কাদো বাংলাদেশ

জাতীয়তা বাংলাদেশী প্রানী জবর বুদ্ধিমান,
নয় বটে সে বঙ্গাল কিন্তু সুরত সাচ্চা মুসলমান।
হিরোইনের চালান বেচে তল্পি গড়ে জামাতের,
বুদ্ধিমন্ত মানুষ পেলে কতল করে কয় কাফের।

আজ কাদছে বাংলাদেশ। বিয়াল্লিশ বছরেও অর্জিত হয়নি আমাদের কাংখিত স্বাধীনতা। আমাদের জন্মকালীন কলংককেই বয়ে বেড়াতে হচ্ছে এখনো। কত সহেজেই মহান মুক্তিযুদ্ধকে আজ দাড় করানো যায় প্রশ্নের কাঠগড়ায়! কোন কোন বাচাল হস্তিনী ও তার আচল ঘেষা যৌনান্ধরা তিরিশ লক্ষ শহীদের মিছিলকে কটাক্ষ করে অবলীলায়। আর আমরা শুধু শুনে যাই। আবার কেউ কেউ শদুয়েক বা তার চেয়ে কম উগ্র শাপদ হায়েনার মৃত্যুকে গনহত্যা বলে চালিয়ে দেন সব রকম লজ্জার মাথা খেয়ে। তাদের কাছে লাখ শহীদের রক্তকে শুধুই লাল রং বলে মনে হয়। হাজার মায়ের সম্ভ্রম লুটকারী নরপিশাচেরা আজ জাতীয় বীরে পরিনত হয়েছে। এরা লাখো শহীদ ও সম্ভ্রমহীনা মায়েদের লাশ মাড়িয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে রাজপথ, সংসদ, সচিবালয় থেকে মন্ত্রনালয়। আর আমরা যন্ত্রনাগুলোকে বুকে বয়ে ফেরি করে ফিরি দারে দারে। কিন্তু বড্ড দেরী হয়ে গেছে। আমাদের আগেই হতভাগা বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে পৌছে গেছে ধর্ম নামক এক হেমলক বিষ। বিষের নীল ছোবলে বাঙ্গালী আজ হয়ে গেছে আরবী ধর্মের একনিষ্ঠ ও অন্ধ উন্মাদ। বাঙ্গালী আজ নিজেকে ধার্মিক বলে পরিচয় দিয়ে গর্বে বুক ফোলায়। তাদের কাছে দেশ শুধুই একটা স্থান ভিন্ন কিছু নয়।

আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
কাদো বাংলাদেশ কাদো। তোমার সূর্য সন্তানেরা চলে গেছে অস্তমিত সুর্যের সাথে সাথে দুর অজানায়। আমরা আজ ঘোর অমাবস্যায় নিমজ্জিত এক অভাগা জাতি। আজ তোমার বুকে হায়েনারা গেড়ছে বিষবৃক্ষের শিকড়। বিষবৃক্ষের শিকড় উপড়াতে গিয়ে তারুন্য আজ শতধা বিভক্ত। তারুন্যের উপর নেমে এসেছে ধর্ম অবমাননা নামক এক উদ্ভট ধারালো খড়গ।

তবু আশায় বুক বাধি সুর্য উঠবেই। আলোকের অভিযাত্রীরা বসে নেই। জানি হে স্বাধীনতা, তুমি খুব নিকটেই। ততক্ষন পর্যন্ত কাদো বাংলাদেশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “কাদো বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

75 − = 72