‘অন্ত’র পাশে হাসিনা নয়, বরং হাসিনার পাশেই ‘অন্ত’

চট্টগ্রামে হরতাল চলাকালে স্প্লিন্টারের আঘাতে স্কুল ছাত্রী অন্ত বড়ুয়ার চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। (সময় মতো শেখ হাসিনা পাশে না দাঁড়ালে হয়তো অন্ধই হয়ে যেত মেয়েটা !!!) গতকাল ‘অন্ত’ তার মা সহ প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে চোখের বর্তমান হাল হকিকত জানিয়ে এসেছে। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তবে সবচেয়ে জরুরী ছিল মিডিয়ার উপস্থিতি !!! আজ সব পত্রিকায় ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে ”অন্ত আর আবেগআপ্লুত হাসিনা”র যুগলবন্দী ছবি !!!

মেঘের কথা মনে পড়ছে !!!
মেঘ, সাংবাদিক সাগর আর রুনির শিশু সন্তান। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশের মিডিয়া হাউজগুলোতে ‘প্রতিবাদ’র ঝড় বয়ে গিয়েছিল। (ঝড় থেমে গেছে অনেক আগেই, তবে এখনো কিছুটা বাতাস বয় মাঝে মাঝে) যখন এই সরকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে বেসামাল, তখন ‘মেঘ’কে এনে হাসিনার পাশে দাঁড় করানো হয়েছিল আজকের ‘অন্ত’র মতো। মেঘকে জড়িয়ে ধরে কাঁদোকাঁদো হাসিনা মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন — ”মেঘের সব দায়িত্ব আজ থেকে আমার।” সারাদেশের মানুষ হাসিনার আবেগআপ্লুত চেহেরা দেখে বাহাবা দিয়েছিলেন, সাথেসাথে এই মিডিয়ার কল্যাণে ‘ভুলে’ও গিয়েছিলেন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা।

২০১০ সালের ৬ জুনের নীমতলী ট্র্যাজেডি। শত শত মানুষ আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছিলেন, নিঃস্ব হয়েছিলেন হাজার হাজার। কোন দায় স্বীকার না করে, সমাধানের জন্য পদক্ষেপ না নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুইটি মেয়ের(একজনের নাম সম্ভবত রুনা) বিবাহের দায়িত্ব নিয়েছিলেন হাসিনা। মিডিয়াতে বেশ ঘটা করে প্রচার করা হয়েছিল বিবাহ অনুষ্ঠান। বেশ নামও কামিয়েছিলেন হাসিনা। তখনো তারা হাসিনাকে উদ্ধার করেছিলো ‘মেঘ’ আর ‘অন্ত’র মতোই।

শাহবাগ আন্দোলনের জোয়ারের সময় হাসিনা সর্মথন জানিয়ে বলেছিলেন, ”আমারও শাহবাগে ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে।” পরবর্তীতে শাহবাগের সাথে কেমন বেঈমানী তিনি করেছেন, করছেন তা সকলেই জানেন। শাহবাগের আল্টিমেটামকে তোয়াক্কা না করে, আন্দোলনকে দলীয়করণ করে, ব্লগারদের আটক করে শেখ হাসিনা সরকার যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়ে ব্যবসা করে চলেছেন।

অন্যদিকে খালেদা সারাদেশে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও, নৈরাজ্য, সহিংসতা ফেরী করে বেড়াচ্ছেন। আর সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় গিয়ে মিডিয়া ক্যামেরার সামনে অর্থ বিলি করছেন, জনসভা করছেন।

বন্ধুরা, কালেকালে এইসব ধান্দাবাজ শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা জনগনের সাথে ছলাকলা করে গদি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে আসছে। আর এই ছলাকলায় বরাবরই হাওয়া দিয়ে যান ”শাসকগোষ্ঠীর এঁটো খাওয়া সুশীল সমাজ”, ”মিডিয়া”, পোষা দালাল বুদ্ধিজীবীরারা। দু-একজন ‘মেঘ’ কিংবা ‘অন্ত’র দায়িত্ব নেয়ার ভান করে কোটি ‘মেঘ’ কিংবা ‘অন্ত’দের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে এই শাসকগোষ্ঠী। সেন্টিমেন্ট ব্যবসায়ী এই শাসকগোষ্ঠী নিজেদের পরম আত্মীয়দের মৃত্যুকেও ক্ষমতা রক্ষা কিংবা ক্ষমতা পাওয়ার কাজে লাগায়, লাগাবে। কিসের কোন মেঘ আর কোথাকার কোন অন্ত !!! কিংবা নীমতলীর রুনা !!!

জনগণের কাছে যে সেন্টিমেন্ট পরম আদরের, সেটা এই শাসকগোষ্ঠীর কাছে গদিতে উঠে বসার মই। যা বসার পর টয়লেট টিস্যু !!! জনগণকে আজ তার পরম সেন্সেটিভ সেন্টিমেন্টের মাধ্যমেই শাসকগোষ্ঠীর ‘সেন্টিমেন্ট ব্যবসা’কে নস্যাত করে ‘গণসেন্টিমেন্ট’ রক্ষা করতে হবে। সেই গণসেন্টিমেন্টের নাম ”একাত্তর”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “‘অন্ত’র পাশে হাসিনা নয়, বরং হাসিনার পাশেই ‘অন্ত’

  1. জনগণের কাছে যে সেন্টিমেন্ট

    জনগণের কাছে যে সেন্টিমেন্ট পরম আদরের, সেটা এই শাসকগোষ্ঠীর কাছে গদিতে উঠে বসার মই। যা বসার পর টয়লেট টিস্যু !!! জনগণকে আজ তার পরম সেন্সেটিভ সেন্টিমেন্টের মাধ্যমেই শাসকগোষ্ঠীর ‘সেন্টিমেন্ট ব্যবসা’কে নস্যাত করে ‘গণসেন্টিমেন্ট’ রক্ষা করতে হবে। সেই গণসেন্টিমেন্টের নাম ”একাত্তর”

    চমৎকার বলেছেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. জনগণকে আজ তার পরম সেন্সেটিভ

    জনগণকে আজ তার পরম সেন্সেটিভ সেন্টিমেন্টের মাধ্যমেই শাসকগোষ্ঠীর ‘সেন্টিমেন্ট ব্যবসা’কে নস্যাত করে ‘গণসেন্টিমেন্ট’ রক্ষা করতে হবে। সেই গণসেন্টিমেন্টের নাম ”একাত্তর”

    কথাগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লেজুর বৃত্তিকরা আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের আগে বুঝাতে হবে, তারপর জনসাধারণকে ! আমার কাছে মনে হয় আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীরা বুদ্ধি বিক্রেতা… তারা তাদের মেধা-বুদ্ধি বিক্রি করে তাদের পেট চালায়…

  3. জনগণের কাছে যে সেন্টিমেন্ট

    জনগণের কাছে যে সেন্টিমেন্ট পরম আদরের, সেটা এই শাসকগোষ্ঠীর কাছে গদিতে উঠে বসার মই। যা বসার পর টয়লেট টিস্যু !!! জনগণকে আজ তার পরম সেন্সেটিভ সেন্টিমেন্টের মাধ্যমেই শাসকগোষ্ঠীর ‘সেন্টিমেন্ট ব্যবসা’কে নস্যাত করে ‘গণসেন্টিমেন্ট’ রক্ষা করতে হবে। সেই গণসেন্টিমেন্টের নাম ”একাত্তর”

    গ্রেট শট :তালিয়া: :তালিয়া:
    সেইরাম একটা পোস্টে লেখক’রে ++++++ দিলাম :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 5