ঘোলাটে সময়ের গল্প

আজকাল সবকিছু’তে আমার বড্ড বিরক্তি। কারো সাথেই ভালো ব্যাবহার করতে পারি না, খুব অল্পতেই রেগে যাই। কি বাস্তব, কি অন্তর্জালে চুন থেকে পান খসলেই বিরক্ত লাগে চরম। একা থাকলে একঘেয়ে লাগে, বেশী লোকজনের মাঝে থাকলে বিরক্ত লাগে। অকারন টেনশন আর কাঁহাতক ভালো লাগে। অন্যদের দিকে তাকালে টের পাই একই অবস্থা সবারই। সবচাইতে গোছানো ছেলেটাও আজকাল বড্ড উশকোখুশকো।

সবাই বেশ ভালোই ছিল, সুখেই ছিলাম। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের দাবীতে মাঠে নামাই আমাদের জন্য কাল হয়ে গেলো। ৩৪৪ জন মানুষ খুন করেও একজনের ফাঁসি হয় নাই। অথচ তার ফাঁসী যারা চেয়েছে, ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা করেছে- আজ তাদের ঝুলিয়ে দেবার জন্য মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে মহাসমাবেশ হয়। সরকার তাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে, নাস্তিকদের ঝুলাবে নাকি ঝেটিয়ে পেদাবে সে সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা তো সেদিনই ঝুলে গেছি যেদিন ডিবি পুলিশ আমাদের তিন ভাই’কে গ্রেপ্তার করল। বিপ্লব ভাই এখন কেমন আছে জানি না। আবার যদি কোনদিন দেখা হয় তবে দুষ্টামি করলে কিল পাকিয়ে ছুটে এসে পিঠে আদর করে মুষ্ঠি ছোঁয়াবে কিনা জানি না। নাকি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে সবার প্রতি, তার উত্তর সময়ই বলে দিবে। তবে আমি আর তাকে কোনদিনই বলতে পারবো না, বিপ্লব ভাই- মানুষের উপর আস্থা রাখেন। এই দেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে সহনশীল, অসাম্প্রদায়িক। জামাতের বিরুদ্ধে আমরা যারা যুদ্ধ করছি, তারা কোনদিনই আমাদের ছুড়ে ফেলে দিবে না।

রাসেল ভাই মানুষটা অসাধারন রকমের সহজ-সরল। খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্ট থেকে না পালানোর কারন নিয়ে ফেসবুকে আমার এক স্ট্যাটাসে সে কি ঝগড়া। ভেবেছিলাম আজই বুঝি শেষ হল অফুরন্ত স্নেহ ঠোটে ঝুলানো হাসি, দেখলে আর বলবে না- কি রে কেমন আছিস? কিন্তু কিসের কি, দুইদিন পরে দেখামাত্রই সেই বিখ্যাত হাসি ঝুলিয়ে সব ভয় দূর করে দিলেন। ভদ্রতা আর মানুষের প্রতি অসীম ভালোবাসা নিয়ে জন্মানো মানুষটার দুর্বলতার সুযোগ বিয়ে অনেক তর্ক করতাম- বারবার এক কথাই বলতো আমাকে একটু বলতে দে। আর সুযোগ আসবে না জানি, এই দেশ বড্ড বেশী আঘাত করেছে এই নির্মোহ ভালোমানুষটাকে, নইলে অন্য কাউকে দেখেছেন পদার্থবিজ্ঞানে আমেরিকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী নিয়ে স্কুলের মাস্টারি করতে? আপনাদের চোখে, এই লোভী সমাজের কাছে এই লোকটা একটা নির্বোধ ছাড়া অন্য কিছু না। আমরা মানুষ চিনি নাই, চিনি না, তাই রাসেল ভাইকে এখন জেলে থাকতে হয়। অথচ এই সমাজে আজ তার মতন নির্বোধ’দের বড্ড অভাব। তার শিশু পুত্র যখন গভীর রাতে বাবাকে পাশ ফিরে খুঁজে, সে হয়তো ফুঁপিয়ে কেদে উঠে, তারপরে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তাতে রাতের নিস্তব্ধতা ভেংগে খান খান হয়ে যায় না, বরং আরো জমাট হয়।

যে কোন আড্ডায় বক্তার অভাব থাকে না, কিন্তু শ্রোতার প্রচন্ডরকমের অভাব। শুভ নামের ছেলেটা মুনী ঋষীর মতন ধ্যানের ভংগীতে প্রবল একাগ্রতা নিয়ে সবার কথা শুনতো। মাঝে মাঝে চা-বিড়ির আবদার করত, বাগ্মিরা আগ্রহ নিয়ে খাওয়াতো, ভাগ্যগুনে পাওয়া সাত রাজার ধন কে হারাতে চায়! মাঝে মাঝে কথা বলতো চেহারায় বিরক্ত নিয়ে কারো যুক্তি খুব বেশী অসহনীয় লাগলে, অথবা হেসে লুটোপুটি খেতো গতকাল ডাক্তার আইজু কি স্ট্যাটাস দিয়েছে। আইজু ভাই জানেন কিনা জানি না, উনার অনেক ভক্ত আমার চারপাশে থাকে। কিন্তু শুভ’র চাইতে তার আর কোন বড় ভক্ত আমি দেখি না। সবাই যখন তাকে নিয়ে কোন ব্যাপারে সমালোচনায় মত্ত, সে তখন খ্যাপাটে ভংগিতে আইজু ভাই এর পাশে। আমি তখন হাসি, ফড়িং হাসে। কোন ধরনের অন্যায় দেখলে এই শান্ত হ্যাংলা পাতলা ছেলেটাই যে কি পরিমান প্রতিবাদী নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। খুব কাছের বন্ধুদের ত্যাগ করতেও ছাড়ে নাই অন্যায় সহ্য করতে না পেরে। আমাদের প্রিয় সে ছোটভাইটা স্পাইডার ম্যানের টি-শার্ট পরে আজ ৭ দিনের রিমান্ড পার করে জেল হাজতে। নিজেকে হয়তো সে স্পাইডার ম্যানের মতই সুপার হিরো মনে করতো। ভাবতো একলাই দূর করবে সব অন্যায়-অনাচার। লাজুক স্বভাবের বোকা ছেলেটা বুঝে নাই, সুপার হিরো হবার মানসিক শক্তি তার থাকলেও এই সমাজের তাকে ধারন করার ক্ষমতা নেই। সে নিজে যতটা সৎ, এই সমাজ ততটাই নিঃস্ব। খুবই অল্প বয়সী এই ছেলেটা বাকি জীবনে নিষ্ঠুর সমাজের চাপ নিতে পারবে কিনা জানি না, তবে সবটুকুন আশীর্বাদ ওর প্রতি থাকল। কামনা করি ভাইটা আমার সুস্থ ভাবে ফিরে আসুক, জীবন কাটুক তার হাসি-গান-ভালোবাসায়।

তারপরেও এখনো আমরা আড্ডা দেই, গল্প করি, তবে সেই জৌলুসময় সময় আর নাই। এখন দিন কাটে আতঙ্কে, একদিকে জামাত শিবির অন্যদিকে সরকার তথা এই দেশের রাজনীতিবিদেরা। আমরা তরুনেরা এখন সবার শত্রু। আমাদের রাজনীতিবিদেরা ভালো কিছু করতে পারুক আর নাই পারুক, ঘটনা থেকে তারা শিক্ষা নেয়। আমরা জনগন নিজেদের ভালো-মন্দ বুঝতে পারি না, কিন্তু তারা পারেন। খুব সুন্দর ভাবে বুঝতে পারেন তারা এই তরুনেরা আজকে যুদ্ধাপরাধীদের ঠিকমতন ঝুলিয়ে দিয়েই শান্ত হবে না। দুইদিন পরে তারা আবার প্রতিবাদী হয়ে উঠবে কোন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, দেশবিরোধী কোন চুক্তির বিরুদ্ধে। এদের অঙ্কুরেই বিনাশ না করে দিতে পারলে, মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে না দিতে পারলে, গ্রহনযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে না আনতে পারলে প্রচলিত রাজনীতি অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তাই আজ আমাদের শত্রু সবাই, তারপরেও আমরা বারবারই ফিরে যাবো শাহবাগে, মৃত্যুর ঠিক আগে একবার অস্ফুট স্বরে হলেও বলবো “জয় বাংলা”।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২২ thoughts on “ঘোলাটে সময়ের গল্প

  1. তারপরেও আমরা বারবারই ফিরে

    তারপরেও আমরা বারবারই ফিরে যাবো শাহবাগে, মৃত্যুর ঠিক আগে একবার অস্ফুট স্বরে হলেও বলবো “জয় বাংলা”।

    .
    .
    .
    .
    .
    আমার খুব কাছের যারা তারা জানে খুব সহজেই চোখে জল আসে আমার। তাই হয়ত কাছের মানুষদের কাছে ঐ জলের মূল্য ফিকে হয়ে আসে। কিন্তু আমি নিজে তো জানি, পৃথিবীর সবকিছু অর্থিনীতির যোগান রেখার সূত্র মেনে চলে না। প্রতিটা ফোঁটা বুকের গভীর থেকে ভালোবাসা চুইয়ে চুইয়ে নিয়ে ঝরে, আমি বুঝি… সময়টা কেমন যেন… ঘুম কিনে কিনে রাত পার করতে আর ভাল্লাগে না… মাঝে মাঝেই ইচ্ছা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অফিসে সামনে গিয়ে চিৎকার করে বলি- আর সহ্য হচ্ছে না… আমাকে আটকে রেখে আপনি আপনার লিস্ট ছিঁড়ে ফেলুন…

  2. শুধুই কি আটক? রাস্তায় আততায়ীর
    শুধুই কি আটক? রাস্তায় আততায়ীর হাতে নিঃশব্দে চুপ হয়ে যাওয়া কিংবা চিরদিনের মতন নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, এই অপশনগুলোও খারাপ না। বরং আরো সহজ কিছু উপায়।

  3. সরি ভাইয়া আমি আপনার দুঃখ
    সরি ভাইয়া আমি আপনার দুঃখ ভাগাভাগি করে নিতে পারব না।আপনারা ফেবুতে ছদ্মনামে স্ট্যাটাস দেন, ব্লগে ছদ্মনামে পোষ্ট দেন। আর আপনাদের এসবে কিছু মানুষ কমেন্ট দেয় কান্না এসে গেল।
    বুলশিট!যদি সত্যি সত্যি দুঃখিত হতেন,কষ্ট লাগতো তবে ঘরে বসে দুঃখে ভরা পোষ্ট দিতেন না। যুদ্ধাপরাধীর বিচার চেয়ে যে মহাআন্দোলন শুরু করেছিলেন তেমনি আবার ভাইয়াদের মুক্তি, বাকস্বাধীনতার মুক্তির দাবিতে রাজপথে পরে থাকতেন, বাংলাদেশের সকল ব্লগার মিলে অফেন্সিভ কোন কর্মসূচি নিতেন। আফসোস সুব্রত ভাইয়াদের জন্য যে আপনারা কীবোর্ড ধ্বংস করা ছাড়া কিছুই পারেন নি।

    1. আপনি যদি মনে করেন আমরা সবাই
      আপনি যদি মনে করেন আমরা সবাই ঘরে বসে আছি, তবে একেবারেই বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমরা ক্রমাগত প্রতিবাদ করে যাচ্ছি, মিছিল করে যাচ্ছি, আইনী সহায়তা করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। চেস্টায় অন্ততঃ কোন ত্রুটি নাই আমাদের পক্ষ থেকে। কেউ কেউ হয়ত চুপ করে আছে, কিন্তু তারা ভাবে না, কাল তাদের গ্রেপ্তার করলে কি হবে! উনাদের জন্য করুনা ছাড়া অন্য কোন কিছু আমাদের কাছে নাই।

      1. কয়েকবার মানববন্ধন,মশাল মিছিল
        কয়েকবার মানববন্ধন,মশাল মিছিল আর প্রতিবাদ সমাবেশ ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। এসব করে যে কোন লাভ হয়না তাও প্রমানিত।

        1. জীবনের উপর পাহাড়সম চাপ নিয়ে
          জীবনের উপর পাহাড়সম চাপ নিয়ে অনেকেই মাঠে আছে। কিছুই হবে না জেনেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। লেখালেখি করছে। আর কিছু বালপাকনার ডায়লগবাজীর শেষ নেই। আমার প্রশ্ন এই বালপাকনাগুলো কই আছে?

          1. এক্সকিউজ মি আপু বাট
            এক্সকিউজ মি আপু বাট ব্যক্তিগতভাবে আঘাতটা না করলেও হত। এইচএসসি পরীক্ষা সত্ত্বেও প্রতিটি মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং মশাল মিছিলে এই বালপাকনা ছিল।
            লড়াই করলে জিতবো ভেবে লড়াই করা উচিত। কিছু হবে না জেনে লড়াই করলে যুদ্ধ শুরু হবার আগেই হেরে যেতে হয়।

          2. এক্সকিউজ মি আপু বাট
            এক্সকিউজ মি আপু বাট ব্যক্তিগতভাবে আঘাতটা না করলেও হত। এইচএসসি পরীক্ষা সত্ত্বেও প্রতিটি মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং মশাল মিছিলে এই বালপাকনা ছিল।
            লড়াই করলে জিতবো ভেবে লড়াই করা উচিত। কিছু হবে না জেনে লড়াই করলে যুদ্ধ শুরু হবার আগেই হেরে যেতে হয়।

          3. আপনি এস এস সি দিচ্ছেন। তাহলে
            আপনি এস এস সি দিচ্ছেন। তাহলে আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেন। আমরা আছি রাস্তায়।
            কমেন্ট তাদের উদ্দেশ্য ছিল- ‘কিবোর্ডে ঝড় তোলা’ ‘খালি শাহবাগে দাড়াই থাকলেই হবে’ এইসব কথা ব্যবহার করে ফাকা আওয়াজ দেয়। রাস্তায় আসলে তারা বুঝতো কতকিছুর মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে সবাই

  4. দাবী এই মুহূর্তে একটা – “
    দাবী এই মুহূর্তে একটা – ” মুক্তি মুক্তি মুক্তি ” চাই
    আমাদের এই আবেগ , এই ভালোবাসা কি শুভদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে পারে না ? এতো দিন অনলাইনে লেখালেখি করে তাইলে লাভ কি হল যদি লেখার সহযোদ্ধাদের অন্ধকারে রেখে আমরা নিজেরা কেবল কিবোর্ড চষে বেড়াই ?

    শুভদের মুক্তি চাই , ডেটস ফাইনাল

  5. বিদেশে থেকে আপনাদের প্রতিবাদে
    বিদেশে থেকে আপনাদের প্রতিবাদে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করতে পারছি না। indirect যে রাস্তাটা খোলা আছে, তা হলো অর্থনৈতিক সাহায্য। আশা করছি ভালো কোনো উকিল নিয়োগ করা হবে এদের পক্ষে। দরকার হলে জামাত আক্রান্ত হিন্দু পরিবারদের সাহায্যের জন্য যে রকম একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ওরকম আর একটা শুরু করতে পারেন। আমি অন্তত যতটা সম্ভব টাকা পাঠানোর চেষ্টা করব।

  6. “মানুষেরে ঘৃণা করি…
    ও কারা

    “মানুষেরে ঘৃণা করি…
    ও কারা কোরান বেদ বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি…
    মূর্খেরা সব শোন…
    মানুষ এনেছে গ্রন্থ…গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোন!…”
    -কাজী নজরুল ইসলাম

    আটককৃত ব্লগারদের মুক্তি দিন। তা না করলে মাননীয় সরকার বাহাদুর জবাব দেবেন কি- নাস্তিকতার অপরাধে নজরুলের জাতীয় কবির সম্মাননা কবে কেড়ে নেয়া হবে? পাঠ্যপুস্তক থেকে কবে নাগাদ তাঁর সব রচনা প্রত্যাহার করা হবে? ভাস্কর্যের সাথে সাথে ঢাবি থেকে এই নাস্তিকের কবর কবে গুড়িয়ে দেয়া হবে?

  7. আর কারও উপর ভরসা করতে ইচ্ছা
    আর কারও উপর ভরসা করতে ইচ্ছা করে না। মনে হয় আমরা ব্লগাররা মিলেই এদেশে একটি আলাদা দল গঠন করে শোষণ, দারিদ্রমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে ভিন্নধর্মী একটি মোর্চা গঠন করে পথ চলা আরম্ভ করি… যার কান্ডারি হবে নতুন প্রজন্ম…

  8. আপনার এই লেখাটা পড়ার পর
    আপনার এই লেখাটা পড়ার পর আমাদের ভোতা উপলব্দিগুলোকে সচেতন করে দিল। চমৎকার এই পোস্টের জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ইস্টিশনে আপনার লেখা নিয়মিত চাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 7