আসেন চুলকে দেই…

কিছুক্ষন আগে হাসপাতালের বস স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিলো। রোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ অনুযোগ, হাসপাতালে ওষুধ নাই ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ও ছিল এর মধ্যে। সরকার যতটুকু ওষুধ সাপ্লাই দেয় এর বাইরে কিভাবে ওষুধ দেবো সেই নিয়ে প্রতিদিনই বিবিধ ক্যাচালেই আউটডোরে সকালের রোগী দেখার টাইমের একটা বিরাট অংশ ব্যয় হয়।
যাই হোক, কথার প্রেক্ষিতে স্যার বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছিলেন কিভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। নিজের চাকরী জীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার কথাও বললেন। সে এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। একটা ঘটনা শুনে মনে হোল আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে বেশ মিল খায়। উনি তখন তরুন চিকিৎসক হিসেবে জয়েন করেছেন সরকারী চাকরীতে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা তখন আরও শোচনীয়। এখন তো তবু অনেক ওষুধ সরকার থেকে সাপ্লাই দেওয়া হয়। তখন এর সিকিভাগও দেওয়া হতোনা। একদিন এলাকার এক নেতা গোছের লোক আউটডোরে উনাকে দেখাতে আসছে। নেতার সমস্যা হচ্ছে রানের চিপার চুলকানি। খাস বাংলায় যেটাকে বলে খাউজানি রোগ। যার হইছে সেই জানেন কেমন চুলকায়! স্যার প্রথমে হুইটফিল্ড মলম লিখে দিলেন স্লিপে। কিছুক্ষন পর নেতা ফেরত এসে বলে- এই মলম তো সাপ্লাই শেষ। অন্য কিছু দেন। স্যার তখন হিস্টাসিন ট্যাবলেট লিখে দিলেন। ব্যাটা কিছুক্ষন পর ফেরত এসে বলে এইটাও নাই। স্যার আরেকটা ওষুধের নাম লিখে দিলেন। ব্যাটা কিছুক্ষন পর আইসা চেঁচিয়ে বলতে লাগলেন- আপনারা সব চোরের দল। চাকরী করেন, কিন্তু কোন কাজকাম করেন না। শুধু বেতন উঠান কাজ না করেই। স্যার হতভম্ভ হয়ে ভাবছিলেন- সরকার ওষুধ সাপ্লাই না দিলে উনার কি দোষ? কিন্তু এই কথা কে বুঝাবে ঐ ব্যাটারে? স্যার তখন খুব সিরিয়াস হয়ে বললেন- ঠিকই কইছেন ভাই। আমরা তিনজন ডাক্তার আছি এখানে। কোন কাজ টাজ করিনা। বসেই থাকি। ওষুধও নাই। আসেন লুঙ্গি তুইলা ধরেন আমরা চুলকে দেই। আপাতত এছাড়া তো করার আর কিছু পাচ্ছিনা।

এই সপ্তাহে ছয়দিনের মাঝে পাঁচ দিনই হরতাল গেলো। একদিকে সরকার বিরোধী দলের সবগুলারে ধইরা জেলে ঢোকায়। উনারা ভি চিহ্ন দেখায়ে কয়দিন জেলে থেকে বীরের বেশে বের হয়ে আসেন। ইতিমধ্যে চলতে থাকে লাগাতার হরতাল। সরকার আর বিরোধী দল বোধ হয় মনে করে পাবলিকের কোন কাজকাম নাই। হুদাই বইসা বইসা দেশের ভাণ্ডার শুন্য করে। তাই হরতাল লাগাতার হলেই কি, আর না হলেই কি? চলেন আমরা দুই দলের কাছে গিয়ে করজোড়ে বলি- ঠিকই ভাবছেন, আমাদের আসলেই খায়া দায়া আর কাজকাম নাই। আপনারা লুঙ্গি তুইলা লাইনে খাড়ান। আমরা চুলকে দেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২২ thoughts on “আসেন চুলকে দেই…

  1. আমার চুলাকানিনুভুতিতে আঘাত
    আমার চুলাকানিনুভুতিতে আঘাত পাইয়াছি, আপনাকে গেরেপতার করা হউক, এরপর আপনারে ডান্ডা বেড়ি পিন্ধাইয়া পিডানি হোক।

  2. চুলকানি রোগে ধরলে চুলকাইতে
    চুলকানি রোগে ধরলে চুলকাইতে বড়ই আরাম , কিন্তু চুলকানোর পরের জ্বালা যে কি সেইডা ন্যাতাগো বুঝাইয়া দেওয়া উচিত্‍ ।

  3. চুলকাইয়াও অগ মন পাইবেননা ভাই।
    চুলকাইয়াও অগ মন পাইবেননা ভাই। নখ বড় থাকলে কইব, ‘কাটেন না কেনে’ আর নখ ছোট থাকলে কইব, ‘এই নখ দিয়া কি বাল চুলকাইবেন’। এর থেইক্কা লুঙ্গিখান তুইলা জায়গার উপর লাথি মারা ছাড়া এরা কোনকালেই বুঝবনা মানুষ কি পরিমাণে বিরক্ত। বুইড়া কাগু কন আর জামাত কন, এই গুলানরেতো এরাই তুলছে। তাইনা? খালি চুলকাইয়া এগ ঠান্ডা করবেন এই আশা করেন কেমতে ভাই? হাম্বাগো চুলকাইতে গেলে পিপার স্প্রে খাইবেন, গোলাপীগো চুলকাইতে গেলে চুলকানির প্রতিবাদে হরতাল খাইবেন। আবার সংহতি সংহতি খেলার নাটকও সইয্য করতে হইব ভাই। এর চাইতে আসেন…

  4. আমাদের আসলেই খায়া দায়া আর
    আমাদের আসলেই খায়া দায়া আর কাজকাম নাই। আপনারা লুঙ্গি তুইলা লাইনে খাড়ান। আমরা চুলকে দেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 14 = 24