ভাই থামেন! অনেক হয়েছে দাড়ি-টুপিওয়ালা হুজুরদের একহাত দেখে নেয়া

ভাই থামেন! অনেক হয়েছে বাকস্বাধীনতার নামে বড় বড় বুলি কপচানো। অনেক হয়েছে অশ্লীলদের লক্ষ্য করে আপনার সুশীলতা প্রদর্শন। অনেক হয়েছে আপনার দাড়ি-টুপি ওয়ালাদেরকে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি হিসেবে পরিচিত করন। আজকে মসজিদ থেকে কাওকে বের হতে দেখলেই আপনি প্রশ্ন করে বসেন, ভাই আপনি কি জামাত-শিবির? অন্যদিকে যারা লুঙ্গি খুলে মুসলমান-অমুসলমান চেক করছে, তাদেরকে এক হাত দেখে নিচ্ছেন। ভাই! আপনার কি একবারও মনে হয়না, ঐসব চেকিংবাজ আর আপনার মাঝে কোনোরকম পার্থক্য নাই? ঐসব চেকিংবাজদের ভয়ে হিন্দুরা রাস্তায় বের হবে না। অন্যদিকে আপনার মতো সুশীলদের ভয়ে মানুষ দাড়ি-টুপি পড়তে পারবে না।
আপনি আজকে কওমি মাদ্রাসার হুজুরদেরকে দেশের আগাছা বলছেন? তাঁরা দেশকে কি দিয়েছে সেই প্রশ্ন তুলছেন? তার আগে একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, এইসব “দেশের বোঝা” কে আধুনিক শিক্ষা দেয়ার জন্য কোনোদিন একটা কথা বলেছেন? তাদেরকে আধুনিক শিক্ষা দেয়ার জন্য তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোনোদিন? তাঁরা হয়তো দেশকে একজন ডাক্তার দিতে পারেনি। তাঁরা হয়তো দেশকে একজন ইঞ্জিনিয়ার দিতে পারেনি। তবে তাঁরা দেশকে একজন ভাষানী দিতে পেরেছে। যাকে সম্মান আপনার-আমার সবারই করতে হচ্ছে। দেশপ্রেমিক হতে হলে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়না। একজন ক্ষেতের চাষাও আপনার-আমার চেয়ে বড় খাটি দেশপ্রেমিক হতে পারে। এবং হচ্ছেও তাই। ভারত উপমহাদেশ থেকে ইংরেজদের তাড়ানোর আন্দোলনে আপনার মতো সুশীলেরা মুখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে বসে ছিলো। মহাত্মা গান্ধির মতো জনপ্রিয় নেতা সহনশীলতা আর অহিংসতার পরিচয় দিতে গিয়ে বছরের পর বছর যখন ইংরেজদেরকে দেশে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিলো, তখন এই হুজুরেরাই কোনোরকম আর্থিক সহযোগিতা না পেয়েও ইংরেজ তাড়ানোর আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছে। এবং ইংরেজ তাড়ানোর আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে শত শত হুজুরকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে। একাত্তরে যখন আপনার মতো সুশীলেরা মুক্তিযুদ্ধকে দুই কুত্তার কামড়াকামড়ি বলেছিলো, তখন এই দাড়ি-টুপিওয়ালা চাষাভুষারাই দেশের টানে যুদ্ধ করেছিলো। ভাই! আপনার সুশীলতা মার্কা যুক্তিতে আজকে বঙ্গবন্ধুও হয় ছাগু, নামাজ-রোজা পালনের দায়ে। আপনার সুশীলতায় আজকে মাওলানা ভাষানী হয় ছাগু নেতা, একজন ধর্মীয় নেতা ও দেওবন্দি কওমী আলেম হবার দায়ে।
ভাই! আপনি আজকে ধর্মকে গালাগালি করে বাকস্বাধীনতার যুক্তি কপচাচ্ছেন। অন্যদিকে আপনার মা-বাবার নাম তুলে কেও গালি দিলে বাকস্বাধীনতাকে পশ্চাদ্দেশ দেখিয়ে তাঁর উদ্দেশ্যে তেড়ে যাচ্ছেন।
আজকে আপনি বলছেন, হজুরেরা ব্লগ বুঝে নাকি! তার আগে নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখুন না, তাদেরকে ব্লগ বোঝানোর জন্য কয়দিন চেষ্টা করেছেন? কয়জন গরিব মাদ্রাসা ছাত্রকে একটা ল্যাপটপ কিনে দিয়েছেন?
ভাই! আজকে মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে জঙ্গি বলছেন। ভালো কথা। তবে যখন একজন গরিব লোক পয়সার অভাবে নিজের সন্তানকে পড়ালেখা করাতে না পেরে মাদ্রাসায় দিয়ে দেয়, তখন কয়জন শিশুকে নিজের বাসায় আশ্রয় দিয়ে পড়ালেখা করিয়েছেন? কয়জন শিশুর জীবন-যাপনের দায়ভার নিয়েছেন?
ভাই! হুজুরদের মুর্খামি নিয়ে হাসি-ঠাট্টা না করে তাদের শিক্ষাকে সময়োপযোগী করার জন্য দু’একটা কথা বলুন, লাভ হবে। দেশের লাভ হবে।

ভাই! আপনি যখন হুজুরদের মুর্খামি অথবা জঙ্গি বলে হাসি ঠাট্টা করেন, অথবা ব্রাশফায়ার করে ছাগু নিধনের দাবী জানান, তখন আপনার মাথার ভেতরে মগজ বলতে কিছু আছে নাকি, তা নিয়ে আমার খুবই সন্দেহ হয়।
ভাই! আপনার মতো সুশীলদের সুশীলতার পক্ষ আমি নিতে পারিনা। সত্যিই বলছি ভাই, ভন্ডামী আমার একদম ভালো লাগেনা।।

নারীদের সাথে পুরুষের হাটা-চলা, মেলামেশা, ভাস্কর্য ভাঙ্গনের মতো দাবীগুলো অবশ্যই অযৌক্তিক। এই যুগে এই দাবীগুলো মেনে নেয়াটা সম্ভব নয়।

তবে আমার বক্তব্যের কথাটা ভিন্ন। এতগুলো মানুষ এইসব যুক্তির সাথে একমত পোষণ করছে কেন? কারন, তাদেরকে এইটাই শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, পরনারীর দিকে তাকানোটাই হারাম। ভাস্কর্য মানেই অশ্লীল অনৈসলামিক মূর্তি।

তাহলে কেন তাঁরা এই দাবীগুলো করবে না? সরকার কি অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার ব্যাপারে কোনো ভূমিকা পালন করেছে কোনোদিন? তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কোনোদিন?

তাদেরকে পুরনো যুগের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে দিনের পর দিন। এখন দেখা যাচ্ছে যে, পুরনো দাবী নিয়েই তাঁরা মাঠে নেমেছে। আর এখনই সব রকম প্রশ্নগুলো উঠে আসছে। আপনার মতো সুশীলেরা, হঠাত করেই আলোচক হয়ে গেলেন।

আপনার কি মনে হয়না যে, সরকার যদি আগে থেকেই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার মান সংস্কার এবং উন্নয়ন করতো, তাহলে আজ এই দাবীগুলো উঠতো না?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “ভাই থামেন! অনেক হয়েছে দাড়ি-টুপিওয়ালা হুজুরদের একহাত দেখে নেয়া

  1. ” তাঁরা দেশকে একজন ভাষানী
    ” তাঁরা দেশকে একজন ভাষানী দিতে পেরেছে”

    ভাষানী,নজরুল আর আরজ আলিরা প্রতিষ্ঠানের গন্ডির বাইরের মানুষ।

  2. // আপনার কি মনে হয়না যে,
    // আপনার কি মনে হয়না যে, সরকার যদি আগে থেকেই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার মান সংস্কার এবং উন্নয়ন করতো, তাহলে আজ এই দাবীগুলো উঠতো না?//

    আমার জানামতে এদের মানোন্নয়নের জন্য চেষ্টা করা হইছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু এরা গো ধরে কাফেরের বিদ্যা শিখবেনা বলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 4 =