‘তালেবানদের পিতা’ পাকি হামিদ গুলের মৃত্যু!

তালেবানরাই নাকি পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। টিভিতে বারবার তাঁর মুখে এমন কথা শুনে পাকিস্তানিরাই মজা করে ডাকনাম দিয়েছিলেন ‘তালিবানদের পিতা’। পাক সেনাবাহিনীর সেই অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান হামিদ গুল ৭৯ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ থেকে মারা গেলেন। শনিবার রাতে রাজধানী ইসলামাবাদের ৫০ কিমি উত্তর পূর্বে মুরির সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুধু আফগানিস্তানে নয়, কাশ্মীরেও জঙ্গিদের প্রকাশ্যে এবং গোপনে আজীবন মদত দিয়ে গেছেন হামিদ গুল। শুধু টিভিতে নয়, প্রকাশ্য মঞ্চেও মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদের মতো সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে গুলকে। ভারতের পাশাপাশি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের তীব্র বিরোধিতা করতেন তিনি। বলতেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হানা নাকি ‘ইহুদি চক্রান্তের ফল’। কট্টর ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি আর তার সঙ্গে জঙ্গিদের সমর্থনে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিখ্যাত হয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়।

উইকিলিকস–এ প্রথম দফায় যে ৯৫,০০০ মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁস হয়েছিল, তাতে সবচেয়ে বেশিবার এসেছিল গুলের নাম। তবে ওয়াশিংটন প্রচণ্ড চটা ছিল তাঁর ওপর। এতটাই যে, জর্জ বুশ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন আমেরিকা গুলের নাম রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকায় তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু চীনের বিরোধিতায় সে চেষ্টা সফল হয়নি। নিজেকে বলতেন ‘স্বপ্নদর্শী’। কিন্তু পাকিস্তানের সাংবাদিকরাই খোঁচা দিয়ে বলতেন, আসলে রাওয়ালপিন্ডিতে পরিবহণ ব্যবসার যে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, স্বপ্ন দেখেন তা নিয়েই। আর মাঝে মাঝে টিভিতে ফালতু বকেন।

গুলের উত্থান ঘটেছিল জেনারেল জিয়া উল হকের হাত ধরে। সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৫৮ সালে। জিয়ার সু‍নজরে পড়ার পরেই ওপরে ওঠা শুরু। আফগান যুদ্ধের সময়ে সোবিয়েত মদতপুষ্ট নাজিবুল্লা সরকারের পতন চেয়ে জিহাদিদের প্রকাশ্যে মদত দিতে শুরু করেছিল আমেরিকা। সিআইএ–র সহায়তার এই যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব পায় আইএসআই। তখনই, ১৯৮৭ সালে, জিয়া আইএসআইয়ের মাথায় বসান গুলকে।

আরো দেখুন : গুল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ডয়েচে ভেলের এই খবরটি দেখতে পারেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “‘তালেবানদের পিতা’ পাকি হামিদ গুলের মৃত্যু!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 + = 23