সহীহ্‌ মুসলিমরা ‘কতল’ করল বৃদ্ধ প্রত্নবিদকে!

বিশ্ববিখ্যাত সব সংগ্রহশালা ধ্বংস করে, প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন নষ্ট করেও আশ মিটছে না ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের। মঙ্গলবার সিরিয়ার ঐতিহাসিক পালমেইরা শহরের প্রত্নসম্পদের প্রাক্তন কিউরেটর ৮২ বছরের খালেদ আল আসাদকে মাথা কেটে খুন করল তারা। কারণ আসাদ দেশের হয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিধর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করতেন।

পালমেইরার প্রত্ন ঐতিহ্য, যা আই এস জঙ্গিদের কাছে পৌত্তলিকতার চিহ্ন মাত্র, সেসবের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন আসাদ— এটাও জঙ্গিদের রাগের কারণ। তিনি সিরিয়ার আগের সরকারের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখেন, এমন খবরও ছিল আইএসের কাছে। মাথা কেটে ফেলার পর, রাস্তার ধারের খুঁটিতে বাঁধা বৃদ্ধ প্রত্নবিদের মুণ্ডহীন দেহের ছবি তারা সগর্বে বিলি করেছে অনলাইনে।

আইএস প্রচারিত প্রত্নসম্পদ ধ্বংসের ভিডিও দেখুন এখানে!

তবে সিরিয়ার এখনকার মুখ‍্য প্রত্নবিদ মামুন আবদুল করিম বুধবার আসাদের নিধনের খবর দিয়ে বলেছেন, এক মাস আগেই আই এস জঙ্গিদের কবজায় পড়েছিলেন আসাদ। জঙ্গিরা তাঁর কাছে সিরিয়ার গোপন সোনার ভাণ্ডারের খোঁজ চাইছিল বারবার। হতেই পারে, আসাদ তাদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি।


ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল পালমেইরা

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা পালমেইরা শহরের কিউরেটর হিসেবে ৫০ বছর দক্ষতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পর খালেদ আল আসাদ অবসর নেন ১৩ বছর আগে। তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা প্রত্ন বিশেষজ্ঞ। তাঁর হত্যার নিন্দা করার সময় জানিয়েছেন সিরিয়ার মুখ‍্য প্রত্নবিদ মামুন আবদুল করিম। যদিও তাঁর বয়ান অনুযায়ী আসাদের দেহ ঝুলিয়ে রাখা আছে পালমেইরার ঐতিহাসিক ধ্বংসস্তুপের মধ্যে। কিন্তু আই এস যে ছবি অনলাইনে ছড়িয়েছে, সেটি বাঁধা রাস্তার ধারে, সম্ভবত কোনও বাতিস্তম্ভের গায়ে। গায়ে ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা পড়ে জানা যাচ্ছে সেটি আসাদের দেহ।

সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস্‌ নামে ব্রিটেনের একটি নজরদার সংস্থা জানিয়েছে, পালমেইরার এক প্রকাশ্য জায়গায়, লোকজনের চোখের সামনে মাথা কেটে নেওয়া হয় বৃদ্ধ প্রত্নবিদের। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।

আরো জানতে দেখুন হাফিংটন পোস্টের এই খবরটি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “সহীহ্‌ মুসলিমরা ‘কতল’ করল বৃদ্ধ প্রত্নবিদকে!

    1. সাম্রাজ্যবাদীদের দোষ দিয়ে কী
      সাম্রাজ্যবাদীদের দোষ দিয়ে কী লাভ? সাম্রাজ্যবাদিরা মুসলিমদের সহীহ ইসলামের আকীদা অনুযায়ী কাজ করছে। ধর্মের অনুশাসনের বাইরে কিছু কী করছে?

  1. @ইকারাস : প্রথম কথা হল ‘সহী
    @ইকারাস : প্রথম কথা হল ‘সহী মুসলিমরা‘ এই কাজ করে নি। আইএসের জন্মের বহু আগে থেকে হাজার বছর ধরে মুসলমানরা এৗ অঞলে মেজরিটি হিসেবে বাস করে আসছে। এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি।
    ২য় কথা হল : এই সহী মুসলিমরাই মিশরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণ সেখানকার যাদুঘরে সযতনে রেখেছে।
    ৩য় কথা হল : কোন ক্রিশ্চিয়ান/হিন্দু যদি খারাপ কাজ করে তাহলে কেউ বলে না, যে ‘হিন্দু লোকরা মসজিদ আক্রমণ করেছে‘ বা ক্রিশ্চিয়ান লোক তার বউ মেরেছে‘ । ভাই ইকারাস : তামিল টাইগাররা কোন ধর্মের লোক ছিল? তামিল কি কোন ধর্মের নাম? অার ‘আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি‘ কোন ধর্মের ছিল? আর আফ্রিকার কংগোতে আছে ‘লর্ডস রেসিসটেন্স আর্মি‘ ? জানেন কোন লর্ড? রর্ড জিসাস ক্রাইস্ট।
    আইএসের জন্ম, বিস্তার, অস্ত্রের উতস নিয়ে এই পাশ্চাত্য দেশগুলোতেও অনেক লেখালেখি হচ্ছে। বলেন তো ভাই ইকারাস , মুসলমান দেশগুলো তো ভালো মানের একটা তালাও বানাতে পারে না। এতই খারাপ তাদের টেকনলজি‘র অবস্হা। ১০০০ বছর ধরে মুসলমানরা শুধু পেছন দিকেই যাচ্ছে। মুসলমান কোন দেশ তো অস্ত্র উতপাদন করে না। তাহলে এই আইসাসকে কে অস্ত্রের যোগান কে দেয় বা কে বিক্রি করে? যারা আইসাসকে অস্ত্র সাপ্লাই দেয় , এমনকি বিক্রি করে তারাই আইসাসের জন্মদাতা। কিছু লোক আছে , বুঝে না বুঝে মুসলমানদের গালি দেয়, আর কিছু মুসলমান আছে যারা মুসলমানদের গালি দেয়াকে ‘প্রগতিশীল‘ হওয়ার প্রথম ধাপ বা লেসন হিসেবে ধরে নেয়।

    1. এদের বলে কোন লাভ নাই। এরা
      এদের বলে কোন লাভ নাই। এরা ঞ্জান পাপি। এরা শিখেছে শুধু ইসলামের ভুল ধরা। সত্যিটা চিনা এদের উদ্দেশ্য নয়। তাই যতই এদের যুক্তি দিয়ে বুঝান কিছুতেই বুঝবে না। আবার এরা তথাকতিত যুক্তিবাদিতার দাবি করে। শালা গাজাখোর সব। ধন্যবাদ সাফকথা ভাই

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 3 =