ছাগলাক্রান্ত সময়ের কাসুন্দি

এক.
গোটা রাষ্ট্র , সমাজ, সময় সব কিছু ছাগলতূল্য নির্বোধ , মুর্খদের দ্বারা অাক্রান্ত । যখন একেরপর এক মুসলিম মৌলবাদিরা আমার স্বজন , আমার ভাইকে কতল করছে । তখন সেইসব খুনিদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য কোন ব্যাবস্থা না নিয়ে রাষ্ট্রের কর্তা , মুৎসুদ্দিরা উল্টো ব্লগে ধর্মানুভুতিতে আঘাত দিয়ে যেন কিছু লেখা না হয় তার জন্য বয়ান দিচ্ছেন । কেউ কেউ আবার বলছে ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু ফেসবুক, ব্লগে যদি কেউ কিছু লিখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে শাস্তি মূলক ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে । এখন এ রাজ্যের একজন অসহায় নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের এসব মহামান্যদের কাছে সবিনয় জিজ্ঞাসা যে কতটুকু লিখলে ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগে তার সীমা কে নির্ধারন করবে ? তাছাড়া গত আড়াই বছরে যে কজন ব্লগার, অন লাইন এ্যাকটিভিস্টকে খুন করা হয়েছে , যে শুয়োর শাবক গুলো এ হত্যা কান্ড গুলো ঘটিয়েছে তাদের ব্যাপারে শুধু ” তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে আমরা জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি’র ” মতো চোদনা মার্কা বক্তব্য দেয়া ছাড়া কি চুলটা উৎপাটন করেছেন অনুগ্রহ করে বলবেন কি ??? বরং বলি কি এতসব টালবাহানা না করে বরং ব্লাসফেমী আইনটা চালু করে অনুগ্রহ পূর্বক নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করুন । গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ যে দিনে দিনে ইসলামী মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিনত হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । কবি শামসুর রাহমান হয়ত অনেকদিন আগেই বাঙালির মনস্তত্ব বুঝেছিলেন এবং লিখেছিলেন ,
“উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ বিরানায়, মুক্তিযুদ্ধ হায় বৃথা যায় , বৃথা যায় বৃথা যায়”

দুই.
১৯৭১ এ যখন মুক্তিকামী বাঙালি বুদ্ধজীবিদের ভারতের দালাল , ইসলামের শত্রু বলে স্বাধীনতার উষা লগ্নে পাকিস্তানি হায়নাদের এদেশীয় সহযোগী শুযোরের বাচ্চাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল । ঠিক একই ভাবে স্বাধীনতার ৪২ বছর পর যখন সেই খুনি , ধর্ষক গো.আজম, নিজামী, মুজাহিদ,সাইদী , সাকা’দের বিচারের দাবীতে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম আন্দোলনে সোচ্চার যারা কলম কি বোর্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতা তথা বাঙালি জাতির জন্ম শত্রু , ধর্মান্ধ , মৌলবাদীদের মুখোশ উন্মোচন করছে , তাদের ভন্ডামীর বিরুদ্ধে লিখে চলছে অবিরাম । ঠিক তখনই তাদের নাস্তিক আখ্যা দিয়ে একে একে কতল করা হচ্ছে । স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী হায়নাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার , আল বদর , আল সামস এর শুযোর গুলো গত চার দশকে কয়েক কোটি নব্য রাজাকার , আল বদর , আল সামস এর জন্ম দিয়েছে । যারা এখন নতুন করে তাদের পাকিস্তানি প্রভূদের পুরোনো হিসেব মেলাতে মরিয়া হযে উঠেছে । তারা প্রকাশ্য ধর্মকে ব্যবহার করে এসব হত্যাকান্ড গুলোকে জায়েজ করার ঘৃন্য পায়তারা করছে । আর প্রগতির ধ্বজাধারী বুর্জোয়া শাসক শ্রেনি চিহ্নত হত্যাকারী ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা । আজ রাষ্ট্রের মহামহিম ধিমানদের কাছে প্রশ্ন বস্তুত পক্ষে যারা মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত অর্জন গুলো প্রতিনিয়ত ধংশ করছে তাদের পৃষ্ঠ পোষকতা করে এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মৌখিক ফেরী আর কতদিন করবেন ??????

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

38 − = 32