আমি আমার নাগরিকত্ব বাতিল করতে চাই, যদি…

এই লেখাটা লেখার জন্য অনেকেই আমার বিরাগভাজন হবেন জানি। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। যেটা সত্যি সেটাকে সত্যি বলার শিক্ষাই ছোট বেলা থেকে পেয়ে এসেছি। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবী নিয়ে ব্লগাররা আন্দোলন শুরু করার পর পরই যখন দেশের আপামর জনসাধারণ সেই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করল, শাহবাগ যখন জাতির চেতনার মঞ্চ হয়ে উঠল, ঠিক তখনই ৪২ বছর ধরে পুষে রাখা একটা কালসাপ, জামাত তার স্বরূপে আবির্ভুত হোল। এদেশের ধর্মভীরু মানুষের অনুভূতিকে পুঁজি করে শুরু হোল ধর্মের নাম নিয়ে রক্তের হোলি খেলা। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের নোংরা খেলার অংশ হিসেবে বিএনপি এবং তার সমর্থকেরা শক্তি আর সাহস যোগাল জামাতকে। দেশব্যাপী নতুন এক জুজু পয়দা হোল- নাস্তিকতা। যেন হুট করে এই ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এদেশে নাস্তিক নামের নতুন একটা জাত জন্ম নিল। নাস্তিকদের শায়েস্তা করার নাম নিয়ে এরা আসলে মাঠে নামল কিছু জানোয়ার যুদ্ধাপরাধীর বিচার থামানোর মিশন নিয়ে।

এরই ধারাবাহিকতায়, হেফাজতে ইসলাম নাম নিয়ে জামাতেরই একটা অংশ মাঠ গরম করার চেষ্টা করল, আর অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে আমরা তাদের সেই ফাঁপা আওয়াজে ভয় পেয়ে নিজেদের আস্তিক ধার্মিক প্রমাণে আদা জল খেয়ে নেমে মূল লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে সরে গেলাম। একাত্তরেও জামাত ঠিক একই কৌশল কাজে লাগিয়েছিল। কিন্তু তখন মুক্তিপাগল জনতার কাছে তাদের সেই ধর্মের জুজু পাত্তা পায়নি। কিন্তু ৪২ বছর পর ২০১৩তে এসে সেই একই জুজুর ভয়ে আমরা নিজেদের গুটিয়ে নিলাম, আর শক্তিশালী করলাম ঘাতকের মনোবল।

“আমার দেশ” “নয়াদিগন্ত” পত্রিকায় একের পর এক ভুয়া উস্কানিমূলক নিউজ ছেপে ছেপে দেশে একটা অস্থিরতা তৈরি করে শখানেক মানুষের প্রাণ গেলো, সেটা নিয়ে সরকারের তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ল না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একটা মানুষ কিংবা আইনজীবী চোখে পড়ল না , যে বা যারা এই দুটি অপসংবাদপত্রের বিরুদ্ধে একটা রিট কিংবা আইনি কোন পদক্ষেপ নিল।

নব্বইয়ের দশকে শহীদ জননী জাহানারা ইমামসহ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অনেককেই জামাত নাস্তিক মুরতাদ ঘোষণা দিয়ে তাদের গন আদালতের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েছে। তখনও সেটা এতোটা পাত্তা পায়নি, যা আজ ২০১৩ সালে পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার বলে দাবী করা আওয়ামী সরকারও আদাজল খেয়ে লেগেছে নিজেকে ধার্মিক সরকার প্রমাণে। তাদেরই অঙ্গসংগঠন ওলামা লীগ ব্লগারদের তালিকা তৈরি করে ফাঁসির দাবী জানায়। সরকার অলরেডি তদন্ত কমিটিও তৈরি করে ফেলেছে। আমি আসলেই কনফিউজড, দেশটা কারা চালাচ্ছে? সরকার? নাকি জামাত?

বরাবরই আমি যে কোন উগ্র চিন্তাধারার বিপক্ষে মত দিয়ে এসেছি। এখনও দেব। উগ্র ধার্মিক এবং উগ্র নাস্তিক উভয় পক্ষকেই আমার মুদ্রার এপিঠ- ওপিঠ মনে হয়। কিন্তু নাস্তিকতার ধোঁয়া তুলে মুক্তচিন্তাধারার ধারক-বাহক বাংলা ব্লগগুলোর মুখ চেপে ধরার পায়তারা শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেলাম সরকার বিটিআরসি’র মাধ্যমে ব্লগগুলোকে চিঠি দিয়েছে ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। ব্লগারদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে।

আমারই বন্ধু তালিকায় এমন অনেকেই আছেন যারা ব্লগ এবং ব্লগারদের দেখতে পারেন না। সেটা তাদের ব্যক্তিগত চিন্তাধারা। কিন্তু আমি জোর গলায় দাবী করতে পারি, বাংলা ব্লগগুলোর যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারসহ যে কোন শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে কার্যকরী যতটুকু প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছে তা এই ব্লগগুলো থেকেই। “মেহেরজান” “পারসোনা ইস্যু” “পরিমল ইস্যু” “তেল গ্যাস নিয়ে দূর্নীতি” ইত্যাদি নানান বিষয় নিয়ে ব্লগগুলোতে প্রতিবাদ হয়েছে এবং সেই প্রতিবাদের ফলে একেবারেই যে কিছুই হয়নি সেটা যে দাবী করবে, তার/ তাদের উদ্দেশ্যে আমার প্রশ্ন- সেইসময় আপনি নিজে কি করেছেন? বসে বসে আঙুল চোষা ছাড়া আর কোন কাজটা আপনার দ্বারা হয়েছে? আজকে এই প্রজন্মের হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনার স্ফুরণ তা ১০০ ভাগ ব্লগের অবদান। ৭৫ পরবর্তি আমাদের একটা প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শিক্ষা দিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। সেই অন্ধকার থেকে বের করে এনেছে বাংলা ব্লগগুলো।

আজকে ব্লগগুলোর মুখ চেপে ধরার যেই নীল নকশা শুরু করা হয়েছে, তা ধর্ম রক্ষার নাম করে হলেও, মূল উদ্দেশ্য যে শাসক শ্রেণীর নিজেদের পিঠ বাঁচানোর কুট কৌশল সেটা বুঝতে বিরাট জ্ঞ্যানী হওয়া লাগে না। বলা হচ্ছে ব্লগে ইসলাম এবং নবী সঃ কে নিয়ে বাজে লেখা প্রকাশ করা হয়। আমি সেটা অস্বীকার করছি না। কিছু ব্লগার এমন লেখা লিখেছেন। কিন্তু সেটার দোহাই দিয়ে ব্লগগুলোর উপর নিয়ন্ত্রন করার যেই নকশা দেখতে পাচ্ছি সেটা একটা আধুনিক অগ্রসর রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত। মূলধারার মিডিয়া বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সরকার এবং কর্পোরেট বেণিয়াদের কাছে নিজের মাথা বিকিয়ে দিয়ে অনেক সত্য প্রচারে আপোষ নীতি নিয়ে চললেও ব্লগগুলো এক্ষেত্রে সোচ্চার থাকে সেটা আমরা অনেকবার দেখেছি। বাংলা ব্লগের যাত্রা রুখে দেওয়া বা, একে শৃঙ্খলে বেঁধে রাখলে শাসক শ্রেণী সহ অনেকেরই তাই বেশ সুবিধা হয়ে যায়।

যেই যুক্তিতে ব্লগগুলোর উপর এই খড়গহস্ত অবস্থান সরকারের, সেই একই যুক্তিতে আমি অনেক ধার্মিকের শাস্তি দাবী করছি। বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিলে আমি দেখেছি বক্তারা নির্বিঘ্নে ভিন্ন ধর্মের দেবদেবী কিংবা মহাপুরুষদের নিয়ে নানান অশ্লীল কটূক্তি করেছেন। সেটা কি ধর্ম অবমাননা নয়? নাকি আপনি মুসলিম বলে যা খুশী বলার এবং করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন? অন্য ধর্মের উপাসক কিংবা প্রচারকদের কটূক্তি করা নিয়ে ইসলাম ধর্মে কি বলা আছে সেটা একবারও পড়ে দেখেছেন?

সবচেয়ে বড় কথা, আপনার ধর্মের সবচে বড় অবমাননাকারি আপনি নিজেই। আমরা কয়জন ধর্মের সব হুকুম মেনে চলি? ধর্মের হুকুম মানে সৃষ্টি কর্তার হুকুম। তাঁর হুকুম অমান্য করার মানে কি তাঁকে অবমাননা করা নয়? আল্লাহ বলছেন নামাজ পড়, আপনি পড়ছেন না। আল্লাহ বলছেন মিথ্যা বলা কবিরা গুনাহ, আপনি হরহামেশাই মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। এরকম আরও হাজার হাজার উদাহরণ দেওয়া যায়, যেভাবে আপনি সরাসরি আল্লাহকে অবমাননা করছেন। আপনার ধর্মের সুড়সুড়ি ওঠে কেবল অন্য কেউ আপনার ধর্ম নিয়ে বাজে কিছু বললে। আসলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্ম রক্ষার নাম করে আপনারা যা করছেন, তা একদল জানোয়ার যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আরেকদল হায়েনার পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন। রাষ্ট্রে যখন উগ্র ধর্মীয়বাদ মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠে তার পরিনাম কি হতে পারে সেটা কি আপনি পাকিস্থানের পরিনতি দিয়ে দেখছেন না? যেদেশে ধর্মের নাম করে হত্যা করা হয় প্রতিদিন ৫০-৬০ জন নিরীহ মানুষ।

আপনি ওইরকম দেশের নাগরিক হতে পেরে গর্বিত বোধ করতে পারেন, কিন্তু আমি পারছি না। যদি এখনই ধর্মের নাম নিয়ে কিছু উগ্র ফ্যানাটিকের দাবীর প্রেক্ষাপটে দেশকে ওইরকম পরিনতির দিকে ঠেলে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে আমি ঘোষণা দিচ্ছি আমি ওইরকম বাংলাদেশ চাই না। ৩০ লক্ষ শহীদের কসম, তাঁরা কেউ ওইরকম বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য যুদ্ধে শহীদ হন নাই। সত্যিই যদি আজ বাংলাদেশকে ওইরকম পরিনতির দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে সরকার হাটে, আমি আমার নাগরিকত্ত্ব বাতিল করার দাবী জানাচ্ছি। ৩০ লক্ষ শহীদের সাথে আমি বেইমানী করতে পারব না। দুঃখিত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪১ thoughts on “আমি আমার নাগরিকত্ব বাতিল করতে চাই, যদি…

  1. প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশ কখনই
    প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশ কখনই আধুনিক রাষ্ট্র নয়,হবার লক্ষনও আজ অবধি দেখা যাচ্ছে না।একে তো জামাত নিষিদ্ধের কোন উদ্যোগ নাই,তার উপর শুরু হইছে ব্লগ নিয়ন্ত্রন নীতিমালা।নীরব আতাতের আর কত প্রমান লাগবে?

    স্টিকি হোক।

      1. আতিক, আপনার লেখাটি ভালো
        আতিক, আপনার লেখাটি ভালো লাগলো, কিন্তু আপনার উপরের মন্তব্যের সাথে একমত হতে পারছিনা ! দুরভাগ্যজনক সত্যি হচ্ছে যে, আওয়ামীলীগ জামাতের সাথে ঐক্য করলেও তাঁরা আস্তাকুর এ যাবে না (আমরা কেবল শুভকামনা করতে পারি আওয়ামীলীগ জেন সেই কাজটি আবার না করে)! আমাদের মানুষ যখন সত্যি ও মিথ্যা উভয় কেই দলীয় ডেফিনিশনের বাইরে গিয়ে চিনে নিতে শিখবে সেদিন হয়ত জনগনের সাথে বেইমানি করার ফল হিসাবে কোনও দল আস্তাকুরে নিক্ষিপ্ত হবে…! কিন্তু সেই কাঙ্খিত দিনটি এখন অনেক দূরে !

        1. সেই জন্যই তো হতাশা লাগে রে
          সেই জন্যই তো হতাশা লাগে রে ভাই। এই দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও মার্কা আর টাকার পরিমান দেখে ভোট দেয়, এটাই বাস্তবতা।

        2. মনে হতে পারে এ শুধুই ফাঁকা
          মনে হতে পারে এ শুধুই ফাঁকা বুলি।।হতে পারে দিনটি অনেক দূরে,দূরের দিনকে কাছে আনার আওয়াজ এখনি না উঠালে দূরত্ব যে আরও বাড়বে।

  2. সময়পোযোগী লেখার জন্য ডাঃ
    সময়পোযোগী লেখার জন্য ডাঃ সাহেবেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সাথে আরও জানাচ্ছি সংগ্রামী শুভেচ্ছা… সংগ্রাম চলছে, সংগ্রাম চলবে… লক্ষ্যে পোঁছার আগ পর্যন্ত সংগ্রামে আছি। এটাই শপথ নিয়েছি…
    জয় বাংলা………

  3. আমি নিজের নাগরিকত্ব বাতিল
    আমি নিজের নাগরিকত্ব বাতিল চাইনা! নাগরিকত্ব বাতিল চাই, যাদের পাকিস্তানী হওয়ার ইচ্ছা জাগে তাদের। আমি নাগরিকত্ব বাতিল চাই, যারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে………..

    1. সরকারসহ বিরোধী দলের
      সরকারসহ বিরোধী দলের কার্যকলাপে মনে হয় আপনার আমার মতন লোকদের কোণঠাসা হয়েই থাকতে হবে অচিরেই। আমি কোণঠাসা হয়ে থাকতে চাই না।

  4. আমি নিজের নাগরিকত্ব বাতিল

    আমি নিজের নাগরিকত্ব বাতিল চাইনা! নাগরিকত্ব বাতিল চাই, যাদের পাকিস্তানী হওয়ার ইচ্ছা জাগে তাদের।

    সহমত। পাইক্যা মাঠায় জন্মধারীদের লাইত্থায় এ দেশ থেকে বাইর করে দেয়া উচিত

      1. আসলে আটিক ভাই আমরা শুধু বলেছি
        আসলে আটিক ভাই আমরা শুধু বলেছি কিন্তু কখনোই লাথি দেয়নি। আমরা যদি লাথি মারা শুরু করি তাইলে ঠিকই ওদের বের করতে পারবো

        1. আর কতদিন লাগবে লাত্থি দিতে?
          আর কতদিন লাগবে লাত্থি দিতে? সেটাই চিন্তার বিষয়। তার আগেও তারা কতগুলা লাত্থি দিয়া ফালাইছে সেইটা খেয়াল করছেন?

  5. আমরা লাশ হবো কেন? আমরা তো
    আমরা লাশ হবো কেন? আমরা তো ব্লগ থেকে শাহবাগে পৌঁছেছি। এরপর সকল শহরে, তারপর গ্রামে-গঞ্জে, তারপর জনতাকে সাথে নিয়ে জামাতিদের লাত্থাইয়া ফাকিস্তান…..সংগ্রাম চলছে… সংগ্রাম চলবে..

  6. শাসকশ্রেণি ধর্মকে ব্যবহার করে
    শাসকশ্রেণি ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের অপকর্মকে আড়াল করতে।এক্ষেত্রে ধর্ম তাদের কাছে একটি ঢাল বৈ আর কিছু নয়।এই উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারের ইতিহাস সম্পর্কে যাদের নূন্যতম ধারণা আছে তারা জানেন কিভাবে এখানে ইসলামের প্রচার হয়েছে এবং ঐ সকল মানবতাবাদী সূফিসাধকদের সাথে মুসলিম রাজা বাদশাহদের কি রকম বৈরি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।রাজা বাদশাহরা ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে রাজ্য পরিচালনা করতে চাইতেন,কিন্তু সূফি সাধকরা রাজ্যের(আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণার জন্ম তখনও হয়নি।তাই রাষ্ট্রের বদলে রাজ্য ব্যবহার করেছি) সাথে ধর্মকে মিলিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করেছেন।হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এমন শত শত সূফি-সাধক-আলেমদের হত্যা করেন।অনেক সুফি সাধকরা রাজ্যের আর্থিক সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পাছে শাসকদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে পড়েন,অনেককে তত্‍কালীন সময়ে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদ কাজী,প্রধান মুফতি প্রভৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করলেও তাঁরা তা ফিরিয়ে দেন।এজন্য তাদেরকে শাসকদের রোষানলেও পড়তে হয়।আর আজকে যারা নিজেদের ধর্মের রক্ষক দাবি করে নাস্তিক দমনের নামে উগ্রতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারা মূলতঃ শাসকশ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে চলেছেন।শাসকশ্রেণিকে তার শোষণ যন্ত্রটিকে নির্বিঘ্ন করতে ধর্মের খোলস পরতেই হয়।৭১এ সেই খোলস ছিড়ে ফেলতে আমাদের পূর্বপুরুষেরা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য জীবন দিয়েছিল।আজ ২০১৩তে এসে আমরা তাদের চেতনার উত্তরসুরীরা একই দাবি করছি।আজ যদি আস্তিক নাস্তিক বিতর্ক তুলে আমাদের পূর্ব পুরুষদের স্বপ্ন আর আমাদের বর্তমান আকাঙ্খাকে দমনের চেষ্টা করা হয় তাহলে সেদিনকার শাসকশ্রেণিকে আমাদের পূর্বপুরুষরা যেভাবে প্রত্যাখান করেছিল আমরাও সেভাবে তাদের দেখানো পথে হাটতে দ্বিধাবোধ করব না।

  7. সরকারী দল সব জ্বাল দেয়া দুধের
    সরকারী দল সব জ্বাল দেয়া দুধের সর টুকুর উপর তাদের দক্ষিন হস্ত রেখে বসে আছে,বিরোধী দল সবাইকে নাস্তিক মুরতাদ বানাবে কি বানাবেই ,তারা ছাড়া সবাই নাস্তিক …. যদি ৭১ এর গন্ডগোল বা নিহতের সংখ্যা নিয়া কথা কোন তাইলে আপনে আম্লিগ | যাইবেন কই? এই রাজনীতিবিদ নামের মানসিক রোগী গুলারে পরায়া মারতে পারতাম …. ডাক্তার সাহেব কে সাধুবাদ চমত্কার পোস্টের জন্য :salute:

  8. সুন্দর লেখা। তবে আমি আমার
    সুন্দর লেখা। তবে আমি আমার নাগরিকত্ব বাতিল করতে চাই না। এই সোনার দেশটা থেকে পাকি আত্মাদের নির্মূল করতে চাই। চাই সরকারের সহযোগীতা। সহযোগীতা না পেলে প্রয়োজনে নিজেই একাত্তরের মত গর্জে উঠব। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কথা বলা, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার চাওয়াটা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, এজন্য ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়, তাহলে একাত্তরের মত গর্জে উঠব। সরকার ব্যর্থ হলে স্বহস্তে নিধন শুরু করব। নাস্তিকতা-আস্তিকতা দিয়ে সরকারকে সুবিধা নিতে দেবনা। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে অনলাইনকে রোধ করার সরকারের কুচিন্তাকে প্রতিরোধ করতে অনলাইন এক্টিভিস্টরা জানে।

  9. দারুণ লিখেছেন আতিক ভাই।
    দারুণ লিখেছেন আতিক ভাই। নাস্তিকতার ধুঁয়া তুলে ব্লগের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার এই আওয়ামী প্রচেষ্টা যদি সফল হয় তাহলে এর থেকে দুঃখের আর কিছুই হবে না। ফেসবুকে শেয়ার করলাম।

  10. বাংলা মায়ের সম্ভ্রমের দায়
    বাংলা মায়ের সম্ভ্রমের দায় মেটাতে গুপ্তঘাতকের কাছে রেখেছি মস্তক বন্দক ,
    ঘাতকেরা খুজে ফেরে মুক্ত চিন্তাকারী নাস্তিক কিংবা ব্লগার,
    আজ এর তো কাল এর,
    কখন কার পালা জানিনা,

    শুধু জানি ঘাতকেরা বাড়ছে, চুপি চুপি আসছে ।
    জানি মস্তক ছিন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত বলে যাবো

    <<<<<< ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা >>>>>

  11. ডাঃ আতিক ভাই ভালো
    ডাঃ আতিক ভাই ভালো লিখেছেন….নাগরিকত্ব বদল করতে পারবেন কিন্তু আপনি যে বাঙ্গালী আপনার সেই চেতনা কে বাতিল করবেন কি করে? সততার জয় হবেই ইনশাআল্লাহ্……..।

  12. শিরোনামটা যে দারুন এক অভিমান
    শিরোনামটা যে দারুন এক অভিমান থেকে দেওয়া, সেটা অনেককেই বুঝাতে অক্ষম হয়েছি দেখা যাচ্ছে। “যদি” শব্দটার উপরে জাতীয় এলার্জি তৈরি হইছে মনে হয়। :মাথাঠুকি:

  13. অভিমান ত্যাগ করার দাবী
    অভিমান ত্যাগ করার দাবী জানাই।কারন একই গ্যাঁড়াকলে আমরা সবাই।সুতরাং,আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে।না হয় ল্যাংড়া প্রজন্মের ভীড়ে আর দাঁড়ানো সম্ভব নয়।

  14. সরকার যদি সেই পথে হাটে তবে
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    সরকার যদি সেই পথে হাটে তবে সরকারকেও পাল্টা দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।

  15. পৃথিবির মানচিত্রটা খুলে
    পৃথিবির মানচিত্রটা খুলে দেখুন, ইতিহাস ঘেটে দেখুন – যেখানেই দির্ঘস্থায়ি কুসাশন আর জনসংখ্যার বিস্ফোরন, সেখানেই উদ্ভব হয়েছে উগ্র ধর্মান্ধতা আর সব ধরনের ফ্যাসিবাদের। সেখানেই মানুষ হয় দৈব শক্তির উপর নির্ভরশিল হয়েছে তার সমস্যামুক্তির জন্য নয়তো সঙ্কির্ন উগ্র দেশপ্রেম,জাতিয়তাবাদ, আর বর্ন/জাতি বিদ্বেষের মত ফ্যাসিবাদের আশ্রয় নিয়েছে নিজেদের ব্যার্থ্যতার/দুর্ভ্যাগের দায় অন্য দুর্বল কারো উপর চাপাতে।

    উগ্র ধর্মান্ধতা,দেশপ্রেম, জাতিয়তাবাদ আর বর্ন/জাতি বিদ্বেষের মত সব ফ্যাসিবাদই রোগের সিম্পটম বা উপসর্গ মাত্র, আসল রোগ দির্ঘস্থায়ি কুসাশন, অশিক্ষা আর জনসংখ্যার বিস্ফোরন।

    আপনি তো একজন ডক্তার, ভাল করেই জানেন সিম্পটম বা উপসর্গের চিকিৎসা করে রোগ সারানো যায় না, আসল রোগের চিকিৎসা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।

    সেখানে আপনি ভাবাবেগে নাগরিত্ব বাতিলের আবেদেন করেন, নাগরিকত্ব হারান, বা না নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেন – তার কোনোটাতেই কি কোনো কিছু আসে যাবে?

    1. আপনার মন্তব্যের প্রথম অংশের
      আপনার মন্তব্যের প্রথম অংশের সাথে একমত। দ্বিতীয় অংশে আপনিও কিছুটা আবেগি হয়ে গেছেন, না হলে আমার লেখার স্পিরিটটা ধরতে পারতেন। ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।

  16. ঐডির কথা কইয়া লাভ নাই.
    ঐডির কথা কইয়া লাভ নাই. একাত্তরে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে টেক অফ করা প্লেনের কিছু যাত্রী ভুলে বাংলাদেশেই রয়ে গেছে. এগুলারে সবাই মিলে পাছায় কষে লাথি মারতে মারতে বিমানে করে এক্সপোর্ট করা উচিৎ! আর আপনার লেখা খুবই চমৎকার!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 81 = 89