১১ এপ্রিল ঘিরে শিবিরের খুনের নীলনকশা

সরকারের শেষ সময়ে এসে নিত্য নতুন কৌশলে তাণ্ডব সৃষ্টি করছে শিবিরের কর্মীরা। বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের নীল নকশা করছে জামায়াত-শিবির। আতংক এখন সর্বত্র।
১১ এপ্রিলকে ঘিরে জামায়াত-শিবির এক সর্বনাশা নীলনকশা নিয়ে মাঠে নামবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। শিবিরের সভাপতি গ্রেফতার এবং তার জামিন না পাওয়ায় কাল হার্ডলাইনে থাকবে শিবির। অন্যদিকে ‘শিবিরের সভাপতিকে রিমান্ডে মেরে কয়েকবার অজ্ঞান করে ফেলা হয়েছে‘ এমন সংবাদ প্রচার করে তারা হরতালে সকল শিবির কর্মীকে নাশকতা ঘটানোয় উদ্বুদ্ধ করছে।

হেফাজত ইসলামীর মাঠ দখলের মাঝে শিবিরও সক্রীয় হতে চায়, সুত্র থেকে জানা গেছে, আগামীকাল চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে বেশ কিছু লাশ ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সে ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটা লাশ চায় জামাত শিবির। জামাত শিবির মনে করছে, স্বাভাবিক রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রক্রিয়ায় তাদের দাবি আদায় সম্ভব নয় বলে মরলে ‘শেষ কামড়টা’ দিয়েই মরতে চায় তারা। কে বা কারা এই হামলার শিকার হবে এ ব্যাপারে জানা যায়নি।

যেহেতু ব্লগার এবং দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন বুদ্ধিজীবি তাদের আগে থেকেই টার্গেট, সেহেতু এরাও হতে পারে টার্গেট। অথবা একেবারে আম জনতাও হতে পারে টার্গেট।

দেশ ব্যাপী নির্বিচারে সহিংসতা চালানোর মূল লক্ষ্য হলো তারা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চায়। জামাত শিবিরের ধারণা,বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে পিছপা হবে না। জামায়াতকেও নিষিদ্ধ করবে। ফলে অস্তিত্ব রক্ষায় যা যা করণীয়, তা-ই করবে তারা। তাদের আশু লক্ষ্য,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালানো। তাদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা। আরেকটি লক্ষ্য হলো,রাজধানী ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। এই মুহুর্তে নিজেরা সামনে না এসে হেফাজতিরা যেহেতু মাঠে আছে, তাই তাদের দিয়ে কাজ হাসিল করার প্ল্যান তাদের।

সহিংস আন্দোলনের কৌশল হিসেবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। যার মধ্য অন্যতম বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেল লাইনসহ বড় বড় স্থাপনায় গুপ্ত হামলা করা। রেলে হামলা করলেও এতোদিনে বড় কোনো নাশকতা তারা ঘটাতে পারেনি। সামনে আরো বড় হামলার প্ল্যান করছে তারা। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নানা কৌশলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকেও সহিংসতায় নামিয়েছে দলটি। রাজধানী থেকে এসব জেলা ও এলাকা বিচ্ছিন্ন করতে তৎপরতা চালাচ্ছে তারা। এর জন্য পরিকল্পিতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর হামলা করা হচ্ছে।
জামায়াতের লক্ষ্যই কী করে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা যায়। রেলপথ উপড়ে ফেলা ও সড়কপথ অবরোধ করা হচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইটগুলো থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কী করে সহজ উপায় ও স্বল্পসময়ে রেললাইন উপড়ে ফেলা যায়। গাছ ফেলে ও গর্ত খুঁড়ে মহাসড়ক যান চলাচল অযোগ্য করা যায়, তার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে মহাসড়কের গাছগুলো কেটে সড়কে ফেলা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে শিবির নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজ ‘বাঁশের কেল্লা‘ থেকে।
আমদানি-রফতানির কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। নৌবাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে সেটি সহজ হচ্ছে না। তবে সময়-সুযোগ হলে গুপ্ত হামলা চালিয়ে বন্দরও অচল তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৭ thoughts on “১১ এপ্রিল ঘিরে শিবিরের খুনের নীলনকশা

  1. যতদুর মনে হচ্ছে তারা আসন্ন
    যতদুর মনে হচ্ছে তারা আসন্ন পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করেই জনমনে আতঙ্ক তৈরী করতেই জামায়াত-শিবির এই নীল নকশার ছক এঁকেছে। একেতো তারা হেফাজতীদের অর্থ দিয়ে মাঠে নামিয়েছে, এখন হেফাজতীদের দ্বারা স্বার্থ হাসিল না হওয়াতে তারা ঐ হেফাজতীদের কাঁধেই বন্দুক চাপিয়ে এখন এসব পরিকল্পনা নিচ্ছে।
    এখন দরকার প্রশাসনসহ সকল মহলের সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। প্রয়োজনে এলাকায় এলাকায় এই মুহুর্তেই থেকেই মাইকিং শুরু করে দেওয়া দরকার।

  2. আতংকজনক খবর! এইটা এখন
    আতংকজনক খবর! এইটা এখন সুনিশ্চিত জামায়াত-শিবির তাদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনে দেশে রক্তের নদী বইয়ে দেব। দেশের বিভিন্ন মহল আগে থেকেই এসব আশংকা করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিল। বিশেষ করে ঘাত-দালাল নির্র্মূল কমিটিসহ দেশের অনেক বুদ্ধিজীবিমহল জামায়াত-শিবিরের হিংস্রতা নিয়ে সরকারকে সাবধান করেছিল। কিন্তু অজানা এক কারণে সরকার এসব কথাকে পাত্তা দেয়নি। আজ আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।

    প্রজন্মের জনগণ, তৈরী থাক। জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করেই আমরা এই দেশটাকে আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে যাব।

  3. আমারও মনে হয় তারা ১লা
    আমারও মনে হয় তারা ১লা বৈশাখকেই বেছে নিবে! বিগত দিনের রমনার বটমূলের ঘটনার মত! সুতরাং সকল সরকারি সংস্থা, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সকল স্তরের জনসাধারণকে সতর্ক করা দরকার এই মুহুর্তে…সেসাথে তাদের প্রতিরোধ করার প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে..

  4. জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত

    জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রিত ওয়েবসাইটগুলো থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কী করে সহজ উপায় ও স্বল্পসময়ে রেললাইন উপড়ে ফেলা যায়। গাছ ফেলে ও গর্ত খুঁড়ে মহাসড়ক যান চলাচল অযোগ্য করা যায়, তার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে মহাসড়কের গাছগুলো কেটে সড়কে ফেলা রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে শিবির নিয়ন্ত্রিত ফেসবুক পেজ ‘বাঁশের কেল্লা’ থেকে।

    এসব ওয়েব সাইট বা পেইজ বিটিআরসির চোখে পড়ে না। ওরা ব্যস্ত ফেসবুকে কে কোন পেইজে বা পোস্টে লাইক দিলো সেটা খোঁজায়। আজীব এক দেশ এইটা। নিজেদের নিরাপত্তা যদি জনগণের নিজেকেই নিশ্চিত করতে হয় তাহলে ট্যাক্স ফ্যাক্স দিয়ে সরকারী বাহিনী পোষার দরকার কি?

  5. আমাদের দুর্ভাগ্য প্রয়োজনীয়
    আমাদের দুর্ভাগ্য প্রয়োজনীয় জায়গায় যোগ্য লোক নিয়োগ দেয়া হয় না। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে। বিটিআরসি কি তার ব্যতিক্রম, নিশ্চয় নয়। বিটিআরসিতে নিশ্চয় অভিজ্ঞ লোক নাই! তা যদি হবে তবে জামাতিরা এখনও কি করে নেটের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে? কিভাবে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে?

  6. আপনি কিভাবে এতখবর পেলেন সোর্স
    আপনি কিভাবে এতখবর পেলেন সোর্স গুলো আরো পরিস্কার করে জানানো উচিত ছিল। তাতে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপকারে আসবে। অন্যথায় এই রকম কোন লিখা দয়া করে PUBLISH কইরেন না, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

  7. আজকে লালদিঘি আমানত শাহ
    আজকে লালদিঘি আমানত শাহ মাজারের সামনে দিয়ে আসার সময় হঠাত দেখলাম চট্টগ্রাম কলেজের শিবিরের সভাপতি (যিনি হোস্টেলে থাকেন ), চোখাচোখি হবার পর হাসলেও বুঝতে পারলাম কেন জানি তিনি আমার সাথে কথা বলতে চাইছেন না , আমিও কথা না বলে সোজা চলে আসলাম(যদিও সন্দেহ হচ্ছিল ) । বক্সির হাট মোড়ে এসে হঠাত শুনি পেছনে হট্টগোল , তাকায় দেখি শিবিরের মিছিল , তবে কোনো ভাংচুর হয় নি !!
    যাইহোক বলতে চাচ্ছি , কেউ পরিচিত কোনো জামাত শিবির সমর্থককে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখলে নিজে সাবধান হয়ে যাবেন এবং আশেপাশের মানুষকে সাবধান করে দিবেন অথবা যদি লোকজনসহ সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে থাকেন তাইলে একটা রামপিডা দেয়ার জন্য তৈরি হয়ে যাবেন !!
    জয় বাংলা !!

  8. বোঝা যাচ্ছে যে, এই নিয়ে আরো
    বোঝা যাচ্ছে যে, এই নিয়ে আরো একবার মরণ কামড় দিতে মাঠে নামছে জামায়াত-শিবিরের নাশকতাবাহিনীরা। সবার-ই এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার … হেলায় গা ভাসালে চলবেনা।

    প্রকৃতিতে বড় কোন প্রলয় হওয়ার আগে প্রকৃতি যেমন সুনসান নীরবতা আর গুমরে থাকার রূপ ধারণ করে, ঠিক তেমনি জামায়াত-শিবিরের নিস্তব্ধতাও ঐরকম কিছু ইঙ্গিত করে।

  9. জীবনটা কেমন যেন হয়ে গেছে। দুই
    জীবনটা কেমন যেন হয়ে গেছে। দুই পয়সার দামও নেই এই জীবনের। একটু স্বস্থি খুঁজি-আরো অস্থির হয়ে যায় জীবন

  10. আনিস ভাইয়া এবং শামীমা আপু,
    আনিস ভাইয়া এবং শামীমা আপু, প্লীজ হতাশ হইয়েন্না।

    দেখবেন আমরাও আমাদের পূর্বপুরুষদের মত বিজয়ী হয়ে, একদিন নতুন দিনের নতুন আলো’তে জীবন’টাকে আবার গুছিয়ে নিতে পারবো।
    প্রজন্মের চেতনা আর বিশ্বাস কখনো মিথ্যা হতে পারেনা।

  11. সকলের চারিপাশে অনুষ্ঠিতব্য
    সকলের চারিপাশে অনুষ্ঠিতব্য নববর্ষের সকল অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সতর্ক অবস্থায় রাখুন, যেন কুকুরের দল কামড়ে দেয়ার পূর্বেই মুগুর দিয়ে কুকুর তাড়ানো পিটানি দেয়া যায়..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1