ান, ২ জন আহমদিয়া এবং একজন হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদেরকে হয় বিচার বহির্ভুতভাবে হত্যা করা হয়েছে, অথবা কারাগারে রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে ৩১টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে পাঞ্জাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক যায়েদ হামিদের ভাষ্যে, “কেউ ব্লাসফেমি আইনটি পড়ে বা বুঝে দেখার চেষ্টা পর্যন্ত করে না, কেউ অনুধাবন করার চেষ্টা করে না আইনের কোন ধারাটি কখন কেন যোগ করা হয়েছিলো। এটা এখন পাকিস্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর একটা অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

উপরে উল্লেখিত ঘটনার মতন অনেক বিচার বহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাকিস্থানে ঘটেছে বিগত কয়েক দশক ধরে। ১৯৯১ সালে চাঁদ বারকত নামের একজন ব্যবসায়ীকে তাঁরই ব্যবসায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী ফাঁসিয়ে দেয় ব্লাসফেমি আইনে। অন্তত ১৫ জন সাক্ষী কোর্টে সাক্ষ্য দেয় যে বারাকাত নিরাপরাধ। কোর্ট অবশেষে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু বারাকাত তার প্রতিবেশী মুসলমানদের হত্যার হুমকির মুখে করাচী ছেঁড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
নিউজলাইন পত্রিকার আরেকটি রিপোর্টে উঠে আসে, ফায়সালাবাদে গুল মাসিহ নামক একজনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবেশী অভিযোগ আনে গুল মুহাম্মদ সঃ এবং উনার স্ত্রীদের নিয়ে কটূক্তি করেছে। গুলের সাথে তার প্রতিবেশীর ব্যক্তিগত রেষারেষি ছিল রাস্তার পাশের একটা পানির ট্যাপ মেরামত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে গুল এবং তার ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কোর্টে তিনজন সাক্ষীর মধ্যে মূল অভিযোগকারী ব্যতিত বাকী দুই সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় গুলের পরিবার এমন কোন কিছু করেনি। কিন্তু বিচারক গুলের ভাইকে অব্যহতি দিলেও গুল মাসিহকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এটা ছিল পাকিস্থানে ব্লাসফেমি আইনে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রথম নজির। এখানে রায় ঘোষণায় বিচারকের যুক্তি চূড়ান্ত রকম হঠকারী এবং হাস্যকর। বিচারক তালিব হোসেন বেলুচ রায়ে তার যুক্তির পক্ষে বলেন, “যেহেতু অভিযোগকারী সাজ্জাদ হোসেন একজন ২১ বছর বয়স্ক বিএ পাশ শিক্ষিত প্রকৃত মুসলিম যুবক যার মুখে দাড়ি আছে, এবং দেখতেও ভদ্র, সুতরাং তাকে অবিশ্বাস করার কিছু নেই।” গুলের অব্যহতি প্রাপ্ত ভাই পরবর্তিতে তার এলাকার কোথাও কোন চাকরী বা কাজ পায়নি। গুল মাসিহ পরবর্তিতে উচ্চ আদালত থেকে রেহাই পেলেও অব্যাহত হুমকির মুখে দেশ ছেঁড়ে জার্মানিতে আশ্রয় নিয়ে বাধ্য হয় এবং জেলে থাকাকালীন সময়ে তার উপরে অমানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

১৯৯৪ সালে হাফিজ ফারুক সাজ্জাদ নামক একজনকে পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। অভিযোগ ছিল তার ঘরে কুরআন আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকে প্রচার করা হয় একজন ক্রিশ্চিয়ান কুরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেলেছে। উত্তেজিত জনতা সাজ্জাদের বাড়ির সামনে একত্রিত হয় সাজ্জাদকে গণপিটুনি দেওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ এসে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেলেও রেহাই পায়নি সে। থানায় গিয়ে জনতা তাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলে তার মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

১৯৯৬ সালে আইয়ুব মাসিহ নামক একজনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবেশী ব্লাসফেমির অভিযোগ আনে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সে তার প্রতিবেশীর সাথে কথোপকথনের সময় বলেছিল, ক্রিশ্চিয়ানিটি ইসলাম ধর্মের চেয়ে ভালো এবং সে সালমান রুশদির বই পড়ার কথা বলেছিল। কিন্তু মাসিহ তার সাক্ষ্যে বলে মূলত তার বাড়িঘর এবং সম্পত্তি দখল করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে বিচার চলাকালীন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়া হলেও সে অল্পের জন্য বেঁচে যায়। ১৯৯৮ সালে কোর্ট আইয়ুব মাসিহকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। পরবর্তিতে তার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে বিশপ জন জোসেফ আত্মহত্যা করলে তার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়। ২০০২ সালে মাসিহ নির্দোষ প্রমাণিত হলে কোর্ট তাকে বেকসুর খালাস দেয়। কিন্তু এরইমাঝে তছনছ হয়ে যায় আইয়ুব মাসিহ’র জীবন ও তার পরিবার।

২০০২ সালে ইউনুস শেখ নামক একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমির অভিযোগ আনা হয়। তার ছাত্ররা অভিযোগ করে, ইউনুস ক্লাসে লেকচার দেওয়ার সময় বলেছে- মুহাম্মদ সঃ ৪০ বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত মুসলিম ছিলেন না। ওহী প্রাপ্তির পরই তিনি মুসলিম। কোর্ট ইউসুফকে ১ লক্ষ রুপি জরিমানা এবং মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তিতে ইউনুস উচ্চ আদালতে আপীল করে নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং ২০০৩ সালে ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে দেশ ছাড়েন।
২০০২ সালে ৫৫ বছর বয়স্ক মুসলিম মুহাম্মদ ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তার আগেই তাকে সিপাহ-ই-সাহাবা নামক এক জঙ্গি গ্রুপের সদস্য জেলের মধ্যেই গুলি করে হত্যা করে। ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সে ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে কথা বলত। তার বিরুদ্ধে কেস করেছিলো একটি উগ্রপন্থী ধর্মীয় দল যাদের কাছে তার মতামত পছন্দ হয়নি।

এরকম অসংখ্য নজির আছে পাকিস্থানে যেখানে শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগের উপর ভিত্তি করে অনেকের বিরুদ্ধে ব্লাসফেমি আইনে কেস করা হয়েছে, যাদের অনেককেই বিচার বহির্ভুতভাবে হত্যা করা হয়েছে বা দেশ ছাড়তে তারা বাধ্য হয়েছে।

সাম্প্রতিক জানুয়ারি ২০১১ সালে পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসির তার দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন, কারন তিনি ব্লাসফেমি আইনের সমালোচনা করেছিলেন।
?v=2″ width=”400″ />
এরই কিছুদিন পর মার্চ ২০১১ ফেডারেল মিনিস্টার ফর মাইনরিটি এফেয়ার্স শাহবাজ ভাট্টিকে হত্যা করা হয় একই অভিযোগে।

ব্লাসফেমি আইন এইভাবেই অপব্যবহৃত হচ্ছে পাকিস্থানে। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন এখন পাকিস্থানে ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে। পাকিস্থানি আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীর বলেন, ” যখনই কেউ ব্লাসফেমির মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত বা গ্রেফতার হচ্ছে বা সাজাপ্রাপ্ত হচ্ছে আমরা কেউ কিছুই বলছি না। আমার উপরেও দুইবার আক্রমণ করা হয়েছে। আমরা কেউই নিরাপদ না। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমি সন্দিহান, এই আইন কখনই নিষিদ্ধ করা হবে না। এমনকি নিষিদ্ধের দাবী বা এই আইনের সমালোচনাও করতে পারবেন না কেউ। কেউ এই ব্যাপারে মুখ খুলতে সাহস করেন না বলে কাউকে আমি দোষ দেই না। নিজের প্রাণের মায়া সবারই আছে।”

এভাবেই পাকিস্থানের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে ব্লাসফেমি আইন। ব্যক্তিগত রেষারেষি থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারনে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয় ব্লাসফেমি আইনে। মুসলিম, অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই হচ্ছে এর স্বীকার। এমনকি ব্লাসফেমি আইনের সমালোচনা বা নিষিদ্ধের দাবীতে কথা বলার কারনে হত্যা করা হয়েছে একজন গভর্নর এবং একজন মন্ত্রীকে। মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীরের ভাষ্যেই উঠে এসেছে কতোটা অসহায় তারা পাকিস্থানের জঙ্গি দলগুলোর কাছে।

বাংলাদেশেও আজকে ২০১৩ সালে এসে ঠিক একই চিত্রের পূর্বাভাস দেখতে পাচ্ছি আমরা জামাতের ব্যাকিং নিয়ে চলা হেফাজতে ইসলাম নামক দলগুলোর কর্মকান্ডে। আমরা যদি এখনই এদের রুখতে না পারি তাহলে ঠিক পাকিস্থানের মতোই একটা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তৈরি হবে বাংলাদেশের মাটিতে।

তথ্যসূত্রঃ
উইকিপিডিয়া
আল-জাজিরা রিপোর্ট
দ্যা ডন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫৩ thoughts on “গলার কাঁটা ব্লাসফেমি আইনঃ প্রেক্ষিত পাকিস্থান

  1. ২০০৭ সালে নির্বাচনী প্রচারণায়

    ২০০৭ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় জামাতের আমীর মতিউর রহমান নিজামি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশেও পাকিস্থানের মতন একইরকম এন্টি-ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নের ঘোষণা দেয় নির্বাচনী ইস্তেহারে।

    তারপরেও তারা বলবে তারা এই দেশের স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের মান রাখবে। তাদের এইসকল কথাবার্তায় মাঝে মাঝে নিজেকেই খুন করে ফেলতে মন চায়।

    ২০১২ সালের একটি ঘটনা এখানে উল্লেখযোগ্য। ১১ বছরের একজন বালিকাকে আটক করা হয় ব্লাসফেমি অপরাধে। তার অপরাধ, সে নূরানি কায়দায় পাতা পুড়িয়ে ফেলেছিল। আসলে মূলত সেই বালিকা ছিল একজন মানসিক প্রতিবন্ধী এবং ডাউন সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত। সবচে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই অপরাধে মেয়েটির পরিবারসহ পুরো ক্রিশ্চিয়ান কমিউনিটির উপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। তাদের একালা থেকে বিতাড়িত করা হয়।

    ২০১২ সালে উত্তর পাঞ্জাবে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কুরআনের পাতা রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলেছে এই অভিযোগে গ্রেফতার হলে শতশত উগ্র জনতা পুলিশি হেফাজত থেকে তাকে কেড়ে এনে পিটিয়ে মেরে ফেলে। মেরে ফেলেই ক্ষ্যান্ত হয়নি তার মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে তারা।

    দেশে এখনো চালু হয় নাই তার আগেই রামুতে কান্ড ঘটাইছে, চুইদীরে চান্দে দেহা গেছে কেনু তাই তারা তান্ডব চালাইসে। আইন করলে কি হইবো ভাবতেই তো প্যান্ট ভিজতাছে।

    ১৯৭১ এ সংগ্রাম ছিলো পাকিস্তানি শোষন থেকে মুক্তি। সেই শোষণের মাঝেও ছিলো ধর্মের নামে অত্যাচার। সেইসব অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা এসেছিল আজ ২০১৩ সালে এসে আমরা অনলাইন এক্টিভিস্ট সহ ব্লগারদের দিয়ে শুরু হচ্ছে “বেবি- ব্লাসফেমি” টাইপ আইন। এখানেও দেখা যাচ্ছে এক কোটি টাকা জরিমানা সহ যাবজ্জীবন কিনবা মৃত্যুদন্ড বিধান রয়েছে। তাহলে কি আমরা আবারো ১৯৭১ দেখতে যাচ্ছি? এই আইন এখন যদি চালু হয় ধীরে ধীরে সেটি চরম আকার রুপ নেবে এবং শুরু হবে তান্ডব। আর এরই ফায়দা নিয়ে সন্ত্রাস দমনে চলে আসবে ন্যাটো ভাইজানেরা। কেউ যদি নিজের ভালো নিজে না বুঝে তাইলে কি আর বলা?

    পোস্টখানা স্টিকি করবার দাবী জানাইয়া গেলাম।

    1. এটা হেলাফেলার পর্যায়ে নাই আর।
      এটা হেলাফেলার পর্যায়ে নাই আর। মোল্লাদের মুখ চেপে ধরতে না পারলে পাকিস্থানের পরিনতিই বরণ করে নিতে হবে। আইন করে শ্রদ্ধাবোধ আনা যায় না। সেটা আসতে হবে মন থেকে। ইসলাম ধর্ম নিয়ে আমার যতটুকু পড়াশুনা সেটাও এই কথাই বলে। নবীর জীবনী পাঠ করলেও এটাই দেখবেন। উনার জীবদ্দশায় কেউ উনাকে গালি দিলে উনি কিভাবে সেটা ফেস করেছেন, কিভাবে রিয়াক্ট করেছেন সেটা লক্ষ্য করলেই এটা পরিষ্কার হয়। এই রেফারেন্স টেনে আমি নবীকে হেয় করাকে জায়েজ করছি না। সত্য উপলব্ধি করার অনুরোধ জানাচ্ছি। ধর্ম এমনই এক জিনিস, যেটার অপব্যবহার হয়েছে সবচেয়ে বেশী। এটা রুখার দায়িত্বও যে ধার্মিক তার উপর। সারাদিন আল্লাহ আল্লাহ করবে, অথচ আল্লাহ’র বিচার পদ্ধতি কি সেটা অনুধাবন করার চেষ্টা এরা করবে না।

  2. পোস্টটি অত্যন্ত সময়পোযোগি।
    পোস্টটি অত্যন্ত সময়পোযোগি। প্রত্যেক ব্লগার এবং দেশের সকল সুনাগরিকের পোস্ট পড়া উচিত। আমরা প্রিয় মাতৃভূমিকে পাকিস্তানের মত দেখতে চাইনা । আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া প্রিয় মাতৃভূমি সোনার বাংলাদেশ দেখতে চাই………

    1. পোস্টটি লেখার পেছনে আমার
      পোস্টটি লেখার পেছনে আমার ভূমিকা আসলে কম। বেশীর ভাগ তথ্য বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে নেওয়া। তাই নিজের লেখা বলে বলছি না, গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি নাগরিকের উচিৎ এই সম্পর্কে জানা ও সচেতন হওয়া।

      1. একটু বেশি বিনয় হয়ে গেল ।
        একটু বেশি বিনয় হয়ে গেল । আপনার যেটুকু না তাতো তথ্য সুত্র থেকেই বুঝতে পারছি । কিন্তু জনাব কতটুকু আপনি রাখবেন আর কতটুকু আপাতত বাদ দেবেন এসব তো আপনার সিদ্ধান্ত ছিল তাই না ? অনেক ভালো লেখা এবং সময়োপযোগী লেখা ।

  3. একপ্রকার শুরুই হয়ে গেছে
    একপ্রকার শুরুই হয়ে গেছে ব্লাসফেমি আইন প্রনয়ন। তবে আমরা পাকিদের মত না। আমরা বাঙালি। এটাকে রুখতেই হবে। ফেসবুক, ব্লগ সবখানেই প্রচারনা চালাতে হবে। শেয়ার দিলাম। সবাইকে শেয়ার করার অনুরোধ করছি।

  4. সময়োপযগী এবং গুরুত্বপূর্ণ
    সময়োপযগী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট। ধর্ম কিংবা প্রেরিত পুরুষদের সম্মান যদি ভীতি এবং সহিংসতা দিয়া রক্ষা করতে হয়, তবে সে ভীতি এবং সহিংসতা উৎসরিত ঘৃণা একদিন ধর্মকেও গ্রাস করতে পারে।

  5. সভ্যতার চাকা কি উল্টো ঘুরছে?
    সভ্যতার চাকা কি উল্টো ঘুরছে? ধর্ম নিয়ে বিদ্রুপ করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড? এতো স্রেফ মধ্যযুগীয় বর্বরতা!!!

  6. একটা নির্ভরযোগ্য সোর্সের
    একটা নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারলাম বিএনপি-জামায়াতের গত টার্মে জামায়াত বিএনপি’র উপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিল বাংলাদেশে ব্লাসফেমী আইন ও সংবিধানিকভাবে শরীয়া কাউন্সিল করার জন্য। কিন্তু বিএনপি জনরোষের কথা চিন্তা করে সেই পথে আগায়নি। আজকের দিনে খালেদা জিয়াকে জামায়াত বুঝাইতে সক্ষম হয়েছে ব্লাসফেমী আইন না হওয়াতে বিএনপি-জামায়াত রাজনীতিতে ধরা খাচ্ছে। সেই দিন যদি এই আইন বাস্তবায়ন করা যেত অনলাইনকে ইচ্ছে মত সাইজ করা যেত। জানতে পারলাম, এইবার ক্ষমতায় আসলে খালেদা ম্যাডাম ব্লাসফেমী আইন বাস্তবায়ন করার জন্য জামায়াতের কাছে কসম কেটেছে। শুধু শেষ সুযোগটা আসার প্রত্যাশায় আছেন ম্যাডাম আর জামায়াত।

    কি এই ব্লাসফেমী আইন? এই আইনের চর্চা যেখানে হয় সেখানের পরিস্থিতি এবং এই আইন আমাদের দেশে বাস্তবায়ন হলে আমরা কিভাবে হেসেখেলে বেহেস্তে চলে যাব ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে লেখাটি পড়তে পারেন। ব্লাসফেমী সম্পর্কে আমাদের সবার জানা উচিত। ভবিষ্যতে আমরা এই আইন চর্চা যেহেতু করব, তার প্রয়োগের সুফলগুলো জেনে নেওয়া এখন আমাদের ইমানী দায়িত্ব।

    চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ পোস্টটির জন্য আতিককে ধন্যবাদ। শেয়ার দিলাম সব জায়গায়।

  7. আজ জুজুর ভয়ে ভীত সবাই। আসলে
    আজ জুজুর ভয়ে ভীত সবাই। আসলে কি তাই?

    সুবিধভুগী দলগুলা আজ নাস্তিক প্রতিরোধ আর নিধনের যে দাবী নিয়ে আন্দোলন করছে তাতে আপামর জনতার কোন অংশগ্রহন তো দূরে থাকে কোন ভাবনাই নেই। জনতার দরকার ভাত, জাত নিয়ে চিন্তা নেই।

    কিন্তু মজার বিষয় হল মুক্তচিন্তকেরা এই জুজুর ভয়ে গর্তে প্রায়।

    বলি কি এখনই সময় ভন্ডামী রুখে দেয়ার। সরাসরি নাস্তিক ব্যনারে আন্দোলনে যাওয়ার এর চেয়ে মুক্ষম সময় আর আসবেনা।

    1. জনতার দরকার ভাত, জাত নিয়ে

      জনতার দরকার ভাত, জাত নিয়ে চিন্তা নেই।

      কোন ডিলিঊশনাল জগতে আছেন – জনতার ভাত আছে (যদিও আর অনেক কিছুই নাই),আর জাত নিয়া যে চিন্তাও আছে – নাইলে শাহবাগে মানুষ নাই, আর চর মোনাইর মিটিং এ মানুষের ঢল দেইখাও বোঝেন না? না জাইগা ঘুমান? আপনার কি ধারনা সরাসরি নাস্তিক ব্যানারে আন্দোলনে নাইমা গেলেই বাংলাদেশের সাধারন মানুষ কোটিতে কোটিতে আপনাদের পিছনে খাড়া হইয়া যাইবো, না কোটিতে কোটিতে ব্লাসফেমি আইন দাবি করবো?

      আপনি মনে হয় সত্যি সত্যি ব্লাসফেমি আইন আনতে চান, তাইলে সরাসরি নাস্তিক ব্যনারে আন্দোলনে নাইমা পড়েন।

      ভাইরে ব্লগ আর ফেসবুকরে বিশাল বাংলা ভাইবা শাহবাগ শেষ করছেন, এহন আমাগো ব্লাসফেমী আইনের জাতাকলে না ফালাইয়া আপনার শান্তি নাই মনে হয়।

  8. বাক স্বাধীনতা বিশ্বজনীন
    বাক স্বাধীনতা বিশ্বজনীন স্বীকৃত স্বাধীনতা। আমাদের সংবিধানেও এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আছে। তবে বিপত্তি বাঁধে যখন এই স্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে বক্তা সমাজকে আহত করে। মিল’এর harm থিওরী অনুযায়ী সমাজ বা সংখ্যাগুরু ততক্ষন পর্যন্ত্য ব্যক্তিস্বাধীনতায় বাধা দেবেনা যতক্ষন না তার কাজ অন্যকে আহত করে। a person can basically do anything he wishes, as long as his actions do not harm other (John Stuart Mill) http://suite101.com/article/john-sturat-mills-harm-principle-a224793. কোন সমাজ, আমার কি কাজে আহত হবে তা সেই সমাজের নিজস্ব চরিত্রের উপর নির্ভর করে। আমি যদি ধর্ম পালন করতে না চাই তবে কারো কিছু বলার নেই, তবে আমি ধর্ম করিনা, কারণ ধর্মের বা ধর্মগুরুর এই এই দিক খারাপ বলে নিজেকে উন্নত আর অন্যকে নত করা অন্যায়। কারো কারো অতি উৎসাহ আর অন্যকে আহত করার প্রবণতার সুযোগ ধর্ম ব্যবসায়ীরা নিতে পারে যেমনটা আতিক ভাইয়ের পাকিস্থানের প্রেক্ষাপটে দেখানো দৃষ্টান্ত আর দুলাল ভাইয়ের দেয়া খবরটা থেকে পরিষ্কার। সুতরাং আমরা যারা সত্যিই শান্তিতে প্রগতিতে বাস করতে চাই তাদের উচিত জামাত-হেফাজতের মত দলগুলোকে ‘ব্লাসফেমী আইন’এর দাবী করার সুযোগ না দেয়া। মনে রাখতে হবে যে ধর্মের কারণে অন্যকে মারতে যায় আর যে অন্যের ধর্ম বিশ্বাসকে আঘাত করে দুজনেই নোংরা ফায়দা লাভের আশায় তা করে, তাই একজনকে জঙ্গীবাদী আর অন্যজনকে প্রগতিবাদী বললে প্রকৃত প্রগতিবাদীদেরই অপমান করা হয়। ‘ব্লাসফেমী আইন’ কখনই সমর্থন করিনা; বাংলাদেশের মানুষকে যতই চেষ্টা করুক পাকিস্থানী বানানো যাবেনা। তবে আমরা যারা দেশকে ভালবাসী তাদের অবশ্যি সতর্ক থাকতে হবে।
    দৃষ্টান্তসহ সুন্দর একটা সময়োপযোগী লেখা দেয়ার জন্য আতিক ভাইকে ধন্যবাদ। পোষ্টটা স্টিকি করার জন্য ‘ইষ্টিষন’কেও ধন্যবাদ।

    1. একজনকে জঙ্গীবাদী আর অন্যজনকে

      একজনকে জঙ্গীবাদী আর অন্যজনকে প্রগতিবাদী বললে প্রকৃত প্রগতিবাদীদেরই অপমান করা হয়।

      — আপনার এই কথাটা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম । কেউ জঙ্গি এক্তিভি টি কোরলে তাকে তা বলা যাবেনা ?

  9. মন্তব্যটা অসমাপ্ত মনে হওয়ায়
    মন্তব্যটা অসমাপ্ত মনে হওয়ায় আবার লিখছি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর দাবীতে আমাদের যে আন্দোলন তাতে কেউই ইসলামকে অবমাননা করে কিছু বলেনি এটা নিশ্চিত। জামাত-শিবির-হেফাজতিরা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভুতির সুযোগ নিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষকে মিথ্যাচারের মাধ্যমে ইসলাম অবমাননা’র ভুয়া অভিযোগ তুলে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। পাকিস্থানের উদাহরণ তাই খুবই প্রাসঙ্গিক। কাউকে ফাঁসানোর জন্য ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মৃত্যুদন্ড আর পুড়িয়ে মানার মধ্যযুগে নেয়ার পায়তারা মেনে নেয়া যায় না। আমার পুর্বোক্ত আলোচনা সবাইকে সাবধান করার জন্য বলা। ধর্মকে রাজনীতিতে এনে বাংলাদেশকে পাকিস্থান বানানোর জামাতীয় পায়তারার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার।

  10. আমাদের ধর্ম পালনের যথেষ্ট
    আমাদের ধর্ম পালনের যথেষ্ট স্বাধীনতা আছে। আমাদের দেশে ব্লাসফেমি আইনের কোন প্রয়োজন নাই। আমরা চাই বাক স্বাধীনতা। আমরা চাই নাগরিক নিরাপত্তা। আমরা চাই সহিংসতা মুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি।

  11. ধন্যবাদ ডাক্তার!! সময়োপযোগী
    ধন্যবাদ ডাক্তার!! সময়োপযোগী লেখা এবং একশ ভাগ সহমত আপনার সাথে!! :বুখেআয়বাবুল: :থাম্বসআপ:

  12. বহুল তথ্যপূর্ণ এবং চমৎকার
    :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    বহুল তথ্যপূর্ণ এবং চমৎকার একটি সময়োপযোগী পোস্ট, অনেককিছু জানলাম। আতিক সাহেবকে ধন্যবাদ না-দিলে বড্ড অন্যায় হয়ে যায়।

  13. পাকিস্তান থেকে আমরা এখনো
    পাকিস্তান থেকে আমরা এখনো শিক্ষা নেইনি।
    বাংলাদেশে ব্লাসফেমী আইন চালু হয়ে গেছে। এ জন্যই কি আমরা মুক্তিযুদ্ধের দল আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় এনেছিলাম। এই দল ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে জায়গা করে নিবে। আওয়ামীলিগ মুরদাবাদ, শেখ হাসিনা নিপাত যাক।

  14. সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্যের
    সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আমার আশংকাই সত্য হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। হেফাজতের দফা সম্বলিত যেই দাবীগুলো পেশ করেছে সরকারের কাছে, তার সাথে পাকিস্থানের ব্লাসফেমি আইনের ধারাগুলোর পয়েন্ট বাই পয়েন্ট কি দারুন মিল আছে কেউ কি লক্ষ্য করে দেখেছেন? না দেখলে আবার দেখে আসুন।

  15. যারা আমাদের ধর্ম নিয়ে খারাপ
    যারা আমাদের ধর্ম নিয়ে খারাপ কথা বলবে তাদের বিচার হবে । তেমনি হিন্দুদেরকে অবমাননার দায়ে জামাতীদেরও বিচার হতে হবে । এটা তো মগের মুল্লুক নয় যে আমার আল্লাহ’কে নিয়ে, নবীকে নিয়ে অশালীন কথা কেউ বলবে । তার অবশ্যই বিচার হতে হবে । সে যে ই হোক নাস্তিক আর কাফির…

    1. এখানে প্রসংগ আসছে পাকিস্থানের
      এখানে প্রসংগ আসছে পাকিস্থানের মতন ব্লাসফেমি আইন আমরাও গলার কাঁটা হিসেবে মেনে নেবো কিনা। উপরের লেখা পড়ার পরও যদি কারো চোখ না খোলে তাইলে অপেক্ষা করেন বাঁশ খাওয়ার জন্য। হেফাজতের তের দফা মন দিয়ে পড়ছেন তো পাগল সাহেব?

    1. এত্ত গরু খুঁজে আই মিন গবেষণা
      এত্ত গরু খুঁজে আই মিন গবেষণা করে লেখা পোস্টে কমেন্ট করার সাহস পাই না।

      বাই দ্য ওয়ে, আমি “ভাই”।

      1. আপনি যেইরকম উঁচু মানের গল্প
        আপনি যেইরকম উঁচু মানের গল্প লেখেন সেখানে সাহস করে মন্তব্য দিয়া দেই, আর আপনি এই পোস্টে মন্তব্য দিতে সাহস পান না? :/

  16. আপনার সব পোস্ট ই খুব এ গবেষণা
    আপনার সব পোস্ট ই খুব এ গবেষণা ধর্মী । hats off to you bro 🙂 🙂 :bow: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  17. খুবই তথ্যবহুল এবং সময় উপযোগী
    খুবই তথ্যবহুল এবং সময় উপযোগী লেখা ।

    ব্লাসফেমি এমন না যে কেউ এর থেকে কিছু ভাল অংশ নিল…কেউ খারাপ ।
    এই আইন বৃবহৃত হচ্ছে অন্য ধর্ম বা নিজ ধর্মেরও লোকদেরকে দমন করার জন্য ।
    কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষই ব্লাসফেমি আইনকে সমর্থন করতে পারে না ।

    “ধর্ম যার যার, রাষ্ট সবার ।”
    ভালো লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ

  18. ৫৭ ধারার এই অপপ্রয়োগ দেখে আমি
    ৫৭ ধারার এই অপপ্রয়োগ দেখে আমি শঙ্কিত। আমরা কি পাকিস্থানের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম না রাহীর ঘটনার মধ্য দিয়ে? হায়রে স্বদেশ………

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 47 = 56