ফুলবাড়ী ঘিরে এখনও অনেক প্রশ্ন!

২৬ আগস্ট, ২০১৫ ছিল ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানের দশম বর্ষে পদার্পণ। দেশবাসী উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী সংগ্রামের এক দশক পার করে ফেলেছেন। জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনও এই সময়পর্বে অনেক পরিপক্ক হয়েছে। কিন্তু ফুলবাড়ীতে অভ্যুত্থানের সূচনা ঘটানো মানুষগুলো এখনো আশঙ্কার মধ্যেই বাস করে।

২০০৬ সালের ২৬ আগস্টে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ীসহ ছয়টি থানার বাঙালি আদিবাসী নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জির (বর্তমান নাম গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্ট বা জিসিএম) উন্মুক্ত খনন পদ্ধতির ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে জমায়েত হয়েছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবেই তারা এশিয়া এনার্জি ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেন। কর্মসূচী শেষে যখন মানুষ ঘরে ফিরছিল, তখনই নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালায় সরকারি বাহিনী।

জনতা চেয়েছিল উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি না করা হোক। এতে তাদের ভিটামাটি থাকবে না, বিরাট এলাকা মরুকরণ হবে, চাষাবাদ ধ্বংস হবে, ভূগর্ভস্থ পানির আধার বিলুপ্ত হবে! বিনিময়ে দেশের কয়লা বিদেশীরা পাবে ৯৪ ভাগ, আর সরকার পাবে ছয় ভাগ। এই অন্যায় চুক্তির বিরুদ্ধে মানুষ সেদিন স্পষ্ট রায় দিয়েছিল। অথচ তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার গণরায়কে গুলি দিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা করে। ফুলবাড়ীর মানুষ জীবন দিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তবু মাঠ ছাড়েননি, আজো তারা বিরোধিতা করে চলেছেন মানুষ, প্রকৃতি ও জীবনবিরোধী ঘৃন্য মুনাফাখরদের।

২৬ আগস্ট সরকারি পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন আমিনুল, সালেকিন ও তরিকুল। মারাত্মকভাবে আহত হন বাবলু রায়, প্রদীপ রায়, শ্রীমন বাস্কে, আহত হন আরও প্রায় দুই শতাধিক সাধারণ মানুষ। এরপর জনতাও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। সরকার তড়িঘড়ি করে ওই এলাকা থেকে বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) প্রত্যাহার করে। জনতা জিসিএমের সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিতদের স্থাপনায় আগুন দেয়। সারাদেশে ফুলবাড়ীর পক্ষে গণজোয়ার তৈরী হয়। এতে ভীত হয়ে সরকার ৩০ আগস্ট ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে জনগণের দাবি মেনে নেয়।

?oh=c8e03443bd763063171d07f72a2454cd&oe=56818273&__gda__=1450308445_adb10a2e5d45dfcc8ea28d331a85fb0a” width=”400″ />

ফুলবাড়িতে গণ আন্দোলনের এই জয় কেবল খনিবিরোধী আন্দোলনই নয়, চাঙা করে সব ধরণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনকেও। এমনকি নিপীড়িত, দরিদ্র, শ্রমজীবী মানুষরা এ থেকে শক্তি পান। কিন্তু সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে, রাষ্ট্রের নীতিমালায় যদি মৌলিক পরিবর্তন না আনা গেলে এরকম জয়ের সুফল ধরে রাখা কঠিন। ফুলবাড়ীতেও তাই হয়েছে। যেহেতু রাষ্ট্রীয় নীতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, তাই চুক্তি হওয়ার পরেও তা আজো পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং নানা উপায়ে উন্মুক্ত খনি করার চক্রান্ত ও এর সপক্ষে জনমত তৈরীর চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ, মন্ত্রী, আমলা, রাজনীতিক, সব পক্ষের লোকদেরই দেখা গেছে সেই চক্রান্তে মিলিত হতে! গণঅভ্যুত্থানের এক দশক পার হলেও ফুলবাড়ীর ভবিষৎ নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ফুলবাড়ী অভ্যুত্থানের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিরোধীদলীয় নেত্রী। ক্ষমতায় গেলে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করবেন বলে তিনি তখন দৃঢ় অঙ্গীকার করেন। যদিও তিনি ইতোমধ্যে দুবার ক্ষমতায় এসেছেন, কিন্তু এখনও সেই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং চারদলীয় জোট সরকারের বিদায় ঘটলে জরুরী মেয়াদ পেরিয়ে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তারাই উল্টো জিসিএমকে খনি পেতে সহায়তা করে। এ নিয়ে উইকিলিকস অনেক কিছুই ছেপেছে। কিন্তু দেশি-বিদেশি মুনাফাকারীদের স্বার্থে চক্রান্তকারীদের ভূমিকা অপরিবর্তিত আছে।

জিসিএম এখনো ফুলবাড়ীর আশেপাশের এলাকায় তাদের কিছু লোককে নিয়োজিত রেখেছে। অভিযোগ আছে, এরা তরুণদের মাদক সরবরাহ করে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় ওই এলাকায় মাদক খুব সুলভ। আর মাদক নির্ভর করেই স্থানীয় তরুণদের মাথা কেনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে অনেকদিন ধরে। জিসিএম এখনো মরিয়া হয়ে তাদের লবিং চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে তারা লবিং এর জন্য ফোরথট পিআর গ্রুপকে নিয়োগ দিয়েছিল। বিভিন্ন পত্রিকায় তারা আগে থেকেই বিজ্ঞাপন দেয়, যারা কিনা সেসব বিশেষজ্ঞদের লেখা ছাপে, যারা উন্মুক্ত খননের পক্ষে যুক্তি দেখায়। এমনকি বিদেশ থেকে ভাড়া করে ইকোনমিক হিটম্যানকেও লাগিয়েছে তারা। তবু তারা বেকায়দাতেই আছে, কারণ একটাই জনগণের ঐক্য। তা সত্ত্বেও আশঙ্কার জায়গাটা হচ্ছে, জিসিএমের অবৈধ অর্থ ও তাদের ওপর সরকারের মধ্যে থাকা এক অংশের সমর্থন।

সরকার পক্ষের জিসিএম দরদই এখনো ফুলবাড়ীতে প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁটে রেখেছে। ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন তো এখনো হয়নি, বরং হুলিয়া আছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে! গত বছরের ২৬ নভেম্বর জিসিএম প্রধান গ্যারি এন লাইয়ের আগমনকে রুখে দাঁড়ায় জনতা। তারা ফুলবাড়ির রাজারামপুর এলাকায় জিসিএমের কার্যালয় ও গ্যারি এন লাইয়ের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ গ্যারি লাইসহ এশিয়া এনার্জির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেখান থেকে উদ্ধার করে দিনাজপুরে নিয়ে আসে। এরপর পুলিশ মামলা দেয় স্থানীয় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। যা এখনও জারি আছে। অথচ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে গ্যারি লাইয়ের ফুলবাড়ীতে যাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না।

?oh=b9a4f1208ae3d5782aa006659fb60158&oe=567120BE” width=”400″ />

চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে দেশের ক্ষতিও হচ্ছে। দেশের সম্পদ ফুলবাড়ীর কয়লাকে পুঁজি করে লন্ডনের শেয়ারবাজারে ব্যবসা করছে জিসিএম। সরকারকে নানাভাবে জানানোর পরেও তারা এটা থামানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও তারা একথা বলে আসছে যে, জিসিএমের সঙ্গে এখন আর কোনো চুক্তি নেই। কিন্তু উন্মুক্ত খননের পক্ষে এখনো সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, আমলারা খোলাখুলি মতামত দেন। আর ফুলবাড়ীর প্রশ্নে তাদের কখনোই জিসিএমের কোনো বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি। ফলে কখন কিভাবে আবার এই ভূত চড়ে বসে, তা নিয়ে আশঙ্কা আছে ফুলবাড়িসহ উন্মুক্ত খনিবিরোধী সারা দেশের জনগণের মধ্যেই।

ফুলবাড়ি আন্দোলনের পরিচালনা সংগঠন তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে প্রতি বছর সারাদেশে ২৬ আগস্টে ফুলবাড়ী দিবস পালিত হয়ে থাকে। এ বছরও তার অন্যথা ঘটেনি। জাতীয় কমিটি এবারের ফুলবাড়ি দিবসে আহবান জানিয়েছে, জাতীয় সম্পদের উপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত, উন্মুক্ত খনন ও খনিজসম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ এবং জাতীয় সক্ষমতার বিকাশসহ জাতীয় কমিটির সাত দফা বাস্তবায়ন করতে হবে। আন্দোলনকারীরা জনস্বার্থ প্রতিষ্ঠায় ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে জনতাকে আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

ফুলবাড়ির পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উঠে এসেছে জাতীয় কমিটির দাবিনামায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, এশিয়া এনার্জি (জিসিএম) বহিষ্কারসহ রক্তে লেখা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন কর। ফুলবাড়ী, বিরামপুর, পার্বতীপুর, নবাবগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া ধ্বংস করে উন্মুক্ত খনির চক্রান্ত বন্ধ কর। সুন্দরবন ধ্বংসকারী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল কর। বঙ্গোপসাগরে গ্যাসসম্পদ নিয়ে লুটপাটের চুক্তি বন্ধ কর। বাপেক্সকে দুর্বল করে বিদেশি কোম্পানির হাতে গ্যাসসম্পদ তুলে দেয়া চলবে না। বিদ্যুৎ খাতে দুর্বত্ত তৎপরতা বন্ধ কর। এসব দাবি সামনে রেখে ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ অভিমুখে র‌্যালি ও শেষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সম্প্রতি একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন, ‘সরকার যদি জনগণের সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষার বিপরীতে অবস্থান নেয়, তাহলে জনগণকেই সজাগ-সক্রিয় পাহারাদারের ভূমিকা নিতে হয়। বাংলাদেশের জনগণ বারবার এই ভূমিকা নিয়েছে বলেই বাংলাদেশ নিয়ে অন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন আমরা এখনও দেখতে পারি। ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান এবং এখন পর্যন্ত জনগণের সজাগ অবস্থান তাই আমাদের সাহস ও নিশানা। রক্তে লেখা ‘ফুলবাড়ী চুক্তি’র পূর্ণ বাস্তবায়ন না করে, কয়লাসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার কিংবা বৃহৎ অর্থে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার কোন স্বচ্ছ ও টেকসই পথ নির্মাণ করা যাবে না। শহীদের রক্তে যে পথ তৈরি হয়েছে, তা দেশী-বিদেশী জনশত্রুদের শকুন তৎপরতা সফল হতে দেবে না।’

ফুলবাড়ীর উন্মুক্ত খনিবিরোধী আন্দোলনের চেতনা এক জায়গায় থেমে থাকেনি। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা সুসংহত চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি, ভুল-সঠিকতার পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠছে ভবিষ্যৎ গণ আন্দোলনের রূপরেখাও। উন্মুক্ত না, এই শ্লোগান এখন আরও বড় হয়েছে, এতে যোগ হয়েছে, বিদেশি না, রপ্তানী না। জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কেও সচেতন হচ্ছে দেশবাসী। সরকার এই ধারাবাহিকতাকে উপলব্ধি কবে করবে তার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। তবে সরকারের এই না বোঝার ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে তা নিশ্চয়ই জাতীয় স্বার্থের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে।

বিদেশী লবিস্টদের অপতৎপরতা সম্পর্কে জানতে পড়ুন এই প্রবন্ধটি- ‘কে এই ফরেস্ট কুকসন?’

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “ফুলবাড়ী ঘিরে এখনও অনেক প্রশ্ন!

  1. উন্মুক্ত না, এই শ্লোগান এখন
    উন্মুক্ত না, এই শ্লোগান এখন আরও বড় হয়েছে, এতে যোগ হয়েছে, বিদেশি না, রপ্তানী না। জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কেও সচেতন হচ্ছে দেশবাসী। সরকার এই ধারাবাহিকতাকে উপলব্ধি কবে করবে তার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। শুধু ফুলবাড়ি চুক্তিই নয় পার্বত্য শান্তি চুক্তি সহ অনেক চুক্তিই অধরা রয়েছে যা বাস্তবায়নে এসব বুর্জোয়া শক্তির উপর নির্ভরশীল না হয়ে বরং জনগনের শক্তিকে একত্রিত করে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

  2. ৬ কিলো ক্যালোরির উচ্চ তাপ
    ৬ কিলো ক্যালোরির উচ্চ তাপ বিশিষ্ট কয়লা এটি । বগুড়াতে টানেল কিলন এ ব্যাবহার করে ভাল ফল পেয়েছি। কয়লা দেশের প্রয়োজনে লাগাতে হবে। ফুলবাড়ি খুলনা মংলা রেলপথ বিদেশে কয়লা রফতানির জন্য নির্মিত হচ্ছেনা । ওটা রাম্পাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য। কারন রফতানি করলে চার দফা শিফটিং খরচ লাগবে যা ব্যয়বহুল। দেখা যাক কি হয়।

  3. সরকার এখন আর মানুষের মাধ্যমে
    সরকার এখন আর মানুষের মাধ্যমে নির্বাচিত না। জোর যার মুল্লুক তার। আওয়ামীলীগ এই নীতিতে দেশ চালাচ্ছে। দেশে চলছে একদলীয় শাসন। সরকার হয়ে উঠেছে স্বৈরচারী। বাকশাল কায়েমের পথে হাটছে সরকার। ফলাফল ভাল হবে না। অতীত থেকে শিক্ষা নেয় না। ইতিহাসের পূনারাবৃত্তি দেখতে যাচ্ছি আমরা।

    এমন পরিস্থিতিতে সরকার সব জাতীয় সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টা করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 + = 18