ধর্ম – আল্লাহ – ঈশ্বর, নাস্তিকতা ও মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ প্রসঙ্গঃ বুর্জোয়াদের বন্দুক যখন কমিউনিস্টদের কাধে ! কিস্তি – ৩

আগের পর্বের লিংক এখানে

১।
গত পর্বে আমরা ঈশ্বর প্রসঙ্গে কার্ল মার্ক্সের পিএইচডি থিসিস থেকে উদ্ধৃত করেছিলাম। যেখানে কার্ল মার্ক্স ঈশ্বরের অস্তিত্ব কে ফাকা বুলি আর বুজরুকি বলেছেন। ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতার ধারনা কেবল মার্ক্সের ব্যক্তিগত মতামত নয়, এটা মার্ক্সবাদের অন্তর্গত। যে মার্ক্সবাদ পৃথিবীর বিকাশে ডারুইনের বিবরতনবাদ কে সবচাইতে যৌক্তিক পদ্ধতি ও তত্ত্ব বলে মনে করে থাকে। তাই অস্তিত্বহীন ঈশ্বর মার্ক্সের পরবর্তী আলোচনায় গৌন হয়ে ওঠেন। আদম আর হাওয়া থেকে সমগ্র মানবজাতির সৃষ্টি এই উদ্ভট তত্ত্বের উপরে কোনও মার্ক্সবাদীদের আস্থা থাকার সুযোগ নেই। ধর্ম প্রসঙ্গে ফয়েরবাখের প্রতি মার্ক্সের সুনির্দিষ্ট সমালোচনা ছিলো একারনে যে ফয়েরবাখ ধর্মের ধ্বংস চাননি, বরং ধর্মের রিনিউয়াল বা নবীকরন চেয়েছিলেন। কিন্তু কার্ল মার্ক্স কেনও ধর্মের ধ্বংস চান? কেনও কার্ল মার্ক্স বলেন, শ্রেনীহীন সমাজে ধর্মের স্থায়ী মৃত্যু ঘটবে? এটা কি এই জন্যে যে ধর্ম খুব খারাপ কিছু? না তা নয়, মার্ক্সের ধর্ম বিষয়ক উপসংহার কোনও “ভালো/মন্দ” তাড়িত নয়। মার্ক্সবাদ ধর্মকে বিভ্রান্ত মানুষের মনের কল্পনা মনে করে যা সকল্ অর্থে শ্রমিক শ্রেনীর সংগ্রাম কে পেছনে টেনে ধরে রাখে। ধর্মের সৃষ্টি নিয়ে মার্ক্স আলোচনা করেছেন হেগেলের দর্শনের সমালোচনা প্রবন্ধে। এঙ্গেলস বর্ণনা করেছেন মানুষ ও তার চারপাশের সমাজ কিভাবে ধর্মের সৃষ্টি করে সে প্রসঙ্গে তার “এন্টি ডুরিং” লেখায়। মারক্স এঙ্গেলস এর পরের লেখার কোথাও কোথাও প্রসঙ্গ ক্রমে ধর্মের আলোচনা এসেছে। ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদের সার কথাটি খুবই সহজ, দেখুনঃ

১ – ধর্ম মানুষের তৈরী, মানুষ ধর্মের তৈরী নয়। এটা কার্ল মার্ক্সের সরাসরি বিবৃতি। মার্ক্স লিখছেন মানুষ ধর্ম তৈরী করে, ধর্ম মানুষ তৈরী করেনা। অন্যকথায়, ধর্ম হচ্ছে এক ধরনের বিভ্রান্তি বা ইলিউশন, মানুষ যখন নিজেকে হারিয়ে ফেলে বা যে মানুষ কখনই নিজেকে খুঁজে পায়নি, তার বা তাদের জীবনেই ধর্মের স্থান আছে।

২ – মানুষ কে তাঁর সংগ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যে ধর্ম একটি প্রধান ভুমিকা পালন করে যা প্রকারন্তরে পুজিবাদের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসাবেই কাজ করে। ধর্ম মানুষ কে শেখায়, এ জীবনে প্রতিবাদ করে – সংগ্রাম করে কোনও লাভ নেই, বরং একজন সর্বময় খমতাধর আছেন ওই আকাশের উপরে বসে, যিনি সবকিছু দেখছেন এবং একদিন তিনিই সবকিছুর বিচার করবেন। এই ইলিউশন বা বিভ্রান্তি টি হচ্ছে ধর্মের প্রাণ। মার্ক্স লিখেছেন – ধর্ম হচ্ছে সেই বিভ্রান্তির সূর্য যা মানুষের চারপাশে ঘুরতে থাকে যতক্ষণ না সেই মানুশটি নিজেই নিজের চারপাশে ঘুরতে না শেখে”। অর্থাৎ মানুষ যখন নিজের বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠে কেবল তখনই সম্ভব ধর্মের বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসা। আর এই বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসার সবচাইতে ভালো পথ ধর্মকে সমালোচনার মধ্যে নিয়ে আসা। মার্ক্স লিখছেন – যেকোনো সমালোচনার শুরু হচ্ছে ধর্মের সমালোচনা।

ধর্ম কোনও গায়েবী বিষয় নয়, আকাশ থেকে কোনও একজন ঈশ্বর পুত্রের উপরে নাজেল হওয়া কোনও কিছু নয়। আল্লাহ – ঈশ্বর বা ভগবানের সৃষ্টি নয়, ধর্ম মানুষের সৃষ্টি। মানুষ আর তার চারপাশের সমাজ ধর্মের জন্ম দেয়। ধর্ম প্রসঙ্গে এটাই মার্ক্সবাদের সার কথা, জিজ্ঞাসা হলো ধর্মের স্রিস্টির এই বক্তব্যটি কি নিরীশ্বরবাদী নয়? যেখানে আল্লাহ – ঈশ্বর – ভগবান কে খারিজ করে মানুশকেই ধর্মের স্রষ্টা বলা হচ্ছে, এটা কি কোনও ঈশ্বরবাদী বক্তব্য?

২।
পরিনত কার্ল মার্ক্সের লেখায় ধর্ম প্রসঙ্গে খুব বড়ো আকারের আলোচনা পাওয়া যায়না। এর কারণটি আর কিছুই নয়, খোদ কার্ল মার্ক্স মনে করতেন, জার্মানিতে ধর্মের যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে এবং কার্যত জার্মানিতে ধর্মের সমালোচনা শেষ হয়েছে। তার পূর্ববর্তী ব্রুনো বাউয়ার বা ফয়েরবাখ সেই কাজটি বেশ ভালো ভাবেই করেছেন। কার্ল মার্ক্স ধর্মের সমালোচনা করেছেন দর্শনের আলোচনা করতে গিয়ে কিন্তু মার্ক্সবাদ ঈশ্বর কে খারিজ করে শুধু দর্শন দিয়ে নয়, বিজ্ঞান দিয়েও কারণ মার্ক্সের তত্ত্বের ভিত্তি হচ্ছে বস্তুবাদ। লেনিন এভাবে বলছেনঃ

“মার্ক্সবাদ হলো বস্তুবাদ। সেই দিক থেকে তা আঠারো শতকের এন্সাইক্লোপেডিস্টদের বস্তুবাদের মতোই নির্মম ধর্মবিরোধী। তাতে কোনও সন্দেহই নেই। কিন্তু মার্ক্স ও এঙ্গেলসের দান্দিক বস্তুবাদ এন্সাইক্লোপেডিস্ট বা ফয়েরবাখের চেয়ে আরো একধাপ এগোয়। বস্তুবাদী দর্শনকে প্রয়োগ করে ইতিহাসের ক্ষেত্রে, সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। ধর্মের বিরুদ্ধে আমাদের কে লড়তে হবে। এটা সকল বস্তুবাদের, সুতরাং মার্ক্সবাদেরও অ – আ – ক – খ”।
(লেনিন, ধর্ম প্রসঙ্গে শ্রমিক শ্রেণীর পার্টির মনোভাব, ১৯০৯)

ভেবে দেখুন লেনিন স্পষ্টই বলছেন, মার্ক্সবাদ হলো এন্সাইক্লোপেডিস্টদের বস্তুবাদের মতই “নির্মম ধর্মবিরোধী” আর বলছেন, ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা সকল বস্তুবাদের এবং সেই অর্থে মার্ক্সবাদেরও – অ আ ক খ। এটা কি নাস্তিক্যবাদ প্রচার করা নয়? এটা কি ধর্মের বিরুদ্ধে সরাসরি সংগ্রামের কথা নয়? এই অংশ টুকুতে কি ধর্মের সাথে কোনও সকমের সমন্বয়ের কথা বলেছেন লেনিন?

তবে হ্যাঁ, এটা সন্দেহাতীত ভাবেই সত্যি যে, মার্ক্সবাদ ও মার্ক্সবাদীরা ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াইটিকে কোনও আলাদা বিচ্ছিন্ন সংগ্রাম হিসাবে দেখেন না। তাঁরা মনে করেন ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা শ্রমিক শ্রেনীর মুক্তির বৃহত্তর সংগ্রামেরই অংশ। কিন্তু মার্ক্সবাদীদের এই অবস্থান কি আসলে ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদের নিরীশ্বরবাদী অবস্থান কে দুর্বল করে? উলটে দেয়? করেনা। মার্ক্সবাদ সুস্পষ্টভাবে নিরীশ্বরবাদী, সেজন্যেই কমিউনিজমে সকল ধর্মের বিলোপ হবে এমন ঘোশনার কথা খোদ কমিউনিস্ট ইশ্তেহারেই পাওয়া যায়। মার্ক্সবাদ যদি ধর্মের বিরোধীই না হয়, তাহলে মার্ক্সবাদীদের কাংখিত সমাজে ধর্মের বিলোপের কথা বলা হয় কেনো? দেখুন একই লেখায় লেনিন কি লিখছেনঃ

“মার্ক্সবাদীকে হতে হবে বস্তুবাদী, অর্থাৎ ধর্মের শত্রু, কিন্তু বস্তুবাদী দান্দিক, অর্থাৎ ধর্মের সঙ্গে সংগ্রামটিকে যে বিমূর্ত ভাবে নয়, নিরাকার বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক, নিত্য একরূপ প্রচারের ভিত্তিতে নয়, হাজির করবে মূর্ত প্রত্যক্ষ ভাবে, শ্রেনী সংগ্রামের ভিত্তিতে…”
(লেনিন, ধর্ম প্রসঙ্গে শ্রমিক শ্রেণীর পার্টির মনোভাব, ১৯০৯)

তাহলে মার্ক্সবাদীরা বস্তুবাদী এবং ধর্মের শত্রু, এটা বলছেন লেনিন। আগ্রহউদ্দীপক নয়? কিন্তু এখানেও স্পষ্ট করে লিখেছেন যে মার্ক্সবাদীদের ধর্মবিরোধিতা অন্যান্য নাস্তিকদের ধর্ম বিরোধিতার মতো নয়, কারণ মার্ক্সবাদীরা ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধটাকে শ্রেনী সংগ্রামের অন্তর্গত করার কথা বলেন। কিন্তু শ্রেনী সংগ্রামের অংশ হবার কারনে ধর্মের বিরুদ্ধে সংগ্রামটি কি বন্ধুত্বে পরিনত হয়? নাকি তখনও সেটা ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধই থাকে?

গত পর্বে মিঃ এক্স এর লেখা থেকে একটি অংশ তুলে দিয়েছিলাম। সেই অংশু টুকুতে মিঃ এক্স ধর্ম সম্পর্কে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন মার্ক্সবাদের নামে। একটু অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, মিঃ এক্স এর তেরো পর্বের লেখাটি আসলে আর কিছুই নয়, ফরহাদ মজহার এর “মোকাবিলা” গ্রন্থটি থেকে অত্যন্ত অগোছালো ভাবে “কপি – পেস্ট” করা কথামালা। ফরহাদ মজহার মেধাবী কবি, তাঁর কবিতা ও গদ্য দুটোই অনবদ্য। ফরহাদ মজহার এর গদ্যের বুনোন খুবই শক্ত, তাই “মোকাবিলা”র সাথে আপনি একমত হোন বা না হোন, মোকাবিলা পড়বার সময় আপনাকে হোচট খেতে হবেনা। ফরহাদ মজহার এর এজেন্ডা সুস্পষ্ট এবং সেই দিক থেকে তিনি সৎ, তাঁর উদ্দেশ্য পরিস্কার, তাঁর সাথে আমরা একমত হই বা না হই।

কিন্তু মিঃ এক্স এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদী অবস্থান কে একটু তুলতুলে নরম পেলব করে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা যা আসলে মার্ক্সবাদী অবস্থানের বিপরীত একটি সুবিধাবাদী অবস্থান। সে জন্যেই তিনি লেখেন যে কমিউনিস্ট মানেই নাস্তিক নয়, মার্ক্সবাদ ধর্ম কে কখনই আক্রমন করতে বলেনা এই ধরনের প্রলাপ। মি এক্স এর মতো মানুষেরা, ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্স লেনিনের কৌশলগত লেখাগুলোকে যতটা কোট করে থাকেন, ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার লেখা গুলোকে ততটাই এড়িয়ে যান, খুব সযত্নে।লেনিন এই ধরনের প্রবনতা কে বলেছেন “পেটি বুর্জোয়া বা উদারনীতিক বুদ্ধিজীবির কুপমুন্ডুকতা ও সুবিধাবাদ হিসাবে”। তাই ধর্ম প্রসঙ্গে মার্ক্সবাদীদের অবস্থান প্রসঙ্গে, লেনিন বলেছেন অতিবিপ্লবী নৈরাজ্যবাদীদের থেকে সাবধানে থাকতে একই সাথে বলেছেন এই সকল কুপমুন্ডুক উদারনিতিবাদীদের থেকেও সাবধান হতে। দেখুন লেনিন কি লিখছেনঃ

“মার্ক্সবাদীদের উচিৎ সমগ্র প্রত্যক্ষ- নির্দিষ্ট পরিস্থিতি টা হিসাব করতে পারা, সর্বদাই নৈরাজ্যবাদ ও সুবিধাবাদের মধ্যে সীমা টানতে পারা (এই সীমাটা আপেক্ষিক, চঞ্চল, পরিবর্তমান, কিন্তু তা আছে), নৈরাজ্যবাদীর বিমূর্ত বাক সর্বস্ব ও আসলে ফাঁপা বিপ্লবীয়ানাতে সে পা দেবে না, পা দেবেনা পেটি বুর্জোয়া বা উদারনীতিক বুদ্ধিজীবির কুপমুন্ডুকতা ও সুবিধাবাদে, যে ধর্মের সঙ্গে সংগ্রামে ভয় পায়, নিজের এ কর্তব্য টা ভুলে বসে, ঈশ্বর বিশ্বাস কে মেনে নেয়, চালিত হয় শ্রেনী সংগ্রামের স্বার্থে নয়, তুচ্ছ শোচনীয় হিসেবিপনায়। কাউকে চটিয়ো না, কাউকে ধাক্কিয়ো না, কাউকে ভড়কিয়োনা, চালিত হয় অতি প্রাজ্ঞ এই নিয়মে – নিজে বাঁচো, অন্যদের বাঁচতে দাও ইত্যাদি।”
(লেনিন, ধর্ম প্রসঙ্গে শ্রমিক শ্রেণীর পার্টির মনোভাব, ১৯০৯)

লেনিন উপরের অংশটুকুতে যাদের কে কুপমুন্ডুক ও সুবিধাবাদী বলেছেন, আমাদের মি এক্স হচ্ছেন সেই দলের আদর্শ প্রতিনিধি। মি এক্স ধর্ম নিয়ে কথা বলে কাউকে চটাতে চান না, ভড়কাতে চান না, আর তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তিনি চালাচ্ছেন মার্ক্স – লেনিনের নামে। এই পেটি বুর্জোয়া ও উদারনীতিক কুপমুন্ডুক তাই ধর্মের সঙ্গে সংগ্রামটিকে ভয় পান, এবং সেই ভয়টিকেই চাপিয়ে দিতে চান ছড়িয়ে দিতে চান মার্ক্সবাদের নামে, মার্ক্সবাদীদের ঘাড়ে। এই ধরনের হিসেবী কুপমুন্ডুক পেটি বুরজোয়ারাই শেষমেষ ঈশ্বর বিশ্বাস কে মেনে নেন, যা সুস্পষ্ট ভাবেই শ্রেনী সংগ্রামের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া। সুতরাং ধর্মের বিরুদ্ধে সংগ্রামে মার্ক্সবাদীদের অবস্থান যেমন নৈরাজ্যবাদী অতি বিপ্লবীদের মতো নয়, তেমনি মি এক্স এর মতো কুপমুন্ডুক সুবিধাবাদীদের মতও নয়।

৩।
কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিতে হলে কি নাস্তিক হতে হবে? এই প্রশ্নটি করেছেন মি এক্স এবং তার উত্তর দিয়েছেন লেনিন কে উদ্ধৃত করে। লেনিনের লেখাকে সরাসরি উল্লেখ না করে তিনি নিজের বয়ানে লেনিনের কথাকে লিখেছেন এবং প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে লেনিন বলেছেন একজন পাদ্রীও কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য হতে পারে। তারপরে উপসংহার করেছেন যে “নিতান্ত ধার্মিক মানুষও কমিউনিস্ট হতে পারে, কমিউনিস্ট হবার জন্যে নাস্তিক হবার প্রয়োজন নেই”।

প্রথমত কমিউনিস্ট পার্টির কাজের সাথে যুক্ত হওয়া বা কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য হওয়া আর কমিউনিস্ট হওয়া যে এক কথা নয় এটা জনাব এক্স এর মতো চতুর মানুষেরা এড়িয়ে যান। কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হওয়া আর কমিউনিস্ট হওয়া এক কথা নয়। একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী তার একদিনের সিদ্ধান্তে যেকোনো কমিউনিস্ট পার্টি বা কমিউনিজমে বিশ্বাসী গন সংগঠনে যোগদান করতে পারেন কিন্তু যোগদানের পরদিন থেকেই তিনি কমিউনিস্ট হয়ে যান না।বরং মানুষ কমিউনিস্ট হয়ে ওঠে বহুদিনের সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও শ্রেনী সংগ্রামের প্রতি নিরন্তর একনিষ্ঠতা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। এই গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় তাত্ত্বিক পড়াশোনা, বোঝাপড়া যেমন থাকে তেমনি থাকে শ্রমিক শ্রেনীর সংগ্রামের সাথে ব্যবহারিক সম্পৃক্ততা। সুতরাং কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করলেই মানুষ কমিউনিস্ট হয়ে যায়না, একজন সাধারণ কর্মী কে কমিউনিস্ট মুল্যবোধ বা নৈতিকতা অর্জন করার মধ্য দিয়েই কমিউনিস্ট হয়ে উঠতে হয়। তাহলে এই কমিউনিস্ট মুল্যবোধ বা নৈতিকতা বিষয়টি আসলে কি? “যুবলীগের কাজ” বলে লেনিনের একটি প্রবন্ধে খুব সহজে কমিউনিস্ট সম্পর্কে বলেছেন –

“এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চয়ই বলি আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করিনে, আমরা বেশ ভালোভাবেই জানি যাজক মন্ডলী, ভূস্বামীরা আর বুর্জোয়ারা ঈশ্বরের নাম নিয়েছে শেষ হিসাবে নিজেদের স্বার্থের গরজে”।
“…সমস্ত শ্রমিক আর কৃষকদের উপরে ভূস্বামী আর পুঁজিপতিদের শোষণের ভিত্তি ছিলো সাবেকী সমাজ। সেতাকে আমাদের লোপ করতে হয়েছে, তাদের উচ্ছেদ করার দরকার হয়েছে, কিন্তু সেজন্যে ঐক্য আবশ্যক। ঈশ্বর সেই ঐক্য সৃষ্টি করেনা।”
(লেনিন, যুবলীগের কর্তব্য, ১৯২০)

সুতরাং কমিউনিস্ট হবার প্রধান শর্ত হচ্ছে কমিউনিস্ট নৈতিকতা অর্জন, আর কমিউনিস্ট নৈতিকতায় ঈশ্বরের কোনও স্থান নেই। কেননা, ঈশ্বর বরাবর বুর্জোয়া আর ভূস্বামীদেরই স্বার্থ রক্ষা করে।
লেনিন জোর দিয়ে বলছেন – “আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করিনে” আর তার কারণ হিসাবে বলছেন বুর্জোয়া – ভূস্বামীরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যেই ঈশ্বর ধারনা তৈরী করে। আর বুর্জোয়া – ভূস্বামীদের পতনের জন্যে শ্রমিক শ্রেনীর যে ঐক্য দরকার হয়, ঈশ্বর তা তৈরী করে দেন না।

শ্রেনী সংগ্রাম কে বোঝার জন্যে ও তার নেতৃত্ব দেবার জন্যে মারক্সীয় বস্তুবাদ কে জানা ও বোঝাটাও জরুরী। মারক্সীয় বস্তুবাদ বা দান্দিক বস্তুবাদ কে না বুঝে না আত্মস্থ করে কি কমিউনিস্ট হয়ে ওঠা যায়? অর্থাৎ সাধারণ অর্থে কমিউনিস্ট হয়ে ওঠার আরেকটি প্রধান পর্যায় হচ্ছে দান্দিক বস্তুবাদ কে আত্মস্থ করা এবং সমাজের ইতিহাস কে ব্যাক্ষা করবার ক্ষেত্রে দান্দিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ করা। এটা দান্দিক বস্তুবাদ, লেনিন যাকে বলেছে “নির্মম ধর্ম বিরোধী”।

৪।
এবারে আসুন মি এক্স তার লেখার একদম গোড়ায় এভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন –
“কমিউনিস্ট হওয়ার জন্য নাস্তিক হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিতান্ত ধার্মিক মানুষ ও কমিউনিস্ট হতে পারেন।”

পরে মূল লেখায় তিনি আবার প্রশ্নটিকে এইভাবে করেছেন –
“কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিতে হলে কি নাস্তিক হতে হবে? বা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয়ার পরে কি সবাই নাস্তিকে পরিবর্তিত হয়?

জনাব এক্স এর দুটি বক্তব্য কি এক? কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেয়া আর কমিউনিস্ট হয়ে ওঠা দুটি যে দুই ভিন্ন বিষয় এটা সন্দেহাতীত ভাবেই মি এক্স গুলিয়ে ফেলেছেন। কমিউনিস্ট পার্টিতে মানুষ যেকোনো সময়ই যুক্ত হতে পারেন বিভিন্ন কর্মসূচীতে একমত হয়ে ও অংশগ্রহনের মাধ্যমে। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করলেই কেউ কমিউনিস্ট হয়ে যায়না, কমিউনিস্ট হয়ে উঠতে হয় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, শ্রমিক শ্রেনীর সংগ্রামের প্রতি নিরন্তর নিষ্ঠা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে, দান্দিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের মধ্য দিয়ে। কমিউনিস্ট পার্টি করলেই যে কমিউনিস্ট হয়ে ওঠা যায়না, তার প্রমাণ আমরা দেখেছি নব্বই এর দশকে বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর পতনের পরে লাইন ধরে “কমিউনিস্ট” নাম ধারী “নিতান্ত ধার্মিক মানুষদের” শ্রেনী সংগ্রামের পথ ত্যাগ করার ঘটনা। এঁরা কমিউনিস্ট ছিলেন না, যদিও এঁরা বহুবছর কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য ছিলেন।

আসুন এবারে লেনিনের পাদ্রী বিষয়ক বয়ান টি দেখি। জনাব এক্স লিখেছেন এভাবে –
“লেনিন একটা উদাহরণ দিয়েছেন, যদি একজন পাদ্রী কমিউনিস্ট পার্টিতে সদস্য পদ নিতে আসে এবং পার্টির কর্মসূচীর সাথে একাত্ম হয় তবে তাঁকে সদস্য পদ দেয়া হবে। তবে কোন অবস্থাতেই পার্টির র‍্যাঙ্ক অ্যান্ড ফাইল ব্যবহার করে সেই পাদ্রী পার্টির অভ্যন্তরে ধর্ম প্রচার করতে পারবেন না। তার মানে নিতান্ত একজন প্র্যাক্টিসিং ধার্মিক মানুষ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হতে পারেন।”

এবারে আসুন লেনিন অরিজিন্যালী কি লিখেছিলেন সেটা দেখে নেই। তারপরে লেনিনের লেখার সারবস্তুটির সাথে মি এক্স কে মিলিয়ে নেবো। লেনিনের লেখা থেকে যে অংশটুকু জনাব এক্স সযত্নে “এক্সপাঞ্জ” করেছেন সেটুকু সহ পুরো উদ্ধৃতি টাই এখানে তুলে দিচ্ছি (লেনিন, ধর্ম প্রসঙ্গে শ্রমিক পার্টির মনোভাব)। লম্বা কোটেশনের জন্যে দুক্ষিতঃ

“যেমন প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে, যাজক কি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভ্য হতে পারে? এবং সাধারনত তার উত্তর দেয়া হয় বিনা শর্তে হ্যাঁ, নজির দেয়া হয় ইউরোপীয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে।কিন্তু এ অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়েছে শুধু শ্রমিক আন্দোলনে মার্ক্সবাদ প্রয়োগের ফলেই নয়, পশ্চিমের বিশেষ ঐতিহাসিক পরিস্থিতির ফলেও, যা রাশিয়ায় অনুপস্থিত (পরে সেসব পরিস্থিতির কথা আমরা বলবো), তাই বিনা শর্তে হ্যাঁ উত্তর দেয়া এক্ষেত্রে সঠিক নয়। যাজকরা সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভ্য হতে পারবেনা, বরাবরের মতো সমস্ত পরিস্থিতিতেই এই রায় দেওয়া যায়না, এটা ঠিক, কিন্তু বরাবরের মতো উল্টো নিয়ম জারি করাও চলেনা।”

মি এক্স, লেনিনের লেখার এই অংশ টুকু বাদ দিয়েছেন। ধর্ম প্রসঙ্গে ইউরোপের সাথে ততকালীন রাশিয়ার পরিস্থিতির যে পার্থক্য টা ছিলো, তাতে ইউরোপে যত সহজে একজন যাজক কে কোনও কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত করার কথা ভাবা যেতে পারতো রাশিয়ায় বিশয়টা তেমন ছিলো না। অর্থাৎ পুরো সিদ্ধান্তটাই পরিস্থিতি ও আরো কিছু শর্ত সাপেক্ষ। এই পরিস্থিতি ও শর্তের বিষয়গুলো মিঃ এক্স রা কখনই উল্লেখ করেন না। বাংলাদেশের ধর্ম নিয়ে যে অবস্থা বা পরিস্থিতি তা কি ইউরোপের বা পশ্চিমের ধর্ম পরিস্থিতির মতোই?

একই বক্তব্যের পরের অংশটুকু দেখা যাক –

“পাদ্রীটি যদি একত্র রাজনৈতিক কাজের জন্যে আমাদের কাছে আসে এবং সবিবেকে পার্টির কর্তব্য পালং করে, পার্টি কর্মসূচীর বিরুদ্ধাচারন না করে, তাহলে আমরা তাকে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে নিতে পারি, কারণ আমাদের কর্মসূচীর সুর ও মূল কথার সঙ্গে পাদ্রীটির ধর্মবিশ্বাসের বৈপরীত্যটা এরুপ পরিস্থিতিতে শুধু তার ব্যাপার, তার ব্যক্তিগত স্ববিরোধ হয়ে থাকবে আর পার্টি কর্মসূচীর সঙ্গে পার্টি সভ্যদের দৃষ্টিভঙ্গির সবিরোধ লুপ্ত হয়েছে কিনা তার পরীক্ষা নেয়া রাজনৈতিক সংগঠনের অসম্ভব।বলাই বাহুল্য, অনুরুপ ঘটনা ইউরোপেও কেবল এক একটি বিরল ব্যতিক্রম, রাশিয়ার ক্ষেত্রে তা খুবই অবিশ্বাস্য।”

খেয়াল করে দেখুন, পার্টির কর্মসূচী ও পাদ্রীটির ধর্মবিশ্বাস যে বিপরীত ও বিরোধময় সেটা কিন্তু লেনিন উল্লেখ করছেন। এবং তিনি বলছেন এটা পাদ্রীটির ব্যক্তিগত স্ববিরোধ হয়ে থাকবেন। তাহলে কমিউনিস্ট পার্টির কর্মসূচী ও মূল কথা একজন পাদ্রীর পাদ্রীত্ব যে বিপরীত মূলক বলছেন লেনিন, কেনও? এই স্ববিরোধ টিকে উত্তর না ঘটিয়ে সেই পাদ্রীর পক্ষে কি কমিউনিস্ট হয়ে ওঠা সম্ভব? আসুন লেনিনের লেখাটির একই লেখার পরের অংশ টা দেখি।

“আর দৃষ্টান্ত স্বরূপ পাদ্রীটি যদি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে এসে তার ভেতর নিজের প্রায় ও একমাত্র কর্তব্য হিসাবে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সক্রিয় প্রচার শুরু করতে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাকে তার র‍্যাঙ্ক থেকে বহিস্কার করা পার্টির উচিৎ।”

নিতান্ত ধার্মিক মানুষ যদি কমিউনিস্ট হতেই পারেন, তাহলে তার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের জন্যে তাকে বহিস্কারের কথা বলছেন কেনও লেনিন? ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সাথে কমিউনিস্ট পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি টা কি বন্ধুত্বপূর্ণ? নাকি নির্মম বিরোধী? প্রশ্ন থাকলো পাঠকের কাছে।

এবারে আসুন, সেই একই পাদ্রী বিষয়ক আলোচনার শেষ অংশটুকু দেখি, এই অংশটুকুও জনাব এক্স সযত্নে চেপে গেছেন।

“ঈশ্বরে বিশ্বাস যাদের মাঝে এখনও টিকে আছে এমন সমস্ত মজুরদের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে অনুমোদন করা শুধু নয়, প্রচন্ড ভাবে তাদের টেনে আনতেই হবে, অবশ্যই আমরা তাদের ধর্ম বিশ্বাসের এতোটুকু লাঞ্ছনারও বিরুদ্ধে, কিন্তু আমরা তাদের কে টেনে আনবো আমাদের কর্মসূচীর প্রেরনায় তাদেরকে গড়ে তোলার জন্য, সে সংগ্রামের বিরুদ্ধে সক্রিয় সংগ্রামের জন্যে নয়। পার্টির অভ্যন্তরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আমরা মানি, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে, যা নির্ধারিত হয় জোট বন্ধনের স্বাধীনতা দিয়ে। পার্টির অধিকাংশরা যে মত বর্জন করেছে তার সক্রিয় প্রচারকদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে যেতে আমরা বাধ্য নই।”
(লেনিন, ধর্ম প্রসঙ্গে শ্রমিক শ্রেণীর পার্টির মনোভাব, ১৯০৯)

এই ছিলো পাদ্রীর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হওয়া বিষয়ে লেনিনের পুরো বক্তব্য। যা মি এক্স শুধু ততোটুকুই উল্লেখ করেছেন যা দিয়ে খুব আরামে প্রমাণ করা যায় যে “নিতান্ত ধার্মিক মানুষেরাও কমিউনিস্ট হতে পারেন”। কিন্তু লেনিনের পুরো কথাটি যদি বোঝা যায় তাহলে বিশয়টা এতো সরল নয়। প্রথমত লেনিন বলছেন, পাদ্রী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হতে পারবে কি পারবেনা, এটা খুব সহজে হ্যাঁ বা না বলার মতো প্রশ্ন নয়। এটা পরিস্থিতি নির্ভর এবং এ ধরনের ঘটনা ইউরোপেও বিরল রাশিয়াতে প্রায় অবিশ্বাস্য। লেনিন বলছেন, একজন পাদ্রী কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হলেও তার ধর্ম বিশ্বাস টি কমিউনিস্ট পার্টির মুলসুর বা দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বিরোধিতাপূর্ণ, যা পাদ্রীটির একটি ব্যক্তিগত স্ববিরোধ হয়ে থাকবে, পার্টি এ বিষয়ে কোনও ছাড় দেবেনা। লেনিন আরো বলছেন, ধর্ম বিশ্বাস এখনও বজায় আছে এমন মানুষদের আমরা কাছে টেনে নেবো, কিন্তু তাদের কে কাছে টেনে নেবো, তাদেরকে কমিউনিস্ট নৈতিকতায় গড়ে তোলার জন্যে, তাদের ধর্ম বিশ্বাস কে আকড়ে থাকার জন্যে নয়। লেনিনের এই পুরো বক্তব্যের সমগ্র বোঝাপড়াটিকে বাদ দিয়ে, জনাব এক্স শুধু সেই টুকুই নিয়েছেন, যা দিয়ে প্রমাণ করা যায় যে একজন ধার্মিক মানুষ কমিউনিস্ট পার্টির সভ্য হতে পারে মানে একজন ধার্মিকও কমিউনিস্ট হতে পারে। কাট ছাট করে সুবিধাজনক ভাবে অন্যের কোটেশন ব্যবহারের এই চতুরতা কে বলে “চেরী পিকিং”, নাস্তিকতা বিরোধিতায় মার্ক্স – লেনিন কে এই রকমের “চেরী পিকিং” পদ্ধতিতেই ব্যবহার করেছেন মি এক্স এর মতো মানুষেরা।

আগামী পর্বে আলোচনা করবো, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে আমরা কিভাবে নাস্তিকতার চর্চা দেখেছি সেই বিষয়ে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “ধর্ম – আল্লাহ – ঈশ্বর, নাস্তিকতা ও মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ প্রসঙ্গঃ বুর্জোয়াদের বন্দুক যখন কমিউনিস্টদের কাধে ! কিস্তি – ৩

  1. বরাবরের মত ভাল লিখছেন।
    বরাবরের মত ভাল লিখছেন।

    বাংলাদেশের বামপন্থীদের মধ্যে ধর্মাতঙ্ক প্রবেশ করেছে। তারা মনে করছে প্রয়োজনে ধর্মকে মেনে নিয়ে সর্বহারা শ্রেনীর জন্য আন্দোলন করবে। কিন্তু বিশ্বে পুঁজিবাদ বিকাশে ও সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারে সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে ধর্ম। দেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করে এরা এ বিষয়টা ভুলে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। আওয়ামীলীগের রাজনীতি দেখে তারা অনুপ্রাণিত মনে হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − = 84