অভিজিতের খুনিদের ঘিরে রহস্য ও ধূম্রজাল!

?oh=da2ce22f1bf6fbb7093392d2d9d9c977&oe=5674705F” width=”400″ />

বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ড. অভিজিৎ রায় হত্যার আসামিদের ঘিরে রহস্য ও ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যে বিচারপ্রার্থীরা অনেকেই আস্থা রাখতে পারছেন না। আবার সম্প্রতি অভিজিতের খুনি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদের পরিবারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল। অনেকে আবার সরকারের দেয়া তথ্যকে অসম্পূর্ণ মনে করছেন। প্রশ্ন উঠছে মূল আসামিদের আড়াল করা নিয়েও!

কয়েকজন ব্লগারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করে দেখেছি, সবার ভাবনা কাছাকাছি বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। অভিজিতের খুনি হিসেবে যাদের ধরা হয়েছে তারা খুনি হলেও হতে পারে, কিন্তু এর বাইরে যে আরো অনেকেই জড়িত, এ বিষয়ে সবাই নিশ্চিত। কিন্তু সরকার কেবলমাত্র গ্রেপ্তারকৃতদের দেখিয়েই এই মামলা শেষ করে দিতে চাচ্ছে। এটা এখন খুব ন্যায্য প্রশ্ন যে, এতদিন শোনা গেছে হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী ছিল রানা, এখন পুলিশ বলছে তৌহিদ। রানা তাহলে কোথায় গেল? এতদিন যে পুলিশ তাকেই মূল পরিকল্পনাকারী বলেছে, তা কি তবে ভুয়া ছিল?

আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সরকার বিদেশী চাপ সামলাতে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঠিকই, কিন্তু তদন্তের ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা এগুচ্ছে খুব অবহেলা করেই। মূল আসামীদের, যারা কিনা এর অর্থায়ন করেছে ও পরিকল্পনা করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। সরকার কারাগারে বন্দি জসিম উদ্দিন রাহমানীর নির্দেশে সব ঘটেছে বলছে। কিন্তু জেলে থাকা অবস্থায় সে কিভাবে নির্দেশ দিল, এই ব্যর্থতার দায়ভার কার, সে জবাব রাষ্ট্র দেয়নি।

ব্লগাররা অনেকেই আশঙ্কা করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো একটি অংশের সঙ্গে যোগসাজস না থাকলে ওভাবে টিএসসিতে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা কারো পক্ষেই সম্ভব হতো না। বইমেলা ছাড়াও সারা বছর ওই স্থানে পুলিশসহ প্রায় সব গোয়েন্দা সংস্থারই উপস্থিতি থাকে। কিন্তু অভিজিৎ হত্যার সময় তারা কোথায় যেন মিলিয়ে গিয়েছিল। এমনকি পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুন হতে দেখলেও তাতে বাধা দেয়নি বা খুনিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়নি। সেই বিশেষ মহল কারা যারা এই হত্যার আয়োজন করেছিল? তাদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

ব্লগারদের আরো আশঙ্কা যে, আগের ধারাবাহিকতায় এবারও গ্রেপ্তারকৃতরা জামিন পেয়ে যেতে পারে। আগেও এরকম গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু পুলিশ কিছুদিন যাওয়ার পর বলেছে, কোনো অগ্রগতি নেই, ক্লু পাচ্ছি না, জঙ্গিরা খুব চালাক, ব্লা, ব্লা, ব্লা। এই খুনিদের নিয়েও কি মঞ্চস্থ হবে সেই একই নাটক? তাছাড়া জামাতি ব্লগার হিসেবে খ্যাত ত্রিভুজ ও তার সহযোগীদের যে অভিজিত হত্যার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়েও সরকার কোনো জবাব দেয়নি। তৌহিদ ব্রিটিশ নাগরিক, আবার ত্রিভুজও এখন লন্ডনে, এদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তা নিয়ে কোনো আলাপ নেই। যদিও ত্রিভুজ ও তার সহযোগিরা ঠিকই লন্ডনে বসে নাস্তিক হত্যার সপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে!

?oh=701ba812c1de352568c6d3b75195539a&oe=566D2792&__gda__=1450043053_fa74b648ef41201a31211bde028ec0f7″ width=”400″ />

ব্লগারদের আশঙ্কার মূল জায়গাটা হচ্ছে, তারা মনে করেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে অধিকাংশই মৌলবাদি। ফলে নাস্তিক হত্যাকারীদের সঙ্গে তাদের যোগ থাকাও সম্ভব। তা না হলেও অন্তত নাস্তিকের খুনিদের রেহাই দিতে সাহায্য করতে পারেন তারা। অবস্থা এমন যে, আমি নিজে ব্লগার হলেও এই লেখাটির জন্য আরো অনেক ব্লগারের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কেউ নামোল্লেখে রাজি হননি। এমনকি আমি নিজেও স্বনামে না লিখতেই আগ্রহী, কিন্তু কাউকে তো কথা বলতেই হবে!

ব্লগারদের এসব আশঙ্কার পাশাপাশি ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে বিবিসি বাংলা প্রচারিত আজকের একটি খবরকে কেন্দ্র করে। ওই খবরে বলা হয়, অভিজিৎ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আটক ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদ গ্রেপ্তার হয়েছেন গত মে মাসে। তৌহিদুর রহমানের বড় বোন নাসেরা বেগম, যিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগ বিষয়ে চিকিৎসক, তিনি জানান, “আমার ভাইকে কিছু লোক ধরে নিয়ে গেছে মে মাসের ২৮তারিখে। আমিতো কোন খোঁজ না পেয়ে থানায় জিডি করেছি অপহরণের অভিযোগে। এখন খবর পেলাম মানুষের কাছে যে টিভিতে বলেছে জঙ্গি ধরেছে।”

তৌহিদ ও তার দুই সহযোগীকে সরকার কেবল অভিজিৎ হত্যাই নয়, আরেক ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যার আসামি হিসেবেও অভিযুক্ত করেছে। অনন্ত মে মাসের ১২ তারিখ সকালে সিলেটে নিজ বাসস্থানের কাছেই চাপাতির কোপে নিহত হন। দেখা যাচ্ছে, বোনের অভিযোগ অনুযায়ী এর কিছুদিনের মধ্যেই গ্রেপ্তার হন তৌহিদ। অথচ এর পরেও ব্লগার খুন হয়েছে এবং পুলিশের তদন্তে একই দল আনসারুল্লার নামই এসেছে। অথচ এদের কারো মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোনো সংযোগ দেখা যাচ্ছে না। তৌহিদদের গ্রুপ (অভিজিৎ-অনন্ত), নর্থ সাউথ গ্রুপ (আসিফ-থাবা), নয়া গ্রুপ (নিলয় হত্যা)- সবখানেই এসেছে রানার নাম। এসেছে জাবের নামে একজনের নামও। এমনকি তৌহিদদের গ্রুপের সঙ্গে জঙ্গি হামজা ব্রিগেডের ধরণে মিল রয়েছে। যা কিনা নর্থ সাউথের গ্রুপটির সঙ্গে বেমানান। অথচ এসব গ্রুপের আন্তঃসংযোগ সম্পর্কে পুলিশ কোনো ধারণা দিচ্ছে না।

পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে, তৌহিদের পরিবার অভিযোগ করছে সে মানসিক ভারসাম্যহীন। এই খবর যেভাবে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে, তাতে এই আশঙ্কা বাড়ছে যে, তৌহিদ ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারেন। অভিজিতের খুনিদের ঘিরে সৃষ্ট রহস্য ও ধূম্রজালের অবসান আজ সবার দাবি। ব্লগাররা দাবি তুলেছেন, জঙ্গিদের কারা আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, তা উম্মোচিত হওয়া দরকার। নইলে খুনি দলের কয়েকজন ধরা পড়লেও পুরো গ্রুপ ও এর মদতদাতারা থেকে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর তেমনটা ঘটলে ব্লগার হত্যা চলতেই থাকবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on “অভিজিতের খুনিদের ঘিরে রহস্য ও ধূম্রজাল!

  1. সবার আগে দেখতে রাজনীতি, কারন
    সবার আগে দেখতে রাজনীতি, কারন ব্লগার কোন্দল সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক হাতিয়ার সাহবাগ দিয়ে। আর এই রকম সাধু রাজনৈতিকদল এটাতে হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে আসতেছে। সেলুকাস যদি বর্তমান সরকার তাদের নীতি কায়েম করার জন্য ইমরান লাকীকে দিয়ে গণজাগরণ তৈরী না করতো, তাহলে ব্লগার খুন না হতো। আজ আমি মনে করি এর পিছনে সরকারের হাত অনেক বেশি

  2. আওয়ামীলীগ দলটার রাজনৈতিক
    আওয়ামীলীগ দলটার রাজনৈতিক ইতিহাস হচ্ছে- লাশের রাজনীতি। ব্লগার হত্যা ও নাস্তিকতা ইস্যু নিয়ে আওয়ামীলীগ নোংরা রাজনীতি করছে। এটা বুমেরাং হয়ে যাবে।

    1. সব তাদের চেতনা, আর আমরা
      সব তাদের চেতনা, আর আমরা চেতনায় দুলছি…..ওরা দুলাচ্ছে আর আমরা জ্বড় পদার্থের মত দুলতেছি….. কিন্তুু আমরা কেউ আজ কোন কিছুর হত্যার বিচার পেলাম না,সব দুদিন পর পর চাপা পরে যায়,আর নতুন ইস্যু তৈরী হয়

        1. আচ্ছা ভাই…নিলয় নীলের কি
          আচ্ছা ভাই…নিলয় নীলের কি নামে একাউন্ট ছিল এই ব্লগে…??? আমি অনেক আগে থেকে এই ব্লগে, কিন্তুু নীলকে দেখখিনি

  3. আমাদের ভেবে দেখতে হবে ব্লগার
    আমাদের ভেবে দেখতে হবে ব্লগার হত্যায় কারা উপকৃত হচ্ছে। তারা প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী না হলেও পরোক্ষভাবে অবশ্যি দায়ী হবেন।

  4. লেখকের বক্তব্যের সাথে আমি
    লেখকের বক্তব্যের সাথে আমি একমত। সরকার আই-ওয়াশ করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে চাইছে বলে মনে হচ্ছে। এমতাবস্থায় প্রত্যাশা করি, অভিজিতসহ বাকি ব্লগারদের প্রকৃত হত্যাকারীদের চিন্নিত করে তাদের শাস্তি দেয়া হোক।

    1. ব্লগার হত্যাকারীদের শাস্তি
      ব্লগার হত্যাকারীদের শাস্তি দিতে কমপক্ষে ৪০ বছর লাগবে। কারণ আওয়ামীলীগের নিজেদের নেতা হত্যার বিচার করতে লাগেছে প্রায় ৪০ বছর।

  5. গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। অনেক কিছুই
    গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। অনেক কিছুই নজরে রাখতে হবে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত টানা ঠিক হবে না। ব্লগারদের উচিত জঙ্গিদের কারা আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, তা উম্মোচিত না হওয়া পর্যন্ত চাপ অব্যাহত রাখা।

    1. সকল প্রগতিশীল ও মুক্তমনাদের
      সকল প্রগতিশীল ও মুক্তমনাদের উচিত অব্যাহত প্রতিবাদ করা। যদিও অনেকে আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তারপরও বিচার চেয়ে যেতে হবে।

  6. গত বছরের শেষের দিকে এই ব্লগেই
    গত বছরের শেষের দিকে এই ব্লগেই “ইকারাস” নামক একজনের সাথে বাক বিতন্ডা হয়ছিলো। উত্তেজনাবশত আমি তাকে কিছুটা হুমকির স্বরে কথা বলেছিলাম। ঐ কমেন্টের কারণে আতঙ্কে আছি। এর কিছুদিন পর ফেসবুকের এক পেজে শওকত ভাই আর ইকারাসের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়া হয়েছিলো। যেখানে ইকারাসকে “নিলয় নীল” নামে অভিহিত করা হয়েছিলো।
    সরকার ব্লগার হত্যার সুরাহা এত তাড়াতাড়ি করবে না। আপনাদের সতর্ক থাকা উচিত। গণজাগরণ প্লাটফর্ম ভূমিষ্ট না হলে এভাবে ব্লগারদের রাস্তাঘাটে কুত্তার মত মরতে হত না

  7. তৌহিদ গ্রুপকে দিয়ে ঘটনা
    তৌহিদ গ্রুপকে দিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছি। বাইরের চাপের কারণে সরকার একট কিছু করে দেখাচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের আড়াল করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 60 = 66